Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label সরকারী দল. Show all posts
Showing posts with label সরকারী দল. Show all posts

Friday, November 4, 2011

'খালেদার আশা ছিল সেনাবাহিনী তাদের জেতাবে'

  নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন সেনাবাহিনী যেন ভোট 'চুরি' করে তাদের জিতিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলে বলেন, "নারায়ণগঞ্জে কী এমন ঘটনা ঘটলো যে সেখানে [নির্বাচনে] সেনা মোতায়েন করতে হবে?"

"এমন কোনো পরিস্থিতি হয়নি।" উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সেনা মোতায়েনের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে হঠাৎ করে চিঠি দিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কমিশন যে বৈঠক করেছে সেখানে সেনাবাহিনীকে ডাকেনি।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তিনি [খালেদা জিয়া] আশা করেছিলেন সেনাবাহিনী এসে ভোট চুরি করে তাদের জিতিয়ে দেবে। সেনাবাহিনীর দায়িত্ব কি ভোট চুরি করা?"

নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র সাত ঘণ্টা আগে বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে হাসিনা বলেন, "সেনাবাহিনী মোতায়েন না করায় মাঝরাতে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। সেনাবাহিনীকে কেন ভোট চুরির কাজে ব্যবহার করতে চান তিনি?"

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সহযোগিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের নির্বাহী সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী দেওয়া হয়েছে।

সেনা মোতায়েন না হওয়ায় সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে বলে যারা সমালোচনা করছে তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটেনি।"

সেনা মোতায়েন না হওয়াকে 'সংবিধান লঙ্ঘন' হিসেবে অভিহিত করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন 'অকার্যকর' সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে সেনাবাহিনী সরকার-প্রধানের [প্রধানমন্ত্রী] অধীন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "সরকার-প্রধানই সিদ্ধান্ত নেবেন সেনাবাহিনী ব্যারাকের বাইরে যেতে পারে কি পারে না।"

সেনা মোতায়েন না করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, "নির্বাচন কমিশন এমন একটা সময় সেনাবাহিনী চেয়ে চিঠি পাঠালো, যখন দেশের বাইরে আমরাও ব্যস্ত ছিলাম।"

নির্বাচন কমিশন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দিলেও শেষ পর্যন্ত সেনা মোতায়েন হয়নি। এক নির্বাচন কমিশনার বলেছেন এ বিষয়ে জানতে চেয়ে তারা সরকারকে চিঠি দেবেন।

গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী দল সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানকে এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
ওই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র সাত ঘণ্টা আগে নির্বাচন বর্জন এবং দল সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার ঘোষণা দেয় বিএনপি।

যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রসঙ্গ

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত-বিএনপি নেতাদের মুক্তি দাবি করে খালেদা জিয়ার স¤প্রতি দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজকে উনি(খালেদা জিয়া) মাঠে নেমেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে।"

শেখ হাসিনা বলেন, "এই ঘৃণ্য অপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হতে হবে। জনগণ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।"

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা জনগণের জবাব পেয়ে গেছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "উনি যে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন- জাতি তা পছন্দ করেনি।"

"একজন [সেলিনা হায়াৎ আইভী] নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আর আরেকজন [শামীম ওসমান] জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। [নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র নির্বাচনে] একজন এক লাখের ওপর ভোট পেয়েছেন। আরেকজন, এক লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন।" যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

টক শো

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী দেওয়া হয়নি বলে 'সংবিধান লঙ্ঘন' হয়েছে বলে বিভিন্ন টেলিভিশন টক শো'তে যারা সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের পাল্টা সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, "২০০৩ ও ২০০৪ সালে নির্বাচনে সেনাবাহিনী চেয়ে তখনকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার [এম এ] সাঈদ সাহেব নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। তখন সেনাবাহিনী দেওয়া হয়নি। সে চিঠি আমাদের কাছে আছে।"

ওই দুই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করায় সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছিলো কি হয়নি- তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।


'এখনো রক্তের পিপাসা মেটেনি'

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে বিনাবিচারে 'অগণিত' সেনা সদস্য হত্যা করা হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, "৭৫-এর পর সেনাবাহিনীতে ১৮টি ক্যু হয়েছিলো। শেষ ক্যু'তে জিয়াউর রহমান মারা যান। প্রতিটি ক্যুর পর সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে ছুটিতে ছিলো। তাদের ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, "জিয়াউর রহমান দেশকে খুনীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলেন। তার স্ত্রী বাংলাদেশকে জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের দেশে পরিণত করেছে।"

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভনেত্রী বলেন, "প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি মদদ ছাড়া কী এই গ্রেনেড হামলা হতে পারে ?"

কারো নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এখনো রক্তের পিপাসা মেটেনি।"

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভনেত্রী বলেন, "জাতির পিতা এবং জাতীয় চার নেতার খুনীরা যেন বিদেশে আশ্রয় পায়- সে ব্যবস্থাও করেছিলো জিয়াউর রহমান।"

"পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে কর্মকর্তা এই ব্যবস্থা করেছিলেন, তিনি এখন খালেদা জিয়ার পাশে রয়েছেন। তিনি এখন বিএনপি'র নেতা," যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলেও জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে সবাইকে মুক্ত করে দেন এবং যারা দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলো তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।

আরেক সেনা শাসক এইচএম এরশাদের আমলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় বঙ্গবন্ধুর খুনীরা দেশে রাজনীতি শুরু করে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন- দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

 বদলাই হালামু সবকিছু উল্টাইয়া: শামীম (ভিডিওসহ)

‘হুমকি-ধমকি যদি কেউ দিয়ে থাকে, আমারে কইবেন। আপনাদের কিচ্ছু করতে হইব না। রাতের বেলায় ঘরে গিয়ে হুমকির জবাব দিয়ে আসব। কাউরে যাইতে হইব না। প্রতিটা বাড়িত বাড়িত গিয়ে আমি হুমকি দিয়া আসব। জবাব চামু। ভাই, হুমকি কেন দিচ্ছ? ওই কাজটা আমি ভালো পারি। শুধু পাঞ্জাবি বদলাইয়া জিনসের প্যান্টটা পরতে হইব। আর আমরা যদি জিগাইতে যাই, তাইলে শহরে কেউ থাকব না। আমরা সাচ্চা আওয়ামী লীগার। ক্ষমতায় এখনো আওয়ামী লীগ আছে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী, খালেদা জিয়া নাইক্কা। বদলাই হালামু সবকিছু উল্টাইয়া।’

সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর অনুগতদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। শহরের উত্তর চাষাঢ়ায় পৈতৃক বাসভবন হীরা মহলে অনুগত নেতা-কর্মীদের নিয়ে সভা করেন তিনি। তারপর এসব নেতা-কর্মী নিয়ে তিনি শহরে ‘চেঞ্জ ইমেজ, চেঞ্জ নারায়ণগঞ্জ’ ডাক দিয়ে প্রচারপত্র বিতরণ করেন।
শামীম ওসমান অনুগতদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনে হারার পরে সাংবাদিক সব্বাইরে ডাকাইয়া অপর পক্ষের হয়ে মিষ্টি খাওয়াইতে পারে কেউ? আমি সাংবাদিকদের মিষ্টি খাওয়াইছি, আমাগো বইন (আইভী) জিতছে দেইখা। কইছি—খা, খা না, তোরা খা না। তো, এইটা ব্রিটেনেও আজ পর্যন্ত হয় নাই।’
গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কী আলাপ হয়েছে, কর্মীদের তা জানাতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘দলের কাছে ক্লিয়ার (পরিষ্কার) হইয়া গেছে, কারা বিএনপির, কারা জামায়াতের। আমি একটা জিনিস মনে করি, মজিবর ভাই (স্থানীয় নেতা) খাটতে খাটতে টায়ার্ড (ক্লান্ত), আমিও খাটতে খাটতে টায়ার্ড। সবাই খাটা-খাটনি করে টায়ার্ড হইয়া গেছি। তো, আমি আমার ছোট বোনের ব্যাপারে একটা পরামর্শ দিছি যে, দেখো, তোমার বিরুদ্ধে একটা অপপ্রচার হইছে যে, তুমি বিএনপি-জামায়াতের লোক। তারাই তোমারে ভোট দিছে। যা-ই হোক, এই মিথ্যাটা আমিই প্রচার করছি যে তুমি বিএনপি-জামায়াতের লোক। তো, মিথ্যা তো মিথ্যাই। এখন এটা তোমারে মিথ্যা প্রমাণ করতে হইব। কী করতে অইব? জামায়াত-বিএনপির আন্দোলন আইতেছে সামনে; এইত্তো ঈদের পরে। আমি কইছি আপারে (প্রধানমন্ত্রী) যে, আপা, আমার ছোট বইন আইভী আগামী তিন-চার মাস তার লোকজন যারা আছে তাদের নিয়া একটু জামায়াত-বিএনপিকে মোকাবিলা করুক। আমরা তো গেছি, এমনিও গেছি অমনিও গেছি। মোকাবেলা করলে যেটা হইব, এই যে ওর বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা অপপ্রচার আমরা চালাইছিলাম, এটা সংশোধন হইয়া যাইব। আমাদেরও একটা বিশ্বাস জাগব যে, নাহ্, ও তো অ্যান্টি-জামায়াত, অ্যান্টি-বিএনপি। আমরা মিলামিশা সবাই কাজ করব। কাজ করতে সুবিধা হইব।’
বিএনপি-জামায়াত প্রসঙ্গে শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘বিগত সংসদ নির্বাচনে সিটি করপোরেশন এলাকায় বিএনপি-জামায়াত ভোট পেয়েছিল এক লাখ ১১ হাজার ৮৩৫টা। এখন গ্যাস, বিদ্যুৎ-সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে বিএনপি-জামায়াতের ভোট আরও বাড়ার কথা। ভোট গেছে কই? ভোট তো পড়ছে ৭০ শতাংশ। আর ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) এলাকায় যেটা দেখলাম, ওখানে ভোট পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫, ৯০ শতাংশ। কেন হইছে, কীভাবে হইছে, আমি জানি না। ওগুলো নিয়ে আমি প্রশ্ন তুলব না। যারা তোলার তুলবে। এটা আমাদের কাজ না। আমরা সরকারি দল করি। আমাদের কাজ হইল নির্বাচন সুষ্ঠু করে দেওয়া। আমরা করে দিয়েছি। একটা ঝামেলা হয় নাই, একটা ধাক্কাধাক্কি হয় নাই। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, নারায়ণগঞ্জবাসী সম্মানিত হয়েছে। এটাই আমাদের জয়।’
শামীম ওসমান গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘নেত্রী আমাকে বলেছেন, কসম আল্লাহর বলছি, উনি বলছেন আমারে যে, “আমি কারও কাছে এত কৃতজ্ঞ হইনি জীবনে, যেটুক কৃতজ্ঞ তুমি আমাকে করেছ”, এক্কেবারে আইভীর সামনেই বলছে যে, “তুমি যে ধৈর্য দেখাইছ। আমি জানি, তুমি ১০ মিনিটের মধ্যে সকল ভোটকেন্দ্র দখল করতে পারতা। নির্বাচন বন্ধ করাইতে পারতা। বিএনপি বয়কট করার পর তোমার আর নির্বাচন করার কথা ছিল না। কারণ আমি দাঁড়াইলেও হয়তো বিএনপির দুই-একটা ভোট পাব। কিন্তু তুমি একটাও পাইবা না। তার পরও তুমি নির্বাচনে ছিলা ক্যান? যে নির্বাচনটা হোক। এত কিছুর পরও তুমি নির্বাচন করায় তোমার ইমেজ ভালো হয়েছে। আমারও ইমেজ ভালো হইছে, সারা পৃথিবীর কাছে আমি কইতে পারুম, দেখো, নির্বাচন ক্যামনে করতে হয় তা আমি দেখাই দিলাম।”’
শামীম বলেন, ‘নেত্রীকে বলেছি, রাজনীতিতে আপনার উত্তরাধিকার অবশ্যই যেন আপনার রক্তের লোক হয়। আপনার রক্তের উত্তরাধিকারী যদি থাকে, তাইলে আছি, নাইলে নাইক্কা। আমরা চাই জয় আইসা রাজনীতি ধরুক। রেহানা আপা আসুক, যে-ই আইসা ধরে ধরুক, ববি ধরুক। আপনার পরিবারের সদস্য থাকতে হবে। আপা কয়, নাম অনেক হইছে শামীম; আর না, আর না। আমি বললাম, আপনি লক্ষ লক্ষ কর্মী কার কাছে ছেড়ে দিবেন? এদের দিয়ে হইব? আপনি দেশে নাই, আর খেলে দিল!’
কর্মীদের সামনে নিজের পরাজয়ের ব্যক্তিগত মূল্যায়নও তুলে ধরেছেন শামীম। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের অনেক কিছু শিখার আছে। বিএনপি বইয়া যাওয়ার পরও কেউ আমগোর লগে পারত না। পারছে কেন জানেন? পারছে কারণ, একেকটি ওয়ার্ডে আমগো ছয়-সাতজন লোক কাউন্সিলর প্রার্থী খাড়াইয়া গেল। হগলই খাড়াইয়া গেলোগা। হগলে বোলে পাস করব। পরে কী হইল? তারা যার যার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত রইল। দেখা গেল, আমার নির্বাচন করার মতো লোক মাঠে নেই। প্রতি ওয়ার্ডে আমার একজন করে প্রার্থী হলে ২৭টি ওয়ার্ডেই আমার লোক জিতত। আমার লোকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঠিকমতো কাজ করলে বিএনপির প্রার্থী বসে যাবার পরও আমি জিততাম।’
কর্মীদের উদ্দেশে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে গেছে কডা, দেহেন না! বিএনপি-জামায়াত, মিডিয়ার বেশির ভাগ, বামপন্থী তা হগলেই গেছে গা—মেনন-ছেনন, ইনু—হগলে এক হইছে। আরেকটা ছিল, দুই পা গেছে গা কবরে, (গালি) নাম ভুলে গেছি গা, (কর্মীরা বলছে মূসা মূসা)। নেত্রীরেও কইছি, ওই যে দুই ঠ্যাং কবরে, আপা বুঝছে, লগে লগে কইলো মূসা মূসা।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘এই প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার মনে করছিল, আইভী তো নেত্রীর কাছে যাইব না। শামীম ওসমান বলদ না, বুদ্ধি রাখি, এর লাইগাই ধন্যবাদ জানাইছি। হে তো নেত্রীর কাছে চইলা গেছে। এই দুই দিন পর আবার দেখবেন, এই পত্রিকাটা আমার বইনটারে লই কী লেখা শুরু করে। কী খেলা শুরু করে।’
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে শামীম বলেন, ‘নির্বাচনের দুই দিন আগে টিভিতে দেখলাম, এক নির্বাচন কমিশনার ফাইল নেড়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, অমুক প্রার্থীর বিরুদ্ধে এত মামলা রয়েছে। অমুক প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। এ থেকেই বোঝা যায়, কে ভালো মানুষ। আমি এখন ইচ্ছে করলে সব কথার জবাব দিতে পারি। আমাকে হাত-পা বেঁধে নদীতে গোসল করতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।’
সভায় শামীম ওসমান ছিলেন একমাত্র বক্তা। উপস্থিত ছিলেন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, প্রচার সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, পারভেজ (ক্যাঙ্গারু পারভেজ), ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল, সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহমেদ ওরফে লিটন। সভায় ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর এলাকা থেকে আসা লোকের সংখ্যাই ছিল বেশি। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুগতদের এই সভা চলে।
সভা শেষে কয়েক শ লোক নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন শামীম ওসমান। এ সময় পথচারীদের মাঝে একটি প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ ‘ক্যাডাররা’ তাঁকে ঘিরে হাঁটেন।
জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, কোনো বিশৃঙ্খলা করা হবে না—শামীম ওসমানের কাছ থেকে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি পেয়েই তাঁকে রাস্তায় নামার অনুমতি দেওয়া হয়।
লিফলেটে যা বলেছেন শামীম: লিফলেটে গত ৩০ অক্টোবর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীকে অভিনন্দন জানান শামীম ওসমান।
এতে বলা হয়, ‘আপনারা জানেন, এই নির্বাচনকে ঘিরে নানামুখী ষড়যন্ত্র হয়েছিল। শুধু প্রগতিশীল ও স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির পক্ষে কথা বলার অপরাধে বিএনপির প্রার্থীকে রাতের আঁধারে বসিয়ে দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ ও বক্তব্য দেওয়া, কিছু মুখচেনা পয়সায় কেনা বুদ্ধিজীবীর ব্যাপক অপপ্রচার এবং আমাকে ও নারায়ণগঞ্জবাসীকে সন্ত্রাসী বানানোর শত অপচেষ্টা সত্ত্বেও আপনারা সুষ্ঠু নির্বাচনের যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, সে জন্য আপনাদের অশেষ ধন্যবাদ।’
প্রচারপত্রে নগরবাসীর উদ্দেশে বলা হয়, ‘এত কিছুর পরও আপনাদের যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, সেই ঋণ শোধ করার মতো ক্ষমতা আমার মতো নগণ্য মানুষের নেই। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের মাঝেই সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বসবাস। তাই বাকি জীবন আপনাদের খুশি করে আমি সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করতে চাই। নির্বাচনে যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। যাঁরা ভোট দেননি, নিশ্চয় আমি তাঁদের মন জয় করতে পারিনি, তাঁদেরও জানাই আমার শ্রদ্ধা ও সালাম।’
প্রচারপত্রে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। তার পরও আপনারা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন, তিনি যেন আমাকে আপনাদের সুখে-দুঃখে যেকোনো সমস্যায় আপনাদের পাশে থেকে সেবা করার তৌফিক দান করেন। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি আধুনিক সুখী নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলি। আমাদের স্লোগান হোক “চেঞ্জ ইমেজ, চেঞ্জ নারায়ণগঞ্জ।”’ প্রথম আলো

Thursday, August 11, 2011

শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধান


শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা
যুক্তরাষ্ট্রের টাইম সাময়িকী প্রকাশিত ২০১১ সালে বিশ্বের ১২ প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এই তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছেন। সবার ওপরে আছেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়া থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা।
গত ৫ আগস্ট টাইম সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণে ২০১১ সালের বিশ্বের ১২ প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের একটি তালিকা দেওয়া হয়। তালিকায় স্থান পাওয়া প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের কর্মজীবনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণও তুলে ধরে টাইম সাময়িকী।
প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকায় ইংলাক সিনাওয়াত্রার পরে রয়েছেন—জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল (দ্বিতীয়), আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ দে ক্রিশনার (তৃতীয়), ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রোসেফ (চতুর্থ), অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড (পঞ্চম), লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যালেন জনসন স্যারলিফ (ষষ্ঠ), বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (সপ্তম), আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জোহানা সিগার্ডারডট্টির (অষ্টম), কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট লুরা সিনচিলা (নবম), ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট তারজা হ্যালোনেন (দশম), লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্ট দালিয়া গ্রেইবুস্কাইতে (১১তম) এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কামলা পার্সাড-বিসেসার (১২তম)।
টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যক্তিগত জীবনীর বিবরণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, হামলা থেকে বেঁচে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে তাঁর। সেখানে বলা হয়, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁর পরিবারের ১৭ জন সদস্য নিহত হন। কিন্তু বিদেশে অবস্থান করায় তখন তিনি বেঁচে যান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তাঁর একটি জনসভায় গ্রেনেড হামলায় ২০ জনের বেশি নিহত হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
টাইমের বিবরণে আরও বলা হয়, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। কিন্তু এখানেই তাঁর পথ চলা শেষ নয়। ২০০৯ সালে নির্বাচনে তাঁর দল আওয়ামী লীগ
প্রথম আলো

Monday, August 8, 2011

ছাত্রলীগ নেতার পরিচয় জানতে চাওয়ায়..

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, অগাস্ট ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কথোপকথনে তার পরিচয় জানতে চাওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে মেরে আহত করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ট্রান্সপোর্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থী পিনাক পানি ভট্টাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পিনাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের ছাত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ট্রান্সপোর্ট এলাকায় বেলা ১টার দিকে পিনাক তার সহপাঠী মানিক ও শুভর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর আলী তাদের পরিচয় জানতে চান।

এক পর্যায়ে আজগরের পরিচয় জানতে চান পিনাক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আজগর কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ে পিনাককে বেধড়ক পিটুনি দেন। বাঁশ দিয়ে আঘাত করায় গুরুতর আহত হন পিনাক।

মারধরের কথা স্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা আজগর বলেন, "ছেলেটা (পিনাক) বেয়াদবি করেছে।"

তবে পিনাক বলেন, আজগর আলীকে চিনতে না পারায় তিনি সবার সামনে কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে আমার ওপর হামলা চালান। এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আরজু মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Sunday, August 7, 2011

নৌমন্ত্রীর চাপে নমনীয় যোগাযোগমন্ত্রী


দক্ষতা পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার লোককে যানবাহন চালানোর পেশাদার লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মোটরযান আইনে ভারী মোটরযান চালানোর জন্য সরাসরি পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের চাপে আবার এমন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১ জুন নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন দক্ষতা পরীক্ষা ছাড়াই ২৪ হাজার ৩৮০টি লাইসেন্স দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীর সঙ্গে আবেদনে প্রতিস্বাক্ষর করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। 
জানতে চাইলে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবেদনটি আমার কাছে আছে। ন্যূনতম পরীক্ষা নিয়ে কীভাবে লাইসেন্স দেওয়া যায়, সে বিবেচনা করছি।’
বিআরটিএসহ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স দেওয়ার এই প্রক্রিয়া শ্রমিক ফেডারেশনের একটা ব্যবসা। অতীতেও টাকার বিনিময়ে এমন লাইসেন্স বিক্রি করেছে ফেডারেশন। জানতে চাইলে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান অনেকটা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, কিছু অনিয়ম হয়েছে। সে জন্য বিআরটিএর লোকজনও দায়ী।
মোটরযান আইন লঙ্ঘন: আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স পেতে আগ্রহীদের প্রথমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স (লার্নার) নিতে হয়। তিন মাস পর লিখিত, মৌখিক ও মাঠ (চালিয়ে দেখানো) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে হালকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স পাওয়া যায়। এই লাইসেন্সধারী চালক কার, অটোরিকশা, জিপ চালাতে পারবেন। এর অন্তত তিন বছর পর মাঝারি যানবাহন চালানোর লাইসেন্স নিতে হয়। তখন এর জন্য আবার পরীক্ষা দিতে হয়। এই লাইসেন্সে মিনিবাস, পিকআপ ভ্যান, মিনি ট্রাকসহ ছোট যানবাহন চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। মাঝারি যানবাহন পাঁচ বছর চালানোর পর ভারী যানবাহন চালানোর লাইসেন্স দেওয়ার নিয়ম। ভারী লাইসেন্সধারী চালক বাস, ট্রাক, লরিসহ যাবতীয় যানবাহন চালানোর বৈধতা পান। কিন্তু নৌমন্ত্রীর সংগঠন চাইছে, তাদের দেওয়া তালিকা ধরে কোনো পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি ভারীসহ অন্যান্য পেশাদার লাইসেন্স দিক বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। 
উদ্বেগ: এ অবস্থায় সড়কপথে যানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সরকারি প্রতিষ্ঠান সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রসহ নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলনকারী নাগরিকেরা। যোগাযোগমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি কমিটি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদস্য এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘যথাযথ পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া খুবই অন্যায়। এসব লাইসেন্সধারীর দ্বারা কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে এবং প্রাণহানি হলে তা হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। এই হত্যাকাণ্ডের দায় নিতে হবে লাইসেন্স দাতা ও আবেদনকারী উভয়কেই।’ তিনি আরও বলেন, এসব লাইসেন্সধারীর দ্বারা সংঘটিত প্রাণহানি হত্যাকাণ্ড হিসেবে আদালতে প্রমাণ করা না গেলেও বিবেকের কাছে তারা হত্যাকারী হিসেবেই চিহ্নিত হবে। 
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। গত এক বছরে আমরা ১৬ জেলায় চালকদের সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করেছি। পাঠ্যপুস্তকে সড়ক নিরাপত্তার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতেও কাজ করছি। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া যাকে-তাকে লাইসেন্স দেওয়া হলে আমাদের সব পরিশ্রম বিফলে যাবে।’
আইন ভাঙার ইতিবৃত্ত: বিআরটিএ সূত্র জানায়, ১৯৯০ সাল থেকেই পরীক্ষা ছাড়া পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া শুরু হয়। বিআরটিএ এ পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ পেশাদার লাইসেন্স দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার লাখই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পরীক্ষা এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেওয়া হয়েছে বলে বিআরটিএ সূত্র জানায়।
সূত্র জানায়, ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত নৌমন্ত্রীর সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ হাজার চালককে পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া না মেনেই পেশাদার লাইসেন্স দিয়েছিল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিআরটিএ।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের আমলে ২০০৯ সালে নির্ধারিত পরীক্ষা ছাড়া সারা দেশে ছয়টি শ্রমিক ইউনিয়নের তালিকা ধরে পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নকে চার হাজার ৭৮৭টি, খাগড়াছড়ি বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নকে এক হাজার ৩৫০টি, খুলনা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নকে ৩১২টি, নড়াইল জেলা মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নকে ২০৫টি, নওগাঁ জেলা মোটর ইউনিয়নকে এক হাজার ৪৭৫টি এবং ঢাকা মহানগর শ্রমিক ইউনিয়নকে এক হাজার ৯৫৩টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর শ্রমিক ইউনিয়নের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী এখনো লাইসেন্স দেওয়া শেষ হয়নি। সব মিলিয়ে ছয়টি সংগঠন ১০ হাজার ৮২টি লাইসেন্সের তালিকা দিয়েছিল।
এসব লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনা বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হলে ২০০৯ সালে বিআরটিএ সংস্থার তৎকালীন উপপরিচালক (প্রশাসন) জহুরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি করে। ওই কমিটি দেখতে পায় তালিকায় নাম থাকা লোকজন পরীক্ষা তো দূরে থাক, কোনো রকম ফরমও পূরণ করেনি। পরীক্ষা ছাড়াই যাকে-তাকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। 
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে শ্রমিক সংগঠনের তালিকা ধরে পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই আদেশ অমান্য করে পরীক্ষা ছাড়া আবার লাইসেন্স দেওয়া শুরু হয়।
সড়কে নৌমন্ত্রীর দৌরাত্ম্য: সারা দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোর ফোরাম বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এ হিসেবে পরিবহন খাতের চাঁদা নির্ধারণ, ভাড়া নির্ধারণ, সড়ক নিরাপত্তাসহ যাবতীয় সরকারি বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন তিনি।
গত ২৭ জুলাই যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে পরিবহন খাতের চাঁদা সরকারিভাবে নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন শাজাহান খান। গত বছরও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে তিনি চাঁদা নির্ধারণ করার জন্য চাপ দেন।
গত ১৬ মে পরিবহন খাতের ভাড়া নির্ধারণের বৈঠকে মন্ত্রী শাজাহান খান উপস্থিত থেকে মালিকদের পক্ষে অবস্থান নেন। ওই বৈঠকে রাজধানীর মিনিবাসগুলোর জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া না রাখার প্রস্তাব করেছিল বিআরটিএ। কিন্তু শাজাহান খানের চাপে মিনিবাসেও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 
শাজাহান খান শ্রমিক নেতা হলেও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন একাধিক বাস কোম্পানি আছে। ঢাকা-মাদারীপুর ও রাজধানীর মিরপুর-আবদুল্লাহপুর পথে এসব বাস চলে।
সর্বশেষ পরীক্ষা ছাড়া চালক লাইসেন্সের জন্য আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর গড়ে ৪০ হাজার যানবাহন নামছে। কিন্তু বিআরটিএর লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা আছে ১১ হাজার। ফলে অনেকে ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালায়। এ জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের তালিকা অনুযায়ী সহজ শর্তে লাইসেন্স চেয়েছি আমরা।’ 
এভাবে লাইসেন্স দিয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে শাজাহান খান বলেন, ‘আমাদের চালকেরা তো গাড়ি চালাতে পারে। কিন্তু বিআরটিএ লাইসেন্স দিতে পারে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এত লাইসেন্স দেওয়ার সক্ষমতা নেই প্রতিষ্ঠানটির। ফলে যানবাহনের তুলনায় দেশে বৈধ চালকসংকট আছে। তাদের দেওয়া তালিকা ধরে লাইসেন্স দিলে এ সমস্যা আর থাকবে না।’
অবশ্য বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, গত বছর সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার চালককে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। চালক লাইসেন্সের আবেদনে চিকিৎসকের সনদ দরকার হয়। সহজ শর্তে লাইসেন্স দেওয়ার লক্ষ্যে বিআরটিএ সম্প্রতি তাদের বেশ কয়েকটি কার্যালয়ে চিকিৎসক হাজির করে সনদ দিয়েছিল। পরীক্ষাও দ্রুত নেওয়া হয়। এই উদ্যোগে ৩২ হাজার চালককে লাইসেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু পেশাদার লাইসেন্সের জন্য কেউ যায়নি। শ্রমিক সংগঠনগুলো চায়, তারা তালিকা দেবে আর বিআরটিএ মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার লাইসেন্স দিয়ে দেবে। 
থানায় মামলা হয়েছে—এমন সড়ক দুর্ঘটনায় গত এক বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার লোক মারা গেছে। গত মাসে মিরসরাইয়ে ট্রাক উল্টে ৪০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু সারা দেশকে নাড়া দিয়েছিল। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার নরসিংদীতে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারা যায় ১৬ জন। 
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ৮০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনাতেই কোনো না কোনোভাবে চালকের ভুল পাওয়া যায়। এ অবস্থায় পরীক্ষা না নিয়ে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া আত্মঘাতী হবে।

Friday, July 29, 2011

 সরকার দুর্নীতিমুক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাহারা খাতুন সাহারা খাতুন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতিমুক্ত। সরকারের কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) কার্যালয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত দুর্নীতিবিরোধী রোড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাহারা খাতুন বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দেখাতে চাই যে এ সরকার দুর্নীতিমুক্ত।’ দেশকে সরকার দুর্নীতিমুক্ত সমাজ উপহার দিতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদনে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী ও সাংসদদের সম্পদের হিসাব চেয়েছেন। এ থেকেই বোঝা যায় দুর্নীতি করলে কেউ রেহাই পাবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সজাগ বলেই প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার ও অন্যরা

ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে কাছে টানার উদ্যোগ

আটটি দলের কাছে আ.লীগের প্রস্তাব

 রাজনৈতিক ঐক্য গড়া ও সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে নিবৃত্ত রাখতে ধর্মভিত্তিক ছোট ছোট রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর সঙ্গেও আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
গত এক সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে আটটি দলের কাছে আলোচনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা এবং মহাজোটের শরিক একটি ধর্মভিত্তিক দলের প্রধান এ প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে যে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেগুলো হলো চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি এবং কয়েকটি দল ও সংগঠনের মোর্চা সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ। এর মধ্যে শেষ তিনটি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত কোনো দল নয়। ছোট ছোট ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে কাছে টানার এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসুফী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সরকারের এই অনুভূতিকে ইতিবাচক মনে করি। তবে এই উদ্যোগ সরকারের শোচনীয় অবস্থার প্রমাণ বহন করে।’ তিনি জানান, পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য তিনি প্রস্তাব পেয়েছেন।
২০০৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ফতোয়ার অধিকার ফিরে দেওয়াসহ পাঁচ দফা সমঝোতা চুক্তি করেছিল আওয়ামী লীগ, যা পরে বাতিল করা হয়।
সূত্র জানায়, একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা গত বুধবার সকালে খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব জাফরুল্লাহ খানকে মুঠোফোনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রস্তাব দেন। একজন প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
জাফরুল্লাহ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আলোচনায় বসতে রাজি নই। এর দরকার আছে বলেও মনে করি না। সরকার যদি সংবিধানের মূলনীতিতে “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” কথাটি পুনঃস্থাপন করে, তাহলে বসার দরকার কী?’
এর আগে গত শনিবার প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আরেক কর্মকর্তা আলোচনার প্রস্তাব দেন খেলাফত মজলিসের আমির আহমদুল্লাহ আশরাফকে। এ কথা স্বীকার করে আশরাফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বলেছি, আমি তো যেতে পারব না। উনি (প্রতিমন্ত্রী) এলে স্বাগত জানাব।’
সূত্র জানায়, একইভাবে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অন্তত দুবার বৈঠকে বসার প্রস্তাব দেওয়া হয় চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনকে।
জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনূছ আহমাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে দাওয়াত আসছে। আমরা তাদের বলে দিয়েছি, বসার আগে আলোচ্য বিষয় ঠিক করতে হবে, লক্ষ্য স্থির করতে হবে এবং আশ্বস্ত করতে হবে।’
প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসুফী ও সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব খলিলুর রহমান মাদানীর কাছে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দল দুটির সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকে বসার ব্যাপারে ‘ইসলামী ও সমমনা ১১ দল’ যাতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়, সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে আবদুর রব ইউসুফীকে অনুরোধ করেছেন ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
‘ইসলামী ও সমমনা ১১ দল’ নামে ছোট ছোট দলগুলোর এই মোর্চা গঠিত হয় গত ৩০ জুন। ইউসুফী এই মোর্চার অন্যতম নেতা। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকার সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মূলনীতি পুনর্বহাল, বিসমিল্লাহর নতুন অনুবাদ প্রত্যাহার করে নিলেই হবে। এ জন্য কোনো দলের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই।’
অবশ্য সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ বিএনপি-জামায়াতঘেঁষা। এর মহাসচিব হলেন আবদুল লতিফ নেজামী। তিনি একই সঙ্গে মুফতি ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটেরও মহাসচিব। আলোচনার ব্যাপারে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে খুব একটা সাড়া পায়নি সরকারি দল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ছোট ছোট এসব ধর্মভিত্তিক দলকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় বসাতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা ছাড়াও মহাজোটের শরিক বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী সক্রিয় রয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
মিছবাহুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামায়াতবিরোধী ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বোঝাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তারা যদি আগ্রহ দেখায়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী তাদের আলোচনায় স্বাগত জানাবেন।’ তিনি জানান, ‘ইসলামী ও সমমনা ১১ দলের’ সাতটিসহ আরও একটি দলের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর কথা হয়েছে। গোপনীয়তার স্বার্থে দলগুলোর নাম জানাতে রাজি হননি তিনি।
মিছবাহুর রহমান বলেন, ‘যেসব দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে, সংবিধানের মূলনীতিতে “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” কথাটি পুনঃস্থাপন করার আশ্বাস দিলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও মহাজোটের সঙ্গে থাকার কথা বিবেচনা করবেন তাঁরা।’ তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।প্রথম আলো

Thursday, July 28, 2011

কারাগারে ‘বড় মিয়া’র বিলাসী জীবন

কারাগারে বসেই বাড়ির রান্না করা খাবার খাচ্ছেন। প্রতিদিন আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করছেন। দরকার হলে মোবাইল ফোনে কথাও বলছেন। তাঁর ইচ্ছাই যেন সেখানকার নিয়ম। লক্ষ্মীপুর কারাগারে এমনই জীবন যাপন করছেন একাধিক খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ‘বড় মিয়া’।
এই বড় মিয়া হলেন এ এইচ এম বিপ্লব। লক্ষ্মীপুরের পৌর মেয়র আবু তাহেরের বড় ছেলে। শুধু তাহেরের বড় ছেলে বলেই নয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লক্ষ্মীপুরের অপরাধ জগতের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ হিসেবে বিপ্লবকে সমীহ করে বড় মিয়া ডাকেন সাঙ্গপাঙ্গরা। কারাগারে বড় মিয়ার সঙ্গে আছেন তাঁর আরেক ‘গুণধর’ ভাই আবদুল জব্বার ওরফে লাবু (তাহেরের পালিতপুত্র)। লাবু পাঁচটি খুনের মামলার আসামি, দুটিতে যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে।
বহুল আলোচিত নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ড সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মওকুফ করেছেন। এ খবর প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হওয়ার পর আবার আলোচনায় আসেন লক্ষ্মীপুরের একসময় ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত তাহের ও তাঁর ছেলে বিপ্লব। এ অবস্থায় বড় মিয়ার কারাগারের বিলাসী জীবনযাপন যাতে সাংবাদিকদের নজরে না পড়ে, সে জন্য লক্ষ্মীপুর কারাগারের সামনে তাহেরের লোকজন দিনের বেলায় পাহারা বসিয়েছেন বলে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়। অচেনা কেউ কারাগারের সামনে গেলে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক বলেছেন, এই পাহারা পেরিয়ে সংবাদ সংগ্রহে কারাগারের দিকে যেতে সাহস করছেন না তাঁরা।
অবশ্য গত সোমবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে এই প্রতিবেদক কারাগারে গেলে পাহারায় থাকা তাহেরের লোকজন বাধা দেননি।
জেলারসহ কারাগারের সব কর্মকর্তাকে বলে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন তাহেরপুত্র বিপ্লব নিয়ে কোনো তথ্য না দেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিপ্লবের কারাজীবন, মামলার সাজা ইত্যাদি বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো তথ্য না দিতে বিপ্লবের পক্ষ থেকে লক্ষ্মীপুর কারাগারের কর্মকর্তাদের বলে দেওয়া হয়েছে। ফলে কয়েক দিন ধরে কারা কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না।
এই প্রতিনিধি বিপ্লবের কারাগারের জীবন ও সাজা সম্পর্কে জানতে লক্ষ্মীপুর কারাগারে গিয়ে অনেক চেষ্টা-তদবির করেও কারও কাছ থেকে কোনো তথ্য পাননি। সরাসরি গিয়ে ব্যর্থ হয়ে টেলিফোনেও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কিছুতেই কথা বলতে রাজি হননি জেলার আখতার হোসেন। তাঁর মোবাইলে ফোনে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলে, তাঁরও কোনো জবাব দেননি তিনি।
তবে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্র থেকে জানা যায়, একটি মামলার ফাঁসির দণ্ড মওকুফ পাওয়ার পর বিপ্লব বাকি দুটি হত্যা মামলার দণ্ড মওকুফের জন্য চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজা মওকুফের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন তাঁর বাবা তাহের। এটার ফয়সালা হলে অপরটির জন্য আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।
তাহের নিজেও প্রথম আলোকে বলেন, ‘দরখাস্ত একটা করছি, অ-ন কী অবস্থায় আছে জানি না, খোঁজও নেই না।’
বিপ্লবের নাম শুনলে মানুষ আঁতকে ওঠে, এর কারণ জানতে চাইলে আবু তাহের বলেন, ‘এগুলো সব মিডিয়ার সৃষ্টি। আপনারা সাংবাদিকেরা বানাইছেন। আমার কোনো ছেলে সন্ত্রাসী না। তারা কারোরে খুন করেনি।’ তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘সাংবাদিকেরা মাইনষের জাত না। কয় একটা আর লেয় আরেকটা।’
বিপ্লব ভালো ছেলে হলে এতগুলো খুনের মামলার আসামি হলো কেন—এই প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, সব মিথ্যা মামলা। দলের কিছু লোক ও বিএনপির লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে ধ্বংস করার জন্য এ ষড়যন্ত্র করেছে। তাঁর দাবি, ‘আমার হুতেরা (ছেলেরা) খুন করতেই পারে না।’
তাহলে পুলিশের তদন্ত, অভিযোগপত্র, আদালতের রায়, সবই কি মিথ্যা? জবাবে তাহের বলেন, ‘কে বড়, সিআইডি নাকি থানার পুলিশ? নাসিমের (সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) আমলে সিআইডি নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দিল। আর এখন নাইস্যা (মোহাম্মদ নাসিম) কয়, এডা নাকি নিয়মমতো অয় ন।’
তাহেরের দাবি, ‘আমি মক্কা শরিফ ছুঁইয়ে বলেছি, আমি নুরুল ইসলামের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। যারা জড়িত আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন। পাপ হুতেরেও (ছেলেরে) ছাড়ে না।’
লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাহের ও তাঁর ছেলেরা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে নানা অপরাধ করে। আর ক্ষমতা থেকে চলে গেলে তারা আত্মগোপন করে। কিন্তু ভোগান্তি পোহাতে হয় দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের।
নিহতদের পরিবারের শঙ্কা: লক্ষ্মীপুরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাহেরপুত্র ও তাঁর লোকজনের হাতে খুন হওয়া কয়েকজনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুনের মামলায় বিপ্লবের ক্ষমা লাভের ঘটনায় তাঁরা শঙ্কিত।
‘মরইন্যারে তো হিরি হামু না। বিপ্লইবা বাইর অইলে তো আর যে দুগা হুত আছে এগুনরেও মারি হালাইব। আঁই কিয়া করুম, চোকেও কিচু দেহি না’ (যে মরে গেছে, তারে তো ফিরে পাব না। বিপ্লব বের হলে তো যে দুই ছেলে জীবিত আছে, তাদেরও মেরে ফেলবে। তখন আমি কী করব, চোখেও কিছু দেখি না)। দক্ষিণ মজুপুরের বাড়িতে গেলে এভাবেই প্রথম আলোর কাছে উদ্বেগের কথা বলছিলেন নিহত কামালের বৃদ্ধ মা আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, দুই ছেলেকে তিনি বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
বিএনপির কর্মী কামালকে ১৯৯৯ সালের আগস্টে হত্যা করা হয়। তাঁর ভাই আবদুর রহিম বলেন, কামাল হত্যার ঘটনায় তিনি আবু তাহের ও তাঁর তিন ছেলে বিপ্লব, টিপু ও লাবুসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। এই মামলায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল টিপু ও লাবুকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। আর তাহের ও বিপ্লবের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। বিপ্লব ও আরেক আসামি খালেদ ছাড়া বাকি চারজন পরে হাইকোর্ট থেকে খালাস পান।
কামালদের পাশেই ফিরোজ আলমের বাড়ি। ফিরোজ খুন হন ১৯৯৮ সালের ১ অক্টোবর। নিহত ফিরোজের ভাই রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, তাহের বাহিনী ও তাঁর ছেলেদের অত্যাচারে তিনি তখন বিদেশে পালিয়েছিলেন। বিপ্লব গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশে ফিরে আসেন।
রেজাউল বলেন, বিপ্লব ও লাবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ফিরোজকে ধরে নিয়ে খুন করে। ফিরোজ তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত। এ মামলাটি এখন বিচারাধীন। তিনি বলেন, তাঁরা এখন আতঙ্কে আছেন, বিপ্লব কখন যে বেরিয়ে আসে। তাই রেজাউল তাঁর আরেক ভাইকে বিদেশ পাঠিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
একই আতঙ্কের কথা বলেছেন সদর থানার বনগাঁও শিবপুরের আমান উল্লাহ। তিনি নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে মহসিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। মহসিনকে ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর শহরের বিপ্লব, বাবু, রিংকু, লাবুসহ কয়েকজন মিলে প্রকাশ্যে খুন করে।
আমান উল্লাহ বলেন, মহসিন খুনের ঘটনায় তাহেরপুত্র লাবুসহ পাঁচজনের ফাঁসি ও বিপ্লবসহ সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।
এই মামলায় বিপ্লবের দণ্ড মওকুফ চেয়ে তাহের রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন বলে শুনেছেন আমান উল্লাহ। ক্ষুব্ধ এই পিতা বলেন, ‘এত বড় খুনিদের যদি মাফ করে দেওয়া হয়, তাহলে চোর-ডাকাতদের আটকে রাখার দরকার কি, তাদেরও ছেড়ে দেওয়া হোক।’

Sunday, July 24, 2011

 তাহেরের পক্ষে লক্ষ্মীপুরে মহড়া

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহেরের লোকজন গতকাল লক্ষ্মীপুর শহরে ম লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহেরের লোকজন গতকাল লক্ষ্মীপুর শহরে মিছিল বের করে
ছবি: প্রথম আলো
আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহেরের লোকজন গতকাল রোববার লক্ষ্মীপুর শহরে শক্তির মহড়া দিয়েছে। দুপুরের পর থেকে তারা পুরো শহর দাপিয়ে বেড়ায়।
মহড়া শুরুর আগে আবু তাহের পৌরসভায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে সম্প্রতি তাঁর ছেলের ফাঁসির দণ্ড মওকুফের ব্যাপারে বক্তব্য তুলে ধরেন। তাহের বলেন, হত্যা মামলায় তাঁর ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবকে সাজা দেওয়ার ঘটনা দেশের বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে।
গতকাল দুপুরে হঠা ৎ করেই পাল্টে যায় লক্ষ্মীপুর শহরের চিত্র। বেলা আড়াইটা থেকে দলে দলে যুবকেরা রাস্তায় নেমে আসে। তারা মাইকে করে তাহেরের ছেলে বিপ্লবের গুণগান ও স্লোগান দিতে থাকে। কেউ কেউ গানের সুরে সুরে বিপ্লবের মুক্তির দাবি জানায়। এসব মিছিলে শহরের অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকেও দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত মিছিলের নামে মূলত শক্তির মহড়া দেয় তাহেরের লোকেরা। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শহরের উত্তর তেমুহানী এলাকায় দেখা যায়, বেলা তিনটার দিকে পুলিশের খাতায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী নূর হোসেন শামীমের নেতৃত্বে মিছিল চলছে। শামীম ২০ দিন আগে জামিনে মুক্তি পান। তাঁর নেতৃত্বে লোকজন তাহেরের ছেলে বিপ্লবের নাম করে মিছিল করছে।
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে যুবকেরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিকেল পাঁচটার মধ্যে শহরের পৌর চত্বরে জমায়েত হয়। পরে তারা একটি বড় মিছিল বের করে। এ সময় তাহের পৌর ভবনের ওপরে দাঁড়িয়ে তা প্রত্যক্ষ করেন। পুলিশি পাহারায় বড় মিছিলটি পৌরসভা থেকে বের হয়ে শহর ঘুরে আবার পৌর ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
বড় মিছিলটির নেতৃত্ব দেন তাহেরের আরেক ছেলে এ কে এম সালাউদ্দিন টিপু। টিপুও বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামি। তিনি পরে উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান।
স্থানীয় লোকজন, আওয়ামী লীগের ও তাহেরের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি বিপ্লবের দণ্ড মওকুফ নিয়ে জাতীয় দৈনিকগুলোতে লেখালেখির কারণে তাহের চাপের মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় তিনি পরিস্থিতি অনুকূলে রাখা ও অবস্থান ধরে রাখতে শক্তি প্রদর্শনের এ উদ্যোগ নেন। এ জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের এনে জড়ো করা হয়। এই মহড়া ও মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানায়।
বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের সময় (১৯৯৬-২০০০) তাহেরের পরিবারের সদস্যদের নানা ত ৎ পরতায় লক্ষ্মীপুর সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়। তখন তাহের সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০০ সালে বিএনপির নেতা ও আইনজীবী নুরুল ইসলামকে অপহরণের পর তাঁকে কেটে টুকরো টুকরো করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ মামলায় তাহেরের ছেলে বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। কিন্তু সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি এই মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করেন। নুরুল ইসলাম হত্যা মামলা ছাড়াও বিপ্লব আরও চারটি হত্যা মামলার আসামি। এর মধ্যে দুটিতে তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর কারাগারে আছেন।
তাহেরের সংবাদ সম্মেলন: শক্তির মহড়া শুরুর আগে গতকাল দুপুরে হঠা ৎ নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে পাঠান মেয়র আবু তাহের। তিনি তা ৎ ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করার কথা বলেন। এরপর তিনি একটি লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের হাতে ধরিয়ে দেন। উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান, তাঁরা কেউ কোনো প্রশ্ন করেননি।
লিখিত বক্তব্যে তাহের বলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে বিএনপি সরকারের আমলে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর ব্যারিস্টার মওদুদের প্রহসনমূলক বিচারে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়, যা সার্বিক বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে।
তাহের দাবি করেন, ‘আমার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে আমার দলের কিছু লোক ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। ফলে অনেকটা হঠা ৎ করেই নুরুল ইসলাম অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে আমি ও আমার বড় ছেলে বিপ্লব, মেজো ছেলে টিপু এবং আমার স্ত্রীকে জড়িত করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়। লক্ষ্মীপুরের আরও কয়েকটি হত্যাসহ সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে আমার পরিবারের সবাইকে জড়িত করা হয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, একটি চক্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় উন্মাদ হয়ে দেশের পত্রপত্রিকাকে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। তারা অনেক অর্থ খরচ করে এসব করাচ্ছে। প্রতিনিয়ত সাংবাদিকেরা কাল্পনিক কাহিনি প্রচার করছেন। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের মানুষ তা গ্রহণ করেনি।প্রথম আলো

 মন্টুর ফাঁসি

হুমায়ূন আহমেদ

আমার জীবনের প্রথম উপন্যাসটির নাম নন্দিত নরকে। সেই উপন্যাসের একটি চরিত্র মন্টু তার বোন রাবেয়ার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে একটি খুন করে। জজ সাহেব তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অসহায় পরিবারটির কিছুই করার থাকে না। তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আশায় বুক বাঁধে। রাষ্ট্রপতি ক্ষমাভিক্ষা দেন না। মন্টুর ফাঁসি হয়ে যায়।
উপন্যাসের রাষ্ট্রপতি নির্মম, কিন্তু বাস্তবের রাষ্ট্রপতিরা মমতা ও করুণায় আর্দ্র। তাঁরা ভয়াবহ খুনিকে ক্ষমা করে দেন। শুধু ফাঁসির হাত থেকে বাঁচা না, মুক্তি। এখন গলায় ফুলের মালা ঝুলিয়ে ট্রাক মিছিল করে বাড়ি ফিরতেও বাধা নেই।
নিহত ব্যক্তির স্ত্রী রাষ্ট্রের কাছে দুটি প্রশ্ন করেছেন:
১. প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁর পিতার হত্যার বিচার চাইতে পারেন, আমার পিতৃহারা সন্তানেরা কেন বিচার চাইতে পারবে না?
২. রাষ্ট্রপতির স্ত্রী আইভি রহমানের হত্যাকারীদের যদি ফাঁসির আদেশ হয়, তিনি কি তাদের ক্ষমা করবেন?
নিহতের বিধবা স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মতোই স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর অবশ্যই রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার অধিকার আছে।
আমিও এই দুই প্রশ্নের উত্তর শোনার জন্য অপেক্ষা করছি। প্রশ্নের উত্তর শোনার পরপরই নন্দিত নরকে উপন্যাসটি নতুন করে লিখব। প্রথম আলো

Wednesday, July 13, 2011

ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাসহ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ছিনতাই হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। 
গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকা থেকে ৯০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাবুল আহমেদ ও তাঁর সহযোগী আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১২টি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র‌্যাব-১-এর মেজর মোসতাক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাবুল অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের হোতা। নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা বাবুল তাঁর কাছে রেখে বিক্রি করে আসছিলেন। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাবুল ও রহমানকে শ্যামপুর থানায় সোপর্দ করেছে র‌্যাব। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
র‌্যাব সূত্র জানায়, র‌্যাব-১-এর একটি দল পোস্তগোলার ডায়না সিনেমা হলের সামনে থেকে ছিনতাই হওয়া দুটি অটোরিকশাসহ আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। রহমান ওই অটোরিকশা দুটি ছিনতাই করে তা অন্যজনের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে রহমান র‌্যাবকে জানান, ছিনতাই হওয়া আরও ১০টি অটোরিকশা বাবুলের কাছে আছে। এরপর র‌্যাব রহমানকে সঙ্গে নিয়ে পোস্তগোলা কটন মিলের ভেতর থেকে আরও ১০টি অটোরিকশা উদ্ধার করে এবং বাবুলকে গ্রেপ্তার করে।
র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, কিছুদিন ধরে র‌্যাব-১-এর কাছে বেশ কিছু অটোরিকশা ছিনতাইয়ের লিখিত অভিযোগ আসে। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অভিযান চালানো হয়। 
শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ৯০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা বাবুল দীর্ঘদিন ধরে পোস্তগোলা অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় পোস্তগোলা এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাই হচ্ছে।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More