Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Monday, August 8, 2011

ছাত্রলীগ নেতার পরিচয় জানতে চাওয়ায়..

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, অগাস্ট ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কথোপকথনে তার পরিচয় জানতে চাওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে মেরে আহত করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ট্রান্সপোর্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থী পিনাক পানি ভট্টাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পিনাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের ছাত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ট্রান্সপোর্ট এলাকায় বেলা ১টার দিকে পিনাক তার সহপাঠী মানিক ও শুভর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর আলী তাদের পরিচয় জানতে চান।

এক পর্যায়ে আজগরের পরিচয় জানতে চান পিনাক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আজগর কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ে পিনাককে বেধড়ক পিটুনি দেন। বাঁশ দিয়ে আঘাত করায় গুরুতর আহত হন পিনাক।

মারধরের কথা স্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা আজগর বলেন, "ছেলেটা (পিনাক) বেয়াদবি করেছে।"

তবে পিনাক বলেন, আজগর আলীকে চিনতে না পারায় তিনি সবার সামনে কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে আমার ওপর হামলা চালান। এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আরজু মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মিলন হত্যায় পুলিশের সহায়তা ছিল


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের সহায়তা ছিল। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে করা প্রাথমিক তদন্তে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। কমিটি গত রাতে তাদের খসড়া প্রতিবেদন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জমা দিয়েছে।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহকে গতকাল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে আমলি আদালতে করা মিলনের (১৬) মা কহিনুর বেগমের মামলা গত রাতে থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি বিশ্বাস আফজাল হোসেন কোম্পানীগঞ্জে আসছেন।
গত ২৭ জুলাই সকালে কিশোর মিলনকে কোম্পানীগঞ্জের টেকেরহাট মোড়ে পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে জনতার হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে জনতা কিশোরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। পরে পুলিশ তার লাশ গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার হারুন-উর-রশীদ হাযারী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রশিদের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির খসড়া প্রতিবেদনে মিলন হত্যাকাণ্ডে পুলিশের সহায়তার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রশীদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রথম ঘটনাস্থল বেপারী বাড়ির মসজিদ এলাকা, টেকেরহাট বাজার, মিলনের স্কুলপড়ুয়া আত্মীয়ের বাড়ি এবং মিলনের বাড়িতে যায়। মাহবুব রশীদ প্রথম আলোকে জানান, ‘প্রতিটি স্পটে গিয়েছি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। বিচার-বিশ্লেষণ করছি, কেন ঘটনাটি ঘটল। এ ঘটনায় কারা কীভাবে দোষী।’
গত রাতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকেরহাট বাজারে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে মিলনকে পিটিয়ে হত্যার সময় পুলিশ যথাযথ ভূমিকা নেয়নি। এমনকি দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ তখন মিলনকে রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলেই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।’
গতকাল ঘটনাস্থল টেকেরহাট বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের কাছে ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা কেউই নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ওসি রফিক উল্লাহ ও স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি গত রোববার টেকেরহাট বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের পুলিশের গাড়ি থেকে কিশোর মিলনকে নামিয়ে দেওয়ার কথা তদন্ত কমিটির কাছে বলতে নিষেধ করেন। ‘ডাকাত হিসেবেই জনতা তাকে পিটিয়ে মেরেছে’—এমনটি বলতে বলা হয় তাঁদের। অন্যথায় গণপিটুনির মামলায় তাঁদের জড়ানো হবে বলে শাসিয়ে দেওয়া হয়। 
সেদিন আসলে কী ঘটেছিল—জানতে চাইলে বর্তমানে থানার দায়িত্বে থাকা হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আটক মিলনকে থানায় নিয়ে আসতে এসআই আকরাম শেখকে পাঠানো হয়েছিল। পথে যা ঘটেছে বা হয়েছে, তা তো সবার জানা।’
কোম্পানীগঞ্জে ওই দিন ডাকাত সন্দেহে পৃথক স্থানে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ দাবি করেছিল। এর মধ্যে টেকেরহাট মোড়ে মারা হয় তিনজনকে। তাদেরই একজন কিশোর শামছুদ্দিন মিলন। মিলনকে মারা হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, আর বাকি দুজনকে মারা হয়েছিল ভোরবেলায়। মিলনকে হত্যার পুরো ঘটনা উপস্থিত কেউ একজন ভিডিও চিত্রে ধারণ করেন। সেই ভিডিও চিত্র লোকজনের হাতে ছড়িয়ে পড়লে পৈশাচিক ওই ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।
এ ঘটনায় থানায় দায়ের হওয়া ডাকাতি ও খুনের মামলায় নিরপরাধ কিশোর মিলনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার বাদী ডাকাতের গুলিতে নিহত রিকশাচালক মোশাররফ হোসেন মাসুদের বাবা রফিক প্রথম আলোকে জানান, তিনি কেবল সেই রাতে যে কয়েকজনকে চিনেছেন, তাদের নাম পুলিশকে বলেছেন। পরে পুলিশ ওই নামের সঙ্গে যারা গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে, তাদেরও আসামি করেছে বলে শুনেছেন। মিলন নামে কাউকে আসামি করেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অশিক্ষিত মানুষ। তারা (পুলিশ) আমাকে কাগজ দিয়েছে, আমি স্বাক্ষর করেছি।’
মিলনের প্রতিবেশী আবদুল হাই জানান, মিলন বাচ্চা ছেলে। টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে পারেনি। চট্টগ্রামে চলে গেছে কাজ শিখতে। ১৪-১৫ দিন আগে বাড়ি এসেছিল। তিনি বলেন, ছেলেটি কখনো এলাকায় কোনো অন্যায় কাজ করেছে বলে কেউ বলতে পারবেন না। 
গতকাল চরফকিরা ইউনিয়নের চরফকিরা গ্রামে মিলনের বাড়িতে গেলে তার মা কহিনুর বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বারবার প্রথম আলোকে বলতে থাকেন, ‘সেই দিন (২৭ জুলাই) সকালে মিলন আমাকে ফোন করে বলে, “মা, কিছু লোক আমাকে বেপারী বাড়ির স্কুলের ঘাটলায় আটকে রেখেছে, তুমি...” এ কথা বলার পরই লাইন কেটে যায়। আমি বহুবার চেষ্টা করেও ফোনে আর কথা বলতে পারিনি। তা ৎ ক্ষণিক আমার ভাশুর জসিম উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাই। লোকজন জানায়, আমার নিরপরাধ ছেলেকে মারধর করে সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে জামাল উদ্দিন মেম্বার (স্থানীয় ইউপি সদস্য) ও মিজানুর রহমান ওরফে মানিক পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।’
কান্না সামলিয়ে কহিনুর বলেন, ‘সেখান থেকে থানার উদ্দেশে যাওয়ার পথে টেকেরহাট বাজারে লোকজনকে বলাবলি করতে শুনি, পুলিশ এক ছেলেকে ডাকাত বলে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। পুলিশই তার লাশ থানায় নিয়ে গেছে। থানায় গিয়ে দেখি পাঁচটি লাশের সঙ্গে মিলনের লাশ পড়ে আছে। থানার ভেতর ঢোকার চেষ্টা করেও পুলিশের বাধার কারণে পারিনি।’
চরফকিরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরফকিরা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মিলন। চার ভাইয়ের মধ্যে মিলন সবার বড়। সে ২০১০ সালে স্থানীয় কবি নজরুল উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়। এরপর আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পরীক্ষা দেয়নি। মিলনের ছোট তিন ভাইয়ের একজন বর্তমানে একই স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ে। বাকি দুজন (যমজ) জহিরুদ্দিন রুবেল ও সাইফুদ্দিন ফয়সাল উত্তর চরফকিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে।
মিলনের বাবা গিয়াসউদ্দিন প্রায় আড়াই বছর আগে পৈতৃক ভিটা (দুই শতক জায়গা) চাচাতো ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে সৌদি আরবে যান। শর্ত ছিল, বিদেশে গিয়ে রোজগার করে টাকা পাঠাবেন এবং ওই টাকায় জমি কিনে বাড়ি করা পর্যন্ত তাঁরা এই ভিটায় থাকবেন।
লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রথম কিছুদিন কক্সবাজারে গিয়ে ছোটখাটো কাজ করে মিলন। পরে বাবা খবর পাঠায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শেখার জন্য, তাহলে তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাবেন। তিন-চার মাস আগে চাচা সাহাবউদ্দিনের সঙ্গে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে গিয়ে ওয়েল্ডিংয়ের কারখানায় কাজ শিখতে শুরু করে মিলন। এর মধ্যে বাড়িতে পল্লি বিদ্যুতের মিটারে সমস্যা হওয়ায় এবং বাবার পাঠানো টাকায় কেনা জমি নিবন্ধনে মাকে সহায়তা করতে ১৪-১৫ দিন আগে বাড়িতে আসে সে।
মিলনের মা জানান, কিছুদিন আগে জমি কেনার জন্য এক লাখ ২৫ হাজার টাকা পাঠান মিলনের বাবা। ওই টাকায় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল মেম্বারের কাছ থেকে এক খণ্ড জমি কিনেছেন তাঁরা। সেই জমি রেজিস্ট্রি ও দলিল লেখানোর জন্য ২৭ জুলাই বাড়ি থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে সকাল সাড়ে আটটার দিকে বের হয়েছিল মিলন। আর ফিরল লাশ হয়ে।
কহিনুর বেগম বলেন, ‘শুনেছি, উপজেলা সদরে যাওয়ার পথে চরকাঁকড়ার বেপারী বাড়ির বায়তুল নূর জামে মসজিদের ঘাটলায় বসে মিলন অপেক্ষা করছিল চরকাঁকড়া একাডেমি উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া তাঁর (মিলনের মায়ের) ফুফাতো বোনের মেয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য। স্কুলে তার পরীক্ষা চলছিল।’
মিলনের মায়ের করা মামলার আসামি চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সাংসদ ফেরদৌস আরা বেগমের স্বামী মিজানুর রহমান মানিক বলেন, ‘অপরিচিত দেখে আমি ছেলেটিকে এখানে বসে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করি। স্কুলে তাঁর আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য বসে আছে বলে জানায় সে। বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে সে জানায়, চরফকিরা। এর মধ্যে আশপাশের কিছু লোক জড়ো হয়। তারা ছেলেটিকে ডাকাত বলে সন্দেহ করে। কারণ, ওই দিন ভোর রাতে আশপাশের এলাকায় ডাকাত ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছিল।’
মানিক জানান, ওই সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামালউদ্দিন আসেন। তিনিও মিলনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর আমরা পার্শ্ববর্তী স্কুল থেকে ওই মেয়েটিকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করি। প্রথমে সে কিছু না বলে চুপ করে থাকে। সম্ভবত অনেক লোক দেখে চুপ করে ছিল। পরে আমি ধমক দিলে ছেলেটিকে তার আত্মীয় বলে জানায় মেয়েটি।
মানিক দাবি করেন, ‘এর পরও উপস্থিত লোকজন মিলনকে ডাকাত সন্দেহে হালকা মারধর করে। আমি এবং জামাল মেম্বার ছেলেটিকে মক্তবের ভেতর আটকে রাখি এবং থানায় খবর দিই। পুলিশ এলে তাদের কাছে সোপর্দ করি।’
চরকাঁকড়া একাডেমি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ওই মেয়ে ছেলেটিকে তাদের আত্মীয় বলে স্বীকার করেছে। 
মিলনের ওই খালাতো বোন গতকাল স্কুলে যায়নি। তার গ্রামের বাড়ি চরকাঁকড়া গ্রামে গেলে তার বাবা মিলনকে তাদের আত্মীয় বলে স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেননি। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে বলে বলছে। আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানি না।’ মেয়েটির সঙ্গে কথা বলতে দিতেও রাজি হননি তিনি।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই পরিবারটিকে এ বিষয়ে মুখ না খুলতে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে বাঁচাতে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধিও দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে ওই সূত্রগুলো জানায়।

খালেদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা


ঢাকা, অগাস্ট ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে জমি কেনায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর এটাই বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রথম মামলা।

সোমবার বিকালে তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনূর রশীদ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়- কেনার সময় জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়, যার কোনো উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে এ মামলায় বিরোধীদলীয় নেতাকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, রাজনৈতিক সচিবের এপিএস (বর্তমানে বিআইডাব্লিউটিএ-এর পরিচালক- নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগ) জিয়াউল ইসলাম ও ঢাকার মেয়রের এপিএস মনিরুল ইসলাম খান।

মামলায় বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাখায় 'শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে একটি হিসাব খোলা হয়। এতে ৭ দিনের মধ্যে জমা হয় ৭ কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা। এর মধ্যে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা বিএনপির দলীয় তহবিল থেকে আসে।

বাকি টাকার মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেড এবং ২৭ লাখ টাকা জিয়াউল ইসলামের কাছ থেকে ওই হিসাবে আসে।

দুদকের অভিযোগ, বিএনপির দলীয় ফান্ডের টাকা ছাড়া বাকি টাকার কোনো বৈধ উৎস নেই। তখনকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার দাপ্তরিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে ওই অর্থ সংগ্রহ ও জমা করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, "দুদকের তদন্তের সময় মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এফ এস জাহাঙ্গীর ওই ট্রাস্টে টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলাম মেট্রো মেকার্সের নাম ব্যবহার করে ওই অর্থ জমা দেন।

"এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম দুদককে বলেছেন, হারিছ চৌধুরীর দেওয়া টাকা পে অর্ডারের মাধ্যমে তিনি ওই হিসাব নম্বরে জমা দিয়েছেন।"

একইভাবে জিয়াউল ইসলামও দুদককে বলেছেন, নির্দেশ ছিল বলেই তিনি টাকা জমা দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানম নামে এক নারীর কাছ থেকে 'শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট'-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। ওই জমির মূল্য বাবদ বিক্রেতাকে ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাব থেকে ৬ কোটি ৫২ লাখ ৭ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

দুদকের অনুন্ধানে দেখা যায়, এই মূল্যের বাইরেও বিক্রেতাকে আরো ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ৯৩ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। এই অর্থের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে ৪ দফা চিঠি দেওয়া হলেও তিনি আসেননি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

লন্ডনে আবার সহিংসতা


লন্ডন, অগাস্ট ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- লন্ডনে টানা তৃতীয় দিনের মতো সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি, ভবন জ্বালিয়ে দেওয়া, দোকান লুটপাট করা ছাড়াও পুলিশের দিকে পেট্রোল বোমা, পাথর এবং ডাস্টবিন ছুড়েছে তরুণরা।

হ্যাকনি রেলস্টেশন এলাকা পুলিশ সিল করতে চাইলে সোমবারের এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ একজনকে থামিয়ে তল্লাশি চালানোর পর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তরুণরা কয়েকটি দোকান এবং পুলিশের গাড়ির জানালা ভাংচুর করা ছাড়াও অন্তত একটি গাড়ি এবং ডাস্টবিন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা হ্যাকনিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে।

দক্ষিণ লন্ডনের পেকহাম এবং লিউইশাম এও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তরুণদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুটি জায়গায় তরুণরা একটি ভবনে আগুন দেওয়া ছাড়াও দোতালা একটি বাস জ্বালিয়ে দিয়েছে।

পেকহামে একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। লন্ডনের কয়েকটি এলাকায় জ্বলতে দেখা গেছে গাড়ি। রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছে বিক্ষুব্ধ তরুণরা।

লন্ডনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে সামাাজিক যোগাযোগ ওয়েবাসাইট থেকে জানা যাচ্ছে।

সহিংসতা তৃতীয় দিনে গড়ানোয় লন্ডনের রাস্তায় আবারো মোতায়েন করা হচ্ছে দাঙ্গা পুলিশ। লন্ডনে দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারীদের 'সুযোগসন্ধানী অপরাধী' বলে নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ বলেছেন, "অনর্থক এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সুযোগসন্ধানী চোরামি আর সহিংসতা ছাড়া এটি আর কিছু নয়। এটি কোনভাবেই কাম্য নয়।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, "আমরা যে সহিংসতা, লুটপাট এবং দুর্বৃত্তপনা দেখছি তা পরিস্কার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এদের বিচার করা হবে। অপকর্মের পরিণতি তাদেরকে ভোগ করতেই হবে।"

পুলিশ লন্ডন জুড়ে সহিংসতার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২শ'রও বেশি জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

শনিবার থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় আহত হয়েছে অন্তত ৩৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা।

উত্তর লন্ডনের টোটেনহ্যামে ঘটে যাওয়া বিক্ষুদ্ধ জনতার দাঙ্গা রোববার রাতে আরও কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটন, ক্রয়ডন, পূর্ব লন্ডনের ওয়ালথামস্টো, চিংফোর্ড, সেন্ট্রাল লন্ডনের অক্সফোর্ড সার্কাস, উত্তর লন্ডনের হ্যাকনি, এনফিলড্, পন্ডার্স এন্ড ও পালমার্স গ্রিনে রোববার রাতে দোকান পাট ভাংচুর ও মালামাল লুট হয়েছে। কিছু এলাকায় পুলিশের গাড়িতে ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ যুবক মার্ক ডুগাল এর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে কয়েকশ' জনতা টোটেনহ্যাম পুলিশ স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুদ্ধ জনতা পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে ও একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা পুলিশ স্টেশনের নিকটবর্তী দোকানপাটের মালামাল লুট করে পেট্রল বোমা ও মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করে।

সহিংতা নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং পুলিশ দ্রুত সহিংসতা সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপসহকারী পুলিশ কমিশনার স্টিফেন কাভানাগ।

মেট্রপলিটান পুলিশের কমান্ডার ক্রিস্টিন জোনস বলেন, আমরা একটি চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতির সম্মুখীন। বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো সহিংস ঘটনা ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটছে। আমরা সারা লন্ডনে পুলিশের ইউনিট মোতায়েন করেছি এবং যেখানেই অপরাধের খবর পাচ্ছি সেখানে দ্রুত মুভ করছি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

লন্ডনের উত্তাপ কমেনি


সৈয়দ নাহাস পাশা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
লন্ডন, অগাস্ট ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- উত্তর লন্ডনের টোটেনহ্যামে ঘটে যাওয়া বিক্ষুব্ধ জনতার দাঙ্গা রোববার রাতে আরও কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটন, ক্রয়ডন, পূর্ব লন্ডনের ওয়ালথামস্টো, চিংফোর্ড, সেন্ট্রাল লন্ডনের অক্সফোর্ড সার্কাস, উত্তর লন্ডনের হ্যাকনি, এনফিলড্, পন্ডার্স এন্ড ও পালমার্স গ্রিনে রোববার রাতে দোকান পাট ভাংচুর ও মালামাল লুট হয়েছে। কিছু এলাকায় পুলিশের গাড়িতে ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

শনিবার রাতে উত্তর লন্ডনের টোটেনহ্যামে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে ২৬ পুলিশ আহত হয় ও ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ যুবক মার্ক ডুগাল এর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে কয়েকশ' জনতা টোটেনহ্যাম পুলিশ স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে ও একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা পুলিশ স্টেশনের নিকটবর্তী দোকানপাটের মালামাল লুট করে পেট্রল বোমা ও মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করে। রোববার রাতে আবার দাঙ্গার আশংকায় টোটেনহ্যাম এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু লন্ডন মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর আসতে থাকে। সন্ধ্যায় তরুণরা বিভিন্ন এলাকা থেকে উত্তর লন্ডনে টোটেনহ্যামে থেকে ৬ মাইল দূরে এনফিলড্-এ সমবেত হয়। বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে তারা ভাংচুর ও লুটতরাজ চালায়। সে সময় মোতায়েনরত দাঙ্গা পুলিশের সাথে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অন্ততপক্ষে এক ডজন দোকান পাটে ভাংচুর মালামাল লুট হয়।

লন্ডনের বিভিন্ন এলাকার এসব সহিংস ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত বলে পুলিশ মনে করছে। এজন্যে ফেইসবুক, টুইটারের মতো সোস্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোন অনেকাংশে দায়ী বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটনেও রোববার রাতে জনতা কয়েকটি দোকানে ভাংচুর করে লুঠতরাজ চালায়। ইলেক্ট্রনিকস জিনিসপত্র, কাপড়, মোবাইল ফোন ইত্যাদি লুট করে মিনিটের মধ্যে তারা পালিয়ে যায়। ফুটলকার নামের একটি জুতার দোকানে লুটতরাজকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। টোটেনহ্যামের মতো ব্রিক্সটনেও ১৯৮১ সালে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়। পুলিশসহ প্রায় তিনশতাধিক মানুষ মার্গারেট থেচারের শাসনামলের সেই দাঙ্গায় আহত হয়।

পুলিশ জানায় রোববার রাতে পূর্ব লন্ডনের চিংফোর্ডে একটি দোকানে লুটপাট বন্ধের সময় দুই জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়।

সেন্ট্রাল লন্ডনের ব্যস্ততম শপিং এলাকা অক্সফোর্ড সার্কাসে ৫০ জনের বেশি তরুণ একত্রিত হয়ে কয়েকটি দোকানে হামলা করে। এসময় পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইজলিংটনে একদল যুবক পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে কাঁচ ভাংচুর করে। পন্ডার্স এলাকায় টেসকো সুপার মার্কেটে ভাংচুর করে মালামাল লুট করে দুষ্কৃতকারীরা।

লন্ডনের হ্যাকনির কিংসল্যান্ড লোডে শপিং সেন্টারেও কয়েকটি দোকানে ভাংচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা।

মেট্রপলিটান পুলিশের কমান্ডার ক্রিস্টিন জোনস বলেন, আমরা একটি চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতির সম্মুখীন। বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো সহিংস ঘটনা ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটছে। আমরা সারা লন্ডনে পুলিশের ইউনিট মোতায়েন করেছি এবং যেখানেই অপরাধের খবর পাচ্ছি সেখানে দ্রুত মুভ করছি।

ওদিকে টোটেনহ্যামে পুলিশের গুলিতে নিহত মার্ক ডুগালের পরিবারের সাথে তদন্তকারী ইন্ডিপেন্ডেন্ট পুলিশ কমপ্লেইন্ট কমিশনের কর্মকর্তারা সারাদিন আলোচনা করেছেন। তারা এর একটি নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মার্ক ডুগালের আত্মীয়স্বজনকে। কমিশনের কর্মকর্তা র‌্যাচেল সারফন্টাইন বলেন, মৃত্যুর তদন্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

এ কোন পুলিশ, এ কেমন পৈশাচিকতা!


পুলিশের গাড়ি থেকে পুলিশেরই উস্কে দেওয়া জনতার মধ্যে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে শামছুদ্দিন মিলনকেনির্মম গণপিটুনির শিকার মিলনগণপিটুনিতে নিহত মিলনের লাশ গাড়িতে তুলে নিয়েছে পুলিশ
‘মারি হালা। মারি হালা। পুলিশ কইছে মারি হালাইবার লাই। তোরা মারছ্ না কা? (মেরে ফেল। মেরে ফেল। পুলিশ বলেছে মেরে ফেলার জন্য। মারিস না কেন?)’
লোকজনের জটলা থেকে কেউ একজন এভাবে বলছেন, আর কিছু লোক কিশোর মিলনকে রাস্তার ওপর ফেলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারছে। একজন লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি পেটাচ্ছে। একপর্যায়ে এক যুবক ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। মিলনের মৃত্যু নিশ্চিত হলে পুলিশ তার লাশ গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
গত ২৭ জুলাই সকালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ঘটে এই অকল্পনীয় ঘটনা। ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ১৬ বছরের কিশোরটিকে পুলিশের গাড়ি থেকে একজন নামিয়ে জনতার হাতে ছেড়ে দিচ্ছে। তারপর শুরু হয় কথিত গণপিটুনি। অবিশ্বাস্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটে পুলিশের উপস্থিতিতে।
কোম্পানীগঞ্জে ওই দিন ডাকাত সন্দেহে পৃথক স্থানে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ দাবি করেছিল। এর মধ্যে টেকেরবাজার মোড়ে মারা হয় তিনজনকে। তাঁদেরই একজন এই কিশোর শামছুদ্দিন মিলন। মিলনকে মারা হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। আর বাকি দুজনকে মারা হয়েছিল ভোরবেলায়।
মিলনকে হত্যার অভিযোগ এনে তার মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় ‘দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে’ গত শনিবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানার তিনজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন: উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকরাম শেখ, কনস্টেবল আবদুর রহিম ও হেমারঞ্জন চাকমা।
মিলন কোম্পানীগঞ্জের চরফকিরা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। সে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে, তবে এসএসসি দেয়নি। সে চট্টগ্রামে একটি কোম্পানিতে কাজ করে। কয়েক দিন আগে সে বাড়ি এসেছিল। চার ভাইয়ের মধ্যে মিলন সবার বড়। তার বাবা বিদেশে থাকেন।
মিলনকে পুলিশের গাড়ি থেকে নামানো, পিটিয়ে হত্যা এবং লাশ পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র এখন কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্নজনের মুঠোফোনে পাওয়া যায়। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় গতকাল এর ভিডিও চিত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পচারও করেছে।
ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মারধরের একপর্যায়ে মিলন উঠে দৌড়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু উপস্থিত কেউ তাকে বাঁচাতে ন্যূনতম চেষ্টাও করেনি। এ পর্যায়ে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা একজন ইট নিয়ে সজোরে আঘাত করেন মিলনের মাথায়। সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে মিলন। একই লোক ইট দিয়ে এর পরও মিলনের মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন। সঙ্গে আরও কয়েকজন এলোপাতাড়ি লাথি মারতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মিলনের লাশ পুলিশ গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পুরো ঘটনার সময় পুলিশের সদস্যরা গাড়ি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
মিলনের মা কোহিনুর বেগম তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে গত বুধবার আদালতে মামলা করেছেন। মামলার আরজিতে মিলনকে আটক করে মারধর এবং পুলিশের হাতে সোপর্দ করা পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান ওরফে মানিক ও চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জামাল উদ্দিন সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
কোহিনুর বেগম উল্লেখ করেন, গত ২৭ জুলাই সকালে মিলন জমি নিবন্ধনের কাজের জন্য বাড়ি থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে উপজেলা সদরের দিকে যায়। পথে সে চরকাঁকড়া বেপারী উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ুয়া দূর-সম্পর্কের এক খালাতো বোনের সঙ্গে কথা বলতে বিদ্যালয়ের মসজিদের পুকুরঘাটে বসে অপেক্ষা করছিল। এ সময় মানিক নামের স্থানীয় একজন মিলনকে সেখানে বসে থাকার কারণ জানতে চান।
একপর্যায়ে সেখানে আসেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন। তিনিও মিলনকে সেখানে বসে থাকার কারণ জানতে চান। কারণ জানালে জামাল উদ্দিন ওই মেয়েটিকে বিদ্যালয় থেকে ডেকে এনে মিলনের পরিচয় নিশ্চিত হন। কিন্তু এরপর মানিক ও জামালসহ উপস্থিত লোকজন মিলনকে চড়-থাপড় দিয়ে তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় এবং মিলনকে পুলিশে সোপর্দ করে।
কোহিনুর বেগমের অভিযোগ, পুলিশ আহতাবস্থায় মিলনকে হাসপাতাল বা থানায় না নিয়ে টেকেরবাজার এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে নিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় লোকজন মিলনকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে মিলনের লাশ থানায় নিয়ে যায়।
যোগাযোগ করা হলে ইউপি সদস্য জামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘লোকজন ডাকাত সন্দেহে ছেলেটিকে মারধর শুরু করে। আমি তাকে উদ্ধার করে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ছেলে নিজেই হেঁটে পুলিশের গাড়িতে উঠেছে। এরপর শুনেছি, তিন রাস্তার মোড়ে লোকজন পুলিশের কাছ থেকে ছেলেটিকে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে জামাল বলেন, ‘আমরা তার কাছে যা কিছু পেয়েছি, তা দারোগা আকরামকে দিয়েছি। আমরা তো তাকে (মিলন) মেরে ফেলার জন্য পুলিশের হাতে তুলে দেইনি। পুলিশের কাজ তো কাউকে মেরে ফেলা না। কিন্তু তারা যদি কাউকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেয়, তাহলে কার কী করার আছে।’
পারিবারিক সূত্র জানায়, ওই সময় মিলন কিছু লোক তাকে আটক করেছে বলে মোবাইল ফোনে মাকে জানায়। তার মা মিলনের এক চাচাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারেন তাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহ গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে জানান, মিলনকে ডাকাত সন্দেহেই লোকজন পিটিয়ে মেরেছে। তিনি বলেন, আদালতে করা তার মায়ের মামলার কপি এখনো থানায় আসেনি।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন-উর-রশিদ হাযারী গতকাল রোববার দুপুরে জানান, এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রশীদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসপি হারুন-উর-রশিদ হাযারী গতকাল মিলনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চরফকিরায় মিলনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্য এবং ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গেও কথা বলেন। পরে এসপি হারুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিলন অপরাধী কি না, তা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছি।’
স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় স্থানীয়ভাবে অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি মিলনকে নানাভাবে ডাকাত হিসেবে চিহ্নিত করতে তৎপর ছিল।
এ সংক্রান্ত ভিডিওটি দেখুন
প্রথম আলো

Sunday, August 7, 2011

নৌমন্ত্রীর চাপে নমনীয় যোগাযোগমন্ত্রী


দক্ষতা পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার লোককে যানবাহন চালানোর পেশাদার লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মোটরযান আইনে ভারী মোটরযান চালানোর জন্য সরাসরি পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের চাপে আবার এমন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১ জুন নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন দক্ষতা পরীক্ষা ছাড়াই ২৪ হাজার ৩৮০টি লাইসেন্স দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীর সঙ্গে আবেদনে প্রতিস্বাক্ষর করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। 
জানতে চাইলে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবেদনটি আমার কাছে আছে। ন্যূনতম পরীক্ষা নিয়ে কীভাবে লাইসেন্স দেওয়া যায়, সে বিবেচনা করছি।’
বিআরটিএসহ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স দেওয়ার এই প্রক্রিয়া শ্রমিক ফেডারেশনের একটা ব্যবসা। অতীতেও টাকার বিনিময়ে এমন লাইসেন্স বিক্রি করেছে ফেডারেশন। জানতে চাইলে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান অনেকটা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, কিছু অনিয়ম হয়েছে। সে জন্য বিআরটিএর লোকজনও দায়ী।
মোটরযান আইন লঙ্ঘন: আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স পেতে আগ্রহীদের প্রথমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স (লার্নার) নিতে হয়। তিন মাস পর লিখিত, মৌখিক ও মাঠ (চালিয়ে দেখানো) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে হালকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স পাওয়া যায়। এই লাইসেন্সধারী চালক কার, অটোরিকশা, জিপ চালাতে পারবেন। এর অন্তত তিন বছর পর মাঝারি যানবাহন চালানোর লাইসেন্স নিতে হয়। তখন এর জন্য আবার পরীক্ষা দিতে হয়। এই লাইসেন্সে মিনিবাস, পিকআপ ভ্যান, মিনি ট্রাকসহ ছোট যানবাহন চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। মাঝারি যানবাহন পাঁচ বছর চালানোর পর ভারী যানবাহন চালানোর লাইসেন্স দেওয়ার নিয়ম। ভারী লাইসেন্সধারী চালক বাস, ট্রাক, লরিসহ যাবতীয় যানবাহন চালানোর বৈধতা পান। কিন্তু নৌমন্ত্রীর সংগঠন চাইছে, তাদের দেওয়া তালিকা ধরে কোনো পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি ভারীসহ অন্যান্য পেশাদার লাইসেন্স দিক বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। 
উদ্বেগ: এ অবস্থায় সড়কপথে যানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সরকারি প্রতিষ্ঠান সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রসহ নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলনকারী নাগরিকেরা। যোগাযোগমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি কমিটি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদস্য এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘যথাযথ পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া খুবই অন্যায়। এসব লাইসেন্সধারীর দ্বারা কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে এবং প্রাণহানি হলে তা হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। এই হত্যাকাণ্ডের দায় নিতে হবে লাইসেন্স দাতা ও আবেদনকারী উভয়কেই।’ তিনি আরও বলেন, এসব লাইসেন্সধারীর দ্বারা সংঘটিত প্রাণহানি হত্যাকাণ্ড হিসেবে আদালতে প্রমাণ করা না গেলেও বিবেকের কাছে তারা হত্যাকারী হিসেবেই চিহ্নিত হবে। 
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। গত এক বছরে আমরা ১৬ জেলায় চালকদের সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করেছি। পাঠ্যপুস্তকে সড়ক নিরাপত্তার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতেও কাজ করছি। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া যাকে-তাকে লাইসেন্স দেওয়া হলে আমাদের সব পরিশ্রম বিফলে যাবে।’
আইন ভাঙার ইতিবৃত্ত: বিআরটিএ সূত্র জানায়, ১৯৯০ সাল থেকেই পরীক্ষা ছাড়া পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া শুরু হয়। বিআরটিএ এ পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ পেশাদার লাইসেন্স দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার লাখই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পরীক্ষা এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেওয়া হয়েছে বলে বিআরটিএ সূত্র জানায়।
সূত্র জানায়, ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত নৌমন্ত্রীর সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ হাজার চালককে পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া না মেনেই পেশাদার লাইসেন্স দিয়েছিল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিআরটিএ।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের আমলে ২০০৯ সালে নির্ধারিত পরীক্ষা ছাড়া সারা দেশে ছয়টি শ্রমিক ইউনিয়নের তালিকা ধরে পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নকে চার হাজার ৭৮৭টি, খাগড়াছড়ি বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নকে এক হাজার ৩৫০টি, খুলনা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নকে ৩১২টি, নড়াইল জেলা মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নকে ২০৫টি, নওগাঁ জেলা মোটর ইউনিয়নকে এক হাজার ৪৭৫টি এবং ঢাকা মহানগর শ্রমিক ইউনিয়নকে এক হাজার ৯৫৩টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর শ্রমিক ইউনিয়নের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী এখনো লাইসেন্স দেওয়া শেষ হয়নি। সব মিলিয়ে ছয়টি সংগঠন ১০ হাজার ৮২টি লাইসেন্সের তালিকা দিয়েছিল।
এসব লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনা বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হলে ২০০৯ সালে বিআরটিএ সংস্থার তৎকালীন উপপরিচালক (প্রশাসন) জহুরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি করে। ওই কমিটি দেখতে পায় তালিকায় নাম থাকা লোকজন পরীক্ষা তো দূরে থাক, কোনো রকম ফরমও পূরণ করেনি। পরীক্ষা ছাড়াই যাকে-তাকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। 
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে শ্রমিক সংগঠনের তালিকা ধরে পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই আদেশ অমান্য করে পরীক্ষা ছাড়া আবার লাইসেন্স দেওয়া শুরু হয়।
সড়কে নৌমন্ত্রীর দৌরাত্ম্য: সারা দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোর ফোরাম বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এ হিসেবে পরিবহন খাতের চাঁদা নির্ধারণ, ভাড়া নির্ধারণ, সড়ক নিরাপত্তাসহ যাবতীয় সরকারি বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন তিনি।
গত ২৭ জুলাই যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে পরিবহন খাতের চাঁদা সরকারিভাবে নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন শাজাহান খান। গত বছরও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে তিনি চাঁদা নির্ধারণ করার জন্য চাপ দেন।
গত ১৬ মে পরিবহন খাতের ভাড়া নির্ধারণের বৈঠকে মন্ত্রী শাজাহান খান উপস্থিত থেকে মালিকদের পক্ষে অবস্থান নেন। ওই বৈঠকে রাজধানীর মিনিবাসগুলোর জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া না রাখার প্রস্তাব করেছিল বিআরটিএ। কিন্তু শাজাহান খানের চাপে মিনিবাসেও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 
শাজাহান খান শ্রমিক নেতা হলেও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন একাধিক বাস কোম্পানি আছে। ঢাকা-মাদারীপুর ও রাজধানীর মিরপুর-আবদুল্লাহপুর পথে এসব বাস চলে।
সর্বশেষ পরীক্ষা ছাড়া চালক লাইসেন্সের জন্য আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর গড়ে ৪০ হাজার যানবাহন নামছে। কিন্তু বিআরটিএর লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা আছে ১১ হাজার। ফলে অনেকে ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালায়। এ জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের তালিকা অনুযায়ী সহজ শর্তে লাইসেন্স চেয়েছি আমরা।’ 
এভাবে লাইসেন্স দিয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে শাজাহান খান বলেন, ‘আমাদের চালকেরা তো গাড়ি চালাতে পারে। কিন্তু বিআরটিএ লাইসেন্স দিতে পারে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এত লাইসেন্স দেওয়ার সক্ষমতা নেই প্রতিষ্ঠানটির। ফলে যানবাহনের তুলনায় দেশে বৈধ চালকসংকট আছে। তাদের দেওয়া তালিকা ধরে লাইসেন্স দিলে এ সমস্যা আর থাকবে না।’
অবশ্য বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, গত বছর সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার চালককে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। চালক লাইসেন্সের আবেদনে চিকিৎসকের সনদ দরকার হয়। সহজ শর্তে লাইসেন্স দেওয়ার লক্ষ্যে বিআরটিএ সম্প্রতি তাদের বেশ কয়েকটি কার্যালয়ে চিকিৎসক হাজির করে সনদ দিয়েছিল। পরীক্ষাও দ্রুত নেওয়া হয়। এই উদ্যোগে ৩২ হাজার চালককে লাইসেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু পেশাদার লাইসেন্সের জন্য কেউ যায়নি। শ্রমিক সংগঠনগুলো চায়, তারা তালিকা দেবে আর বিআরটিএ মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার লাইসেন্স দিয়ে দেবে। 
থানায় মামলা হয়েছে—এমন সড়ক দুর্ঘটনায় গত এক বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার লোক মারা গেছে। গত মাসে মিরসরাইয়ে ট্রাক উল্টে ৪০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু সারা দেশকে নাড়া দিয়েছিল। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার নরসিংদীতে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারা যায় ১৬ জন। 
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ৮০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনাতেই কোনো না কোনোভাবে চালকের ভুল পাওয়া যায়। এ অবস্থায় পরীক্ষা না নিয়ে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া আত্মঘাতী হবে।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More