Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label জালিয়াত. Show all posts
Showing posts with label জালিয়াত. Show all posts

Tuesday, July 26, 2011

আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন এ রাজা

ভারতের সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ রাজা ২জি (দ্বিতীয় প্রজন্মের) মোবাইল ফোনের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল সোমবার নয়াদিল্লির একটি বিশেষ আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
লাইসেন্স দেওয়ার সময় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে এ রাজাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। ভারতের জাতীয় নিরীক্ষকের মতে, এই দুর্নীতির ফলে সরকারের চার হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে। তবে আদালতে কৌঁসুলিরা দাবি করেন, পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, এই দুর্নীতির ঘটনায় সরকারের ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়।
এ ঘটনায় ভারতের ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) শরিক দল ডিএমকের নেতা এ রাজার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে গতকাল রাজার আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়। বিবৃতিতে রাজা বলেন, লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের নীতি অনুযায়ীই তিনি সব পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ কারণে যদি তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ হয়, তাহলে ১৯৯৩ সালের পর ভারতের সব টেলিযোগাযোগমন্ত্রীকে তাঁর সঙ্গে কারাগারে থাকতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ সিদ্ধান্তে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কীভাবে শুধু একজনের বিচার হয়?
সাবেক মন্ত্রী রাজা গত ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তিনিসহ এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৬ জনের বিচার চলছে। এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।প্রথম আলো

Tuesday, July 12, 2011

তারপর থাকে শুধু অন্ধকার

মহাজোট সরকার তার ক্ষমতারোহণের মাত্র আড়াই বছরের মাথায় উপর্যুপরি হরতাল ডেকে আনল কেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিষয়ক উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি, কাজেই সরকার চাইলেই সময় নিতে পারত, সংবিধানের যে সংশোধনী সরকার এখন করেছে, সেটা তারা আরও দুই বছর পরও করতে পারত। সে ক্ষেত্রে আজকের এই হরতাল-আন্দোলনের মুগুরাঘাত থেকে জনগণ অন্তত দুটো বছরের জন্য মুক্ত থাকত। এখন বিরোধীরা যে আন্দোলন শুরু করেছে, তা আগামী আড়াই বছর ধরেই চলবে বলে ধরে নেওয়া যায়। সরকারের এই তাড়াহুড়োর কারণ কী? বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো রকমের সমঝোতার চেষ্টা না করে, জনগণকেও প্রস্তুত না করে হঠাৎ সংসদের বাজেট অধিবেশনেই কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হলো?
নীতিনির্ধারকদের মুখের কথা আমরা জানি, যেহেতু মহামান্য আদালত বলেই দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ, কাজেই অবৈধ জিনিসকে আর বয়ে বেড়ানো কেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুযোগে সংবিধানবহির্ভূত শক্তি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে, ১১ জানুয়ারির তত্ত্বাবধায়ক সরকার বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনকেই কারাবাসের অভিজ্ঞতা দিয়েছে এবং ব্যবসায়ীরাও ওই আমলে ভুগেছেন সবচেয়ে বেশি, কাজেই ওই ফাঁকটা যত তাড়াতাড়ি পারা যায়, পূরণ করে দেওয়াই মঙ্গলজনক। এসব কথা আমরা এরই মধ্যে শুনে ফেলেছি। কিন্তু এর বাইরে আর কী কারণ থাকতে পারে যে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দিনবদলের সরকার জনগণের দৈনন্দিন সুখ-দুঃখবিষয়ক সমস্যাগুলোর চেয়ে আড়াই বছর পরের বিষয়টাকে এই মুহূর্তের যন্ত্রণা হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিল?
এর কারণ আমরা খুঁজে দেখতে পারি। সে জন্য আমাদের ঘটনাবলির বিশ্লেষণে যেতে হবে। ১. ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ও প্রশাসনের উচ্চমহলের কেউ কেউ জড়িত, সর্বশেষ অভিযোগপত্রে সেটা প্রতিফলিত। ফখরুদ্দীন আহমদ সরকারের আমলে দেওয়া চার্জশিটেও জজ মিয়া নাটককে একেবারেই প্রহসন হিসেবে উন্মোচিত করা হয় এবং বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের কারও কারও যোগাযোগের কথা চলে আসে। এখন শেখ হাসিনা যদি বিশ্বাস করেন, বিএনপি কেবল তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, তারা এমনই শত্রু যে তাঁকে শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার জন্য বোমা হামলা পর্যন্ত করতে পারে, তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে কি সম্ভব বিএনপির সঙ্গে কোনো রকমের সমঝোতার চেষ্টা করা? ২. শেখ হাসিনা এ কথা একাধিকবার বলেছেন যে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন কেবল লুটপাট হয়; আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ কিছু পায়। লক্ষণ দেখে মনে হয়, তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের ভালোর জন্য আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। এবং হয়তো তিনি এই রকমও ভেবে থাকতে পারেন, জনগণ সব সময় আওয়ামী লীগকেই ভোট দেয়, কিন্তু দেশি-বিদেশি চক্রান্তের কারণে সব সময় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে না। কাজেই তিনি সেই চক্রান্ত চিরকালের জন্য নস্যাৎ করতে চান।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের পরবর্তীকালে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করতে নিরীহ মানুষকে স্কেপগোট করার যে কাহিনি এই প্রথম আলোতেই আমরা পড়েছি, তাতে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একই টেবিলে বসার মতো পরিস্থিতি শেখ হাসিনার আছে বলে আর মনে হয় না। এ অবস্থায় বিএনপি নামের প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্বল করা, অকার্যকর করা, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তৃতীয় কোনো শক্তিকে দাঁড় করানোর চিন্তা আওয়ামী লীগ বা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে থাকতে পারে। সেই চিন্তা কার্যকর করার একটা উপায় হলো, বিএনপিকে আগামী সাধারণ নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা। সেই লক্ষ্যেই সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকলে বিএনপি এবং সম্ভবত জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে যাবে না। আওয়ামী লীগ কি তা-ই চায় যে বিএনপি আগামী নির্বাচনের বাইরে থাকুক? প্রশ্ন হলো, তাহলে কি সেই নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পাবে? বিএনপি ও তার মিত্ররা কি রাজপথে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবে না? ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো সেটা একতরফা। সুতরাং অগ্রহণযোগ্য, ভঙ্গুর সরকারের জন্ম দেবে না? এই সওয়ালের মীমাংসার জন্যই সম্ভবত সরকার তাড়াহুড়ো করে এখনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান তুলে দিয়েছে। এখনকার সরকার তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বৈধ সরকার। তার কবজিতে জোর আছে, বুকে হিম্মত আছে। কাজেই এখন বিরোধী দলের আন্দোলনকে সে শক্তিমত্তার সঙ্গে দমন করতে পারবে। আগামী আড়াই বছর ধরে ক্রমাগত আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারবে বিএনপি, এই বিষয়ে নিশ্চয়ই সরকারি নীতিনির্ধারকদের সন্দেহ আছে। আন্দোলন যাতে দানা বাঁধতে না পারে, সে জন্য তারা কঠোর দমননীতির আশ্রয় যে নিয়েছে, টেলিভিশনের পর্দায় হরতালকারীদের ওপর পুলিশের লাঠ্যৌষধি প্রয়োগের নমুনা দেখেই তা প্রতীয়মান। বাংলাদেশে হরতাল করে কোনো বৈধ নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা যায়নি, আওয়ামী লীগ পারেনি বিএনপি সরকারকে উৎখাত করতে, বিএনপিও পারবে না আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে। এই আড়াই বছরে তাদের আন্দোলন যদি ব্যর্থ হয়, পরবর্তীকালে নির্বাচন বর্জন করার পরে যখন সংসদেও তাদের কোনো আসন থাকবে না, তখন তারা আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে পড়বে বলে হয়তো সরকারি নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন। এবং এর মধ্য দিয়ে হয়তো তাঁরা তৃতীয় কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে দেশের দ্বিতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস পাবেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা না থাকায় মহাজোট সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে না। ফলে ইয়াজউদ্দিন সরকারের মতো দুর্বল অন্তর্বর্তী সরকার আসবে না। ২০০৬ সালে লগি-বৈঠা আন্দোলনের সময় বিএনপির সামনে দিন কমে আসছিল, তারা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য দিন গুনছিল, কার হাতে ক্ষমতা দেবে, এটা ছিল তাদের মাথাব্যথা। ২০১৪ সালে মহাজোট সরকারের সামনে সেই দুশ্চিন্তা থাকবে না। তারা কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করে বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন সমাধা করে ফেলবে।
২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে-পরে আন্দোলন সহ্য করার চেয়ে এ মুহূর্তে বৈধ ও শক্তিশালী মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে আপাতত দুর্বল হতশক্তি বিএনপিকে আন্দোলনে নামিয়ে দিয়ে তার শক্তিক্ষয় ও বিনাশই হয়তো আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য।
এর বাইরে আর দুটো কারণ থাকতে পারে। সরকার যখন ভারতের সঙ্গে কোনো লেনদেন বা চুক্তিতে যায়, তখন বিএনপি তথা বিরোধী দলকে অন্য কোনো ইস্যুতে ব্যতিব্যস্ত রাখে। বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ কিংবা ঢাকা বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের পেছনেও উদ্দেশ্য ছিল কুমিরকে বোকা বানানো, কুমির যাতে পা বাদ দিয়ে শেয়ালের লাঠিটাকে কামড়ে ধরে। হয়তো সরকার শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে কোনো সমঝোতায় যাবে, কিন্তু তার আগে তাকে একটু ব্যস্ত রাখল। অন্তত তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান কে হবেন, এ নিয়ে যেন বিরোধীরা কথা বলার সুযোগ না পায়, সেই পরিস্থিতি তৈরি করল।
এতক্ষণ আমরা যা আলোচনা করলাম, তার সবই অনুমান; এ মুহূর্তে আন্দোলন-হরতাল ডেকে আনার সরকারি উদ্যোগের কারণ বিশ্লেষণের চেষ্টা। আমাদের অনুমান সঠিক হতে পারে, নাও হতে পারে। কিন্তু যে বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই, তা হলো, আগামী আড়াইটা বছর আমাদের এই রকম হরতাল-আন্দোলন-বিক্ষোভ দেখে যেতে হবে। রাজপথে পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হবেন বিরোধী দলের প্রধান হুইপ। হরতালের আগের দিন অনেক গাড়ি পোড়ানো হবে। ট্রাকে আগুন দেওয়া হবে মাত্র ১০০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, আর সর্বশরীরে পোড়া ক্ষত নিয়ে বার্ন ইউনিটে কাতরাবেন কোনো নিরীহ শ্রমিক। আম পচবে, তরিতরকারি পচবে ট্রাকে ট্রাকে। দোকানপাট বন্ধ থাকায় অপূরণীয় ক্ষতি হবে দোকানমালিকের, কর্মচারীর, অর্থনীতির। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। গোলযোগের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হবে বাংলাদেশ। আর সত্যি সত্যি যদি সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় না আসে, এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন যদি একপক্ষীয় হয়, তাহলে এক মাঘে শীত যাবে না। আন্দোলন, সংগ্রাম, হরতাল চলবেই। সেই ভবিষ্যৎটা ভাবতেই শরীর শিউরে উঠছে, চোখেমুখে অন্ধকার দেখছি।
অথচ সরকার কিন্তু সুশাসন দিয়ে দেশটাকে উন্নতির দিকে নিয়ে গিয়ে জনগণের মন জয় করেই মানুষের কাছে ভোটপ্রার্থী হতে পারত। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। যানজট সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসক্ষেত্রের ব্যাপারে অন্তত একটা সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে। শুধু দলীয়করণ আর দুর্নীতি, ছাত্রলীগ, যুবলীগের কর্মীদের বাড়াবাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সরকার হতে পারত আমাদের ইতিহাসের সফলতম সরকার। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে রাজপথকে শান্ত রাখা গেলে অর্থনীতির চাকা সামনের দিকে এগোতে বাধ্য। শেয়ার মার্কেটের বিপর্যয় সামলে নিতে পদক্ষেপ জরুরি ছিল। কিন্তু সরকার সুশাসনের দিকে জোর না দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করার পেছনে শক্তি ব্যয় করছে বেশি। এর পরিণতি কী হবে, তা আমরা কেউ জানি না। আমাদের দেশের নিয়ম হলো, রাজপথে প্রথম দিকে লোক থাকে না, আন্দোলন চলতে থাকলে আস্তে আস্তে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। আর আন্দোলন দমানোর জন্য সরকার যত কঠোর হয়, তার জনপ্রিয়তা তত কমতে থাকে এবং সরকারও ক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সরকার একটার পর একটা দমনমূলক পদক্ষেপ নেয়, আর তার জনপ্রিয়তায় একটার পর একটা ধস নামে। তখন কেবল বিরোধী রাজনৈতিক দল নয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পেশাজীবী সমাজের স্বাধীন মত ও সমাবেশের ওপরও সরকার চড়াও হয়। সেটা কেবল রুদ্ধশ্বাস অগণতান্ত্রিক পরিবেশই তৈরি করে। তা থেকে উত্তরণের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তখন আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য হয়।
আমরা ইতিহাসের এই পুনরাবৃত্তি চাই না। দিনবদলের কথা বলে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সত্যিকারের দিনবদল চাই। যেসব কথা রূপকল্প ২০২১-এ লেখা আছে, তার বাস্তবায়ন চাই। দলীয়করণ চাই না। নির্মম পুলিশি রাষ্ট্র চাই না। আমাদের নেতারা দলের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের নেতা হয়ে উঠুন, হয়ে উঠুন রাষ্ট্রনায়ক, আমরা কায়মনোবাক্যে সেই প্রার্থনা করি সর্বদা। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। আমাদের ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠে অন্ধকার, নিকষ কালো নিশ্ছিদ্র অন্ধকার।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
 প্রথম আলো

Monday, July 4, 2011

দালালদের দৌরাত্ম্য ও দূতাবাসের ব্যর্থতা!

বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার ইরাকে এখন জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিযোগ, গুটিকয়েক বাংলাদেশি দালালের অপকর্ম আর ইরাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যর্থতায় শ্রমবাজারটি চালু হচ্ছে না।
তবে ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাস ও দেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা আশা করছেন, দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সেখানে বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালু হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের দপ্তরে সম্প্রতি ইরাকপ্রবাসী কয়েকজন লিখিতভাবে অভিযোগ পাঠিয়েছেন। তাতে ইরাকে শ্রমবাজার নষ্ট করার জন্য দালাল ও দূতাবাসের শ্রম শাখার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে কুয়েত যুদ্ধের সময় ইরাকে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণের পর সেখান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে জনশক্তি রপ্তানির ব্যাপক চাহিদার ভিত্তিতে ২০০৯ সালের অক্টোবরে ইরাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও শ্রম কাউন্সিলর নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের শেষ দিকে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকে বাংলাদেশের লোক পাঠানো শুরু হয়। এরপর ২০১০ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত হাজার দুয়েক লোক সেখানে গেলেও এখন দেশটিতে লোক পাঠানো বন্ধ। গত পাঁচ মাসে দেশটিতে গেছেন মাত্র নয়জন লোক।
আবু সাঈদ, সেলিম হাজারী, মিনহাজউদ্দিন, আজাদ রহমান খান, আইয়ুব হোসেন, বাদশা মিয়াসহ আরও কয়েকজন ইরাকপ্রবাসী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দূতাবাস চালু হওয়ার পর থেকেই একশ্রেণীর দালাল ইরাকের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। এই সমস্যা সমাধানে ১১ সদস্যের বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করা হয়। কিন্তু সমিতির বেশির ভাগ সদস্যই পরে দালাল হিসেবে বাংলাদেশ থেকে লোক আনা শুরু করেন। তাঁদের নানা অপকর্ম ইরাকের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এখন বাজার ঠিক করতে হলে ওই দালাল চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কিন্তু তা না করে দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা উল্টো দালালদেরই সহায়তা করছেন।
এদিকে ঢাকায় কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, দালালেরা বাংলাদেশ থেকে লোক নেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগীদের একজন আবদুল বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, ইরাকে ২৫ জন লোক পাঠানোর কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন জনৈক কুদ্দুস। কিন্তু তিনি একজন লোকও পাঠাননি, টাকাও ফেরত দেননি। আরেক বাংলাদেশি ওয়াহিদুজ্জামান খোকন বলেন, তিনিও দালালদের ৩০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র চারজন লোক পাঠিয়ে আর পাঠাচ্ছেন না, টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।
প্রবাসীকল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি, দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে বসবাসরত আবু সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কমিটির কয়েকজন সদস্য নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। তাই শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারের উচিত দায়ী দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু সেটি না করে উল্টো যাঁরা দালাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এসব সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইরাকে বাংলাদেশের শ্রম কাউন্সিলর জিয়াদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইরাকে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ থাকার অন্যতম কারণ, সেখানে কাজের পরিবেশ ঠিক হয়নি। রাজনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পটপরিবর্তন। এসব কারণে বাজারটা গড়ে উঠছে না।’ তিনি বলেন, ‘একশ্রেণীর দালাল অসাধু প্রক্রিয়ায় এখানে লোক আনতে চায়।’
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, সরকার ইরাকে কিছু চাহিদাপত্রে অনুমতি দিলেও শেষ পর্যন্ত এসব লোক পাঠানো যায়নি। সেখানকার পরিবেশ এখনো সুশৃঙ্খল হয়নি।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More