Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label উইকিলিকসের তথ্য. Show all posts
Showing posts with label উইকিলিকসের তথ্য. Show all posts

Wednesday, October 5, 2011

 শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে রাজি করাতে ইয়াজউদ্দিনের ‘প্রস্তাব’

আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর

শেখ হাসিনা নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে সম্মত হলে ২০০১ সালের ভোটার তালিকা এবং ২০০৬ সালের সম্পূরক তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিল ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমান চৌধুরী মার্কিন দূতাবাসকে এ কথা বলেছিলেন। তবে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন তারবার্তায় এ কথা বলা হয়েছে।
২০০৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তা গীতা পাসি উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমান তাঁদের বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয় সংগঠনের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণে শেখ হাসিনার লিখিত অঙ্গীকার চাওয়া হয়। তাতে রাজি হলে এবং আর কোনো দাবি না তোলা হলে বিনিময়ে ২০০১ সালের ভোটার তালিকা এবং ২০০৬ সালের সম্পূরক ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের কথা বলা হয়। এতে ওই ভোটার তালিকা নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত হালনাগাদের সুবিধা রাখার কথা বলা হয়। কথিত প্রস্তাবে আরও বলা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় তিন দিন পেছানো হবে। বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার স ম জাকারিয়াকে ছুটিতে পাঠানো হবে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই ধরনের কোনো সমঝোতা-প্রস্তাব পাওয়ার কথা দূতাবাসের কাছে অস্বীকার করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরী। তাঁরা বলেন, এ ধরনের গুঞ্জন তাঁরাও শুনেছেন। জাফরুল্লাহ বলেন, নির্বাচনের তফসিল বাতিল করা হলেই কেবল শেখ হাসিনা কোনো ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি আছেন।
এর কয়েক দিন আগে ১৩ ডিসেম্বর পাঠানো মার্কিন দূতাবাসের আরেকটি তারবার্তায় বলা হয়, রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস সেদিনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে ২৫ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজকে ছুটিতে পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে অন্য আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছেন। তবে নির্বাচন কমিশনার স ম জাকারিয়ার ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার সম্মতি ছাড়া তাঁর ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপে তিনি রাজি নন। তিনি রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করে বলেন, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘বেসামরিক কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে’ তখন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

 উইকির ফাঁস করা মার্কিন নথি: সত্যতা নিয়ে বিভ্রান্ত রাজনীতিকেরা

উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন নথিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এর বেশির ভাগই এ দেশের রাজনৈতিক জগতের। আছে ক্ষমতার অন্দরমহলেরও গোপন খবর। তবে এসব খবরের সত্যতা নিয়ে রাজনীতিকেরা নিজেরাই বিভ্রান্ত। তাঁরা কিছুটা মানতে চান। আবার পছন্দ না হলে এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করেন।
দেশের দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এসব তথ্য বিশ্বাস করতে চান না। অন্য দলের রাজনীতিকেরা অবশ্য বলছেন, উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোপন নথির অনেক তথ্যই সঠিক এবং এর মাধ্যমে এ দেশের বড় দুই দলের রাজনৈতিক দলের দেউলিয়াত্ব প্রমাণিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উইকিলিকস যেসব গোপন বার্তা ফাঁস করছে, তা কতটা সত্য সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। যে ব্যক্তিটি বার্তা পাঠিয়েছেন, তিনিও কতটা সত্য বলেছেন, সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট নেতারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘তবে এর মধ্যে কিছুটা সত্য যে আছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, এসব তথ্য এখনই কেন ফাঁস হচ্ছে। ভারত এত বড় দেশ, তাদের কোনো তথ্যই আসছে না। সবই বাংলাদেশকেন্দ্রিক এবং মূলত দুটি দলকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’
প্রকাশিত তথ্য সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক নেতা ভালো ইংরেজি জানেন না। তাঁরা যখন বিদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশিদের কাছে তাঁদের বক্তব্যের অর্থ ভিন্ন রকম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্য জাতীয় নেতাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ফাঁস হওয়া তথ্য আমাদের জাতীয় রাজনীতির মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। আশা করা যায়, এখন থেকে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমাদের নেতারা আরও সতর্ক হবেন।’ জাতি ও রাজনীতিকদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্য নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান মনে করেন, ‘উইকিলিকসের তথ্য রাজনীতিতে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কারণ তাদের তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বাসযোগ্য বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না।’ দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, উইকিলিকসে ফাঁস করা তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব নিয়ে হইচই করে দেশ মাতানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
জাসদের সভাপতি ও সাংসদ হাসানুল হক ইনুর মতে, উইকিলিকস নতুন কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বড় দলের বড় নেতারা যে বিদেশের কাছে আত্মসমর্পণমুখী এবং ক্ষমতালিপ্সু, তা আমরা আগে থেকেই জানি। আমাদের নেতা এবং তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করেন, সেটাও আমাদের অজানা নয়। রাষ্ট্রের জনগণও তা জানে। উইকিলিকসের সাফল্য হলো, তারা নতুন করে বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করেছে। সুতরাং বিষয়গুলো দেশের জাতীয় রাজনীতিতে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। সংসদে আলোচনা করেও কোনো লাভ হবে না।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘ফাঁস হওয়া মার্কিন গোপন তথ্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির দেওলিয়াত্ব বেরিয়ে এসেছে। দল দুটি আমাদের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এটা প্রমাণিত যে তারা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অশুভ।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই-একজন নেতা ছাড়া আর কেউই এখন পর্যন্ত উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্য সম্পর্কে আপত্তি জানাননি। এতে প্রমাণিত হয়, ফাঁস হওয়া তথ্য সত্য। তবে আশপাশের দেশ থাকা সত্ত্বেও উইকিলিকস কেন শুধু বাংলাদেশের তথ্য ফাঁস করে যাচ্ছে, এর পেছনে তাদের কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা বিচার-বিশ্লেষণের জন্য এ নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।

Tuesday, September 20, 2011

মার্কিন দূতাবাসকে কারা মহাপরিদর্শক: ভিআইপি বন্দীদের নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়া ভিআইপি বন্দীদের নিয়ে ‘কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি’ হয়েছিলেন তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসান। বিশেষ করে, সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে। কারা মহাপরিদর্শক মার্কিন দূতাবাসকে এ কথা জানিয়েছিলেন।
২০০৭ সালের শেষ দিকে ঢাকায় নিযুক্ত একজন মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে জাকির হাসান এ কথা বলেন। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন তারবার্তায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
তারবার্তায় বলা হয়, কারা মহাপরিদর্শক জাকির হাসান বলেন, দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়, যা তাঁকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। তিনি জানান, দুই নেত্রীকে দেখতে তিনি সাব-জেলে গিয়েছিলেন। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয় যে, দুই নেত্রী কারাগারে থাকতে কখনোই ভালো বোধ করবেন না। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করে।
তারবার্তায় বলা হয়, শেখ হাসিনার একজন আইনজীবী দাবি করেন, জেল কোড অনুযায়ী তিনি (শেখ হাসিনা) মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কারা মহাপরিদর্শক জানান, তিনি আইনজীবীর এমন দাবি নাকচ করে দেন। হাসিনার ওই আইনজীবীর যুক্তি, জেল কোড অনুযায়ী বন্দীরা ‘মৌখিকভাবে যোগাযোগ’ করতে পারে। এ যুক্তিতে শেখ হাসিনা মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারেন। জাকির হাসান ওই যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, ‘মৌখিক যোগাযোগ’ বলতে সামনাসামনি কথা বলাকে বোঝানো হয়েছে, ফোনের মাধ্যমে নয়। কোনো বন্দীরই ফোন ব্যবহারের নিয়ম নেই।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, মানবাধিকারকর্মী সিগমা হুদা কারারক্ষীদের ঘুষ দিয়ে ফোন ব্যবহার করেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিলেন। পরে তাঁর নির্দেশে ওই ফোন এবং সংশ্লিষ্ট কারারক্ষীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। কারাগারে সিগমা হুদার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ না দেওয়ার কথা অস্বীকার করে জাকির হাসান বলেন, তাঁর (সিগমা) প্রতি কারা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজর ছিল। সিগমা হুদা তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথা বলেছেন, চিকিৎসার জন্য সুযোগ-সুবিধাও পেয়েছেন।
তারবার্তায় বলা হয়, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কাজ করতে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন কারা মহাপরিদর্শক জাকির হাসান। তিনি জানান, বিগত জোট সরকারের আমলে তিনি কোনো কাজের জন্য সরাসরি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন, কিন্তু এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের অধীনে। কারা মহাপরিদর্শক হলেও খুব সহজে তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। এর ফলে আগে কোনো কাজ কয়েক দিনে করতে পারলেও এখন একই কাজের জন্য কয়েক সপ্তাহের প্রয়োজন হয়।
তারবার্তায় বলা হয়, ব্রিগেডিয়ার জাকির হাসান জানান, ওই সময়ে সারা দেশের কারাগারের ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। তিনি আরও জানান, ২০০৫ সালে কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন সংস্কার করেন তিনি। কারাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিষয়টি জানতে পেরে কারাগারের মধ্যে তিনি গোয়েন্দা সার্ভিস গঠন করেন। এ সার্ভিসের মাধ্যমে কারাগারের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হতো।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, কারাগারে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের জন্য একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। কয়েকজন সাংসদ ওই সিন্ডিকেটে জড়িত ছিলেন। জানা গেছে, সিন্ডিকেট ভাঙায় ক্ষুব্ধ সাংসদেরা কারা মহাপরিদর্শক পদ থেকে জাকির হাসানকে সরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন। কারাগারে ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হওয়ায় কারারক্ষী ও কর্মকর্তাদের অনেকে ক্ষুব্ধ ছিলেন। কারা মহাপরিদর্শককে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁরাও তৎপর ছিলেন।

Monday, September 5, 2011

'হাসিনা-খালেদা চক্র ভাঙার পথ ইউনূস'

উইকিলিকসের তথ্য

- মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনীতিতে প্রবেশকে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার ক্ষমতা বলয় ভাঙার উপায় হিসেবে দেখেছিলো যুক্তরাষ্ট্র। উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি কূটনৈতিক তার বার্তায় বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য।

ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক হিন্দুতে প্রকাশিত ওই বার্তা থেকে জানা গেছে, রাজনীতিতে প্রবেশের সময় ইউনূস ধারণা করেছিলেন যে, তিনি দুই নেত্রীর বাজে প্রতিক্রিয়ার শিকার হতে পারেন।

২০০৭ সালের ১৩ ফেব্র"য়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কলকাতা কনস্যুলেট থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক গোপন বার্তায় এ সব কথা বলেন কনস্যুলার জেনারেল হেনরি জারদাইন।

এর মাত্র দুদিন আগে জরুরি অবস্থার মধ্যে শান্তিতে নোবেল জয়ী ইউনূস রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন।

'নাগরিক শক্তি' নামের রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি কলকাতা সফরে যান। ১১-১২ ফেব্র"য়ারি কলকাতা চেম্বার অব কমার্সের (সিসিসি) ১৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন গ্রামীণ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সফরে কলকাতা চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে জারদাইন ও ইউনূসের মধ্যে আলোচনার খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে এই তার বার্তায়।

এতে বলা হয়, ওই ভোজসভায় ইউনূসের রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান হেনরি জারদাইন। জবাবে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইউনূস ঝুঁকি আঁচ করতে পারছেন বলে জানান।

তিনি স্বীকার করেন, এজন্য দুই নেত্রীসহ ( শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া) প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে 'বাজে প্রতিক্রিয়া' আসতে পারে।

তবে 'দুঃশাসন আর দুর্নীতির' কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সত্যিকারের পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারছেন বলে জানান তিনি।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপক পরিবর্তন ও দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির ঠিক এক মাসের মাথায় ইউনূস রাজনৈতিক দল খোলার ঘোষণা দিলে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়, সামরিক বাহিনীর মদদেই তিনি নাগরিক শক্তি নামের এ দল খোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৩ মে দল গড়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন ইউনূস।

'জারদাইনের কাছে ইউনূস বলেন, দেশের শক্তিশালী দুই দলের নেতা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার কারণে দেশে রাজনীতিতে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে বহু মানুষের অনুরোধের কারণে তিনি রাজনীতিতে নামার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন,' বলা হয় ওই তার বার্তায়।

'ইউনূসের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে কলকাতা চেম্বারের সভাপতি মনোজ মহাঙ্কা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ইউনূসের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কথা তোলেন।

'এর তাৎক্ষণিক জবাবে ইউনূস বলেন, রাজনীতিতে পা রাখার ঝুঁকি তিনি আঁচ করতে পারছেন। তবে দুঃশাসন আর দুর্নীতির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সত্যিকারের পরিবর্তন আনার দায়িত্বশীল কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে।'

গ্রামীণ ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান ইউনূস বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, এর মাধ্যমে দেশে একটি সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ এড়ানো গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিককে ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মীয় মৌলবাদীদের সমর্থন না করলেও প্রভাবশালী দলগুলো রাজনৈতিক স্বার্থেই তাদের সঙ্গে জোট গড়েছে।

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে মৌলবাদী দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) সঙ্গে আওয়ামী লীগের 'চুক্তি' নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

"এই সমঝোতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নৈতিক ক্ষয় প্রতিফলিত হয়েছে, যা ছিলো অতিরিক্ত কিছু ভোট হাতিয়ে নেওয়ার বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সমীকরণ। এবং এটি ছিল তার (ইউনূস) দল গঠনের পরিকল্পনার একটি কারণ কারণ।"

প্রসঙ্গ: বন্দর

ভোজসভার আলোচনায় আঞ্চলিক বাণিজ্যের স্বার্থে ভারত, মিয়ানমার, ভূটান ও চীনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর উন্মুক্ত করে দেওয়ার পক্ষে মত দেন ইউনূস।

আঞ্চলিক প্রয়োজনীয়তা মেটাতে গ্রামীণ ব্যাংক চট্টগ্রামে একটি নতুন 'মেগা পোর্ট' প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা করছে বলেও জানান ইউনূস।

বিভিন্ন বিষয়ে ড. ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরে তার বার্তার উপসংহারে বলা হয়, "তিনি একজন উচ্চ নৈতিকতা সম্পন্ন এবং সাংগঠননিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ" মানুষ। আর ইউনূসের রাজনীতিতে প্রবেশ হতে পারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথ রূদ্ধ করে রাখা 'হাসিনা-খালেদা চক্র' ভাঙার একটি উপায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

আরেকটি ১৫ ফেব্রুয়ারি চেয়েছিলেন খালেদা

উইকিলিকসে প্রকাশ্য

২০০৭ সালের শুরুর দিনগুলোতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র"য়ারির মতো একটি একতরফা নির্বাচন করে বিরোধী দলহীন স্বল্পমেয়াদী একটি সরকার গঠনের কথা ভেবেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু ২২ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের কোনো প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিসের গোপন তারবার্তা থেকে জানা গেছে এ তথ্য; উইকিলিকস যা প্রকাশ করেছে।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হৈ চৈ ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস গত ৩০ অগাস্ট প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবলের সঙ্গে বিউটেনিসের এ সংক্রান্ত দুটি বার্তাও প্রকাশ করেছে।

২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়জউদ্দিন আহম্মদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে 'ওয়ান ইলেভেন' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই তারিখের মাত্র দুই দিন আগে ৮ ও ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে দুটি বার্তা পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

বিউটেনিস লেখেন, সেনাবাহিনী 'বিশ্বাসভঙ্গ' করে অভ্যুত্থান করতে পারে, কিংবা দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠানো হতে পরে- এমন কোনো আশঙ্কা মনে ঠাঁই দিতে প্রস্তুত ছিলেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ দুটি 'গুজব' উড়িয়ে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাও। বরং তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসন দিলে তার জন্য ভালোই হবে, কেননা তাতে তিনি নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

তখনকার নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিএনপির অনমনীয় অবস্থান; আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ব্যর্থতার মধ্যে ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা এবং ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন বাংলাদেশে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।

উইকিলিকসে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা সামরিক আইন জারি এবং দুই নেত্রীকে দেশত্যাগে বাধ্য করার মতো সম্ভবনাগুলো নিয়ে খালেদা ও হাসিনাকে 'সতর্ক' করে 'রাজনৈতিক সমঝোতার' প্রস্তাব দেন এই দুই কূটনীতিক।

দুই নেত্রীকেই তারা বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একটি অংশের অনুরাধে তারা সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন এবং তাদের দেশ সামরিক অভ্যুত্থানের মতো কোনো অসাংবিধানিক ঘটনায় সমর্থন বা উৎসাহ দেবে না।

বিউটেনিস ও আনোয়ার এও বলেন- কেবল দুই নেত্রীর সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমেই এ রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হতে পারে। তাদের রাজনৈতিক সমঝোতা হলেই দেশজুড়ে সহিংসতা এবং সামরিক অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

'খালেদার প্রস্তাব'

৭ জানুয়ারির একান্ত বৈঠকে কোনো ধরনের সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে খালেদা জিয়া পাল্টা অভিযোগ তোলেন- কথিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যই এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। তবে দুই রাষ্ট্রদূতই এ অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিউটেনিসের পাঠানো বার্তায়।

খালেদা দুই কূটনীতিকের কাছে দাবি করেন, তিনি সব সময়ই আওয়ামী লীগের সঙ্গে বসতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা কখনোই সাড়া দেননি।

"এখন অনেক 'দোরি হয়ে গেছে' উল্লেখ করে খালেদা জিয়া সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এর বদলে খালেদা প্রস্তাব দেন, পুনর্র্নিবাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী ভোটার পরিচয়পত্র প্রবর্তনসহ নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করে ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে তিনি আবারো নির্বাচন দিতে পারেন।"

এর আগে ১৯৯৬ সালেও এভাবে একতরফা নির্বাচন করে সংক্ষিপ্ত মেয়াদের জন্য সরকার গঠন করেছিলেন খালেদা জিয়া। সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ওই বছর ১৫ ফেব্র"য়ারির নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপি অবশ্যম্ভাবীভাবে পুনর্র্নিবাচিত হয়। ওই সরকারের সংক্ষিপ্ত মেয়াদে সংবিধান সংশোধন করে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু করে এবং জুনে আবারো নির্বাচন দেয়, যাতে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ।

উইকিলিকসের প্রকাশিত বার্তায় বিউটেনিস লিখেছেন, ২০০৭ এর ২২ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন হলে অনেকেই যে প্রশ্ন তুলবে- সে বিষয়ে সচেতন ছিলেন খালেদা। তবে তার যুক্তি ছিল, প্রশ্ন উঠলেও তার সেই সম্ভাব্য সরকার হবে সাংবিধানিকভাবে বৈধ।

আলোচনার এক পর্যায়ে বিউটেনিস প্রশ্ন রাখেন, দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার যদি ২২ জানুয়ারির নির্বাচন মেনে না নেয়, সেক্ষেত্রে বিএনপি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে কি-না।

"কিন্তু দেশের মোট ভোটারের ৪০ শতাংশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবে- এমন সম্ভবনা হেসেই উড়িয়ে দেন খালেদা জিয়া। বড় ধরনের গণ আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সামর্থ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।"

দুই কূটনীতিক বিএনপি চেয়ারপার্সনকে জানান, সংবিধান পরিপন্থী যে কোনো ঘটনা এড়াতেই তারা রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। এসব বিষয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেছেন তারা।

নিজের সরকারের কাছে পাঠানো বার্তায় মন্তব্যের অংশে বিউটেনিস লিখেছেন, বিএনপির একতরফা নির্বাচন পরিকল্পনার সমালোচনা করায় খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন তারা। খালেদা জিয়ার ধারণা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের পিঠ এবার সত্যি সত্যি দেওয়ালে ঠেকে গেছে এবং এ অবস্থা থেকে তারা আর ফিরে আসতে পারবে না।

'তার চেয়ে সেনা হস্তক্ষেপ শ্রেয়'

খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার আগের দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে বসে তাকে একই বিষয়ে সতর্ক করে সমঝোতার প্রস্তাব দেন বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী। কিন্তু নির্বাসনে পাঠানোর সম্ভবনার বিষয়টি হেসেই উড়িয়ে দেন হাসিনা। সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা নিয়েও দুই কূটনীতিকের সঙ্গে হালকা মেজাজে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

৮ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে পাঠানো বার্তায় বিউটেনিস লেখেন, "হাসিনা পুরো বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি দেশত্যাগে বাধ্য করার গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি রনিসকতা করে বলেছেন, সেরকম কিছু হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিতেও খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। সরাসরি সেনা হস্তক্ষেপ বা জরুরি অবস্থা জারির সম্ভবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী যদি হস্তক্ষেপ করেই এবং তারা যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেই পারে- তাহলে সেটা ভালোই হবে।"
একবার ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী স্বেচ্ছায় আবার রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে- এমনটা কেন ভাবছেন জানতে চাইলে হাসিনা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, তেমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না বলেই তার বিশ্বাস, কেননা অভ্যুত্থান করার মতো বলিষ্ঠ কোনো নেতা সেনাবাহিনীতে নেই বলে মনে করেন তিনি।

তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে যে সময় প্রয়োজন তার বেশি সেনাবাহিনী ক্ষমতায় থাকতে চাইলে জনগণও তা মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

দুই কূটনীতিককে তিনি বলেন, তেমন কিছু ঘটার পর সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছাড়তে রাজি না হলে 'দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে, রক্তপাত হবে, পুরো রাষ্ট্রই ভেঙে পড়বে'।

২০০৬ সালের শেষ দিকে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলে যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়- সে জন্য বিএনপিকেই দায়ী করে শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিএনপি জানতো যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই জিতবে। এ কারণে তারা যাতে নির্বাচনে অংশ না নিতে পারে- সুপরিকল্পিতভাবে তেমনন পরিস্থিতিই সৃষ্টি করেছে বিএনপি।

রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ আবার বিএনপির হাতে ক্ষমতা তুলে দিতেই ২২ জানুয়ারি নির্বাচন আয়োজন করতে চাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন হাসিনা।

আপাতত একতরফা নির্বাচন হলেও বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের দাবি পূরণ করে এক বছরের মধ্যে আবারো নির্বাচন দিতে পারে- এমন সম্ভবনার কথা তুলে ধরে দুই কূটনীতিক শেখ হাসিনার কাছে জানতে চান- খালেদা জিয়া কোনো সমঝোতার প্রস্তাব দিলে আওয়ামী লীগ তা মানবে কি না।

"জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বরং সামরিক হস্তক্ষেপের মতো বিকল্প নিয়ে ভাবতে রাজি, বিএনপিকে আবারো ক্ষমতায় যেতে দিতে নয়," লিখেছেন বিউটেনিস।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

সেনা সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলো 'তারা'

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ২০০৭ সালে সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামরিক সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলো বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির দিন (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনকে এক তারবার্তায় এ কথাই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশে তৎকালীন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস।

ওইসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দেশে সাংবিধানিকভাবে সেনাবাহিনী নিয়োজিত ছিল বলে বার্তায় জানান বিউটেনিস।

বার্তায় তিনি বলেন, 'জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং অসাংবিধানিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।'

২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে 'ওয়ান ইলেভেন' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই তারিখের মাত্র দুই দিন আগে ৮ ও ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে দুটি বার্তা পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

বিউটেনিস লেখেন, সেনাবাহিনী 'বিশ্বাসভঙ্গ' করে অভ্যুত্থান করতে পারে, কিংবা দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠানো হতে পরে- এমন কোনো আশঙ্কা মনে ঠাঁই দিতে প্রস্তুত ছিলেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ দুটি 'গুজব' উড়িয়ে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাও। বরং তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসন দিলে তার জন্য ভালোই হবে, কেননা তাতে তিনি নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

তখনকার নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিএনপির অনমনীয় অবস্থান; আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ব্যর্থতার মধ্যে ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা এবং ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন বাংলাদেশে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।

তিন গোষ্ঠীর প্রস্তাব

বিউটেনিস তার বার্তায় বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা মার্কিন দূতাবাসসহ অন্যান্য দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করেছেন। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক সমাধান চান; সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী স¤প্রদায়েরও এ ক্ষেত্রে একই মত।

'তাদের মত হলো রাষ্ট্রপতি/প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে (ক) ছয় মাস থেকে দুই বছরের জন্য নির্বাচন পেছানোয় বাধ্য করা; (খ) তার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের পদ ছাড়া এবং (গ) [তত্ত্বাবধায়ক সরকারের] নতুন একজন প্রধান ও সরকার এবং/কিংবা একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা।'

এছাড়া একটি পরামর্শ ছিলো বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানো। একইসঙ্গে এরকম পরামর্শও ছিলো যে দেশে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নব নির্বাচিত বিএনপি সরকার জরুরি অবস্থা জারি করুক; যাতে সামরিক বাহিনীর এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা থাকবে। এমনকি সামরিক শাসন কিংবা অভ্যুত্থানের পরামর্শও ছিলো।

বিউটেনিস তার বার্তায় বলেন, 'আমেরিকার সংকেত ছাড়া [এতে] যুক্ত হতে ইতস্তত বোধ করছে সামরিক বাহিনী।'

তবে বিউটেনিস এবং দূতাবাসের অন্য কর্মীরা রাজনীতিক ও সেনা কর্মকর্তাদের বলেন, তারা সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ভূমিকা সমর্থন করেন না। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, সেনাবাহিনীকে সংবিধানের আওতায় বেসামরিক সরকারের সমর্থনে ও অধীনে কাজ করতে হবে।

জরুরি অবস্থা জারির কয়েকদিন আগে (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস।

তারবার্তায় বিউটেনিস জানান, ওই সাক্ষাতে [রাজনৈতিক ওই পরিস্থিতিতে] সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের [যুক্তরাষ্ট্রের] অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সেনাবাহিনীর দুই শীর্ষকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা ৯ জানুয়ারি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন বলে বার্তায় জানান বিউটেনিস।

তিনি বলেন, দুই সেনা কর্মকর্তাই বলেছেন, ক্ষমতা, সামরিক শাসন বা অভ্যুত্থান বা অন্য কোনো ধরনের অসাংবিধানিক পন্থার প্রতি সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে আগ্রহ নেই। তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ সমর্থনও করবেন না।

'ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর সঙ্গে ৮ জানুয়ারি তার এ ধরনের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মইন উ আহমেদ।'

জরুরি অবস্থা জারি না করার অনুরোধ

ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় বিউটেনিস লেখেন, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জাহাঙ্গীর বলেছেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন তিনি যেন জরুরি অবস্থা জারি না করেন। কেননা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক বাহিনীকে সামরিক বাহিনীর সহায়তা এর মাধ্যমে আরো কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।

জরুরি অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো স্পষ্ট পথও নেই বলে মনে করেন জাহাঙ্গীর।

বিউটেনিস তার বার্তায় লেখেন, [এ] রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করলেও সেনাবাহিনী জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার পরিকল্পনা করছে বলে স্বীকার করেন মইন।

'কেবল নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেই জরুরি অবস্থা হতে পারে বলে মনে করেন মইন। তবে ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এমন হতে পারে বলে তার মনে হয় না। তিনি বরং নির্বাচনোত্তর গণ অসন্তোষ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।'

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অনুরোধে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিউটেনিস- এ তথ্য উল্লেখ করে বার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমাধান হিসেবে একটি সেনা সমর্থিত জাতীয় ঐক্যের সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন।

জবাবে বিউটেনিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ভূমিকার তীব্র বিরোধী এবং এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান শুধু রাজনৈতিকভাবেই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

সেনা হস্তক্ষেপের তথ্যে ক্ষুব্ধ হন খালেদা, উড়িয়ে দেন হাসিনা


মার্কিন তারবার্তার তথ্য
রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দুই নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন—এমন তথ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আর শেখ হাসিনা বিষয়টিকে রসিকতা করে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায় আসার চেয়ে সেনাবাহিনী আসাই বরং ভালো।
২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগের দিন তাঁরা বসেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। উইকিলিকসের ফাঁস করা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তারবার্তায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
দুই কূটনীতিক খালেদাকে জানান, রাজনৈতিক দলগুলো থেকেই কিছু নেতা তাঁদের কাছে গিয়ে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দুই নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তারবার্তায় বলা হয়েছে, বিষয়টি শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান খালেদা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুশীল সমাজকে এ ধরনের গুঞ্জনে উৎসাহ দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেন। উভয় কূটনীতিক এই অভিযোগ স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দেন।
তারবার্তার ওই বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিরোধী দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের পরামর্শ সত্ত্বেও ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন করতে অটল ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে তিনি ক্ষমতায় গেলে নির্বাচনী আইন সংস্কার করে ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁদের কাছে।
তারবার্তায় বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া কূটনীতিকদের কাছে স্বীকার করেন, তাঁর দলের অনেক নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি তাঁদের দলের মধ্যকার ‘বাজে উপাদান’ বলে নাকচ করে দেন।
সামরিক অভ্যুত্থান ও সহিংসতা এড়াতে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে খালেদাকে জানানো হয়। বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন খালেদাকে। কিন্তু নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, কিন্তু আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসতে চায় না।’
খালেদা বলেন, তাঁরা সব সময় চেয়েছেন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক, কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ২২ জানুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী আগের দিন ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। অভ্যুত্থান ও নির্বাসনে পাঠানোর আশঙ্কার তথ্য জানালে শেখ হাসিনাও তা নাকচ করে দেন, তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে পাঠানো হতে পারে, এমন কথা শুনে রসিকতা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানে আমি আমার নাতনিকে দেখতে পাব।’
শেখ হাসিনা দুই কূটনীতিককে বলেন, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে যদি ‘বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যায়’ তা-ও ভালো। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, এখন সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ক্ষমতা কোনো সেনা কর্মকর্তার নেই। তা ছাড়া সেনাবাহিনী এলেও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকলে জনগণ তা মেনে নেবে না। সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছাড়তে না চাইলে সহিংসতা ও রক্তপাত হবে, দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
শেখ হাসিনা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে জানান, বিএনপি নির্বাচনে জেতার জন্য সব পরিকল্পনা করেছে। সেই পরিকল্পনামতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটকে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি চায় না আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক। কারণ, তারা জানে, নির্বাচনে আমরাই জয়ী হব।’
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ উপদেষ্টাদের কথা শুনছেন না, তিনি বিএনপির কথামতো চলছেন। রাষ্ট্রপতি শুধু একটি নির্বাচন করে খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চান। এ অবস্থায় নির্বাচন বর্জন করা ছাড়া মহাজোটের বিকল্প কোনো পথ নেই।
বিএনপির প্রস্তাবমতো ২২ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার পর নির্বাচনী সংস্কার শেষে এক বছরের মধ্যে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা জানানো হলে শেখ হাসিনা তা নাকচ করে দেন। শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় ফিরে আসার চেয়ে তিনি সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতায় বর্তমান সমস্যা সমাধানকে সমর্থন করবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য মহাজোট নির্বাচন বর্জন করেছে—এমন কথা নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রথমে মেনে নেওয়ায় দলের সমর্থকেরা তাঁকে দোষারোপ করেছেন।
এর আগে শেখ হাসিনা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছেও চিঠি লিখেছিলেন। prothom-alo.com

 খালেদার বড় ব্যর্থতা ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ছেলেকে প্রশ্রয়

২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাসকে বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ছেলেকে (তারেক রহমান) প্রশ্রয় ও মদদ দেওয়াই প্রধানমন্ত্রীর বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, দেশটির গণতন্ত্রের এ নতুন পথচলায় পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি ভালো নয়। সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসে গত ৩০ আগস্ট ফাঁস হওয়া তথ্যে এ কথা জানা গেছে।
তথ্যে দেখা যায়, ২০০৫ সালের ১৩ মার্চ হ্যারি কে টমাসের সঙ্গে কামাল উদ্দিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ৪০ মিনিট কথা হয়। এ সময় টমাস কামালউদ্দিনকে অবহিত করেন, ‘ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার অনুরোধ করেছিলেন তারেক রহমান। তবে প্রটোকল ও অন্যান্য কারণে এ বৈঠক আয়োজন করা সম্ভব হবে না।’ Prothom-alo

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More