Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label রহস্যময়. Show all posts
Showing posts with label রহস্যময়. Show all posts

Wednesday, November 16, 2011

আদালতে এফবিআই কর্মকর্তা ডেবরার সাক্ষ্য সিঙ্গাপুর সিটি ব্যাংকের অর্থ ভিসা কার্ডে খরচ করেন তারেক

  • এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভেট এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভেট
1 2
বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের মামলায় তারেক রহমান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে আজ বুধবার সাক্ষ্য দিয়েছেন মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভেট। আদালতে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি প্রথমেই জানান, তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে নয় বরং স্বেচ্ছায় এ সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
আদালতকে ডেবরা বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশ সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের আগে বিদেশে অর্থপাচার ও অবৈধভাবে লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ২০০৮ সালে অনুরোধ করা হয়। এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এফবিআইকে বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়।
ডেবরা আরও জানান, তদন্তকালে বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যক্তির অবৈধ অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে দেখা যায়, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে নিজের পাসপোর্ট ইস্যু করে একটি হিসাব খোলেন। আর মামুনের ওই হিসাবের লেনদেন বিষয়ে তদন্ত করার সময় তারেক রহমানের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। মামুন তাঁর হিসাব থেকে তারেকের হিসাবে টাকা পাঠান। সেখান থেকে তারেক দুটি ভিসা কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ টাকা তুলে বিভিন্ন দেশ সফর করেন ও কেনাকাটা করেন। এ ছাড়া খাদিজা ইসলাম নামের এক ব্যক্তির হিসাব থেকে সাত লাখ ইউএস ডলার মামুনের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
ঢাকার বিশেষ জজ-৩-এর বিচারক মোজাম্মেল হোসেনের আদালতে আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এ বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। বাদীর পক্ষে মোশাররফ হোসেন, আনিসুল হক আর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মামলা পরিচালনা করেন। আদালত আগামী ৮ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
সাক্ষ্য দেওয়ার একপর্যায়ে ডেবরা জানান, এ বিষয়ে তদন্ত শেষে সাক্ষীর স্বাক্ষর-সংবলিত ২২৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে ৩৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। আর আজ ওই প্রতিবেদনগুলোর স্বাক্ষরিত ফটোকপি আদালতে দাখিল করা হয়।
এর আগে সকালে এজলাস বসার পরপরই মামুনের আইনজীবীরা ডেবরাকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে আনতে দুদকের করা আবেদনের বিরোধিতা করেন এবং ডেবরার সাক্ষ্য দেওয়ার আইনগত বৈধতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালত বিষয়টি শুনানি শেষে নাকচ করে দেন। এ পর্যায়ে তারেক-মামুনের আইনজীবীরা আদালত বর্জন করে আদালত প্রাঙ্গণের মিছিল করেন।
২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে তারেক রহমান ও তাঁর বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত বছরের ২ জুলাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তারেক রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জামিন নিয়ে চিকিত্সার জন্য যুক্তরাজ্য যান। এখনো তিনি ওই দেশে আছেন। মামুন আছেন কারাগারে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর বন্ধু মামুন অবৈধভাবে অর্থ আদায় করেন। তারেক রহমান নিজেকে আড়াল করতে মামুনের মাধ্যমে ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে মোট ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেন। তারেক রহমানের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থই সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে মামুনের হিসাবে রক্ষিত ছিল।

Friday, November 4, 2011

 বদলাই হালামু সবকিছু উল্টাইয়া: শামীম (ভিডিওসহ)

‘হুমকি-ধমকি যদি কেউ দিয়ে থাকে, আমারে কইবেন। আপনাদের কিচ্ছু করতে হইব না। রাতের বেলায় ঘরে গিয়ে হুমকির জবাব দিয়ে আসব। কাউরে যাইতে হইব না। প্রতিটা বাড়িত বাড়িত গিয়ে আমি হুমকি দিয়া আসব। জবাব চামু। ভাই, হুমকি কেন দিচ্ছ? ওই কাজটা আমি ভালো পারি। শুধু পাঞ্জাবি বদলাইয়া জিনসের প্যান্টটা পরতে হইব। আর আমরা যদি জিগাইতে যাই, তাইলে শহরে কেউ থাকব না। আমরা সাচ্চা আওয়ামী লীগার। ক্ষমতায় এখনো আওয়ামী লীগ আছে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী, খালেদা জিয়া নাইক্কা। বদলাই হালামু সবকিছু উল্টাইয়া।’

সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর অনুগতদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। শহরের উত্তর চাষাঢ়ায় পৈতৃক বাসভবন হীরা মহলে অনুগত নেতা-কর্মীদের নিয়ে সভা করেন তিনি। তারপর এসব নেতা-কর্মী নিয়ে তিনি শহরে ‘চেঞ্জ ইমেজ, চেঞ্জ নারায়ণগঞ্জ’ ডাক দিয়ে প্রচারপত্র বিতরণ করেন।
শামীম ওসমান অনুগতদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনে হারার পরে সাংবাদিক সব্বাইরে ডাকাইয়া অপর পক্ষের হয়ে মিষ্টি খাওয়াইতে পারে কেউ? আমি সাংবাদিকদের মিষ্টি খাওয়াইছি, আমাগো বইন (আইভী) জিতছে দেইখা। কইছি—খা, খা না, তোরা খা না। তো, এইটা ব্রিটেনেও আজ পর্যন্ত হয় নাই।’
গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কী আলাপ হয়েছে, কর্মীদের তা জানাতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘দলের কাছে ক্লিয়ার (পরিষ্কার) হইয়া গেছে, কারা বিএনপির, কারা জামায়াতের। আমি একটা জিনিস মনে করি, মজিবর ভাই (স্থানীয় নেতা) খাটতে খাটতে টায়ার্ড (ক্লান্ত), আমিও খাটতে খাটতে টায়ার্ড। সবাই খাটা-খাটনি করে টায়ার্ড হইয়া গেছি। তো, আমি আমার ছোট বোনের ব্যাপারে একটা পরামর্শ দিছি যে, দেখো, তোমার বিরুদ্ধে একটা অপপ্রচার হইছে যে, তুমি বিএনপি-জামায়াতের লোক। তারাই তোমারে ভোট দিছে। যা-ই হোক, এই মিথ্যাটা আমিই প্রচার করছি যে তুমি বিএনপি-জামায়াতের লোক। তো, মিথ্যা তো মিথ্যাই। এখন এটা তোমারে মিথ্যা প্রমাণ করতে হইব। কী করতে অইব? জামায়াত-বিএনপির আন্দোলন আইতেছে সামনে; এইত্তো ঈদের পরে। আমি কইছি আপারে (প্রধানমন্ত্রী) যে, আপা, আমার ছোট বইন আইভী আগামী তিন-চার মাস তার লোকজন যারা আছে তাদের নিয়া একটু জামায়াত-বিএনপিকে মোকাবিলা করুক। আমরা তো গেছি, এমনিও গেছি অমনিও গেছি। মোকাবেলা করলে যেটা হইব, এই যে ওর বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা অপপ্রচার আমরা চালাইছিলাম, এটা সংশোধন হইয়া যাইব। আমাদেরও একটা বিশ্বাস জাগব যে, নাহ্, ও তো অ্যান্টি-জামায়াত, অ্যান্টি-বিএনপি। আমরা মিলামিশা সবাই কাজ করব। কাজ করতে সুবিধা হইব।’
বিএনপি-জামায়াত প্রসঙ্গে শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘বিগত সংসদ নির্বাচনে সিটি করপোরেশন এলাকায় বিএনপি-জামায়াত ভোট পেয়েছিল এক লাখ ১১ হাজার ৮৩৫টা। এখন গ্যাস, বিদ্যুৎ-সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে বিএনপি-জামায়াতের ভোট আরও বাড়ার কথা। ভোট গেছে কই? ভোট তো পড়ছে ৭০ শতাংশ। আর ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) এলাকায় যেটা দেখলাম, ওখানে ভোট পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫, ৯০ শতাংশ। কেন হইছে, কীভাবে হইছে, আমি জানি না। ওগুলো নিয়ে আমি প্রশ্ন তুলব না। যারা তোলার তুলবে। এটা আমাদের কাজ না। আমরা সরকারি দল করি। আমাদের কাজ হইল নির্বাচন সুষ্ঠু করে দেওয়া। আমরা করে দিয়েছি। একটা ঝামেলা হয় নাই, একটা ধাক্কাধাক্কি হয় নাই। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, নারায়ণগঞ্জবাসী সম্মানিত হয়েছে। এটাই আমাদের জয়।’
শামীম ওসমান গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘নেত্রী আমাকে বলেছেন, কসম আল্লাহর বলছি, উনি বলছেন আমারে যে, “আমি কারও কাছে এত কৃতজ্ঞ হইনি জীবনে, যেটুক কৃতজ্ঞ তুমি আমাকে করেছ”, এক্কেবারে আইভীর সামনেই বলছে যে, “তুমি যে ধৈর্য দেখাইছ। আমি জানি, তুমি ১০ মিনিটের মধ্যে সকল ভোটকেন্দ্র দখল করতে পারতা। নির্বাচন বন্ধ করাইতে পারতা। বিএনপি বয়কট করার পর তোমার আর নির্বাচন করার কথা ছিল না। কারণ আমি দাঁড়াইলেও হয়তো বিএনপির দুই-একটা ভোট পাব। কিন্তু তুমি একটাও পাইবা না। তার পরও তুমি নির্বাচনে ছিলা ক্যান? যে নির্বাচনটা হোক। এত কিছুর পরও তুমি নির্বাচন করায় তোমার ইমেজ ভালো হয়েছে। আমারও ইমেজ ভালো হইছে, সারা পৃথিবীর কাছে আমি কইতে পারুম, দেখো, নির্বাচন ক্যামনে করতে হয় তা আমি দেখাই দিলাম।”’
শামীম বলেন, ‘নেত্রীকে বলেছি, রাজনীতিতে আপনার উত্তরাধিকার অবশ্যই যেন আপনার রক্তের লোক হয়। আপনার রক্তের উত্তরাধিকারী যদি থাকে, তাইলে আছি, নাইলে নাইক্কা। আমরা চাই জয় আইসা রাজনীতি ধরুক। রেহানা আপা আসুক, যে-ই আইসা ধরে ধরুক, ববি ধরুক। আপনার পরিবারের সদস্য থাকতে হবে। আপা কয়, নাম অনেক হইছে শামীম; আর না, আর না। আমি বললাম, আপনি লক্ষ লক্ষ কর্মী কার কাছে ছেড়ে দিবেন? এদের দিয়ে হইব? আপনি দেশে নাই, আর খেলে দিল!’
কর্মীদের সামনে নিজের পরাজয়ের ব্যক্তিগত মূল্যায়নও তুলে ধরেছেন শামীম। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের অনেক কিছু শিখার আছে। বিএনপি বইয়া যাওয়ার পরও কেউ আমগোর লগে পারত না। পারছে কেন জানেন? পারছে কারণ, একেকটি ওয়ার্ডে আমগো ছয়-সাতজন লোক কাউন্সিলর প্রার্থী খাড়াইয়া গেল। হগলই খাড়াইয়া গেলোগা। হগলে বোলে পাস করব। পরে কী হইল? তারা যার যার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত রইল। দেখা গেল, আমার নির্বাচন করার মতো লোক মাঠে নেই। প্রতি ওয়ার্ডে আমার একজন করে প্রার্থী হলে ২৭টি ওয়ার্ডেই আমার লোক জিতত। আমার লোকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঠিকমতো কাজ করলে বিএনপির প্রার্থী বসে যাবার পরও আমি জিততাম।’
কর্মীদের উদ্দেশে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে গেছে কডা, দেহেন না! বিএনপি-জামায়াত, মিডিয়ার বেশির ভাগ, বামপন্থী তা হগলেই গেছে গা—মেনন-ছেনন, ইনু—হগলে এক হইছে। আরেকটা ছিল, দুই পা গেছে গা কবরে, (গালি) নাম ভুলে গেছি গা, (কর্মীরা বলছে মূসা মূসা)। নেত্রীরেও কইছি, ওই যে দুই ঠ্যাং কবরে, আপা বুঝছে, লগে লগে কইলো মূসা মূসা।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘এই প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার মনে করছিল, আইভী তো নেত্রীর কাছে যাইব না। শামীম ওসমান বলদ না, বুদ্ধি রাখি, এর লাইগাই ধন্যবাদ জানাইছি। হে তো নেত্রীর কাছে চইলা গেছে। এই দুই দিন পর আবার দেখবেন, এই পত্রিকাটা আমার বইনটারে লই কী লেখা শুরু করে। কী খেলা শুরু করে।’
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে শামীম বলেন, ‘নির্বাচনের দুই দিন আগে টিভিতে দেখলাম, এক নির্বাচন কমিশনার ফাইল নেড়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, অমুক প্রার্থীর বিরুদ্ধে এত মামলা রয়েছে। অমুক প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। এ থেকেই বোঝা যায়, কে ভালো মানুষ। আমি এখন ইচ্ছে করলে সব কথার জবাব দিতে পারি। আমাকে হাত-পা বেঁধে নদীতে গোসল করতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।’
সভায় শামীম ওসমান ছিলেন একমাত্র বক্তা। উপস্থিত ছিলেন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, প্রচার সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, পারভেজ (ক্যাঙ্গারু পারভেজ), ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল, সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহমেদ ওরফে লিটন। সভায় ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর এলাকা থেকে আসা লোকের সংখ্যাই ছিল বেশি। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুগতদের এই সভা চলে।
সভা শেষে কয়েক শ লোক নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন শামীম ওসমান। এ সময় পথচারীদের মাঝে একটি প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ ‘ক্যাডাররা’ তাঁকে ঘিরে হাঁটেন।
জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, কোনো বিশৃঙ্খলা করা হবে না—শামীম ওসমানের কাছ থেকে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি পেয়েই তাঁকে রাস্তায় নামার অনুমতি দেওয়া হয়।
লিফলেটে যা বলেছেন শামীম: লিফলেটে গত ৩০ অক্টোবর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীকে অভিনন্দন জানান শামীম ওসমান।
এতে বলা হয়, ‘আপনারা জানেন, এই নির্বাচনকে ঘিরে নানামুখী ষড়যন্ত্র হয়েছিল। শুধু প্রগতিশীল ও স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির পক্ষে কথা বলার অপরাধে বিএনপির প্রার্থীকে রাতের আঁধারে বসিয়ে দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ ও বক্তব্য দেওয়া, কিছু মুখচেনা পয়সায় কেনা বুদ্ধিজীবীর ব্যাপক অপপ্রচার এবং আমাকে ও নারায়ণগঞ্জবাসীকে সন্ত্রাসী বানানোর শত অপচেষ্টা সত্ত্বেও আপনারা সুষ্ঠু নির্বাচনের যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, সে জন্য আপনাদের অশেষ ধন্যবাদ।’
প্রচারপত্রে নগরবাসীর উদ্দেশে বলা হয়, ‘এত কিছুর পরও আপনাদের যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, সেই ঋণ শোধ করার মতো ক্ষমতা আমার মতো নগণ্য মানুষের নেই। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের মাঝেই সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বসবাস। তাই বাকি জীবন আপনাদের খুশি করে আমি সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করতে চাই। নির্বাচনে যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। যাঁরা ভোট দেননি, নিশ্চয় আমি তাঁদের মন জয় করতে পারিনি, তাঁদেরও জানাই আমার শ্রদ্ধা ও সালাম।’
প্রচারপত্রে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। তার পরও আপনারা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন, তিনি যেন আমাকে আপনাদের সুখে-দুঃখে যেকোনো সমস্যায় আপনাদের পাশে থেকে সেবা করার তৌফিক দান করেন। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি আধুনিক সুখী নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলি। আমাদের স্লোগান হোক “চেঞ্জ ইমেজ, চেঞ্জ নারায়ণগঞ্জ।”’ প্রথম আলো

Thursday, October 20, 2011

সে জোরে দৌড় দিল, সত্যিই সে ফার্স্ট হলো

undefined
এবার যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার গল্প শোনালেন পটুয়াখালী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ গোলাম মাওলা রনি। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের টক শো তৃতীয় মাত্রায় তিনি এ কাহিনি শোনান।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জিল্লুর রহমানকে টক শোর একপর্যায়ে আবুল হোসেনের যোগাযোগমন্ত্রী হওয়া প্রসঙ্গে গোলাম মাওলা বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার কাহিনি যদি শোনেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর একটি গিফট (উপহার) বলা যায়।’ জিল্লুর তখন সাংসদের কাছে এ কাহিনি জানেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই।’ জিল্লুর বলেন, ‘শোনাবেন?’ অবশ্যই বলে গল্পটি শুরু করেন রনি।

অনুষ্ঠানে সাংসদ রনি তখন বলতে থাকেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন, সম্ভবত ২০০৫, ’০৪, ’০৬ সালে, তখন তিনি একবার চীন ভ্রমণে গেলেন। সেখানে হ্যাংঝো প্রদেশে ওয়েস্ট লেক আছে। আপনারা জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর মধ্যে একটা সরলতা কাজ করে। অনেক সময় তিনি গান শুরু করেন, আলাপ-আলোচনা করেন, একটা পারিবারিক আবহ সৃষ্টি করেন। ওয়েস্ট লেকের ওই পরিবেশে গিয়ে হঠাত্ তার কী যে মনে হলো, তিনি বলেন যে, ‘একটা বাঁশি ম্যানেজ করো তো। যেভাবেই হোক একটা বাঁশি ম্যানেজ করা হলো।’
সাংসদ রনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে সাবের হোসেন চৌধুরী ছিলেন, ওবায়দুল কাদের ছিলেন এবং সৈয়দ আবুল হোসেন (বর্তমান যোগাযোগমন্ত্রী) ছিলেন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে রনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আমি বাঁশিতে একটা ফুঁ দেব। তোমরা তিনজন দৌড় দেবে। দৌড়ে যে ফার্স্ট হবে, তাকে আমি মন্ত্রী বানাব।’"
বর্ণনা করে চলেন রনি, এখন যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাই ওবায়দুল কাদের, সাবের হোসেন চৌধুরী উনারাও ...দৌড় দিলেন। কিন্তু সৈয়দ আবুল হোসেন টুক ইট ভেরি সিরিয়াসলি। সে জোরে দৌড় দিল, দৌড় দিয়ে সত্যিই সে ফার্স্ট হলো। ফিরে এসে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলছেন, ‘আপনি আমাকে কমিটমেন্ট করেছেন, আমাকে মন্ত্রী বানাতে হবে এবং যোগাযোগমন্ত্রী।’"
রনি আবারও প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যতই বারবার বলেন না কেন, আমি তোমার সঙ্গে দুষ্টামি করেছি। আমি এখন বিরোধীদলীয় নেত্রী...আগামীতে ক্ষমতায় আসব কি না আসব, তার ইয়ত্তা নাই, কীসব কথাবার্তা বলো।’ তিনি বললেন, ‘না আপনি হবেন। আমাকে কথা দিতে হবে যোগাযোগমন্ত্রী। এবং এমপি হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সেই কমিটমেন্ট স্মরণ করিয়ে দিলেন।’ এই হলো তাঁর যোগাযোগমন্ত্রী হওয়ার সত্যিকার ইতিহাস। এর বাইরে যা কিছুই বলেন, ‘ইটস নট দ্য রিয়েলিটি’ (কিছুই সত্য না)। আমরা তো কাছাকাছি থাকি, অনেক জিনিসই জানি।'
সাংসদ রনি জাতীয় সংসদে যোগাযোগমন্ত্রীকে নিয়ে হাসাহাসি করে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে বলেন, ‘মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী নিজেকে এমনভাবে চেনান, আমরা আসলে তাঁকে ওইভাবে চিনি না। যেমন আমরা যখন সংসদে উনাকে প্রশ্ন করি, উনি উত্তর দেন। তিনি সকলের নাম আরবিতে, সেটার বাংলা অর্থ কী, তিনি সেটা অনেকক্ষণ ধরে ব্যাখ্যা দেন। সমস্ত সংসদে তিনি ঠাট্টা-মশকরা করেন। উনি বোঝেন না যে এটা নিয়ে উনাকে ঠাট্টা করা হচ্ছে। তিনি (যোগাযোগমন্ত্রী) মনে করেন সবাই তো হাসাহাসি করছে, মনে হয় তাঁর প্রশংসা করছে, এই একটি ব্যাপার।’
সাংসদ রনি অনুষ্ঠানে আরও বলেন, ‘ছয়-সাত মাস আগে তিনি বললেন, রনি সারা পৃথিবীতে ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টার মানে বিমান মন্ত্রণালয় তাঁর অধীনে থাকে। যোগাযোগ ও নৌপরিবহনও তাঁর অধীনে থাকবে। আমি তো এই কাজগুলো এত দক্ষতার সঙ্গে করার পরও আমার হাতে প্রচুর সময়। বিমান চালাতে পারছে না। না পারলে আমাকে দিক, যদি নৌপরিবহনমন্ত্রী না চালাতে পারে, আমাকে দিক। আমি সবগুলো চালাতে পারি। কীভাবে কাজ করতে হয় আমি দেখিয়ে দিতে চাই। আজ থেকে ছয় মাস আগে এই হলো তাঁর অনুভূতি।’
পদ্মা সেতুর ঋণ সহায়তা চুক্তি স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে গোলাম মাওলা বলেন, ‘আশ্চর্য একটি ব্যাপার, মানুষ যে কোনো পরিবেশে, মানুষ যখন মারা যায়, তখন আপনার যত রকম শক্র মারা যাক, আপনি হাসতে পারেন না। এত বড় একটি পদ্মা সেতু নিয়ে কেলেঙ্কারি হলো, এতকিছু হলো। তিনি এয়ারপোর্টে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে যেভাবে ভাব-বিনিময় করছেন, তথ্য-বিনিময় করছেন এবং হাসাহাসি করছিলেন। সমস্ত মানুষ তাঁর সেন্স অব হিউমার, দায়িত্ব এবং কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।’

ভিটিওচিত্রটি চ্যানেল আই ও ফেসবুকের সৌজন্যে

Wednesday, October 5, 2011

 উইকির ফাঁস করা মার্কিন নথি: সত্যতা নিয়ে বিভ্রান্ত রাজনীতিকেরা

উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন নথিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এর বেশির ভাগই এ দেশের রাজনৈতিক জগতের। আছে ক্ষমতার অন্দরমহলেরও গোপন খবর। তবে এসব খবরের সত্যতা নিয়ে রাজনীতিকেরা নিজেরাই বিভ্রান্ত। তাঁরা কিছুটা মানতে চান। আবার পছন্দ না হলে এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করেন।
দেশের দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এসব তথ্য বিশ্বাস করতে চান না। অন্য দলের রাজনীতিকেরা অবশ্য বলছেন, উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোপন নথির অনেক তথ্যই সঠিক এবং এর মাধ্যমে এ দেশের বড় দুই দলের রাজনৈতিক দলের দেউলিয়াত্ব প্রমাণিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উইকিলিকস যেসব গোপন বার্তা ফাঁস করছে, তা কতটা সত্য সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। যে ব্যক্তিটি বার্তা পাঠিয়েছেন, তিনিও কতটা সত্য বলেছেন, সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট নেতারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘তবে এর মধ্যে কিছুটা সত্য যে আছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, এসব তথ্য এখনই কেন ফাঁস হচ্ছে। ভারত এত বড় দেশ, তাদের কোনো তথ্যই আসছে না। সবই বাংলাদেশকেন্দ্রিক এবং মূলত দুটি দলকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’
প্রকাশিত তথ্য সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক নেতা ভালো ইংরেজি জানেন না। তাঁরা যখন বিদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশিদের কাছে তাঁদের বক্তব্যের অর্থ ভিন্ন রকম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্য জাতীয় নেতাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ফাঁস হওয়া তথ্য আমাদের জাতীয় রাজনীতির মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। আশা করা যায়, এখন থেকে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমাদের নেতারা আরও সতর্ক হবেন।’ জাতি ও রাজনীতিকদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্য নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান মনে করেন, ‘উইকিলিকসের তথ্য রাজনীতিতে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কারণ তাদের তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বাসযোগ্য বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না।’ দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, উইকিলিকসে ফাঁস করা তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব নিয়ে হইচই করে দেশ মাতানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
জাসদের সভাপতি ও সাংসদ হাসানুল হক ইনুর মতে, উইকিলিকস নতুন কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বড় দলের বড় নেতারা যে বিদেশের কাছে আত্মসমর্পণমুখী এবং ক্ষমতালিপ্সু, তা আমরা আগে থেকেই জানি। আমাদের নেতা এবং তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করেন, সেটাও আমাদের অজানা নয়। রাষ্ট্রের জনগণও তা জানে। উইকিলিকসের সাফল্য হলো, তারা নতুন করে বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করেছে। সুতরাং বিষয়গুলো দেশের জাতীয় রাজনীতিতে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। সংসদে আলোচনা করেও কোনো লাভ হবে না।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘ফাঁস হওয়া মার্কিন গোপন তথ্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির দেওলিয়াত্ব বেরিয়ে এসেছে। দল দুটি আমাদের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এটা প্রমাণিত যে তারা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অশুভ।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই-একজন নেতা ছাড়া আর কেউই এখন পর্যন্ত উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্য সম্পর্কে আপত্তি জানাননি। এতে প্রমাণিত হয়, ফাঁস হওয়া তথ্য সত্য। তবে আশপাশের দেশ থাকা সত্ত্বেও উইকিলিকস কেন শুধু বাংলাদেশের তথ্য ফাঁস করে যাচ্ছে, এর পেছনে তাদের কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা বিচার-বিশ্লেষণের জন্য এ নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।

Tuesday, September 20, 2011

 সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল নিয়ে গুঞ্জন

আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি ঘাটতি এবং বন্যাদুর্গতদের সাহায্যার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘ব্যর্থতার’ পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের প্রথম থেকেই গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের রাজনৈতিক ও সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণের কথা তখন বলা হচ্ছিল। কারাবন্দী দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা-ও পরিষ্কার নয়। এ অবস্থায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে, রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে সেনানিবাসে।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের তৎকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গীতা পাসি ওই সময় ওয়াশিংটনকে এসব কথা জানান। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভুল পদক্ষেপের কারণে আরেকটি রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তবে ওই অবস্থায় সেনাবাহিনী কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তাঁর মনে হয়নি। ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট গীতা পাসির পাঠানো ওই তারবার্তা গত ৩০ আগস্ট উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তাগুলোর একটি।
তারবার্তায় বলা হয়, ওই গুঞ্জন নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক সোবহানের সঙ্গে কথা বলেন দূতাবাসের কর্মকর্তা। তাঁদের মত ছিল, সেনাবাহিনীর সক্রিয় হওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দেওয়া। এ প্রসঙ্গে ফারুক সোবহান বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেক মামলা বিচারাধীন।
তারবার্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফারুক সোবহান বলেন, সেনাপ্রধানের চারপাশে ঘিরে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আতাউর রহমানের মতো স্বনিয়োজিত কিছু উপদেষ্টা। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার জন্য সেনাপ্রধানকে উৎসাহিত করছেন। সব মিলিয়ে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছেন, যেখানে মনে হবে কেবল সেনাপ্রধানই দেশকে ‘রক্ষা’ করতে পারেন।
তবে ফারুক সোবহান স্বীকার করেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি ঘাটতি, বন্যাসহ অনেক সমস্যাই মোকাবিলা করতে হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে। প্রধান উপদেষ্টার চেয়ে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের অধিকতর সক্রিয়তা নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছিল, সে সম্পর্কে তিনি বলেন, সেনাপ্রধানই সরকারের মূল দায়িত্বে—এ ধারণা যে সত্যি নয়, তা বোঝানোর জন্য গণমাধ্যমে আরও বেশি কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তারবার্তায় বলা হয়, এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম মো. আমিনের সঙ্গেও কথা বললে তাঁর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, ‘দেশের সব সমস্যার বোঝা কেন আমাদের ঘাড়ে নিতে যাব?’ তাঁর মতে, সেনাবাহিনী এখন যে কাজ করছে তার জন্য তারা একদিন বীর হিসেবে বিবেচিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো সেনাবাহিনীও ২০০৮ সালের শেষ নাগাদ নির্বাচন দেখতে চায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক সোবহান প্রথম আলোর কাছে তারবার্তার বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, ‘তাদের সঙ্গে অবশ্যই কথা হয়েছে। কিন্তু এখানে আমাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।’

মার্কিন দূতাবাসকে কারা মহাপরিদর্শক: ভিআইপি বন্দীদের নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়া ভিআইপি বন্দীদের নিয়ে ‘কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি’ হয়েছিলেন তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসান। বিশেষ করে, সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে। কারা মহাপরিদর্শক মার্কিন দূতাবাসকে এ কথা জানিয়েছিলেন।
২০০৭ সালের শেষ দিকে ঢাকায় নিযুক্ত একজন মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে জাকির হাসান এ কথা বলেন। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন তারবার্তায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
তারবার্তায় বলা হয়, কারা মহাপরিদর্শক জাকির হাসান বলেন, দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়, যা তাঁকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। তিনি জানান, দুই নেত্রীকে দেখতে তিনি সাব-জেলে গিয়েছিলেন। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয় যে, দুই নেত্রী কারাগারে থাকতে কখনোই ভালো বোধ করবেন না। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করে।
তারবার্তায় বলা হয়, শেখ হাসিনার একজন আইনজীবী দাবি করেন, জেল কোড অনুযায়ী তিনি (শেখ হাসিনা) মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কারা মহাপরিদর্শক জানান, তিনি আইনজীবীর এমন দাবি নাকচ করে দেন। হাসিনার ওই আইনজীবীর যুক্তি, জেল কোড অনুযায়ী বন্দীরা ‘মৌখিকভাবে যোগাযোগ’ করতে পারে। এ যুক্তিতে শেখ হাসিনা মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারেন। জাকির হাসান ওই যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, ‘মৌখিক যোগাযোগ’ বলতে সামনাসামনি কথা বলাকে বোঝানো হয়েছে, ফোনের মাধ্যমে নয়। কোনো বন্দীরই ফোন ব্যবহারের নিয়ম নেই।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, মানবাধিকারকর্মী সিগমা হুদা কারারক্ষীদের ঘুষ দিয়ে ফোন ব্যবহার করেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিলেন। পরে তাঁর নির্দেশে ওই ফোন এবং সংশ্লিষ্ট কারারক্ষীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। কারাগারে সিগমা হুদার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ না দেওয়ার কথা অস্বীকার করে জাকির হাসান বলেন, তাঁর (সিগমা) প্রতি কারা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজর ছিল। সিগমা হুদা তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথা বলেছেন, চিকিৎসার জন্য সুযোগ-সুবিধাও পেয়েছেন।
তারবার্তায় বলা হয়, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কাজ করতে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন কারা মহাপরিদর্শক জাকির হাসান। তিনি জানান, বিগত জোট সরকারের আমলে তিনি কোনো কাজের জন্য সরাসরি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন, কিন্তু এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের অধীনে। কারা মহাপরিদর্শক হলেও খুব সহজে তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। এর ফলে আগে কোনো কাজ কয়েক দিনে করতে পারলেও এখন একই কাজের জন্য কয়েক সপ্তাহের প্রয়োজন হয়।
তারবার্তায় বলা হয়, ব্রিগেডিয়ার জাকির হাসান জানান, ওই সময়ে সারা দেশের কারাগারের ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। তিনি আরও জানান, ২০০৫ সালে কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন সংস্কার করেন তিনি। কারাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিষয়টি জানতে পেরে কারাগারের মধ্যে তিনি গোয়েন্দা সার্ভিস গঠন করেন। এ সার্ভিসের মাধ্যমে কারাগারের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হতো।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, কারাগারে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের জন্য একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। কয়েকজন সাংসদ ওই সিন্ডিকেটে জড়িত ছিলেন। জানা গেছে, সিন্ডিকেট ভাঙায় ক্ষুব্ধ সাংসদেরা কারা মহাপরিদর্শক পদ থেকে জাকির হাসানকে সরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন। কারাগারে ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হওয়ায় কারারক্ষী ও কর্মকর্তাদের অনেকে ক্ষুব্ধ ছিলেন। কারা মহাপরিদর্শককে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁরাও তৎপর ছিলেন।

Sunday, September 18, 2011

 ‘বাংলা ভাইয়ের সহযোগীর মুক্তির ব্যবস্থা করেন তারেক রহমান’

তারেক রহমান তারেক রহমান
উগ্রপন্থী দল জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের সহযোগী খামারু আটক হওয়ার পর তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। তাঁর হস্তক্ষেপে খামারুকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎ ফুজ্জামান বাবর। উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তা অনুযায়ী, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তখনকার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জুডিথ চামাসকে একথা জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকী।
দূতাবাসের তারবার্তায় বলা হয়, ২০০৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জুডিথ চামাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকীর। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে গোপন তারবার্তাটি পাঠান চামাস।
তারবার্তার তথ্য অনুযায়ী, কামাল সিদ্দিকী মার্কিন কূটনীতিককে জানান, জেএমবি নেতা খামারুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর। ভূমি প্রতিমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পরামর্শে তারেক রহমান এ কাজ করেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
কামাল সিদ্দিকী মার্কিন দূতাবাসকে বলেন, জেএমবির বিষয়ে সরকার ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার জেএমবির সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে না। বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতা জেএমবির বড় বড় সন্ত্রাসীকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।
কামাল সিদ্দিকী বলেন, জেএমবির পক্ষে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের বেশির ভাগ একসময় জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ছিলেন। জামায়াত বিএনপির সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর তাঁরা দল ছেড়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আরও বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে কিছু বিদেশিও জেএমবিকে সহযোগিতা করছে।’
মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কামাল সিদ্দিকীকে বলেন, জেএমবির সঙ্গে ভারত কিংবা আওয়ামী লীগের যোগসাজশের ঢালাও অভিযোগ তোলায় সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ দিয়েই কেবল সরকারের অবস্থান মূল্যায়ন করা হবে। যেমন জেএমবির বড় নেতাদের গ্রেপ্তারে সরকারের সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধ এবং জেএমবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিবেচনা করা হবে। জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় বলে জানান মার্কিন কূটনীতিক। তবে তিনি বলেন, জেএমবির বিষয়টি তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি সহযোগিতার যে প্রস্তাব দিয়েছে তা গ্রহণে বাংলাদেশ সরকার অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাকে কামাল সিদ্দিকী আরও জানান, জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দলের কমপক্ষে ৫০ জন সাংসদ জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকতে চান না। বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন কামাল সিদ্দিকী।
২১ ডিসেম্বর পাঠানো আরেকটি তারবার্তায় বলা হয়েছে, কামাল সিদ্দিকীর সঙ্গে ওই সাক্ষাতের পাঁচ দিন পর ১৯ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও দূতাবাসের আরেক কর্মকর্তা। এ সময় বাবর দাবি করেন, খামারুর মুক্তির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি তখন সিঙ্গাপুরে ছিলেন। বাবর বলেন, তিনি পরে জানতে পারেন একজন তরুণ কর্মকর্তা জেলার সব থানায় খোঁজ নিয়ে খামারুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেন।
বাবর বলেন, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কুয়েতভিত্তিক এনজিও রিভাইভাল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটির বন্ধ করে দেওয়া ব্যাংক হিসাব চালুর অনুমোদন দেওয়ায় তিনি খুব ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। উগ্রপন্থী আহলে হাদিস মসজিদে সহায়তা দেওয়ার কারণে ২০০৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল হিসাবটি।
তারবার্তার ভাষ্যমতে, বাবর আরও বলেন জেএমবির সঙ্গে কোনো সরকারি কর্মকর্তা জড়িত থাকলে ছাড় পাবেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, রাজশাহী এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাস দমনে কাজ করার সময় বাংলা ভাইকে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী সহযোগিতা করেছিলেন।
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কামাল সিদ্দিকীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

 খালেদার সঙ্গে যোগাযোগ: মওদুদকে দূত করতে চেয়েছিলেন হাসিনা

আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপথ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এ জন্য সম্ভাব্য দূত হিসেবে বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
উইকিলিকস প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় এ কথা বলা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ মে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টির সঙ্গে বৈঠক করেন রিজভী। বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে ২৮ মে ওয়াশিংটনে তারবার্তা পাঠান মরিয়ার্টি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে গওহর রিজভী আরও বলেছিলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে গঠিত মহাজোট সরকারের শুরুতে আমলাদের অদক্ষতা ও সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ গ্রহণে বাধার সৃষ্টি করে।
তারবার্তায় বলা হয়, বৈঠকে আমলাদের অদক্ষতা বিষয়ে একটি উদাহরণ তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, দরিদ্র জনগণের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত হয়েছিলেন। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পরে জানা যায়, সরকারের জড়তার কারণে ওই প্রকল্পের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর আগের আমলের (১৯৯৬-০১) আমলাদের তুলনায় এ দফার আমলাদের দক্ষতার লক্ষণীয় অবনমনের কথা বলেছেন। তবে রিজভীর মন্তব্য, ‘আমলাদের অনিচ্ছা বা সহায়তা না করার মানসিকতা নেই। আসলে তাঁদের কাজ করার সামর্থ্য নেই।’
তারবার্তায় বলা হয়, রিজভী সরকারের একটি ইতিবাচক কার্যক্রম হিসেবে ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে গৃহীত ই-গভর্নেন্সের বিষয়টির উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিদেশে পড়াশোনা করা তরুণ বাংলাদেশিদের একটি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে দপ্তর স্থাপন করেছে। ইউএনডিপির সহায়তায় তাঁরা সরকারের সেবা দেওয়ার পথগুলোর উন্নতি করেছেন।
গওহর রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের বিষয়টিও সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রিজভীর পর্যবেক্ষণে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের সময়টি সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল।
বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অর্থনৈতিক বিষয়ে জাতীয়করণ ধরনের কয়েকটি সরকারি পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রিজভী বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উদ্বেগের বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন।
বৈঠকে মরিয়ার্টি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে তাগিদ দেন। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আস্থা বাড়াতে উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে নয়াদিল্লির কাছে হস্তান্তরের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। ২৮ মে রিজভী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, অনুপ চেটিয়ার প্রসঙ্গ তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী দৃশ্যত আগ্রহী হলেও বলেছেন, অনুপ চেটিয়া কোথায় তা তিনি জানেন না। তবে জানার চেষ্টা করবেন।
তারবার্তায় বন্ধনীর মধ্যে টীকা দিয়ে বলা হয়, অনুপ চেটিয়া ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে আছেন বলে জানা যায়। তারবার্তার মন্তব্য অংশে বলা হয়, রিজভী স্বীকার করেন, সরকারের কিছু বড় ইস্যু ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এর কারণ হিসেবে স্বামীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর মানসিক অবস্থা ও বিডিআর বিদ্রোহ মোকাবিলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে এর পরও রিজভীকে আশাবাদী মনে হয়েছে বলে লিখেছেন রাষ্ট্রদূত।
এ ব্যাপারে মন্তব্য জানার জন্য গওহর রিজভীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি

গাদ্দাফি-ব্লেয়ার গোপন বৈঠক ফাঁস

লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি এবং ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার গোপনে বৈঠক করেছিলেন। ব্লেয়ারকে লিবিয়ায় নিতে ব্রিটেনে উড়ে আসে গাদ্দাফির বিলাসবহুল ব্যক্তিগত বিমান। এর কিছুদিন পরই মুক্তি পান লকারবি বোমা হামলায় সাজাপ্রাপ্ত লিবীয় নাগরিক আবদেলবাসেত আল-মেগরাহি।
ব্লেয়ারের ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়, ত্রিপোলির ব্রিটিশ দূতাবাস এবং লন্ডনে লিবীয় দূতাবাসের মধ্যে চালাচালি হওয়া চিঠি ও ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে ব্লেয়ার ও গাদ্দাফির গোপন বৈঠকের বিষয়টি ফাঁস হয়। এতে গাদ্দাফির সঙ্গে ব্লেয়ারের সম্পর্ক এবং মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্রিটেনের দ্য সানডে টেলিগ্রাফ ওই চিঠি ও ই-মেইল বার্তা হাতে পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়, লিবিয়ায় তাঁদের বৈঠকের আগে ব্লেয়ারের জন্য গাদ্দাফি তাঁর ব্যক্তিগত বিমান পাঠান। গাদ্দাফির খরচেই ব্লেয়ার ২০০৮ সালের জুন এবং ২০০৯ সালের এপ্রিলে লিবিয়া সফর করেন। যদিও ওই সময় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। লিবিয়া তখন হুমকি দিয়ে বলেছিল, মেগরাহিকে মুক্তি না দিলে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তারা সব ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
ব্লেয়ারের ওই বৈঠক সম্পর্কে সরকারি কোনো ওয়েবসাইটে তথ্যপ্রমাণ নেই। তবে লকারবি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একজনের পরিবারের ফোন কলের সূত্র ধরে বিষয়টি ফাঁস হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যক্তি গাদ্দাফির সঙ্গে ব্লেয়ার শাসনামলে করা সব গোপন চুক্তি প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা যায়, ওই বৈঠকে ব্লেয়ারের সঙ্গী হয়েছিলেন একজন মার্কিন ধনকুবের। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের জন্য লিবিয়ার উপকূলে অবকাশযাপনকেন্দ্র নির্মাণ করতে বলেছিলেন গাদ্দাফি।
ওই সফরের ব্যাপারে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে ব্লেয়ারের ব্যক্তিগত কার্যালয়। ব্লেয়ার সরকার লিবিয়া সফরের আলাপ-আলোচনায় গাদ্দাফির নাম উল্লেখ করেননি। গাদ্দাফিকে তারা ‘দ্য লিডার’ বা নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গাদ্দাফির সঙ্গে ব্লেয়ারের গোপন বৈঠকের বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় লকারবি বোমা হামলায় নিহত লোকজনের পরিবারে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ওই হামলায় নিহত হয়েছিলেন প্যান ডিক্সের ভাই। ব্লেয়ারের সফর সম্পর্কে ডিক্স টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘ব্লেয়ারের সফরের খরচ বহন করেছেন গাদ্দাফি। এটা জেনে আমি হতভম্ব হয়েছি। এ সুযোগ গ্রহণ করে ব্লেয়ার অপরাধ করেছেন। আর তাঁরা ওই বৈঠকে যেসব গোপন চুক্তি করেছেন, সেগুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত।’
লিবিয়ায় নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত অলিভার মাইলস এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্লেয়ার তাঁর ডাউনিং স্ট্রিটের যোগাযোগকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন।
মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে ব্লেয়ার তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলেছেন, স্কটল্যান্ডের নির্বাহী কর্মকর্তারাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ব্লেয়ার ও গাদ্দাফির ওই গোপন বৈঠকের সময় মেগরাহির মুক্তি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। মেগরাহি প্যান অ্যাম বিমানের ফ্লাইটে বোমা হামলা চালিয়ে ২৭০ জনকে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনায় মেগরাহি দোষী সাব্যস্ত হন। এরপর মেগরাহি ক্যানসারে আক্রান্ত হলে ২০০৯ সালে তাঁকে যুক্তরাজ্যের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। যদিও মেগরাহি আর তিন মাস বাঁচবেন বলে তখন চিকিত্সকেরা জানিয়েছিলেন।

Wednesday, September 14, 2011

 আলোচনা সভায় নাজমুল হুদা মুজিবকে জাতির পিতা বলতে দ্বিধা বোধ করি না

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য নাজমুল হুদা বলেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। এই ভাষণের মধ্য দিয়েই এ দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাই তাঁকে জাতির পিতা বলতে দ্বিধা বোধ করি না।’
জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী জিয়া ফ্রন্ট আয়োজিত ‘জনতার জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নাজমুল হুদা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমানসহ জাতীয় নেতাদের যাঁর যা অবদান তা স্বীকার করতে হবে।
সদ্য প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটির উদ্যোগে এটাই প্রথম কোনো আলোচনা সভা। সংগঠনের আহ্বায়ক আকবর আমিন সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাই সংগঠনের মূল কাজ।
সংগঠনের সঙ্গে নাজমুল হুদার সম্পর্ক জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সভায় তিনি অতিথি হিসেবে এসেছেন। এই সংগঠনটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হবে কি না, তা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলতে পারবেন।
বিএনপির দপ্তরে কর্মরত এক নেতা বলেন, এ ধরনের সংগঠনের নাম আগে শুনিনি। জিয়াউর রহমানের নামে অনেকেই সংগঠন করেন। তবে এগুলো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিএনপির কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয় না।
সভায় নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি সঠিক ইতিহাস। সরকার বদলের সঙ্গে ইতিহাস পরিবর্তনের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সঠিক ইতিহাস লেখার জন্য দক্ষ ইতিহাসবিদ এবং এ দেশের জনগণকে কাজে লাগাতে হবে।’
জোট সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এ দেশে অনেক সমস্যা। সংসদ অকার্যকর, ছাত্ররাজনীতি বিপথে চলে গেছে, রপ্তানি খাতগুলোতে নানা সমস্যা। অথচ এসব জাতীয় সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে রাজনীতিবিদেরা সর্বক্ষেত্রে বিভেদ সৃষ্টি করে চলেছেন। তাঁরা মুখোমুখি ও সাংঘর্ষিক রাজনীতির পথে চলছেন। এভাবে চলার কারণে দেশের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। দেশ পেছনের দিকে চলছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক আইনজীবী আকবর আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ন্যাশনাল সিকিউরিটি পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

Tuesday, September 6, 2011

 হুজির আইডিপি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে ডিজিএফআই

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) রাজনৈতিক দল ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টি (আইডিপি) সৃষ্টিতে সহায়তা করেছিল বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। আর এ পদক্ষেপের পক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে সাফাই করেছিলেন ডিজিএফআইয়ের তত্কালীন পরিচালক এ টি এম আমিন ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ওয়াশিংটনে পাঠানো গোপন তারবার্তায় এ কথা উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি ভিন্নধারার গণমাধ্যম উইকিলিকস এই তথ্য ফাঁস করে।
২০০৮ সালে ১৬ অক্টোবর ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক তারবার্তায় বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি) রাজনৈতিক স্বীকৃতি চায়। এ লক্ষ্যে তারা ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি (আইডিপি) নামে একটি রাজনৈতিক দলও ঘোষণা করেছে। ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির (আইডিপি) নেতারা দাবি করেছেন, ইসলামি শরিয়া আইনের অধীনে বাংলাদেশে তারা সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
হুজি-বির এ পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বলেছেন, ‘হুজি-বি’কে অবশ্যই মূলধারার রাজনীতিতে আসার অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়।
তারবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইডিপি দেশব্যাপী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে। যদিও দলটির নেতারা দাবি করেছেন, তাঁরা শান্তি ও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করছেন। তবে সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূতদের এ বিষয়ে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, দলটি তাদের মূল সন্ত্রাসী সংগঠন ত্যাগ করেনি।
তারবার্তায় বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি আত্মপ্রকাশ করে। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশ নেয়।
ঢাকার অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তথ্যের বরাত দিয়ে ওই তারবার্তায় বলা হয়, আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদ কমান্ডার আবদুস সালাম আইডিপির আহ্বায়ক। দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম বলেন, দলটি বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে তা সন্ত্রাসী পন্থায় নয়।
১৬ অক্টোবর পাঠানো অপর এক মার্কিন তার বার্তায় বলা হয়েছে, তত্কালীন ডিজিএফআই-এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আমিন ১৫ অক্টোবর ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর, এবং আঞ্চলিক কাউন্সেলরের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। ওই সাক্ষাতে এ টি এম আমিন আইডিপিকে মূলধারার রাজনীতিতে নিয়ে আসার পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই করেন। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। তিনি হুজির কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশেষ করে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মার্কিন সরকারের উদ্বেগের কথা জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ টি এম আমিন জানান, তারা আইডিপিকে গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার।
জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) রাজনৈতিক দল ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টির (আইডিপি) আত্মপ্রকাশ নিয়ে ২০০৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রথম আলোতে ‘আইডিপি নামে এবার প্রকাশ্য রাজনীতিতে হুজি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টি—আইডিপি’ নামে প্রকাশ্য রাজনীতি শুরু করেছে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি)। রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে সাবেক আফগান মুজাহিদদের এ সংগঠন।
সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম তখন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সংগঠন এ দেশে ১৯৯২ সালেই আত্মপ্রকাশ করে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ নামে। এরপর ১৯৯৮ সালে তা বিলুপ্তি ঘোষণার পর তাঁরা ‘ইসলামী গণ-আন্দোলন’ নামে সংগঠন করেন। সেই সংগঠন থেকে এখন তাঁরা আইডিপি নামে কাজ করছেন।
মাওলানা শেখ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আইডিপির ওই ইফতার ও আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতারা ছাড়াও সংগঠনের ভাষায় ‘আন্ত-সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উন্নয়নের স্বার্থে আমন্ত্রিত’ ইংরেজি সাপ্তাহিক ব্লিেজর সম্পাদক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশের সহকারী নির্বাহী সম্পাদক ও হিউম্যান রাইটস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের পি কে বড়ুয়া, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি চিত্ত ফ্রান্সিস রিভেরু বক্তব্য দেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী বলেন, আইডিপির আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনীতির জন্ম হলো। তিনি বলেন, আইডিপির সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের নাম জড়িত। এটা এমন একটি সংগঠন, যার সম্পর্কে নানা আলোচনা রয়েছে। আইডিপিকে যারা সন্ত্রাসী সংগঠন বলে, ওই সব পত্রিকা বিদেশের টাকায় চলে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ এবং বালি বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সত্ত্বেও হিযবুত তাহরীরের মতো সংগঠন যদি এ দেশে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারে, তাহলে আইডিপি কেন পারবে না। যারা বাংলাদেশকে করদ রাজ্য বানাতে চায়, তারা আইডিপিকে হুমকি মনে করে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আইডিপির সদস্যসচিব মাওলানা রুহুল আমিন, তিন যুগ্ম আহ্বায়ক কারি হোসাইন আহমদ, মাওলানা আবুল কাশেম রহমানী ও মাওলানা মাহবুবুর রহমান এবং মাওলানা মুফতি কামাল, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মুফতি ফজলে এলাহি, মাওলানা মুফতি নোমান, খেলাফত মজলিসের (ইসহাক) নায়েবে আমির এমদাদুল হক আড়াইহাজারী, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির ছফর উল্লাহ খান, জৈনপুরী পীর মাওলানা এহছানুল্লাহ আব্বাসী প্রমুখ। এ ছাড়া মরহুম হাফেজ্জী হুজুরের মেজ ছেলে হাফেজ মাওলানা হামিদুল্লাহ ও মাওলানা আতাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তৃতায় মাওলানা আবদুস সালাম নিজেদের আন্তর্জাতিক মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে বলেন, তাঁরা মদিনা সনদের আলোকে একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চান।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপসহ নানা কারণে সংগঠনটি বিভিন্ন সময় নাম পাল্টালেও এর নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো, মজলিশে শুরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় একই ছিল। ২০০৬ সালের আগস্টে প্রথম গোপন এ সংগঠনটি ইসলামি গণ-আন্দোলন নামে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসার চেষ্টা করে। এ লক্ষ্যে ওই বছরের ১৮ আগস্ট জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সচেতন ইসলামী জনতার ব্যানারে বড় একটি সমাবেশ করেছিল। তখন সচেতন ইসলামী জনতার আহ্বায়ক হিসেবে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা আবু তাহের। এই তাহের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। বর্তমানে তিনি কারাগারে। আবু তাহের হুজির ঢাকা মহানগর সভাপতি ও মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন।
বিভিন্ন নাশকতামূলক ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবর হুজিকে নিষিদ্ধঘোষণা করে। ২০০২ সালের ২১ মে বাংলাদেশের হরকাতুল জিহাদকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। গত ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিত্সা রাইস এক নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশের হুজিকে একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং একটি ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা দেন।
হুজির সঙ্গে জড়িত মুফতি হান্নানসহ অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আছে—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালেই মুফতি হান্নানকে আমরা দল থেকে বহিষ্কার করি। বহিষ্কারের পর কেউ যদি ওই নামে নাশকতা করে থাকে, তার দায়-দায়িত্ব তাদেরই। আমাদের ওপর বর্তায় না। তবে সরকারকে ধন্যবাদ, তাদের ধরেছে। এখন তাদের বিচার চলছে।’

Monday, September 5, 2011

সাকার আশঙ্কাই সত্যি

উইকিলিকসে প্রকাশ্য

সাধারণ নির্বাচনের আগেই বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা) আশঙ্কা ছিল তার জিতে আসা কঠিনই হবে এবার। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক গোপন বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন, যা প্রকাশ করেছে উইকিলিকস।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের ওয়েবসাইট উইকিলিকস গত ৩০ অগাস্ট প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবল প্রকাশ করে। এর মধ্যে একটি ছিলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদীয় উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর রাঙ্গুনীয় আসনে নির্বাচনকে ঘিরে।

তারবার্তায় মরিয়ার্টি সাকাকে 'চট্টগ্রামের গডফাদার' হিসেবে অভিহিত করে তার পুননির্বাচিত হওয়া অনেক কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি লিখেন, এই আসনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুননির্বাচিত হওয়া কঠিনতর হবে। আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে হাড্ডাহাড্ডি।

২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়জউদ্দিন আহম্মদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। এর প্রায় দুই বছর পর ২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মরিয়ার্টি ওই তারবার্তাটি পাঠান ২৪ ডিসেম্বর।

মরিয়ার্টি লিখেছেন, নির্বাচনের আগে ওই আসনে বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েন করার মাধ্যমে পরাজিত করার নীল নকশা সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাকা চৌধুরী। শুধু তাই নয়, পরাজিত হলে তিনি চুপ করে বসে থাকবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন। পরাজিত করার জন্য সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার উঠেপড়ে লেগেছে এমন অভিযোগ শুধু সাকার নয়, দলটির অন্যান্য প্রার্থীদেরও।

২০০১ এর নির্বাচনে রাঙ্গুনীয়ার এই আসনে সাকা চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রার্থী থেকে প্রায় ১০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন।

তবে ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে সেনা সদস্য মোতায়েন হওয়ায় 'সুষ্ঠু' নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন সাকার মতো বিএনপির অন্যান্য প্রার্থীরাও, যোগ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক।

তিনি লিখেছেন, বিএনপি অভিযোগ করছে- এ নির্বাচনে ভোটে নয়, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পছন্দের জয়ী করা হবে। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাকা চৌধুরীও একই অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মরিয়ার্টি বলেন, তাদের ধারণা এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। যদিও একটি দৈনিকের জরিপে দেখা গেছে- আওয়ামী লীগ দুই অঙ্কের ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হচ্ছে। তবে সাকা এবং তার দলের অন্যান্য প্রার্থীরা ইঙ্গিত করেছেন, তারা পরাজিত হলেই ধরে নেওয়া হবে ভোট চুরির মাধ্যমে তাদের পরাজিত করা হয়েছে। আর সেনা মোতায়েনের বিষয়টি তুলে ধরে সাকা চৌধুরী সেদিকেই ইঙ্গিত করেন। পাশাপাশি তিনি একজন নির্বাচন পর্যবেক্ষককে এও বলেছেন- তিনি পরাজিত হলে চুপচাপ মেনে নেবেন না।

ওই জরিপের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, জরিপের ফলাফল যদি সত্যি হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে দুই বছরের জরুরি অবস্থার পর গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠায় বিএনপির মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

'হাসিনা-খালেদা চক্র ভাঙার পথ ইউনূস'

উইকিলিকসের তথ্য

- মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনীতিতে প্রবেশকে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার ক্ষমতা বলয় ভাঙার উপায় হিসেবে দেখেছিলো যুক্তরাষ্ট্র। উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি কূটনৈতিক তার বার্তায় বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য।

ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক হিন্দুতে প্রকাশিত ওই বার্তা থেকে জানা গেছে, রাজনীতিতে প্রবেশের সময় ইউনূস ধারণা করেছিলেন যে, তিনি দুই নেত্রীর বাজে প্রতিক্রিয়ার শিকার হতে পারেন।

২০০৭ সালের ১৩ ফেব্র"য়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কলকাতা কনস্যুলেট থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক গোপন বার্তায় এ সব কথা বলেন কনস্যুলার জেনারেল হেনরি জারদাইন।

এর মাত্র দুদিন আগে জরুরি অবস্থার মধ্যে শান্তিতে নোবেল জয়ী ইউনূস রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন।

'নাগরিক শক্তি' নামের রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি কলকাতা সফরে যান। ১১-১২ ফেব্র"য়ারি কলকাতা চেম্বার অব কমার্সের (সিসিসি) ১৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন গ্রামীণ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সফরে কলকাতা চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে জারদাইন ও ইউনূসের মধ্যে আলোচনার খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে এই তার বার্তায়।

এতে বলা হয়, ওই ভোজসভায় ইউনূসের রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান হেনরি জারদাইন। জবাবে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইউনূস ঝুঁকি আঁচ করতে পারছেন বলে জানান।

তিনি স্বীকার করেন, এজন্য দুই নেত্রীসহ ( শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া) প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে 'বাজে প্রতিক্রিয়া' আসতে পারে।

তবে 'দুঃশাসন আর দুর্নীতির' কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সত্যিকারের পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারছেন বলে জানান তিনি।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপক পরিবর্তন ও দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির ঠিক এক মাসের মাথায় ইউনূস রাজনৈতিক দল খোলার ঘোষণা দিলে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়, সামরিক বাহিনীর মদদেই তিনি নাগরিক শক্তি নামের এ দল খোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৩ মে দল গড়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন ইউনূস।

'জারদাইনের কাছে ইউনূস বলেন, দেশের শক্তিশালী দুই দলের নেতা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার কারণে দেশে রাজনীতিতে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে বহু মানুষের অনুরোধের কারণে তিনি রাজনীতিতে নামার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন,' বলা হয় ওই তার বার্তায়।

'ইউনূসের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে কলকাতা চেম্বারের সভাপতি মনোজ মহাঙ্কা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ইউনূসের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কথা তোলেন।

'এর তাৎক্ষণিক জবাবে ইউনূস বলেন, রাজনীতিতে পা রাখার ঝুঁকি তিনি আঁচ করতে পারছেন। তবে দুঃশাসন আর দুর্নীতির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সত্যিকারের পরিবর্তন আনার দায়িত্বশীল কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে।'

গ্রামীণ ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান ইউনূস বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, এর মাধ্যমে দেশে একটি সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ এড়ানো গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিককে ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মীয় মৌলবাদীদের সমর্থন না করলেও প্রভাবশালী দলগুলো রাজনৈতিক স্বার্থেই তাদের সঙ্গে জোট গড়েছে।

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে মৌলবাদী দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) সঙ্গে আওয়ামী লীগের 'চুক্তি' নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

"এই সমঝোতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নৈতিক ক্ষয় প্রতিফলিত হয়েছে, যা ছিলো অতিরিক্ত কিছু ভোট হাতিয়ে নেওয়ার বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সমীকরণ। এবং এটি ছিল তার (ইউনূস) দল গঠনের পরিকল্পনার একটি কারণ কারণ।"

প্রসঙ্গ: বন্দর

ভোজসভার আলোচনায় আঞ্চলিক বাণিজ্যের স্বার্থে ভারত, মিয়ানমার, ভূটান ও চীনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর উন্মুক্ত করে দেওয়ার পক্ষে মত দেন ইউনূস।

আঞ্চলিক প্রয়োজনীয়তা মেটাতে গ্রামীণ ব্যাংক চট্টগ্রামে একটি নতুন 'মেগা পোর্ট' প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা করছে বলেও জানান ইউনূস।

বিভিন্ন বিষয়ে ড. ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরে তার বার্তার উপসংহারে বলা হয়, "তিনি একজন উচ্চ নৈতিকতা সম্পন্ন এবং সাংগঠননিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ" মানুষ। আর ইউনূসের রাজনীতিতে প্রবেশ হতে পারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথ রূদ্ধ করে রাখা 'হাসিনা-খালেদা চক্র' ভাঙার একটি উপায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

আরেকটি ১৫ ফেব্রুয়ারি চেয়েছিলেন খালেদা

উইকিলিকসে প্রকাশ্য

২০০৭ সালের শুরুর দিনগুলোতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র"য়ারির মতো একটি একতরফা নির্বাচন করে বিরোধী দলহীন স্বল্পমেয়াদী একটি সরকার গঠনের কথা ভেবেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু ২২ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের কোনো প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিসের গোপন তারবার্তা থেকে জানা গেছে এ তথ্য; উইকিলিকস যা প্রকাশ করেছে।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হৈ চৈ ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস গত ৩০ অগাস্ট প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবলের সঙ্গে বিউটেনিসের এ সংক্রান্ত দুটি বার্তাও প্রকাশ করেছে।

২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়জউদ্দিন আহম্মদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে 'ওয়ান ইলেভেন' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই তারিখের মাত্র দুই দিন আগে ৮ ও ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে দুটি বার্তা পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

বিউটেনিস লেখেন, সেনাবাহিনী 'বিশ্বাসভঙ্গ' করে অভ্যুত্থান করতে পারে, কিংবা দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠানো হতে পরে- এমন কোনো আশঙ্কা মনে ঠাঁই দিতে প্রস্তুত ছিলেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ দুটি 'গুজব' উড়িয়ে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাও। বরং তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসন দিলে তার জন্য ভালোই হবে, কেননা তাতে তিনি নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

তখনকার নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিএনপির অনমনীয় অবস্থান; আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ব্যর্থতার মধ্যে ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা এবং ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন বাংলাদেশে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।

উইকিলিকসে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা সামরিক আইন জারি এবং দুই নেত্রীকে দেশত্যাগে বাধ্য করার মতো সম্ভবনাগুলো নিয়ে খালেদা ও হাসিনাকে 'সতর্ক' করে 'রাজনৈতিক সমঝোতার' প্রস্তাব দেন এই দুই কূটনীতিক।

দুই নেত্রীকেই তারা বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একটি অংশের অনুরাধে তারা সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন এবং তাদের দেশ সামরিক অভ্যুত্থানের মতো কোনো অসাংবিধানিক ঘটনায় সমর্থন বা উৎসাহ দেবে না।

বিউটেনিস ও আনোয়ার এও বলেন- কেবল দুই নেত্রীর সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমেই এ রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হতে পারে। তাদের রাজনৈতিক সমঝোতা হলেই দেশজুড়ে সহিংসতা এবং সামরিক অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

'খালেদার প্রস্তাব'

৭ জানুয়ারির একান্ত বৈঠকে কোনো ধরনের সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে খালেদা জিয়া পাল্টা অভিযোগ তোলেন- কথিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যই এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। তবে দুই রাষ্ট্রদূতই এ অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিউটেনিসের পাঠানো বার্তায়।

খালেদা দুই কূটনীতিকের কাছে দাবি করেন, তিনি সব সময়ই আওয়ামী লীগের সঙ্গে বসতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা কখনোই সাড়া দেননি।

"এখন অনেক 'দোরি হয়ে গেছে' উল্লেখ করে খালেদা জিয়া সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এর বদলে খালেদা প্রস্তাব দেন, পুনর্র্নিবাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী ভোটার পরিচয়পত্র প্রবর্তনসহ নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করে ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে তিনি আবারো নির্বাচন দিতে পারেন।"

এর আগে ১৯৯৬ সালেও এভাবে একতরফা নির্বাচন করে সংক্ষিপ্ত মেয়াদের জন্য সরকার গঠন করেছিলেন খালেদা জিয়া। সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ওই বছর ১৫ ফেব্র"য়ারির নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপি অবশ্যম্ভাবীভাবে পুনর্র্নিবাচিত হয়। ওই সরকারের সংক্ষিপ্ত মেয়াদে সংবিধান সংশোধন করে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু করে এবং জুনে আবারো নির্বাচন দেয়, যাতে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ।

উইকিলিকসের প্রকাশিত বার্তায় বিউটেনিস লিখেছেন, ২০০৭ এর ২২ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন হলে অনেকেই যে প্রশ্ন তুলবে- সে বিষয়ে সচেতন ছিলেন খালেদা। তবে তার যুক্তি ছিল, প্রশ্ন উঠলেও তার সেই সম্ভাব্য সরকার হবে সাংবিধানিকভাবে বৈধ।

আলোচনার এক পর্যায়ে বিউটেনিস প্রশ্ন রাখেন, দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার যদি ২২ জানুয়ারির নির্বাচন মেনে না নেয়, সেক্ষেত্রে বিএনপি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে কি-না।

"কিন্তু দেশের মোট ভোটারের ৪০ শতাংশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবে- এমন সম্ভবনা হেসেই উড়িয়ে দেন খালেদা জিয়া। বড় ধরনের গণ আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সামর্থ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।"

দুই কূটনীতিক বিএনপি চেয়ারপার্সনকে জানান, সংবিধান পরিপন্থী যে কোনো ঘটনা এড়াতেই তারা রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। এসব বিষয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেছেন তারা।

নিজের সরকারের কাছে পাঠানো বার্তায় মন্তব্যের অংশে বিউটেনিস লিখেছেন, বিএনপির একতরফা নির্বাচন পরিকল্পনার সমালোচনা করায় খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন তারা। খালেদা জিয়ার ধারণা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের পিঠ এবার সত্যি সত্যি দেওয়ালে ঠেকে গেছে এবং এ অবস্থা থেকে তারা আর ফিরে আসতে পারবে না।

'তার চেয়ে সেনা হস্তক্ষেপ শ্রেয়'

খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার আগের দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে বসে তাকে একই বিষয়ে সতর্ক করে সমঝোতার প্রস্তাব দেন বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী। কিন্তু নির্বাসনে পাঠানোর সম্ভবনার বিষয়টি হেসেই উড়িয়ে দেন হাসিনা। সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা নিয়েও দুই কূটনীতিকের সঙ্গে হালকা মেজাজে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

৮ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে পাঠানো বার্তায় বিউটেনিস লেখেন, "হাসিনা পুরো বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি দেশত্যাগে বাধ্য করার গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি রনিসকতা করে বলেছেন, সেরকম কিছু হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিতেও খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। সরাসরি সেনা হস্তক্ষেপ বা জরুরি অবস্থা জারির সম্ভবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী যদি হস্তক্ষেপ করেই এবং তারা যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেই পারে- তাহলে সেটা ভালোই হবে।"
একবার ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী স্বেচ্ছায় আবার রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে- এমনটা কেন ভাবছেন জানতে চাইলে হাসিনা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, তেমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না বলেই তার বিশ্বাস, কেননা অভ্যুত্থান করার মতো বলিষ্ঠ কোনো নেতা সেনাবাহিনীতে নেই বলে মনে করেন তিনি।

তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে যে সময় প্রয়োজন তার বেশি সেনাবাহিনী ক্ষমতায় থাকতে চাইলে জনগণও তা মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

দুই কূটনীতিককে তিনি বলেন, তেমন কিছু ঘটার পর সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছাড়তে রাজি না হলে 'দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে, রক্তপাত হবে, পুরো রাষ্ট্রই ভেঙে পড়বে'।

২০০৬ সালের শেষ দিকে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলে যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়- সে জন্য বিএনপিকেই দায়ী করে শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিএনপি জানতো যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই জিতবে। এ কারণে তারা যাতে নির্বাচনে অংশ না নিতে পারে- সুপরিকল্পিতভাবে তেমনন পরিস্থিতিই সৃষ্টি করেছে বিএনপি।

রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ আবার বিএনপির হাতে ক্ষমতা তুলে দিতেই ২২ জানুয়ারি নির্বাচন আয়োজন করতে চাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন হাসিনা।

আপাতত একতরফা নির্বাচন হলেও বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের দাবি পূরণ করে এক বছরের মধ্যে আবারো নির্বাচন দিতে পারে- এমন সম্ভবনার কথা তুলে ধরে দুই কূটনীতিক শেখ হাসিনার কাছে জানতে চান- খালেদা জিয়া কোনো সমঝোতার প্রস্তাব দিলে আওয়ামী লীগ তা মানবে কি না।

"জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বরং সামরিক হস্তক্ষেপের মতো বিকল্প নিয়ে ভাবতে রাজি, বিএনপিকে আবারো ক্ষমতায় যেতে দিতে নয়," লিখেছেন বিউটেনিস।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

সেনা সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলো 'তারা'

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ২০০৭ সালে সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামরিক সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলো বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির দিন (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনকে এক তারবার্তায় এ কথাই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশে তৎকালীন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস।

ওইসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দেশে সাংবিধানিকভাবে সেনাবাহিনী নিয়োজিত ছিল বলে বার্তায় জানান বিউটেনিস।

বার্তায় তিনি বলেন, 'জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং অসাংবিধানিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।'

২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে 'ওয়ান ইলেভেন' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই তারিখের মাত্র দুই দিন আগে ৮ ও ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে দুটি বার্তা পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

বিউটেনিস লেখেন, সেনাবাহিনী 'বিশ্বাসভঙ্গ' করে অভ্যুত্থান করতে পারে, কিংবা দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠানো হতে পরে- এমন কোনো আশঙ্কা মনে ঠাঁই দিতে প্রস্তুত ছিলেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ দুটি 'গুজব' উড়িয়ে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাও। বরং তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসন দিলে তার জন্য ভালোই হবে, কেননা তাতে তিনি নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

তখনকার নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিএনপির অনমনীয় অবস্থান; আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ব্যর্থতার মধ্যে ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা এবং ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন বাংলাদেশে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।

তিন গোষ্ঠীর প্রস্তাব

বিউটেনিস তার বার্তায় বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা মার্কিন দূতাবাসসহ অন্যান্য দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করেছেন। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক সমাধান চান; সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী স¤প্রদায়েরও এ ক্ষেত্রে একই মত।

'তাদের মত হলো রাষ্ট্রপতি/প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে (ক) ছয় মাস থেকে দুই বছরের জন্য নির্বাচন পেছানোয় বাধ্য করা; (খ) তার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের পদ ছাড়া এবং (গ) [তত্ত্বাবধায়ক সরকারের] নতুন একজন প্রধান ও সরকার এবং/কিংবা একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা।'

এছাড়া একটি পরামর্শ ছিলো বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানো। একইসঙ্গে এরকম পরামর্শও ছিলো যে দেশে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নব নির্বাচিত বিএনপি সরকার জরুরি অবস্থা জারি করুক; যাতে সামরিক বাহিনীর এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা থাকবে। এমনকি সামরিক শাসন কিংবা অভ্যুত্থানের পরামর্শও ছিলো।

বিউটেনিস তার বার্তায় বলেন, 'আমেরিকার সংকেত ছাড়া [এতে] যুক্ত হতে ইতস্তত বোধ করছে সামরিক বাহিনী।'

তবে বিউটেনিস এবং দূতাবাসের অন্য কর্মীরা রাজনীতিক ও সেনা কর্মকর্তাদের বলেন, তারা সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ভূমিকা সমর্থন করেন না। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, সেনাবাহিনীকে সংবিধানের আওতায় বেসামরিক সরকারের সমর্থনে ও অধীনে কাজ করতে হবে।

জরুরি অবস্থা জারির কয়েকদিন আগে (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস।

তারবার্তায় বিউটেনিস জানান, ওই সাক্ষাতে [রাজনৈতিক ওই পরিস্থিতিতে] সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের [যুক্তরাষ্ট্রের] অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সেনাবাহিনীর দুই শীর্ষকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা ৯ জানুয়ারি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন বলে বার্তায় জানান বিউটেনিস।

তিনি বলেন, দুই সেনা কর্মকর্তাই বলেছেন, ক্ষমতা, সামরিক শাসন বা অভ্যুত্থান বা অন্য কোনো ধরনের অসাংবিধানিক পন্থার প্রতি সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে আগ্রহ নেই। তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ সমর্থনও করবেন না।

'ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর সঙ্গে ৮ জানুয়ারি তার এ ধরনের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মইন উ আহমেদ।'

জরুরি অবস্থা জারি না করার অনুরোধ

ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় বিউটেনিস লেখেন, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জাহাঙ্গীর বলেছেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন তিনি যেন জরুরি অবস্থা জারি না করেন। কেননা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক বাহিনীকে সামরিক বাহিনীর সহায়তা এর মাধ্যমে আরো কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।

জরুরি অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো স্পষ্ট পথও নেই বলে মনে করেন জাহাঙ্গীর।

বিউটেনিস তার বার্তায় লেখেন, [এ] রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করলেও সেনাবাহিনী জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার পরিকল্পনা করছে বলে স্বীকার করেন মইন।

'কেবল নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেই জরুরি অবস্থা হতে পারে বলে মনে করেন মইন। তবে ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এমন হতে পারে বলে তার মনে হয় না। তিনি বরং নির্বাচনোত্তর গণ অসন্তোষ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।'

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অনুরোধে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিউটেনিস- এ তথ্য উল্লেখ করে বার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমাধান হিসেবে একটি সেনা সমর্থিত জাতীয় ঐক্যের সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন।

জবাবে বিউটেনিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ভূমিকার তীব্র বিরোধী এবং এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান শুধু রাজনৈতিকভাবেই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

সেনা হস্তক্ষেপের তথ্যে ক্ষুব্ধ হন খালেদা, উড়িয়ে দেন হাসিনা


মার্কিন তারবার্তার তথ্য
রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দুই নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন—এমন তথ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আর শেখ হাসিনা বিষয়টিকে রসিকতা করে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায় আসার চেয়ে সেনাবাহিনী আসাই বরং ভালো।
২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগের দিন তাঁরা বসেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। উইকিলিকসের ফাঁস করা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তারবার্তায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
দুই কূটনীতিক খালেদাকে জানান, রাজনৈতিক দলগুলো থেকেই কিছু নেতা তাঁদের কাছে গিয়ে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দুই নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তারবার্তায় বলা হয়েছে, বিষয়টি শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান খালেদা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুশীল সমাজকে এ ধরনের গুঞ্জনে উৎসাহ দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেন। উভয় কূটনীতিক এই অভিযোগ স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দেন।
তারবার্তার ওই বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিরোধী দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের পরামর্শ সত্ত্বেও ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন করতে অটল ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে তিনি ক্ষমতায় গেলে নির্বাচনী আইন সংস্কার করে ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁদের কাছে।
তারবার্তায় বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া কূটনীতিকদের কাছে স্বীকার করেন, তাঁর দলের অনেক নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি তাঁদের দলের মধ্যকার ‘বাজে উপাদান’ বলে নাকচ করে দেন।
সামরিক অভ্যুত্থান ও সহিংসতা এড়াতে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে খালেদাকে জানানো হয়। বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন খালেদাকে। কিন্তু নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, কিন্তু আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসতে চায় না।’
খালেদা বলেন, তাঁরা সব সময় চেয়েছেন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক, কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ২২ জানুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী আগের দিন ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। অভ্যুত্থান ও নির্বাসনে পাঠানোর আশঙ্কার তথ্য জানালে শেখ হাসিনাও তা নাকচ করে দেন, তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে পাঠানো হতে পারে, এমন কথা শুনে রসিকতা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানে আমি আমার নাতনিকে দেখতে পাব।’
শেখ হাসিনা দুই কূটনীতিককে বলেন, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে যদি ‘বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যায়’ তা-ও ভালো। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, এখন সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ক্ষমতা কোনো সেনা কর্মকর্তার নেই। তা ছাড়া সেনাবাহিনী এলেও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকলে জনগণ তা মেনে নেবে না। সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছাড়তে না চাইলে সহিংসতা ও রক্তপাত হবে, দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
শেখ হাসিনা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে জানান, বিএনপি নির্বাচনে জেতার জন্য সব পরিকল্পনা করেছে। সেই পরিকল্পনামতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটকে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি চায় না আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক। কারণ, তারা জানে, নির্বাচনে আমরাই জয়ী হব।’
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ উপদেষ্টাদের কথা শুনছেন না, তিনি বিএনপির কথামতো চলছেন। রাষ্ট্রপতি শুধু একটি নির্বাচন করে খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চান। এ অবস্থায় নির্বাচন বর্জন করা ছাড়া মহাজোটের বিকল্প কোনো পথ নেই।
বিএনপির প্রস্তাবমতো ২২ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার পর নির্বাচনী সংস্কার শেষে এক বছরের মধ্যে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা জানানো হলে শেখ হাসিনা তা নাকচ করে দেন। শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় ফিরে আসার চেয়ে তিনি সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতায় বর্তমান সমস্যা সমাধানকে সমর্থন করবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য মহাজোট নির্বাচন বর্জন করেছে—এমন কথা নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রথমে মেনে নেওয়ায় দলের সমর্থকেরা তাঁকে দোষারোপ করেছেন।
এর আগে শেখ হাসিনা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছেও চিঠি লিখেছিলেন। prothom-alo.com

Sunday, August 21, 2011

 ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাত বছর :তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠায় ডিজিএফআই, জানতেন খালেদা

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও গ্রেনেড সরবরাহকারী মাওলানা তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জঙ্গি দমন-সংক্রান্ত ব্যুরো। আর এটা জানতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হরকাতুল জিহাদের (হুজি) জঙ্গিদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু জড়িত ছিলেন—এমন তথ্য ২০০৬ সালের আগস্টেই (বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে) বেরিয়ে আসে। তখন এই তথ্য এবং তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ সম্পর্কে ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জানিয়েছিলেন। সাদিক হাসান রুমী গত বছরের ২০ জুন আদালতে সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে এই ব্যাপারে বিস্তারিত বলেছেন।
২১ আগস্ট মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র, ডিজিএফআইয়ের সাবেক চার কর্মকর্তা ও হুজির শীর্ষনেতাদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দেখা যায়, ডিজিএফআইয়ের জঙ্গিবাদ দমন-সংক্রান্ত গোয়েন্দা শাখা (কাউন্টার টেররিজম ইন্টিলিজেন্ট ব্যুরো—সিটিআইবি) চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত। ডিজিএফআই থেকে নিয়মিত টাকাও পেতেন হুজির শীর্ষনেতারা।
অবশ্য ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন তিন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজাল নাছের ভূঁইয়া (পরে বহিষ্কৃত), মেজর সৈয়দ মনিরুল ইসলাম (পরে বহিষ্কৃত) ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মিজানুর রহমান আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, হুজির নেতা মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা রাজ্জাক, মাওলানা সাব্বির ও মাওলানা মনির সিটিআইবিতে তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে (সোর্স) কাজ করতেন। এ জন্য তাঁদের নিয়মিত টাকা দেওয়া হতো। এ ছাড়া হুজির সাবেক আমির মুফতি শফিকুর রহমান, হাফেজ ইয়াহিয়া, আবু বকর ও কাশ্মীরের জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীনের নেতা আবু ইউসুফ ওরফে মাজেদ বাটও বিভিন্ন সময় ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে তাঁরা স্বীকার করেছেন। এসব জঙ্গিও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযুক্ত আসামি।
হুজির সাবেক আমির মাওলানা আবদুস সালামও আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একযোগে বোমা হামলার পর থেকে তাঁর সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। সালাম দাবি করেন, তাঁরাই ডিজিএফআইকে তথ্য দিয়ে মুফতি হান্নান ও সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলায় জড়িত হুজির জঙ্গি শরিফ শাহেদুল ওরফে বিপুলকে ধরিয়ে দিয়েছেন।
লে. কর্নেল আফজাল, মেজর মনিরুল ও লে. কমান্ডার মিজানের জবানবন্দিতেও একই তথ্য রয়েছে।
লে. কমান্ডার মিজান আদালতকে বলেন, সিলেটের বিপুলকে ধরিয়ে দিতে মাওলানা সালাম পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। এ কাজে পরে সালামকে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে মাওলানা রাজ্জাক পেয়েছেন এক লাখ টাকা। মিজানের দায়িত্ব ছিল লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারের নির্দেশে হুজির নেতাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া।
অধিকতর তদন্ত: বর্তমান সরকারের আমলে অধিকতর তদন্ত শেষে সিআইডি গত ৩ জুলাই ২১ আগস্টের দুই মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। এতে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির সাংসদ শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম, খালেদা জিয়ার ভাগনে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউকসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করা হয়েছে।
যেভাবে তাজউদ্দিনের নাম আসে: অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, তাজউদ্দিন পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার সময় কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা, তেহরিক-ই জিহাদ আল ইসলাম ও হিজবুল মুজাহিদীনের সঙ্গে জড়িত হন।
মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমী, লে. কর্নেল আফজাল, মেজর মনির ও লে. কমান্ডার মিজানের জবানবন্দিতে তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠানোর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এই চারজন এখন ২১ আগস্ট মামলার অন্যতম সাক্ষী। তাঁদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিলেটে বাংলাদেশে তখনকার ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে চাপে পড়ে বিএনপি সরকার। ২০০৬ সালের আগস্টে গ্রেনেড নিক্ষেপকারী বিপুল ও তাঁর সহযোগী মিজানকে সিলেট থেকে আটক করে গোয়েন্দারা। যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশনে (টিএফআই) হাইকমিশনারসহ সিলেটে বিভিন্ন গ্রেনেড হামলার কথা স্বীকার করেন বিপুল। তিনি জানান, মুফতি হান্নান তাঁদের আর্জেস গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাও মুফতি হান্নান পরিচালনা করেছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে তখন রিমান্ডে থাকা মুফতি হান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ২১ আগস্ট হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং বিস্তারিত বিবরণ দেন। মুফতি হান্নান তখন আরও জানান, তাঁকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছেন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন।
এভাবে মাওলানা তাজউদ্দিনের নাম বেরিয়ে আসে। ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তারা জবানবন্দিতে বলেছেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাজউদ্দিনের ব্যাপারে তথ্য পান। তা ছিল: তাজউদ্দিন লস্কর-ই-তাইয়েবার জন্য বাংলাদেশ হয়ে ভারতের কাশ্মীরে অস্ত্র-গোলাবারুদ পাঠানোর কাজে যুক্ত।
ডেকে এনে পাকিস্তানে পাঠানো: মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির পর হুজির মাওলানা সালামের সহায়তায় ২০০৬ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের কোনো একদিন তাজউদ্দিনকে ডেকে আনা হয় গুলশানে ডিজিএফআইয়ের একটি ‘সেফ হাউসে’। পরে লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, লে. কর্নেল আফজাল ও মেজর মনির সেখানে আসেন। তাঁরা একসঙ্গে রাতের খাবার খান। সাইফুল ও আফজাল এরপর তাজউদ্দিন ও সালামের সঙ্গে একান্ত আলোচনা করেন। একপর্যায়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (পরে মেজর জেনারেল) এ টি এম আমিন যোগ দেন তাঁদের সঙ্গে। সালাম ও মিজানদের অন্য কক্ষে পাঠিয়ে আমিন, সাইফুল ও আফজাল দীর্ঘ সময় তাজউদ্দিনের সঙ্গে আলাপ করেন।
ওই দিন থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাজউদ্দিন ডিজিএফআইয়ের গুলশানের ওই ‘অতিথিশালা’তেই ছিলেন।
পরদিন বেলা ১২টায় আবার আমিন, সাইফুল ও আফজাল কয়েক ঘণ্টা তাজউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। তখন তাজউদ্দিন গ্রেনেড সরবরাহ করা থেকে শুরু করে তাঁর ভাই উপমন্ত্রী পিন্টুর বাসায় বৈঠক, হামলাকারীদের নিরাপত্তার জন্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সর্বাত্মক সহায়তাসহ ২১ আগস্ট হামলার সার্বিক বিবরণ দেন।
ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা আফজাল, মনির ও মিজান জবানবন্দিতে বলেছেন, তাজউদ্দিনের এসব তথ্য তখন আমিন ও সাইফুল মুঠোফোনে ঊর্ধ্বতন কাউকে জানান। তারপর তাঁদের বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর এই বিষয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করে তাজউদ্দিনকে দ্রুত পাকিস্তান পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাজউদ্দিনের পাসপোর্ট, টিকিট ও ভিসা জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর মনির ও লে. কমান্ডার মিজানকে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে লে. কর্নেল সাইফুল পাসপোর্ট, পাকিস্তান যাওয়ার ভিসা ও বিমানের টিকিট এনে দেন। তাঁর নির্দেশে মিজান ও মনির মাওলানা তাজউদ্দিনকে করাচিগামী বিমানে তুলে দেন ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর। পাকিস্তানে যাওয়ার পরও তাজউদ্দিন টেলিফোনে কর্নেল সাইফুল ও মেজর মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁকে বলা হয়েছে, ডিজিএফআইকে না জানিয়ে তিনি যেন বাংলাদেশে না আসেন।
তাজউদ্দিনকে গ্রেপ্তার না করে পাকিস্তান পাঠানোর এ তথ্য ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকও জানতেন।
খালেদা কতটা জানতেন: সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়, বাবরের নির্দেশে ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞাতসারে মাওলানা তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, তাঁর (ডিউক) ভায়রা ডিজিএফআইয়ের লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার ও সিটিআইবির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আমিন পরস্পর যোগসাজশে বাদল ছদ্মনামে তাজউদ্দিনের জন্য পাসপোর্ট করান। ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেন তাঁরা।
ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমী আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তৎকালীন সরকারের দুই মন্ত্রীর জড়িত থাকার কথা উল্লেখ থাকায়, আমি তা “টকিং পয়েন্ট” হিসেবে লিখিতভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দিই। এবং আমি নিজেও ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি বলি। তিনি কিছু না বলে টকিং পয়েন্টটি তাঁর কাছেই রেখে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে আমাকে কোনো নির্দেশ দেন নাই।’
সাদিক হাসান রুমী বলেন, পরে তাঁকে এ টি এম আমিন ও সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার এসে বলেন, বাবর ও ডিউক তাঁদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে বলেছেন। তাই তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠানোর সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অধীনস্থ কর্মকর্তাদের এই তথ্য যাচাই করতে জেনারেল রুমী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুরো বিষয় তুলে ধরেন। রুমী বলেন, ‘আমার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী অনেকটা ক্ষুব্ধ ও বিরক্তির সুরে বলেন, “সিআইডি এই মামলার রহস্য ইতিমধ্যে উদ্ঘাটন করে ফেলেছে (জজ মিয়া কাহিনি), আপনি কোথা থেকে এই সব আজগুবি তথ্য নিয়ে এসেছেন? মাওলানা তাজউদ্দিন পাকিস্তান যাবে না কোথায় যাবে, তাতে আপনার মাথাব্যথা কেন?” এই বলে তিনি আমার সাথে আর কোনো কথা বলেন নাই।’
বিএনপির বক্তব্য: ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্রে এভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম আসার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়ানোর পাঁয়তারা এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুরু করেছিল। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত—অনেককে চাপ দিয়ে এ কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলাকালে বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করে এবং একাধিক সমাবেশে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আসামি করার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে রাজসাক্ষী করার প্রলোভন দেখানো হচ্ছিল বলেও তখন আমরা বলেছিলাম।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অধিকতর তদন্তের নামে মূলত খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির নেতাদের ফাঁসানোই ছিল সরকারের লক্ষ্য। যখন কোনো তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারী পেল না, তখন সরকারের চাপে তারেককে আসামি করা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপিকে ধ্বংসের এ ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চালানো হবে।

Monday, August 8, 2011

বাড়ির অধিকার ছাড়লেন শেখ রেহানা


ঢাকা, অগাস্ট ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা ১০ বছর আগে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাড়ির অধিকার ফিরে পাওয়ার আইনী লড়াইয়ে ইতি টেনেছেন।

সোমবার বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমের বেঞ্চে আবেদন করে এ বিষয়ক রিট প্রত্যাহার করেছেন শেখ রেহানা।

মামলার বিষয়বস্তুর কারণে নয়, বরং উৎসর্গ করার মানসিকতা থেকে রেহানা এ রিট আর চালাতে চান না বলে প্রত্যাহার আবেদনে বলা হয়েছে।

আদালত শেখ রেহানার এই মানসিকতাকে উৎসাহিত করে।

সোমবার আদালতে শেখ রেহানার আইনজীবী হিসাবে ছিলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এবং সরকার পক্ষে ছিলেন ওই আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা আশেক মোমেন।

২০০১ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ধানমণ্ডির ৬ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাড়িটি শেখ রেহানার নামে বরাদ্দ করে। রেহানা তা নগদ মূল্যে কিনে নেন। ২০০৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার বাড়িটি সরকারি মালিকানায় নিয়ে সেখানে ধানমণ্ডি থানা স্থাপন করে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শেখ রেহানা ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন করলে আদালত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চায়।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর খালেদাকে তৎকালীন সরকার এরকম সুবিধা দিয়েছিলো।

গুলশানে একশ এক টাকায় দেড় একর আয়তনের একটি বাড়ি 'কেনেন' তিনি।

সেনানিবাসে শহীদ মঈনুল সড়বে এক টাকায় ১৯৮১ সালের ৮ জুলাই আট বিঘা আয়তনের একটি বাড়িও ইজারা দেওয়া হয় খালেদাকে।

গত বছরের ১৩ জুলাই খালেদাকে ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

'জনগণের কল্যাণে অধিকার ত্যাগ'

রিট প্রত্যাহার আবেদনে বলা হয়, শেখ রেহানা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগ ও অবদানের কারণে মেয়ে হিসাবে তিনি গর্বিত।

'বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িসহ পিতার রেখে যাওয়া সব সম্পত্তি দেশের জনগণের সেবায় দান করেছেন। টুঙ্গিপাড়ার বাড়িটিও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।'

শেখ রেহানার ঢাকায় কোনো বাড়ি নেই- এ কথা উল্লেখ করে রিট আবেদনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে সরকার আইন অনুযায়ী তাকে একটি বাড়ি দিতে বাধ্য এবং ইতিপূর্বে তার বাড়ি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটিও ছিলো অবৈধ।"

'কিন্তু বাড়িটি বর্তমানে থানা হিসাবে জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে তিনি তার অধিকার ত্যাগ করতে চান।'

শেখ রেহানাকে বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয় জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইনের আওতায়। চারদলীয় জোট সরকার আইন ও বরাদ্দ বাতিল করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন-২০০৯ পাশ করা হয়। ওই আইনে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাদের সন্তানদের আজীবন এসএসএফ অর্ডিন্যান্স-১৯৮৬ অনুযায়ী ভিআইপি হিসাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া ওই আইন অনুযায়ী সরকার পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত আবাসন ব্যবস্থা করবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটক

Wednesday, July 13, 2011

কুমিল্লার এক সাংসদের বিরুদ্ধে ছয় সাংসদ

কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নালিশ করবেন দলের অপর ছয় সাংসদ ও নেতারা। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় ওই ছয় সাংসদের উপস্থিতিতে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার আসাদগেট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কুমিল্লার ছয় সাংসদ ও স্থানীয় নেতাদের বৈঠক হয়। রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও সদর দক্ষিণের একাংশ) আসনের সাংসদ আ হ ম মুস্তফা কামাল। 
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে সম্প্রতি সাংসদ বাহাউদ্দিনের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈঠকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং এ জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় মুস্তফা কামালকে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাংসদেরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নালিশ করবেন।
বৈঠকে মুস্তফা কামাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সাংসদ মো. মুজিবুল হক, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনের সাংসদ মো. তাজুল ইসলাম, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া ও সদর দক্ষিণের একাংশ) আসনের সাংসদ নাছিমুল আলম চৌধুরী, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সাংসদ আবদুল মতিন খসরু, সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ জোবেদা খাতুন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফজল খান ও সফিকুল ইসলাম শিকদার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আফতাবুল ইসলাম এবং কৃষক লীগ, জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, উপস্থিত ছয় সাংসদসহ অধিকাংশ নেতা সাংসদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৈঠকে সাংসদ মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বাহাউদ্দিন সাহেবের মনোনয়নের জন্য আমি দলীয় সভানেত্রীর কাছে বলেছি। সাংসদ হওয়ার পর তিনি কোনো কিছুই মানছেন না। ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের সময় আমি ওনাকে ফোন করেছিলাম। তিনি আমাদের বাদ দিয়ে আলাদাভাবে নাম জমা দিয়েছেন। সুবিধা করতে না পেরে শেয়ারবাজারের দরপতন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর মনোনয়নের জন্য কাজ করে ভুল করেছি। এ জন্য আপনাদের কাছে মাফ চাইছি।’
বৈঠকে সাংসদ মো. মুজিবুল হক বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এর প্রতিবাদে বাহাউদ্দিন সাহেব আমার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় মাইকিং করিয়েছেন, আমার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তাঁর কর্মীরা হামলা করেছে।’
দলীয় নেতাদের ভাষ্যমতে, বৈঠকে সাংসদ নাছিমুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সাংসদ বাহাউদ্দিনের অনুসারীদের হাতে জেলা যুবলীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক কবির হোসেন ভূঁইয়া, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ভিপি রিপন ও বিশ্বরোড এলাকার দলীয় কর্মী আহমদ আহত হয়েছেন। ওনার কারণে আমাদের কর্মীরা কোনো অফিসে গিয়ে কাজ পাচ্ছেন না। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার।’
সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ জোবেদা খাতুন বলেন, ‘উনি (বাহার) আমাকে এমপি-ই মনে করেন না। ওনার কারণে সদর এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান করতে পারি না।’
সাবেক আইনমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগের কমিটি হওয়ার আগে আমি জানতাম না, কে সভাপতি কে সাধারণ সম্পাদক হচ্ছে। নাম জমা দেওয়ার পর শুনি ওমুকের নাম।’
বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফজল খান বলেন, ‘আমার পুতেরে (পুত্র) যখন বাহারের লোকজন মারছে, আপনারা তামাশা দেখছিলেন। ফোন করে মুজিব ও কামাল সাহেবকে পাইনি। ওনারা রিং দিলেও আমার ফোন ধরেননি। এখন সুযোগ এসেছে, সেটাকে কাজে লাগাতে হবে।’
বৈঠকের বিষয়ে জানতে গতকাল রাতে সাংসদ মুস্তফা কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। সাংসদ মুজিবুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৈঠকের ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এ ছাড়া সাংসদ নাছিমুল হকও ফোন ধরেননি। 
সাংসদ আবদুল মতিন খসরুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।
জোবেদা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৈঠকে কুমিল্লাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা ও স্থানীয় সাংসদের ব্যাপারে কিছু আলোচনা হয়েছে। এসব নিয়েই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম শিকদার বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ নিয়ে আমরা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ বাহাউদ্দিন গতকাল দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে আমাকে থামানোর জন্য ওরা একের পর এক ষড়যন্ত্র করে আসছে। আমাকে থামানোর জন্য চক্রান্ত না করে সাংগঠনিক কাজে সময় ব্যয় করলে দলীয় কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হতো।’
সাংসদ বাহাউদ্দিন আরও বলেন, ‘অছাত্র, বিবাহিত, মাদক ব্যবসায়ী ও মুদিদোকানদারদের দিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি হতে পারে না। এর প্রতিবাদ করা কোনোভাবেই অন্যায় নয়।’

ভিন্ন ধারার মার্কিন কূটনীতিক ক্রিস্টি কেনি

একজন সেনা প্রশিক্ষকের সহায়তায় থাই সামরিক হেলিকপ্টার থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে নামছেন ক্রিস্টি কেন
একজন সেনা প্রশিক্ষকের সহায়তায় থাই সামরিক হেলিকপ্টার থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে নামছেন ক্রিস্টি কেনি
এএফপি
কখন গলা ব্যথা করছে, কখন খেতে ইচ্ছা করছে লাচ্ছি, কখন ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ে ত্যক্তবিরক্ত—নিজের এসব ব্যক্তিগত খবর ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানছে তাঁর কথা। অথচ একজন কূটনীতিক সাধারণত এভাবে নিজেকে প্রকাশ করেন না। 
তিনি থাইল্যান্ডে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টি কেনি। কূটনীতিকেরা সাধারণত যে কেতাদুরস্ত ভাব নিয়ে রাখঢাকের ভেতর থাকেন, ক্রিস্টি তেমন নন। ৫৬ বছর বয়সী এই নারী কূটনীতিক বলেছেন, ‘কূটনীতি হচ্ছে সম্পর্কের উন্নয়ন। অবশ্য তা দুটি দেশের মধ্যে। এ ছাড়া দুই দেশের মানুষের মধ্যেও হূদ্যতা বাড়াবেন তাঁরা।’
কেনির প্রতিদিনের কাজের ব্যাপারে টুইটারের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার লোক খোঁজখবর রাখে। কেনি বলেন, ‘সাধারণ লোকজনের সঙ্গে এভাবেই আমার চেনাজানা হয়। এর মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে, একজন কূটনীতিককেও কাছে পাওয়া যায়। তারা বুঝতে পারে, একজন কূটনীতিক একটি বড় ভবনের মধ্যে আটকে থাকা কোনো ব্যক্তি নন।’ 
গত বছর আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস প্রকাশিত গোপন তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংককে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক জন এক তারবার্তায় থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। গত জানুয়ারিতে কেনিকে থাই রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্যাংককে পাঠায় ওয়াশিংটন। 
থাইল্যান্ডের মানুষের কাছাকাছি যেতে কেনি সে দেশের ভাষা শিখেছেন। থাই ভাষায় দারুণ পারদর্শিতার জন্য এক মাস আগে তাঁকে পুরস্কার দিয়েছে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, কেনি ইন্টারনেটের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি যেতে সে দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিও রপ্ত করছেন। কূটনীতির ক্ষেত্রে কেনির এই সামাজিক কর্মকাণ্ড ও যোগাযোগ কোনো উপকারে আসবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। এএফপি।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More