Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label বিচার. Show all posts
Showing posts with label বিচার. Show all posts

Monday, January 16, 2012

তিন বোনকে সেনাক্যাম্পে দেন সাঈদী

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সোমবার জবানবন্দি দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ১৩তম সাক্ষী। জবানবন্দিতে সাক্ষী তাঁর তিন বোনকে সাঈদীসহ রাজাকারদের পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে দেওয়ার এবং তাঁদের পুরো পরিবারকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার বর্ণনা দেন।
বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৩তম সাক্ষী এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একদিন সাঈদী কয়েকজন রাজাকারকে নিয়ে পিরোজপুরে তাঁদের (সাক্ষীর) বাড়িতে যান। রাজাকাররা তাঁদের বাড়ি লুট করে এবং তাঁর তিন বোনকে ধরে নিয়ে পিরোজপুরে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে দিয়ে আসে। তিন দিন পর তিন বোনকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। একাত্তরে তাঁর বয়স ছিল ২৭ বছর।
তিন বোনের ওপর পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন। জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার কিছুদিন পর সাঈদী আবার কয়েকজন রাজাকার নিয়ে তাঁদের বাড়িতে যান। রাজাকাররা তাঁর মা-বাবা, ভাইবোনসহ পরিবারের সব সদস্যকে জোর করে ধর্মান্তরিত করে। তাঁর নাম দেওয়া হয় আবদুল গনি। তাঁদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয়। এর কিছুদিন পর তিনি ছাড়া পরিবারের অন্য সবাই ভারতে চলে যান। স্বাধীনতার পর তিনি নিজ (হিন্দু) ধর্মে ফিরে আসেন।
জবানবন্দির এ পর্যায়ে সাক্ষী আবেগে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান এবং কাঁদতে থাকেন। ট্রাইব্যুনাল তাঁকে শান্ত হয়ে বসতে বলেন।
জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, তাঁকে ছাড়া আরও এক-দেড় শ হিন্দুসম্প্রদায়ের লোককে রাজাকাররা ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণ সাহা, নিখিল পাল, গৌরাঙ্গ পাল, সুনীল পাল। তাঁদের অনেকে মারা গেছেন। অনেকে ভারতে চলে গেছেন।
জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। তিনি এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কয়েকজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে সাক্ষীর কাছে জানতে চান, তাঁদের তিনি চেনেন কি না? সাক্ষী তাঁদের চেনেন বলে জানান। মিজানুল জানতে চান, সাক্ষীর তিন বোনকে নির্যাতন ও ধর্মান্তরিত করার ঘটনা ওই সাক্ষীরা জানেন কি না? জবাবে সাক্ষী বলেন, তাঁরা কী জানেন না-জানেন, তা তিনি বলতে পারবেন না।
বেলা একটায় এক ঘণ্টা বিরতির পর আবার জেরা শুরু হলে মিজানুল জানতে চান, সাক্ষী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে লুট হওয়া জিনিসপত্রের কোনো তালিকা দিয়েছেন কি না? জবাবে সাক্ষী বলেন, ‘সবকিছু এমনকি ঘর ঝাড় দেওয়ার পিছা (ঝাড়ু) পর্যন্ত লুট হয়েছে।’ স্বাধীনতার পর নিজ ধর্মে ফিরতে কোনো প্রায়শ্চিত্ত করেছেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জীবনের মায়ায় ধর্মান্তরিত হয়েছি, এর জন্য প্রায়শ্চিত্ত দরকার নেই।’
বিকেল চারটার দিকে জেরা শেষ হলে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম কাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

(প্রথম আলোর নীতি অনুসারে সাক্ষী ও তাঁর বোনদের নাম প্রকাশ করা হলো না।) prothom-alo

Monday, August 8, 2011

বাড়ির অধিকার ছাড়লেন শেখ রেহানা


ঢাকা, অগাস্ট ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা ১০ বছর আগে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাড়ির অধিকার ফিরে পাওয়ার আইনী লড়াইয়ে ইতি টেনেছেন।

সোমবার বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমের বেঞ্চে আবেদন করে এ বিষয়ক রিট প্রত্যাহার করেছেন শেখ রেহানা।

মামলার বিষয়বস্তুর কারণে নয়, বরং উৎসর্গ করার মানসিকতা থেকে রেহানা এ রিট আর চালাতে চান না বলে প্রত্যাহার আবেদনে বলা হয়েছে।

আদালত শেখ রেহানার এই মানসিকতাকে উৎসাহিত করে।

সোমবার আদালতে শেখ রেহানার আইনজীবী হিসাবে ছিলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এবং সরকার পক্ষে ছিলেন ওই আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা আশেক মোমেন।

২০০১ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ধানমণ্ডির ৬ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাড়িটি শেখ রেহানার নামে বরাদ্দ করে। রেহানা তা নগদ মূল্যে কিনে নেন। ২০০৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার বাড়িটি সরকারি মালিকানায় নিয়ে সেখানে ধানমণ্ডি থানা স্থাপন করে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শেখ রেহানা ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন করলে আদালত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চায়।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর খালেদাকে তৎকালীন সরকার এরকম সুবিধা দিয়েছিলো।

গুলশানে একশ এক টাকায় দেড় একর আয়তনের একটি বাড়ি 'কেনেন' তিনি।

সেনানিবাসে শহীদ মঈনুল সড়বে এক টাকায় ১৯৮১ সালের ৮ জুলাই আট বিঘা আয়তনের একটি বাড়িও ইজারা দেওয়া হয় খালেদাকে।

গত বছরের ১৩ জুলাই খালেদাকে ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

'জনগণের কল্যাণে অধিকার ত্যাগ'

রিট প্রত্যাহার আবেদনে বলা হয়, শেখ রেহানা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগ ও অবদানের কারণে মেয়ে হিসাবে তিনি গর্বিত।

'বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িসহ পিতার রেখে যাওয়া সব সম্পত্তি দেশের জনগণের সেবায় দান করেছেন। টুঙ্গিপাড়ার বাড়িটিও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।'

শেখ রেহানার ঢাকায় কোনো বাড়ি নেই- এ কথা উল্লেখ করে রিট আবেদনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে সরকার আইন অনুযায়ী তাকে একটি বাড়ি দিতে বাধ্য এবং ইতিপূর্বে তার বাড়ি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটিও ছিলো অবৈধ।"

'কিন্তু বাড়িটি বর্তমানে থানা হিসাবে জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে তিনি তার অধিকার ত্যাগ করতে চান।'

শেখ রেহানাকে বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয় জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইনের আওতায়। চারদলীয় জোট সরকার আইন ও বরাদ্দ বাতিল করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন-২০০৯ পাশ করা হয়। ওই আইনে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাদের সন্তানদের আজীবন এসএসএফ অর্ডিন্যান্স-১৯৮৬ অনুযায়ী ভিআইপি হিসাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া ওই আইন অনুযায়ী সরকার পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত আবাসন ব্যবস্থা করবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটক

Monday, July 4, 2011

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে সাবেক তিন আইজিপি


  • শহুদুল হক
  • আশরাফুল হুদা
  • খোদা বখশ চৌধুরী
1 2 3
২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি পুলিশের তিন সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহুদুল হক, আশরাফুল হুদা ও খোদা বখ্স চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আইজিপির দায়িত্ব পালনকারী এই তিন কর্মকর্তা গতকাল সকালে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন নাকচ করেন।
পুলিশের এই সাবেক তিন আইজিসহ ৩০ জনকে নতুন আসামি করে গত রোববার এই মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। অভিযোগপত্র দাখিলের পর এই তিন কর্মকর্তাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে সেই পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার আগেই পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তা আদালতে হাজির হন। বাকি ১৫ আসামির ঠিকানায় গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশের মাধ্যমে পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে নাম আসা পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে বাকি দুজন চাকরিতে থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা জানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
সিআইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের মধ্যে পাঁচজন বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। বাকি আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা এখনো কিছু জানেন না।
কারাগারে তিন সাবেক আইজিপি: পুলিশের তিন সাবেক আইজি শহুদুল হক, আশরাফুল হুদা ও খোদা বখ্স চৌধুরী গতকাল পৃথক গাড়িতে করে আদালতে হাজির হন। তাঁরা ঢাকার মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের পক্ষে আইনজীবী রফিক-উল হক ও আমিনুল গনি আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি ছিলেন সৈয়দ রেজাউর রহমান, আবদুল্লাহ আবু, মোকলেসুর রহমান ও আবদুর রহমান।
শুনানিতে আসামি আশরাফুল হুদার আইনজীবী আমিনুল গনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করার কথা ছিল। সে অনুযায়ী পুলিশ মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে কীভাবে সমাবেশস্থল পরিবর্তন করা হলো, অভিযোগপত্রে তার কিছুই উল্লেখ নেই।
আইনজীবী আমিনুল বলেন, এই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা দেননি। এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হতে পারে, এই মামলা নয়। কারণ, তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিতও ছিলেন না। তাঁদের কেউ গ্রেনেডও ছোড়েননি। কোনো সাক্ষীর জবানবন্দিতে তাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতার কথাও আসেনি। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে আশরাফুল হুদা একটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন।
আশরাফুল হুদা ২০০৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাস দুই দিন পুলিশের মহাপরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন।
রফিক-উল হক বলেন, ‘মামলার এজাহারে শহুদুল হক ও খোদা বখ্স চৌধুরীর নাম নেই। মূল অভিযোগপত্রেও এঁদের নাম ছিল না। কিসের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অভিযোগপত্রে এঁদের নাম এসেছে, তা আমরা জানতে পারিনি। পত্রপত্রিকা পড়ে জেনেছি, নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের জড়ানো হয়েছে।’
রফিক-উল হক বলেন, ২০০৪ সালে এঁরা দুজনেই স্বাভাবিক অবসর নিয়েছেন। দুজনেই এখন অসুস্থ। জামিন না হলেও আদালতের কাছে প্রার্থনা, তাঁদের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক ও বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আসামিরা ঘটনার সময় তাঁদের দায়িত্ব পালন করেননি। ঘটনায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়তা করেছেন। মামলাটি স্পর্শকাতর। কারণ, তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই শেখ হাসিনাসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা করা হয়। আসামিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এই অবস্থায় জামিনের ঘোর বিরোধিতা করছি।’
দুই আসামির চিকিৎসার দাবির বিষয়ে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় কারাগারে চিকিৎসার সুব্যবস্থা আছে। কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে বাইরে চিকিৎসার উদ্যোগ নেবে।
বিচারক আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে কারা বিধি অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য শ্রেণী ও সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে সহায়তা করেন মহানগর পিপি আবদুল্লাহ্ আবু, মোখলেসুর রহমান ও আবদুর রহমান।
পরোয়ানার আসামিরা কে কোথায়: সম্পূরক অভিযোগপত্রের ৩০ আসামির মধ্যে ১২ জন কারাগারে আছেন। বাকি ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বাকি ১৫ আসামির মধ্যে তারেক রহমান ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। এর পর থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে আছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকেই পলাতক আছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দিকে তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জে ছিলেন বলে সিলেটের স্থানীয় পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। আবার তিনি লন্ডনে আছেন বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে কেউ তাঁর সঠিক অবস্থান সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি।
বিএনপির সাংসদ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বর্তমানে সৌদি আরবে আছেন। তাঁর পারিবারিক সূত্র জানায়, বাসার সিঁড়িতে পড়ে কোমর ভেঙে যাওয়ায় তিনি দুই বছর ধরে ব্যাংককে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি ওমরাহ হজ করার জন্য সেখান থেকে সৌদি আরবে গেছেন।
ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার টেররিজম ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিটিআইবি) সাবেক পরিচালক এ টি এম আমিন বর্তমানে দুবাইতে আছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের আলোচিত এই সেনা কর্মকর্তা ২০০৯ সালের ১৭ মে অকালীন অবসরে যান।
গত বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের একই শাখায় কর্মরত সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চাকরিচ্যুতির পরদিন তিনি সপরিবারে দুবাইতে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে নির্মাণব্যবসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব ও ভাগনে সাইফুল ইসলাম ওরফে ডিউক বর্তমানে কারাগারে আছেন।
‘জজ মিয়া’ নাটকের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত সিআইডির তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমান। মুন্সি আতিক ফরিদপুরে ও আবদুর রশিদ বগুড়ায় গ্রামের বাড়িতে আছেন। রুহুল আমিন আছেন ঢাকায়।
মামলার আরেক আসামি রাতুল বাবু বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন। তিনি এ মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আসামি সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই। এঁদের আরেক ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনও এ মামলার আসামি। তিনি বিগত জোট সরকারের শেষ দিকে কতিপয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সহায়তায় বেনামি পাসপোর্টে পাকিস্তানে চলে যান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে।
হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ ঢাকায় আছেন। অভিযোগপত্রে নাম থাকার তথ্য জানার পর তিনি গা ঢাকা দেন।
মুফতি শফিকুর রহমান ও আবদুল হাই দেশেই আছেন। শফিকুর রহমানের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। আবদুল হাইয়ের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিষিদ্ধ হরকাতুল জিহাদের এই সাবেক দুই আমির গা ঢাকা দেন।
দুই পুলিশ কর্মকর্তা: আসামি অতিরিক্ত ডিআইজি খান সাঈদ হাসান বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত (ওএসডি) আছেন। তিনি হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে প্রচার আছে। আরেক আসামি পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমানও ওএসডি আছেন। এ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সে ব্যাপারে পরামর্শ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেড নোটিশ: মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা পাঠানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি। আদালতের পরোয়ানা হাতে আসার পরই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার প্রথম আলোকে বলেছেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে এই গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন কয়েক শ লোক। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এ মামলার তদন্ত বারবার ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন করে এ মামলার তদন্ত শুরু করে। ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডি অভিযোগপত্র দেয়। এতে হরকাতুল জিহাদের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান, বিএনপি সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।
ওই অভিযোগপত্রভুক্ত আট আসামি পলাতক আছেন। এঁদের মধ্যে যমজ ভাই মোত্তাকিন ও মোরসালিন ভারতের কারাগারে আটক আছেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ মামলার অধিকতর তদন্ত হয়। গত রোববার আরও ৩০ জনকে আসামি করে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এ নিয়ে মামলার মোট আসামির সংখ্যা হলো ৫২ জন।

সাবেক ৩ আইজিপি কারাগারে

ঢাকা, জুলাই ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় আত্মসমর্পণের পর সাবেক তিন পুলিশপ্রধান মো. আশরাফুল হুদা, খোদা বখশ ও শহুদুল হককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পুলিশের মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালনকারী এ তিন জন।

আদালতে তিন জনের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলেও হাকিম কেশব রায় চৌধুরী শুনানির পর তা নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তিন সাবেক আইজিপি কারাগারে প্রথম শ্রেণীর বন্দির মর্যাদা ও সুচিকিৎসার আবেদন করলে হাকিম এ বিষয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পুলিশের এ তিন সাবেক প্রধানসহ ৩০ জনকে আসামির তালিকায় যোগ করে আগের দিনই আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

নতুন আসামিদের মধ্যে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের নামও রয়েছে।

আগের মতোই হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় আলাদা দুটি সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। এর পরপরই হত্যামামলায় তারেক ও সাবেক তিন আইজিপিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন হাকিম কেশব রায়।

সম্পূরক অভিযোগপত্রে নতুন ৩০ জনসহ দুই মামলায় মোট আসামি সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২ জনে।

জামিন আবেদনের শুনানিতে হুদার আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো বলেন, তারা জানতে পেরেছেন, এ তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা দেননি।

"এ অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হতে পারে, এ মামলা নয়। কারণ তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিতও ছিলেন না। এদের কেউ গ্রেনেডও ছোড়েননি", বলেন তিনি।

ঘটনার সময় আশরাফুল হুদা যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে সন্ত্রাসবিরোধী একটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ছিলেন বলে আদালতকে জানানো হয়।

আশরাফুল ২০০৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে পরের বছর ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৩ মাস ২ দিন পুলিশের মহাপরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করার অনুমতি পেলেও পরে কীভাবে সমাবেশস্থল পরিবর্তন হয়, তার উল্লেখ অভিযোগপত্রে নেই বলে জানান আসামি পক্ষের আইনজীবী টিটো।

শহুদুল ও খোদা বখশের পক্ষে শুনানিতে ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেন, শহুদুল ক্যান্সারাক্রান্ত এবং খোদা বখশ হৃদরোগী।

জামিন না হলেও আসামিদের ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আসামিদের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, মোখলেসুর রহমান বাদল।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ' আহত হন।

বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময় এ মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডি কর্মকর্তা ফজলুল কবীর ২২ জনকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরে রাষ্ট্র্রপক্ষের আবেদনে ২০০৯ সালের ৩ অগাস্ট আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয়। এরপরই সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কাহহার আকন্দ মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পান, রোববার তার তদন্ত প্রতিবেদন দিলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিবি/এমআই/১৪১০ ঘ.

তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ঢাকা, জুলাই ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পলাতক ১৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী রোববার সন্ধ্যায় এই পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। পাশাপাশি ওই ১৮ জনের মালামাল ক্রোকেরও পরোয়ানা জারি হয়েছে।

এই ১৮ জন হলেন- তারেক রহমান, খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হানিফ, অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বখশ চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত এএসপি আব্দুর রশিদ ও মুন্সী আতিকুর রহমান, বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এটিএম আমিন, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর হোমায়রা ওরফে পীর সাহেব বাবা, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, বাবু ওরফে রাতুল বাবু, মো. ওবায়দুর রহমান, খান সাইদ হাসান।

একই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে জমা দেওয়া সম্পূরক অভিযোগপত্রটি মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পিপি জানান।

এর আগে দুপুরে তারেক, হারিছ, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে আসামির তালিকায় যোগ করে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মমালায় তারেককে পলাতক দেখানো হয়েছে বলে আবদুল্লাহ আবু জানান।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ' লোক আহত হন।

বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময় এ মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডি কর্মকর্তা ফজলুল কবীর ২২ জনকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরে রাষ্ট্র্রপক্ষের আবেদনে ২০০৯ সালের ৩ অগাস্ট আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয়। এরপরই সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কাহহার আকন্দ মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পান।

রোববার আব্দুল কাহহার আকন্দের পক্ষে সিআইডির পরিদর্শক সামিউল বাসিত ওই ঘটনায় দায়ের হত্যা মামলায় একটি এবং বিস্ফোরক মামলায় আরেকটি অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন।

অভিযোগপত্র জমা পড়ার পর ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের জানান, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তারেক প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই হামলা পরিকল্পনা করেন এবং আসামিদের পালাতে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অভিযোগ করেছে, ১৪টি মামলার আসামি তারেককে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদে সোমবার ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ-সমাবেশও করবে বিএনপি।

সম্পূরক অভিযোগপত্রে নতুন ৩০ জনসহ দুই মামলায় মোট আসামি সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২ জনে। এ ছাড়া ৮৩ জনকে নতুন করে সাক্ষী করা হয়েছে। এদের নিয়ে দুই মামলায় এখন সাক্ষীর সংখ্যা ৪৯১ জন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিবি/এমআই/জেকে/১৯২৬ ঘ.

Friday, June 24, 2011

অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পের ২২টি বিলবোর্ড অপসারণ


রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) গতকাল রাজধানীর বনানী থেকে শুরু করে বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পের বিলবোর্ড অপসারণ করে। রাজউকের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের অধীনে দিনব্যাপী এ অভিযানে পাঁচটি আবাসন প্রকল্পের ২২টি বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়।
আবাসন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ হিসেবে এ উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে রাজউক। রাজউক মঙ্গলবার থেকে এ অভিযান শুরু করে। 
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সকালে নগরের বনানী এলাকা থেকে বিলবোর্ড-সাইনবোর্ডগুলো অপসারণের কাজ শুরু হয়। বনানীতে ওমেগা রিয়েল স্টেটের বিলবোর্ড অপসারণের মধ্য দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। দিনব্যাপী অভিযানে ওমেগা রিয়েল স্টেট, জেনোভ্যালি পিংক সিটি, ফোর সিজনস হোল্ডিংস, গ্রীন কনসেপ্ট হাউজিং ও বেস্টওয়ে গ্রুপের ২২টি বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়। বনানী, নেভি হেডকোয়ার্টারের বিপরীতে, জিয়া কলোনির সামনে, খিলক্ষেতের কুড়াতলী এলাকা থেকে এসব বিলবোর্ড সরানো হয়। 
অভিযান পরিচালনাকারী দলের সূত্র জানিয়েছে, বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড অপসারণকালে তাঁরা কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়েননি। তবে বিলবোর্ডগুলো অনেক উঁচুতে থাকার কারণে অপসারণে বেশি সময় লেগেছে। বিকেলের মধ্যেই অভিযান পরিচালনাকারী দল নির্ধারিত কাজ শেষ করতে পেরেছে। অভিযান শেষে অপসারণ করা বিলবোর্ড-সাইনবোর্ডগুলো ট্রাকে করে রাজউকের মহাখালী গোডাউনে নেওয়া হয়। এগুলো সেখানে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে রাজউক কর্তৃপক্ষ। 
রাজউকের উপনগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশের আলোকে অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পের বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড অপসারণে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চলবে।’ 
মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে গতকালের অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট রোকনউদ্দৌলা, দুজন অনুমোদনকারী কর্মকর্তা, একজন সহকারী পরিকল্পনাবিদ, সার্ভেয়ারসহ ১৩ জনের একটি দল অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে এক প্লাটুন পুলিশ ও ২০ জন শ্রমিক ছিলেন।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, অননুমোদিত আবাসন কোম্পানি ও প্রকল্পগুলো প্লট বিক্রির জন্য কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে না। রায়ে অননুমোদিত বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের প্লট-ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য প্রচারিত সব বিজ্ঞাপন ও এ-সংক্রান্ত সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড অপসারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কোকোর ৬ বছরের জেল



আরাফাত রহমান কোকো
বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া কোকোকে জরিমানা দিতে হবে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা। 
সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থের অবৈধ লেনদেনের দায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দিয়েছেন। সিঙ্গাপুর থেকে এই টাকার সমপরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতেও আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, টেলিযোগাযোগ খাতে সিমেন্সকে কাজ পাইয়ে দিতে এই অর্থ ঘুষ নিয়েছিলেন আরাফাত রহমান কোকো।
মামলার অপর আসামি সাবেক মন্ত্রী মরহুম লে. কর্নেল আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মনকে একই দণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালত মোট জরিমানা করেছেন ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা কোকো ও সায়মনকে অর্ধেক অর্ধেক করে দিতে হবে। 
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মোজাম্মেল হোসেন আসামি কোকো ও সায়মনকে পলাতক দেখিয়ে গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, আসামিদের আদালতে হাজির হয়ে মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তাঁরা হাজির হননি। আসামিরা গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণ করার তারিখ থেকে এ রায় কার্যকর হবে। 
জিয়া পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে এই প্রথম কোনো মামলার রায় দেওয়া হলো।
গতকাল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যেই বিচারক রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পড়ে শোনান। রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০২ সালের মানি লন্ডারিং আইনের ২(ক) আ, ই ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় দুজনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবী ‘প্রহসনের রায় মানি না’ বলে আদালতকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। 
মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল গত বছর ৩০ নভেম্বর। চলতি বছর ৪ জানুয়ারি কোকো পলাতক থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ শুরু হয়। ১৯ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেন। 
এর আগে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ রাজধানীর কাফরুল থানায় দুদক এ মামলা করে। সিঙ্গাপুরে ২৮ লাখ ৮৪ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার এবং নয় লাখ ৩২ হাজার ৬৭২ মার্কিন ডলার (সে সময়ের বাজারদর অনুযায়ী ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৮ টাকা) অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর কোকোকে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০০৮ সালের মে মাসে তাঁকে সাময়িক মুক্তি (প্যারোল) দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা এর মেয়াদ বাড়ানোর পর গত ১৪ আগস্ট প্যারোলের মেয়াদ শেষ হয়। ১৯ আগস্ট প্যারোল বাতিল করে ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশে ফিরতে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোকোর পক্ষে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট ৪০ দিনের জন্য প্যারোলের মেয়াদ বাড়ালেও এর শর্ত ভঙ্গ করায় আপিল বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এরপর বিচারিক আদালত কোকোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালত পরিস্থিতি: গতকাল বেলা ১১টার আগেই আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতকক্ষে জড়ো হন। ১১টা ২০ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। প্রথমেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানি হয়। এ মামলায় আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর আদালত থেকে জানানো হয়, দুপুর ১২টার পর রায় ঘোষণা করা হবে। এ সময় থেকেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতকক্ষের বাইরে ও আদালত চত্বরে মিছিল এবং ‘কোকোর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় প্রহসনের বিচার মানি না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। দুপুর ১২টার দিকে আদালত ভবনে আইনজীবীরা দলবদ্ধ হয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। 
গতকাল আদালত এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল থেকেই পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। 
কোকোর সাজার রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে আইনজীবীরা জড়ো হতে থাকেন। পরে তাঁরা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট ও আইনজীবী সমিতি ভবনের সংযোগ পথে রাখা ফুলের টব ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া দ্বিতীয় তলা থেকে ফুলের টব ছুড়ে ফেলে দিলে নিচে থাকা দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
অন্যদিকে রায় ঘোষণার পর আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা রায়কে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেন।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া: রায়ের পর দুদকের প্রধান কৌঁসুলি আনিসুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সিমেন্সের একটা ঘুষ কেলেঙ্কারি তদন্ত করতে গিয়ে কোকোকে ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে তথ্য পায়। সেই কাগজপত্র থেকে শুরু হয় অনুসন্ধান, পরে এজাহার করা হয়। তথ্যটা যেহেতু এফবিআই থেকে প্রাপ্ত, এখানে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বেলা দুইটার দিকে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিজ কক্ষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। 
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘সিমেন্স এফবিআইয়ের কাছে দোষ স্বীকার করেছে। আমরা সিঙ্গাপুরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করেছি। সিঙ্গাপুরের সেই ব্যাংকে কোকোর পাসপোর্টের একটা ফটোকপি দেওয়া হয়েছিল।’ কোকোর সাজা কার্যকর করতে হলে কী করতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘কোকো বর্তমানে যে দেশে রয়েছেন, সেই দেশের সঙ্গে প্রত্যাবর্তন চুক্তি থাকলে তা কার্যকর করতে পারে। এটা সরকারের ব্যাপার। আমি মন্তব্য করতে চাই না।’ 
দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে বলেন, দুদকের ২১ সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত রায় দিয়েছেন। 
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন নিজ কার্যালয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন কোকোর মামলার ত্বরিত নিষ্পত্তির কথা বলেছিলেন, তখনই আশঙ্কা হয়েছিল, ত্বরিত নিষ্পত্তি মানে ত্বরিত শাস্তি। আমাদের সেই আশঙ্কা সত্যি হয়েছে।’ 
মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘নিম্ন আদালত যখন একটা রায় দিয়েছেন, তখন উচ্চ আদালতেই এর ফয়সালা হবে। এ মামলায় ত্রুটি আছে। তাই আশা করি, উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন কোকো।’ তিনি বলেন, ‘যখন এই মামলা উচ্চ আদালতে আসবে, তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকবে না। তখন দলীয়করণমুক্ত অবস্থায় উচ্চ আদালত ন্যায়বিচার করতে পারবেন বলে আমরা আশা করি।’ 
কোকোর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, গোলাম মোস্তফা খান ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার একে প্রহসনের রায় উল্লেখ করে রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। 
মামলার বিবরণ: মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, কোকোর দেওয়া আয়কর বিবরণী ও দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সিঙ্গাপুরে তাঁর হিসাবে অর্থ জমা বা উত্তোলনের কোনো উল্লেখ নেই। সিঙ্গাপুরে জ্যাজ ট্রেডিং অ্যান্ড কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং ফারহিল কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড নামে কোকোর দুটি কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার সময় তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। যেসব সূত্র থেকে অর্থ জমা হয়েছে তাদের সঙ্গে কোকোর কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্কও ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি অবৈধ উপায়ে এ অর্থ আয় করেন। 
এজাহারে বলা হয়েছে, ইউওবি ব্যাংকের জ্যাজের হিসাবে ২০০৫ সালের ৬ মে এবং ৩১ মে নয় লাখ ২০ হাজার ৯৮৬ দশমিক ৫৭ এবং আট লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৭৭ সিঙ্গাপুর ডলার জমা হয়। চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি থেকে এই অর্থ পাঠানো হয়। একই বছরের ১ আগস্ট নিউইয়র্ক থেকে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পাঠানো হয় আরও আট লাখ ২৯ হাজার ৭০৫ দশমিক ৮১ সিঙ্গাপুর ডলার। এর বাইরে জ্যাজের হিসাবে ২০০৫ সালের ৬ অক্টোবর আবারও এক লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার (তিন লাখ তিন হাজার ২৫৪ সিঙ্গাপুর ডলার) জমা হয়। ওই অর্থ জুলফিকার আলী নামের এক ব্যক্তি সিঙ্গাপুরের আরেকটি ব্যাংকের হিসাব থেকে হস্তান্তর করেন। জুলফিকার আলী টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিমেন্সের পরামর্শক। 
সিমেন্স বাংলাদেশকে তিনি রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাজ পাইয়ে দিতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন। টেলিটকের কাজ পেতে সিমেন্স কোকোসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের যে ঘুষ দিয়েছিল, তা প্রমাণিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালত কোম্পানিটির বিরুদ্ধে জরিমানার রায় দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধও করেছে সিমেন্স। 
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, জ্যাজের হিসাব থেকে বিভিন্ন দফায় কোকোর সইয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। হিসাবে ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫৪ দশমিক ১৫ সিঙ্গাপুর ডলার জমার বিপরীতে বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে আট লাখ ৭২ হাজার ৮৬ দশমিক ৭৭ সিঙ্গাপুর ডলার উত্তোলন করেন কোকো। ২০০৫ সালের ২৯ জুলাই আট লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৭৭ সিঙ্গাপুর ডলার ইসমাইল হোসেনকে দেওয়া হয়। 
জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগে ২২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো, নাইকো, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাৎ-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে। তারেকের বিরুদ্ধে করা অর্থ পাচারের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ জুলাই দিন ধার্য রয়েছে। বাকি মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

Monday, June 20, 2011

সাঈদীকে দিয়ে বিচার শুরু

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আগামী মাসে (জুলাই) এ বিচার শুরু হওয়ার কথা।
গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারবিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেছেন, আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে দুজনের বিচার শুরু হবে। অন্য যাঁরা আটক আছেন, তাঁদের বিচার আগস্টে শুরু করা যাবে।
এদিকে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ১ আগস্টের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. কামারুজ্জামান এবং আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ১২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার সূত্রগুলো জানায়, এই চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আগস্ট মাসে এঁদের বিচার শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে স্টিয়ারিং কমিটির সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সভায় প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থার সঙ্গে কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে দুজনের বিচার শুরু হবে। এ ছাড়া অন্য যাঁরা আটক আছেন, তাঁদের বিচার শুরু হবে আগস্টে। তাঁদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। আনুষঙ্গিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি আছে কি না, এ বিষয়ে কথা হয়েছে। সাক্ষী সুরক্ষার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে কোন দুজনের বিচার আগামী মাসে শুরু হচ্ছে, এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী কিছু বলেননি।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বৈঠকের বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন যা চায়, তা দ্রুত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় উপস্থিত অপর এক মন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি তদন্ত সংস্থার বাজেট নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তদন্ত সংস্থাকে যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তা ফিরিয়ে না দিয়ে সংস্থার কাজে লাগানোর বিষয়ে তিনি মতামত দেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু প্রমুখ।
যথাযথ প্রক্রিয়া মানা হবে: সন্ধ্যায় বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাঁদের সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের সামনে সব সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে যে সাক্ষ্য আসবে, তাঁদের জেরা করার সুযোগ থাকবে। চাইলে সাফাই সাক্ষী দিতে পারেন। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই বিচার সম্পন্ন হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই বিচারে কোনো ঘাটতি থাকবে না।’
সেফ হোমে (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্ধারিত বাড়ি) চাপ প্রয়োগের অভিযোগ নাকচ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারটিকে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য করার স্বচ্ছতা নিয়েই এগোনো হচ্ছে। কোনো মহল থেকে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সেই ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশ থেকে পর্যবেক্ষক আসতে চাইলে তাঁদেরও বসার ব্যবস্থা করা হবে ট্রাইব্যুনাল কক্ষে। তিনি বলেন, সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁদের আইনজীবী ও চিকিৎসকের সামনেই। কোনো চাপ দেওয়া হয় না।
বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের কাজে অর্থের ব্যাপারে কোনোরকম সমস্যা নেই। ট্রাইব্যুনালের কাজ এখন এমন পর্যায়ে আছে যে আগামী মাস থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের কাজে সমন্বয়ের অভাব নেই।
প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক সাতজনের মধ্যে ছয়জনকেই সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা নিজামীকে ৫ মে, মুজাহিদকে ৮ মে, সাকা চৌধুরীকে ১০ মে, সাঈদীকে ১২ মে, কামারুজ্জামানকে ১৪ জুন ও কাদের মোল্লাকে ১৫ জুন সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সাঈদীর পর সাকা: তদন্ত সংস্থার একটি সূত্র জানায়, সাঈদীর পর সাকা চৌধুরীর বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১১ জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে। এর পরপরই আসবে সাকা চৌধুরীর বিষয়টি।
সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনার বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের নিবন্ধক মো. শাহিনুর ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১ আগস্টের মধ্যে সাকা চৌধুরীর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তদন্ত শেষ না হলে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়া যাবে।
গত ৩১ মে তদন্ত সংস্থা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান প্রসিকিউটরের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) কাছে জমা দিলে ট্রাইব্যুনাল ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More