Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা. Show all posts
Showing posts with label গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা. Show all posts

Tuesday, September 6, 2011

 হুজির আইডিপি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে ডিজিএফআই

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) রাজনৈতিক দল ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টি (আইডিপি) সৃষ্টিতে সহায়তা করেছিল বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। আর এ পদক্ষেপের পক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে সাফাই করেছিলেন ডিজিএফআইয়ের তত্কালীন পরিচালক এ টি এম আমিন ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ওয়াশিংটনে পাঠানো গোপন তারবার্তায় এ কথা উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি ভিন্নধারার গণমাধ্যম উইকিলিকস এই তথ্য ফাঁস করে।
২০০৮ সালে ১৬ অক্টোবর ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক তারবার্তায় বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি) রাজনৈতিক স্বীকৃতি চায়। এ লক্ষ্যে তারা ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি (আইডিপি) নামে একটি রাজনৈতিক দলও ঘোষণা করেছে। ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির (আইডিপি) নেতারা দাবি করেছেন, ইসলামি শরিয়া আইনের অধীনে বাংলাদেশে তারা সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
হুজি-বির এ পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বলেছেন, ‘হুজি-বি’কে অবশ্যই মূলধারার রাজনীতিতে আসার অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়।
তারবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইডিপি দেশব্যাপী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে। যদিও দলটির নেতারা দাবি করেছেন, তাঁরা শান্তি ও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করছেন। তবে সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূতদের এ বিষয়ে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, দলটি তাদের মূল সন্ত্রাসী সংগঠন ত্যাগ করেনি।
তারবার্তায় বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি আত্মপ্রকাশ করে। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশ নেয়।
ঢাকার অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তথ্যের বরাত দিয়ে ওই তারবার্তায় বলা হয়, আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদ কমান্ডার আবদুস সালাম আইডিপির আহ্বায়ক। দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম বলেন, দলটি বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে তা সন্ত্রাসী পন্থায় নয়।
১৬ অক্টোবর পাঠানো অপর এক মার্কিন তার বার্তায় বলা হয়েছে, তত্কালীন ডিজিএফআই-এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আমিন ১৫ অক্টোবর ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর, এবং আঞ্চলিক কাউন্সেলরের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। ওই সাক্ষাতে এ টি এম আমিন আইডিপিকে মূলধারার রাজনীতিতে নিয়ে আসার পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই করেন। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। তিনি হুজির কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশেষ করে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মার্কিন সরকারের উদ্বেগের কথা জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ টি এম আমিন জানান, তারা আইডিপিকে গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার।
জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) রাজনৈতিক দল ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টির (আইডিপি) আত্মপ্রকাশ নিয়ে ২০০৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রথম আলোতে ‘আইডিপি নামে এবার প্রকাশ্য রাজনীতিতে হুজি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টি—আইডিপি’ নামে প্রকাশ্য রাজনীতি শুরু করেছে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি)। রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে সাবেক আফগান মুজাহিদদের এ সংগঠন।
সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম তখন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সংগঠন এ দেশে ১৯৯২ সালেই আত্মপ্রকাশ করে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ নামে। এরপর ১৯৯৮ সালে তা বিলুপ্তি ঘোষণার পর তাঁরা ‘ইসলামী গণ-আন্দোলন’ নামে সংগঠন করেন। সেই সংগঠন থেকে এখন তাঁরা আইডিপি নামে কাজ করছেন।
মাওলানা শেখ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আইডিপির ওই ইফতার ও আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতারা ছাড়াও সংগঠনের ভাষায় ‘আন্ত-সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উন্নয়নের স্বার্থে আমন্ত্রিত’ ইংরেজি সাপ্তাহিক ব্লিেজর সম্পাদক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশের সহকারী নির্বাহী সম্পাদক ও হিউম্যান রাইটস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের পি কে বড়ুয়া, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি চিত্ত ফ্রান্সিস রিভেরু বক্তব্য দেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী বলেন, আইডিপির আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনীতির জন্ম হলো। তিনি বলেন, আইডিপির সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের নাম জড়িত। এটা এমন একটি সংগঠন, যার সম্পর্কে নানা আলোচনা রয়েছে। আইডিপিকে যারা সন্ত্রাসী সংগঠন বলে, ওই সব পত্রিকা বিদেশের টাকায় চলে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ এবং বালি বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সত্ত্বেও হিযবুত তাহরীরের মতো সংগঠন যদি এ দেশে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারে, তাহলে আইডিপি কেন পারবে না। যারা বাংলাদেশকে করদ রাজ্য বানাতে চায়, তারা আইডিপিকে হুমকি মনে করে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আইডিপির সদস্যসচিব মাওলানা রুহুল আমিন, তিন যুগ্ম আহ্বায়ক কারি হোসাইন আহমদ, মাওলানা আবুল কাশেম রহমানী ও মাওলানা মাহবুবুর রহমান এবং মাওলানা মুফতি কামাল, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মুফতি ফজলে এলাহি, মাওলানা মুফতি নোমান, খেলাফত মজলিসের (ইসহাক) নায়েবে আমির এমদাদুল হক আড়াইহাজারী, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির ছফর উল্লাহ খান, জৈনপুরী পীর মাওলানা এহছানুল্লাহ আব্বাসী প্রমুখ। এ ছাড়া মরহুম হাফেজ্জী হুজুরের মেজ ছেলে হাফেজ মাওলানা হামিদুল্লাহ ও মাওলানা আতাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তৃতায় মাওলানা আবদুস সালাম নিজেদের আন্তর্জাতিক মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে বলেন, তাঁরা মদিনা সনদের আলোকে একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চান।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপসহ নানা কারণে সংগঠনটি বিভিন্ন সময় নাম পাল্টালেও এর নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো, মজলিশে শুরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় একই ছিল। ২০০৬ সালের আগস্টে প্রথম গোপন এ সংগঠনটি ইসলামি গণ-আন্দোলন নামে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসার চেষ্টা করে। এ লক্ষ্যে ওই বছরের ১৮ আগস্ট জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সচেতন ইসলামী জনতার ব্যানারে বড় একটি সমাবেশ করেছিল। তখন সচেতন ইসলামী জনতার আহ্বায়ক হিসেবে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা আবু তাহের। এই তাহের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। বর্তমানে তিনি কারাগারে। আবু তাহের হুজির ঢাকা মহানগর সভাপতি ও মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন।
বিভিন্ন নাশকতামূলক ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবর হুজিকে নিষিদ্ধঘোষণা করে। ২০০২ সালের ২১ মে বাংলাদেশের হরকাতুল জিহাদকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। গত ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিত্সা রাইস এক নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশের হুজিকে একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং একটি ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা দেন।
হুজির সঙ্গে জড়িত মুফতি হান্নানসহ অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আছে—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালেই মুফতি হান্নানকে আমরা দল থেকে বহিষ্কার করি। বহিষ্কারের পর কেউ যদি ওই নামে নাশকতা করে থাকে, তার দায়-দায়িত্ব তাদেরই। আমাদের ওপর বর্তায় না। তবে সরকারকে ধন্যবাদ, তাদের ধরেছে। এখন তাদের বিচার চলছে।’

Monday, August 15, 2011

তবু কেন রাষ্ট্রধর্ম(সাত বিশিষ্ট ব্যক্তির ভাবনা)

সালাহউদ্দীন আহমদ  কবীর চৌধুরী  সরদার ফজলুল করিম  জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী  সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী  আনিসুজ্জামান  কাইয়ুম চৌধুরী |

সালাহউদ্দীন আহমদ, কবীর চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আন
সালাহউদ্দীন আহমদ, কবীর চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আনিসুজ্জামান ও কাইয়ূম চৌধুরী
বাংলাদেশের এক সামরিক শাসক নিজের ক্ষমতার ভিত্তি তৈরি করতে কাছে টেনেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধীদের। তিনি প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন এমন একজনকে, যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে। তিনি সামরিক ফরমানবলে দেশের সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বর্জন করেছিলেন, ধর্মাশ্রিত রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং সংবিধানের সূচনায় বিসমিল্লাহ্ যোগ করেছিলেন।
বাংলাদেশের আরেক সামরিক অভ্যুত্থানের নায়কের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সারা দেশে যখন তুমুল আন্দোলন চলছিল, তখন নিজের ক্ষমতা নিরাপদ করার আশায় তিনি ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার বিধানসংবলিত এক সাংবিধানিক সংশোধনী জাতীয় সংসদকে দিয়ে পাস করিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সেদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং এককভাবে ও সমষ্টিগতভাবে অন্তত তিনটি মামলা হাইকোর্টে রুজু হয়েছিল।
দেশের মানুষ কেউ কখনো সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার উচ্ছেদ চায়নি, রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তনও চায়নি। ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজের স্বার্থে এসব উদ্যোগ নিয়েছিল এবং, বলা যায়, দেশের অধিকাংশ মানুষ তা মেনে নিয়েছিল। তবে সচেতন জনগোষ্ঠী বরাবরই এসব ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে গণ্য করে এসেছে। তারা বারবার করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো গৃহীত হয়েছিল পাকিস্তান-আমলে পূর্ব বাংলার মানুষের দীর্ঘকালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এই প্রক্রিয়ায়ই ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ গঠিত হয় সে-সময়ের একমাত্র অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানরূপে; ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অব্যবহিত পরে অসাম্প্রদায়িক ছাত্র-সংগঠনরূপে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলরূপে গণতন্ত্রী দলের প্রতিষ্ঠা ঘটে। এই প্রক্রিয়ায়ই পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের নাম থেকে এবং তারপরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নাম থেকে মুসলিম শব্দ বর্জিত হয়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের একুশ দফার শীর্ষদেশে নীতি হিসেবে যদিও অঙ্গীকার করা হয় যে, ‘কোরান ও সুন্নার মৌলিক নীতির খেলাফ কোন আইন প্রণয়ন করা হইবে না এবং ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে নাগরিকগণের জীবনধারণের ব্যবস্থা করা হইবে’, তবু এ-নীতি কোনো দফা হিসেবে ঘোষিত হয়নি এবং এতে রাষ্ট্রের ইসলামিকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র (তখন তাই বলা হতো) প্রণয়নের সময়ে গণপরিষদে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের ইসলামি প্রজাতন্ত্র নামকরণের বিরোধিতা করে। একই সময়ে পূর্ব পাকিস্তান ব্যবস্থাপক পরিষদে যুক্ত নির্বাচনপ্রথার পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করে পাকিস্তানের দ্বিজাতিতত্ত্বের মূলে কুঠারাঘাত করা হয় এবং পূর্বাঞ্চলে এই ব্যবস্থা পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রের বিধানরূপে গৃহীত হয়। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি এবং দলটি বিভক্ত হলে এর উভয় অংশ, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং অধিকাংশ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্রমশ ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাবের প্রসার ঘটাতে সাহায্য করে। অপরপক্ষও নিষ্ক্রিয় ছিল না। তারই পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৬৯ সালে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। ১৯৭০ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া খান যে-আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেন, তার ২০ ধারায় বলা হয়েছিল যে, পাকিস্তান পরিচিত হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বলে, যে-ইসলামি ভাবাদর্শ পাকিস্তানের ভিত্তি তা রক্ষা করা হবে এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান হবেন একজন মুসলমান। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে আরো দুটি ধারার সঙ্গে ছাত্রলীগ এই ধারা সম্পর্কে আপত্তি জানায় এবং আদেশটি বাতিলের দাবি করে। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্র ইউনিয়ন প্রস্তাব করে যে, ‘রাষ্ট্র হইবে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র’।
বাংলাদেশ যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হবে, মুক্তিযুদ্ধের কালে আমাদের নেতারা সেকথা অনেকবার বলেছিলেন। শুধু প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ নন, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান, এমনকি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদও একাধিক বক্তৃতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তিন নীতির—গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার—ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিরূপে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধু সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, ‘বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র “বাংলাদেশ” রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।’ পরে তিনি এর সঙ্গে আরো একটি নীতি যোগ করেন—জাতীয়তাবাদ। ১৯৭২ সালে এই চার নীতিই বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র-পরিচালনার মূলনীতিরূপে গৃহীত হয়।
সুতরাং এ-কথা জোর দিয়ে বলা চলে যে, রাষ্ট্র-পরিচালনার এইসব মূলনীতি হঠাৎ করে কারো ইচ্ছায় প্রণীত হয়নি, কারো স্বার্থরক্ষার জন্যেও নির্ণীত হয়নি। এ হলো জনগণের দীর্ঘকালের সংগ্রামের ফল, নেতাদের সুচিন্তিত পথনির্দেশনার পরিণাম। অন্য কোনো রাষ্ট্রের প্রভাবে বা অনুকরণে নয়, অন্য কোনো রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা বা কৃতজ্ঞতাস্বরূপও নয়, এ ছিল একান্তই আমাদেরই চয়িত আদর্শ। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৯৪৯ সালে যখন ভারতের সংবিধান প্রণীত হয়, তখন রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশক নীতিগুলোর মধ্যে সমাজতন্ত্র বা ধর্মনিরপেক্ষতার স্থান ছিল না। সংবিধানের প্রস্তাবনায় সে-দেশের রূপ নির্ণীত হয়েছিল সার্বভৌম গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র (Sovereign democratic republic) বলে। পরে ১৯৭৭ সালে গৃহীত দ্বিচত্বারিংশ সংশোধনীর দ্বারা তা সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র (Soverign socialist secular democratic republic) করা হয়। ততদিনে আমাদের রাষ্ট্রনায়কেরা সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে আঘাত করেছে। রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের মানুষকে মুসলমান (রাষ্ট্রধর্মের অনুসারী) এবং অমুসলমানে (শান্তিতে পালনযোগ্য অন্যান্য ধর্মের অনুসারী) বিভক্ত করেছে। রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের অমুসলমান নাগরিকদের মধ্যেও এক ধরনের স্বাতন্ত্র্যবাদের সূচনা করেছে। রাষ্ট্রধর্ম-প্রবর্তনের পরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের প্রতিষ্ঠা তারই দৃষ্টান্ত। ১৯৯০, ১৯৯২ ও ২০০১ সালের সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের ঘটনা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মনে অনাস্থার সৃষ্টি করেছে। তার ফলে একদিকে ঘটেছে নীরব দেশত্যাগ, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে তাদের স্বার্থরক্ষার জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচনপ্রথার পুনঃপ্রবর্তন কিংবা সংরক্ষিত সংসদীয় আসনের চিন্তা।
বিশেষ ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রের পক্ষপাতের ফলে যে নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়, একথা অনেকে মানতে চান না। তাঁরা যুক্তরাজ্যের দৃষ্টান্ত দেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতীয় রাষ্ট্রের উদ্ভবের পরে ইউরোপে ক্রমে ধর্ম ও রাষ্ট্রের—স্টেট ও চার্চের—পৃথকীকরণ ঘটে এবং সকল নাগরিকের ইহলৌকিক কল্যাণসাধন রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে স্বীকৃত হয়। তা সত্ত্বেও ইউরোপের সব দেশে রাষ্ট্র ও ধর্ম পৃথক হয়নি। যুক্তরাজ্যের রাজা ও রানী চার্চ অফ ইংল্যান্ডের রক্ষাকর্তা—এই অর্থে অ্যাংলিকান চার্চের ধর্মই যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্ম। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার একাধিক দেশ, আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও স্পেনেও রাষ্ট্র বিশেষ বিশেষ ধর্মের আনুকূল্য করে থাকে—তবে পৃষ্ঠপোষকতা বলতে আমরা যেমন বুঝি, তেমন নয়। সেসব দেশে আমাদের দেশের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা পীড়িত হয় না। অন্যদিকে ক্যাথলিক ধর্মের অসাধারণ প্রাধান্য সত্ত্বেও ফ্রান্স ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, প্রোটেস্টান্টদের গরিষ্ঠতা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। ইসলামি রাষ্ট্রসংস্থার (ওআইসি) অর্ধেক সদস্য-রাষ্ট্রেরই রাষ্ট্রধর্ম বলে কিছু নেই। ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা সিরিয়ার মতো দেশ রাষ্ট্রধর্ম স্বীকার করে না। তুরস্ক কেবল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র নয়, তার সংবিধানের যে-তিনটি বিধান কোনোমতে সংশোধনযোগ্য নয়, ধর্মনিরপেক্ষতা তার একটি; সেদেশে সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং নারীর স্বাধীনতা বিষয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আইন প্রচলিত। সুতরাং কেবল উদাহরণ দিয়ে লাভ নেই, স্বদেশের অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির বিবেচনায় এ-বিষয়ে করণীয় নির্ণয় করা আবশ্যক। ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ ফ্রান্সকে ধর্মনিরপেক্ষ থাকার প্রেরণা দিয়েছে; আদি বসতিস্থাপনারীদের ধর্মীয় নিপীড়নভোগের অভিজ্ঞতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকতে দেয়নি। পাকিস্তান আমলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির যে-কুফল আমরা দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ধর্মের নামে যে-নিপীড়ন এখানে চলেছে এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মিলিত সংগ্রামের যে-ইতিহাস আমরা রচনা করেছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শগ্রহণই আমাদের পক্ষে স্বাভাবিক ও সংগত ছিল। আমরা ঠিক তাই করেছিলাম।
পঞ্চদশ সংশোধনীর বলে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি ফিরে আসছে। কিন্তু বিসমিল্লাহ্ ও রাষ্ট্রধর্ম রয়ে যাচ্ছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদে স্পষ্টই বলা হয়েছিল যে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের জন্য (ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান, (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার (ঘ) কোন বিশেষ ধর্মপালনকারীর প্রতি বৈষম্য বা তাঁহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।’ একইসঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ এবং রাষ্ট্রধর্মের বিধান—অর্থাৎ রাষ্ট্র কর্তৃক ইসলামকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান—কীভাবে পাশাপাশি থাকতে পারে, তা আমাদের স্বল্পবুদ্ধিতে বোধগম্য নয়।
বাংলাদেশের জন্যে রাষ্ট্রধর্ম যে আবশ্যক, তা কীভাবে নির্ণীত হয়েছে? একথা কি আমরা ভুলে গেছি যে, বাংলাদেশের যে-একমাত্র শাসক দেশবাসীকে রাষ্ট্রধর্ম উপহার দিয়েছিলেন, জনসাধারণ আন্দোলন করে তাঁকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে? আওয়ামী লীগকে ধর্মনিরপেক্ষতার সমর্থক জেনেও কি দেশের মানুষ একাধিকবার তাকে ক্ষমতায় আনেনি? তাহলে কাদের মুখ চেয়ে আমরা রাষ্ট্রধর্ম রাখতে চাইছি এবং ধর্মনির্বিশেষে সকল নাগরিককে দিয়ে বিসমিল্লাহ্ বলাতে চাইছি?
রাষ্ট্রধর্মের বিধান বাংলাদেশে ধর্মব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করেছে। তাঁরা মুসলমান-অমুসলমানে পার্থক্য করেছেন, শিয়া ও আহমদিয়াদের অমুসলমান বলে ঘোষণা করেছেন এবং রাষ্ট্রের কাছে অনুরূপ ঘোষণা দাবি করেছেন। তাঁরা নারীপুরুষে বৈষম্যসৃষ্টির অভিপ্রায় প্রকাশ্যে জ্ঞাপন করেছেন। তাঁরা নারীপুরুষনির্বিশেষে মুরতাদ ঘোষণা করে মানুষকে পীড়ন করেছেন। তাঁরা নির্বিবাদে ফতোয়া দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছেন। এ থেকেও আমাদের শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে।
বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রধর্মের বিধান বর্জন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে রাষ্ট্রধর্মের বিধান বিলোপ করতে হবে। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান-প্রতিষ্ঠার পরে রাজনৈতিক নেতারা আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে সৃষ্ট বাংলাদেশে আমাদের নেতারা কি সকল নাগরিককে সেই আদর্শ বজায় রাখার প্রেরণা দেবেন না?
লেখকবৃন্দ: দেশের বিশিষ্ট নাগরিক।
প্রথম আলো

Friday, July 29, 2011

গণতন্ত্রঃ তত্ত্বে ভুল? নাকি অক্ষমতা...!!!


ব্যাপারটি নিয়ে ভাবছি বেশ কিছুদিন হলো। সমাধান খুঁজে পাচ্ছিনা। কারো সাথে শেয়ারও করতে পারছিনা। পাছে না আবার ভাবে, পাগল! আদার খুচরো দোকানদার, জাহাজ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে! পরে ভাবলাম যা আছে কপালে। জাতির সাথেই শেয়ার করি। দু’পাঁচ জনের কাছে পাগল সেজে লাভ নেই। পাগল বললে পুরো জাতি পাগল বলুক। জাতীয় পাগল হতে পারাও মন্দ হবে না।

আমি যেহেতু ছোট লেখক, তাই লেখাটি ছোট করেই লিখে পাঠিয়েছিলাম দৈনিক সমকালে। গণতন্ত্র ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা শিরোণামে। দৈনিক সমকাল ১৮ জুন'১১ইং সংখ্যায় যা প্রকাশিত হয়েছিলো

একটি কথা আছে,
কাজির গাই, কেতাবে আছে গোয়ালে নাই!

ভাবছি, গণতন্ত্রের বেলায় এটি সমভাবে প্রযোজ্য হয়ে যায় কিনা!!

বর্তমান বিশ্বে সবচে’ সমাদৃত ও গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রনীতি হচ্ছে গণতন্ত্র। আমাদের দেশেও। যদিও এদেশে গণতন্ত্রের পোশাক পরে রাজতন্ত্রের অশরীরি আত্মাগুলোকেই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়, তবুও।

যদিও আমাদের গণতন্ত্রের থলের ভেতরেই ঘাপটি মেরে বসে থাকতে দেখা যায় উর্দি শাসনকে স্বাগত জানানোর পাইক-পেয়াদাদের, তুবও।

আমরা ভাবতে ভালোবাসি, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। যদিও এদেশের রাস্তা-ঘাটে, গ্রাম-শহরে, অফিস-আদালতে, এমনকি জাতীয় সংসদেও, অবলা গণতন্ত্রকে ধর্ষিত হতে দেখা যায়। গণতন্ত্রের কোমল বুকে ছুরি বসিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে মসনদ হাসিল করার ঘটনাও ঘটে। তবুও।

আমরা সেই গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করি। যে গণতন্ত্রের বুকে পা রেখে উপরে উঠা যায়। সেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি আমরা, যে গণতন্ত্র আমাদের পৌঁছে দিতে পারে ক্ষমতার শীর্ষ বিন্দুতে। আমরা গণতন্ত্রের প্রতি ততক্ষণ আস্থাশীল থাকতে পারি, যতক্ষণ আমার স্বৈরতান্ত্রিক আচরণে বাধা হয়ে না দাড়ায় ।

গণতন্ত্র মানে হচ্ছে, জনগণের জন্য জনগণের মনোনিত জনগণের সরকার। অর্থাৎ রাষ্ট্রের জনগণ যাকে চাইবে, যাদেরকে চাইবে, তারাই করবে সরকার গঠন। তারাই চালাবে রাষ্ট্র। কিন্তু কথা হচ্ছে দেশের সকল মানুষের চাওয়া তো আর সমান হয়না। কেউ চায় অমুককে তো কেউ চায় তমুককে। কেউ ভোট দেয় আম গাছকে তো কেউ আবার তাল গাছকে। এ জন্য ব্যাপারটির নিষ্পত্তি করা হয়েছে এভাবে,

কোনো আসনের অধিকাংশ মানুষ যাকে ভোট দেবে, তিনিই হবেন নির্বাচিত। এ ধারাই অনুসৃত হয়ে আসছে বিশ্বব্যাপী। স্থানীয় নির্বাচন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত। কোনো নির্বাচনী এলাকায় অধিকাংশ মানুষ যাকে সমর্থন জানাচ্ছে, তিনিই পাচ্ছেন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের খেদমত (!) করবার সুযোগ। আর আমার প্রশ্ন এখানেই। আমার খটকার জায়গাটিই এটি। আমার বোঝার ভুলও হতে পারে। কেউ হয়তো ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করবেন। সমস্যাটির ব্যাখ্যা আছে আমার কাছে। সমাধান নিয়ে ভাবা হয়নি। কেউ হয়তো ভাববেন। কিংবা কে জানে অন্য কোনো সূত্রে বিষয়টি মীমাংসিতই আছে কিনা। জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবো আমি। আর এই সাথে জানিয়ে রাখি, গণতন্ত্রের ফজিলত বর্ণনা করা বা পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করার জন্য এই লেখা নয়। বিষয়টি হচ্ছে গণতন্ত্রের কেতাবী সংজ্ঞা এবং প্রায়োগিক বাস্তবতার মাঝে মিল-অমিল সংক্রান্ত।

বুঝতে পারছিনা কীভাবে প্রকাশ করবো। গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর মূল কথা হচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের পছন্দ ও সমর্থনের ভিত্তিতেই জন-প্রতিনিধি বা সরকার গঠিত হবে। কিন্তু একটু সুক্ষ্মভাবে ক্যালকুলেশনে গেলে দেখা যায় এর ব্যতিক্রম হয়েও সরকার গঠিত হতে পারে। আর হচ্ছেও। তাও আবার গণতান্ত্রিকভাবেই।

দেখা গেলো, অধিকাংশ মানুষ কাউকে বা কোনো দলকে পছন্দ করলো না, সমর্থন জানালো না, তারা চাইলোনা এরা নির্বাচিত হোক বা সরকার গঠন করুক। কিন্তু গণতন্ত্রের দেয়ালের ঠিক মধ্যেখানে থাকা বেশ বড় একটি ছিদ্র দিয়ে তাদেরও সুযোগ হয়ে উঠছে নির্বাচিত হবার বা সরকার গঠনের। আর এমনটি অহরহই হচ্ছে। উদাহরণ দিচ্ছি।

মনে করা যাক, কোনো আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ। নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ৫ জন। ভোট কাস্ট হলো ৮০%। ধরে নেয়া যাক হিসাবটা দাঁড়ালো এভাবে,

যিনি নির্বাচিত হলেন, তিনি পেলেন ৯০ হাজার ভোট।
২য় অবস্থানে থাকা প্রার্থী পেলেন ৮০ হাজার।
৩য় জন ৪০ হাজার।
বাকী দু’জন পেলেন ৩০ হাজার ভোট।
এলাকার ২০% বা ৬০ হাজার লোক ভোট দেয়নি অর্থাৎ কাউকেই সমর্থন জানায়নি।

এবারে অবস্থা দাঁড়ালো এই যে,

মিস্টার এক্স ৯০ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে গেলেন। এর মানে তার এলাকার ৯০ হাজার মানুষ সমর্থন জানালো তাকে। তারা চাইলো মিস্টার এক্স এমপি হোন। কিন্তু পরাজিত ৪ প্রার্থী মিলে পেয়েছিলেন ৮০ হাজার যোগ ৪০ হাজার যোগ ৩০ হাজার সমান ১ লক্ষ ৫০ হাজার ভোট। এর মানে এই দেড় লক্ষ মানুষ মিস্টার এক্সকে চাইল না। তারা চেয়েছে তার বিকল্প। আর তাদের এই চাওয়াটা খন্ড খন্ড হয়ে যাওয়াতে সুযোগটা পেয়ে যান মিস্টার এক্স। ফলাফল দাঁড়ালো, ৯০ হাজার মানুষের পছন্দ এবং দেড় লক্ষ মানুষের অপছন্দকে পুঁজি করে গণতন্ত্রের ছিদ্র দিয়ে তিনিই হয়ে গেলেন নির্বাচিত!

গণতন্ত্রের মূল কথাটি আবারো সামনে নিয়ে আসা যাক। জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন অধিকাংশের সমর্থনের ভিত্তিতে। অথচ এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ মানুষ যাকে চায়নি, তিনিই হয়ে যাচ্ছেন নির্বাচিত। ব্যাপারটি কেমন হয়ে গেলো না?

পূর্বোল্লিখিত সম্ভাবনা এবং অনেকটা বাস্তবতাকে আমলে নিয়ে যে ছকটি দাঁড়ায়, তা হচ্ছে, দেখা গেলো কোনো দল প্রদত্ত ভোটের ৪৫% ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গঠন করে ফেললো। সেটা হলো একটা গণতান্ত্রিক সরকার।

অথচ সরকারকে ভোট দেয়নি- এমন মানুষের সংখ্যা ৫৫%। তাহলে কেমন করে বলা যায় গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থায় দেশের অধিকাংশ মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই সরকার গঠিত হয়ে থাকে?

ব্যাপারটির কোনো সহজ সমাধান আপাতত সামনে নেই আমার। চিন্তাজীবি যারা, তাদের কাছে থাকলেও থাকতে পারে।

অতি সম্প্রতি হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একটি ফর্মুলা প্রস্তাব করেছেন। বলেছেন, নির্বাচন হবে দলীয় ভিত্তিতে। অর্থাৎ, মানুষ বিশেষ কোনো প্রার্থীকে ভোট দেবেনা। ভোট দেবে নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল ইত্যাদি মার্কাকে অর্থাৎ দলকে। যে দল সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন পাবে, তারাই করবে সরকার গঠন। প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে স্ব স্ব দল প্রার্থী মনোনিত করে তাদের জীবনের আমলনামাসহ নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। নির্বাচন কমিশন মনোনিত ব্যক্তিকে সার্বিক বিবেচনায় যোগ্য মনে করলে তবেই তাকে ঘোষণা করা হবে নির্বাচিত হিসেবে।

এরশাদ সাহেবের এই ফর্মূলার পক্ষে বিপক্ষে দু'দিকেই যুক্তি আছে। ফর্মূলাটি গ্রহণ করে নেয়া হলে কালোটাকার মালিকরা টাকার বিনিময়ে ভোট কিনে এমপি হবার সুযোগ পাবেন না। পেশি শক্তির কিংবদন্তিরা জোর করে কেন্দ্রদখল করে এবং গায়ের জোরে জিতে আসার সুযোগ পাবেন না। গণতন্ত্রের সংজ্ঞা অনুযায়ী দেশের অধিকাংশ মানুষ যাদের চাইবে তারাই করবে সরকার গঠন। কারণ সামনে থাকবে প্রাপ্ত ভোটের সর্বমোটের আনুপাতিক পরিসংখ্যান।

আবার এর দুর্বল দিকও আছে। এতে কার দলের প্রধান ও প্রভাবশালী অংশের সেচ্ছাচারিতা ও দৌরাত্ব লাগামহীন হয়ে যেতে পারে। তাদের ভাই-বেরাদার, ভাগ্নে-মামা তথা আত্মীয়-স্বজনদের ভারে বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে সংসদ। যেহেতু মাঠ পর্যায়ে পয়সা খরচ করতে হচ্ছেনা, সে জন্যে কোঠি টাকার নমিনেশন বাণিজ্যের স্থলে মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকার অংক চলে যেতে পারে শত কোটিতে। সেই সঙ্গে সংসদ ভরে যেতে পারে অযোগ্যদের দ্বারা।

গণতন্ত্রের যে দুর্বল দিকটির কথা আমি উল্লেখ করলাম, জানি না সেটা আসলেই দুর্বলতা কিনা! হয়ে থাকলে এর সমাধান কী? প্রথম আলো ব্লগ

Tuesday, July 26, 2011

 সিরিয়ায় বহুদলীয় রাজনীতির দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে

অবশেষে সিরিয়ায় বহুদলীয় রাজনীতির দ্বার উন্মুক্ত হতে চলেছে। সরকার ইতিমধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের অনুমতিসংক্রান্ত একটি খসড়া আইন তৈরি করেছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিই ছিল এটি। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা এ খবর জানায়।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দেশের রাজনীতিতে প্রাণ ফেরাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার নতুন রাজনৈতিক দল গঠনসংক্রান্ত ওই খসড়া আইন তৈরি করেছে। দল গঠন, আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, দলগুলোর অধিকার ও দায়বদ্ধতার মতো অপরিহার্য বিষয়গুলো ওই বিলটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে বহুদলীয় রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করা হলেও ধর্ম, উপজাতি, অঞ্চল বা পেশাভিত্তিক কোনো দল গঠন করা যাবে না। গোত্র, লিঙ্গ বা বর্ণভিত্তিক কোনো জনগোষ্ঠী যাতে বৈষম্যের শিকার না হয়, সেই বিধান রাখা হয়েছে ওই খসড়া বিলে। এ ছাড়া যেসব দল সিরিয়াভিত্তিক নয়, সেগুলোকেও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বলে প্রকাশিত খবরে বলা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল থেকেই সিরিয়ার ক্ষমতায় আঁকড়ে রয়েছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাথ পার্টি। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এই দলটিই সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করে। রাজনৈতিক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ১৫ মে থেকে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলে আসছে। এএফপি

Sunday, July 10, 2011

প্রয়োজনে রমজানেও হরতাল: জামায়াত

সরকার বাধ্য করলে জামায়াতে ইসলামী তাদের শরিকদের নিয়ে আসন্ন রমজান মাসেও হরতালের ডাক দেবে। দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সরকার দেশকে পাকিস্তান বানানোর পাঁয়তারা করছে। হরতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দলের নেতা-কর্মীদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। এমন দৃষ্টান্ত একমাত্র পাকিস্তান আমলে স্বৈরাচার আয়ুব খানই দেখিয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে আয়ুবের পদাঙ্ক অনুসরণ লজ্জাজনক। অথচ তারা সব সময় বলে, আমরা নাকি দেশকে পাকিস্তান বানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল, হরতালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীদের সাজা মওকুফের দাবিতে আজ শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্টিত হবে। এ ছাড়া আগামী ১৩ জুলাই জুলুম-দুঃশাসনের হাত থেকে মুক্তির জন্য দেশবাসীর প্রতি নফল রোজা রাখার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ১২টি ধর্মভিত্তিক দলের ডাকা ১০ ও ১১ জুলাইয়ের হরতালের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়।
রমজানে হরতাল ডাকার যৌক্তিকতা সম্পর্কে আজহারুল ইসলাম বলেন, অতীতে জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রমজান মাসেও হরতাল ডেকেছিল। এবারও সরকার অসহিষ্ণু আচরণ করলে প্রয়োজনে রমজানে হরতালের ডাক দেওয়া হবে।
হরতালকে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি উল্লেখ করে আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সদ্য শেষ হওয়া ৪৮ ঘণ্টার হরতালে সরকার নজিরবিহীন সন্ত্রাস চালিয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল। নেতা-কর্মীদের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আন্দোলন দমানোর জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদলতকে। মিছিল-সমাবেশ করার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ার বিধান দুনিয়ার আর কোথাও আছে বলে আমাদের জানা নেই।’
আজহারুল ইসলাম জানান, হরতালে ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় ছিল। এসব আদালত রাজধানীতে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার করা নেতা-কর্মীদের মুক্তি এবং ভ্রাম্যমাণ আদলতে সাজাপ্রাপ্তদের সাজা মওকুফের দাবি জানান।
সরকার চারদলীয় জোটের হরতাল বানচালের জন্য পুলিশ বহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগকে মাঠে নামিয়েছে বলে মন্তব্য করেন আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশ বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে পিটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের পিঠে ছুরিকাঘাত করেছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে তিনি ফারুককে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে মহানগর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম, সাংসদ হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
prothom-alo

Saturday, July 2, 2011

বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে আপত্তি বাম দলগুলোর

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বহাল রাখার ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বামপন্থী দলগুলো। গতকাল শুক্রবার পৃথক কর্মসূচি ও বিবৃতির মাধ্যমে এসব দলের নেতারা তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানান।
এ ছাড়া বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্যান্য জাতি ও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দিয়ে সব নাগরিকের জাতি-পরিচয় ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়েও দলগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে।
গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া এ সংশোধনীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাহাত্তরের সংবিধানের মূল ভিত্তি ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে বাম দলগুলো।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বাম দলগুলো সংবিধানে সন্নিবেশিত বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ব্যবস্থা বহাল রাখার বিষয়ে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে।
এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ মাইনরিটি সংগ্রাম পরিষদ বাহাত্তরের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের চেতনাবিরোধী পঞ্চদশ সংশোধনীর সমালোচনা করেছে।
গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা: গতকাল গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সভায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, সংশোধিত সংবিধানে বাংলাদেশকে একটি ধর্মরাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মনে করে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম।
মিছিল: বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সংবিধান সংশোধনী আইন প্রত্যাখ্যান করে কালো পতাকা মিছিল করেছে।
গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সংগঠন দুটি মিছিল বের করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত বীর উত্তম। তিনি পঞ্চদশ সংশোধনীর সমালোচনা করে বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে দেশকে একাত্তরের পূর্ব ধারায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
সরকারকে অভিনন্দন: গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সার্বভৌমত্ব—এই চার স্তম্ভে নতুন করে সংবিধান রচনা করায় মহাজোট সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে কয়েকটি সংগঠন। সংগঠনগুলো হলো জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোট এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ প্রতিস্থাপনে ক্ষুব্ধ ধর্মভিত্তিক দলগুলো

সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ প্রতিস্থাপন করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো। কয়েকটি দল বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ হরতালের কর্মসূচিও দিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ প্রথম আলোকে বলেন, ধর্মভিত্তিক দলগুলো শুরু থেকেই সংবিধানের মূলনীতি থেকে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ তুলে দিয়ে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ প্রতিস্থাপন না করার দাবি জানিয়ে আসছিল। এ দাবি উপেক্ষা করেই সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল ও মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করার ধারা বাতিল করার বিষয়ে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর আপত্তি আছে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’-এর বিকৃত অনুবাদ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসূফী।
সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ: ধর্মভিত্তিক সংগঠনের মোর্চা সংগঠন সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবি করে গতকাল রাজধানীতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটক থেকে সংগঠনটির মিছিল নিয়ে তারা পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়।
সমাবেশে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, ‘সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে সরকার কুফরি মতবাদ প্রতিস্থাপন করেছে।’
ইসলামী ঐক্যজোট: ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী দাবি করেন, পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস করার মাধ্যমে সরকার নিজেদের পতনে স্বাক্ষর করেছে।
গতকাল বিকেলে সংগঠনের লালবাগের কার্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে দেখা করতে আসার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমিনী বলেন, শেখ হাসিনার অন্তরে যদি সামান্যতম ইমান থাকত, তাহলে সংবিধান থেকে আল্লাহকে বাদ দেওয়ার সাহস পেতেন না।

Thursday, June 30, 2011

জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহাল


সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন আইন-২০১১ সংসদে পাস হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাষ্ট্রপরিচালনার চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানে ফিরে এল।
পঞ্চদশ সংশোধন আইনে বাহাত্তরের সংবিধানের এ অনুচ্ছেদ ফিরে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করে নতুন অনুচ্ছেদ সন্নিবেশ করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ-৮-এর রাষ্ট্রীয় মূলনীতির দফা ১ ও (১ক)-এর পরিবর্তে ‘(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এই নীতিসমূহ এবং তত্সহ এ নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এইভাবে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে’—এর স্থলে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র অর্থাত্ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার নীতিসমূহ এবং এসব নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত সকল নীতি রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি বলে পরিগণিত হবে।’
সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম অনুচ্ছেদে (১ক) ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের’ শব্দের পরিবর্তে ‘জাতীয় মুক্তির ঐতিহাসিক সংগ্রামের শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হয়েছে। খ) প্রস্তাবনার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে প্রতিস্থাপিত হয়েছে ‘আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোত্সর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এ সংবিধানের মূলনীতি হইবে।’
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৯-এ প্রতিস্থাপিত হয়েছে ‘ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।’

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More