Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label বহির্বিশ্ব. Show all posts
Showing posts with label বহির্বিশ্ব. Show all posts

Monday, January 16, 2012

১০ দিন আগেই ভারতে হামলার ইঙ্গিত ‘মদ্যপ’ ইয়াহিয়ার !

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০ দিন আগেই ভারতে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। মদ্যপ অবস্থায় এক মার্কিন সাংবাদিকে তিনি এ কথা বলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে বলে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে।
ওই খবরে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০ দিন আগে মার্কিন সাংবাদিক বব শাপলিকে মদ্যপ অবস্থায় পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ভারতে হামলা চালানোর বিষয়ে তাঁর মনোভাবের কথা জানিয়ে একটি ইঙ্গিত দেন।
বৈঠকের সময় ইয়াহিয়া খান ওই মার্কিন সাংবাদিককে বলেছিলেন, তিনি ১০ দিনের মধ্যে ভারতে হামলা চালাবেন।
ইয়াহিয়া খানের এ ইঙ্গিত ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর সত্যে পরিণত হয়। ওই দিন বিকেলে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেনা লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।
এ ঘটনার পরপরই ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধী পাকিস্তানের এই বিমান হামলাকে যুদ্ধের ঘোষণা বলে উল্লেখ করেন। একই দিন মধ্যরাতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল, নৌ ও বিমানপথে যুদ্ধ ঘোষণা করে ভারত।
পরের দিন দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন দূত কেনেথ বার্নাড কেটিং ভারতের পররাষ্ট্রসচিব টি এন কাউলকে ইয়াহিয়ার ওই মন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, মদ্যপ অবস্থায় ইয়াহিয়া খান মার্কিন সাংবাদিক বব শাপলিকে বলেছিলেন, পাকিস্তান ১০ দিনের মধ্যে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে যাবে। প্রথম আলো

Sunday, December 25, 2011

পরাশক্তির দেশে ক্ষমতা বদলের হাওয়া

বিশ্ব রাজনীতির জন্য ২০১২ সাল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে চারটিতেই ক্ষমতাকেন্দ্রে বদলের হাওয়া বইছে। পরাশক্তির দেশে নেতৃত্বের আসন্ন এই পরিবর্তনে বদলে যেতে পারে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি।
আগামী বছরের ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে, ২২ এপ্রিল ও ৬ মে ফ্রান্সে এবং ৪ মে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া চীনে আগামী বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন দলের পার্টি কংগ্রেস। ওই কংগ্রেসের মাধ্যমে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি বেইজিংয়ের ক্ষমতা কাঠামোতে আসবে এক ঝাঁক নতুন নেতৃত্ব।
পরিবর্তনের এই হাওয়ায় কার ভরাডুবি ঘটবে, কে হবেন নতুন নেতা, নতুনদের নীতি কেমন হবে, বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের প্রভাব কী হবে—এসব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের নেতৃত্ব তাঁদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। ফলে অর্থনৈতিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এই রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা হবে সংকীর্ণ। এতে করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার অগ্রগতিতে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। এ কারণেই বিশ্লেষকেরা একে একটি উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্যস্ত সময় কাটাবেন। ফলে তাঁর পক্ষে বাণিজ্য বা জলবায়ু বিষয়ে কোনো নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অবতীর্ণ হওয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া এসব বিষয় নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের বিরোধিতার মুখেও পড়বেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী মিট রমনে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে এবং চীন তাদের মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন না করলে, বেইজিংয়ের ব্যাপারে তিনি কঠোর হবেন।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও চীনের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর ওবামার কিছুটা হলেও আস্থা আছে। তবে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ২০১২ সালের শেষ নাগাদ নতুনদের কাছে তাঁদের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। শুধু তা-ই নয়, এই সময়ে চীনের প্রায় ৭০ শতাংশ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। চীনের ক্ষমতা কাঠামোতে আসন্ন এই পরিবর্তন পশ্চিমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্ব যেমন পরিচিত নয়, তেমনি তাঁরা অধিক জাতীয়তাবাদী ও রক্ষণশীল বলেই পরিচিত।
রাশিয়ার ক্ষমতায়ও পরিবর্তন আসন্ন। সেখানে আসছে পুতিনবাদ। আগামী মার্চে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন আবারও ক্রেমলিনে ফিরে আসার স্বপ্নে বিভোর। বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ওই নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। ফলে দেশটির ক্ষমতায় পরিবর্তন নিশ্চিত। রাশিয়ার ক্ষমতায় পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মেদভেদেভের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর মনোভাব অপেক্ষাকৃত নমনীয়। ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন লিবিয়া অভিযানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের বিরোধিতা ছিল অপেক্ষাকৃত নরম প্রকৃতির। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুতিন এ অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে মেদভেদেভ এটা পরিষ্কার করেছেন যে তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। তবে স্পষ্টত এ ব্যাপারে পুতিনের অবস্থান পুরোপুরি বিপরীত।
চলমান ইউরো সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আগামী বছরই দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের রাজনীতিতে সারকোজির অবস্থান খুব একটা সুবিধাজনক নয়। নির্বাচনে সারকোজির ভরাডুবি ঘটলে ইউরোপের রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনের এখনো অনেক দেরি। তবে দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের ঐক্য খুব একটা মজবুত নয়। সেখানেও অঘটন ঘটতে পারে যেকোনো সময়। সব মিলিয়ে সামনে বিশ্ব রাজনীতির জন্য অপেক্ষা করছে এক অনিশ্চয়তার বছর।—দ্য ইকনোমিস্ট অবলম্বনে। প্রথম আলো

Sunday, November 27, 2011

পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

হিনা রাব্বানি খার হিনা রাব্বানি খার
পাকিস্তানের শামসি বিমানঘাঁটি থেকে ১৫ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে সব ধরনের কর্মসূচি ও সহযোগিতার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
গত শনিবার পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি তল্লাশি চৌকিতে ন্যাটোর হেলিকপ্টার হামলায় ২৮ সেনা নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই হামলার পর ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পাকিস্তান সরকার। এর আগে পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে নিয়োজিত ন্যাটো বাহিনীর জন্য রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন। সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানিসহ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের শামসি বিমানঘাঁটি থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সরে যেতে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা নিজেদের দেশের জনগণ ও সেনাবাহিনীই নিশ্চিত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শামসি বিমানঘাঁটি ব্যবহার করত। এই ঘাঁটি থেকে মনুষ্যবিহীন বিমান থেকে তালেবান ও আল-কায়েদাবিরোধী অভিযান চালানো হতো। আগেও পাকিস্তান ওই ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ইতিমধ্যে সেই ঘাঁটি ছেড়ে গেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার ন্যাটোর হামলার বিষয়ে টেলিফোনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি টেলিফোনে হিলারিকে বলেন, এ ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি করবে এবং পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। হিনা আরও বলেন, পাকিস্তান চায় শামসি বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাক।
এর আগে শনিবার রাতে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা। এতে বলা হয়, পাকিস্তানে ন্যাটোর হামলায় হতাহতের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র। বিবৃতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, দেশ দুটি জনগণের স্বার্থে কাজ করছে।
ন্যাটোর হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিনবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামি গতকাল মোহামন্দ এলাকায় বিক্ষোভ করেছে। এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।

Sunday, September 18, 2011

গাদ্দাফি-ব্লেয়ার গোপন বৈঠক ফাঁস

লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি এবং ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার গোপনে বৈঠক করেছিলেন। ব্লেয়ারকে লিবিয়ায় নিতে ব্রিটেনে উড়ে আসে গাদ্দাফির বিলাসবহুল ব্যক্তিগত বিমান। এর কিছুদিন পরই মুক্তি পান লকারবি বোমা হামলায় সাজাপ্রাপ্ত লিবীয় নাগরিক আবদেলবাসেত আল-মেগরাহি।
ব্লেয়ারের ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়, ত্রিপোলির ব্রিটিশ দূতাবাস এবং লন্ডনে লিবীয় দূতাবাসের মধ্যে চালাচালি হওয়া চিঠি ও ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে ব্লেয়ার ও গাদ্দাফির গোপন বৈঠকের বিষয়টি ফাঁস হয়। এতে গাদ্দাফির সঙ্গে ব্লেয়ারের সম্পর্ক এবং মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্রিটেনের দ্য সানডে টেলিগ্রাফ ওই চিঠি ও ই-মেইল বার্তা হাতে পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়, লিবিয়ায় তাঁদের বৈঠকের আগে ব্লেয়ারের জন্য গাদ্দাফি তাঁর ব্যক্তিগত বিমান পাঠান। গাদ্দাফির খরচেই ব্লেয়ার ২০০৮ সালের জুন এবং ২০০৯ সালের এপ্রিলে লিবিয়া সফর করেন। যদিও ওই সময় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। লিবিয়া তখন হুমকি দিয়ে বলেছিল, মেগরাহিকে মুক্তি না দিলে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তারা সব ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
ব্লেয়ারের ওই বৈঠক সম্পর্কে সরকারি কোনো ওয়েবসাইটে তথ্যপ্রমাণ নেই। তবে লকারবি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একজনের পরিবারের ফোন কলের সূত্র ধরে বিষয়টি ফাঁস হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যক্তি গাদ্দাফির সঙ্গে ব্লেয়ার শাসনামলে করা সব গোপন চুক্তি প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা যায়, ওই বৈঠকে ব্লেয়ারের সঙ্গী হয়েছিলেন একজন মার্কিন ধনকুবের। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের জন্য লিবিয়ার উপকূলে অবকাশযাপনকেন্দ্র নির্মাণ করতে বলেছিলেন গাদ্দাফি।
ওই সফরের ব্যাপারে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে ব্লেয়ারের ব্যক্তিগত কার্যালয়। ব্লেয়ার সরকার লিবিয়া সফরের আলাপ-আলোচনায় গাদ্দাফির নাম উল্লেখ করেননি। গাদ্দাফিকে তারা ‘দ্য লিডার’ বা নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গাদ্দাফির সঙ্গে ব্লেয়ারের গোপন বৈঠকের বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় লকারবি বোমা হামলায় নিহত লোকজনের পরিবারে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ওই হামলায় নিহত হয়েছিলেন প্যান ডিক্সের ভাই। ব্লেয়ারের সফর সম্পর্কে ডিক্স টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘ব্লেয়ারের সফরের খরচ বহন করেছেন গাদ্দাফি। এটা জেনে আমি হতভম্ব হয়েছি। এ সুযোগ গ্রহণ করে ব্লেয়ার অপরাধ করেছেন। আর তাঁরা ওই বৈঠকে যেসব গোপন চুক্তি করেছেন, সেগুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত।’
লিবিয়ায় নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত অলিভার মাইলস এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্লেয়ার তাঁর ডাউনিং স্ট্রিটের যোগাযোগকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন।
মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে ব্লেয়ার তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলেছেন, স্কটল্যান্ডের নির্বাহী কর্মকর্তারাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ব্লেয়ার ও গাদ্দাফির ওই গোপন বৈঠকের সময় মেগরাহির মুক্তি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। মেগরাহি প্যান অ্যাম বিমানের ফ্লাইটে বোমা হামলা চালিয়ে ২৭০ জনকে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনায় মেগরাহি দোষী সাব্যস্ত হন। এরপর মেগরাহি ক্যানসারে আক্রান্ত হলে ২০০৯ সালে তাঁকে যুক্তরাজ্যের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। যদিও মেগরাহি আর তিন মাস বাঁচবেন বলে তখন চিকিত্সকেরা জানিয়েছিলেন।

Monday, August 8, 2011

লন্ডনে আবার সহিংসতা


লন্ডন, অগাস্ট ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- লন্ডনে টানা তৃতীয় দিনের মতো সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি, ভবন জ্বালিয়ে দেওয়া, দোকান লুটপাট করা ছাড়াও পুলিশের দিকে পেট্রোল বোমা, পাথর এবং ডাস্টবিন ছুড়েছে তরুণরা।

হ্যাকনি রেলস্টেশন এলাকা পুলিশ সিল করতে চাইলে সোমবারের এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ একজনকে থামিয়ে তল্লাশি চালানোর পর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তরুণরা কয়েকটি দোকান এবং পুলিশের গাড়ির জানালা ভাংচুর করা ছাড়াও অন্তত একটি গাড়ি এবং ডাস্টবিন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা হ্যাকনিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে।

দক্ষিণ লন্ডনের পেকহাম এবং লিউইশাম এও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তরুণদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুটি জায়গায় তরুণরা একটি ভবনে আগুন দেওয়া ছাড়াও দোতালা একটি বাস জ্বালিয়ে দিয়েছে।

পেকহামে একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। লন্ডনের কয়েকটি এলাকায় জ্বলতে দেখা গেছে গাড়ি। রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছে বিক্ষুব্ধ তরুণরা।

লন্ডনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে সামাাজিক যোগাযোগ ওয়েবাসাইট থেকে জানা যাচ্ছে।

সহিংসতা তৃতীয় দিনে গড়ানোয় লন্ডনের রাস্তায় আবারো মোতায়েন করা হচ্ছে দাঙ্গা পুলিশ। লন্ডনে দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারীদের 'সুযোগসন্ধানী অপরাধী' বলে নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ বলেছেন, "অনর্থক এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সুযোগসন্ধানী চোরামি আর সহিংসতা ছাড়া এটি আর কিছু নয়। এটি কোনভাবেই কাম্য নয়।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, "আমরা যে সহিংসতা, লুটপাট এবং দুর্বৃত্তপনা দেখছি তা পরিস্কার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এদের বিচার করা হবে। অপকর্মের পরিণতি তাদেরকে ভোগ করতেই হবে।"

পুলিশ লন্ডন জুড়ে সহিংসতার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২শ'রও বেশি জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

শনিবার থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় আহত হয়েছে অন্তত ৩৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা।

উত্তর লন্ডনের টোটেনহ্যামে ঘটে যাওয়া বিক্ষুদ্ধ জনতার দাঙ্গা রোববার রাতে আরও কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটন, ক্রয়ডন, পূর্ব লন্ডনের ওয়ালথামস্টো, চিংফোর্ড, সেন্ট্রাল লন্ডনের অক্সফোর্ড সার্কাস, উত্তর লন্ডনের হ্যাকনি, এনফিলড্, পন্ডার্স এন্ড ও পালমার্স গ্রিনে রোববার রাতে দোকান পাট ভাংচুর ও মালামাল লুট হয়েছে। কিছু এলাকায় পুলিশের গাড়িতে ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ যুবক মার্ক ডুগাল এর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে কয়েকশ' জনতা টোটেনহ্যাম পুলিশ স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুদ্ধ জনতা পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে ও একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা পুলিশ স্টেশনের নিকটবর্তী দোকানপাটের মালামাল লুট করে পেট্রল বোমা ও মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করে।

সহিংতা নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং পুলিশ দ্রুত সহিংসতা সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপসহকারী পুলিশ কমিশনার স্টিফেন কাভানাগ।

মেট্রপলিটান পুলিশের কমান্ডার ক্রিস্টিন জোনস বলেন, আমরা একটি চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতির সম্মুখীন। বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো সহিংস ঘটনা ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটছে। আমরা সারা লন্ডনে পুলিশের ইউনিট মোতায়েন করেছি এবং যেখানেই অপরাধের খবর পাচ্ছি সেখানে দ্রুত মুভ করছি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

লন্ডনের উত্তাপ কমেনি


সৈয়দ নাহাস পাশা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
লন্ডন, অগাস্ট ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- উত্তর লন্ডনের টোটেনহ্যামে ঘটে যাওয়া বিক্ষুব্ধ জনতার দাঙ্গা রোববার রাতে আরও কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটন, ক্রয়ডন, পূর্ব লন্ডনের ওয়ালথামস্টো, চিংফোর্ড, সেন্ট্রাল লন্ডনের অক্সফোর্ড সার্কাস, উত্তর লন্ডনের হ্যাকনি, এনফিলড্, পন্ডার্স এন্ড ও পালমার্স গ্রিনে রোববার রাতে দোকান পাট ভাংচুর ও মালামাল লুট হয়েছে। কিছু এলাকায় পুলিশের গাড়িতে ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

শনিবার রাতে উত্তর লন্ডনের টোটেনহ্যামে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে ২৬ পুলিশ আহত হয় ও ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ যুবক মার্ক ডুগাল এর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে কয়েকশ' জনতা টোটেনহ্যাম পুলিশ স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে ও একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা পুলিশ স্টেশনের নিকটবর্তী দোকানপাটের মালামাল লুট করে পেট্রল বোমা ও মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করে। রোববার রাতে আবার দাঙ্গার আশংকায় টোটেনহ্যাম এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু লন্ডন মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর আসতে থাকে। সন্ধ্যায় তরুণরা বিভিন্ন এলাকা থেকে উত্তর লন্ডনে টোটেনহ্যামে থেকে ৬ মাইল দূরে এনফিলড্-এ সমবেত হয়। বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে তারা ভাংচুর ও লুটতরাজ চালায়। সে সময় মোতায়েনরত দাঙ্গা পুলিশের সাথে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অন্ততপক্ষে এক ডজন দোকান পাটে ভাংচুর মালামাল লুট হয়।

লন্ডনের বিভিন্ন এলাকার এসব সহিংস ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত বলে পুলিশ মনে করছে। এজন্যে ফেইসবুক, টুইটারের মতো সোস্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোন অনেকাংশে দায়ী বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটনেও রোববার রাতে জনতা কয়েকটি দোকানে ভাংচুর করে লুঠতরাজ চালায়। ইলেক্ট্রনিকস জিনিসপত্র, কাপড়, মোবাইল ফোন ইত্যাদি লুট করে মিনিটের মধ্যে তারা পালিয়ে যায়। ফুটলকার নামের একটি জুতার দোকানে লুটতরাজকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। টোটেনহ্যামের মতো ব্রিক্সটনেও ১৯৮১ সালে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়। পুলিশসহ প্রায় তিনশতাধিক মানুষ মার্গারেট থেচারের শাসনামলের সেই দাঙ্গায় আহত হয়।

পুলিশ জানায় রোববার রাতে পূর্ব লন্ডনের চিংফোর্ডে একটি দোকানে লুটপাট বন্ধের সময় দুই জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়।

সেন্ট্রাল লন্ডনের ব্যস্ততম শপিং এলাকা অক্সফোর্ড সার্কাসে ৫০ জনের বেশি তরুণ একত্রিত হয়ে কয়েকটি দোকানে হামলা করে। এসময় পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইজলিংটনে একদল যুবক পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে কাঁচ ভাংচুর করে। পন্ডার্স এলাকায় টেসকো সুপার মার্কেটে ভাংচুর করে মালামাল লুট করে দুষ্কৃতকারীরা।

লন্ডনের হ্যাকনির কিংসল্যান্ড লোডে শপিং সেন্টারেও কয়েকটি দোকানে ভাংচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা।

মেট্রপলিটান পুলিশের কমান্ডার ক্রিস্টিন জোনস বলেন, আমরা একটি চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতির সম্মুখীন। বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো সহিংস ঘটনা ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটছে। আমরা সারা লন্ডনে পুলিশের ইউনিট মোতায়েন করেছি এবং যেখানেই অপরাধের খবর পাচ্ছি সেখানে দ্রুত মুভ করছি।

ওদিকে টোটেনহ্যামে পুলিশের গুলিতে নিহত মার্ক ডুগালের পরিবারের সাথে তদন্তকারী ইন্ডিপেন্ডেন্ট পুলিশ কমপ্লেইন্ট কমিশনের কর্মকর্তারা সারাদিন আলোচনা করেছেন। তারা এর একটি নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মার্ক ডুগালের আত্মীয়স্বজনকে। কমিশনের কর্মকর্তা র‌্যাচেল সারফন্টাইন বলেন, মৃত্যুর তদন্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Friday, July 29, 2011

 হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন, বেলুচিস্তানে অপহরণ নির্যাতন গুম করছে নিরাপত্তা বাহিনী

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই শত শত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মীকে অপহরণ করে আটকে রাখছে। নির্যাতন চালাচ্ছে তাদের ওপর।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অপহূত অনেককে মেরে ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু লোকের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের লাশ গুম করে ফেলা হচ্ছে।
‘উই ক্যান টর্চার, কিল অ্যান্ড কিপ ইউ ফর ইয়ার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কমপক্ষে ১০০ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই আছে, যারা বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া অপহূত ও নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনদেরও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ বছরের শিশুরা পর্যন্ত অপহরণের শিকার হয়েছে, যাঁদের কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না।
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান দেশটির ৪৪ শতাংশ ভূভাগ দখল করে আছে। তেল, গ্যাস, তামা, সোনাসহ বিভিন্ন ধরনের খনিজ সম্পদে প্রদেশটি সমৃদ্ধ। ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এই প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত। আফগানিস্তানের তালেবান নেতারা বেলুচিস্তান ঘাঁটি গেড়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে থেকে অভিযোগ করে আসছে। সরকার বলেছে, আফগান তালেবানের পাশাপাশি স্থানীয় উগ্রপন্থী জাতীয়তাবাদী আদিবাসীরাও বেলুচিস্তানে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে।
বেলুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী আদিবাসী নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এসব সম্পদের খুব কম অংশই এ প্রদেশের মানুষকে ভোগ করার সুযোগ দেয়। বালুচ রিপাবলিকান পার্টির মতো কয়েকটি জাতীয়তাবাদী দল অধিকতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তাদের দমিয়ে রাখতেই নিরাপত্তা বাহিনী এসব অপহরণ ও খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের উদ্ধৃতি দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারবিরোধী কর্মীদের প্রায়ই সাদা পোশাকে নিরাপত্তাকর্মীরা তুলে নিয়ে যান।
বালুচ রিপাবলিকান পার্টির কর্মী বশির আজিম বলেছেন, ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৯ সালে তিন দফায় তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তাঁর ভাষ্য, ‘তাঁরা আমার নোখের ভেতর সুচ ঢুকিয়ে দিত, পিঠের ওপর চেয়ার পেতে বসে পড়ত। একবার আমাকে এমন একটা কক্ষে ২৪ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া নড়াচড়া করার কোনো সুযোগ ছিল না। যখন তাঁরা আমাকে বাইরে নিয়ে এল, তখন আমার পা দুটো ফুলে গেছে। আমি বাইরে আসার সময় পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লাম।’
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাউকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া ধরে আনে না। যাদের ধরে আনে তাদের সময়মতো আদালতে সোপর্দ করা হয়। ডন ও বিবিসি অনলাইন।

Thursday, July 28, 2011

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হতে পারে

অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক
নরওয়েতে গত শুক্রবার জোড়া হামলা চালিয়ে ৭৬ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করা অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে সে দেশের পুলিশ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনার কথা চিন্তাভাবনা করছে। সরকারি কৌঁসুলি ক্রিশ্চিয়ান হ্যাটলো গতকাল মঙ্গলবার আফেনপোস্টেন পত্রিকাকে এ কথা জানিয়েছেন।
ক্রিশ্চিয়ান হ্যাটলো বলেন, বর্তমানে ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২১ বছরের করাদণ্ডাদেশ হতে পারে। তবে ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর ৩০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ হতে পারে।
নরওয়ের বিচারমন্ত্রী নুট স্টরবার্জেট জোড়া হামলার ঘটনায় পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অসলো পুলিশ ও তাদের সহযোগীদের চমৎকার কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ এর আগে হামলার ঘটনায় কর্মকর্তাদের কাজের ধীরগতির জন্য গণমাধ্যমে পুলিশের সমালোচনা করা হয়েছে।
নুট স্টরবার্জেট বলেন, ‘এই লোকেরা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি কঠোর পরিশ্রম করেছে। তারা তাদের ছুটির দিনও বিসর্জন দিয়েছে এবং দেশের সব প্রান্ত থেকেই তারা স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেছে।’
পুলিশের মুখপাত্র স্টার্লা হেনরেইকসবো বলেন, ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অন্য অভিযোগগুলোর সম্ভাবনা এখনো বাদ দেওয়া হয়নি। পুলিশের গতকাল রাতেই হামলার শিকার ব্যক্তিদের নামের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা।
নরওয়ের পুলিশ ধারণা করছে, শুক্রবার অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক সম্ভবত একাই জোড়া হামলা চালিয়ে ৭৬ জনকে হত্যা করেছিলেন। ঘটনা তদন্তের সঙ্গে জড়িত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ব্রেইভিক যখন নিজেই একা ওই হামলা চালানোর দাবি করেছেন, তখন তাঁর দাবি তেমন বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তবে আমরা কেউই তাঁর দাবির বিষয়টি একবারেই উড়িয়ে দিইনি। বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও দ্য হিন্দু। প্রথম আলো

Tuesday, July 26, 2011

আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন এ রাজা

ভারতের সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ রাজা ২জি (দ্বিতীয় প্রজন্মের) মোবাইল ফোনের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল সোমবার নয়াদিল্লির একটি বিশেষ আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
লাইসেন্স দেওয়ার সময় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে এ রাজাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। ভারতের জাতীয় নিরীক্ষকের মতে, এই দুর্নীতির ফলে সরকারের চার হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে। তবে আদালতে কৌঁসুলিরা দাবি করেন, পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, এই দুর্নীতির ঘটনায় সরকারের ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়।
এ ঘটনায় ভারতের ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) শরিক দল ডিএমকের নেতা এ রাজার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে গতকাল রাজার আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়। বিবৃতিতে রাজা বলেন, লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের নীতি অনুযায়ীই তিনি সব পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ কারণে যদি তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ হয়, তাহলে ১৯৯৩ সালের পর ভারতের সব টেলিযোগাযোগমন্ত্রীকে তাঁর সঙ্গে কারাগারে থাকতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ সিদ্ধান্তে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কীভাবে শুধু একজনের বিচার হয়?
সাবেক মন্ত্রী রাজা গত ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তিনিসহ এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৬ জনের বিচার চলছে। এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।প্রথম আলো

গাদ্দাফির ‘প্রস্থান পরিস্থিতি’ পর্যালোচনা করছে ব্রিটেন

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হাগ বলেছেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। তবে ব্রিটেন তাঁর দেশ ত্যাগ চাইলেও, সেটা নাও হতে পারে।
লিবিয়ার নেতা কর্নেল গাদ্দাফির প্রস্থান পরিস্থিতি নিয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে সামনে রেখে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হাগ লন্ডনে এ কথা বলেন। খবর বিবিসি অনলাইনের।
হাগ বলেন, ‘যাই হোক না কেন, এটা পরিষ্কার, তাঁকে ক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে। তবে নিজ উদ্যোগে লিবিয়া ত্যাগ করাটাই তাঁর জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিবিয়ার জনগণই তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ করবে। ব্রিটেন কিংবা ফ্রান্স নয়।’
এর আগে অবশ্য গাদ্দাফিকে দেশ ত্যাগ করতে হবে বলে মত দিয়েছিলেন উইলিয়াম হাগ।প্রথম আলো

ইন্দিরা গান্ধীকে স্বাধীনতা সম্মাননা

একাত্তরে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্মাননা অর্পণ করা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্র্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে এক অনাড়ম্বর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ ও ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। সোনিয়া গান্ধী গত রোববার ঢাকায় আসেন অটিজম-বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে। বাংলাদেশ সরকার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী প্রায় পাঁচ শ বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা দেওয়া হবে। ইন্দিরা গান্ধীকে সম্মাননা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সর্বতোভাবে সহায়তা করেছেন, প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছেন, স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে সারা বিশ্বে কূটনৈতিক তৎ পরতা চালিয়েছেন, তাঁকে সম্মানিত করতে পেরে দেশবাসীও গৌরববোধ করছে। এমন একটি সময়ে এই সম্মাননা দেওয়া হলো, যখন সব সংশয় ও সন্দেহ পেছনে ফেলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নবযুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই হওয়ার কথা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে দুই দেশের মধ্যে স্থল ও রেলওয়ে ট্রানজিটসুবিধা বিনিময়েরও প্রস্তুতি চলছে। এই দুটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমনভাবে বিন্যস্ত যে পারস্পরিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে আন্তযোগাযোগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।
বিলম্বে হলেও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশের এই রাষ্ট্রনেতাকে স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জানানো হলো। উত্তম হতো, যদি স্বাধীনতার সম্মাননা জানানোর বিষয়টিও আমরা জাতীয় মতৈক্যের ভিত্তিতে করতে পারতাম, এ নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হতো। আরও আনন্দের হতো, যদি এ রকম একটি বিরল ও ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যেত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে আমাদের বৈরী রাজনীতির কারণে সেটা সম্ভব হলো না। তবে প্রধান বিরোধী দল সোনিয়া গান্ধীর বাংলাদেশ সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের সহায়ক হবে বলে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, তা ইতিবাচক। রাজনৈতিক পথ ও মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও পররাষ্ট্রনীতি তথা নিকট প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আমাদের জাতীয় নেতৃত্ব একযোগে কাজ করবে—এটাই প্রত্যাশিত।
বিদেশি নাগরিকদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি যে লক্ষ্য ও আদর্শ সামনে রেখে একাত্তরে এ দেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে জাতীয় মুক্তির মহাসমরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই লক্ষ্য ও আদর্শ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই আত্মজিজ্ঞাসাও জরুরি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা কেবল মুখে উচ্চারণই যথেষ্ট নয়, আমাদের চিন্তা ও কর্মে এর যথাযথ প্রতিফলন থাকতে হবে। স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে এটাই দেশবাসীর ঐকান্তিক প্রার্থনা।

 সিরিয়ায় বহুদলীয় রাজনীতির দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে

অবশেষে সিরিয়ায় বহুদলীয় রাজনীতির দ্বার উন্মুক্ত হতে চলেছে। সরকার ইতিমধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের অনুমতিসংক্রান্ত একটি খসড়া আইন তৈরি করেছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিই ছিল এটি। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা এ খবর জানায়।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দেশের রাজনীতিতে প্রাণ ফেরাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার নতুন রাজনৈতিক দল গঠনসংক্রান্ত ওই খসড়া আইন তৈরি করেছে। দল গঠন, আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, দলগুলোর অধিকার ও দায়বদ্ধতার মতো অপরিহার্য বিষয়গুলো ওই বিলটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে বহুদলীয় রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করা হলেও ধর্ম, উপজাতি, অঞ্চল বা পেশাভিত্তিক কোনো দল গঠন করা যাবে না। গোত্র, লিঙ্গ বা বর্ণভিত্তিক কোনো জনগোষ্ঠী যাতে বৈষম্যের শিকার না হয়, সেই বিধান রাখা হয়েছে ওই খসড়া বিলে। এ ছাড়া যেসব দল সিরিয়াভিত্তিক নয়, সেগুলোকেও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বলে প্রকাশিত খবরে বলা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল থেকেই সিরিয়ার ক্ষমতায় আঁকড়ে রয়েছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাথ পার্টি। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এই দলটিই সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করে। রাজনৈতিক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ১৫ মে থেকে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলে আসছে। এএফপি

Monday, July 25, 2011

হামলার আরও ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসবে

  • নরওয়ের রাজধানী অসলোয় শুক্রবারের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক সমাবেশে কাঁদছেন দুই শোকার্ত ন� নরওয়ের রাজধানী অসলোয় শুক্রবারের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক সমাবেশে কাঁদছেন দুই শোকার্ত নারী।
    ছবিটি গতকাল তোলা এএফপি
  • প্রধানমন্ত্রী স্টলটেনবার্গ: স্তম্ভিত প্রধানমন্ত্রী স্টলটেনবার্গ: স্তম্ভিত
1 2
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, হামলায় নিহত ব্যক্তিদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। সবার নাম প্রকাশ করা হলে হামলার আরও ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজধানী অসলোর প্রধান গির্জায় শোকে মুহ্যমান শত শত মানুষের সামনে প্রধানমন্ত্রী স্টলটেনবার্গ গতকাল রোববার এ কথা বলেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেবার পার্টির যুব শাখার সদস্যসহ নিহত সবার পরিচয় ও ছবি যত দ্রুত সম্ভব প্রকাশ করা হবে। তখন নৃশংস এই ঘটনার প্রকৃত ভয়াবহতা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশ ছোট। কিন্তু আমরা গর্বিত জাতি। আমরা কখনোই আমাদের মূল্যবোধ থেকে সরে যাব না। স্টলটেনবার্গ বলেন, নৃশংস এই হামলা সত্ত্বেও আমরা প্রকৃত গণতন্ত্র, উদারতা ও মানবিকতার দিকে এগিয়ে যাব।
দেশটির গির্জার প্রধান যাজক ওলে ক্রিশ্চিয়ান কেভারমে শোকার্ত জনতার উদ্দেশে বলেন, আমরা শোকের চিহ্ন নিয়ে এখানে সমবেত হয়েছি। সঙ্গে আশাও জিইয়ে রাখতে হবে।
যুক্তরাজ্যের রানির শোক: নরওয়েতে জোড়া সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ডের কাছে পাঠানো এক শোক বার্তায় বলেন, এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। রাজা ফিলিপসহ আমি নরওয়ের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সন্ত্রাসী হামলায় হতাহত সবার প্রতি আমাদের প্রার্থনা ও শুভকামনা রইল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন। এ সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন এ ঘটনা তদন্তে ব্রিটিশ পুলিশের সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
পোপের শোকপ্রকাশ: নরওয়েতে হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট। গতকাল রোববার নিজের গ্রীষ্মকালীন বাসভবনে এই শোক প্রকাশের কথা জানান। ঘৃণ্য এই পথ থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পোপ বেনেডিক্ট বলেন, আমরা হামলায় নিহতদের জন্য প্রার্থনা করি। আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাই।
গত শুক্রবার জোড়া সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত হয় নরওয়ে। রাজধানী অসলোতে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় সাতজন। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ কয়েকটি সরকারি ভবন। এর কিছুক্ষণ পর রাজধানীর দক্ষিণে একটি দ্বীপে দেশের ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের সম্মেলনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয় ৮৫ জন। এএফপি, বিবিসি।

Sunday, July 24, 2011

ঢাকায় সোনিয়া গান্ধী

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে স্বাগত জানান সায়ম� শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে স্বাগত জানান সায়মা হোসেন
ছবি: হাবিবুর রহমান
ভারতের কংগ্রেস পার্টির সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী গতকাল রোববার রাতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে তিনি ঢাকা এলেন।
সোনিয়া গান্ধী ভারতের ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স—ইউপিএ) চেয়ারপারসন। আজ সকালে রূপসী বাংলা হোটেলে অটিজম-বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। বিকেলে বঙ্গভবনে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে দেওয়া বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করবেন তাঁর পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ইন্দিরা গান্ধীকে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্মাননা’ (মরণোত্তর) পদক দেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সোনিয়াকে বহনকারী ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমান গতকাল রাত আটটা ৪৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম। এ সময় বিমানবন্দরে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা হোসেন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত।
সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে ঢাকায় এসেছেন ভারতের গৃহায়ণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও সংস্কৃতিমন্ত্রী কুমারী সাইলেজা।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোনিয়া গান্ধী সরাসরি সোনারগাঁও হোটেলে যান। বাংলাদেশ সফরের সময় তিনি এখানেই থাকবেন।
দিনের কার্যসূচি: আজ সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিনের কার্যসূচি শুরু করবেন সোনিয়া গান্ধী। সাভার থেকে তিনি রূপসী বাংলা হোটেলে অটিজম-বিষয়ক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সেখানে সৌজন্য সাক্ষা ৎ করবেন। পরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষা ৎ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। বিকেলে তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। এরপর সোনিয়া গান্ধী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে ইন্দিরা গান্ধীর সম্মাননা গ্রহণ করবেন। সেখান থেকে তিনি রূপসী বাংলা হোটেলে তাঁর সম্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন।
আজ রাত আটটা ৪৫ মিনিটে সোনিয়া গান্ধীর দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
বঙ্গভবনের প্রস্তুতি: বাসস জানায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সম্মাননা জানাতে বঙ্গভবনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে বিদেশিদের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্মাননা’ (মরণোত্তর) পদক গ্রহণ করবেন তাঁর পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধী।
জানা গেছে, বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বঙ্গভবনের দরবার হলে এক ঘণ্টার এ অনুষ্ঠান চলবে। এতে দেশি-বিদেশি সাত শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার।
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্মাননা’ হিসেবে ১৮ ক্যারেটের ২০০ ভরি ওজনের স্বর্ণ দিয়ে তৈরি পদক ও তিন পৃষ্ঠার একটি মানপত্র দেওয়া হবে। সৌহার্দ্য, শান্তি ও অর্জনের প্রতীক হিসেবে কদমগাছের নকশাসংবলিত ষোড়শ শতাব্দীর টেরাকোটার আদলে তৈরি পদকের নকশা করেছেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ও হাশেম খান।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধীর দুর্লভ কিছু মুহূর্তের সাক্ষ্য নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ইন্দিরা ছিলেন সংকল্পবদ্ধ: একাত্তর সালে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল জ্যাক জেকব গতকাল প্রথম আলোকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হওয়া এবং সব থেকে বেশি গৌরব তাঁরই প্রাপ্য। কারণ যে করেই হোক, বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিশ্চিত করতে তিনি ছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।
জেকবের মতে, ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অমিততেজ, সাহস ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
জেনারেল জ্যাক জেকব বলেন, ‘বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসমসাহসিকতায় অর্জিত স্বাধীনতার ৪০তম বছরে ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে তাঁরই পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধী যে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন, তা জেনে আমি আনন্দিত।’
সংশোধনী: গতকাল প্রথম আলোর শেষ পৃষ্ঠায় ‘সোনিয়া গান্ধী আজ আসছেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ‘বন মন্ত্রণালয়ের কাছে মজুদ থাকা প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো কাঠ ব্যবহূত’ ছাপা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই ফ্রেমের কাঠ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গৃহায়ণ অধিদপ্তর সরবরাহ করেছে। অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
 প্রথম আলো

বাধ্য হয়েই জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য আবেদন করছি

মাহমুদ আব্বাস মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা বাধ্য হয়েই জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে যাচ্ছে। অধিকৃত এলাকায় বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান ইসরায়েল বারবার প্রত্যাখ্যান করায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
গতকাল শনিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে মাহমুদ আব্বাস এ কথা বলেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য সাধারণ পরিষদে আবেদন জানাবে ফিলিস্তিন। বিষয়টির প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে কূটনীতিকদের সঙ্গে এ বৈঠকে বসেন আব্বাস। সেখানে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তাইয়িপ এরদোগানও উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘে যাওয়ার ব্যাপারে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি একতরফা নয়, বরং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিষয়টিই একতরফা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এএফপিকে বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনের প্রস্তুতি আগামী ৪ আগস্ট চূড়ান্ত করা হবে। ওই দিন দোহায় আরব মনিটরিং কমিটির সভা হবে। কাতার, মিসর ও সৌদি আরব ওই সভায় যোগ দেবে। ওই কূটনীতিক আরও বলেন, এরপর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ওয়াশিংটনের উদ্যোগে গত সেপ্টেম্বরে আবার শুরু হয়। কিছুদিন পর তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে মাহমুদ আব্বাস বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অধিকৃত এলাকায় বসতি স্থাপন বন্ধ করতে রাজি হয়নি। ১৯৬৭ সালের সীমানা প্রশ্নে সমঝোতা আলোচনায় বসতেও তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ জন্যই তাঁর সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় বসা সম্ভব হয়নি।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সমঝোতায় পৌঁছানো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের মতো আমরাও সাধারণ পরিষদের, জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি।’
আব্বাস বলেন, ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি দখলদারির শিকার হয়। এখনো তা থেকে মুক্ত হয়নি ফিলিস্তিন।
আব্বাস বলেন, ‘এর মধ্যে ১১৮টি দেশ ১৯৬৭ সালের ওই যুদ্ধের আগের সীমানা অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। আশা করি, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ সংখ্যা ১৩০ হবে।’ এএফপি।

 জোড়া হামলায় রক্তাক্ত নরওয়ে, নিহত ৯২

 প্রতিবছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারটি আসে নরওয়ে থেকে। বিশ্বজুড়ে হানাহানির এই সময়ে শান্তির দেশই ছিল নরডিক এ দেশটি। কিন্তু গত শুক্রবার জোড়া সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত হলো দেশটির মাটি। রাজধানী অসলোতে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে সাতজন। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ কয়েকটি সরকারি ভবন। এর কিছুক্ষণ পর রাজধানীর দক্ষিণে একটি দ্বীপে দেশের ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের সম্মেলনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছে ৮৫ জন। এই বন্দুকধারীই অসলোতে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ। খবর এএফপি, রয়টার্স, বিবিসির।
অসলোতে বোমা: অসলোতে বিস্ফোরণ ঘটে স্থানীয় সময় বেলা তিনটার দিকে। শহরের মধ্যাঞ্চলে প্রচণ্ড শব্দে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়, তেল মন্ত্রণালয় ও দেশের প্রধান ট্যাবলয়েড পত্রিকা ভিজের প্রধান কার্যালয় ওই এলাকায় অবস্থিত। বিস্ফোরণের সময় প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গ নিজের কার্যালয়ে ছিলেন না।
স্টেট সেক্রেটারি ক্রিস্টিন অ্যামুন্ডসেন বলেন, শুক্রবার ছিল সরকারি ছুটির দিন। কাজেই অন্য দিনের মতো ভবনগুলোতে সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন না। তার পরও ওই ভবনগুলোতে প্রতিদিন শত শত মানুষ থাকে।
বিস্ফোরণে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ১৭ তলা ভবনসহ পাশের বহুতল সরকারি ভবনগুলোর জানালার কাচসহ কাঠামো ভেঙেচুরে রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। কোনো কোনো ভবনের নিচের তলাও বিধ্বস্ত হয়। বিস্ফোরণে ভিজের প্রধান কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এটি গাড়িবোমা হামলা ছিল বলে তাদের মনে হয়েছে, তবে তারা নিশ্চিত নয়। গতকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষ ওই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।
ন্যাটোর সদস্য দেশ নরওয়েতে এর আগে কখনো এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে আফগান যুদ্ধে জড়িত হওয়ার পর থেকে কখনো কখনো আল-কায়েদার হুমকির মুখে পড়েছে দেশটি।
বন্দুকধারীর গুলি: রাজধানী থেকে মাত্র ১৭ মাইল দক্ষিণের ছোট্ট দ্বীপ উটোয়া। পাইন বনে ঢাকা দ্বীপটি লম্বায় মাত্র আধা কিলোমিটারের মতো। শুক্রবার দেশের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির যুব সংগঠনের গ্রীষ্মকালীন সম্মেলন হচ্ছিল সেখানে। সারা দেশ থেকে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন সংগঠনের এক হাজারের মতো নেতা-কর্মী ও সমর্থক। তাঁদের বেশির ভাগই তরুণ। প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গের গতকাল শনিবার ওই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
শুক্রবার বিকেলে অসলোতে বিস্ফোরণের ঘণ্টা দুয়েক পর উটোয়ায় হামলা চালায় একজন বন্দুকধারী। পুলিশবেশী ওই হামলাকারী নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীর কাছে একটি হাতবন্দুক, একটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও একটি শটগান ছিল।
এনআরকে টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক বলেন, পুলিশের পোশাক পরা ওই বন্দুকধারী ফেরিতে করে মূল ভূখণ্ড থেকে দ্বীপটিতে পৌঁছায়। সে জানায়, অসলোতে বিস্ফোরণের কারণে সে তল্লাশি করতে সেখানে এসেছে। এরপর সে লোকজনকে এক জায়গায় জড়ো হতে বলে। লোকজন জড়ো হওয়ার পরই সে গুলি চালাতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দুকধারী ওই লোক বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে থাকে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া অনেকে তখন প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
উটোয়া থেকে মাত্র কয়েক শ মিটার দূরে অবস্থিত টেরিফোর্ড এলাকা। সেখানকার বাসিন্দা এনিটা লেইন বলেন, ‘দেখলাম, মানুষ দল বেঁধে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ৫০ জনের মতো সাঁতরে তীরে ওঠে। এরপর সবাই কান্নায় ভেঙে পড়ে। সবার চোখে-মুখে রাজ্যের আতঙ্ক। এদের বেশির ভাগের বয়স ১৪ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।’
বন্দুকধারীর ওই নারকীয় তাণ্ডব থেকে বেঁচে গেছেন জর্গান বেনোনি। তিনি বলেন, ‘দেখলাম, টা...টা...টা...শব্দে একটার পর একটা ঝড়ের মতো গুলি হচ্ছে। পাখির মতো পড়ে যাচ্ছে মানুষ। আমিও সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়লাম। নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করলাম কয়েকটি পাথরের আড়ালে। সেখান থেকেই একনজর দেখলাম হামলাকারীকে, মাত্র ২০-৩০ মিটার দূরে।’
বেনোনি আরও বলেন, ‘একটু দূরে তীরে দেখলাম, কয়েকটি নৌকা ভেড়ানো আছে; কিন্তু আমি সাহস পেলাম না ওই নৌকায় উঠতে। পরে ঝাঁপিয়ে পড়লাম পানিতে।’
হানা নামের ১৬ বছরের এক কিশোর যোগ দিয়েছিল ওই সম্মেলনে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সে বলে, ‘একটু আগে অসলোর বিস্ফোরণের খবরটি আমরা জানতে পারি। এক পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকজন মিলে তা নিয়ে কথা বলছিলাম। দেখলাম, একটু দূরেই দাঁড়িয়ে আছে এক পুলিশ। হঠাৎ করে ওই পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করল। যে যেভাবে পারল দৌড় দিল সৈকতের দিকে। পানিতে পড়ে সাঁতরাতে শুরু করলাম।’
এভাবে চলতে থাকে গুলির বৃষ্টি আর প্রাণভয়ে মানুষের ছোটাছুটি। কেউ ঝাঁপিয়ে পড়ে পানিতে, কেউ নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করে ঝোপ-জঙ্গলের মধ্যে। অবশেষে জীবিত অবস্থায় আটক করা হয় বন্দুকধারীকে।
থেমে যায় তাণ্ডব। ততক্ষণে রক্তে লাল হয়ে গেছে ছোট্ট সুন্দর সবুজ দ্বীপটি। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৮৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করে পুলিশ।
কে এই হামলাকারী: দীর্ঘ হত্যাযজ্ঞের পর ঘটনাস্থল থেকেই বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নাম অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক। বয়স ৩২ বছর। বেশ লম্বা গড়নের এই যুবক নরওয়েরই নাগরিক। ডানপন্থী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তা ছাড়া তিনি ইন্টারনেটেও ডানপন্থী ও মুসলিমবিরোধী মত প্রকাশ করেছিলেন।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বন্দুকধারীকে ঘটনাস্থলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে অসলোতে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা অদ্ভুত ব্যাপার যে বন্দুকধারী আত্মহত্যা করেনি। এ ধরনের ঘটনায় হামলাকারী সাধারণত আত্মহত্যা করে থাকে।’
অপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে বেশি কিছু তথ্য নেই। তাঁর নিজের ওয়েবসাইট ঘেঁটে মনে হচ্ছে, তিনি ডানপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, সেটা সম্ভবত ক্রিশ্চিয়ান চরম পন্থা।’
সে দেশের বার্তা সংস্থা এটিবি জানায়, ব্রেইভিক একটি বৈধ অস্ত্রের মালিক। তাঁর একটি সবজির খামার আছে। এ খামারের জন্য তিনি বিপুল পরিমাণ সার রাখতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, বোমা ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত এবং বোমার উপাদান হিসেবে তিনি সার ব্যবহার করেছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ছোটখাটো কিছু অপরাধ ছাড়া ওই বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের তথ্য নেই।
নরওয়ের গণমাধ্যম জানায়, ব্রেইভিকের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট আছে। তিনি সেখানে একটিমাত্র বার্তা পোস্ট করেছেন, তাও মাত্র কয়েক দিন আগে। ওই টুইটে তিনি লেখেন, ‘কোনো একটি মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষের শক্তি এক লাখ মানুষের সমান।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য: গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘একটি স্বর্গীয় দ্বীপ নরকে পরিণত হয়েছে।’ এ হামলার কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তবে তিনি বলেন, ‘আমি বলব, অন্য দেশের মতো আমাদের দেশে চরম পন্থা কোনো বড় সমস্যা নয়, তবে কিছু সংগঠন আছে। তাদের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে এবং আমাদের পুলিশও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমাদের দেশে এ ধরনের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা কখনো ঘটেনি। এটা আমাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো।’
বিশ্বজুড়ে নিন্দা: অসলোতে বিস্ফোরণ এবং উটোয়া দ্বীপের বন্দুকধারীর গুলির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো এবং রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ।
শেখ হাসিনার নিন্দা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এক বার্তায় বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো সীমান্ত নেই। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।’ নরওয়ের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি নিহত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।প্রথম আলো

Friday, July 15, 2011

বিদ্রোহীরা দখল নিলে ত্রিপোলি উড়িয়ে দেবেন গাদ্দাফি

মুয়াম্মার গাদ্দাফি
মুয়াম্মার গাদ্দাফি
লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ‘আত্মঘাতী পরিকল্পনা’ নিয়েছেন। বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে নিলে তিনি এ শহর উড়িয়ে দেবেন। লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূতের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার একটি সংবাদপত্রে এ খবর প্রকাশিত হয়।
সমঝোতার মাধ্যমে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া ও বিদ্রোহীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আলোচনায় বসছেন।
লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূত মিখাইল মারগেলভ রাশিয়ার ইজভেস্তিয়া পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার ধারণা, গাদ্দাফি সরকারের আত্মঘাতী পরিকল্পনা রয়েছে। এখনো তাদের হাতে প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রয়েছে।’ তিনি বলেন, গাদ্দাফির সেনারা এখনো ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেনি। তাদের ট্যাংকের জন্য রাখা গোলা ও রাইফেলের গুলি ফুরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকের প্রচুর মজুদ রয়েছে।
গত ১৬ জুন ত্রিপোলিতে লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাগদাদি আল মাহমুদির সঙ্গে বৈঠক করেন মারগেলভ। তবে তিনি গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
আজ ইস্তাম্বুলে লিবিয়ার বিষয়ে আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপ্পে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কো ফ্রাত্তিনি অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এতে সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন ও আরব লিগের প্রধান নাবিল আল আরবিরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এই আলোচনায় অংশ নিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাশিয়া ও চীনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
তুরস্কের একজন কূটনীতিক জানান, ইস্তাম্বুলের আলোচনায় লিবিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত আবদুল ইলাহ সম্প্রতি তাঁর ত্রিপোলি ও বেনগাজি সফরের বিষয় তুলে ধরবেন। এ ছাড়া মুসলমানদের জন্য আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে লিবিয়ায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো ও বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের গঠিত অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের (টিএনসি) জ্যেষ্ঠ সদস্য মাহমুদ জিবরিল ইস্তাম্বুলের আলোচনায় যোগ দেবেন। তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেবেন।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাউরিজিও মাসারি বলেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়া পরিস্থিতির রাজনৈতিক সমাধানের পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে।
গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপ্পে বলেন, ‘আমরা লিবিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাঁরা আমাদের বলেছেন, গাদ্দাফি ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হোক।’ এএফপি।

জাতিসংঘের সদস্য পদ পেল দক্ষিণ সুদান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গতকাল বৃহস্পতিবার আফ্রিকার সদ্য স্বাধীন দেশ দক্ষিণ সুদানকে সংস্থাটির ১৯৩তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ কথা জানানো হয়েছে। 
প্রায় দুই দশকের সংঘাতের পর ৯ জুলাই স্বাধীন দেশ হিসেবে দক্ষিণ সুদান পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। 
উত্তর ও দক্ষিণ সুদানের দীর্ঘ সংঘাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার প্রশ্নে গত জানুয়ারিতে দেশটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে দক্ষিণ সুুুদানের জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে মত দেয়।
দক্ষিণ সুদানকে জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে গতকাল সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি হয়। জাতিসংঘের ১৯৩তম সদস্য হিসেবে সর্বসম্মতভাবে দক্ষিণ সুদান স্বীকৃতি পাওয়ার সাধারণ পরিষদে হর্ষধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। 
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘স্বাগত দক্ষিণ সুদান। জাতিসংঘে স্বাগত।’ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জেসেফ দাইস তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটা একটা ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন মুহূর্ত।’
সদস্য পদ প্রাপ্তির পরপর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে দক্ষিণ সুদানের পতাকা ওড়ানো হয়।
এর আগে গত বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে সর্বসম্মতভাবে দক্ষিণ সুদানকে সংস্থাটির সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

Wednesday, July 13, 2011

ভিন্ন ধারার মার্কিন কূটনীতিক ক্রিস্টি কেনি

একজন সেনা প্রশিক্ষকের সহায়তায় থাই সামরিক হেলিকপ্টার থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে নামছেন ক্রিস্টি কেন
একজন সেনা প্রশিক্ষকের সহায়তায় থাই সামরিক হেলিকপ্টার থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে নামছেন ক্রিস্টি কেনি
এএফপি
কখন গলা ব্যথা করছে, কখন খেতে ইচ্ছা করছে লাচ্ছি, কখন ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ে ত্যক্তবিরক্ত—নিজের এসব ব্যক্তিগত খবর ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানছে তাঁর কথা। অথচ একজন কূটনীতিক সাধারণত এভাবে নিজেকে প্রকাশ করেন না। 
তিনি থাইল্যান্ডে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টি কেনি। কূটনীতিকেরা সাধারণত যে কেতাদুরস্ত ভাব নিয়ে রাখঢাকের ভেতর থাকেন, ক্রিস্টি তেমন নন। ৫৬ বছর বয়সী এই নারী কূটনীতিক বলেছেন, ‘কূটনীতি হচ্ছে সম্পর্কের উন্নয়ন। অবশ্য তা দুটি দেশের মধ্যে। এ ছাড়া দুই দেশের মানুষের মধ্যেও হূদ্যতা বাড়াবেন তাঁরা।’
কেনির প্রতিদিনের কাজের ব্যাপারে টুইটারের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার লোক খোঁজখবর রাখে। কেনি বলেন, ‘সাধারণ লোকজনের সঙ্গে এভাবেই আমার চেনাজানা হয়। এর মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে, একজন কূটনীতিককেও কাছে পাওয়া যায়। তারা বুঝতে পারে, একজন কূটনীতিক একটি বড় ভবনের মধ্যে আটকে থাকা কোনো ব্যক্তি নন।’ 
গত বছর আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস প্রকাশিত গোপন তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংককে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক জন এক তারবার্তায় থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। গত জানুয়ারিতে কেনিকে থাই রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্যাংককে পাঠায় ওয়াশিংটন। 
থাইল্যান্ডের মানুষের কাছাকাছি যেতে কেনি সে দেশের ভাষা শিখেছেন। থাই ভাষায় দারুণ পারদর্শিতার জন্য এক মাস আগে তাঁকে পুরস্কার দিয়েছে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, কেনি ইন্টারনেটের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি যেতে সে দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিও রপ্ত করছেন। কূটনীতির ক্ষেত্রে কেনির এই সামাজিক কর্মকাণ্ড ও যোগাযোগ কোনো উপকারে আসবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। এএফপি।

Tuesday, July 12, 2011

 বেইজিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণে মাইক মুলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আছে, থাকবে

মাইক মুলেন মাইক মুলেন
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার মিত্রদের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার আরও গভীর করছে। তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তি হিসেবে আছে, আগামীতেও থাকবে। ঠিক যেমন চীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শক্তি।
চীন সফররত মুলেন গতকাল সোমবার বেইজিংয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের উদ্দেশে ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শক্তি হিসেবে আছে, আগামীতেও থাকবে। ঠিক যেমন চীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শক্তি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবে।
চীনা সেনাপ্রধান জেনারেল চেন বিংডের আমন্ত্রণে চার দিনের চীন সফরে গেছেন অ্যাডমিরাল মুলেন। গতকাল সোমবার তাঁরা বেইজিংয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর জেনারেল চেন বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁরা ‘বেশ কিছু অভিন্ন ক্ষেত্র’ খুঁজে পেয়েছেন। তবে কিছু ইস্যুতে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
জেনারেল চেন বলেন, তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে দক্ষিণ চীন সাগরের জলসীমা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও ছিল।
ফিলিপাইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক মহড়ায় ক্ষুব্ধ বেইজিং। দক্ষিণ চীন সাগরের জলসীমা নিয়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
চীনা সেনাপ্রধান দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর মহড়ার সময়কে ‘যথাযথ নয়’ বলে বর্ণনা করেন।
মুলেনের সঙ্গে বৈঠকের পর চেন সাংবাদিকদের বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা নেই—যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকবার তাদের এই মনোভাব ব্যক্ত করেছে।
কথায়-কাজে আরও সংযত ও দূরদর্শী হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান চেন। দক্ষিণ চীন সাগরের জলসীমার ওপর ছয়টি দেশের দাবি রয়েছে। সাগরটিতে তেল ও গ্যাসের বিপুল মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
গতকাল বেইজিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মুলেন আরও বলেন, ‘আমরা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তি হিসেবে আছি, আগামীতেও থাকব। যেমন চীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শক্তি।’ বিবিসি, এএফপি।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More