Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label মজাদার. Show all posts
Showing posts with label মজাদার. Show all posts

Tuesday, March 20, 2012

দয়া করে অপ্রাপ্তবয়স্করা এই লেখা পড়বেন না

রোববার আমি গিয়েছিলাম টাঙ্গাইলে। ফেরার পথে গাড়িতে খেলার ধারাবিবরণী শোনার জন্য রেডিও অন করলাম। বাংলাদেশ বেতার কিছুক্ষণ ভারত-পাকিস্তানের খেলা প্রচার করে চলে গেল মহান জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সরাসরি প্রচারে। হাইওয়েতে গাড়ি চলছে। ড্রাইভারকে বলব, রেডিও কেন্দ্র বদলে খেলারটা দিতে, সাহস পাই না। হঠাৎ যদি অ্যাকসিডেন্ট হয়ে যায়।
এর চেয়ে অ্যাকসিডেন্ট হওয়াই বোধ হয় ভালো ছিল। যা শুনলাম, তাতে শরীরের ওপর দিয়ে যায়নি বটে, কানের ওপর দিয়ে, সেই সুবাদে রুচির ওপর দিয়ে যেন স্টিমরোলার চলে গেল।
বিএনপিদলীয় একজন সদস্যা যা বলেছেন, তার সবই আমি শুনেছি। ভালো যে টেলিভিশনের সামনে ছিলাম না, তা হলে তাকে দেখতেও হতো। তিনি কী কী বলেছেন, তা আমি আরেকবার বলতে পারব না। আমার পক্ষে সম্ভব না। এসব কথা প্রথম আলোর মতো পত্রিকায় ছাপা উচিতও না। আমার ধারণা, প্রথম আলো কাগজটা ভদ্রলোকেরাই পড়েন। আমার লেখা আবার শিশু-কিশোরেরাও পড়ে বলে জানি।
কিন্তু প্রিয় পাঠক, আপনারা যারা এ বক্তব্য সরাসরি শোনেননি, তাঁদের আমি বোঝাব কেমন করে যে তিনি কী বলে থাকতে পারেন।
আচ্ছা, আকারে-ইঙ্গিতে বলি।
ধরা যাক, ক হলেন একজন পুরুষ। তিনি এখন অবসরপ্রাপ্ত। আগে খুবই ক্ষমতাধর ছিলেন।
খ হলেন একজন নারী। তিনি এখন খুবই ক্ষমতাশালী।
তিনি বলছেন, খ ক-এর কেবল কোলে নয়, আর কোথায় কোথায় বসেছিলেন...
নাহ্, আমার পক্ষে এসব কথা লেখা সম্ভব নয়। এতটুকুন লিখেই খুবই মর্মপীড়া হচ্ছে।
কাগজে পড়লাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, এ ভাষা তো নিষিদ্ধ পল্লিতেও বেমানান।
মাননীয় সংসদ সদস্যদের করজোড়ে কি একটা নিবেদন করতে পারি, নিষিদ্ধ পল্লি তো নিষিদ্ধই। সেখানে কী বলা হয়, না বলা হয়, তা রেডিও-টেলিভিশনে সরাসরি প্রচার করা হয় না। অসম্পাদিত অবস্থায় সরাসরি তা দেশের আপামর মানুষের কাছে কখনোই পৌঁছায় না। কিন্তু মহান জাতীয় সংসদে কোনো সদস্য যা বলেন, তা সরাসরি প্রচার করা হয়। রেডিওতে শোনা যায়, টেলিভিশনে শোনা ও দেখা যায়। আপনাদের বাসায় কি শিশু-কিশোর নেই? আপনাদের বাসায় কি ময়-মুরব্বি নেই?
বিএনপির ওই নারী সংসদ সদস্য যা বলেছেন, তা যদি তাঁর সন্তান-ভাগনে-ভাগনিরা শুনে ফেলে? যদি তাঁর মা-খালারা শোনেন? যদি তাঁর বাবা-চাচারা শোনেন?


বিএনপির একজন সংসদ সদস্য, যার নাম আমি মনে রাখারও প্রয়োজন বোধ করি না, তার মুখে এসব কথা শুনে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমার কাছে অরুচিকর, অরাজনৈতিক, অনভিপ্রেত বলে মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, এটা সভ্যতার সঙ্গে যায় না, ভদ্রতা-শিষ্টতা-শালীনতার সঙ্গে তো নয়ই। সভ্যতার সঙ্গে কিন্তু রেখে-ঢেকে চলার একটা সম্পর্ক আছে। মানুষ বনে ছিল। কোনো পোশাক পরতে জানত না। প্রথম দিকে সে গাছের ছালবাকল, লতাপাতা দিয়ে অঙ্গ ঢেকে রাখতে শুরু করে, পশুর চামড়া দিয়ে লজ্জা নিবারণ করতে শেখে, তারপর কাপড় আবিষ্কার করে। আপনি কোথায় কী বলবেন, কোথায় কী করবেন, এসব মেনে চলাও সভ্যতারই অংশ। যে কথা ইয়ার-দোস্তরা বলাবলি করে, তা কেউ প্রার্থনাসভায় বলবে না, জনসভায়ও বলবে না। সব প্রাণীকেই কতগুলো প্রাকৃতিক জৈবিক কাজ প্রতিদিন করতে হয়, সেসব বিষয়ে আমরা গোপনীয়তা বজায় রেখেই চলি। এটাই সভ্যতা।


বিএনপির একজন সংসদ সদস্য, যার নাম আমি গতকালই প্রথম জানলাম এবং আগামীকাল মনে রাখব বলে মনে করি না, তার মুখে এসব শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে, আমার লজ্জাবোধ হয়েছে। আমি আসলে এসব নিয়ে কথা বলতেও লজ্জা পাচ্ছি।
কিন্তু তার চেয়ে অনেক বড় পদে আছেন, অনেক বড় যাঁর মর্যাদা, আর স্থান, যিনি আমাদের সবাইকে প্রতিনিধিত্ব করেন, তিনি যখন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অকারণ, অপ্রয়োজনীয় কথা বলতে থাকেন, তখন অধিক শোকে পাথর হয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কীই বা বলার থাকে।
বিরোধী দলের তৃতীয় সারির নেতার মুখে যা মানায় না, সরকারি দলের প্রথম সারির নেতার মুখে তার এক শতাংশ কথাও কি কেউ আশা করে?


এসব বলে কি জনপ্রিয়তা বাড়ে?
নীরবতা হীরন্ময়। কথা কম বলুন, বিষোদ্গার কম করুন, কথা বলতে হলে মিষ্টি করে হেসে বলুন।
কাকের কর্কশ স্বর বিষ লাগে কানে,
কোকিল অখিল প্রিয় সুমধুর গানে।


২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত একজন নেত্রী কী অসাধারণ পরিমিতিবোধই না প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি কথা কম বলেছিলেন এবং তাঁর ভোট অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
এখন তিনি কথা বলতে শুরু করেছেন।
জরিপ বলছে, তার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে।
আশা করি, নিজের ভালোটা অন্তত এঁরা বুঝবেন। জনগণের ভালো পরে করুন, আগে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য সচেষ্ট হোন। দয়া করে, কুৎসা, ব্যক্তিগত কাদা-ছোড়াছুড়ি, মন্ত্রীর ভাষায় ‘নিষিদ্ধ পল্লিতেও বেমানান’ কথাবার্তা বলা বন্ধ করুন।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

Friday, November 4, 2011

'খালেদার আশা ছিল সেনাবাহিনী তাদের জেতাবে'

  নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন সেনাবাহিনী যেন ভোট 'চুরি' করে তাদের জিতিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলে বলেন, "নারায়ণগঞ্জে কী এমন ঘটনা ঘটলো যে সেখানে [নির্বাচনে] সেনা মোতায়েন করতে হবে?"

"এমন কোনো পরিস্থিতি হয়নি।" উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সেনা মোতায়েনের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে হঠাৎ করে চিঠি দিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কমিশন যে বৈঠক করেছে সেখানে সেনাবাহিনীকে ডাকেনি।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তিনি [খালেদা জিয়া] আশা করেছিলেন সেনাবাহিনী এসে ভোট চুরি করে তাদের জিতিয়ে দেবে। সেনাবাহিনীর দায়িত্ব কি ভোট চুরি করা?"

নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র সাত ঘণ্টা আগে বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে হাসিনা বলেন, "সেনাবাহিনী মোতায়েন না করায় মাঝরাতে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। সেনাবাহিনীকে কেন ভোট চুরির কাজে ব্যবহার করতে চান তিনি?"

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সহযোগিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের নির্বাহী সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী দেওয়া হয়েছে।

সেনা মোতায়েন না হওয়ায় সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে বলে যারা সমালোচনা করছে তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটেনি।"

সেনা মোতায়েন না হওয়াকে 'সংবিধান লঙ্ঘন' হিসেবে অভিহিত করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন 'অকার্যকর' সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে সেনাবাহিনী সরকার-প্রধানের [প্রধানমন্ত্রী] অধীন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "সরকার-প্রধানই সিদ্ধান্ত নেবেন সেনাবাহিনী ব্যারাকের বাইরে যেতে পারে কি পারে না।"

সেনা মোতায়েন না করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, "নির্বাচন কমিশন এমন একটা সময় সেনাবাহিনী চেয়ে চিঠি পাঠালো, যখন দেশের বাইরে আমরাও ব্যস্ত ছিলাম।"

নির্বাচন কমিশন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দিলেও শেষ পর্যন্ত সেনা মোতায়েন হয়নি। এক নির্বাচন কমিশনার বলেছেন এ বিষয়ে জানতে চেয়ে তারা সরকারকে চিঠি দেবেন।

গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী দল সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানকে এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
ওই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র সাত ঘণ্টা আগে নির্বাচন বর্জন এবং দল সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার ঘোষণা দেয় বিএনপি।

যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রসঙ্গ

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত-বিএনপি নেতাদের মুক্তি দাবি করে খালেদা জিয়ার স¤প্রতি দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজকে উনি(খালেদা জিয়া) মাঠে নেমেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে।"

শেখ হাসিনা বলেন, "এই ঘৃণ্য অপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হতে হবে। জনগণ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।"

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা জনগণের জবাব পেয়ে গেছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "উনি যে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন- জাতি তা পছন্দ করেনি।"

"একজন [সেলিনা হায়াৎ আইভী] নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আর আরেকজন [শামীম ওসমান] জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। [নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র নির্বাচনে] একজন এক লাখের ওপর ভোট পেয়েছেন। আরেকজন, এক লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন।" যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

টক শো

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী দেওয়া হয়নি বলে 'সংবিধান লঙ্ঘন' হয়েছে বলে বিভিন্ন টেলিভিশন টক শো'তে যারা সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের পাল্টা সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, "২০০৩ ও ২০০৪ সালে নির্বাচনে সেনাবাহিনী চেয়ে তখনকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার [এম এ] সাঈদ সাহেব নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। তখন সেনাবাহিনী দেওয়া হয়নি। সে চিঠি আমাদের কাছে আছে।"

ওই দুই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করায় সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছিলো কি হয়নি- তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।


'এখনো রক্তের পিপাসা মেটেনি'

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে বিনাবিচারে 'অগণিত' সেনা সদস্য হত্যা করা হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, "৭৫-এর পর সেনাবাহিনীতে ১৮টি ক্যু হয়েছিলো। শেষ ক্যু'তে জিয়াউর রহমান মারা যান। প্রতিটি ক্যুর পর সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে ছুটিতে ছিলো। তাদের ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, "জিয়াউর রহমান দেশকে খুনীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলেন। তার স্ত্রী বাংলাদেশকে জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের দেশে পরিণত করেছে।"

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভনেত্রী বলেন, "প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি মদদ ছাড়া কী এই গ্রেনেড হামলা হতে পারে ?"

কারো নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এখনো রক্তের পিপাসা মেটেনি।"

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভনেত্রী বলেন, "জাতির পিতা এবং জাতীয় চার নেতার খুনীরা যেন বিদেশে আশ্রয় পায়- সে ব্যবস্থাও করেছিলো জিয়াউর রহমান।"

"পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে কর্মকর্তা এই ব্যবস্থা করেছিলেন, তিনি এখন খালেদা জিয়ার পাশে রয়েছেন। তিনি এখন বিএনপি'র নেতা," যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলেও জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে সবাইকে মুক্ত করে দেন এবং যারা দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলো তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।

আরেক সেনা শাসক এইচএম এরশাদের আমলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় বঙ্গবন্ধুর খুনীরা দেশে রাজনীতি শুরু করে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন- দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Thursday, October 20, 2011

সে জোরে দৌড় দিল, সত্যিই সে ফার্স্ট হলো

undefined
এবার যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার গল্প শোনালেন পটুয়াখালী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ গোলাম মাওলা রনি। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের টক শো তৃতীয় মাত্রায় তিনি এ কাহিনি শোনান।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জিল্লুর রহমানকে টক শোর একপর্যায়ে আবুল হোসেনের যোগাযোগমন্ত্রী হওয়া প্রসঙ্গে গোলাম মাওলা বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার কাহিনি যদি শোনেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর একটি গিফট (উপহার) বলা যায়।’ জিল্লুর তখন সাংসদের কাছে এ কাহিনি জানেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই।’ জিল্লুর বলেন, ‘শোনাবেন?’ অবশ্যই বলে গল্পটি শুরু করেন রনি।

অনুষ্ঠানে সাংসদ রনি তখন বলতে থাকেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন, সম্ভবত ২০০৫, ’০৪, ’০৬ সালে, তখন তিনি একবার চীন ভ্রমণে গেলেন। সেখানে হ্যাংঝো প্রদেশে ওয়েস্ট লেক আছে। আপনারা জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর মধ্যে একটা সরলতা কাজ করে। অনেক সময় তিনি গান শুরু করেন, আলাপ-আলোচনা করেন, একটা পারিবারিক আবহ সৃষ্টি করেন। ওয়েস্ট লেকের ওই পরিবেশে গিয়ে হঠাত্ তার কী যে মনে হলো, তিনি বলেন যে, ‘একটা বাঁশি ম্যানেজ করো তো। যেভাবেই হোক একটা বাঁশি ম্যানেজ করা হলো।’
সাংসদ রনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে সাবের হোসেন চৌধুরী ছিলেন, ওবায়দুল কাদের ছিলেন এবং সৈয়দ আবুল হোসেন (বর্তমান যোগাযোগমন্ত্রী) ছিলেন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে রনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আমি বাঁশিতে একটা ফুঁ দেব। তোমরা তিনজন দৌড় দেবে। দৌড়ে যে ফার্স্ট হবে, তাকে আমি মন্ত্রী বানাব।’"
বর্ণনা করে চলেন রনি, এখন যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাই ওবায়দুল কাদের, সাবের হোসেন চৌধুরী উনারাও ...দৌড় দিলেন। কিন্তু সৈয়দ আবুল হোসেন টুক ইট ভেরি সিরিয়াসলি। সে জোরে দৌড় দিল, দৌড় দিয়ে সত্যিই সে ফার্স্ট হলো। ফিরে এসে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলছেন, ‘আপনি আমাকে কমিটমেন্ট করেছেন, আমাকে মন্ত্রী বানাতে হবে এবং যোগাযোগমন্ত্রী।’"
রনি আবারও প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যতই বারবার বলেন না কেন, আমি তোমার সঙ্গে দুষ্টামি করেছি। আমি এখন বিরোধীদলীয় নেত্রী...আগামীতে ক্ষমতায় আসব কি না আসব, তার ইয়ত্তা নাই, কীসব কথাবার্তা বলো।’ তিনি বললেন, ‘না আপনি হবেন। আমাকে কথা দিতে হবে যোগাযোগমন্ত্রী। এবং এমপি হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সেই কমিটমেন্ট স্মরণ করিয়ে দিলেন।’ এই হলো তাঁর যোগাযোগমন্ত্রী হওয়ার সত্যিকার ইতিহাস। এর বাইরে যা কিছুই বলেন, ‘ইটস নট দ্য রিয়েলিটি’ (কিছুই সত্য না)। আমরা তো কাছাকাছি থাকি, অনেক জিনিসই জানি।'
সাংসদ রনি জাতীয় সংসদে যোগাযোগমন্ত্রীকে নিয়ে হাসাহাসি করে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে বলেন, ‘মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী নিজেকে এমনভাবে চেনান, আমরা আসলে তাঁকে ওইভাবে চিনি না। যেমন আমরা যখন সংসদে উনাকে প্রশ্ন করি, উনি উত্তর দেন। তিনি সকলের নাম আরবিতে, সেটার বাংলা অর্থ কী, তিনি সেটা অনেকক্ষণ ধরে ব্যাখ্যা দেন। সমস্ত সংসদে তিনি ঠাট্টা-মশকরা করেন। উনি বোঝেন না যে এটা নিয়ে উনাকে ঠাট্টা করা হচ্ছে। তিনি (যোগাযোগমন্ত্রী) মনে করেন সবাই তো হাসাহাসি করছে, মনে হয় তাঁর প্রশংসা করছে, এই একটি ব্যাপার।’
সাংসদ রনি অনুষ্ঠানে আরও বলেন, ‘ছয়-সাত মাস আগে তিনি বললেন, রনি সারা পৃথিবীতে ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টার মানে বিমান মন্ত্রণালয় তাঁর অধীনে থাকে। যোগাযোগ ও নৌপরিবহনও তাঁর অধীনে থাকবে। আমি তো এই কাজগুলো এত দক্ষতার সঙ্গে করার পরও আমার হাতে প্রচুর সময়। বিমান চালাতে পারছে না। না পারলে আমাকে দিক, যদি নৌপরিবহনমন্ত্রী না চালাতে পারে, আমাকে দিক। আমি সবগুলো চালাতে পারি। কীভাবে কাজ করতে হয় আমি দেখিয়ে দিতে চাই। আজ থেকে ছয় মাস আগে এই হলো তাঁর অনুভূতি।’
পদ্মা সেতুর ঋণ সহায়তা চুক্তি স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে গোলাম মাওলা বলেন, ‘আশ্চর্য একটি ব্যাপার, মানুষ যে কোনো পরিবেশে, মানুষ যখন মারা যায়, তখন আপনার যত রকম শক্র মারা যাক, আপনি হাসতে পারেন না। এত বড় একটি পদ্মা সেতু নিয়ে কেলেঙ্কারি হলো, এতকিছু হলো। তিনি এয়ারপোর্টে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে যেভাবে ভাব-বিনিময় করছেন, তথ্য-বিনিময় করছেন এবং হাসাহাসি করছিলেন। সমস্ত মানুষ তাঁর সেন্স অব হিউমার, দায়িত্ব এবং কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।’

ভিটিওচিত্রটি চ্যানেল আই ও ফেসবুকের সৌজন্যে

Wednesday, September 14, 2011

 আলোচনা সভায় নাজমুল হুদা মুজিবকে জাতির পিতা বলতে দ্বিধা বোধ করি না

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য নাজমুল হুদা বলেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। এই ভাষণের মধ্য দিয়েই এ দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাই তাঁকে জাতির পিতা বলতে দ্বিধা বোধ করি না।’
জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী জিয়া ফ্রন্ট আয়োজিত ‘জনতার জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নাজমুল হুদা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমানসহ জাতীয় নেতাদের যাঁর যা অবদান তা স্বীকার করতে হবে।
সদ্য প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটির উদ্যোগে এটাই প্রথম কোনো আলোচনা সভা। সংগঠনের আহ্বায়ক আকবর আমিন সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাই সংগঠনের মূল কাজ।
সংগঠনের সঙ্গে নাজমুল হুদার সম্পর্ক জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সভায় তিনি অতিথি হিসেবে এসেছেন। এই সংগঠনটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হবে কি না, তা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলতে পারবেন।
বিএনপির দপ্তরে কর্মরত এক নেতা বলেন, এ ধরনের সংগঠনের নাম আগে শুনিনি। জিয়াউর রহমানের নামে অনেকেই সংগঠন করেন। তবে এগুলো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিএনপির কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয় না।
সভায় নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি সঠিক ইতিহাস। সরকার বদলের সঙ্গে ইতিহাস পরিবর্তনের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সঠিক ইতিহাস লেখার জন্য দক্ষ ইতিহাসবিদ এবং এ দেশের জনগণকে কাজে লাগাতে হবে।’
জোট সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এ দেশে অনেক সমস্যা। সংসদ অকার্যকর, ছাত্ররাজনীতি বিপথে চলে গেছে, রপ্তানি খাতগুলোতে নানা সমস্যা। অথচ এসব জাতীয় সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে রাজনীতিবিদেরা সর্বক্ষেত্রে বিভেদ সৃষ্টি করে চলেছেন। তাঁরা মুখোমুখি ও সাংঘর্ষিক রাজনীতির পথে চলছেন। এভাবে চলার কারণে দেশের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। দেশ পেছনের দিকে চলছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক আইনজীবী আকবর আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ন্যাশনাল সিকিউরিটি পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

Wednesday, September 7, 2011

‘বিমান পাঠাও, তোমার জন্য জুতা নিয়ে আসব’

ঢিল মারলে যে পাটকেলটি খেতে হয়, ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর বোধ হয় জানা ছিল না। তাই তো তিনি উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তথ্যে ক্ষুব্ধ হয়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে আগ্রার পাগলা গারদে পাঠানোর কথা বলেছেন। খেপা মানুষ অ্যাসাঞ্জও কম যান না। মায়াবতীকে যুক্তরাজ্যে বিমান পাঠাতে বলেছেন। ভারতে আসার সময় মায়াবতীর জন্য ভালো জুতাও আনবেন বলে জানিয়েছেন অ্যাসাঞ্জ।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। মার্কিন গোপন তারবার্তা ফাঁস করে মায়াবতীর ব্যাপারে উইকিলিকস একটা বোমাই ফাটিয়েছিল। অভিযোগ গুরুতর। ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবরের এক তারবার্তায় বলা হয়, যখন মায়াবতীর নতুন স্যান্ডেলের দরকার হয়, তখন তাঁর পছন্দের ব্র্যান্ডের স্যান্ডেল আনতে মায়াবতীর ব্যক্তিগত বিমান মুম্বাইয়ে উড়ে যায়।
শুধু তা-ই নয়; ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান মায়াবতীকে (৫৫) প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ভাবনায় আচ্ছন্ন ‘প্রথম শ্রেণীর অহং-সর্বস্ব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
উইকিলিকসে প্রকাশিত তারবার্তায় বলা হয়, দলের সদস্য, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার উপহার নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিবছর জন্মদিন পালন করেন দলিত সম্প্রদায়ের মায়াবতী। জন্মদিন পালনের সময় তাঁকে কেক খাওয়ানোর জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয় কর্মকর্তাদের মধ্যে। তারবার্তায় বলা হয়, মায়াবতী নিজের বাড়ি থেকে অফিস পর্যন্ত একটি ব্যক্তিগত সড়ক নির্মাণ করেছেন।
উইকিলিকসে প্রকাশিত ওই তারবার্তার তথ্যের প্রতিক্রিয়ায় মায়াবতী ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্র পাঠানো উচিত বলে মন্তব্য করেন। মায়াবতী উইকিলিকসের এ অভিযোগকে নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন। মায়াবতী বলেন, ‘উইকিলিকসপ্রধান হয় পাগল হয়ে গেছেন, অথবা আমাদের বিরোধীদের সমর্থন করছেন।’ তিনি অ্যাসাঞ্জকে আগ্রার মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তিরও প্রস্তাব দেন।
মায়াবতীর এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠান। অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, ‘মায়াবতী যুক্তিসংগত বিচারবুদ্ধির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রশ্ন হলো, তিনি কি দলিতদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন? কোনো সন্দেহ নেই যে এই দলিলগুলো মার্কিন দূতাবাসের। এই দলিল বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত। এমনকি ওয়াশিংটন কর্তৃকও।’
মায়াবতী উদ্দেশে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘হিলারির সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের যোগাযোগে এ অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর যদি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকে, তা নিয়ে হিলারির সঙ্গে কথা বলা উচিত। আমি তাঁকে তাঁর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাই।’
অ্যাসাঞ্জ আরও বলেন, ‘তিনি যদি তা করতে ব্যর্থ হন, তবে আমাকে যুক্তরাজ্য থেকে নিয়ে যেতে তাঁর ব্যক্তিগত বিমান পাঠানোকে স্বাগত জানাই, আমি যেখানে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গত ২৭২ দিন ধরে গৃহবন্দী আছি। ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে আমি আনন্দিত হব, দেশটিকে আমি ভালোবাসি। ভারতে যাওয়ার সময় আমি মায়াবতীর জন্য যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ভালো জুতা নিয়ে যাব।

Monday, September 5, 2011

'প্রশ্নবিদ্ধ মন্ত্রীর কাঁধে আ. লীগের ভবিষ্যৎ'


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের দায়িত্ব এমন এক মন্ত্রীর কাঁধে, যার সততা প্রশ্নবিদ্ধ- যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সম্পর্কে এমন মূল্যায়নই ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি, যা প্রকাশ করেছে উইকিলিকস।

গতবছর ১০ ফেব্র"য়ারি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে পাঠানো এক গোপন তারবার্তায় মরিয়ার্টি লিখেছেন, "দুর্নীতির অভিযোগ এখনো যোগাযোগমন্ত্রীকে ঘিরে আছে। তিনি যে পদ্ধতিতে কাজ করেন, তার বেশ কিছু সমস্যার কথা বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন। তাছাড়া চীনের সঙ্গে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টিও সবার জানা।"

প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবলের সঙ্গে মরিয়ার্টির এ বার্তাটিও গত ৩০ অগাস্ট প্রকাশ করেছে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হৈ চৈ ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস। এর আগে গত বছর বিভিন্ন দেশে দূতাবাসের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিনিময় করা আড়াই লাখেরও বেশি গোপন বার্তা প্রকাশ করে এই ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিপাকে ফেলে দেয়।

মরিয়ার্টির পাঠানো এই বার্তার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ এর ৩ ফেব্র"য়ারি যোগাযোগমন্ত্রীর দেওয়া এক ভোজসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই আবুল হোসেনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তার কথা হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সহযোগিতার প্রশংসা করলেও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) শর্ত নিয়ে আপত্তি তুলে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে তদবির করতে অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন যে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের নিশ্চয়তার জন্য খুবই জরুরি- সে বিষয়টিও মরিয়ার্টিকে বুঝিয়ে বলেন আবুল হোসেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য কাজের অনেক সুযোগ আছে- এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে তিনি ঢাকায় উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণেও আমেরিকার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বড় বড় প্রকল্প নিয়ে তদবির চালিয়ে গেলেও সময়মতো মহাসড়ক মেরামত না করায় আবুল হোসেন স¤প্রতি সরকারের ভেতরে-বাইরে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন।

সড়কের নাজুক দশার কারণে গত রোজায় রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে গাজীপুর হয়ে ১৩টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিকরা। এছাড়া দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা বাড়তে থাকায় সড়কগুলোর অবস্থা নতুন করে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন মহল থেকে যোগাযোগমন্ত্রীকে অপসারণেরও দাবি ওঠে।

সময়মতো সড়ক মেরামত না করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এক বৈঠকে যোগাযোগমন্ত্রীকে তিরস্কার করেন। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঈদের ছুটি বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক মেরামত শুরু হয়।

পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে আবুল হোসেন সেই ভোজসভায় রাষ্ট্রদূতকে বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এই প্রকল্পের জন্য ঋণ দিতে রাজি হলেও জাইকা চুক্তিটি দুটি ভাগে ভাগ করে দুই প্রতিষ্ঠানকে সেতুর সাব ও সুপার স্ট্রাকচার নির্মাণের দায়িত্ব দিতে বলছে। সেক্ষেত্রে জাইকা সাব স্ট্রাকচারের জন্য অর্থায়ন করবে।

কিন্তু এ প্রকল্পের অন্য উন্নয়নসহযোগীরা জাইকার এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে জানিয়ে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে বলেন, দুই কোম্পানিকে কাজ দিলে ভবিষ্যতে যে কোনো সমস্যার জন্য ঠিকাদাররা পরস্পরের ওপর দোষ চাপানোর সুযোগ পাবে। এতে জটিলতাও বাড়বে।

"জাইকা যাতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে- সেজন্য জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও আমেরিকা সরকারের সহযোগিতা চান মন্ত্রী", বলা হয় মরিআর্টির তারবার্তায়।

২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জন্য গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৬ জুনের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলার, এডিবির সঙ্গে সাড়ে ৬১ কোটি ডলার, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার এবং জাইকার সঙ্গে ৪১ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের বাকি অর্থের যোগান সরকারই দেবে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, নদীর ওপর সেতুর মূল দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। আর দুই পাশে সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার।

সেতুর নির্মাণকাজ তদারকির জন্য ইতোমধ্যে একটি বিদেশি সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এ সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই দেশের দীর্ঘতম সেতু নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তায় বলা হয়েছে, "আবুল হোসেন ও রাষ্ট্রদূত আলোচনায় একমত হয়েছেন যে, অনেক কেম্পানিই পদ্মা সেতুর কাজ পেতে আগ্রহী হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এরইমধ্যে ১৩টি প্রতিষ্ঠান তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রদূত তাকে একটি মার্কিন কোম্পানির কথা বলেছেন যেটি সেতু প্রকল্পের জন্য নদী খননের কাজ পেতে আগ্রহী। এছাড়া দরপত্র ডাকা হলে যুক্তরাষ্ট্রের আরো কোম্পানি নিশ্চিতভাবেই এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাবে।"

'চাক্ষুস প্রমাণ'

মরিয়ার্টি তার সরকারকে পাঠানো ওই বার্তায় বলেন, "নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে যোগাযোগমন্ত্রীর অন্য দুটি পরিকল্পনা হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক স¤প্রসারণ। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক স¤প্রসারণের ২০ কোটি ডলারের কাজের জন্য ১০টি দরপত্রে সাতটি বিদেশি ও তিনটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।"

এছাড়া একটি উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও মন্ত্রী মরিয়ার্টিকে জানান, যেটি বাস্তবায়ন করা হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে।

এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়ে আবুল হোসেন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, "মহানগরীতে যুক্তারাষ্ট্রের অর্থায়নে আমরা এমন একটি প্রকল্প চাই, যা হবে দুই দেশের সম্পর্কের 'চাক্ষুস' প্রমাণ।"

রেলের বেসরকারিকরণ

বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে আবুল হোসেন মরিয়ার্টিকে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন স¤প্রসারণের পাশাপাশি এই রেলপথকে 'ডাবল লাইন' করার কাজও শিগগির শুরু হবে।

এছাড়া ঢাকার যনজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলিভেডেট রেল ব্যবস্থা চালুর দায়িত্ব দিয়েছেন জানিয়ে আবুল হোসেন বলেন, জাইকা ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।

রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রী জানান, তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি স্বাধীন 'কর্পোরেট' প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চান, যার পরবর্তী ধাপ হবে বেসরকারিকরণ। এতে প্রতিষ্ঠানটির দক্ষতা ও কাজের মান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মরিয়ার্টি তার বার্তা শেষ করেছেন এভাবে- "যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোট নিশ্চিত করার মিশন সফল করতে মন্ত্রী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি যেসব বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কথা বলেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ব্যবসার বিপুল সুযোগ রয়েছে। ঢাকা দূতাবাস এই সুযোগের বিষয়টি প্রচার করার পাশাপাশি আগ্রহী মার্কিন কোম্পানিগুলো যাতে বৈধ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব কাজ পেতে পারে, সেই চেষ্টা করবে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Sunday, August 7, 2011

জামায়াত নেতাদের মুক্তির মোনাজাতে খালেদা জিয়া


রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের সম্মানে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। গতকাল শনিবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম খালেদা জিয়াকে ইফতার মাহফিলে স্বাগত জানান। ইফতারের আগে জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুস সুবহান একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুক্তি ও খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করে মোনাজাত করেন। ক্ষমতাসীন সরকারকে ‘আগ্রাসী শক্তি’ উল্লেখ করে তিনি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এর থেকে মুক্তি চেয়ে দোয়া করেন। মোনাজাতে খালেদা জিয়া ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদসহ অন্য নেতারা অংশ নেন। 
এর আগে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ১৩ মাস ধরে আটক রাখা হয়েছে। তাঁরা আজ মুক্তভাবে রোজাও রাখতে পারছেন না।
মঞ্চে খালেদা জিয়ার ডানে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও বাঁয়ে অলি আহমদসহ চারদলের শরিক ও সমমনা দলের ১৭ জন নেতা বসেন। ইফতারের পর খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ জামায়াতের কয়েকজন নেতার সঙ্গে চা-চক্রে মিলিত হন। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক বিষয়সহ রোজার পর আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে জানান একজন নেতা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গনি, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, তরিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মিয়া, সহসভাপতি সেলিমা রহমান, রাজিয়া ফয়েজসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা ইফতারে অংশ নেন।
শরিক দলের মধ্যে খেলাফত মজলিসের আমির মুহাম্মদ ইসহাক, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, সমমনা দলের মধ্যে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপ সভাপতি জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, এলডিপি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেদোয়ান আহমেদ, কবি আল মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাকে উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ অংশ নেন।
জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইফতারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ ২২ জন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া বিকল্পধারার সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, জাসদের সভাপতি আ স ম আবদুর রবসহ আরও কয়েকজন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে তাঁরা কেউ-ই আসেননি।

Wednesday, July 13, 2011

কুমিল্লার এক সাংসদের বিরুদ্ধে ছয় সাংসদ

কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নালিশ করবেন দলের অপর ছয় সাংসদ ও নেতারা। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় ওই ছয় সাংসদের উপস্থিতিতে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার আসাদগেট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কুমিল্লার ছয় সাংসদ ও স্থানীয় নেতাদের বৈঠক হয়। রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও সদর দক্ষিণের একাংশ) আসনের সাংসদ আ হ ম মুস্তফা কামাল। 
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে সম্প্রতি সাংসদ বাহাউদ্দিনের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈঠকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং এ জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় মুস্তফা কামালকে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাংসদেরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নালিশ করবেন।
বৈঠকে মুস্তফা কামাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সাংসদ মো. মুজিবুল হক, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনের সাংসদ মো. তাজুল ইসলাম, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া ও সদর দক্ষিণের একাংশ) আসনের সাংসদ নাছিমুল আলম চৌধুরী, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সাংসদ আবদুল মতিন খসরু, সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ জোবেদা খাতুন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফজল খান ও সফিকুল ইসলাম শিকদার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আফতাবুল ইসলাম এবং কৃষক লীগ, জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, উপস্থিত ছয় সাংসদসহ অধিকাংশ নেতা সাংসদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৈঠকে সাংসদ মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বাহাউদ্দিন সাহেবের মনোনয়নের জন্য আমি দলীয় সভানেত্রীর কাছে বলেছি। সাংসদ হওয়ার পর তিনি কোনো কিছুই মানছেন না। ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের সময় আমি ওনাকে ফোন করেছিলাম। তিনি আমাদের বাদ দিয়ে আলাদাভাবে নাম জমা দিয়েছেন। সুবিধা করতে না পেরে শেয়ারবাজারের দরপতন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর মনোনয়নের জন্য কাজ করে ভুল করেছি। এ জন্য আপনাদের কাছে মাফ চাইছি।’
বৈঠকে সাংসদ মো. মুজিবুল হক বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এর প্রতিবাদে বাহাউদ্দিন সাহেব আমার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় মাইকিং করিয়েছেন, আমার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তাঁর কর্মীরা হামলা করেছে।’
দলীয় নেতাদের ভাষ্যমতে, বৈঠকে সাংসদ নাছিমুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সাংসদ বাহাউদ্দিনের অনুসারীদের হাতে জেলা যুবলীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক কবির হোসেন ভূঁইয়া, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ভিপি রিপন ও বিশ্বরোড এলাকার দলীয় কর্মী আহমদ আহত হয়েছেন। ওনার কারণে আমাদের কর্মীরা কোনো অফিসে গিয়ে কাজ পাচ্ছেন না। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার।’
সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ জোবেদা খাতুন বলেন, ‘উনি (বাহার) আমাকে এমপি-ই মনে করেন না। ওনার কারণে সদর এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান করতে পারি না।’
সাবেক আইনমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগের কমিটি হওয়ার আগে আমি জানতাম না, কে সভাপতি কে সাধারণ সম্পাদক হচ্ছে। নাম জমা দেওয়ার পর শুনি ওমুকের নাম।’
বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফজল খান বলেন, ‘আমার পুতেরে (পুত্র) যখন বাহারের লোকজন মারছে, আপনারা তামাশা দেখছিলেন। ফোন করে মুজিব ও কামাল সাহেবকে পাইনি। ওনারা রিং দিলেও আমার ফোন ধরেননি। এখন সুযোগ এসেছে, সেটাকে কাজে লাগাতে হবে।’
বৈঠকের বিষয়ে জানতে গতকাল রাতে সাংসদ মুস্তফা কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। সাংসদ মুজিবুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৈঠকের ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এ ছাড়া সাংসদ নাছিমুল হকও ফোন ধরেননি। 
সাংসদ আবদুল মতিন খসরুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।
জোবেদা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৈঠকে কুমিল্লাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা ও স্থানীয় সাংসদের ব্যাপারে কিছু আলোচনা হয়েছে। এসব নিয়েই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম শিকদার বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ নিয়ে আমরা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ বাহাউদ্দিন গতকাল দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে আমাকে থামানোর জন্য ওরা একের পর এক ষড়যন্ত্র করে আসছে। আমাকে থামানোর জন্য চক্রান্ত না করে সাংগঠনিক কাজে সময় ব্যয় করলে দলীয় কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হতো।’
সাংসদ বাহাউদ্দিন আরও বলেন, ‘অছাত্র, বিবাহিত, মাদক ব্যবসায়ী ও মুদিদোকানদারদের দিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি হতে পারে না। এর প্রতিবাদ করা কোনোভাবেই অন্যায় নয়।’

বিএনপির শোকসভায় হাতাহাতি মারামারি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩ ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল বুধবার শোকসভার আয়োজন করেছিল উত্তর জেলা বিএনপি। মিরসরাইয়ের ‘প্রফেসর কামাল উদ্দিন’ কলেজে দুপুরে আয়োজিত শোকসভায় ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি হয়েছে।
শোকসভার মাঝপথে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন মাইকে ঘোষণা দেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।’ ঠিক এমন সময় হাতাহাতি, মারামারি শুরু হয়।
শোকসভায় অনুদান নিতে এসেছিলেন নিহত ছাত্রদের বাবা-মা এবং স্বজনেরা। কিন্তু অনুদান নেওয়ার আগে এ অবস্থা দেখে অনেকে ভয়ে মিলনায়তন ছেড়ে চলে যান। অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় অনুষ্ঠান শেষ না করেই অতিথিরা চলে যান। তাঁদের নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। এভাবেই শেষ হয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির শোকসভা।
অনুদান নিতে শোকসভায় গিয়েছিলেন নিহত ছাত্র টিটু দাসের মা অর্চনা জলদাস। তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনুদান দেওয়ার ঘোষণার সময় মারামারি শুরু হয়। এ কারণে জীবন বাঁচাতে দৌড়ে চলে আসি।’ 
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহতদের স্মরণে গতকাল দুপুরে স্থানীয় আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসভার আয়োজন করা হয়। একই সময় কয়েক শ গজ দূরে প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজে শোকসভার আয়োজন করে উত্তর জেলা বিএনপি। 
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে শোকসভায় দলের উত্তর জেলা সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উত্তর জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরওয়ার উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহেদুল আবছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
অনুষ্ঠানের শুরু হওয়ার পরপরই শ্রেণীকক্ষে বসা নিয়ে ছাত্রদলের দুজন কর্মীর মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। এরপর বিষয়টি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের অনুসারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। শোকসভায় উত্তেজনা বাড়তে দেখে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু ছাত্রদলের দুই পক্ষে হাতাহাতির কারণে সভা পণ্ড হয়ে যায়।
জানতে চাইলে কামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আমরা অনুদান দিতে এই সভার আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু ছাত্রদের হইচইয়ের কারণে অনুদান দিতে পারিনি। তবে অনুদান কাল বিতরণ করা হবে।’ তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা এসে এ ঝামেলা করেছে।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহেদুল আবছার প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদলের দুজন কর্মীর মধ্যে ধাক্কাধাক্কির কারণে এ ঘটনা ঘটে। তবে এই ধাক্কাধাক্কির সুযোগ নিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেরা শেষে ঝামেলা করেছিল। হাতাহাতির সময় উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী সানা উল্লাহ, সায়েদুল ইসলাম এবং সরওয়ার হোসেন সামান্য আহত হন। 
যোগাযোগ করা হলে উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরওয়ার বলেন, কক্ষে ঢোকা নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে এ বাগিবতণ্ডা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে ছাত্রলীগের ছেলেরা ঝামেলা করেছে। 
কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আবছার বলেন, ‘এটা বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমস্যা। এটা অরাজনৈতিক কলেজ। তবে এ ঘটনার আগে আমাদের ছেলেরা শোকযাত্রা করেছে।’
মায়ানি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান কবির নিজামী দাবি করেন, ‘আমি এ ব্যাপারে নিজেই খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, বিষয়টি তাদের অন্তর্কোন্দল। তবে বিষয়টি দুঃখজনক।’ 
প্রধানমন্ত্রী কাল, বিরোধীদলীয় নেতা আজ যাচ্ছেন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাল শুক্রবার মিরসরাইয়ে আসছেন। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ বৃহস্পতিবার মিরসরাইয়ে আসছেন। সেখানে তিনি নিহতদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। পরে আহতদের দেখতে যাবেন। এ ছাড়া তিনি আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শোকসভায় অংশ নেবেন। তাঁর সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা থাকবেন। ইতিমধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মিরসরাইয়ে এসেছেন।

Sunday, July 10, 2011

ঈমান রক্ষার জন্য হরতাল পালন করুন

রবি, ১০ জুলাই ২০১১, ২৬ আষাঢ় ১৪১৮

জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের মুফতিদের বিবৃতি
সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস মুছে ফেলে মুসলমানদের ঈমান বিনষ্ট করে উল্লেখ করে ঈমান রক্ষার তাগিদে সকল তৌহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে হরতাল পালনের মাধ্যমে মুসলমানদের ঈমান ফিরিয়ে আনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের মুফতিগণ।
গতকাল এক বিবৃতিতে মুফতিগণ বলেন, ১০ ও ১১ তারিখের হরতাল নিছক দ্বীন হেফাজতের জন্য। দুনিয়াবী কোন স্বার্থ হাসিলের হরতাল নয়, এটা সকলের ঈমান রক্ষার হরতাল, আর এই হরতাল বাস্তবায়ন করা সকল মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব বাস্তবায়নে অবহেলা করলে ঈমান রক্ষা করা যাবে না। তাই ইসলাম ও সমমনা ১২ দলের আহূত হরতালে সকল শক্তি ব্যয় করে দেশের সংবিধানে পুনরায় আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য আলেম, উলামা, পীর, মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতাসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন: প্রফেসর ড. মুফতি মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানী, ড. ইয়াহইয়ার রহমান, মুফতি মাওলানা নূর হুসাইন আল কাশেমী, মুফতি ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মুফতি মাওলানা আবুল বাশার, মুফতি মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ, অধ্যাপক মুফতি মাওলানা আ.ন.ম. রফীকুর রহমান মাদানী, মুফতি ড. সিকান্দার আলী মাদানী, মুফতি ড. তরিকুল ইসলাম মাদানী, মুফতি মাওলানা লুত্ফর রহমান আল মাদানী, মুফতি মাওলানা নূরুল্লাহ আল মাদানী, মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ আল মাদানী, ড. মুফতি নিজামুদ্দীন, মুফতি আবুল কালাম পাটোয়ারী, ড. মুফতি মাওঃ আবু ইউসুফ খান, মুফতি ড. মানজুর-ই-ইলাহী আল মাদানী, প্রফেসর মুফতি ড. আবুল কালাম আযাদ আল মাদানী (লন্ডন), প্রফেসর মুফতি আবদুর রহমান মাদানী, ড. মুফতি মাওলানা আবদুস সালাম মাদানী, প্রফেসর মুফতি ড. মাওলানা সাইফুল্লাহ মাদানী, প্রফেসর মুফতি মাওলানা জুনায়েদ মাদানী, প্রফেসর মাওলানা মুফতি ইসহাক মাদানী, হাফেজ মুফতি মাওলানা আব্দুর রহমান।

Tuesday, July 5, 2011

তারেক ২১ আগস্টের ঘটনার মূল নায়ক


সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ২১ আগস্টের ঘটনার মূল নায়ক। হাওয়া ভবনে তাঁর সভাপতিত্বেই অন্য আসামিদের বৈঠক হয়। বিএনপি এখন তারেককে রক্ষার জন্য হরতাল ডেকেছে।
ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ এসব কথা বলেন। তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো গণতান্ত্রিক দল খুনের বিচার বন্ধ করতে হরতাল ডাকতে পারে না। তাই আইনের শাসন চাইলে হরতাল প্রত্যাহার করুন।’
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল হাওয়া ভবন, আর এর কর্ণধার ছিলেন তারেক রহমান। সেখানেই শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসান-উল্লাহ মাস্টার হত্যা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের একত্রে হত্যা করা। আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও আইভি রহমানসহ ২৪ জন মারা যান। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যবস্থা তো করেইনি, বরং ফায়ার ব্রিগেড ডেকে এনে আলামত নষ্ট করেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ আক্রান্ত লোকজনের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে ও লাঠিপেটা করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দীর্ঘদিন তদন্তের পর পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। বিচারের এই প্রক্রিয়াকে বিএনপির স্বাগত জানানো উচিত ছিল। বিচারের পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে তাদের অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল। অথচ তারা বিচার-প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে হরতাল ডেকেছে। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সব হত্যার বিচার হয়। কেবল ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। এখানে হত্যার বিচার করতে বাধা দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালের আগে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরুই করা যায়নি। এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিচারের রায় কার্যকর হয়। নিহত লোকজনের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কি অস্বীকার করতে পারবে যে তাদের হত্যা করেনি? এ ঘটনা তাদের পরিকল্পনায় ঘটেনি? এমন জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিচার হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম হানিফ, নূহ-উল-আলম লেনিন, আহমদ হোসেন প্রমুখ।
প্রথম আলো্                             

Tuesday, June 28, 2011

সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নয়, এটি মসজিদ


মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বাহারপুর জামে মসজিদ। একে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দেখিয়ে জাপান থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা অনুদান এনে আত্মসাত্ করেছেন দারাদ আহমেদ
ছবি: আনিস মাহমুদ
দারাদ আহমেদ। বিশ্বভারতী থেকে স্নাতকোত্তর। সেখানকার ছাত্র-সংসদের নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক। জাপান বিএনপির সভাপতি। এসব তাঁরই দাবি।
তবে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দারাদ আহমেদের গ্রামের লোকজন জানান, দারাদ সপ্তম শ্রেণী পাস। আসল নাম বদরুল ইসলাম।
এই দারাদই জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির জন্য জাপানের কাযুও আজুমা দম্পতির কাছ থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। আর এ জন্য তিনি তাঁর বাড়ির সামনের মসজিদটির ছবি তুলে তা জাপানে পাঠান। তিনি জানান, এটিই হচ্ছে তাঁর স্বপ্নের জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় অনুসন্ধান করে এ ঘটনা জানা গেছে। জাপানি অধ্যাপক আজুমা দম্পতি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ২০টি ছবি পাঠিয়েছেন দারাদ। জানিয়েছিলেন, বড়লেখায় এই কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। 
তবে বড়লেখার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ দারাদের সন্ধান জানালেও এলাকায় জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কোনো সন্ধান দিতে পারেননি। এমনকি ছবি দেখানোর পরও তাঁরা বলতে পারেননি, এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি কোথায়?
এলাকাবাসী জানালেন, দারাদ আহমেদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের বাহারপুর গ্রামে। ওই বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে ছবিগুলো দেখালে গ্রামের কিশোর তাজউদ্দিন বলল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নয়, এগুলো বাহারপুর জামে মসজিদের ছবি।
মসজিদের সামনে গিয়ে ছবিগুলো মিলিয়ে দেখা যায়, মসজিদের বিভিন্ন পাশ থেকে ছবিগুলো তোলা। কেন্দ্রের নামে এই ছবিগুলো পাঠিয়ে আজুমা দম্পতির কাছ থেকে তিনি সাড়ে ছয় কোটি টাকা এনেছেন। 
মসজিদটির বিষয়ে জানতে চাইলে তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনামউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মসজিদটি পাকা করা হয়েছে বছর দুয়েক আগে। এলাকার সব মানুষ মিলে চাঁদা তুলে টাকা দিয়ে এই মসজিদ বানাইছে।’ এখানে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় এমন কোনো কেন্দ্র নেই। এটা দারাদের প্রতারণা।’
বাহারপুর জামে মসজিদের ইমাম আবদুস শহীদও জানান, ‘কোনো কেন্দ্র নয়, এটি মসজিদ।’
মসজিদের ছবি তোলার সময় হাজির হলেন মধ্যবয়সী এক লোক। নিজের নাম জানালেন মুরাদ আহমেদ। তিনি দারাদ আহমেদের ভাই। মসজিদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকার সবাই মিলে টাকা দিয়ে এই মসজিদ করেছে। কিন্তু বেশির ভাগ টাকাই দিছে আমাদের গোষ্ঠীর লোকজন।’ এই মসজিদকে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
এলাকার সাংস্কৃতিককর্মী হিসেবে পরিচিত তপন চৌধুরীর নামও জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে তপন চৌধুরী বলেন, ‘এলাকায় জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বলে কিছু আছে, তা আমার জানা নেই। আর আমাকে না জানিয়েই আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।’
একজন প্রতারক: ২০০৮ সালের নির্বাচনে দারাদ আহমেদ বিএনপির হয়ে এই আসন থেকে মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা করেন। নির্বাচনের আগে তিনি নিজেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি এলাকায় যে প্রচারপত্র (লিফলেট) বিলি করেন, তাতে বলেন, শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী ছাত্র-সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। এই সুবাদে ভারতের অনেক প্রধানমন্ত্রী এবং গান্ধী পরিবারসহ অনেকের সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠতা আছে। নিজেকে বিএনপির জাপান শাখার সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন তিনি।
দারাদ বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক।
দারাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই এলাকার সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দারাদকে আমি প্রথম দেখি ২০০২ সালের দিকে। তখন আমি ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। তিনি একদিন সচিবালয়ে এসে আমার সঙ্গে দেখা করেন এবং নিজেকে রবীন্দ্রনাথ বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দেন। জাপানি অধ্যাপক আজুমা ও তাঁর স্ত্রীকেও তিনি নিয়ে এসেছিলেন।’
এবাদুর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন পর দারাদ এসে আমাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি একটি বিশাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। অনুষ্ঠানে জর্জ হ্যারিসন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। এতে ভারতের রবিশঙ্কর থাকবেন। আমাকে প্রধান অতিথি হতে হবে। কিন্তু আমি গিয়ে দেখলাম, একটি ছোট্ট কলেজের অনুষ্ঠান। তাতে রবিশঙ্কর ছিলেন না। আর পদকের বিষয়টিও ছিল ভুয়া। তখনই আমার মনে হয়, এটি প্রতারণা। এ ঘটনার পর ২০০৪ বা ২০০৫ সালের দিকে আমি জাপানের একজন মেয়রের আমন্ত্রণে দেশটিতে যাই। তখন টোকিওতে আমার সঙ্গে দেখা করেন দারাদ। সে সময় আজুমা পরিবারের সঙ্গে আমি তাঁর হূদ্যতা দেখেছি।’
এলাকায় দারাদের রাজনীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এবাদুর রহমান বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, তিনি নাইন বা টেন পর্যন্ত পড়েছেন। স্কুলে তাঁর নাম ছিল বদরুল ইসলাম। কিন্তু কীভাবে দারাদ হলো জানি না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি নিজেকে বিএনপির আন্তর্জাতিক ও কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন। কিন্তু তিনি এই পদে ছিলেন না।’ এলাকায় জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় এমন কোনো কেন্দ্র থাকলে আমিই আগে জানতাম।’ 
বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাফিজও বলেন, বড়লেখায় এমন কোনো সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই।
দারাদ নিজেকে সাইফুর রহমানের আত্মীয় বলেও প্রচার চালান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম নাসের রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দারাদ আমার দলের কর্মী এবং বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু কোনোভাবেই আমাদের আত্মীয়স্বজন নন।’ দারাদের প্রতারণার বিষয়ে নাসের রহমান বলেন, ‘আমি তাঁকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি, জাপানে কী করেন, কিন্তু তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। বলতেন কম্পিউটার বিক্রি করি।’ 
দারাদকে বিশ্বভারতীতে দেখেছেন এমন একজন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী প্রথম আলোকে বলেন, দারাদ অভিনয় শিখতে কিছুদিনের জন্য এসেছিলেন। তবে পড়ালেখা করেননি। ছাত্র-সংসদেরও কিছু ছিলেন না। ওখানে গন্ডগোল করে পালিয়ে যান।
মাকে নিয়েও প্রতারণা: জাপানি অধ্যাপক আজুমার কাছে দারাদ নিজের মাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সার্জন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে। কিন্তু এলাকার লোকজন জানান, দারাদের মা লেখাপড়াই জানেন না।
তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনামউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি এলাকার চেয়ারম্যান। ৪০ বছর ধরে এলাকায় আছি। সবার খোঁজখবর জানি। দারাদের বাড়িতে অনেকবার গেছি। তাঁর মা সার্জন তো দূরের কথা, লেখাপড়াই জানেন না। তিনি পুরোপুরি গৃহিণী। বয়স ৮০-৮৫ হবে।’
দারাদ যা বলেন: রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে কেন এত আগ্রহ জানার জন্য দারাদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি একজন রবীন্দ্রপ্রেমী। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রসংগীতে অনার্স ও মাস্টার্স করেছি। এর পর থেকে রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে আমার অনেক আগ্রহ।’ রাজনীতিতে কীভাবে এলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শান্তিনিকেতন ছাত্র-সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম আমি। এই সূত্রেই রাজনীতিতে আসা। ২০০৬ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু পাইনি। সামনে পেলে এলাকার মানুষের সেবা করব।’ জাপানি অধ্যাপক আজুমাকে চেনেন কি না, জানতে চাইলে দারাদ বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে তো আমার বাবা-ছেলের সম্পর্ক।’
আজুমাকে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা এনেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি খেপে যান। বলেন, ‘অধ্যাপক আজুমা আমার বাড়িতে ছয়-সাতবার এসেছেন। তিনিই বড়লেখায় একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করতে চেয়েছিলেন। তাঁকে জমি দেখিয়েছিলাম। কোনো টাকা নিইনি।’ এ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে দারাদ বলেন, ‘এটি তো আমার আর আজুমার বিষয়। এখানে আপনি আসছেন কেন? উনি তো আর আপনার কাছে অভিযোগ করেননি।’
এসএসসি পাস না করে শান্তিনিকেতনে পড়লেন কীভাবে, জানতে চাইলে দারাদ বলেন, ‘এসএসসি পাস করেছি।’ কত সালে? ক্ষুব্ধ দারাদের উত্তর, ‘কাগজপত্র দেখে বলতে হবে। সব তো মুখস্থ থাকে না।’
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন মৌলভীবাজারের জুড়ী প্রতিনিধি কল্যাণ প্রসূন)

Monday, June 27, 2011

আ.লীগের পাশে থাকবে জাপা


আওয়ামী লীগ সরকারের বাকি আড়াই বছরে যেকোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকবে জাতীয় পার্টি। বিএনপি সংসদ থেকে পদত্যাগ করলে বা আগামী নির্বাচন বর্জন করলে জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচন করবে। দুই দলেরই শীর্ষস্থানীয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, সপ্তাহ খানেক আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সংসদ ভবনে একান্ত বৈঠক করেছেন। এক ঘণ্টার বৈঠকে আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি, পরবর্তী সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হয়। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল ও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে দুই নেতা নীতিগতভাবে একমত হন।
সূত্র জানায়, উভয় নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ স্বীকৃত গণতান্ত্রিক পন্থা হিসেবে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পক্ষে মত দেন। সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল এনে দ্রুত পাস করার কথাও হয় তাঁদের মধ্যে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে করণীয় সম্পর্কে তাঁরা কথা বলেন।
ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে। দলের চেয়ারম্যান এরশাদ এ ব্যাপারে শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন।
যোগাযোগ করা হলে এইচ এম এরশাদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকারের অধীনেই আমরা নির্বাচন করব। অন্য কেউ নির্বাচনে না এলে আমরা এককভাবেই অংশ নেব। পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নেই। তাহলে আমরা কি চাঁদে বাস করছি?’
জাতীয় পার্টি ক্ষমতাসীন মহাজোটের অংশীদার হলেও বছর দেড়েক ধরে এইচ এম এরশাদ সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা-পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তিনি ছিলেন সমালোচনামূখর। এমনকি তাঁর ছোট ভাই বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী জি এম কাদেরের মন্ত্রণালয়ে কোনো ক্ষমতা নেই বলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি। 
এ পরিস্থিতিতে গত এক মাসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এরশাদের দুই দফা বৈঠক হয়। এ বৈঠকের পর থেকে তাঁর মুখ থেকে সরকারের সমালোচনা শোনা যায়নি। 
শেখ হাসিনা ও এরশাদের মধ্যে বৈঠকের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধান সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংসদে গত শনিবার বাজেট আলোচনায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দল বিএনপি সংসদ থেকে পদত্যাগ করলে উপনির্বাচন দিয়ে এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা করা হবে।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আগামী সপ্তাহেই সংবিধান সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে পাস হতে পারে। তবে সরকার মনে করে, আদালতের রায় অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হলেও আলোচনার দরজা খোলা থাকবে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হবে। তবে আলোচনার পথ খোলা থাকবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হলেও নানা ফর্মুলায় অন্তর্বর্তী সরকার করা যাবে। বিএনপির সদিচ্ছা থাকলে ফর্মুলা দিতে পারে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা জানান, আলোচনার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হলেও বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণার কারণে সরকারি দলকে বিকল্প চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে ১৪ দলের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাংসদ রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এখনই বলাটা বেশি আগাম হয়ে যায়। তবে আমরা ১৪ দলে ছিলাম এবং আছি।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখনই সব কথা বলছি না। আলোচনা হবেই।’ তা ছাড়া তিনি আলোচনার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিরোধী দলের অপেক্ষায় থাকবেন বলে জানান।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হলেও নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকবে। আর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাইলে বিএনপিকে আলোচনায় আসতেই হবে। কারণ গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র উপায় নির্বাচন। সুতরাং বিএনপি নির্বাচন বর্জন করবে—এটা মনে করার কারণ নেই। তাঁদের মতে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও সে পরিস্থিতি এখন নেই। তখন ছিল সামরিক সরকার। এখন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে আইন ও সংবিধান অনুসরণ করে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। এ জন্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন নিয়োগ এবং একে আর্থিকভাবে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার পক্ষে সরকারদলীয় নেতারা।
prothom-alo

Friday, June 24, 2011

আ.লীগ এলে জনগণ কিছু পায় অন্যরা এসে লুটে খায়


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা

জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সৌজন্যে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই জনগণ কিছু পায়, আর অন্যরা এসে লুটে খায়। তাঁর দাবি, জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই আওয়ামী লীগ প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়। 
গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। 
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের পকেট থেকে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল কখনো জনগণকে কিছু দিতে পারে না। তাদের রাজনীতি ত্যাগের নয়, ভোগের।’ তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে যারা দেশের অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে, সে অর্থ ফেরত এনে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
গতকাল বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সেন্টার চত্বরে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন যথাক্রমে শেখ হাসিনা ও দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ সময় শান্তির প্রতীক ৬২টি পায়রা ও নানা রঙের বেলুন ওড়ানো হয়। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপমহাদেশের প্রাচীন ও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ একটি। নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে এ দল সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের হূদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছে। শুরু থেকে আওয়ামী লীগ জনগণের ভাগ্য বদলে কাজ করে যাচ্ছে। মাতৃভাষা, স্বাধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রসহ দেশের মানুষ যা পেয়েছে, তা আওয়ামী লীগের কাছ থেকেই পেয়েছে। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের পাঁচ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছিল জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে। বর্তমান সরকারের মাত্র দুই বছরে সেই দুর্নাম ঘুচিয়েছে। বাংলাদেশ এখন সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য উৎপাদনের মডেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। দুই বছরে এ সরকার জাতীয় গ্রিডে ১৯২২ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ যোগ করেছে।
আলোচনা সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মহাজোটের ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, মৌলবাদী অপশক্তি ও তাদের দোসরদের পরাজিত করতে না পারলে দেশ আবারও গভীর খাদে পড়ে যাবে। দেশ যখন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই অপশক্তি নতুন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। 
জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি হচ্ছে নব্য মুসলিম লীগ আর জামায়াত হচ্ছে ঘোমটা পরা উগ্র জঙ্গিবাদী দল। বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনের পরাজয় এখনো মেনে নিতে পারেনি। 
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের মানুষ যতটুকু গণতন্ত্র ভোগ করছে, তার একমাত্র অবদান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার। 
আবদুর রাজ্জাক বলেন, একাত্তরের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আবারও ঐক্যবদ্ধ হলে ষড়যন্ত্রকারীরা কিছুই করতে পারবে না। 
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিঃশর্তভাবে সংসদে এসে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গত ১৮ বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনও দিতে পারেনি। 
নূহ-উল আলম লেনিন ও অসীম কুমার উকিলের উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, এম এ আজিজ ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। 
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সফল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। 
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন: গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশেই নানা আয়োজনে আওয়ামী লীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ভোরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে উত্তোলন করা হয় জাতীয় ও দলীয় পতাকা। সকাল সাড়ে সাতটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে সরকার এবং পরে দলের সভানেত্রী হিসেবে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 
এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাংসদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 
প্রধানমন্ত্রীর পর আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়

প্রথম আলো

Sunday, June 19, 2011

কবরীর দিকে তেড়ে গেলেন মারমুখী শামীম ওসমান



undefined
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে গতকাল বাসভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে বাগ্যুদ্ধ
ছবি: প্রথম আলো
সরকারি দলের সাংসদ সারাহ্ বেগম কবরীর দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে তেড়ে গেলেন একই দলের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সামনেই ঘটল ঘটনাটি। জেলা প্রশাসক (ডিসি) বসে বসে শুধু দেখলেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে একটি সভা চলাকালে প্রথমে বাগিবতণ্ডা, তারপর তুমুল হট্টগোল বেধে যায়। সাংসদ কবরী সাংবাদিকদের বলেন, ডিসি-এসপিসহ সভায় উপস্থিত সবার সামনেই শামীম ওসমান তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন। একপর্যায়ে আসন ছেড়ে ছুটে এসে তাঁকে ধাক্কা দেন। এর আগে গত বছর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শামীম ওসমানের বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ নাসিম ওসমান বর্তমান ডিসির সামনেই কবরীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে শামীম ওসমান কবরীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে সভায় উপস্থিত অনেকেই এই সভায় শামীম ওসমানের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কী কারণে, কিসের ভিত্তিতে, কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা কেউ স্পষ্ট করে বলছেন না। সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রশ্ন করেন, শামীম ওসমান সাংসদ নন, আইনশৃঙ্খলা কমিটিতেও নেই, আওয়ামী লীগের বড় কোনো পদেও নেই, তাহলে তাঁকে কেন সভায় ডাকা হলো? তবে জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শামীম ওসমানকে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য করা হচ্ছে।
কেন এই সভা: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ যাত্রাপথে বর্ধিত বাসভাড়া কমানোর দাবিতে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম আগামীকাল ২০ জুন নারায়ণগঞ্জে আধা বেলা হরতাল ডেকেছে। সিপিবি, জাসদ (ইনু), ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, বাসদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনসহ এখানকার ৬০টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও ক্রীড়া সংগঠন এই হরতালের প্রতি সমর্থন জানায়। হরতালের সমর্থনে এক সপ্তাহ ধরে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ-মিছিল হচ্ছে। দেয়ালে হরতালের পক্ষে পোস্টারও লাগানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টায় আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির এক সভা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শুরু হয়। সভায় ডিসি সামছুর রহমান, পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ নাজমুল আলম, সাংসদ কবরী, সাংসদ নজরুল ইসলাম, মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, সদস্য-সচিব জহিরুল ইসলাম ছাড়া আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে ২৪ টাকা ভাড়া নির্ধারণের দাবি করে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাসভাড়া কমানোর পক্ষে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। এ সময় শামীম ওসমান তাঁর বক্তব্যের মাঝখানে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এর প্রতিবাদ জানান। এ পর্যায়ে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যকে সমর্থন জানান কবরী। এ সময় শামীম ওসমান কবরীকে অশ্লীল গালি দিয়ে বলেন, ‘...তুই চুপ কর।’ কবরী উত্তরে বলেন, ‘তুই চুপ কর।’
বিতণ্ডার একপর্যায়ে শামীম ওসমান আসন ছেড়ে উঠে সাংসদ কবরীর দিকে তেড়ে যান এবং কবরী ও আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তুমুল বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। কয়েকজন পরিবহনমালিক নেতা এ সময় শামীম ওসমানের পক্ষে এগিয়ে এসে বাগিবতণ্ডায় লিপ্ত হন। শামীম ওসমান ও দুজন পরিবহনমালিক নেতা তখন আনোয়ার হোসেনের গায়ে ধাক্কা দেন।
সাংসদ নজরুল ইসলাম ও এসপি শেখ নাজমুল আলম দুই পক্ষকে শান্ত করার পর বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে বিপুল পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়।
সভায় শামীম ওসমান বলেন, কবরী ও আনোয়ার হোসেন সরকারি দলের লোক হয়েও বাসভাড়া কমানোর দাবিতে আহূত হরতালে প্ররোচনা দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। কবরীও শামীম ওসমানকে পরিবহন সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, ডিসি-এসপির সামনে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা দুঃখজনক।
শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘আমরা হরতালের পক্ষে নই। তবে জনগণের স্বার্থের জন্য রাজনীতি করি। তাই বর্ধিত বাসভাড়া কমানোর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছি।’
এসপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই পক্ষই উত্তেজিত হয়ে উঠলে তাদের শান্ত করি। সভার বাইরে দুই পক্ষের সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।’
পরে আবার সভা শুরু হয়। কিন্তু পরিবহন নেতারা বাসভাড়া না কমানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। বন্ধন পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইব্রাহিম চেঙ্গীস বলেন, পরিবহন মালিকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই টাকা কম আদায় করছেন। বাসভাড়া নিয়ে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ অযৌক্তিক হরতাল কর্মসূচি দিলে পরদিন থেকে পরিবহন মালিকেরা লাগাতার ধর্মঘট পালন করতে বাধ্য হবেন। হট্টগোলের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়।
এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলার সম্প্রচার বন্ধ: সাংসদ সারাহ্ বেগম কবরীর দিকে শামীম ওসমানের মারমুখী ভঙ্গিতে তেড়ে যাওয়ার বিস্তারিত দৃশ্য গতকাল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজে সম্প্রচার করা হয়। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কিন্তু রাত ১০টার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ শহর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলে এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলার সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় কেব্ল অপারেটররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কেব্ল অপারেটর বলেন, নারায়ণগঞ্জে কেব্ল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শহরের নিতাইগঞ্জের আবদুল করিম বাবু ওরফে ডিশ বাবু। তাঁর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকেই নারায়ণগঞ্জে দেশি-বিদেশি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি আবদুস সালাম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলা দেখতে না পাওয়ায় গ্রাহকেরা বারবার ফোন করে চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইছে। এখন কেব্ল অপারেটররা যদি চ্যানেল দুটি চালু না করে, আমাদের কিছু করার নেই।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, তাঁর চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক?



undefined
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেছেন, দেশের কল্যাণের কথা তাঁর চেয়ে বেশি কে ভাবে এবং কে তাঁর চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক?
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ বোর্ডের (বিওআই) প্রধান কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, কে বেশি দেশপ্রেমিক এবং দেশের স্বার্থের বিষয়টি আমার চেয়ে কে বেশি ভাবে?’ খবর ইউএনবি ও বাসসের।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ও বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বার্থের কথা বলে তারা প্রায়ই উচ্চবাচ্য করে। দেশে যখন কোনো নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাস অনুসন্ধান করা হচ্ছিল না, তখন তারা কোথায় ছিল? গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন শুরুর জন্য বিনিয়োগকারীদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য আগের সরকার কিছুই করেনি। অথচ এরা তখন চুপ ছিল। আর আমরা যখন কিছু করতে যাচ্ছি, তখনই তারা বিরোধিতা শুরু করেছে।’ দেশের স্বার্থ ও দেশের মানুষের কল্যাণের বিপক্ষে বর্তমান সরকার কোনো কিছুই করবে না বলে জানান শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দল কিছু বিদেশি কোম্পানির কাছে গ্যাস বিক্রি করতে চায়নি বলে ২০০১ সালের নির্বাচনে বেশি ভোট পেয়েও ক্ষমতায় যেতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে যাওয়ার আগে আমরা জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি।’
বঙ্গোপসাগরের দুটি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গত বৃহস্পতিবার মার্কিন কোম্পানি কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এই চুক্তির সমালোচনা করে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বলেছে, এতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষিত হয়নি। এর প্রতিবাদে আগামী ৩ জুলাই আধা বেলা হরতাল ডেকেছে কমিটি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই তাঁর সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্যস্থানে পরিণত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ক্রমেই বাড়ছে।
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ-প্রবাহ কমে গেছে। এর পরও ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ৭০ কোটি ডলারেরও বেশি এফডিআই পেয়েছে এবং ২০১০ সালে ৯১ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান, সাশ্রয়ী ও সহজে প্রশিক্ষণযোগ্য শ্রমশক্তি, সহজ আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ প্রণোদনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। তাঁর সরকার এবার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে বিনিয়োগ খাতে কর অবকাশ-সুবিধা ঘোষণা করেছে সরকার।
দেশে বিদ্যমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে দায়ী করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সাল-পরবর্তী জোট সরকার পাঁচ বছরে জাতীয় গ্রিডে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও যোগ করতে পারেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ইতিমধ্যে এক হাজার ৯২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে। আরও ২৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে শিগগিরই আরও প্রায় তিন হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More