Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label গবেষনা. Show all posts
Showing posts with label গবেষনা. Show all posts

Monday, January 16, 2012

১০ দিন আগেই ভারতে হামলার ইঙ্গিত ‘মদ্যপ’ ইয়াহিয়ার !

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০ দিন আগেই ভারতে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। মদ্যপ অবস্থায় এক মার্কিন সাংবাদিকে তিনি এ কথা বলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে বলে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে।
ওই খবরে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০ দিন আগে মার্কিন সাংবাদিক বব শাপলিকে মদ্যপ অবস্থায় পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ভারতে হামলা চালানোর বিষয়ে তাঁর মনোভাবের কথা জানিয়ে একটি ইঙ্গিত দেন।
বৈঠকের সময় ইয়াহিয়া খান ওই মার্কিন সাংবাদিককে বলেছিলেন, তিনি ১০ দিনের মধ্যে ভারতে হামলা চালাবেন।
ইয়াহিয়া খানের এ ইঙ্গিত ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর সত্যে পরিণত হয়। ওই দিন বিকেলে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেনা লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।
এ ঘটনার পরপরই ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধী পাকিস্তানের এই বিমান হামলাকে যুদ্ধের ঘোষণা বলে উল্লেখ করেন। একই দিন মধ্যরাতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল, নৌ ও বিমানপথে যুদ্ধ ঘোষণা করে ভারত।
পরের দিন দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন দূত কেনেথ বার্নাড কেটিং ভারতের পররাষ্ট্রসচিব টি এন কাউলকে ইয়াহিয়ার ওই মন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, মদ্যপ অবস্থায় ইয়াহিয়া খান মার্কিন সাংবাদিক বব শাপলিকে বলেছিলেন, পাকিস্তান ১০ দিনের মধ্যে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে যাবে। প্রথম আলো

Saturday, January 14, 2012

বিকৃত গণতন্ত্রের বিড়ম্বনা

সহজভাবে বলতে গেলে গণতন্ত্র এমন এক শাসনপদ্ধতি, যার মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই নিজেদের দেশ শাসন করতে পারে। এই শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে সবার অধিকার ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা যায়। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সহজতর হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো একক ব্যক্তির নিজেকে রাজা বা দেশের মালিক ভাবা ও সেই হিসাবে খেয়ালখুশি মোতাবেক দেশ পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। মালিক ও শাসক জনগণ; ফলে এখানে কেউ রাজা ও কেউ প্রজা এ অসমতা গ্রহণযোগ্য নয়। উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো সুযোগও নেই।
‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’—কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ গানে রয়েছে গণতন্ত্রের মূল বিষয়বস্তু। তবে প্রতিটি নাগরিক দেশ শাসন করবে, এটা বাস্তবসম্মত নয়। তাই জনগণের পক্ষে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত এবং নির্বাচিত করার ব্যবস্থা চালু করা হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের প্রতিনিধি ও সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করবে যতদূর সম্ভব নাগরিকের মতামত ও ইচ্ছানুসারে। এক কথায়, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হলো শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
১৯৯০ সালে আন্দোলনরত দেশের সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদের জাতীয় পার্টি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ ছিল এটি অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ সরকার এবং নির্বাচনে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। তাই অপরাপর রাজনৈতিক দল দেশকে স্বৈরাচার, দুর্নীতি এবং নির্বাচন জালিয়াতি থেকে মুক্ত করার জন্য অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে তারা তিনজোটের রূপরেখা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চালু করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। সে সময় সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
১৯৯০-এর পর থেকে অদ্যাবধি দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল কখনো এককভাবে, কখনো অন্য ছোট দলগুলোর মধ্যে জোটবদ্ধভাবে পালাক্রমে একজনের পর আর একজন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে ও পরস্পর স্থান পরিবর্তন করে বিরোধী দল হিসেবে কাজ করে আসছে। দেখা যায়, ওই সময়ের পর থেকে সরকারগুলো তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেয়। যখন যে বিরোধী দলে থাকে তখন এ বিষয়ে তাদের অভিযোগ ক্ষমতাসীন দলগুলোর প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করানোর অভিপ্রায় নিয়েই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়ে থাকে। বিগত ২১ বছরে কোনো সরকারের সময়ই সব প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ সময়কালে কোনো জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নাতীতভাবে সুষ্ঠু বলে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেনি।
অনেকেই বিশ্বাস করেন যে পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য, অত্যধিক অর্থের ব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতির কারণে দেশের নির্বাচনগুলোতে প্রায় সময়ই জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটে না।
অনেকেই বিশ্বাস করেন যে এ অবস্থার কারণে দেশপ্রেমিক এবং যোগ্য ব্যক্তিরা যাঁরা সরকার ও রাজনীতি ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারতেন তাঁরা নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন না। অপরদিকে, যারা ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়ে আসছেন তাঁরা সরকার বা রাজনীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সমর্থ নন। এমনকি তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ দেখা যায়। স্বভাবতই ওই সব রাজনীতিবিদের দেশ পরিচালনার যোগ্যতা ও দেশপ্রেম প্রশ্নবিদ্ধ।
গণতন্ত্র চর্চা করতে হলে সরকারকে জনগণের মতামত নিয়ে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী সরকার পরিচালনা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে জনগণের মতামত জানার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকতে হবে। তা ছাড়া মতামত কার্যকর করার পদ্ধতি এবং সদিচ্ছা আবশ্যক। এগুলো নিশ্চিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা থাকা বাঞ্ছনীয়।
সংসদীয় পদ্ধতির সরকারে ‘সংসদ’ এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। সংসদে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা উপস্থাপিত করা হবে। সরকার বা নির্বাহী বিভাগ সেগুলোকে আমলে নেবে ও বাস্তবায়নে অগ্রসর হবে, এটাই কাম্য। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে সর্বদা বিষয়গুলো দেখাশোনা করবে। এভাবেই ‘সংসদ’-এর দায়িত্ব পালনের কথা।
সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনের পর এ পর্যন্ত সব সরকারের আমলেই বিরোধী দলগুলো অধিকাংশ সময়ই সংসদ বর্জন করে এসেছে। তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ বর্জনের কারণে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বা তাদের কথাগুলো সংসদে আলোচিত হচ্ছে না। কাজেই জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেশের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে না।
সংসদ বর্জনের কারণ হিসেবে বিরোধী দল বলে আসছে যে, দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির স্পিকাররা সংসদে তাদের কথা বলতে দেন না। বিরোধী দলগুলোর আরেকটি অভিযোগ হলো যে অনেক ক্ষেত্রে তাদের কথা বলতে দেওয়া হলেও তাদের মতামতকে কোনো সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ অবস্থায় তাদের সংসদে যোগদান দেশ পরিচালনায় খুব গুরুত্ব বহন করে না। তাঁরা বলে থাকেন সরকার স্বৈরতান্ত্রিকভাবে একাই দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছে। যে দল ক্ষমতায় থেকে সংসদকে কার্যকর করার জন্য বিরোধী দলকে সংসদে যোগদান করার আহ্বান জানিয়েছিল, সে দলই বিরোধী দলে গিয়ে সংসদ বর্জনের পক্ষে সাফাই গেয়ে যায়। যেহেতু দুই প্রতিপক্ষই সংসদ বর্জনের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে, ফলে সে যুক্তি সঠিক ধরে নেওয়া যায়।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এই বিতর্কিত অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা সংসদে তাঁদের দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে কেউ সংসদে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হয়। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান এবং ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় দলের নেতা। তাই সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীরা তাঁদের দলের সব সংসদ সদস্যের ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছেন। তাঁর আদেশ অমান্য করলে সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে বহিষ্কৃত হন। সংসদের সব সিদ্ধান্তই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। যেহেতু ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ সংখ্যক সংসদ সদস্য থাকেন, সেহেতু প্রধানমন্ত্রী বা সংসদীয় দলের নেতা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সেটাই সংখ্যাধিক্যের ভোটে সংসদে অনুমোদিত হয়। আর এ কারণেই উল্লিখিত সংশোধনী পরবর্তী যেকোনো সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোটামুটি তাঁর ইচ্ছা-অনিচ্ছা বাস্তবায়নে সংসদের নিশ্চিত সমর্থন লাভ করেন। ফলে বলা যায়, সংসদ অকার্যকর হওয়ার একমাত্র কারণ বিরোধী দলের সংসদ বর্জন নয়। সংসদ সচল থাকলেও তা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করে নির্বাহী বিভাগ। ‘জনগণ’ বলতে এখানে দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিককে বোঝায়, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বোঝায় না। কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে আজ পর্যন্ত সব সরকারের আমলেই প্রায় সব উন্নয়ন প্রকল্প বা জনস্বার্থবিষয়ক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে দলীয় নেতা-কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য। প্রশাসনে নিয়োগ, পদোন্নতি, ব্যবসা, ভূমি এবং সরকারি সম্পত্তি ইজারা প্রদান, সামাজিক নিরাপত্তামূলক সুযোগ-সুবিধা সবই প্রধানত দলীয় লোকদের দেওয়া হয়। আর এ জন্য টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ইত্যাদি করা হয় বলে অভিযোগ আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিরোধী দল বা কোনো সাধারণ নাগরিক এ ধরনের কোনো রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
১৯৯১ সালের পর থেকে যাঁরা বিরোধী দলে ছিলেন তাঁরা অভিযোগ করে আসছেন সরকার তাঁদের পছন্দের বা দলীয় লোকদের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন। আর এর উদ্দেশ্য হলো বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফল ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে নেওয়া। এভাবেই প্রতিনিয়ত গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত বিচার বিভাগের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং জনগণ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাতে বসেছে।
সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশনসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করা। কিন্তু এ লক্ষ্যে আমাদের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এখন পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো কিছু না। তা ছাড়া, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মুখ্য পদগুলোতে দলীয়করণের মাধ্যমে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় বলে বিরোধী দলের অভিযোগ আছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো কোনোটির কর্মকাণ্ড প্রায়ই গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করার পরিবর্তে তা নষ্ট করে চলছে বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করে আসছে। অন্যতম উদাহরণ সরকারি কর্মকমিশনের কর্মকাণ্ড। অভিযোগ আছে যে ক্ষমতাসীন দল তাদের নিজস্ব ব্যক্তিদের সরকারি কর্মকমিশনে নিয়োগ প্রদান করে। ফলে এই পছন্দের ব্যক্তিরা মেধা বা যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। এভাবেই গণতন্ত্রের অন্যতম লক্ষ্য ‘সবার জন্য সমান সুযোগ’—এই শর্ত লঙ্ঘিত হয়। আর এর অন্যতম ফলাফল হলো সুশাসনের অভাব বা দুঃশাসন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পর পর পাঁচবার (২০০১-০৫) বিশ্বে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ বলে বাংলাদেশকে আখ্যায়িত করে। এখন শীর্ষে না থাকলেও বাংলাদেশ বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর দলে। জনগণ এখন ভাবতে শুরু করেছে যে পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন করে সরকার গঠনের বৈধতা দেওয়া মানে কি ক্ষমতাসীন দলকে জনগণের সম্পদ লুট করতে দেওয়ার ন্যায্য অধিকার দেওয়া এবং জনগণকে প্রজার মতো ব্যবহার করতে দেওয়া?
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, আশির দশকের শেষ দিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের যথার্থতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা কার্যকর সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করবে ও রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতির চর্চা করবে। তাদের সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন গত দুই দশকেও হয়নি। বরং বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) দেশকে জঙ্গবািদী ইসলামিক মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান মহাজোট সরকার দেশকে সেই কলঙ্কের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি ও গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কাঠামো থেকে মুক্ত হতে পারেনি। অনেকেই মনে করেন নব্বই-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা প্রকৃত প্রস্তাবে যেভাবে চর্চা করা হচ্ছে, তাতে গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে। এমনকি সচেতন নাগরিকদের অনেকে গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরতন্ত্র থেকে দেশ রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকে ধাবিত হচ্ছে কি না এটা ভেবে আতঙ্কিত। দুর্নীতির পরিমাপেও অবস্থার তেমন উন্নতি করতে পারেনি।
গণতন্ত্রের নামে চরম দুর্নীতি, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, মানুষের অধিকারের নিরন্তর লঙ্ঘন, ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালনা করছে। আর এ কারণেই দেশে সংঘাতমূলক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা পুরো জাতিকে এক হতাশা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, যত দ্রুত সম্ভব এ অবস্থা থেকে উত্তরণের সমাধান খুঁজে বের করা। অন্যথায় জনগণ গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। ফলে, অনাকাঙ্ক্ষিত অগণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির দিকে জনগণ আকৃষ্ট হতে পারে, যেমনটি অতীতে হয়েছিল।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের: মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য।

Friday, December 30, 2011

উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা উন

undefined
উত্তর কোরিয়ার নতুন নেতা কিম জং-উনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ খবর জানানো হয়েছে।
দেশটির প্রয়াত নেতা কিম জং-ইলের মৃত্যুর পরপরই তাঁর ছোট ছেলে কিম জং-উনকে উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গতকাল শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির এক সভায় নতুন নেতা উনকে দেশটির সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ নিউজ জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার ওয়ার্কার্স পার্টির সভায় কিম জং-উনকে কোরিয়ার পিপলস আর্মির সর্বোচ্চ কমান্ডার পদ দেওয়া হয়। বাবা কিম জং-ইলের লিখিত ইচ্ছা অনুসারে কিম জং-উনকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর প্রয়াত কিম জং-ইল এই দলিল লিখে যান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তরুণ নেতা কিম জং-উন উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় নিজের অবস্থান সুসংহত করলেন।
১৭ ডিসেম্বর কিম জং-ইল হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গত বৃহস্পতিবার তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আলোচনায় গাদ্দাফি-ওসামা-মোবারক

আন্তর্জাতিক নানা ঘটনায় ঘটনাবহুল ছিল ২০১১ সালটি। আরব বসন্ত নামে যে গণজাগরণ শুরু হয় তার ঢেউ লাগে আরববিশ্ব ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয় ওয়াল স্ট্রিটবিরোধী আন্দোলন।
পরবর্তীকালে অন্যান্য দেশেও পুঁজিবাদবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ওসামা বিন লাদেন হত্যা, জাপানের ভূমিকম্প ও সুনামিও ছিল আলোচনায়। এ ছাড়া বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে দক্ষিণ সুদান নামে নতুন একটি রাষ্ট্রের। মানুষের মুখে মুখে থাকা বছরের আলোচিত কিছু ঘটনা নিয়ে সালতামামি।

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্টের পলায়ন
২৩ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এ বছরের ১৪ জানুয়ারি আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেন আলী। আরব বসন্তের প্রথম শিকার তিনি। প্রেসিডেন্ট বেন আলীর অত্যাচারে প্রতিবাদ জানাতে ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে আত্মাহুতি দেন দেশটির সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ বুয়াজিজি। বুয়াজিজির প্রতিবাদ থেকেই ‘আরব বসন্ত’ নামে গণজাগরণের সূচনা। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেন আলী। এরপর এই গণজাগরণের জোয়ার একে একে মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও বাহরাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনের মুখে হোসনি মোবারকের পদত্যাগ
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নেতা মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। এতে অবসান ঘটে দীর্ঘ ৩০ বছরের শাসনের। গণবিক্ষোভ শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় সরকার ভেঙে দিয়ে ২৯ জানুয়ারি তানতাওয়িকে উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন মোবারক। কিন্তু এর পরও আন্দোলন থেমে থাকেনি। ১৮ দিন টানা আন্দোলনে চলতে থাকে। অবশেষে ১১ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী লাখো মানুষের বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন মোবারক। কায়রোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ছেড়ে যান তিনি। কায়রোর তাহেরির স্কয়ারে উল্লাসে ফেটে পড়ে বিক্ষোভকারীরা।
মোবারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি মিসরে স্বৈরশাসন চালিয়েছেন দীর্ঘ ৩০ বছর। এই পুরো সময়ই তিনি জারি করে রাখেন জরুরি অবস্থা, নিষিদ্ধ করেছেন বিরোধী সব রাজনৈতিক দল। গড়ে তোলেনে অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

প্রেসিডেন্ট সালেহর ক্ষমতার অবসান
ইয়েমেনে প্রায় ৩৩ বছর ধরে ক্ষমতাসীন ছিলেন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ। তাঁকে হটানোর দাবিতে গত জানুয়ারিতে আন্দোলন শুরু হয়। দেশটির পার্লামেন্টর বিরোধী জোট দ্য কমন ফোরাম প্রেসিডেন্ট সালেহর নিপীড়ন, জুলুম আর দুর্নীতির অভিযোগ এনে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়।
আন্দোলনের মুখে গত ২৩ নভেম্বর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যস্থতায় শর্তসাপেক্ষে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হন প্রেসিডেন্ট সালেহ। চুক্তি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সালেহ ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ্রবুহ মানসুর হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চতুর্থ শাসক হিসেবে গণদাবির মুখে পদ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা ছাড়েননি। দেশটিতে সম্প্রতি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠিত হয়েছে।
সালেহ-বিরোধী আন্দোলনের সময় সালেহর বাহিনীর দমন পীড়নে অনেক বিক্ষোভকারী নিহত হয়। ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনের জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তাওয়াক্কুল কারমেল। নতুন বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গৃহযুদ্ধের হুমকিতে সিরিয়া
জাতিসংঘের তথ্যমতে, আট মাস ধরে চলা এই আসাদ-বিরোধী আন্দোলনে সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যদিও সিরিয়ার সরকারের দাবি, তাদের এক হাজার ১০০ নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছে।
সিরিয়ায় অধিকার প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলন দেশটিতে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। সিরিয়ায় চলমান দমন-পীড়ন এবং হত্যাযজ্ঞের ফলে দেশটি পূর্ণমাত্রায় গৃহযুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। ক্রমেই সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে ধাবিত হচ্ছে এ আন্দোলন। আন্দোলনকারীরা এখন বিক্ষোভের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নিতে হন্য হয়ে অস্ত্র খুঁজছে। অন্যদিকে সপক্ষ ত্যাগ করা বিদ্রোহী সেনারাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এর মধ্যেই অনেক নিরাপত্তাকর্মী সপক্ষ ত্যাগ করেছেন। আসাদের অনুগত বাহিনী সপক্ষ ত্যাগ করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু
গত ২ মে পাকিস্তানে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল মাত্র ৪০ মিনিটের অভিযানে হত্যা করে ওসামা বিন লাদেনকে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে সন্ত্রাসী হামলায় ধসে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গর্বের প্রতীক নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র। এ ঘটনার পরই ওসামা হয়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এরপর ১০ বছর লাদেনের টিকিটিও ছুঁতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অ্যাবোটাবাদের বিশাল একটি বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি। বাড়িটি থেকে কয়েক গজ দূরে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি। আশপাশের বাড়িগুলোতে থাকেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা। তিনতলা বাড়িটির চারপাশে ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার সীমানা প্রাচীর।
গোপন সূত্রের কাছে খবর পেয়ে লাদেনের অবস্থানের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেন মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী। লাদেনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২ মে পাকিস্তানের স্থানীয় সময় রাত পৌনে দুইটার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় মার্কিন নেভি সিলের ছোট্ট একটি দল। চারটি হেলিকপ্টার নিয়ে সেখানে তারা অবতরণ করে। এরপর মার্কিন বাহিনী ঢুকে পড়ে বাড়িটির নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, লাদেন ও তাঁর সঙ্গীরা গুলি ছোড়ে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে। ৪০ মিনিটের মতো দুই পক্ষে গোলাগুলি চলে। এতেই নিহত হন যুক্তরাষ্ট্রের আতঙ্ক আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
শেষ পর্যন্ত লাদেনকে হত্যার মাধ্যমে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অবসান ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র। লাদেনকে হত্যার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য ছিল—ন্যায়বিচার করেছে তারা। অন্যদিকে লাদেনের মৃত্যু সত্ত্বেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে আল-কায়েদা।

ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত জাপান
১১ মার্চ আঘাত হানা প্রচণ্ড ভূমিকম্পের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল জাপানের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট। ভূমিকম্পের আঘাতে হতবিহ্বল মানুষ দুর্যোগের ব্যাপকতা বুঝে ওঠার আগেই সুনামির ঢেউ, ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাড়িঘর, গাছপালা, যানবাহন, দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা জিনিসপত্রসহ উপকূল এলাকায় বসবাসরত কয়েক হাজার নারী-পুরুষ আর শিশুকে। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সুনামির ব্যাপকতা ছিল ভূমিকম্পের চেয়েও অনেক বেশি।
জাপানে উত্তর-পূর্ব উপকূলে স্মরণকালের শক্তিশালী নয় দশমিক এক মাত্রার ভূমিকম্পের পর আঘাত হানে ভয়াবহ সুনামি। এ সময় প্রায় ৩৩ ফুট উচ্চতার ঢেউয়ে তছনছ হয়ে যায় উপকূলীয় অঞ্চল। ফুকুশিমা-১, ফুকুশিমা-২ পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রে বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি চুল্লিতে আগুন ধরে যায়। এর ফলে তেজস্ক্রিয়াতা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায় । মোট ২০ হাজারের মতো মানুষ মারা যায় এ দুর্যোগে।
জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার হিসাব মতে, ভূমিকম্প ও সুনামিতে আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৩ হাজার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মিয়াগি, ফুকুশিমা, ইওয়াতে অঞ্চলে। বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে ২০ লাখ ঘর-বাড়ি।

লৌহমানব গাদ্দাফির মৃত্যু
৪২ বছর দেশ শাসনের পর ২০ অক্টোবর বিদ্রোহীদের গুলিতে নিহত হন লিবিয়ার লৌহমানব কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি। ক্ষমতা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় এ বছরের ২০ মার্চ গাদ্দাফি-শাসিত লিবিয়ায় হামলা চালায় ন্যাটো বাহিনী। তবে পিছু না হটে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমি যোদ্ধা, লড়তে লড়তে যুদ্ধ ক্ষেত্রেই মরতে চাই।’ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধরত অবস্থায় মারা যান তিনি।
১৯৬৯ সালে রক্তপাতহীন একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা দখল করেন সেনাবাহিনীর তত্কালীন ক্যাপ্টেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। ক্রমে সমাজতন্ত্র ও ইসলামি আদর্শের মিশেলে এক নিজস্ব রাজনৈতিক মতবাদ গড়ে তোলেন তিনি। টানা ৪২ বছর শাসন করেন গাদ্দাফি। এ বছরের প্রথম দিকে আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো লিবিয়ায়ও সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। কয়েক মাসের আন্দোলন ও সশস্ত্র যুদ্ধের পর অবশেষে গত ২৩ আগস্ট ত্রিপোলির পতন ঘটে। এরপর আত্মগোপনে চলে যান ৬৯ বছর বয়সী গাদ্দাফি। এ বছরের ২০ অক্টোবর তাঁর অনুগত বাহিনীসহ গাড়িবহর নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়িবহরে বিমান হামলা চালায় ন্যাটো বাহিনী। এ সময় তিনি মারা যান। কিন্তু কীভাবে কিংবা কার হাতে তিনি মারা যান, সে বিষয় নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। মৃত্যুর পর গোপন স্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা লাভ
গত ৯ জুলাই পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্ম নেয় দক্ষিণ সুদান। ১৯৩তম স্বাধীন দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি লাভ করে দেশটি। দেশটির আয়তন দুই লাখ ৩৯ হাজার ২৮৫ মাইল। রাজধানী জুবা। দেশটির সরকারি ভাষা ইংরেজি। এ ছাড়া জুবার আশপাশে ‘জুবা আরবি’ ভাষা প্রচলিত। দেশটির মুদ্রা সুদানি পাউন্ড। দেশটির ২০০৮ সালের আদমশুমারি তথ্য অনুযায়ী দক্ষিণ সুদানের জনসংখ্যা ৮২ লাখ ৬০ হাজার ৪৯০ জন। জুবা দেশটির সবচেয়ে বড় শহর।
কয়েক দশক ধরে উত্তরের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ চলে দক্ষিণ সুদানের। ২০০৫ সালে শান্তি চুক্তিতে সই করে দক্ষিণ সুদান। এরপর ২০০৫ সালের ৯ জুলাই স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। দেশটির পূর্বে ইথিওপিয়া, দক্ষিণে কেনিয়া, উগান্ডা ও কঙ্গো। পশ্চিমে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকান ও উত্তরে সুদান। দক্ষিণ সুদানের অর্থনীতি বর্তমানে অনেকাংশে তেলের ওপর নির্ভরশীল। অবিভক্ত সুদানের ৭৫ শতাংশ তেলের মজুদই দক্ষিণ সুদানে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশটি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঠ রপ্তানি করে থাকে। prothom-alo

Sunday, December 25, 2011

পরাশক্তির দেশে ক্ষমতা বদলের হাওয়া

বিশ্ব রাজনীতির জন্য ২০১২ সাল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে চারটিতেই ক্ষমতাকেন্দ্রে বদলের হাওয়া বইছে। পরাশক্তির দেশে নেতৃত্বের আসন্ন এই পরিবর্তনে বদলে যেতে পারে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি।
আগামী বছরের ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে, ২২ এপ্রিল ও ৬ মে ফ্রান্সে এবং ৪ মে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া চীনে আগামী বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন দলের পার্টি কংগ্রেস। ওই কংগ্রেসের মাধ্যমে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি বেইজিংয়ের ক্ষমতা কাঠামোতে আসবে এক ঝাঁক নতুন নেতৃত্ব।
পরিবর্তনের এই হাওয়ায় কার ভরাডুবি ঘটবে, কে হবেন নতুন নেতা, নতুনদের নীতি কেমন হবে, বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের প্রভাব কী হবে—এসব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের নেতৃত্ব তাঁদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। ফলে অর্থনৈতিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এই রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা হবে সংকীর্ণ। এতে করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার অগ্রগতিতে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। এ কারণেই বিশ্লেষকেরা একে একটি উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্যস্ত সময় কাটাবেন। ফলে তাঁর পক্ষে বাণিজ্য বা জলবায়ু বিষয়ে কোনো নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অবতীর্ণ হওয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া এসব বিষয় নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের বিরোধিতার মুখেও পড়বেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী মিট রমনে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে এবং চীন তাদের মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন না করলে, বেইজিংয়ের ব্যাপারে তিনি কঠোর হবেন।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও চীনের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর ওবামার কিছুটা হলেও আস্থা আছে। তবে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ২০১২ সালের শেষ নাগাদ নতুনদের কাছে তাঁদের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। শুধু তা-ই নয়, এই সময়ে চীনের প্রায় ৭০ শতাংশ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। চীনের ক্ষমতা কাঠামোতে আসন্ন এই পরিবর্তন পশ্চিমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্ব যেমন পরিচিত নয়, তেমনি তাঁরা অধিক জাতীয়তাবাদী ও রক্ষণশীল বলেই পরিচিত।
রাশিয়ার ক্ষমতায়ও পরিবর্তন আসন্ন। সেখানে আসছে পুতিনবাদ। আগামী মার্চে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন আবারও ক্রেমলিনে ফিরে আসার স্বপ্নে বিভোর। বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ওই নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। ফলে দেশটির ক্ষমতায় পরিবর্তন নিশ্চিত। রাশিয়ার ক্ষমতায় পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মেদভেদেভের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর মনোভাব অপেক্ষাকৃত নমনীয়। ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন লিবিয়া অভিযানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের বিরোধিতা ছিল অপেক্ষাকৃত নরম প্রকৃতির। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুতিন এ অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে মেদভেদেভ এটা পরিষ্কার করেছেন যে তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। তবে স্পষ্টত এ ব্যাপারে পুতিনের অবস্থান পুরোপুরি বিপরীত।
চলমান ইউরো সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আগামী বছরই দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের রাজনীতিতে সারকোজির অবস্থান খুব একটা সুবিধাজনক নয়। নির্বাচনে সারকোজির ভরাডুবি ঘটলে ইউরোপের রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনের এখনো অনেক দেরি। তবে দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের ঐক্য খুব একটা মজবুত নয়। সেখানেও অঘটন ঘটতে পারে যেকোনো সময়। সব মিলিয়ে সামনে বিশ্ব রাজনীতির জন্য অপেক্ষা করছে এক অনিশ্চয়তার বছর।—দ্য ইকনোমিস্ট অবলম্বনে। প্রথম আলো

Wednesday, December 14, 2011

একাত্তরের চিঠিগুলোর কী উত্তর দেব আমরা?

মৃত্যুর আগে কেউই জানে না জীবনের মূল্য ও পরিণতি। কিন্তু শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা জেনেছিলেন। চিঠিটা পড়ুন:

‘‘প্রিয় আব্বাজান! টেকেরঘাট হইতে
তাং-৩০/৭/৭১
আমার সালাম নিবেন। আশা করি খোদার কৃপায় ভালই আছেন। বাড়ির সকলের কাছে আমার শ্রেণীমত সালাম ও স্নেহ রইলো। বর্তমানে যুদ্ধে আছি। আলীরাজা, মাহতাব, রওশন, রুনু, ফুলমিয়া, ইব্রাহিম সকলেই একত্রে আছি। দেশের জন্য আমরা সকলেই জান কোরবান করিয়াছি। আমাদের জন্য ও দেশ স্বাধীন হওয়ার জন্য দোয়া করবেন। আমি জীবনকে তুচ্ছ মনে করি, কারণ দেশ স্বাধীন না হইলে জীবনের কোন মূল্য থাকিবে না। তাই যুদ্ধকে জীবনের পাথেয় হিসাবে নিলাম।
আমার অনুপস্থিতিতে মাকে কষ্ট দিলে আমি আপনাদের ক্ষমা করিব না। পাগলের সব জ্বালা সহ্য করিতে হইবে। চাচা-মামাদের ও বড় ভাইদের নিকট আমার ছালাম। বড় ভাইকে চাকুরীতে যোগ দিতে নিষেধ করিবেন। জীবনের চেয়ে চাকুরী বড় নয়। দাদুকে দোয়া করিতে বলিবেন। মৃত্যুর মুখে আছি। যে কোন সময় মৃত্যু হইতে পারে এবং মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত আছি। দোয়া করিবেন মৃত্যু হইলেও যেন দেশ স্বাধীন হয়। তখন দেখবেন লাখ লাখ ছেলে বাংলার বুকে পুত্র হারাকে বাবা বলে ডাকবে। এই ডাকের অপেক্ষায় থাকুন। আর আমার জন্য চিন্তার কোন কারণ নাই। আপনার দুই মেয়েকে পুরুষের মত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন। তবেই আপনার সকল সাধ মিটে যাবে।
দেশবাসী! স্বাধীন বাংলা কায়েমের জন্য দোয়া কর। মীরজাফরী করিও না, কারণ মুক্তিফৌজ তোমাদেরকে মাফ করিবে না এবং এই বাংলায় তোমাদের জায়গা দেবে না।
সালাম! দেশবাসী সালাম!
ইতি, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ৩০-৭-৭১ ইং’’

এর আট দিন পর কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজের ছাত্র সিরাজ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের যুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে জয়ী হন; কিন্তু সেটাই ছিল তাঁর শেষ যুদ্ধ। জয়ের উচ্ছ্বাসে স্লোগান দিতে গিয়ে অসাবধানে পজিশন ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন, ঠিক তখনই পলায়মান শত্রুর ‘কাভারিং ফায়ারের’ একটি বুলেট এসে লাগল তাঁর চোখে। চিকিৎসার জন্য মিত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারে ভারতে নেওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস নির্গত হয়। সন্ধ্যায় খাসিয়া পাহাড়ের কোলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’-এর কাছাকাছি টেকেরঘাটে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়। পরাধীন দেশের মাটি তিনি পাননি, কিন্তু স্বাধীনতার পরও কেন এক শহীদ বীরপ্রতীককে পড়ে থাকতে হবে সীমান্তের ওপারের নো ম্যান্স ল্যান্ডে?
প্রাণের চেয়ে বড় দান আর হয় না। তবে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মনে করতেন, প্রাণের চেয়ে বড় দান আছে, তা হলো দেশভক্তি। সিরাজ দেশের জন্য প্রাণ ও ভক্তি দুটোই দিয়েছিলেন। তাই তো বলতে পারেন, ‘আমি জীবনকে তুচ্ছ মনে করি, কারণ দেশ স্বাধীন না হইলে জীবনের কোন মূল্য থাকিবে না। তাই যুদ্ধকে জীবনের পাথেয় হিসাবে নিলাম।’ সে সময় তাঁরা আত্মদানের মতো বিমূর্ত ভাষা বলতেন না, বলতেন ‘জান কোরবান’ করার কথা।
ছোট্ট একটি চিঠি, কিন্তু কেবল নিষ্ঠার শুদ্ধতাতেই নয়, নীতির শক্তিতেও অসামান্য। একাত্তরের চিঠির বেশির ভাগ চিঠিই মাকে সম্বোধন করা (প্রথমা প্রকাশন, ২০০৯)। সেই মা কেবল ব্যক্তিগত মা নন, যোদ্ধা ছেলে নিজে যেমন দেশের সন্তান হয়ে ওঠে, তেমনি জননীকেও ভাবে দেশমাতৃকার আদলে। ১৯ নভেম্বর, ১৯৭১ ‘যুদ্ধখানা হইতে তোমার পোলা’ নুরুল হক মাকে লেখেন, ‘আমার মা, আশা করি ভালোই আছ। কিন্তু আমি ভালো নাই। তোমায় ছাড়া কীভাবে ভালো থাকি! তোমার কথা শুধু মনে হয়। আমরা ১৭ জন। তার মধ্যে ছয়জন মারা গেছে, তবু যুদ্ধ চালাচ্ছি। শুধু তোমার কথা মনে হয়, তুমি বলেছিলে, “খোকা মোরে দেশটা স্বাধীন আইনা দে,’’ তাই আমি পিছুপা হই নাই, হবো না, দেশটাকে স্বাধীন করবই। রাত শেষে সকাল হইব, নতুন সূর্য উঠব, নতুন একটা বাংলাদেশ হইব...।’ জাতীয়তাবাদী সংগ্রামে দেশমাতা আর জন্মদায়িনী যখন একাকার, তখন মায়ের ছেলেরাও অনায়াসে দেশের ছেলে হয়ে যায়।
কিন্তু সিরাজ মাকে সম্বোধন করে লিখতে পারেননি, কারণ মা ‘পাগল’। যোদ্ধা পুত্র তাই বাবাকে সম্বোধন করে লেখেন। তাতেও তাঁর উদ্বেল হূদয় তৃপ্ত হয় না; চিঠিটার শেষে তিনি দেশবাসীকেই ডাকেন:
‘দেশবাসী! স্বাধীন বাংলা কায়েমের জন্য দোয়া কর। মীরজাফরী করিও না, কারণ মুক্তিফৌজ তোমাদেরকে মাফ করিবে না এবং এই বাংলায় তোমাদের জায়গা দেবে না।’
পরিবারের দায়িত্ব হিসেবে বাবাকে যা বলেন, তা অসাধারণ।
‘আমার অনুপস্থিতিতে মাকে কষ্ট দিলে আমি আপনাদের ক্ষমা করিব না। পাগলের সব জ্বালা সহ্য করিতে হইবে।’
ভাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে এক বাক্যের উদ্বেগের পরই বোনদের বিষয়ে বলেন, ‘আপনার দুই মেয়েকে পুরুষের মত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন। তবেই আপনার সকল সাধ মিটে যাবে।’
একাত্তরের চেতনার দলিল ইতিহাসে যত না, তার থেকে বেশি মিলবে মুক্তিযোদ্ধাদের এসব চিঠিতে। চিঠিটা তিনি শেষ করেন জাতির প্রতি ডাক দিয়ে:
‘দেশবাসী! স্বাধীন বাংলা কায়েমের জন্য দোয়া কর। মীরজাফরী করিও না, কারণ মুক্তিফৌজ তোমাদেরকে মাফ করিবে না এবং এই বাংলায় তোমাদের জায়গা দেবে না।’
পরিবার ও দেশের জন্য তাঁর এই নির্দেশনার মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের সত্যিকার মুক্তির শর্ত নিহিত ছিল। কিন্তু একাত্তরের পরের ইতিহাস সেই সব নির্দেশনা অমান্য করারই ইতিহাস।
যে ‘যুদ্ধকে জীবনের পাথেয় করে’ নিয়েছিলেন সিরাজরা, সেই যুদ্ধ পেরিয়ে তাঁরা আসতে পারেননি বর্তমানে। কিন্তু তাঁদের কৃতকর্ম, তাঁদের স্মৃতি ও চিঠির অস্তিত্ব এক নিত্য বর্তমানে। যখনই পড়ি এই চিঠিগুলো, মনে ভাসে বাংকারে শায়িত, অথবা অন্ধকারে নদী পেরোনো অথবা প্রশিক্ষণ শিবিরের তাঁবুতে রাত জাগা কোনো যুবকের ছবি। জীবিতের ক্ষয় আছে, শহীদেরা অক্ষয়, তাঁদের বয়স কখনো বাড়ে না। একাত্তরের চল্লিশ বছর পরও তাঁরা যুবকই রয়ে যান আমাদের মনে।
দেশটা বধ্যভূমিময়। আজকের তরুণ, যে মাটিতেই পা রাখো, জানবে আশপাশে কোথাও নিশ্চয়ই আছে কোনো না কোনো শহীদের গায়েবি কবর। তাই মাটির দিকে তাকিয়ো, জানিয়ো তোমার বা তোমার চেয়ে কম বয়সী কারও রক্ত-অস্থি-মাংস-চক্ষু সেই মাটিতে মিশে আছে। এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে এই ভাবনা আমাকে থরথর করে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। মনে হলো, ওখানে যে শুয়ে আছে, সে তো আমার চেয়েও কম বয়সী! একাত্তরের জাতকেরা এখন স্বাধীনতার সমান কিংবা কিছু বেশি বয়সী। তাদের মনেও নিশ্চয়ই এই অনুভূতি জাগে, কবরে শায়িত তাদের বাবা তাদের চেয়ে কত ছোট! কেবল বয়স পেরোনোর যোগ্যতাতেই আমরা এগিয়ে, কিন্তু তাদের সমান অবদান রাখার সুযোগ আমাদের কি হবে! আমাদের সময়ের তরুণেরা কি পারবে মুক্তিযুদ্ধের ফেলে আসা রণাঙ্গনে, মাটিচাপা বধ্যভূমিগুলোতে, লাখ লাখ ধর্ষিতার পিঠের নিচের অন্ধকার বাংলাদেশে, গোপন বন্দিশালায়, এক কোটি শরণার্থীর দেশত্যাগের মর্মান্তিক যাত্রাপথে, আহত-পর্যুদস্ত মুক্তিযোদ্ধা আর ভুক্তভোগীদের স্মৃতির মণিকোঠায় কোনো দিন পৌঁছাতে? যেখানে যন্ত্রণার শিখা অনির্বাণ জ্বলে। যে জীবন একাত্তরের, তার সঙ্গে কি আমাদের হবে দেখা?
যদি দেখা হয়, যদি জানা হয়, তাহলে তারা প্রশ্ন করবে, মেহনতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের ‘রাত শেষে সকাল হইব, নতুন সূর্য উঠব, নতুন একটা বাংলাদেশ হইব...’ এই বিশ্বাস কেন ব্যর্থ হয়েছে? শহীদ সিরাজের আকাঙ্ক্ষা মতো কেন বাংলাদেশের মেয়েরা পুরুষের সমান শিক্ষা ও অধিকার পায়নি? হত্যা, ধর্ষণ, শোষণ-লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতেও কেন হত্যা-ধর্ষণ, শোষণ-লুণ্ঠন কমিয়ে আনা যায়নি? কেন মীরজাফররা এখনো বাংলার মাটিতে প্রতাপের সঙ্গে বিরাজ করছে? কেন শিশুরাষ্ট্র বাংলাদেশ রূপকথার পিটারপ্যানের মতো শিশুই রয়ে গেল; আর পরিণত হলো না। হিসাব মেলে না। একাত্তরের অসম্পূর্ণ হিসাব মেলানোর দায় আজকের তরুণদের সামনে।
প্রয়াত সেক্টর কমান্ডার বীরোত্তম কর্নেল (অব.) নুরুজ্জামানকে একদিন টিভিতে দেখি। দেশের ভেতরে যুদ্ধ থেকে ফিরে শরণার্থী-শিবিরে এক অন্ধ বৃদ্ধকে পেয়েছিলেন। বৃদ্ধটির সন্তান যুদ্ধে গেছে। অনেক দিন নিখবর। কমান্ডারকে কাছে পেয়ে তাঁর সে কী উচ্ছ্বাস। তিনি কর্নেলের হাত ছুঁলেন, চোখ ছুঁলেন। তারপর সেই স্পর্শ নিজের দৃষ্টিহীন চোখে মাখিয়ে নিয়ে বললেন, ‘বাবা, তোমার এই হাত যুদ্ধ করেছে, তোমার চোখ দেশের মাটি-গাছ-পাখি দেখেছে। বাবা, আমি চোখে দেখি না। তুমি তো দেশ থেকে এসেছ, তুমি বলো আমার দেশ কি এখনো তেমন সবুজ, আমার মাটি কি এখনো তেমন সজল? এখনো কি সেখানে পাখিরা ডাকে?’ অন্ধ বৃদ্ধ সন্তানের জন্য কাঁদেননি, কেঁদেছিলেন বিধ্বস্ত দেশের শোকে? ঘটনার ৩৬ বছর পর সেই কথা বলতে বলতে বৃদ্ধ কর্নেলের গাল ভেসে যাচ্ছিল অশ্রুতে। তিনি ফোঁপাচ্ছিলেন। একাত্তরের চিঠিগুলো পড়ে তেমন দমকানো কান্না আসে। অশ্রুও কখনো কখনো ক্ষারের মতো কাজ করে। আমাদের জাতীয় আত্মার ময়লা ধুতে এমন ক্ষার এখন অনেক প্রয়োজন।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক। প্রথম আলো
farukwasif@yahoo.com

 গোলাম আযমের নির্দেশে ৩৮ জনকে হত্যা

একাত্তরের ২১ নভেম্বর গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের ৩৮ জনকে শহরের পৈরতলা রেলব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। এই গণহত্যা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের নির্দেশে।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫২টির একটি হলো এই গণহত্যা। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) ধারায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং এ ধরনের অপরাধে নেতৃত্ব, সহায়তা, প্ররোচনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত সোমবার এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটকের জন্য পরোয়ানা জারিরও আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল ২৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নিলে রাষ্ট্রপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
জানতে চাইলে জামায়াতের আটক নেতাদের আইনজীবী দলের প্রধান আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়াধীন থাকায় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে এটা বলা যায়, গোলাম আযম পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন এটা যেমন এক শ ভাগ সত্য, তেমনি এটাও এক শ ভাগ সত্য যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তাঁর দূরতম কোনো সম্পর্ক ছিল না।’
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযমের চেষ্টায় শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, পাইওনিয়ার ফোর্স প্রভৃতি সহযোগী বাহিনী গঠিত হয়। তাঁর নেতৃত্বে ও নির্দেশে এসব বাহিনী সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে এবং এসব অপরাধ করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে।
অভিযোগ অনুসারে, কুমিল্লার হোমনা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সিরু মিয়া একাত্তরে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় দারোগা (উপপরিদর্শক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৮ মার্চ তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও ১৪ বছরের ছেলে আনোয়ার কামালকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যান। সেখানে তিনি শরণার্থীদের ভারতে যাতায়াতে সাহায্য করতেন। ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার তন্তর চেকপোস্টের কাছে তিনি, তাঁর ছেলেসহ ছয়জন ভারতে যাওয়ার পথে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন। তাঁদের বিভিন্ন রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে কয়েক দিন নির্যাতনের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে পাঠানো হয়। আনোয়ারা বেগমের ভগ্নিপতি খিলগাঁও সরকারি স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ মুহসিন আলী খান সিরু ও আনোয়ারকে ছাড়াতে গোলাম আযমের সঙ্গে দেখা করেন। পরে আরেক দিন তিনি গোলাম আযমের কাছে গিয়ে ওই অনুরোধ জানান। গোলাম আযম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শান্তি কমিটির নেতা পেয়ারা মিয়ার কাছে এ বিষয়ে তাঁদের মারফত একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠি পড়ার পর পেয়ারা মিয়া পত্রবাহককে গোলাম আযমের দেওয়া আরেকটি চিঠি দেখান, যাতে সিরু মিয়া ও তাঁর ছেলেকে হত্যার নির্দেশ ছিল। পেয়ারা মিয়া পত্রবাহককে জানান, তাঁর আনা চিঠিতে নতুন কিছু নেই। পরে ২১ নভেম্বর (পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন) রাতে সিরু মিয়া, আনোয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নজরুল ইসলামসহ ৩৯ জনকে পাকিস্তানি সেনারা রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতায় কারাগার থেকে পৈরতলায় নিয়ে গুলি করে। এতে একজন ছাড়া বাকি ৩৮ জন মারা যান।
এ ঘটনায় গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা ও এতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাকি ৫১ অভিযোগ অনুসারে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, রাজাকার ও সহযোগী বাহিনীগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সারা দেশে যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে, নেতা হিসেবে গোলাম আযম এসব অপরাধ করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তানের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা করতে উৎসাহ, প্ররোচনা ও উসকানি দিয়েছেন।
গণহত্যায় প্ররোচনা: আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ২ মে জামায়াতের ঢাকার কার্যালয়ে কর্মিসভায় গোলাম আযম মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটনে দলের নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। ১৭ মে ঢাকায় সাবেক এমএনএ আবুল কাসেমের বাসভবনে এক সভায় গোলাম আযম ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর সামরিক অভিযানকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ উল্লেখ করেন। ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা কেন্দ্রে এক সভায় তিনি গণহত্যাকে সমর্থন করেন। ১৪ আগস্ট কার্জন হলে এক সভায় তিনি ‘ঘরে ঘরে দুশমন খুঁজে বের করে তাঁদের উৎখাতের মাধ্যমে’ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য প্ররোচিত করেন।
শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন: অভিযোগ অনুসারে, ৪ এপ্রিল গোলাম আযমসহ ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক টিক্কা খানকে নাগরিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। দুই দিন পর গোলাম আযম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পূর্ব পাকিস্তানের সভাপতি পীর মোহসীনউদ্দিন আহমদ ও এ টি সাদী আবার টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। ৯ এপ্রিল খাজা খয়েরউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও গোলাম আযমকে সদস্য করে ১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত হয়। ১৫ এপ্রিল নাগরিক শান্তি কমিটির নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি এবং ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়, যার সদস্য ছিলেন গোলাম আযম। ২১ এপ্রিল একে আরও গতিশীল করতে ছয় সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হয়, যার দুই নম্বর সদস্য ছিলেন গোলাম আযম।
অভিযোগ অনুসারে, ১৮ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিপাবলিক স্কয়ারে এক সভায় গোলাম আযম শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে রাজাকার শিবির পরিদর্শনকালে আলেম ও ইসলামি কর্মীদের প্রতি রাজাকার ও মুজাহিদ বাহিনীতে ভর্তি হয়ে সশস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ১ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, তথাকথিত মুক্তিবাহিনীকে মোকাবিলা করতে রাজাকাররাই যথেষ্ট। এ জন্য রাজাকারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
রাজাকারদের অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান: অভিযোগ অনুসারে, ১৯ জুন গোলাম আযম রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দেখা করে মুক্তিযোদ্ধাদের মোকাবিলার জন্য রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। পরদিন লাহোরে জামায়াতের পশ্চিম পাকিস্তানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে দুষ্কৃতকারীরা সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের প্রতিরোধের জন্য অস্ত্রসজ্জিত হওয়া উচিত। এমন কথা তিনি আরও একাধিক স্থানে বলেছেন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে দালিলিক সাক্ষ্য হিসেবে যেসব নথি সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: একাত্তরে স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদন (জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র সংঘ ও শান্তি কমিটির কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত), গোয়েন্দা প্রতিবেদন, শান্তি কমিটির সঙ্গে রাজাকার, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের যোগাযোগের নথি ও ছবি, ভিডিওচিত্র এবং একাত্তরের বিভিন্ন পত্রিকা ও বিদেশি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদন। এসব বিষয়ে প্রকাশ ও প্রচারের তারিখ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 প্রথম আলো পাঠক প্রতিক্রিয়া

 
Tayyip Rahman
Tayyip Rahman
২০১১.১২.১৪ ০৪:০০
Why Government is bothering a peace loving person? After all he was associated with peace committee in 1971. He wasn't pissing peace into pieces, was he?

Ismail Khan Chy(Titu)
Ismail Khan Chy(Titu)
২০১১.১২.১৪ ০৪:৫৪
He should be arrested soon.

Ismail Khan Chy(Titu)
Ismail Khan Chy(Titu)
২০১১.১২.১৪ ০৪:৫৭
He has been trying prove himself innocent on tv channels. be aware of him.

সুনন্দন বড়ুয়া (প্যারিস থেকে)
সুনন্দন বড়ুয়া (প্যারিস থেকে)
২০১১.১২.১৪ ০৬:৫৭
১৬ ডিসেম্বর ১ নম্বার রাজাকার গোলাম আযম কে গ্রেপ্তার করা হোক ।

Md.Monirul Islam Khan
Md.Monirul Islam Khan
২০১১.১২.১৪ ০৮:৩৫
গতকাল রাতে এ টি এন বাংলাই "৭১ এর গোলাম আযম" শীর্ষক একটি প্রতিবেদন দেখলাম, সাংবাদিকের প্রায় প্রশ্নের উত্তর তিনি সুন্দর ভাবে এড়িয়ে গেলেন। সবচেয়ে যে জিনিসটা আমার খারাপ লেগেছে একজন সাংবাদিক তাকে SIR বলে সম্বোধন করতে শুনে। একটা জিনিস আমি কিছুতেই বুঝলাম না তাকে এতটা সমীহ করে কথা বলার কি আছে। সে শুধু একজনের শত্রু নই পুরো জাতির শত্রু, কথাটা কি আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা ভুলে গিয়েছলেন?

Nazmul Rubaiyat
Nazmul Rubaiyat
২০১১.১২.১৪ ০৯:২৬
পাকিস্তানি গোলাম মীরজাফার গোলাম আজমের ফাসির আগে জুতা পেটা করতে চাই।

Monika
Monika
২০১১.১২.১৪ ০৯:২৮
এসব কেচ্ছা কাহিনী আমরা ছোটবেলা থেকে শুনছি। সময় এসেছে এগুলো প্রমান করার।

Debu Sarkar
Debu Sarkar
২০১১.১২.১৪ ০৯:৩৩
বেশ কয়েকদিন ধরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ক খবর সম্পর্কে লেখা পাঠকের মন্তব্যগুলো মন দিয়ে পড়ছি; সত্যি বলতে কি মূল খবরের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ছি। তাতে দেখতে পাচ্ছি, অনেকেই এই বিচারের বিরোধিতা করছেন। আমার ধারণা আজও এমন অনেকগুলো মন্তব্য প্রকাশিত হবে, যেখানে গোলাম আজমের জন্য হাহাকার করা হবে। সেসব পড়তে পড়তে ভাবতে থাকবো, আজ ১৪ই ডিসেম্বর!!

২০১১.১২.১৪ ০৯:৪৮
I am a student of B.Pharm and also a Teacher.In my life i saw him,he is not bad at all.If you have prove, you will proved him as a Rajaker.After prove it, then our government can catch him.If there is no Prove about him,there is no Causes about him to arrest.I Honor our People Republic Bangladesh.

Apu kowsar
Apu kowsar
২০১১.১২.১৪ ০৯:৫৮
আর কত !!! এখন এদের ফাসি দেয়া হোক।

Md. Mohabbot Hossain
Md. Mohabbot Hossain
২০১১.১২.১৪ ১০:১৫
Md.Monirul Islam Khan, "৭১ এর গোলাম আযম" শীর্ষক প্রতিবেদনটটি প্রচার করার জন্য এ টি এন বাংলা ধন্যবাদ, আর আপনাকেও ধন্যবাদ কষ্ট করে অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য। আর গোলাম আযম কে স্যার বলার কারন সে একজন শিক্ষিত অধ্যাপক।

Evan Hussain
Evan Hussain
২০১১.১২.১৪ ১০:২৭
...জামায়াতের অনেক নেতার বিরুদ্ধেই অকাট্য প্রমান নেই, কিন্তু গোলাম আযম.. এই লোকের বিরুদ্ধে এত প্রমাণ আছে যে একে ফাসিতে ঝোলাতে ৩দিনের বেশি কোর্টের কার্যদিবস লাগার কথা না। এখন দেখা যাক সরকার এই বিষয় নিয়ে কতটুকু রাজনীতি করে।

Sultana
Sultana
২০১১.১২.১৪ ১০:২৮
TV তে দেখলাম, উনি বলছেন, উনার বিরুদধে আনা একটা অভিযোগও কেউ পমান করতে পারবেনা। উনি তো এটা বললেননা যে উনি অভিযোগ আনা অপরাধগুলো করেননি। অপরাধ করে ইসলামকে বরম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আপনাদের বিচার তো দুই জায়গায় হবে। একটা এই পথিবীতে, আর একটা পরকালে। একটু ভয়ও নেই বুকে। নিজেদের উপর কি জুলুমটাই না করছেন শয়তানের পরোচনায়।

Sk. Arman Jahan
Sk. Arman Jahan
২০১১.১২.১৪ ১০:৩০
কালকে ATN News তার প্রতিবেদন দেখলাম ভাল লাগল ... তবে এই মানবতা বিরোধী যে আদালত এটি একটি বির্তকিত হয়ে গেছে তাই এইটা পরিবর্তন দরকার।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
২০১১.১২.১৪ ১০:৩৭
গতকাল একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার চিহ্নিত অপরাধী গোলাম আযমের সাক্ষাত্‍কার দেখে বিস্মিত হলাম । তিনি নাকি মৃত্যুকে ভয় পাননা । যে ব্যাক্তি অসংখ্য মানুষকে হত্যা করতে পারে সেতো জল্লাদ । জল্লাদরা মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার কথা ।
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে ।

imtiaz ahmed chowdhury
imtiaz ahmed chowdhury
২০১১.১২.১৪ ১০:৫০
Md. Mohabbot Hossain কে বলতে চাই গোলাম আযম একজন শিক্ষিত ঘাতোক । সবাইকে আমি Sir বলতে পারি , তা সে চোর হউক ডাকাত হউক কিন্তু একজন ঘাতোক কে Sir বলতে পারবোনা , বলতে দিবোনা ।

Abdul Salam
Abdul Salam
২০১১.১২.১৪ ১০:৫১
গোলাম আযমের মুখে জনগন শুনতে চায়, তার কাহিনী, তাকে সরাসরি প্রশ্ন করুন এবং তাকে তার উত্তর দিতে বলুন।

২০১১.১২.১৪ ১১:০৫
গোলাম আজম (বাংলাদেশীদের জন্য গোলাম আজব) আপনি সময় থাকতে প্রকাশ্যে তওবা করেণ। কারণ আল্লাহ পাক প্রকাশ্য অপরাধের জন্য প্রকাশ্যে তওবা করার কথা বলেছেন।

T Alahee
T Alahee
২০১১.১২.১৪ ১১:১৬
ঘাতকদের বিচার ও দৃসটান্তমুলক শাসতি চাই। তবে তারা যেন আত্মপক্ক সমর্থনের সু্যোগ পায়। তারা বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে সু্যোগ দেয়া উচিত। এতে করে বিচারটি বিতর্কমুক্ত থাকবে। আর বিচারটি টেলিভিশনে লাইভ দেখানোর ব্যবসথা থাকা উচিত। এতে করে এই বিচার রাজনইতিক বলয় থেকে বেরিয়ে পুরো দেশবাসীর সত:সফুর্ত সমর্থন পাবে।

শুভ্র
শুভ্র
২০১১.১২.১৪ ১১:১৭
তাকে মিডিয়ার সামনে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত।

nurul absar hussain
nurul absar hussain
২০১১.১২.১৪ ১১:২২
গত কালও বাংলাভিশনে গোলাম কে দেখিলাম উনার কথা শুনিয়া মনে হইতেছে উনি যুদ্ধকালীন দেশের রক্ষা কবচ ছিল . উনি আমাদের দেশবাসীকে যাহারা ভারতে যাইতে পারেনাই তাহাদের রক্ষা করিয়াছে. উনি গ্রেফতার হইবেন আর আমাদেরই দেশপ্রেমী দল উনার মুক্তিদাবি করিবে আর এক ধরনের সুধী জনেরা বিচারের স্বচ্ছতা চাহিয়া বিচার প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাই নিউজিত থাকিবে. .

nur alam
nur alam
২০১১.১২.১৪ ১১:৩০
আবদুল সালাম ভাই চুর কি বলে আমি ..........................?

২০১১.১২.১৪ ১১:৫৯
The war criminals get the opportunity to become ministers in Bangladesh which is humiliating for our freedom fighters. Shame on those who patronize them. I hate them like Gen. Zia, Somsher Mobin Chow etc ....

২০১১.১২.১৪ ১২:০০
১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তিকমিটি, ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি, ছয় সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হয় ! সব কমিটিতেই গোলাম আজমের নাম আছে ! কমিটির বাকী সদস্যের নাম কি ভাবে জানতে পারবো, কেউ বলতে পারেন কি ? বড় ইচ্ছা হয় আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকারদের পরিচয় জানার ! তা ছাড়া এতো এতো সদস্য রেখে কেবল গোলাম আজমের বিচারই কেন হবে সেটাও বুঝতে চাই !

hafez sharif
hafez sharif
২০১১.১২.১৪ ১২:০৯
@ Mr Md. Mohabbot Hossainকে বলছি, দেখুন একজন মানুষকে সম্মন অসম্মন দেখানো হয় তার কৃত কর্মের দ্ধারা, তিনি শিক্ষিত অধ্যাপক বেশ ভাল কথা, অধ্যাপক হয়ে তিনি দেশের জন্য কি করেছেন ? কোরআনের অপব্যখ্যা দিয়েছেন যা বাংলাদেশের হক্কানি আলেমদের লিখায় ও বক্তব্যে অগনীত প্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের সময় নয় মাস তিনি দেশের জন্য কি করিয়াছেন ? এবং ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন ? ঐ সময় তিনি কি কি করেছেন ? তার জীবনের বেশী ভাগ সময় তিনি দেশকে ধংসের পথে নিতে চেয়েছেন, তার নেতৃত্বে দেশের অগনীত মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইত্যাদী ..... এই ধরনের লোককে সম্মনীত শিক্ষিত অধ্যাপক বলাটা শোভা পায়না।

Hasan
Hasan
২০১১.১২.১৪ ১২:১২
আর কোনো specific প্রমান পাওয়া গেল না? পাকিস্তানের আর্মিরা কি গোলাম আযমের নিরদেশে মেনে চলতো যে তার কথামতো ৩৮ জনকে হত্যা করলো? যারা নিজ হাতে হত্যা করলো তাদের কি কোন বিচার হবে না?

monir
monir
২০১১.১২.১৪ ১২:১৮
গো আযম ও অন্যান্য জামাত নেতারা ১৯৭১ সালে যে অপরাধ গুলো করেছিলো এবং তারা যে অপরাধী এটা দিবা লোকের মত সত্য কিন্তু এত দিন পর এ গুলো প্রমান করা অত্যন্ত কঠিন। বস্তুত ১৯৭৫ এর পর হতে এ রাজাকারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা পেয়ে পেয়ে এখন সব বেমালুম অস্বীকার করছে। এ রাজাকারা পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন এটা যেমন এক শ ভাগ সত্য এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় যা যা করা প্রয়োজন তারা তাই সে সময় করেছিলো।

foyez ahmad
foyez ahmad
২০১১.১২.১৪ ১২:৩১
He should be arrested with appropriate proof.

lean
lean
২০১১.১২.১৪ ১২:৪৩
বুশের মত লোকে জুতা মারতে পারে আর গোলাম আযম এত এত মিথ্যা কথা বলল সব সাংবাদিক কিভাবে বসে থাকে বুঝলাম না ???? সাংবাদিকরা প্রচার করে আমরা সাহসী জাতি ...........................................

২০১১.১২.১৪ ১২:৪৬
গোলাম আযমের মতো একটা চিন্হিত যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার মতো দেখি কিছু কিছু লোক আছে ! থাকতেই পারে, নিশ্চয় তারা বা তাদের আগের প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দালালি করেছিল। বাংলাভিশনে তার যে সাক্ষাতকার দেখলাম তাতে তো মনে হলো অনুষ্ঠানটা একদম প্রিপ্ল্যান করা, যে কারনে সে যেসব প্রশ্ন এড়িয়ে গেছে তা বারবার তুলে ধরে তাকে চেপে ধরা যেতো। কি করে বাংলাভিশন এটা করলো?

nurul absar hussain
nurul absar hussain
২০১১.১২.১৪ ১৩:০৭
দেশের অনেক টেলিভিশন চানেল আছে যেইগুলি দেখিয়া মনে হই ওই গুলি শুধু কোনো উদ্দেশ্য নিয়া করা হইয়াছে. তাহাদের প্রচার দেখিলে মনে হই তাহারা কোনো দলেদ প্রতিনিদিত্ত করিতেছে. যেমন বিটিভি সরকারের করে. গতকালের বাংলাভিশনে গোলাম আজোমের সাক্কাত্কার দেখিয়া মনে হয়তেছে ঐটা উনার পাপ হালকা করিবার জন্যই করা হইয়াছে. দিগন্ত আর ইসলামী টেলিভিশনের কথা নাইই বলিলাম. আরো অনেক হয়ত আছে বিদেশে অপারেটর গণ খুব বেশি চানেল আমাদের দিতে পারেনা.

Swapan Baidya
Swapan Baidya
২০১১.১২.১৪ ১৩:০৯
All of Bangladeshi Hate Gu. Azam. So immediate ..............

মো‌: হাফিজুর রহমান
মো‌: হাফিজুর রহমান
২০১১.১২.১৪ ১৩:১১
কাল রাতে বাংলাভিশনে গো আযম এর সাক্ষাতকার দেখলাম! তার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার ছিল, অখন্ড পাকিস্তানের জন্য সে তখন সবকিছুই করেছে। মানবতাবিরোধী কোন অপরাধ সে করে নাই!! রাজাকার রা পুলিশ আনসারের মতই পাকিস্তানি আর্মির সহযোগী বাহিনী ছিল! তার কাছে কেউ কমপ্লেইন নিয়ে আসলে তিনি পাকিস্তান আর্মিকে বলে যথাসম্ভব সাহায্যই না-কি করেছে!!! তার গর্বভরে বলেছে যে সে বাংলাদেশ নয় অখন্ড পাকিস্তানই চেয়েছিল!!! মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্রোহী বলে আখ্যাতিয় করেছে!!!! তাকে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসম্মুখে পিটিয়ে মারা হোক.....।

a.m.yousuf
a.m.yousuf
২০১১.১২.১৪ ১৩:২৭
লগি দিয়ে মানুষ হত্যা কারিদের ও বিছার হওয়া উছিত '

শিপন মোল্লা
শিপন মোল্লা
২০১১.১২.১৪ ১৪:১১
গোলাম আজম কাল বাংলাভিসন টেলিভিশনে বলেছেন যৌদ্ধ অপরাধী অভিযোগ তার বিরুদে অপবাদ। সে আরো বলেছে তার বিরুদে এই অভিযোগ একটাও প্রমান করতে পারবেনা।

অর্ক
অর্ক
২০১১.১২.১৪ ১৪:৩৫
গোলাম আযম কে প্রকাশ্যে ফাসি দেয়া হোক!

২০১১.১২.১৪ ১৪:৫৯
তাকে সবার সামনে গুলি কর মার


Sunday, November 27, 2011

আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ঢাকা সম্মেলন "লড়াই করেই পৃথিবী গড়তে হবে"

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, লুণ্ঠন, দখল ও অবরোধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ঢাকায় শু সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, লুণ্ঠন, দখল ও অবরোধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে তৃতীয় আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সম্মেলন। বিশ্বের ২৫টি দেশের প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। গতকাল উদ্বোধনী অধিবেশনের ছবি
প্রথম আলো
দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, লুণ্ঠন, দখলদারি ও অবরোধের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শুরু হয়েছে ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ঢাকা সম্মেলন-২০১১’।
সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়। আর সেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে হবে। লড়াই করেই পৃথিবীটা গড়তে হবে।
গতকাল রোববার দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হয়। বিশ্বের ২৫টি দেশের দেড় শতাধিক নেতাসহ ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি ইম্পেরিয়ালিস্ট অ্যান্ড পিপলস সলিডারিটি কো-অর্ডিনেটিং কমিটির (আইএপিএসসিসি) সঙ্গে যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। এর আগে ২০০৭ সালে ভারতের কলকাতায় প্রথম এবং ২০০৯ সালে লেবাননের বৈরুতে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ থেকে গতকাল সকালে শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই সম্মেলন শুরু হয়। বিকেলে নাট্যমঞ্চের খোলা ময়দানে সুবিশাল একটি মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী অধিবেশন। মুহুর্মুহ করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে এ সময় নাট্যমঞ্চ এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
উদ্বোধনী সমাবেশে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানি ও সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু শাসকগোষ্ঠীর কবল থেকে তেল-গ্যাস-কয়লাসহ প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ রক্ষার দাবিতে আমরা লড়াই করছি। আর যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ লড়ছে বিশ্ব পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ওয়াল স্ট্রিট দখল করার ডাক দিয়ে। এই দুই আন্দোলনের লক্ষ্য একটাই—শোষণ থেকে মুক্তি, সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধ-লুটতরাজ-দখলদারি থেকে মুক্তি।
আইএপিএসসিসির সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল রামজে ক্লার্কের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্কার্স ওয়ার্ল্ড পার্টির সম্পাদক-মণ্ডলীর সদস্য সারা ফ্লাউন্ডার্স। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মানবতা, শান্তি ও সভ্যতার শত্রু। দেশের অভ্যন্তরেই আমরা মার্কিন শাসিতদের সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে লড়ছি।’
আইএপিএসসিসির সাধারণ সম্পাদক ও সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অব ইন্ডিয়ার (কমিউনিস্ট) পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক মুখার্জি বলেন, এমন একটি সময়ে এই সম্মেলন হচ্ছে, যখন তিউনিসিয়া থেকে মিসর, ওয়াল স্ট্রিট—সর্বত্র পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষ বিক্ষুব্ধ।
মানিক মুখার্জি বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যত দিন টিকে থাকবে, তত দিন শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কাজেই বিশ্বশান্তি চাইলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই শুরু করতে হবে। তবে সেটি কেবল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নয়, ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধেও লড়তে হবে। প্রয়োজনে সারা বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
সম্মেলনে নেপালের ঐক্যবদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টির (মাওবাদী) চেয়ারম্যান পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ডের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও দেশটির সংবিধান প্রণয়নের শেষ মুহূর্তের কাজের জন্য তিনি আসতে পারেননি। তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মাওবাদী আরেক নেতা এবং দেশটির সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা। প্রচণ্ডের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমি এই সম্মেলনে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চাই, শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে যেকোনো আন্দোলনে আমরা এক কাতারে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন ভেনেজুয়েলার শ্রমিক নেত্রী মারিয়া মারসেলা মাসপেরো ফার্নান্দেজ, আরব ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর কমিউনিটি অ্যান্ড সলিডারিটির সভাপতি মান বাছুর, পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মোহাম্মদ ইকবাল, কোরিয়ান কমিটি ফর আফ্রো-এশিয়ান সলিডারিটির সাধারণ সম্পাদক রি ছং, ফিলিস্তিনের আলদামির অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটসের সংগঠক খলিল এম জে আবু সামলা এবং বাংলাদেশের তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্চের পাশে নির্মিত শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এবং সাম্রাজ্যবাদ ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের পক্ষ থেকে বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, আনু মুহাম্মদ প্রমুখ।
আয়োজকেরা জানান, আজ ও আগামীকাল নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তন ও শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার চলবে। আগামীকাল বিকেলে ঢাকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই সম্মেলন শেষ হবে। prothom-alo

Wednesday, November 16, 2011

আদালতে এফবিআই কর্মকর্তা ডেবরার সাক্ষ্য সিঙ্গাপুর সিটি ব্যাংকের অর্থ ভিসা কার্ডে খরচ করেন তারেক

  • এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভেট এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভেট
1 2
বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের মামলায় তারেক রহমান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে আজ বুধবার সাক্ষ্য দিয়েছেন মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভেট। আদালতে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি প্রথমেই জানান, তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে নয় বরং স্বেচ্ছায় এ সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
আদালতকে ডেবরা বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশ সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের আগে বিদেশে অর্থপাচার ও অবৈধভাবে লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ২০০৮ সালে অনুরোধ করা হয়। এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এফবিআইকে বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়।
ডেবরা আরও জানান, তদন্তকালে বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যক্তির অবৈধ অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে দেখা যায়, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে নিজের পাসপোর্ট ইস্যু করে একটি হিসাব খোলেন। আর মামুনের ওই হিসাবের লেনদেন বিষয়ে তদন্ত করার সময় তারেক রহমানের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। মামুন তাঁর হিসাব থেকে তারেকের হিসাবে টাকা পাঠান। সেখান থেকে তারেক দুটি ভিসা কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ টাকা তুলে বিভিন্ন দেশ সফর করেন ও কেনাকাটা করেন। এ ছাড়া খাদিজা ইসলাম নামের এক ব্যক্তির হিসাব থেকে সাত লাখ ইউএস ডলার মামুনের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
ঢাকার বিশেষ জজ-৩-এর বিচারক মোজাম্মেল হোসেনের আদালতে আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এ বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। বাদীর পক্ষে মোশাররফ হোসেন, আনিসুল হক আর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মামলা পরিচালনা করেন। আদালত আগামী ৮ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
সাক্ষ্য দেওয়ার একপর্যায়ে ডেবরা জানান, এ বিষয়ে তদন্ত শেষে সাক্ষীর স্বাক্ষর-সংবলিত ২২৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে ৩৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। আর আজ ওই প্রতিবেদনগুলোর স্বাক্ষরিত ফটোকপি আদালতে দাখিল করা হয়।
এর আগে সকালে এজলাস বসার পরপরই মামুনের আইনজীবীরা ডেবরাকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে আনতে দুদকের করা আবেদনের বিরোধিতা করেন এবং ডেবরার সাক্ষ্য দেওয়ার আইনগত বৈধতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালত বিষয়টি শুনানি শেষে নাকচ করে দেন। এ পর্যায়ে তারেক-মামুনের আইনজীবীরা আদালত বর্জন করে আদালত প্রাঙ্গণের মিছিল করেন।
২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে তারেক রহমান ও তাঁর বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত বছরের ২ জুলাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তারেক রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জামিন নিয়ে চিকিত্সার জন্য যুক্তরাজ্য যান। এখনো তিনি ওই দেশে আছেন। মামুন আছেন কারাগারে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর বন্ধু মামুন অবৈধভাবে অর্থ আদায় করেন। তারেক রহমান নিজেকে আড়াল করতে মামুনের মাধ্যমে ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে মোট ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেন। তারেক রহমানের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থই সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে মামুনের হিসাবে রক্ষিত ছিল।

Tuesday, September 20, 2011

 সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল নিয়ে গুঞ্জন

আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি ঘাটতি এবং বন্যাদুর্গতদের সাহায্যার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘ব্যর্থতার’ পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের প্রথম থেকেই গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের রাজনৈতিক ও সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণের কথা তখন বলা হচ্ছিল। কারাবন্দী দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা-ও পরিষ্কার নয়। এ অবস্থায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে, রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে সেনানিবাসে।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের তৎকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গীতা পাসি ওই সময় ওয়াশিংটনকে এসব কথা জানান। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভুল পদক্ষেপের কারণে আরেকটি রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তবে ওই অবস্থায় সেনাবাহিনী কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তাঁর মনে হয়নি। ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট গীতা পাসির পাঠানো ওই তারবার্তা গত ৩০ আগস্ট উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তাগুলোর একটি।
তারবার্তায় বলা হয়, ওই গুঞ্জন নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক সোবহানের সঙ্গে কথা বলেন দূতাবাসের কর্মকর্তা। তাঁদের মত ছিল, সেনাবাহিনীর সক্রিয় হওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দেওয়া। এ প্রসঙ্গে ফারুক সোবহান বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেক মামলা বিচারাধীন।
তারবার্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফারুক সোবহান বলেন, সেনাপ্রধানের চারপাশে ঘিরে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আতাউর রহমানের মতো স্বনিয়োজিত কিছু উপদেষ্টা। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার জন্য সেনাপ্রধানকে উৎসাহিত করছেন। সব মিলিয়ে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছেন, যেখানে মনে হবে কেবল সেনাপ্রধানই দেশকে ‘রক্ষা’ করতে পারেন।
তবে ফারুক সোবহান স্বীকার করেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি ঘাটতি, বন্যাসহ অনেক সমস্যাই মোকাবিলা করতে হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে। প্রধান উপদেষ্টার চেয়ে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের অধিকতর সক্রিয়তা নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছিল, সে সম্পর্কে তিনি বলেন, সেনাপ্রধানই সরকারের মূল দায়িত্বে—এ ধারণা যে সত্যি নয়, তা বোঝানোর জন্য গণমাধ্যমে আরও বেশি কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তারবার্তায় বলা হয়, এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম মো. আমিনের সঙ্গেও কথা বললে তাঁর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, ‘দেশের সব সমস্যার বোঝা কেন আমাদের ঘাড়ে নিতে যাব?’ তাঁর মতে, সেনাবাহিনী এখন যে কাজ করছে তার জন্য তারা একদিন বীর হিসেবে বিবেচিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো সেনাবাহিনীও ২০০৮ সালের শেষ নাগাদ নির্বাচন দেখতে চায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক সোবহান প্রথম আলোর কাছে তারবার্তার বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, ‘তাদের সঙ্গে অবশ্যই কথা হয়েছে। কিন্তু এখানে আমাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।’

Wednesday, September 7, 2011

 আ.লীগ পাবে ১৮০ আসন, বিএনপি ৮০

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা ছিল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৮০টি ও বিএনপি ৮০টি আসনে জয় পাবে। বাকি ৪০টি আসন পাবে জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির ওয়াশিংটনে পাঠানো একটি তারবার্তায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। গত ৩০ আগস্ট সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস এই তারবার্তাটি ফাঁস করে।
তারবার্তা থেকে জানা যায়, নির্বাচনের এক দিন আগে ২০০৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর মরিয়ার্টি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তত্কালীন যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম কাদেরের সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে মরিয়ার্টির কাছে উপদেষ্টা গোলাম কাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জরিপের পাওয়া নির্বাচনের ফলাফলের এ পূর্বাভাস ব্যক্ত করেন। গোলাম কাদের মরিয়ার্টিকে বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতলে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ২০০৯-এর ১০ জানুয়ারি সরকার গঠিত হবে। (বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হওয়ায় এ তারিখটি আওয়ামী লীগের কাছে অন্য রকম গুরুত্ব বহন করে)। তবে বিএনপি জিতলে যত দ্রুত সম্ভব তাদের সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হবে বলে গোলাম কাদের জানান।
এ প্রসঙ্গে মরিয়ার্টি তাঁর তারবার্তায় লিখেছেন, ‘বিএনপি জিতলে ৩০ ডিসেম্বরের পরপরই সরকার গঠনের ব্যাপারটি আমার কাছে একটু অতিশয়োক্তি মনে হচ্ছে। কারণ, ৩০ ডিসেম্বর তো নির্বাচনের সরকারি ফলই প্রকাশিত হবে না।’
গোলাম কাদের মরিয়ার্টিকে বলেছিলেন, নির্বাচনের পরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। গোলাম কাদের মরিয়ার্টিকে আরও বলেন, আগামীকাল (২৮ ডিসেম্বর) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা শেষ বৈঠকে মিলিত হয়ে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজ-কর্মগুলো পর্যালোচনা করবেন।
মরিয়ার্টি তাঁর সেই তারবার্তায় লিখেছেন, ২৭ ডিসেম্বর তিনি যখন গোলাম কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন, তাঁকে তখন বেশ নির্ভার দেখাচ্ছিল। তিনি সেদিন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি নির্বাচনের দিন মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা হবে কি না, সে ব্যাপারেও মরিয়ার্টির সঙ্গে কথা বলেন। মরিয়ার্টি তারবার্তায় লিখেছেন, গোলাম কাদের ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনের দিন মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন এবং এ ব্যাপারে তিনি নিজের মতামত মরিয়ার্টির কাছে তুলের ধরেন। তবে তিনি স্বীকার করেছিলেন, মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ না করেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আরও বিকল্প রয়েছে।

Monday, September 5, 2011

সেনা সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলো 'তারা'

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ২০০৭ সালে সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামরিক সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলো বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির দিন (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনকে এক তারবার্তায় এ কথাই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশে তৎকালীন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস।

ওইসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দেশে সাংবিধানিকভাবে সেনাবাহিনী নিয়োজিত ছিল বলে বার্তায় জানান বিউটেনিস।

বার্তায় তিনি বলেন, 'জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং অসাংবিধানিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।'

২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে 'ওয়ান ইলেভেন' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই তারিখের মাত্র দুই দিন আগে ৮ ও ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে দুটি বার্তা পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

বিউটেনিস লেখেন, সেনাবাহিনী 'বিশ্বাসভঙ্গ' করে অভ্যুত্থান করতে পারে, কিংবা দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠানো হতে পরে- এমন কোনো আশঙ্কা মনে ঠাঁই দিতে প্রস্তুত ছিলেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ দুটি 'গুজব' উড়িয়ে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাও। বরং তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসন দিলে তার জন্য ভালোই হবে, কেননা তাতে তিনি নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

তখনকার নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিএনপির অনমনীয় অবস্থান; আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ব্যর্থতার মধ্যে ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা এবং ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন বাংলাদেশে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।

তিন গোষ্ঠীর প্রস্তাব

বিউটেনিস তার বার্তায় বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা মার্কিন দূতাবাসসহ অন্যান্য দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করেছেন। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক সমাধান চান; সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী স¤প্রদায়েরও এ ক্ষেত্রে একই মত।

'তাদের মত হলো রাষ্ট্রপতি/প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে (ক) ছয় মাস থেকে দুই বছরের জন্য নির্বাচন পেছানোয় বাধ্য করা; (খ) তার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের পদ ছাড়া এবং (গ) [তত্ত্বাবধায়ক সরকারের] নতুন একজন প্রধান ও সরকার এবং/কিংবা একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা।'

এছাড়া একটি পরামর্শ ছিলো বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানো। একইসঙ্গে এরকম পরামর্শও ছিলো যে দেশে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নব নির্বাচিত বিএনপি সরকার জরুরি অবস্থা জারি করুক; যাতে সামরিক বাহিনীর এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা থাকবে। এমনকি সামরিক শাসন কিংবা অভ্যুত্থানের পরামর্শও ছিলো।

বিউটেনিস তার বার্তায় বলেন, 'আমেরিকার সংকেত ছাড়া [এতে] যুক্ত হতে ইতস্তত বোধ করছে সামরিক বাহিনী।'

তবে বিউটেনিস এবং দূতাবাসের অন্য কর্মীরা রাজনীতিক ও সেনা কর্মকর্তাদের বলেন, তারা সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ভূমিকা সমর্থন করেন না। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, সেনাবাহিনীকে সংবিধানের আওতায় বেসামরিক সরকারের সমর্থনে ও অধীনে কাজ করতে হবে।

জরুরি অবস্থা জারির কয়েকদিন আগে (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস।

তারবার্তায় বিউটেনিস জানান, ওই সাক্ষাতে [রাজনৈতিক ওই পরিস্থিতিতে] সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের [যুক্তরাষ্ট্রের] অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সেনাবাহিনীর দুই শীর্ষকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা ৯ জানুয়ারি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন বলে বার্তায় জানান বিউটেনিস।

তিনি বলেন, দুই সেনা কর্মকর্তাই বলেছেন, ক্ষমতা, সামরিক শাসন বা অভ্যুত্থান বা অন্য কোনো ধরনের অসাংবিধানিক পন্থার প্রতি সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে আগ্রহ নেই। তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ সমর্থনও করবেন না।

'ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর সঙ্গে ৮ জানুয়ারি তার এ ধরনের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মইন উ আহমেদ।'

জরুরি অবস্থা জারি না করার অনুরোধ

ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় বিউটেনিস লেখেন, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জাহাঙ্গীর বলেছেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন তিনি যেন জরুরি অবস্থা জারি না করেন। কেননা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক বাহিনীকে সামরিক বাহিনীর সহায়তা এর মাধ্যমে আরো কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।

জরুরি অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো স্পষ্ট পথও নেই বলে মনে করেন জাহাঙ্গীর।

বিউটেনিস তার বার্তায় লেখেন, [এ] রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করলেও সেনাবাহিনী জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার পরিকল্পনা করছে বলে স্বীকার করেন মইন।

'কেবল নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেই জরুরি অবস্থা হতে পারে বলে মনে করেন মইন। তবে ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এমন হতে পারে বলে তার মনে হয় না। তিনি বরং নির্বাচনোত্তর গণ অসন্তোষ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।'

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অনুরোধে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিউটেনিস- এ তথ্য উল্লেখ করে বার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমাধান হিসেবে একটি সেনা সমর্থিত জাতীয় ঐক্যের সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন।

জবাবে বিউটেনিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ভূমিকার তীব্র বিরোধী এবং এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান শুধু রাজনৈতিকভাবেই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

সেনা হস্তক্ষেপের তথ্যে ক্ষুব্ধ হন খালেদা, উড়িয়ে দেন হাসিনা


মার্কিন তারবার্তার তথ্য
রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দুই নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন—এমন তথ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আর শেখ হাসিনা বিষয়টিকে রসিকতা করে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায় আসার চেয়ে সেনাবাহিনী আসাই বরং ভালো।
২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগের দিন তাঁরা বসেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। উইকিলিকসের ফাঁস করা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তারবার্তায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
দুই কূটনীতিক খালেদাকে জানান, রাজনৈতিক দলগুলো থেকেই কিছু নেতা তাঁদের কাছে গিয়ে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দুই নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তারবার্তায় বলা হয়েছে, বিষয়টি শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান খালেদা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুশীল সমাজকে এ ধরনের গুঞ্জনে উৎসাহ দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেন। উভয় কূটনীতিক এই অভিযোগ স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দেন।
তারবার্তার ওই বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিরোধী দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের পরামর্শ সত্ত্বেও ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন করতে অটল ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে তিনি ক্ষমতায় গেলে নির্বাচনী আইন সংস্কার করে ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁদের কাছে।
তারবার্তায় বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া কূটনীতিকদের কাছে স্বীকার করেন, তাঁর দলের অনেক নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি তাঁদের দলের মধ্যকার ‘বাজে উপাদান’ বলে নাকচ করে দেন।
সামরিক অভ্যুত্থান ও সহিংসতা এড়াতে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে খালেদাকে জানানো হয়। বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন খালেদাকে। কিন্তু নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, কিন্তু আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসতে চায় না।’
খালেদা বলেন, তাঁরা সব সময় চেয়েছেন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক, কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ২২ জানুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী আগের দিন ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। অভ্যুত্থান ও নির্বাসনে পাঠানোর আশঙ্কার তথ্য জানালে শেখ হাসিনাও তা নাকচ করে দেন, তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে পাঠানো হতে পারে, এমন কথা শুনে রসিকতা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানে আমি আমার নাতনিকে দেখতে পাব।’
শেখ হাসিনা দুই কূটনীতিককে বলেন, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে যদি ‘বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যায়’ তা-ও ভালো। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, এখন সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ক্ষমতা কোনো সেনা কর্মকর্তার নেই। তা ছাড়া সেনাবাহিনী এলেও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকলে জনগণ তা মেনে নেবে না। সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছাড়তে না চাইলে সহিংসতা ও রক্তপাত হবে, দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
শেখ হাসিনা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে জানান, বিএনপি নির্বাচনে জেতার জন্য সব পরিকল্পনা করেছে। সেই পরিকল্পনামতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটকে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি চায় না আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক। কারণ, তারা জানে, নির্বাচনে আমরাই জয়ী হব।’
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ উপদেষ্টাদের কথা শুনছেন না, তিনি বিএনপির কথামতো চলছেন। রাষ্ট্রপতি শুধু একটি নির্বাচন করে খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চান। এ অবস্থায় নির্বাচন বর্জন করা ছাড়া মহাজোটের বিকল্প কোনো পথ নেই।
বিএনপির প্রস্তাবমতো ২২ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার পর নির্বাচনী সংস্কার শেষে এক বছরের মধ্যে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা জানানো হলে শেখ হাসিনা তা নাকচ করে দেন। শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় ফিরে আসার চেয়ে তিনি সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতায় বর্তমান সমস্যা সমাধানকে সমর্থন করবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য মহাজোট নির্বাচন বর্জন করেছে—এমন কথা নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রথমে মেনে নেওয়ায় দলের সমর্থকেরা তাঁকে দোষারোপ করেছেন।
এর আগে শেখ হাসিনা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছেও চিঠি লিখেছিলেন। prothom-alo.com

 খালেদার বড় ব্যর্থতা ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ছেলেকে প্রশ্রয়

২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাসকে বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ছেলেকে (তারেক রহমান) প্রশ্রয় ও মদদ দেওয়াই প্রধানমন্ত্রীর বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, দেশটির গণতন্ত্রের এ নতুন পথচলায় পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি ভালো নয়। সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসে গত ৩০ আগস্ট ফাঁস হওয়া তথ্যে এ কথা জানা গেছে।
তথ্যে দেখা যায়, ২০০৫ সালের ১৩ মার্চ হ্যারি কে টমাসের সঙ্গে কামাল উদ্দিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ৪০ মিনিট কথা হয়। এ সময় টমাস কামালউদ্দিনকে অবহিত করেন, ‘ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার অনুরোধ করেছিলেন তারেক রহমান। তবে প্রটোকল ও অন্যান্য কারণে এ বৈঠক আয়োজন করা সম্ভব হবে না।’ Prothom-alo

Monday, August 15, 2011

তবু কেন রাষ্ট্রধর্ম(সাত বিশিষ্ট ব্যক্তির ভাবনা)

সালাহউদ্দীন আহমদ  কবীর চৌধুরী  সরদার ফজলুল করিম  জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী  সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী  আনিসুজ্জামান  কাইয়ুম চৌধুরী |

সালাহউদ্দীন আহমদ, কবীর চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আন
সালাহউদ্দীন আহমদ, কবীর চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আনিসুজ্জামান ও কাইয়ূম চৌধুরী
বাংলাদেশের এক সামরিক শাসক নিজের ক্ষমতার ভিত্তি তৈরি করতে কাছে টেনেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধীদের। তিনি প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন এমন একজনকে, যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে। তিনি সামরিক ফরমানবলে দেশের সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বর্জন করেছিলেন, ধর্মাশ্রিত রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং সংবিধানের সূচনায় বিসমিল্লাহ্ যোগ করেছিলেন।
বাংলাদেশের আরেক সামরিক অভ্যুত্থানের নায়কের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সারা দেশে যখন তুমুল আন্দোলন চলছিল, তখন নিজের ক্ষমতা নিরাপদ করার আশায় তিনি ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার বিধানসংবলিত এক সাংবিধানিক সংশোধনী জাতীয় সংসদকে দিয়ে পাস করিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সেদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং এককভাবে ও সমষ্টিগতভাবে অন্তত তিনটি মামলা হাইকোর্টে রুজু হয়েছিল।
দেশের মানুষ কেউ কখনো সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার উচ্ছেদ চায়নি, রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তনও চায়নি। ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজের স্বার্থে এসব উদ্যোগ নিয়েছিল এবং, বলা যায়, দেশের অধিকাংশ মানুষ তা মেনে নিয়েছিল। তবে সচেতন জনগোষ্ঠী বরাবরই এসব ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে গণ্য করে এসেছে। তারা বারবার করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো গৃহীত হয়েছিল পাকিস্তান-আমলে পূর্ব বাংলার মানুষের দীর্ঘকালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এই প্রক্রিয়ায়ই ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ গঠিত হয় সে-সময়ের একমাত্র অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানরূপে; ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অব্যবহিত পরে অসাম্প্রদায়িক ছাত্র-সংগঠনরূপে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলরূপে গণতন্ত্রী দলের প্রতিষ্ঠা ঘটে। এই প্রক্রিয়ায়ই পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের নাম থেকে এবং তারপরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নাম থেকে মুসলিম শব্দ বর্জিত হয়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের একুশ দফার শীর্ষদেশে নীতি হিসেবে যদিও অঙ্গীকার করা হয় যে, ‘কোরান ও সুন্নার মৌলিক নীতির খেলাফ কোন আইন প্রণয়ন করা হইবে না এবং ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে নাগরিকগণের জীবনধারণের ব্যবস্থা করা হইবে’, তবু এ-নীতি কোনো দফা হিসেবে ঘোষিত হয়নি এবং এতে রাষ্ট্রের ইসলামিকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র (তখন তাই বলা হতো) প্রণয়নের সময়ে গণপরিষদে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের ইসলামি প্রজাতন্ত্র নামকরণের বিরোধিতা করে। একই সময়ে পূর্ব পাকিস্তান ব্যবস্থাপক পরিষদে যুক্ত নির্বাচনপ্রথার পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করে পাকিস্তানের দ্বিজাতিতত্ত্বের মূলে কুঠারাঘাত করা হয় এবং পূর্বাঞ্চলে এই ব্যবস্থা পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রের বিধানরূপে গৃহীত হয়। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি এবং দলটি বিভক্ত হলে এর উভয় অংশ, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং অধিকাংশ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্রমশ ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাবের প্রসার ঘটাতে সাহায্য করে। অপরপক্ষও নিষ্ক্রিয় ছিল না। তারই পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৬৯ সালে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। ১৯৭০ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া খান যে-আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেন, তার ২০ ধারায় বলা হয়েছিল যে, পাকিস্তান পরিচিত হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বলে, যে-ইসলামি ভাবাদর্শ পাকিস্তানের ভিত্তি তা রক্ষা করা হবে এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান হবেন একজন মুসলমান। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে আরো দুটি ধারার সঙ্গে ছাত্রলীগ এই ধারা সম্পর্কে আপত্তি জানায় এবং আদেশটি বাতিলের দাবি করে। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্র ইউনিয়ন প্রস্তাব করে যে, ‘রাষ্ট্র হইবে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র’।
বাংলাদেশ যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হবে, মুক্তিযুদ্ধের কালে আমাদের নেতারা সেকথা অনেকবার বলেছিলেন। শুধু প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ নন, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান, এমনকি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদও একাধিক বক্তৃতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তিন নীতির—গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার—ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিরূপে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধু সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, ‘বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র “বাংলাদেশ” রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।’ পরে তিনি এর সঙ্গে আরো একটি নীতি যোগ করেন—জাতীয়তাবাদ। ১৯৭২ সালে এই চার নীতিই বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র-পরিচালনার মূলনীতিরূপে গৃহীত হয়।
সুতরাং এ-কথা জোর দিয়ে বলা চলে যে, রাষ্ট্র-পরিচালনার এইসব মূলনীতি হঠাৎ করে কারো ইচ্ছায় প্রণীত হয়নি, কারো স্বার্থরক্ষার জন্যেও নির্ণীত হয়নি। এ হলো জনগণের দীর্ঘকালের সংগ্রামের ফল, নেতাদের সুচিন্তিত পথনির্দেশনার পরিণাম। অন্য কোনো রাষ্ট্রের প্রভাবে বা অনুকরণে নয়, অন্য কোনো রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা বা কৃতজ্ঞতাস্বরূপও নয়, এ ছিল একান্তই আমাদেরই চয়িত আদর্শ। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৯৪৯ সালে যখন ভারতের সংবিধান প্রণীত হয়, তখন রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশক নীতিগুলোর মধ্যে সমাজতন্ত্র বা ধর্মনিরপেক্ষতার স্থান ছিল না। সংবিধানের প্রস্তাবনায় সে-দেশের রূপ নির্ণীত হয়েছিল সার্বভৌম গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র (Sovereign democratic republic) বলে। পরে ১৯৭৭ সালে গৃহীত দ্বিচত্বারিংশ সংশোধনীর দ্বারা তা সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র (Soverign socialist secular democratic republic) করা হয়। ততদিনে আমাদের রাষ্ট্রনায়কেরা সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে আঘাত করেছে। রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের মানুষকে মুসলমান (রাষ্ট্রধর্মের অনুসারী) এবং অমুসলমানে (শান্তিতে পালনযোগ্য অন্যান্য ধর্মের অনুসারী) বিভক্ত করেছে। রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের অমুসলমান নাগরিকদের মধ্যেও এক ধরনের স্বাতন্ত্র্যবাদের সূচনা করেছে। রাষ্ট্রধর্ম-প্রবর্তনের পরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের প্রতিষ্ঠা তারই দৃষ্টান্ত। ১৯৯০, ১৯৯২ ও ২০০১ সালের সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের ঘটনা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মনে অনাস্থার সৃষ্টি করেছে। তার ফলে একদিকে ঘটেছে নীরব দেশত্যাগ, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে তাদের স্বার্থরক্ষার জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচনপ্রথার পুনঃপ্রবর্তন কিংবা সংরক্ষিত সংসদীয় আসনের চিন্তা।
বিশেষ ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রের পক্ষপাতের ফলে যে নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়, একথা অনেকে মানতে চান না। তাঁরা যুক্তরাজ্যের দৃষ্টান্ত দেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতীয় রাষ্ট্রের উদ্ভবের পরে ইউরোপে ক্রমে ধর্ম ও রাষ্ট্রের—স্টেট ও চার্চের—পৃথকীকরণ ঘটে এবং সকল নাগরিকের ইহলৌকিক কল্যাণসাধন রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে স্বীকৃত হয়। তা সত্ত্বেও ইউরোপের সব দেশে রাষ্ট্র ও ধর্ম পৃথক হয়নি। যুক্তরাজ্যের রাজা ও রানী চার্চ অফ ইংল্যান্ডের রক্ষাকর্তা—এই অর্থে অ্যাংলিকান চার্চের ধর্মই যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্ম। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার একাধিক দেশ, আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও স্পেনেও রাষ্ট্র বিশেষ বিশেষ ধর্মের আনুকূল্য করে থাকে—তবে পৃষ্ঠপোষকতা বলতে আমরা যেমন বুঝি, তেমন নয়। সেসব দেশে আমাদের দেশের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা পীড়িত হয় না। অন্যদিকে ক্যাথলিক ধর্মের অসাধারণ প্রাধান্য সত্ত্বেও ফ্রান্স ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, প্রোটেস্টান্টদের গরিষ্ঠতা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। ইসলামি রাষ্ট্রসংস্থার (ওআইসি) অর্ধেক সদস্য-রাষ্ট্রেরই রাষ্ট্রধর্ম বলে কিছু নেই। ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা সিরিয়ার মতো দেশ রাষ্ট্রধর্ম স্বীকার করে না। তুরস্ক কেবল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র নয়, তার সংবিধানের যে-তিনটি বিধান কোনোমতে সংশোধনযোগ্য নয়, ধর্মনিরপেক্ষতা তার একটি; সেদেশে সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং নারীর স্বাধীনতা বিষয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আইন প্রচলিত। সুতরাং কেবল উদাহরণ দিয়ে লাভ নেই, স্বদেশের অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির বিবেচনায় এ-বিষয়ে করণীয় নির্ণয় করা আবশ্যক। ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ ফ্রান্সকে ধর্মনিরপেক্ষ থাকার প্রেরণা দিয়েছে; আদি বসতিস্থাপনারীদের ধর্মীয় নিপীড়নভোগের অভিজ্ঞতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকতে দেয়নি। পাকিস্তান আমলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির যে-কুফল আমরা দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ধর্মের নামে যে-নিপীড়ন এখানে চলেছে এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মিলিত সংগ্রামের যে-ইতিহাস আমরা রচনা করেছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শগ্রহণই আমাদের পক্ষে স্বাভাবিক ও সংগত ছিল। আমরা ঠিক তাই করেছিলাম।
পঞ্চদশ সংশোধনীর বলে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি ফিরে আসছে। কিন্তু বিসমিল্লাহ্ ও রাষ্ট্রধর্ম রয়ে যাচ্ছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদে স্পষ্টই বলা হয়েছিল যে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের জন্য (ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান, (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার (ঘ) কোন বিশেষ ধর্মপালনকারীর প্রতি বৈষম্য বা তাঁহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।’ একইসঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ এবং রাষ্ট্রধর্মের বিধান—অর্থাৎ রাষ্ট্র কর্তৃক ইসলামকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান—কীভাবে পাশাপাশি থাকতে পারে, তা আমাদের স্বল্পবুদ্ধিতে বোধগম্য নয়।
বাংলাদেশের জন্যে রাষ্ট্রধর্ম যে আবশ্যক, তা কীভাবে নির্ণীত হয়েছে? একথা কি আমরা ভুলে গেছি যে, বাংলাদেশের যে-একমাত্র শাসক দেশবাসীকে রাষ্ট্রধর্ম উপহার দিয়েছিলেন, জনসাধারণ আন্দোলন করে তাঁকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে? আওয়ামী লীগকে ধর্মনিরপেক্ষতার সমর্থক জেনেও কি দেশের মানুষ একাধিকবার তাকে ক্ষমতায় আনেনি? তাহলে কাদের মুখ চেয়ে আমরা রাষ্ট্রধর্ম রাখতে চাইছি এবং ধর্মনির্বিশেষে সকল নাগরিককে দিয়ে বিসমিল্লাহ্ বলাতে চাইছি?
রাষ্ট্রধর্মের বিধান বাংলাদেশে ধর্মব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করেছে। তাঁরা মুসলমান-অমুসলমানে পার্থক্য করেছেন, শিয়া ও আহমদিয়াদের অমুসলমান বলে ঘোষণা করেছেন এবং রাষ্ট্রের কাছে অনুরূপ ঘোষণা দাবি করেছেন। তাঁরা নারীপুরুষে বৈষম্যসৃষ্টির অভিপ্রায় প্রকাশ্যে জ্ঞাপন করেছেন। তাঁরা নারীপুরুষনির্বিশেষে মুরতাদ ঘোষণা করে মানুষকে পীড়ন করেছেন। তাঁরা নির্বিবাদে ফতোয়া দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছেন। এ থেকেও আমাদের শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে।
বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রধর্মের বিধান বর্জন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে রাষ্ট্রধর্মের বিধান বিলোপ করতে হবে। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান-প্রতিষ্ঠার পরে রাজনৈতিক নেতারা আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে সৃষ্ট বাংলাদেশে আমাদের নেতারা কি সকল নাগরিককে সেই আদর্শ বজায় রাখার প্রেরণা দেবেন না?
লেখকবৃন্দ: দেশের বিশিষ্ট নাগরিক।
প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More