Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label পঞ্চদশ সংশোধন. Show all posts
Showing posts with label পঞ্চদশ সংশোধন. Show all posts

Monday, August 15, 2011

তবু কেন রাষ্ট্রধর্ম(সাত বিশিষ্ট ব্যক্তির ভাবনা)

সালাহউদ্দীন আহমদ  কবীর চৌধুরী  সরদার ফজলুল করিম  জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী  সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী  আনিসুজ্জামান  কাইয়ুম চৌধুরী |

সালাহউদ্দীন আহমদ, কবীর চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আন
সালাহউদ্দীন আহমদ, কবীর চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আনিসুজ্জামান ও কাইয়ূম চৌধুরী
বাংলাদেশের এক সামরিক শাসক নিজের ক্ষমতার ভিত্তি তৈরি করতে কাছে টেনেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধীদের। তিনি প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন এমন একজনকে, যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে। তিনি সামরিক ফরমানবলে দেশের সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বর্জন করেছিলেন, ধর্মাশ্রিত রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং সংবিধানের সূচনায় বিসমিল্লাহ্ যোগ করেছিলেন।
বাংলাদেশের আরেক সামরিক অভ্যুত্থানের নায়কের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সারা দেশে যখন তুমুল আন্দোলন চলছিল, তখন নিজের ক্ষমতা নিরাপদ করার আশায় তিনি ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার বিধানসংবলিত এক সাংবিধানিক সংশোধনী জাতীয় সংসদকে দিয়ে পাস করিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সেদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং এককভাবে ও সমষ্টিগতভাবে অন্তত তিনটি মামলা হাইকোর্টে রুজু হয়েছিল।
দেশের মানুষ কেউ কখনো সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার উচ্ছেদ চায়নি, রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তনও চায়নি। ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজের স্বার্থে এসব উদ্যোগ নিয়েছিল এবং, বলা যায়, দেশের অধিকাংশ মানুষ তা মেনে নিয়েছিল। তবে সচেতন জনগোষ্ঠী বরাবরই এসব ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে গণ্য করে এসেছে। তারা বারবার করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো গৃহীত হয়েছিল পাকিস্তান-আমলে পূর্ব বাংলার মানুষের দীর্ঘকালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এই প্রক্রিয়ায়ই ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ গঠিত হয় সে-সময়ের একমাত্র অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানরূপে; ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অব্যবহিত পরে অসাম্প্রদায়িক ছাত্র-সংগঠনরূপে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলরূপে গণতন্ত্রী দলের প্রতিষ্ঠা ঘটে। এই প্রক্রিয়ায়ই পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের নাম থেকে এবং তারপরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নাম থেকে মুসলিম শব্দ বর্জিত হয়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের একুশ দফার শীর্ষদেশে নীতি হিসেবে যদিও অঙ্গীকার করা হয় যে, ‘কোরান ও সুন্নার মৌলিক নীতির খেলাফ কোন আইন প্রণয়ন করা হইবে না এবং ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে নাগরিকগণের জীবনধারণের ব্যবস্থা করা হইবে’, তবু এ-নীতি কোনো দফা হিসেবে ঘোষিত হয়নি এবং এতে রাষ্ট্রের ইসলামিকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র (তখন তাই বলা হতো) প্রণয়নের সময়ে গণপরিষদে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের ইসলামি প্রজাতন্ত্র নামকরণের বিরোধিতা করে। একই সময়ে পূর্ব পাকিস্তান ব্যবস্থাপক পরিষদে যুক্ত নির্বাচনপ্রথার পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করে পাকিস্তানের দ্বিজাতিতত্ত্বের মূলে কুঠারাঘাত করা হয় এবং পূর্বাঞ্চলে এই ব্যবস্থা পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রের বিধানরূপে গৃহীত হয়। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি এবং দলটি বিভক্ত হলে এর উভয় অংশ, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং অধিকাংশ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্রমশ ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাবের প্রসার ঘটাতে সাহায্য করে। অপরপক্ষও নিষ্ক্রিয় ছিল না। তারই পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৬৯ সালে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। ১৯৭০ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া খান যে-আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেন, তার ২০ ধারায় বলা হয়েছিল যে, পাকিস্তান পরিচিত হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বলে, যে-ইসলামি ভাবাদর্শ পাকিস্তানের ভিত্তি তা রক্ষা করা হবে এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান হবেন একজন মুসলমান। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে আরো দুটি ধারার সঙ্গে ছাত্রলীগ এই ধারা সম্পর্কে আপত্তি জানায় এবং আদেশটি বাতিলের দাবি করে। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্র ইউনিয়ন প্রস্তাব করে যে, ‘রাষ্ট্র হইবে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র’।
বাংলাদেশ যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হবে, মুক্তিযুদ্ধের কালে আমাদের নেতারা সেকথা অনেকবার বলেছিলেন। শুধু প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ নন, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান, এমনকি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদও একাধিক বক্তৃতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তিন নীতির—গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার—ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিরূপে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধু সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, ‘বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র “বাংলাদেশ” রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।’ পরে তিনি এর সঙ্গে আরো একটি নীতি যোগ করেন—জাতীয়তাবাদ। ১৯৭২ সালে এই চার নীতিই বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র-পরিচালনার মূলনীতিরূপে গৃহীত হয়।
সুতরাং এ-কথা জোর দিয়ে বলা চলে যে, রাষ্ট্র-পরিচালনার এইসব মূলনীতি হঠাৎ করে কারো ইচ্ছায় প্রণীত হয়নি, কারো স্বার্থরক্ষার জন্যেও নির্ণীত হয়নি। এ হলো জনগণের দীর্ঘকালের সংগ্রামের ফল, নেতাদের সুচিন্তিত পথনির্দেশনার পরিণাম। অন্য কোনো রাষ্ট্রের প্রভাবে বা অনুকরণে নয়, অন্য কোনো রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা বা কৃতজ্ঞতাস্বরূপও নয়, এ ছিল একান্তই আমাদেরই চয়িত আদর্শ। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৯৪৯ সালে যখন ভারতের সংবিধান প্রণীত হয়, তখন রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশক নীতিগুলোর মধ্যে সমাজতন্ত্র বা ধর্মনিরপেক্ষতার স্থান ছিল না। সংবিধানের প্রস্তাবনায় সে-দেশের রূপ নির্ণীত হয়েছিল সার্বভৌম গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র (Sovereign democratic republic) বলে। পরে ১৯৭৭ সালে গৃহীত দ্বিচত্বারিংশ সংশোধনীর দ্বারা তা সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র (Soverign socialist secular democratic republic) করা হয়। ততদিনে আমাদের রাষ্ট্রনায়কেরা সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে আঘাত করেছে। রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের মানুষকে মুসলমান (রাষ্ট্রধর্মের অনুসারী) এবং অমুসলমানে (শান্তিতে পালনযোগ্য অন্যান্য ধর্মের অনুসারী) বিভক্ত করেছে। রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের অমুসলমান নাগরিকদের মধ্যেও এক ধরনের স্বাতন্ত্র্যবাদের সূচনা করেছে। রাষ্ট্রধর্ম-প্রবর্তনের পরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের প্রতিষ্ঠা তারই দৃষ্টান্ত। ১৯৯০, ১৯৯২ ও ২০০১ সালের সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের ঘটনা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মনে অনাস্থার সৃষ্টি করেছে। তার ফলে একদিকে ঘটেছে নীরব দেশত্যাগ, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে তাদের স্বার্থরক্ষার জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচনপ্রথার পুনঃপ্রবর্তন কিংবা সংরক্ষিত সংসদীয় আসনের চিন্তা।
বিশেষ ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রের পক্ষপাতের ফলে যে নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়, একথা অনেকে মানতে চান না। তাঁরা যুক্তরাজ্যের দৃষ্টান্ত দেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতীয় রাষ্ট্রের উদ্ভবের পরে ইউরোপে ক্রমে ধর্ম ও রাষ্ট্রের—স্টেট ও চার্চের—পৃথকীকরণ ঘটে এবং সকল নাগরিকের ইহলৌকিক কল্যাণসাধন রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে স্বীকৃত হয়। তা সত্ত্বেও ইউরোপের সব দেশে রাষ্ট্র ও ধর্ম পৃথক হয়নি। যুক্তরাজ্যের রাজা ও রানী চার্চ অফ ইংল্যান্ডের রক্ষাকর্তা—এই অর্থে অ্যাংলিকান চার্চের ধর্মই যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্ম। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার একাধিক দেশ, আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও স্পেনেও রাষ্ট্র বিশেষ বিশেষ ধর্মের আনুকূল্য করে থাকে—তবে পৃষ্ঠপোষকতা বলতে আমরা যেমন বুঝি, তেমন নয়। সেসব দেশে আমাদের দেশের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা পীড়িত হয় না। অন্যদিকে ক্যাথলিক ধর্মের অসাধারণ প্রাধান্য সত্ত্বেও ফ্রান্স ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, প্রোটেস্টান্টদের গরিষ্ঠতা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। ইসলামি রাষ্ট্রসংস্থার (ওআইসি) অর্ধেক সদস্য-রাষ্ট্রেরই রাষ্ট্রধর্ম বলে কিছু নেই। ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা সিরিয়ার মতো দেশ রাষ্ট্রধর্ম স্বীকার করে না। তুরস্ক কেবল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র নয়, তার সংবিধানের যে-তিনটি বিধান কোনোমতে সংশোধনযোগ্য নয়, ধর্মনিরপেক্ষতা তার একটি; সেদেশে সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং নারীর স্বাধীনতা বিষয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আইন প্রচলিত। সুতরাং কেবল উদাহরণ দিয়ে লাভ নেই, স্বদেশের অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির বিবেচনায় এ-বিষয়ে করণীয় নির্ণয় করা আবশ্যক। ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ ফ্রান্সকে ধর্মনিরপেক্ষ থাকার প্রেরণা দিয়েছে; আদি বসতিস্থাপনারীদের ধর্মীয় নিপীড়নভোগের অভিজ্ঞতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকতে দেয়নি। পাকিস্তান আমলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির যে-কুফল আমরা দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ধর্মের নামে যে-নিপীড়ন এখানে চলেছে এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মিলিত সংগ্রামের যে-ইতিহাস আমরা রচনা করেছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শগ্রহণই আমাদের পক্ষে স্বাভাবিক ও সংগত ছিল। আমরা ঠিক তাই করেছিলাম।
পঞ্চদশ সংশোধনীর বলে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি ফিরে আসছে। কিন্তু বিসমিল্লাহ্ ও রাষ্ট্রধর্ম রয়ে যাচ্ছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদে স্পষ্টই বলা হয়েছিল যে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের জন্য (ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান, (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার (ঘ) কোন বিশেষ ধর্মপালনকারীর প্রতি বৈষম্য বা তাঁহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।’ একইসঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ এবং রাষ্ট্রধর্মের বিধান—অর্থাৎ রাষ্ট্র কর্তৃক ইসলামকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান—কীভাবে পাশাপাশি থাকতে পারে, তা আমাদের স্বল্পবুদ্ধিতে বোধগম্য নয়।
বাংলাদেশের জন্যে রাষ্ট্রধর্ম যে আবশ্যক, তা কীভাবে নির্ণীত হয়েছে? একথা কি আমরা ভুলে গেছি যে, বাংলাদেশের যে-একমাত্র শাসক দেশবাসীকে রাষ্ট্রধর্ম উপহার দিয়েছিলেন, জনসাধারণ আন্দোলন করে তাঁকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে? আওয়ামী লীগকে ধর্মনিরপেক্ষতার সমর্থক জেনেও কি দেশের মানুষ একাধিকবার তাকে ক্ষমতায় আনেনি? তাহলে কাদের মুখ চেয়ে আমরা রাষ্ট্রধর্ম রাখতে চাইছি এবং ধর্মনির্বিশেষে সকল নাগরিককে দিয়ে বিসমিল্লাহ্ বলাতে চাইছি?
রাষ্ট্রধর্মের বিধান বাংলাদেশে ধর্মব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করেছে। তাঁরা মুসলমান-অমুসলমানে পার্থক্য করেছেন, শিয়া ও আহমদিয়াদের অমুসলমান বলে ঘোষণা করেছেন এবং রাষ্ট্রের কাছে অনুরূপ ঘোষণা দাবি করেছেন। তাঁরা নারীপুরুষে বৈষম্যসৃষ্টির অভিপ্রায় প্রকাশ্যে জ্ঞাপন করেছেন। তাঁরা নারীপুরুষনির্বিশেষে মুরতাদ ঘোষণা করে মানুষকে পীড়ন করেছেন। তাঁরা নির্বিবাদে ফতোয়া দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছেন। এ থেকেও আমাদের শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে।
বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রধর্মের বিধান বর্জন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে রাষ্ট্রধর্মের বিধান বিলোপ করতে হবে। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান-প্রতিষ্ঠার পরে রাজনৈতিক নেতারা আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে সৃষ্ট বাংলাদেশে আমাদের নেতারা কি সকল নাগরিককে সেই আদর্শ বজায় রাখার প্রেরণা দেবেন না?
লেখকবৃন্দ: দেশের বিশিষ্ট নাগরিক।
প্রথম আলো

Sunday, July 24, 2011

আমিনীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

ফজলুল হক আমিনী ফজলুল হক আমিনী
ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর বিরুদ্ধে আজ রোববার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। সংবিধান ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলার কথা বলায় তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলাটি করেন আইনজীবী নজরুল ইসলাম সর্দার।
মামলায় আমিনীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়। মহানগর হাকিম মোসাম্মত রোকসানা বেগম হ্যাপীর আদালতে শুনানি হয়। তবে আদালত কোনো আদেশ দেননি।
শুনানিতে বাদীর আইনজীবীরা বলেন, ১৪ জুলাই লালবাগ থানাধীন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় মুফতি আমিনী সংবিধান নিয়ে কটূক্তি করে বলেন, ‘শুধু ছুড়ে নয়, এই সংবিধান ডাস্টবিনে ফেলা হবে।’ পরের দিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হয়। এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। তাই মামলাটি করা হয়েছে।
শুনানিতে বাদী নজরুল ইসলাম সর্দারের পক্ষে অংশ নেন কাজী নজিব উল্লাহ, শেখ হেমায়েত হোসেন, জায়েদ হোসেন সর্দার প্রমুখ।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে আদেশ দেওয়ার কথা বলেন।প্রথম আলো

Wednesday, July 13, 2011

এ সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে: খালেদা

  • গণ-অনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারা
    গণ-অনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারা
    ছবি: প্রথম আলো
1 2
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ভবিষ্যতে জনগণের সরকার ক্ষমতায় এলে এ সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে। কেননা, এটা কোনো সংবিধান নয়, এটা আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহার।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত বিএনপির দিনব্যাপী গণ-অনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। পুলিশ, প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের বাড়াবাড়ি করলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
খালেদা জিয়া বিকেল সোয়া পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত বক্তব্য দেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বহাল রেখে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। খালেদা জিয়া বক্তব্য শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাসমেরি এস ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন তাঁকে পানি খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলন চলছে, চলবে। ঈদের পর সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে যত আন্দোলনের প্রয়োজন, তত আন্দোলন করা হবে। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও বিজয় অর্জন করতে হবে। এ জন্য আরেকটা সংগ্রাম করব। আরেকবার গর্জে উঠব।’
ঈদের পরের কর্মসূচি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আর জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর-ধ্বংসের রাজনীতি নয়, হরতাল নয়, মানুষকে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মতো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটানো হবে।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর পুলিশের বর্বর হামলা, হরতালের দিন বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাদ দিয়ে পাস করা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে বিএনপি এই গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মঞ্চ ছিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রাঙ্গণে। তবে নেতা-কর্মীরা সামনের মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগমুখী সড়কের এক পাশে অবস্থান নিলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পুরো শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিএনপির এই কর্মসূচিতে চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস ছাড়াও বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গঠিত বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামিক পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ভাসানী ন্যাপ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ও জাতীয় পার্টির (মতিন) নেতারা গণ-অনশনে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া বিএনপি সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ এতে সংহতি প্রকাশ করে। তবে দলটির কেউ অনশনস্থলে সরাসরি উপস্থিত হননি।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, এমন ব্যক্তিদের মধ্যে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ এবং এস এম এ ফায়েজ, সাবেক সহ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ প্রমুখ। কর্মসূচিতে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
গণ-অনশন কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল থেকে বিএনপির ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এসে হাজির হন। সকাল ১০টা থেকে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নয়টার মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল, সামনের সড়ক ও আশপাশের এলাকা নেতা-কর্মীদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। তাঁরা সরকারবিরোধী ব্যানার, প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল, কিন্তু খালেদা জিয়া দুপুর ১২টায় কর্মসূচিস্থলে হাজির হন। এরপর দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনশন শুরু হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা ছাড়াও সংহতি প্রকাশ করতে আসা বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
কর্মসূচিতে চারদলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলগুলো ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে বিএনপির সঙ্গে থেকে আন্দোলন করার ঘোষণা দেয়। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আগ্রহ ছিল অলি আহমদ ও বি. চৌধুরীকে নিয়ে। অলি আহমদ না এলেও তাঁর দলের পক্ষ থেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী বর্তমানে এলডিপির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তাঁদের দল বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করবে।
গণ-অনশনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনশন উপলক্ষে কর্মসূচিস্থলের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান নেন। কর্মসূচি চলাকালে সেখানে প্রিজন ভ্যান, পিকআপ ভ্যান ও জলকামানবাহী গাড়ি এবং দাঙ্গা দমনকারী পুলিশের গাড়ি অবস্থান করতে দেখা গেছে।
খালেদা জিয়ার বক্তব্য: গণ-অনশনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘চোরের দল ও চাটার দল দেশ পরিচালনা করছে। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এদের কারণে দেশের মানুষকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। এরা দেশের সমস্যা সমাধান না করে কেবল ভারতকে খুশি করার কাজে ব্যস্ত।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে সমমর্যাদার সম্পর্কে বিশ্বাসী। আমরা দুটো জিনিস দিলে তাদেরও দুটো জিনিস দিতে হবে। কিন্তু ভারত কেবল নিচ্ছে, বিনিময়ে কিছুই দিচ্ছে না।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে; এ জন্য আলোচনা চায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রেখে সরকারকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। আর নির্বাচন হলেও বিএনপি তাতে অংশ নেবে না। বিএনপি ছাড়া কোনো নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আপনারা এখন অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির মামলার বিচার করছেন, অথচ জয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। ভবিষ্যতে তাই নিজেদের দুর্নীতির বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তৈরি হোন।’ তবে জয় কী দুর্নীতি করেছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া পুলিশ, প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘অন্য সরকারের সময় চাকরি না করলেও পার পাবেন না। বিচারের সম্মুখীন করা হবে।’
খালেদা জিয়া বলেন, দেশ এখন একটি জেলার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে আছে, সেটা হলো গোপালগঞ্জ। তিনি ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সেই শিক্ষক ও অধ্যক্ষের বিচার দাবি করেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের এই সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের পাশে আছি।’ তিনি বলেন, জয়নুল আবদিনকে মেরে পুলিশ গণতন্ত্রকে মেরেছে, বুটের নিচে পিষ্ট করেছে।
খালেদা জিয়া গণ-অনশনে সংহতি প্রকাশ করতে আসা বিভিন্ন দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে সব কর্মসূচিতে তাঁদের অংশগ্রহণ করারও আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আগে মিরসরাইয়ে দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

Tuesday, July 5, 2011

হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলো, হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলো



বাহাত্তরের মূল সংবিধানের সঙ্গে চতুর্থ সংশোধনী-পরবর্তী সংবিধানের দূরত্ব দাঁড়ায় প্রায় ৪০ মাইল। পঞ্চম সংশোধনীর পর সেই দূরত্ব আরও বাড়ে, হয় ১৪০ মাইল। অষ্টম সংশোধনীর পর দূরত্ব গিয়ে দাঁড়ায় ২৮০ মাইল। পঞ্চদশ সংশোধনীর পর এখন যে সংবিধান, তার সঙ্গে বাহাত্তরের সংবিধানের দূরত্ব এগার শ মাইল: ঢাকা থেকে ডেরা ইসমাইল খাঁর (পাকিস্তানে) দূরত্ব যতটা। ৩০ জুন অপরাহ্নে যে সংবিধান গৃহীত হয়েছে, তা পৃথিবীর সংবিধানের ইতিহাসে এক অদ্বিতীয় দলিল।
এই সংবিধানে সবই আছে। ধর্ম আছে, ধর্মহীনতাও আছে। সৃষ্টিকর্তা আছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আছে, পাকিস্তানি আদর্শও আছে। সমাজতন্ত্র আছে সংবিধানের শুরুতে, ধর্মতন্ত্র আছে গোটা সংবিধানজুড়ে। জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক বাঙালিত্ব আছে, বিমূর্ত জাতীয়তাবাদও আছে। সে এমনই এক জাতীয়তাবাদী মূলনীতি, যা ঘরে ঘরে ডিশ অ্যান্টেনা দিয়ে বিজাতীয় সংস্কৃতি চব্বিশ ঘণ্টা উপভোগের গ্যারান্টি করে দেয়। সংবিধানে সবই আছে, তবু মহাজোটের নেতাসহ সব দল ও সম্প্রদায় বলছে, কিছু কিছু কী যেন নেই। সে কারণে সবারই মন খারাপ।
তবে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট ও বিভিন্ন চর এলাকার ধর্মনেতাদের মন কেন খারাপ, তা বোঝা যাচ্ছে না। ধারণা করেছিলাম, পঞ্চদশ সংশোধনীর পর মগবাজারে জুসনে জুলুসের আয়োজন হবে। সেখানে সারা রাত কাওয়ালির মজলিস বসবে। পাকিস্তান থেকে আসবেন নামজাদা কাওয়াল। তাঁরা গাইবেন খুশির কাওয়ালি। কারণ, তাঁরা যা চান, তার সবই এই সংশোধিত সংবিধানে আছে: বিসমিল্লাহ থেকে রাষ্ট্রধর্ম—সবই অটুট। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তারাও হরতালের ডাক দিয়েছেন। ঘণ্টা ছয়েকের হরতাল নয়—৪৮ ঘণ্টার হরতাল।
এই সংশোধনী পাস হওয়ার পর চরমোনাইতে যখন খুশিতে ওরস হওয়ার কথা, সেখানে ইসলামী আন্দোলন পালন করল সারা দেশে আধা বেলা হরতাল। সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম থাকার পর তাঁরা আর কী চান? রাষ্ট্রধর্মের চেয়ে বেশি আর যা হতে পারত তা হলো ‘বিশ্বরাষ্ট্রধর্ম’। আর সংখ্যালঘুদের জন্য ‘উপরাষ্ট্রধর্ম’। যা হোক, সম্ভবত তাঁরা আরও হরতাল ইত্যাদিতে যাবেন। কারণ তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ তাঁদের ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ নড়িয়ে দিয়েছে। চরমোনাইয়ের নেতারা চান, বিশ্বাস ও আস্থাটা সর্বশক্তিমানের ওপরই থাকুক, আওয়ামী লীগের নেতাদের অবিচল আস্থা বিদেশি বন্ধুদের ওপর।
ওদিকে হরতালে না গিয়ে নয় ঘণ্টা অনশন কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের কোনো প্রত্যাশাই পূরণ হয়নি। পরিষদ ও ফোরামের নেতারা পঞ্চদশ সংশোধনীকে সংগত কারণেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, ধর্মাশ্রয়ী এবং ধর্মীয় বিভাজনমূলক বলে তার প্রতিবাদ করেছেন। এই বঙ্গভূমিতে ‘ধর্মাশ্রয়ী’ হতে চায় না কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়? নিশ্চয়ই ধর্মীয় বিভাজনমূলক বিধি জঘন্য অপরাধ। তার কিছু উপাদান এই সংবিধানে আছে।
দুই বাম দল ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন ও জাসদের নেতা হাসানুল হক ইনু সংশোধনীর পক্ষে উচ্চ স্বরে ‘হ্যাঁ’ শুধু বলেননি, সম্মতিসূচক সইস্বাক্ষর দিয়ে ২৪ ঘণ্টা পরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই সংশোধনীতে তাঁরা শতভাগ সন্তুষ্ট নন। কমরেড মেনন বলেছেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় সরকারের আগ্রহ ছিল, কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। বিএনপির উচিত ছিল আলোচনায় এসে তাদের প্রস্তাব দেওয়া।’
এককালে আমাদের নেতা ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ কমরেড মেনন যা বলেছেন, নীতিগতভাবে তা আমরা সমর্থন করি। অবশ্যই বিএনপির আলোচনায় যাওয়া এবং প্রস্তাব দেওয়া উচিত ছিল। সেই সঙ্গে সবিশেষ বিষয়ের সঙ্গে একটি প্রশ্নও তাঁকে করতে পারি: আপনারা সরকারের সঙ্গী ও সহযোদ্ধা, আপনারা যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেগুলো কি গ্রহণ করা হয়েছে? আপনারা সরকারের লোক হওয়া সত্ত্বেও আপনাদের প্রস্তাব অগ্রাহ্য হয়েছে, সরকারের পরম শত্রুর অতি উত্তম প্রস্তাবগুলো যে অতি খুশিতে সরকার মেনে নিত, তার নিশ্চয়তা আওয়ামী লীগের কোনো সহসম্পাদকের কাছ থেকেও পেয়েছিলেন কি?
জাসদের সভাপতি ‘মহাজোটের ঐক্য অটুট রাখার ঘোষণা দিয়ে’ বলেছেন, ‘দেশের সংবিধান, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে রক্ষায় এ ঐক্য হয়েছে। জামায়াত ও তাদের দোসরদের প্রতিহত করতে এ ঝান্ডা তুলে ধরে ঐক্য চালিয়ে নেওয়া হবে।’ খালেদা জিয়ার সংঘাতের আশঙ্কার প্রত্যুত্তরে সাবলীলভাবে তিনি বলেছেন, ‘আসুন, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’ এখন এই সংবিধান নিয়ে যুদ্ধ বা মারামারিতে জাসদ চুয়াত্তরের মতো প্রস্তুত থাকলেও জনগণ প্রস্তুত নয়। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং সে ভোট পৌরসভা নির্বাচনে এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তারা দিয়েছে। মহাজোটের ঝান্ডা বহন করার সঙ্গে সঙ্গে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করা আবশ্যক। গত ৭৫ বছরে এবারই প্রথম ক্ষমতাসীন দল স্থানীয় নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছে। সুতরাং কার সঙ্গে যুদ্ধ করবেন?
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হওয়ার এক দিন পর বলেছেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীতে আওয়ামী লীগ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া। পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে সংবিধান সংশোধনে কিছুটা আপস করা হলেও ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে হুবহু বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাব।’ আওয়ামী লীগের নেতারা বলতে চান, আড়াই বছরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। তখন হুবহু বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাবেন। বিসমিল্লাহ থাকবে না; রাষ্ট্রধর্ম থাকবে না; ইসলাম, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান প্রভৃতি শব্দযুক্ত কোনো সংগঠন থাকবে না, সব শিল্প-কারখানা রাষ্ট্রায়ত্ত করা হবে ইত্যাদি।
বর্তমান সংবিধান যদি আমেরিকার সংবিধানের মতো টিকে যায় এবং যাবে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মর্যাদা হবে ভারতের ইতিহাসে বাবা সাহেব আম্বেদকরের যে মর্যাদা, তা-ই। তাঁর ওপরই এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল এবং তিনি বছর খানেক তাঁর দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করেছেন। সংশোধনীর এক দিন পর তিনি বলেছেন, ‘এমন একটা সংশোধনী আমরা পাস করলাম, যা দিয়ে কাউকেই খুশি করতে পারলাম না। না ডান, না বাম, আর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে তো নয়ই। কারণ আওয়ামী লীগ ডানও নয়, বামও নয়। এই দুইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে আওয়ামী লীগ।’ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডান ও বাম খুশি না হওয়ায় প্রতীয়মান হয়, আওয়ামী লীগ ঠিক কাজটিই করেছে।
সব দলের নেতাদের কথাই বলা হলো, বিএনপি বাদ থাকবে কেন? সংবিধান সংশোধনীতে বিএনপির নেতাদের নাখোশ হওয়ার কারণ বোঝা যায় না। ধারণা করেছিলাম, সংশোধনী পাস হওয়ার পর নয়াপল্টন, গুলশান ও লন্ডনে বিজয় মিছিল বের হবে। তাদের নেতার উপহার দেওয়া উপাদানগুলোর প্রায় সবই এই সংবিধানে অটুট রয়ে গেছে। এ তো তাদের বিরাট বিজয়।
তবে সংবিধান-অসংবিধান, সংশোধন-অসংশোধন কোনো ব্যাপার নয়। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়। সে জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ধারাটি নিয়েই তাদের দুশ্চিন্তা। ওই ধারাটি ছাড়া সংবিধানের আর কী যোগ-বিয়োগ হলো, তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। এমনও যদি হয় যে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে, কিন্তু তারপর বেগম জিয়ার, মির্জা আলমগীরের বেডরুমে বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকবে—তাতেও তাদের আপত্তি নেই। এই সংশোধনীর ফলে জনগণের মৌলিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেনি তারা। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নে হরতাল ডেকেছে। সেই হরতাল আধা বেলা নয়—দুই দিন দুই রাত।
এই সংশোধনীতে জাতীয় পার্টি এতটাই পরিতৃপ্ত যে জেনারেল এরশাদ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে তাঁর দল এককভাবে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। এ জন্য ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরিও শুরু করা হবে।
এবারের সংশোধনীর ফলে যে সংবিধান রচিত হয়েছে, তাতে এরশাদ সাহেবের সাফল্য আকাশচুম্বী। তিনি যা যা করে গেছেন, তার সবই আছে এবং তিনি যেসব বদ জিনিস পছন্দ করেন না, তা বাদ গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কথাটি তাঁর কানে যাওয়া মাত্র তিনি ঘুমের মধ্যেও তড়াক করে লাফিয়ে ওঠেন। তাঁর কপালে পেরেক ঠুকেছিল যে জিনিস, তা যে উঠে গেছে, তাতেই তাঁর পরম শান্তি। হয়তো এই একটি কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি শেখ হাসিনাকে আর একটি নির্বাচনে সমর্থন দিতেও পারেন। কিন্তু যদি জনমত তাঁর ভাবির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে প্রথমে ‘একাই নির্বাচন করব’ বলে মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাবেন; তারপর দুই-তিন দিন এ-কথা সে-কথা বলে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করে বলবেন, ‘নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। সুতরাং চললাম পাঁচদলীয় জোট গঠনে।’
এই সংবিধান পেয়ে শুধু যে ধর্মওয়ালা রাজনীতিকদের সুবিধা, তা-ই নয়, ধর্মের বিরুদ্ধে যাঁরা জিহাদ ঘোষণা করতে চান, তাঁদেরও পোয়া বারো। নিজামী-আমিনীসহ বিভিন্ন চর এলাকার পীর সাহেবরা তাঁদের বিরুদ্ধে আট ঘণ্টা নয়, আমরণ অনশন করলেও কাজ হবে না।
ছত্রিশ বছর পর সমাজতন্ত্র ফিরে আসায় বামরা খুশি। তাঁদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, বিষ্যুদবার বিকেল থেকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। যেকোনো সময় সরকার কোনো ডায়িং কারখানা অথবা ঢাকা-বরিশালগামী দোতলা স্টিমার লঞ্চ রাষ্ট্রায়ত্ত করতে পারবে। বাম নেতাদের ভয় নেই, কারণ তাঁদের কোনো নেতা অ্যাঙ্গেলসের মতো কারখানার মালিক নন।
বিষ্যুদবার দুপুর দুইটা ৫০ মিনিটে সংসদে বিভক্তি ভোটে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। পক্ষে ২৯১ ভোট, বিপক্ষে মাত্র একটি। বাংলার ঘরে ঘরে টেলিভিশনে মানুষ দেখল, ধ্বনিত হচ্ছে: হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলো, হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলো, হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলো। কে জয়ী হলো, কে পরাজিত হলো, তা বাংলার মানুষ বুঝে ওঠার আগেই যা হওয়ার, তা-ই হয়ে গেল। তবে মাননীয় স্পিকার থেকে জানা গেল, ‘বরাবর রাতের বেলা সংবিধান সংশোধন পাস হয়েছে। এবারই হলো দিনের বেলায়।’ চতুর্থ সংশোধনী পাসের সময় আমি সংসদ গ্যালারিতে ছিলাম। ওটা দিনেই হয়েছিল। অবশ্য যা কিছু রাতে ঘটে, তার সবই খারাপ, তা বলা যাবে না। জীবনের বহু অপরিহার্য ও মধুর কাজ রাতেই হয়।
জীব, উদ্ভিদ, জড়জগৎসহ প্রত্যেক দেশের একটি ভূগোল আছে। খুব বড় বিপর্যয় ছাড়া তা অপরিবর্তনীয়। কিন্তু একটি রাষ্ট্র তার সংবিধান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানি এখন যেমন আছে, তা থাকবে না যদি আগামীকাল তাদের সংবিধান সংশোধন করে সৌদি আরবের মতো রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক দেশের সংবিধান একটি চটি বই বটে, কিন্তু তার ওজন এক মণের ওপর। সংবিধান কড়ি দিয়ে কিনলাম-এর মতো কোনো উপন্যাস নয়, শাহনামার মতো মহাকাব্য নয়, রবীন্দ্র-নজরুল রচনাবলিও নয়। এর প্রতিটি বাক্য অতি অর্থবহ। রাষ্ট্রীয় জীবনে তার সুষ্ঠু প্রয়োগ না করা সর্বোচ্চ মাত্রার রাষ্ট্রবিরোধিতা।
বিষ্যুদবার বিকেল থেকে বাংলাদেশ যে সংবিধান দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, তার চরিত্র অনেকটা সৌদি রাজতন্ত্রের, খানিকটা গাদ্দাফির লিবীয় সোশ্যালিস্ট জমহুরিয়ার, খানিকটা ফিদেল কাস্ত্রোর কিউবার, খানিকটা প্রয়াত কিম ইল সুঙ ও তাঁর ছেলের উত্তর কোরিয়ার, আর খানিকটা নরোদম সিহানুকের কাম্পুচিয়ার। কিন্তু যে তিন রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যাবে, তা হলো কারজাইয়ের আফগানিস্তান, মালিকির ইরাক ও জারদারির পাকিস্তান। অন্যদিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মিল নেই ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে।
বর্তমান সংবিধানটি আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে—একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটি ছাড়া।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।                             

Monday, July 4, 2011

ছয় দিনের হরতাল ও ছুটির ফাঁদে দেশ

 তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে সারা দেশে ৬ ও ৭ জুলাই (বুধ ও বৃহস্পতিবার) ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। দল দুটির ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত এই হরতাল কর্মসূচি চলবে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের অন্যান্য শরিক বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং খেলাফত মজলিসও একই কর্মসূচি দিয়েছে। এ কারণে বুধবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত টানা ছয় দিন হরতাল আর ছুটির ফাঁদে পড়ছে দেশ। কারণ ৪৮ ঘণ্টার হরতালের পর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। আগামী রবি ও সোমবার টানা ৩০ ঘণ্টা দেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি এর আগেই ঘোষণা করেছে ধর্মভিত্তিক ও সমমনা ১২টি সংগঠন।
চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী গতকাল রোববার দুপুর সোয়া ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে এই হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর এক ঘণ্টা পর বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে একই কর্মসূচি দেয়।
হরতাল ডাকার কারণ হিসেবে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্তি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সংকটের কথা উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে জামায়াত বলেছে, সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল; দলের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে তারা হরতাল ডেকেছে।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলন: নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এই সরকারকে অশনিসংকেত পর্যন্ত দিচ্ছেন তাদের বিদেশি বন্ধুরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার দিবাস্বপ্ন দেখছে। তিনি অবিলম্বে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবি জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ক্ষমতার মজা পেয়ে গেছে। তাই তারা জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার ভুলে গেছে। ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার ক্ষেত্রে তারা বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে শত্রু হিসেবে দেখছে। বিরোধী দলগুলোর প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, এককভাবে সংবিধান সংশোধনের কারণে দেশে সংঘাত ও অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তিনি রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সর্বশক্তি দিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার ও নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন: বড় মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি সরকার পতনের আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে দেশবাসীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এ টি এম আজহার বলেন, ‘সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস উঠে যাবে, আর রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে নাস্তিক্যবাদী মতবাদ “সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা” চালু হবে—বাংলাদেশের জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, আড়াই বছরের শাসনামলে জাতীয় নারীনীতি, শিক্ষানীতি, মাদ্রাসাশিক্ষা-ব্যবস্থা ও পর্দার বিষয়ে সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর আমির রফিকুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
একই কর্মসূচি বিজেপি ও খেলাফত মজলিসেরও: বিজেপির চেয়ারম্যান সাংসদ আন্দালিব রহমান বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের দলও ৬ ও ৭ জুলাই একই দাবিতে হরতাল ডেকেছে। যুগপৎভাবে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করবেন। আজ সোমবার দলীয় ফোরামে আলোচনা করে কর্মসূচি কীভাবে পালন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের দুপুরে বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। খেলাফত মজলিস হরতালে মাঠে থাকবে কি না, জানতে চাইলে দলের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘হরতালে আমাদের মাঠে দেখবেন। আর মাঠে না দেখলে জেলখানায় হলেও দেখবেন, ইনশাল্লাহ।’
এদিকে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রচার সম্পাদক আহলুল্লাহ ওয়াছেল বিকেলে টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরাও বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল ডেকেছেন।

Saturday, July 2, 2011

মনমোহনের মন্তব্য ভিত্তিহীন, দুঃখজনক

বাংলাদেশে যেকোনো সময় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতে পারে বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাঁর সেই বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন ভারতের কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক।
বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখার্জি বলেন, ‘মনমোহনের এই আশঙ্কা ভিত্তিহীন এবং তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি কেন এটা বলেছেন, তা তো আমি বলতে পারি না। আমি শুধু আমার অভিমত জানাতে পারি। আমি মনে করি, এগুলো ভিত্তিহীন, দুঃখজনক।’
দেব মুখার্জি গতকাল শুক্রবার বিবিসিকে বলেন, ‘উনি (মনমোহন) যা বলেছেন, তার কোনো ভিত্তি আমি খুঁজে পাই না। তিনি বাংলাদেশের ব্যাপারে, জামায়াতের ব্যাপারে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ব্যাপারে যে দুটো-তিনটে মন্তব্য করেছেন, আমি বলি এগুলো ভিত্তিহীন। ভারত-বিরোধিতা ছেড়ে দিলাম, যদি আমরা বাংলাদেশে জামায়াতের অবস্থান দেখি, তাহলে দেখতে পাব, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবার জামায়াত পেয়েছিল ১ শতাংশ ভোট, ১৯৯৬ সালে পেয়েছিল ৮ শতাংশের কিছু বেশি, আর গতবার পেয়েছিল ৪ শতাংশ ভোট।’
দেব মুখার্জি আরও বলেন, ‘কাজেই দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কথাগুলো বলেননি। আমি মনে করি, মন্তব্যগুলো দুর্ভাগ্যজনক।’
মনমোহনের মন্তব্যে কোনো সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে কি না, এ প্রসঙ্গে দেব মুখার্জি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এই মন্তব্যের কারণে কোনো সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। আবার ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক—এ কথাও বলেছেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামায়াতের কতটা প্রভাব, বা সেখানে হঠাৎ পরিবর্তনের যে সম্ভাবনার কথা তিনি বলেছেন, এটা বলা মনে হয় খুব সমীচীন ছিল না।’
দেব মুখার্জি বলেন, ‘বাংলাদেশে অতীতে পরিবর্তন এসেছে, তবে সাম্প্রতিক কালে তো এ রকম কোনো আশঙ্কা আমরা দেখি না। গত নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের অভিমত খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে। মাঝে একটা সময় গিয়েছিল, দুই বছর বিভিন্ন কারণে রাজনীতিবিদদের পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে সামরিক শক্তি সরকারে “ইনভলভ” হয়েছিল। তবে এখন এ ধরনের আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করা সমীচীন ছিল না ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।’
অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য—মতিয়া চৌধুরী: ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গতকাল বিবিসিকে বলেন, ‘মনমোহন বিস্তারিত কী বলেছেন, তা আমাদের জানা নেই।’ তবে গণমাধ্যমে যেটুকু খবর তিনি দেখেছেন, তাতে তাঁর কাছে এই মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যেটুকু কাগজে এসেছে, তাতে প্রাথমিকভাবে বলতে পারি, এটা অপ্রাসঙ্গিক (আউট অব কনটেক্সট)। আমার মনে হয়, এটার ব্যাখ্যা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দিতে পারবে।’
এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘নিশ্চয়ই, যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হবে। এটাই স্বাভাবিক প্রতিবেশীর কাছে জানতে চাওয়া।’
ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি—ললিত মানসিংহ: নয়াদিল্লি প্রতিনিধি জানান, ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ললিত মানসিংহ বলেছেন, মনমোহনের বক্তব্য একটি সাধারণ মন্তব্য, যা ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হয়তো প্রত্যাশিত ছিল। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং দুই দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য—শ্রীরাধা: দিল্লিতে ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের রিসার্চ ফেলো এবং বাংলাদেশ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, একটি নির্দিষ্টসংখ্যক বাংলাদেশি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন যে মন্তব্য করেছেন, তা নিতান্ত অপ্রয়োজনীয়, বাস্তবতাবিবর্জিত। তিনি বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে। যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী নিজে বাংলাদেশে সফর করতে যাচ্ছেন, ঠিক তার আগে এ ধরনের মন্তব্য করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
শ্রীরাধা বলেন, দুই দেশ সীমান্ত প্যাকেজ ও তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের মন্তব্য বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন ঘটায় না।
এ মন্তব্যে বিস্মিত—বীনা সিক্রি: ইউএনবি জানায়, ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীনা সিক্রি বলেছেন, ‘অন্য দেশের জনগণ সম্পর্কে এভাবে মন্তব্য করাকে আমি উচিত বলে মনে করি না।’ বাংলাদেশের এক-চতুর্থাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে মনমোহন যে মন্তব্য করেছেন, সে প্রসঙ্গে বীনা সিক্রি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কোত্থেকে এমন হিসাব পাওয়া গেল, তা তাঁর কাছে বিস্ময়ের বিষয়।
দ্য হিন্দু পত্রিকাকে বীনা সিক্রি বলেন, বাংলাদেশের মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশ বিএনপির সমর্থক, এক-তৃতীয়াংশ আওয়ামী লীগের সমর্থক। বাকি ৩৩ শতাংশ ভোটার থাকেন সিদ্ধান্তহীন (ভাসমান ভোটার)। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ মানুষ ভারতবিরোধী—আমি মনে করি এ কথা আপনি বলতে পারেন না। এর মানে কি এই দাঁড়ায় যে বেশির ভাগ বিএনপি-সমর্থক সেই দলের?’

বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে আপত্তি বাম দলগুলোর

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বহাল রাখার ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বামপন্থী দলগুলো। গতকাল শুক্রবার পৃথক কর্মসূচি ও বিবৃতির মাধ্যমে এসব দলের নেতারা তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানান।
এ ছাড়া বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্যান্য জাতি ও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দিয়ে সব নাগরিকের জাতি-পরিচয় ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়েও দলগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে।
গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া এ সংশোধনীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাহাত্তরের সংবিধানের মূল ভিত্তি ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে বাম দলগুলো।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বাম দলগুলো সংবিধানে সন্নিবেশিত বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ব্যবস্থা বহাল রাখার বিষয়ে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে।
এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ মাইনরিটি সংগ্রাম পরিষদ বাহাত্তরের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের চেতনাবিরোধী পঞ্চদশ সংশোধনীর সমালোচনা করেছে।
গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা: গতকাল গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সভায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, সংশোধিত সংবিধানে বাংলাদেশকে একটি ধর্মরাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মনে করে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম।
মিছিল: বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সংবিধান সংশোধনী আইন প্রত্যাখ্যান করে কালো পতাকা মিছিল করেছে।
গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সংগঠন দুটি মিছিল বের করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত বীর উত্তম। তিনি পঞ্চদশ সংশোধনীর সমালোচনা করে বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে দেশকে একাত্তরের পূর্ব ধারায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
সরকারকে অভিনন্দন: গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সার্বভৌমত্ব—এই চার স্তম্ভে নতুন করে সংবিধান রচনা করায় মহাজোট সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে কয়েকটি সংগঠন। সংগঠনগুলো হলো জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোট এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে


সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের অভিমত

হারুন আল রশীদ 
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়ায় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। আরও তীব্র হবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরাজমান আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাস। বিষয়টি আগামী সংসদ নির্বাচনকেও হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। এই অভিমত দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের।
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই অভিমত দেন। তাঁরা মনে করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকার সময়ও একধরনের বিতর্ক ছিল। তাই সব দল মিলে বিতর্ক এড়াতে একটি বিকল্প গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা খুঁজে বের করলে ভালো হতো।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করে গত ৩০ জুন সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এতে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মৌলিক বিষয়গুলো সংশোধনের অযোগ্য করা হয়েছে।
বিশিষ্ট আইনবিদ রফিক-উল হক বলেন, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ; তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও অসাংবিধানিক; এ বিষয়ে আমার কোনো দ্বিমত নেই। এই ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কও রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের যে রাজনৈতিক বাস্তবতা, তাতে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে ফেলে দেওয়া ঠিক হয়নি। তা ছাড়া আদালতও বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা দুই মেয়াদে রাখা যেতে পারে। এখন বিএনপি যদি আগামী নির্বাচন বর্জন করে, তখন কী ঘটবে! সে জন্যই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হলেও দুই পক্ষের সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে একটি ব্যবস্থা রাখা যেত। রফিক-উল হক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বাইরে অন্য যেসব সংশোধনী এসেছে, সেগুলো ভালোই বলা যায়।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা ছিল। এই বিধানটি বাতিল করে দিয়ে সরকার দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিল। আগামীতে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনে বিরোধী দল অংশ নেবে কি না, আর নিলেও সেই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
কামাল হোসেন আরও বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচন এবং ’৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনের অগ্রহণযোগ্যতা থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা আসে। তখন নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছিল, দেশের প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যে কারণে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারছিল না। তাই দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন ছিল। গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করে এই ব্যবস্থা বাতিলের চিন্তাভাবনা করা যেত।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, এই সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার সংবিধানকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কারণ সংবিধান সাধারণ কোনো আইন নয় যে ইচ্ছেমতো সংশোধন করে দেওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান সরকার তা-ই করল। যে মামলার রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক বলা হয়েছে, সেই মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই সরকার সংবিধান সংশোধন করে ফেলল। এটা দুঃখজনক। এ ধরনের একটি সংশোধনীর আগে রাজনৈতিক মতৈক্যের প্রয়োজন ছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে বিশেষ কমিটি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আমলে নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক মোজাফ্ফর। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের বেশির ভাগই তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। কমিটিও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখার পক্ষে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর কমিটির সিদ্ধান্ত পাল্টে গেল। এতে প্রমাণিত হয়, কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। এটি কমিটি ব্যবস্থার জন্য খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে গেল।
সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মৌলিক অধ্যায় অসংশোধনযোগ্য করা সম্পর্কে মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদ সংশোধনের জন্য গণভোটের যে বিধান ছিল, সেটি রাখা হয়নি। মৌলিক কিছু পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সময়ের পট-পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মৌলিক বিষয়েও পরিবর্তন আনা বাঞ্ছনীয়। সে দৃষ্টিকোণ থেকে অসংশোধনযোগ্য ধারা যুক্ত করাটা অযৌক্তিক।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপের মাধ্যমে সরকার আগামী নির্বাচনকে তীব্র সংকটের মুখে ফেলে দিল। আগামী নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশ না নেয়, সেই দায় সরকারকে বহন করতে হবে। তবু আশার কথা, এখনো দুই বছর সময় আছে। সংকট এড়াতে হলে সরকারকে যেকোনো মূল্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধানে যেতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প কোনো পদ্ধতিও নেওয়া যেতে পারে।
আকবর আলি খান মনে করেন, সংবিধানের অন্যান্য জায়গায় যেসব সংশোধনী এসেছে, সেখানে সরকারের বোধের চেয়ে আবেগ বেশি কাজ করেছে। এসব সংশোধনীর রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকলেও আইনগত কোনো তাৎপর্য নেই। এ নিয়ে বড় দুই দলের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার মতো কোনো মতপার্থক্যও নেই। মূল বিরোধের জায়গা হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সুতরাং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনতেই হবে। সে জন্য বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক দলগুলোই বিতর্কিত করেছে। যখন যে দল পরাজিত হয়েছে, তারাই বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তার পরও দেশের জনগণ মনে করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। যে কারণে বলা যায়, এ পদ্ধতি বাতিল হওয়ায় আগামীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ নষ্ট হবে। কারণ রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার মতো অবস্থা আমাদের দেশে এখনো তৈরি হয়নি।’
সুলতানা কামাল মনে করেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আরও দুই মেয়াদের জন্য রাখা হলে তত দিনে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও সুসংহত হতো। এ জন্য বিএনপিও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি। আবার তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়েই সরকার একক ক্ষমতাবলে যা করেছে, সেটাও সুখকর নয়। তবু হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এখনো দুই-আড়াই বছর সময় আছে। মতৈক্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে দুই পক্ষে সমান সদস্য নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। আশা করি, এ বিষয়ে দলগুলোর শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়ায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাস রয়েছে, তা আরও গাঢ় হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হলো।
হোসেন জিল্লুর আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনে জনপ্রতিনিধিরা অংশ নিলেও আক্ষরিক অর্থে এতে জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। এমনকি কমিটি যে সংলাপ করেছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারও প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞ সুপারিশের সিংহভাগই গ্রহণ করা হয়নি। বরং সংশোধিত সংবিধানের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নষ্ট হয়েছে এবং সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরির পথ সুগম হয়েছে।

Thursday, June 30, 2011

অযথা গণ্ডগোলের চেষ্টা করবেন না: প্রধানমন্ত্রী


undefined
শেখ হাসিনা
প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নতুন কোনো ফর্মুলা থাকলে এখনো নিয়ে আসতে পারেন। আমরা নিশ্চয়ই আলোচনা করব। কিন্তু সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে অযথা গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করবেন না। দেশের মানুষকে অহেতুক কষ্ট দেবেন না।’
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন বিল পাসের পর প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চ আদালতের রায় অনুসারেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সংবিধানের এই সংশোধনী পাসের ফলে জনগণের ক্ষমতায়ন ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। ইসলামী দলগুলো ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সংবিধানে এখন রাষ্ট্রধর্ম ইসলামও রাখা হয়েছে, অন্যান্য ধর্মের প্রতিও সম্মান রক্ষা করা হয়েছে।

জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহাল


সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন আইন-২০১১ সংসদে পাস হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাষ্ট্রপরিচালনার চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানে ফিরে এল।
পঞ্চদশ সংশোধন আইনে বাহাত্তরের সংবিধানের এ অনুচ্ছেদ ফিরে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করে নতুন অনুচ্ছেদ সন্নিবেশ করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ-৮-এর রাষ্ট্রীয় মূলনীতির দফা ১ ও (১ক)-এর পরিবর্তে ‘(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এই নীতিসমূহ এবং তত্সহ এ নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এইভাবে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে’—এর স্থলে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র অর্থাত্ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার নীতিসমূহ এবং এসব নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত সকল নীতি রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি বলে পরিগণিত হবে।’
সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম অনুচ্ছেদে (১ক) ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের’ শব্দের পরিবর্তে ‘জাতীয় মুক্তির ঐতিহাসিক সংগ্রামের শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হয়েছে। খ) প্রস্তাবনার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে প্রতিস্থাপিত হয়েছে ‘আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোত্সর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এ সংবিধানের মূলনীতি হইবে।’
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৯-এ প্রতিস্থাপিত হয়েছে ‘ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।’

জাতির পিতা, সাতই মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযুক্ত

সংবিধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতার স্বীকৃতি ও তাঁর প্রতিকৃতি সংরক্ষণ, প্রদর্শনের বিধান করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা ৫০ মিনিটে পাস হওয়া সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন-২০১১তে নতুন অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করা হয়।
সংবিধানে ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা ও ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকারের জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও সন্নিবেশ করা হয়েছে।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪-এ নতুন দফা ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারি ও আধা সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করিতে হইবে’—প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
সাতই মার্চের গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ওই [বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান] ভাষণ এবং এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়ার নির্দেশনা তথা ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া টেলিগ্রাম ও মুজিবনগর সরকারের ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনীতে।
জাতির পিতার সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাম এবং ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুচ্ছেদ ১৫০(২)-চতুর্থ তফসিলের পর সংবিধানে পঞ্চম তফসিল, ষষ্ঠ তফসিল ও সপ্তম তফসিল সংযোজিত হয়েছে

সংবিধান সংশোধনী আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহার: খালেদা


undefined
খালেদা জিয়া
বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়া এ কথা বলেছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ও সরকার গঠন করেছিলেন, সাংবিধানিক শাসন পুনর্বহাল করেছিলেন। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকে এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী তিনি সংবিধানকে পুনর্বিন্যস্ত করেছিলেন। তিনি এ কাজগুলো করেছিলেন গণভোটের মাধ্যমে, জনগণের কাজ থেকে প্রাক-অনুমোদন গ্রহণের মাধ্যমে। পরে জনগণের নির্বাচিত সংসদও এসব কার্যব্যবস্থার অনুমোদন দেয়।
প্রথম আলো

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল


সংবিধান
জাতীয় সংসদে সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিল ২০১১ পাস হয়েছে। এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২৯১টি আর ‘না’ ভোট পড়েছে একটি। এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হলো। এখন সংসদ নির্বাচন হবে দলীয় সরকারের অধীনে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে বিলটি পাসের জন্য আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ উত্থাপন করেন। এরপর সংশোধন বিলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার বিষয়ে আপত্তিসহ নয় সাংসদের আনা সংশোধনী প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হয়। পরে প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর দুই দফায় বিভক্তি ভোটে বিলটি পাস হয়।
মহাজোটের সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নির্ধারিত চারটি লবিতে ভোট দেন। একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিম ‘না’ ভোট দেন।
স্পিকার আবদুল হামিদ বিভক্তি ভোট দেওয়ার আগে দুই মিনিট ঘণ্টা বাজিয়ে সংসদের লবিগুলো বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন।
সংসদ সচিবালয়ের চার কর্মকর্তা এ ভোটের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরে স্পিকার ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন।
প্রথম আলো

Monday, June 27, 2011

শেষ ৯০ দিন অন্তর্বর্তী সরকার

সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। ওই সময় সংসদ থাকলেও কার্যকর থাকবে না। এই তিন মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলবে। মন্ত্রিসভা শুধু রুটিন (নিয়মিত) কাজ করবে। তবে নির্বাচন পরিচালনার মূল কাজটি করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এভাবে সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিল-২০১১-তে সংশোধনী আনা হচ্ছে। এতে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় সংসদের শেষ তিন মাসে কার্যক্ষমতা সীমিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ এই সময়ে জাতীয় সংসদের কোনো অধিবেশন বসবে না। সংসদের শেষ তিন মাসে ৬০ দিন পর পর অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রহিত করা হবে। তবে নির্বাচন হলেও সংসদের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী সংসদ কাজ শুরু করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের তিন মাসে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা জাতীয় পতাকাসহ সব ধরনের প্রটোকল পাবেন। এ সরকারই পরবর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। বর্তমান সংবিধান অনুসারে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রয়েছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার কমিটি সংবিধান সংশোধনী বিল সম্পর্কে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করবে। এ সপ্তাহেই বিলটি সম্পর্কে সংসদে প্রতিবেদন দেবে কমিটি। জানা গেছে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই সংবিধান সংশোধনের বিলটি সংসদে পাস হয়ে যাবে।
কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে গতকালের সভায় সংবিধান সংশোধন বিল সম্পর্কে দফাওয়ারি আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ফজলে রাব্বী মিয়া, রহমত আলী, আবদুল মতিন খসরু, খান টিপু সুলতান, জিয়াউল হক মৃধা, নুরুল ইসলাম ও শেখ ফজলে নূর তাপস সভায় অংশ নেন।
সভায় অনির্বাচিত কাউকে মন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) করা হলে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ ব্যাপারে আজকের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে। সভায় বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারেও কথা হয়। বিএনপি চাইলে যেকোনো সময় কমিটির সভাপতির কাছে তাদের প্রস্তাব দিতে পারে।
জানতে চাইলে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আর ওই সময় কার্যত সংসদ থাকলেও তা কার্যকর থাকবে না। সংবিধানের বিধান অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর এ সমস্যা এড়াতে নতুন একটি সংশোধনী আনছে কমিটি। এতে সংসদের মেয়াদের শেষ ৯০ দিনকে ওই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে সংসদের মেয়াদ চার বছর নয় মাসের পর আর কোনো অধিবেশন হবে না। তিনি বলেন, সংসদের মেয়াদের শেষ তিন মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলবে। এ সরকার রুটিন কাজ করবে।
সুরঞ্জিত বলেন, এখন এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কীভাবে কাজ করবে, সেটি নিয়ে বিএনপি আলোচনা করতে পারে, প্রস্তাব দিতে পারে। এখন না এলেও বর্তমান সরকারের আরও আড়াই বছর সময় আছে। তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মহাজোট সরকার বসে আছে। প্রয়োজনে বিএনপির যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় আবার সংবিধান সংশোধন করা হবে।
নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পর্কিত ১২৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব করে প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, ‘মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে।’ তবে মেয়াদ অবসান ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।
১৯৭২ সালের সংবিধানে এ বিধান থাকলেও ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কোনো সরকারই তার পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ করতে না পারায় পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার কোনো অভিজ্ঞতা কারও নেই। এই সংশোধিত আকারে সংবিধান সংশোধন হলে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনই হবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে। 
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। কমিটির সংশোধনী অনুসারে, সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিন ‘৬০ দিনে সংসদের বৈঠকের বিষয়টি প্রযোজ্য হবে না’।
বৈঠক শেষে সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু প্রথম আলোকে বলেন, সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিনে সংসদ বহাল থাকায় করণীয় কী হবে, তা পর্যালোচনা করে কমিটি নতুন সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই ৯০ দিন সংসদ, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদ বহাল থাকলেও তাঁরা রুটিন কাজের বাইরে কিছু করবেন না। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এককভাবে নির্বাচন কমিশনই সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সবকিছুই নির্বাচনী আইন অনুযায়ী চলবে।
মতিন খসরু বলেন, ‘বিতর্কিত নির্বাচন আমরা কেউই চাই না। এ জন্য ভালো কোনো বিকল্প থাকলে বিরোধী দলের মত দেওয়া উচিত।’

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More