Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label World. Show all posts
Showing posts with label World. Show all posts

Monday, July 25, 2011

হামলার আরও ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসবে

  • নরওয়ের রাজধানী অসলোয় শুক্রবারের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক সমাবেশে কাঁদছেন দুই শোকার্ত ন� নরওয়ের রাজধানী অসলোয় শুক্রবারের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক সমাবেশে কাঁদছেন দুই শোকার্ত নারী।
    ছবিটি গতকাল তোলা এএফপি
  • প্রধানমন্ত্রী স্টলটেনবার্গ: স্তম্ভিত প্রধানমন্ত্রী স্টলটেনবার্গ: স্তম্ভিত
1 2
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, হামলায় নিহত ব্যক্তিদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। সবার নাম প্রকাশ করা হলে হামলার আরও ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজধানী অসলোর প্রধান গির্জায় শোকে মুহ্যমান শত শত মানুষের সামনে প্রধানমন্ত্রী স্টলটেনবার্গ গতকাল রোববার এ কথা বলেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেবার পার্টির যুব শাখার সদস্যসহ নিহত সবার পরিচয় ও ছবি যত দ্রুত সম্ভব প্রকাশ করা হবে। তখন নৃশংস এই ঘটনার প্রকৃত ভয়াবহতা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশ ছোট। কিন্তু আমরা গর্বিত জাতি। আমরা কখনোই আমাদের মূল্যবোধ থেকে সরে যাব না। স্টলটেনবার্গ বলেন, নৃশংস এই হামলা সত্ত্বেও আমরা প্রকৃত গণতন্ত্র, উদারতা ও মানবিকতার দিকে এগিয়ে যাব।
দেশটির গির্জার প্রধান যাজক ওলে ক্রিশ্চিয়ান কেভারমে শোকার্ত জনতার উদ্দেশে বলেন, আমরা শোকের চিহ্ন নিয়ে এখানে সমবেত হয়েছি। সঙ্গে আশাও জিইয়ে রাখতে হবে।
যুক্তরাজ্যের রানির শোক: নরওয়েতে জোড়া সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ডের কাছে পাঠানো এক শোক বার্তায় বলেন, এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। রাজা ফিলিপসহ আমি নরওয়ের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সন্ত্রাসী হামলায় হতাহত সবার প্রতি আমাদের প্রার্থনা ও শুভকামনা রইল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন। এ সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন এ ঘটনা তদন্তে ব্রিটিশ পুলিশের সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
পোপের শোকপ্রকাশ: নরওয়েতে হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট। গতকাল রোববার নিজের গ্রীষ্মকালীন বাসভবনে এই শোক প্রকাশের কথা জানান। ঘৃণ্য এই পথ থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পোপ বেনেডিক্ট বলেন, আমরা হামলায় নিহতদের জন্য প্রার্থনা করি। আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাই।
গত শুক্রবার জোড়া সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত হয় নরওয়ে। রাজধানী অসলোতে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় সাতজন। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ কয়েকটি সরকারি ভবন। এর কিছুক্ষণ পর রাজধানীর দক্ষিণে একটি দ্বীপে দেশের ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের সম্মেলনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয় ৮৫ জন। এএফপি, বিবিসি।

Sunday, July 24, 2011

বাধ্য হয়েই জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য আবেদন করছি

মাহমুদ আব্বাস মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা বাধ্য হয়েই জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে যাচ্ছে। অধিকৃত এলাকায় বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান ইসরায়েল বারবার প্রত্যাখ্যান করায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
গতকাল শনিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে মাহমুদ আব্বাস এ কথা বলেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য সাধারণ পরিষদে আবেদন জানাবে ফিলিস্তিন। বিষয়টির প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে কূটনীতিকদের সঙ্গে এ বৈঠকে বসেন আব্বাস। সেখানে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তাইয়িপ এরদোগানও উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘে যাওয়ার ব্যাপারে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি একতরফা নয়, বরং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিষয়টিই একতরফা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এএফপিকে বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনের প্রস্তুতি আগামী ৪ আগস্ট চূড়ান্ত করা হবে। ওই দিন দোহায় আরব মনিটরিং কমিটির সভা হবে। কাতার, মিসর ও সৌদি আরব ওই সভায় যোগ দেবে। ওই কূটনীতিক আরও বলেন, এরপর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ওয়াশিংটনের উদ্যোগে গত সেপ্টেম্বরে আবার শুরু হয়। কিছুদিন পর তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে মাহমুদ আব্বাস বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অধিকৃত এলাকায় বসতি স্থাপন বন্ধ করতে রাজি হয়নি। ১৯৬৭ সালের সীমানা প্রশ্নে সমঝোতা আলোচনায় বসতেও তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ জন্যই তাঁর সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় বসা সম্ভব হয়নি।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সমঝোতায় পৌঁছানো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের মতো আমরাও সাধারণ পরিষদের, জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি।’
আব্বাস বলেন, ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি দখলদারির শিকার হয়। এখনো তা থেকে মুক্ত হয়নি ফিলিস্তিন।
আব্বাস বলেন, ‘এর মধ্যে ১১৮টি দেশ ১৯৬৭ সালের ওই যুদ্ধের আগের সীমানা অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। আশা করি, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ সংখ্যা ১৩০ হবে।’ এএফপি।

Friday, July 15, 2011

জাতিসংঘের সদস্য পদ পেল দক্ষিণ সুদান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গতকাল বৃহস্পতিবার আফ্রিকার সদ্য স্বাধীন দেশ দক্ষিণ সুদানকে সংস্থাটির ১৯৩তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ কথা জানানো হয়েছে। 
প্রায় দুই দশকের সংঘাতের পর ৯ জুলাই স্বাধীন দেশ হিসেবে দক্ষিণ সুদান পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। 
উত্তর ও দক্ষিণ সুদানের দীর্ঘ সংঘাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার প্রশ্নে গত জানুয়ারিতে দেশটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে দক্ষিণ সুুুদানের জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে মত দেয়।
দক্ষিণ সুদানকে জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে গতকাল সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি হয়। জাতিসংঘের ১৯৩তম সদস্য হিসেবে সর্বসম্মতভাবে দক্ষিণ সুদান স্বীকৃতি পাওয়ার সাধারণ পরিষদে হর্ষধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। 
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘স্বাগত দক্ষিণ সুদান। জাতিসংঘে স্বাগত।’ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জেসেফ দাইস তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটা একটা ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন মুহূর্ত।’
সদস্য পদ প্রাপ্তির পরপর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে দক্ষিণ সুদানের পতাকা ওড়ানো হয়।
এর আগে গত বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে সর্বসম্মতভাবে দক্ষিণ সুদানকে সংস্থাটির সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

Wednesday, July 13, 2011

ভিন্ন ধারার মার্কিন কূটনীতিক ক্রিস্টি কেনি

একজন সেনা প্রশিক্ষকের সহায়তায় থাই সামরিক হেলিকপ্টার থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে নামছেন ক্রিস্টি কেন
একজন সেনা প্রশিক্ষকের সহায়তায় থাই সামরিক হেলিকপ্টার থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে নামছেন ক্রিস্টি কেনি
এএফপি
কখন গলা ব্যথা করছে, কখন খেতে ইচ্ছা করছে লাচ্ছি, কখন ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ে ত্যক্তবিরক্ত—নিজের এসব ব্যক্তিগত খবর ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানছে তাঁর কথা। অথচ একজন কূটনীতিক সাধারণত এভাবে নিজেকে প্রকাশ করেন না। 
তিনি থাইল্যান্ডে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টি কেনি। কূটনীতিকেরা সাধারণত যে কেতাদুরস্ত ভাব নিয়ে রাখঢাকের ভেতর থাকেন, ক্রিস্টি তেমন নন। ৫৬ বছর বয়সী এই নারী কূটনীতিক বলেছেন, ‘কূটনীতি হচ্ছে সম্পর্কের উন্নয়ন। অবশ্য তা দুটি দেশের মধ্যে। এ ছাড়া দুই দেশের মানুষের মধ্যেও হূদ্যতা বাড়াবেন তাঁরা।’
কেনির প্রতিদিনের কাজের ব্যাপারে টুইটারের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার লোক খোঁজখবর রাখে। কেনি বলেন, ‘সাধারণ লোকজনের সঙ্গে এভাবেই আমার চেনাজানা হয়। এর মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে, একজন কূটনীতিককেও কাছে পাওয়া যায়। তারা বুঝতে পারে, একজন কূটনীতিক একটি বড় ভবনের মধ্যে আটকে থাকা কোনো ব্যক্তি নন।’ 
গত বছর আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস প্রকাশিত গোপন তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংককে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক জন এক তারবার্তায় থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। গত জানুয়ারিতে কেনিকে থাই রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্যাংককে পাঠায় ওয়াশিংটন। 
থাইল্যান্ডের মানুষের কাছাকাছি যেতে কেনি সে দেশের ভাষা শিখেছেন। থাই ভাষায় দারুণ পারদর্শিতার জন্য এক মাস আগে তাঁকে পুরস্কার দিয়েছে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, কেনি ইন্টারনেটের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি যেতে সে দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিও রপ্ত করছেন। কূটনীতির ক্ষেত্রে কেনির এই সামাজিক কর্মকাণ্ড ও যোগাযোগ কোনো উপকারে আসবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। এএফপি।

Sunday, July 10, 2011

আজ স্বাধীন হচ্ছে দক্ষিণ সুদান

দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবায় গতকাল স্বাধীনতা উদ্যাপন অনুষ্ঠানের মহড়ায় অংশ নেয় এক দল শিক্ষার্থ� দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবায় গতকাল স্বাধীনতা উদ্যাপন অনুষ্ঠানের মহড়ায় অংশ নেয় এক দল শিক্ষার্থী
এএফপি
আজ ৯ জুলাই। বিশ্বের মানচিত্রে যোগ হচ্ছে নবীনতম রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান। আফ্রিকা মহাদেশের বৃহত্তম দেশ সুদান ভেঙে জন্ম নিচ্ছে এই দেশটি। আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন হওয়ার প্রাক্কালে গতকাল শুক্রবার রাজধানী জুবার রাস্তায় নেচেগেয়ে আনন্দ করে দেশটির মানুষ।
সাবেক যোদ্ধা, সেনাসদস্য ও বেসামরিক লোকজন গতকাল প্রখর রোদ উপেক্ষা করে রাজধানী জুবায় শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া লোকজনের অনেকের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক। অনেকেই নেচে নেচে ড্রাম বাজাচ্ছিল।
আজকের মূল অনুষ্ঠানটি হবে বিদ্রোহী নেতা জন গারাংয়ের সমাধিস্থলে। ২০০৫ সালের শান্তিচুক্তির মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দক্ষিণের বিদ্রোহী এই নেতাকে হত্যা করা হয়। ওই শান্তিচুক্তির মাধ্যমে অবসান হয়েছিল কয়েক দশকের সংঘাতের।
জাওয়ার ডসন (২৮) নামের এক স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘স্বাধীনতা পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত।’
তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান উদ্যাপনের জন্য যেসব দেশের প্রতিনিধিরা এখানে আসছেন, আমি সেই সব দেশকে স্বাগত জানাতে চাই। আমরা নিজেদের সেরাটা দেখাতে চাই।’
আফ্রিকার ৩০ জন নেতাসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। দক্ষিণ সুদানের লাখো মানুষ সেখানে উপস্থিত থাকবে।
শুক্রবার মধ্যরাতে গির্জায় ঘণ্টা বাজানো হবে। মূল অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সামরিক কুচকাওয়াজ, প্রার্থনা, দক্ষিণ সুদানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন। এ ছাড়া দক্ষিণ সুদানের প্রথম প্রেসিডেন্ট সালভা কির দেশের অন্তর্বর্তী সংবিধানে স্বাক্ষর করবেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের গতকাল জুবায় পৌঁছানোর কথা। অন্যদিকে দক্ষিণ সুদানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা খার্তুমে সুদানের নেতা ওমর আল-বশিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দক্ষিণ সুদানের আয়তন ৬লাখ ১৯ হাজার ৭৪৫ বর্গকিলোমিটার। দেশটির জনসংখ্যা ৭৫ লাখ থেকে ৯৭ লাখের মধ্যে। এএফপি।

Saturday, July 2, 2011

বাদশাহর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে মরক্কোয় গণভোট


undefined
মরক্কোর রাজধানী রাবাতের কাছে সালে শহরে ভোট দিচ্ছেন এক নারী
এএফপি
মরক্কোর বাদশাহ মোহাম্মদের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে খসড়া সংবিধান অনুমোদনের জন্য গতকাল শুক্রবার দেশটিতে গণভোট হয়েছে। আরব বিশ্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য এ গণভোটের আয়োজন করা হয়।
তিউনিসিয়া ও মিসরে গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর মরক্কোতেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ তাঁর কিছু ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের কাছে হস্তান্তর করার লক্ষ্যে গত মাসে এ গণভোটের ঘোষণা দেন।
গতকাল মরক্কোর স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ওই ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। ভোটের জন্য দেশটির প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ ভোটার নিবন্ধন করা হয়। দেশটির মোট জনসংখ্যা তিন কোটি ২০ লাখ। খসড়া সংবিধান অনুসারে বাদশাহ মোহাম্মদই রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীর প্রধান থাকবেন। এ ছাড়া পার্লামেন্টে নির্বাচিত প্রধান দল থেকে প্রধানমন্ত্রী বাছাই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী হবেন মরক্কো সরকারের প্রধান।
রাজধানী রাবাতের নিকটবর্তী শহর সেলের একটি ভোটকেন্দ্র থেকে গতকাল এক সাংবাদিক জানান, ভোট দেওয়ার জন্য বেশ কিছু লোককে তিনি লাইনে দাঁড়াতে দেখেছেন। অবশ্য বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভোটাররা যে খসড়া সংবিধান অনুমোদন করবেন, সে বিষয়ে সন্দেহ খুবই কম। তবে তাঁদের প্রশ্ন একটাই, ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত ভোট পড়বে কি না?
১৯৯৯ সালে মোহাম্মদ ষষ্ঠ আরব বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা রাজতন্ত্র মরক্কোর বাদশাহ হন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অধিকতর গণতন্ত্র, উন্নত অর্থনৈতিক অবস্থা ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে দেশটিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলে। এরপর মোহাম্মদ রাজনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দেন।
এদিকে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা তাঁদের সমর্থকদের গতকালের ভোট প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, মরক্কোর সংস্কারের পরিকল্পনা ‘গণতন্ত্রের প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের একটি ইঙ্গিত।’
সংক্ষিপ্ত প্রচারণার সময় মরক্কোর প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল, ইউনিয়ন, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় নেতা ও সংবাদমাধ্যমগুলো খসড়া সংবিধানের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছে। তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। তবে একটি অংশ ‘না’ ভোটের পক্ষেও প্রচারণা চালিয়েছে।
হিলারির ঘোষণা: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন, ওয়াশিংটন সীমিত পরিসরে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করবে। হোসনি মোবারকের শাসনামলে মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ ছিল। তবে মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কট্টরপন্থী ইসলামিক দলটি বড় ধরনের শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এএফপি ও রয়টার্স।
প্রথম আলো

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বহির্বিশ্ব


undefined
যুদ্ধের অথবা সশস্ত্র সংগ্রামের প্রতিক্রিয়া, তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ, এমনকি পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সমাজেও গভীরভাবে অনুভূত হয়। আমাদের সমসাময়িক ইতিহাসে দুটি মহাযুদ্ধ তার প্রমাণই বহন করে। ক্রমশ ছোট হয়ে আসা বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের জীবনযাত্রার পটই পাল্টে দিল এই দুই মহাযুদ্ধ। একটি জাতির ইতিহাসে সশস্ত্র সংগ্রামের বেলায়ও তা-ই। কথায় বলে, ইট ইজ নেভার দ্য সেইম আফটার এ ওয়ার। যুদ্ধোত্তর অবস্থা তার আগের মতো কখনো হয় না। অবশ্য সেই অবস্থা ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক, কিংবা দুই-ই হতে পারে।
আফগানিস্তানের বিষাদময় ইতিহাসের কথা মনে আসে। সেই দেশে কোন লগ্নে যুদ্ধ আর সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, তার ‘তারিখ-সাল’ নিয়ে ‘পণ্ডিতেরা বিবাদ’ করতেই পারেন। ২০০১ সালের অক্টোবরে বুশ সাহেব ৯/১১-এর তথাকথিত প্রতিক্রিয়ায় উষ্মাভরে ‘শ্রাবণের বর্ষণের মতো’ বোমা ফেলছিলেন। তখন ২০০১ সালের অক্টোবরে একজন সাংবাদিকের দায়িত্বে আমি পেশোয়ার তথা আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে বোমা-আক্রান্ত অনেক আফগান বাস্তুহারার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। তাঁদের একজন ছিলেন প্রফেসর দোস্ত মোহাম্মদ। প্রায় আমারই বয়সী, অর্থাৎ ১০ বছর আগে তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৬৫ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিংয়ের পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই মানুষটি আফগানিস্তানের জালালাবাদ ইউনিভার্সিটিতে মাইক্রোবায়োলজি পড়াতেন। তিনি আফগানিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, আর আফগানিস্তানের ভাগ্য নিয়ে ১০০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রসুদ্ধ বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপের কথা বর্ণনা করে বলেছিলেন, ‘তবে বুশ সাহেব কী করছেন, তা জানেন না। তিনি আস্ত একজন ইডিয়ট।’ তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চাই আপনি আপনার পত্রিকার মারফত পৃথিবীকে বলুন যে আমি মনে করি, বুশ সাহেব একজন “আস্ত” ইডিয়ট। বলতে পারবেন তো আপনি? স্বাধীনতা আছে আপনাদের মত প্রকাশের...?’ সাক্ষাৎকারটি সেই অক্টোবরেই প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছিল।
দোস্ত মোহাম্মদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পর একটি কথা বারবারই মনে এসেছে। আফগানিস্তানে এমনটি হওয়ার প্রধান কারণ দুটি। প্রথম হলো, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং দ্বিতীয়টি হলো, দেশ পরিচালনায় শাসকদের চরম ব্যর্থতা।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতার সম্পূরক হিসেবে আমাদের নিয়ে এল একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাময় একটি ভুবনে। সেই সম্ভাবনা আমরা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। একটি ভাবনা তো রয়েছেই, এবং যুক্তিযুক্ত সেই ভাবনা যে স্বাধীনতার চার দশক পরও আমাদের জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি কল্পনাবিলাস। স্বাধীনতার চার দশক পরও আমরা কাঙ্ক্ষিত রাজনীতির, গ্রহণযোগ্য জীবনযাত্রার, আর স্থিতিশীল উন্নয়নমুখী সমাজ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা যেন অনুভব করছি না। চক্রান্ত আর হত্যার রাজনীতি, দফায় দফায় স্বৈরাচার, নানা ঢঙের সামরিক শাসন, রকমারি নির্বাচন, আর সংবিধান নিয়ে দাবা খেলা—আমাদের অপ্রিয় অভিজ্ঞতার যেন অন্ত নেই। তার জন্য কোনো দল বা গোষ্ঠীকে এককভাবে দায়ী করা হবে রাজনৈতিক অপরিপক্বতা। তার জন্য দায়ী আমরা, আমাদের প্রজন্ম। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে উত্তরণের দায়িত্বও আমাদের, আমাদের প্রজন্মের।
এই নিবন্ধ আমি লিখতে বসেছি আজ ১৭ আষাঢ়, ১৪১৮ বঙ্গাব্দ, ১ জুলাই ২০১১ সালের মুষলধারে বৃষ্টিস্নাত প্রভাতে। লিখতে বসেছি আজকের সংবাদপত্রে তিনটি খবর পড়ে, গভীরভাবেই বিচলিত চিত্তে।
প্রথম খবরটি হলো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের একটি উক্তি। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ মানুষ জামায়াতের সমর্থক এবং তারা প্রচণ্ড ভারতবিদ্বেষী। তাদের নিয়ে আইএসআই নানা রকম চক্রান্ত করছে। কাজেই যেকোনো সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে।’
উক্তিটি আমাকে বিস্মিত ও হতবাক করেছে কয়েকটি কারণে। প্রথম হলো, উক্তিটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থার ওপর। একজন প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রের সরকারপ্রধানের প্রকাশিত এই উক্তি কি ‘মহারথী প্রথা’; দ্বিতীয় হলো, কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক ভোটারদের কত শতাংশ, তা জানার একমাত্র গ্রহণযোগ্য উপায় হলো নির্বাচনের পরিসংখ্যান। আমাদের কোনো নির্বাচনের পরিসংখ্যান কি তাই বলে? তৃতীয়ত, অন্য অনেক দেশের প্রথার মতো ভারতেও সিনিয়র সম্পাদকদের উচ্চপর্যায়ে ‘ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিং’ দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু তা সাধারণত প্রকাশিত হয় না, কারণ সম্পাদকেরা রিপোর্টার নন। তাহলে এ ক্ষেত্রে কেন তা প্রকাশিত হলো? চতুর্থত, এতে লাভবান হবে কে বা কারা? পঞ্চমত, আমাদের দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক, যা বিবর্তমান, তা যদি আমরা পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্বন্ধে প্রকাশ্য মন্তব্যের পর্যায়ে টেনে নামাই, তাহলে আমরা কোন পথে চলেছি?
আমি বিশ্বাস করি যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ সফর আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে একটি সত্যিকারের গঠনমূলক পর্যায়ে উন্নীত করার সুযোগ এনে দেবে। তা দুই দেশের মানুষের জন্যই কল্যাণকর হবে। আমি সর্বান্তঃকরণে আশা করব যে এ ধরনের প্রকাশ্য উক্তি আমাদের আশার গুড়ে বালি ফেলবে না।
দ্বিতীয় খবর হলো, ভারতে নিযুক্ত বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিমোথি রোমার বলেছেন যে ‘বাংলাদেশ বিষয়ে তাঁরা (যুক্তরাষ্ট্র আর ভারত) ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।’ এটা যুক্তরাষ্ট্র আর ভারতের একান্ত বিষয়। এতে আমাদের মর্মাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে বাংলাদেশ সম্বন্ধে ভারতকে জ্ঞানদান করবে যুক্তরাষ্ট্র? এই সংকুচিত পৃথিবীও তাতে অবাক হবে। যুক্তরাষ্ট্র যে দেশের বন্ধু, তার কি শত্রুর প্রয়োজন রয়েছে? প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করুন পাকিস্তানে? যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতার কারণে আজ একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যে দেশ গতকালই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বেলুচিস্তানের একটি বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে। প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করুন সবাইকে বাদ দিয়ে, আফগানিস্তানের ক্রীড়নক প্রেসিডেন্ট কারজাইকে, যিনি সম্প্রতি বলেছেন যে আমেরিকানরা ‘তাদের নিজের স্বার্থে এবং নিজের লক্ষ্যে আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে।’
তৃতীয় খবরটিও পীড়াদায়ক। ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালান ডানকান লন্ডনে তাঁর মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি যথার্থভাবেই বলেছেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কামনা করে।
আফগানিস্তানের মতোই বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এবং চীনসমেত উত্তর এশিয়ার মধ্যকার সেতুবন্ধ। ১৬ কোটি মানুষের অমিত সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। আমরা একই ভাষায় কথা বলি, উন্নয়নের একই স্বপ্ন আমাদের চোখে। যে দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রাণ দিয়েছে, তারা স্বাধীনতা রক্ষার জন্যও প্রাণ দেবে। আমাদের গত ছয়-সাত দশকের ইতিহাস ধাপে ধাপে সামনে এগোনোর রোমাঞ্চকর ইতিহাস। যুক্তিসংগত কারণেই বাংলাদেশের প্রতি প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশসমেত বহির্বিশ্বের গভীর আগ্রহ রয়েছে। এই অঞ্চলেও বাংলাদেশের বিশেষ একটি ভূমিকা রয়েছে। আমাদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের যে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, আমাদের নীতিনির্ধারকদের তা অনুধাবন করতে হবে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপোড়েন যাতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কে প্রতিফলিত না হয়, আমরা যাতে এমন কোনো অবস্থার সৃষ্টি না করি, যা বহির্বিশ্বকে হস্তক্ষেপ ও খবরদারির সুযোগ এনে দেয়—অন্যান্য বিবেচনা ছাড়াও ১/১১-এর কথা স্মরণে রেখেই আমি এই সাবধানবাণী উচ্চারণ করছি। আমাদের রাজনীতিবিদেরা যদি দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হন, তাহলে এত অর্জন আর আশা নিয়েও আমরা আফগানিস্তানের মতো একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারি।
আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের কারও হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অতএব এই দেশের পরিচালনা আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দূরদর্শিতার সঙ্গেই করবেন—এই আশা আমাদের রয়েছে। এই কথাগুলো নিছক আবেগ উচ্চারিত নয়, সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞ একজন প্রবীণ কূটনীতিকের চেতনাঋদ্ধ এবং হূদয়নিংড়ানো উপলব্ধি।
ফারুক চৌধুরী: সাবেক পররাষ্ট্রসচিব। কলাম লেখক।
zaaf@bdmail.net
ফারুক চৌধুরী , প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More