Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label দুই নেত্রী. Show all posts
Showing posts with label দুই নেত্রী. Show all posts

Monday, September 5, 2011

সেনা সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলো 'তারা'

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ২০০৭ সালে সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামরিক সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলো বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির দিন (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনকে এক তারবার্তায় এ কথাই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশে তৎকালীন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস।

ওইসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দেশে সাংবিধানিকভাবে সেনাবাহিনী নিয়োজিত ছিল বলে বার্তায় জানান বিউটেনিস।

বার্তায় তিনি বলেন, 'জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং অসাংবিধানিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।'

২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে 'ওয়ান ইলেভেন' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই তারিখের মাত্র দুই দিন আগে ৮ ও ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে দুটি বার্তা পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

বিউটেনিস লেখেন, সেনাবাহিনী 'বিশ্বাসভঙ্গ' করে অভ্যুত্থান করতে পারে, কিংবা দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠানো হতে পরে- এমন কোনো আশঙ্কা মনে ঠাঁই দিতে প্রস্তুত ছিলেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ দুটি 'গুজব' উড়িয়ে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাও। বরং তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসন দিলে তার জন্য ভালোই হবে, কেননা তাতে তিনি নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

তখনকার নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিএনপির অনমনীয় অবস্থান; আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ব্যর্থতার মধ্যে ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা এবং ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন বাংলাদেশে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।

তিন গোষ্ঠীর প্রস্তাব

বিউটেনিস তার বার্তায় বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা মার্কিন দূতাবাসসহ অন্যান্য দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করেছেন। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক সমাধান চান; সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী স¤প্রদায়েরও এ ক্ষেত্রে একই মত।

'তাদের মত হলো রাষ্ট্রপতি/প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে (ক) ছয় মাস থেকে দুই বছরের জন্য নির্বাচন পেছানোয় বাধ্য করা; (খ) তার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের পদ ছাড়া এবং (গ) [তত্ত্বাবধায়ক সরকারের] নতুন একজন প্রধান ও সরকার এবং/কিংবা একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা।'

এছাড়া একটি পরামর্শ ছিলো বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানো। একইসঙ্গে এরকম পরামর্শও ছিলো যে দেশে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নব নির্বাচিত বিএনপি সরকার জরুরি অবস্থা জারি করুক; যাতে সামরিক বাহিনীর এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা থাকবে। এমনকি সামরিক শাসন কিংবা অভ্যুত্থানের পরামর্শও ছিলো।

বিউটেনিস তার বার্তায় বলেন, 'আমেরিকার সংকেত ছাড়া [এতে] যুক্ত হতে ইতস্তত বোধ করছে সামরিক বাহিনী।'

তবে বিউটেনিস এবং দূতাবাসের অন্য কর্মীরা রাজনীতিক ও সেনা কর্মকর্তাদের বলেন, তারা সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ভূমিকা সমর্থন করেন না। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, সেনাবাহিনীকে সংবিধানের আওতায় বেসামরিক সরকারের সমর্থনে ও অধীনে কাজ করতে হবে।

জরুরি অবস্থা জারির কয়েকদিন আগে (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস।

তারবার্তায় বিউটেনিস জানান, ওই সাক্ষাতে [রাজনৈতিক ওই পরিস্থিতিতে] সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের [যুক্তরাষ্ট্রের] অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সেনাবাহিনীর দুই শীর্ষকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা ৯ জানুয়ারি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন বলে বার্তায় জানান বিউটেনিস।

তিনি বলেন, দুই সেনা কর্মকর্তাই বলেছেন, ক্ষমতা, সামরিক শাসন বা অভ্যুত্থান বা অন্য কোনো ধরনের অসাংবিধানিক পন্থার প্রতি সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে আগ্রহ নেই। তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ সমর্থনও করবেন না।

'ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর সঙ্গে ৮ জানুয়ারি তার এ ধরনের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মইন উ আহমেদ।'

জরুরি অবস্থা জারি না করার অনুরোধ

ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় বিউটেনিস লেখেন, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জাহাঙ্গীর বলেছেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন তিনি যেন জরুরি অবস্থা জারি না করেন। কেননা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক বাহিনীকে সামরিক বাহিনীর সহায়তা এর মাধ্যমে আরো কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।

জরুরি অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো স্পষ্ট পথও নেই বলে মনে করেন জাহাঙ্গীর।

বিউটেনিস তার বার্তায় লেখেন, [এ] রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করলেও সেনাবাহিনী জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার পরিকল্পনা করছে বলে স্বীকার করেন মইন।

'কেবল নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেই জরুরি অবস্থা হতে পারে বলে মনে করেন মইন। তবে ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এমন হতে পারে বলে তার মনে হয় না। তিনি বরং নির্বাচনোত্তর গণ অসন্তোষ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।'

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অনুরোধে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিউটেনিস- এ তথ্য উল্লেখ করে বার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমাধান হিসেবে একটি সেনা সমর্থিত জাতীয় ঐক্যের সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন।

জবাবে বিউটেনিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ভূমিকার তীব্র বিরোধী এবং এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান শুধু রাজনৈতিকভাবেই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

সেনা হস্তক্ষেপের তথ্যে ক্ষুব্ধ হন খালেদা, উড়িয়ে দেন হাসিনা


মার্কিন তারবার্তার তথ্য
রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দুই নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন—এমন তথ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আর শেখ হাসিনা বিষয়টিকে রসিকতা করে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায় আসার চেয়ে সেনাবাহিনী আসাই বরং ভালো।
২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগের দিন তাঁরা বসেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। উইকিলিকসের ফাঁস করা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তারবার্তায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
দুই কূটনীতিক খালেদাকে জানান, রাজনৈতিক দলগুলো থেকেই কিছু নেতা তাঁদের কাছে গিয়ে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দুই নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তারবার্তায় বলা হয়েছে, বিষয়টি শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান খালেদা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুশীল সমাজকে এ ধরনের গুঞ্জনে উৎসাহ দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেন। উভয় কূটনীতিক এই অভিযোগ স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দেন।
তারবার্তার ওই বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিরোধী দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের পরামর্শ সত্ত্বেও ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন করতে অটল ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে তিনি ক্ষমতায় গেলে নির্বাচনী আইন সংস্কার করে ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁদের কাছে।
তারবার্তায় বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া কূটনীতিকদের কাছে স্বীকার করেন, তাঁর দলের অনেক নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি তাঁদের দলের মধ্যকার ‘বাজে উপাদান’ বলে নাকচ করে দেন।
সামরিক অভ্যুত্থান ও সহিংসতা এড়াতে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে খালেদাকে জানানো হয়। বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন খালেদাকে। কিন্তু নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, কিন্তু আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসতে চায় না।’
খালেদা বলেন, তাঁরা সব সময় চেয়েছেন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক, কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ২২ জানুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী আগের দিন ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। অভ্যুত্থান ও নির্বাসনে পাঠানোর আশঙ্কার তথ্য জানালে শেখ হাসিনাও তা নাকচ করে দেন, তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে পাঠানো হতে পারে, এমন কথা শুনে রসিকতা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানে আমি আমার নাতনিকে দেখতে পাব।’
শেখ হাসিনা দুই কূটনীতিককে বলেন, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে যদি ‘বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যায়’ তা-ও ভালো। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, এখন সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ক্ষমতা কোনো সেনা কর্মকর্তার নেই। তা ছাড়া সেনাবাহিনী এলেও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকলে জনগণ তা মেনে নেবে না। সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছাড়তে না চাইলে সহিংসতা ও রক্তপাত হবে, দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
শেখ হাসিনা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে জানান, বিএনপি নির্বাচনে জেতার জন্য সব পরিকল্পনা করেছে। সেই পরিকল্পনামতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটকে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি চায় না আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক। কারণ, তারা জানে, নির্বাচনে আমরাই জয়ী হব।’
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ উপদেষ্টাদের কথা শুনছেন না, তিনি বিএনপির কথামতো চলছেন। রাষ্ট্রপতি শুধু একটি নির্বাচন করে খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চান। এ অবস্থায় নির্বাচন বর্জন করা ছাড়া মহাজোটের বিকল্প কোনো পথ নেই।
বিএনপির প্রস্তাবমতো ২২ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার পর নির্বাচনী সংস্কার শেষে এক বছরের মধ্যে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা জানানো হলে শেখ হাসিনা তা নাকচ করে দেন। শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় ফিরে আসার চেয়ে তিনি সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতায় বর্তমান সমস্যা সমাধানকে সমর্থন করবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য মহাজোট নির্বাচন বর্জন করেছে—এমন কথা নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রথমে মেনে নেওয়ায় দলের সমর্থকেরা তাঁকে দোষারোপ করেছেন।
এর আগে শেখ হাসিনা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছেও চিঠি লিখেছিলেন। prothom-alo.com

Wednesday, July 13, 2011

এ সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে: খালেদা

  • গণ-অনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারা
    গণ-অনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারা
    ছবি: প্রথম আলো
1 2
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ভবিষ্যতে জনগণের সরকার ক্ষমতায় এলে এ সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে। কেননা, এটা কোনো সংবিধান নয়, এটা আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহার।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত বিএনপির দিনব্যাপী গণ-অনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। পুলিশ, প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের বাড়াবাড়ি করলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
খালেদা জিয়া বিকেল সোয়া পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত বক্তব্য দেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বহাল রেখে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। খালেদা জিয়া বক্তব্য শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাসমেরি এস ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন তাঁকে পানি খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলন চলছে, চলবে। ঈদের পর সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে যত আন্দোলনের প্রয়োজন, তত আন্দোলন করা হবে। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও বিজয় অর্জন করতে হবে। এ জন্য আরেকটা সংগ্রাম করব। আরেকবার গর্জে উঠব।’
ঈদের পরের কর্মসূচি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আর জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর-ধ্বংসের রাজনীতি নয়, হরতাল নয়, মানুষকে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মতো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটানো হবে।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর পুলিশের বর্বর হামলা, হরতালের দিন বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাদ দিয়ে পাস করা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে বিএনপি এই গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মঞ্চ ছিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রাঙ্গণে। তবে নেতা-কর্মীরা সামনের মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগমুখী সড়কের এক পাশে অবস্থান নিলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পুরো শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিএনপির এই কর্মসূচিতে চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস ছাড়াও বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গঠিত বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামিক পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ভাসানী ন্যাপ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ও জাতীয় পার্টির (মতিন) নেতারা গণ-অনশনে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া বিএনপি সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ এতে সংহতি প্রকাশ করে। তবে দলটির কেউ অনশনস্থলে সরাসরি উপস্থিত হননি।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, এমন ব্যক্তিদের মধ্যে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ এবং এস এম এ ফায়েজ, সাবেক সহ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ প্রমুখ। কর্মসূচিতে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
গণ-অনশন কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল থেকে বিএনপির ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এসে হাজির হন। সকাল ১০টা থেকে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নয়টার মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল, সামনের সড়ক ও আশপাশের এলাকা নেতা-কর্মীদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। তাঁরা সরকারবিরোধী ব্যানার, প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল, কিন্তু খালেদা জিয়া দুপুর ১২টায় কর্মসূচিস্থলে হাজির হন। এরপর দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনশন শুরু হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা ছাড়াও সংহতি প্রকাশ করতে আসা বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
কর্মসূচিতে চারদলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলগুলো ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে বিএনপির সঙ্গে থেকে আন্দোলন করার ঘোষণা দেয়। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আগ্রহ ছিল অলি আহমদ ও বি. চৌধুরীকে নিয়ে। অলি আহমদ না এলেও তাঁর দলের পক্ষ থেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী বর্তমানে এলডিপির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তাঁদের দল বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করবে।
গণ-অনশনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনশন উপলক্ষে কর্মসূচিস্থলের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান নেন। কর্মসূচি চলাকালে সেখানে প্রিজন ভ্যান, পিকআপ ভ্যান ও জলকামানবাহী গাড়ি এবং দাঙ্গা দমনকারী পুলিশের গাড়ি অবস্থান করতে দেখা গেছে।
খালেদা জিয়ার বক্তব্য: গণ-অনশনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘চোরের দল ও চাটার দল দেশ পরিচালনা করছে। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এদের কারণে দেশের মানুষকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। এরা দেশের সমস্যা সমাধান না করে কেবল ভারতকে খুশি করার কাজে ব্যস্ত।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে সমমর্যাদার সম্পর্কে বিশ্বাসী। আমরা দুটো জিনিস দিলে তাদেরও দুটো জিনিস দিতে হবে। কিন্তু ভারত কেবল নিচ্ছে, বিনিময়ে কিছুই দিচ্ছে না।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে; এ জন্য আলোচনা চায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রেখে সরকারকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। আর নির্বাচন হলেও বিএনপি তাতে অংশ নেবে না। বিএনপি ছাড়া কোনো নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আপনারা এখন অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির মামলার বিচার করছেন, অথচ জয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। ভবিষ্যতে তাই নিজেদের দুর্নীতির বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তৈরি হোন।’ তবে জয় কী দুর্নীতি করেছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া পুলিশ, প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘অন্য সরকারের সময় চাকরি না করলেও পার পাবেন না। বিচারের সম্মুখীন করা হবে।’
খালেদা জিয়া বলেন, দেশ এখন একটি জেলার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে আছে, সেটা হলো গোপালগঞ্জ। তিনি ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সেই শিক্ষক ও অধ্যক্ষের বিচার দাবি করেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের এই সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের পাশে আছি।’ তিনি বলেন, জয়নুল আবদিনকে মেরে পুলিশ গণতন্ত্রকে মেরেছে, বুটের নিচে পিষ্ট করেছে।
খালেদা জিয়া গণ-অনশনে সংহতি প্রকাশ করতে আসা বিভিন্ন দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে সব কর্মসূচিতে তাঁদের অংশগ্রহণ করারও আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আগে মিরসরাইয়ে দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

Thursday, July 7, 2011

জয়-জিন্দাবাদ ঝগড়াপুরী রাজনীতি!



    1 2
    ঝগড়াপুরে রাজনৈতিক সাঁকো: রাজধানীতে যখন দুই দলের বিবাদ চরমে ওঠে, তখন কুষ্টিয়ার এক গহিন গ্রামে নদীর ওপর পাশাপাশি নির্মিত হয় দুটো দলীয় সাঁকো। ‘মহাজোটের সাঁকো’ বনাম ‘ঐক্যজোটের সাঁকো’। এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, এমন রাজনৈতিক সাঁকোও দুনিয়ায় আর আছে কি না সন্দেহ। গ্রামবাসীর হয়েছে মহা জ্বালা। বাজারটা নদীর ওপারে, সাঁকো দুটি ছাড়া তাঁদের আর নদী-পারানির উপায় নেই। মৃত্তিকাপাড়া গ্রামের সব মানুষ, এমনকি শিশু, এমনকি বোধবুদ্ধিহীন প্রতিবন্ধী, এমনকি গরু-ছাগল-ভেড়া-কুকুর-হাঁস-মুরগিসহ পায়ে হাঁটা সব প্রাণীকেই সাঁকো দুটির একটিতে উঠতেই হবে। আর ওঠা মানেই গায়ে দলের সিল পড়ে যাওয়া। রাজনৈতিক সাঁকোর কল্যাণে সেই গ্রামের সবকিছুই এখন অতিমাত্রায় ‘রাজনৈতিক’!
    সাঁকো দুটি তৈরির ইতিহাসটাও নির্মল নয়। সদ্য শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী পরাজিত হন। পরাজয়ের শোধ নিতে তিনি লোকজন দিয়ে গ্রামের বাঁশঝাড় উজাড় করে প্রথম সাঁকোটি বানান এবং ঘোষণা দেন, এ দিয়ে কেবল মহাজোটের সমর্থকেরাই পার হবে। অন্যপক্ষই বা কম কিসে। ঝাড়ে আরও কিছু বাঁশ সম্ভবত অবশিষ্ট ছিল। সেগুলো সাবাড় করে মহাজোটের সাঁকোর পাশেই তৈরি হলো ঐক্যজোটের সাঁকো। যথারীতি এই সাঁকোয় মহাজোটের সমর্থকদের ওঠা বারণ। ঝগড়ার সাঁকো এভাবে মানুষে মানুষে সম্পর্কের সাঁকোটা ভেঙে দিল। জয় ঝগড়াতন্ত্র!
    গ্রামটিতে মানুষসহ কিছু দোপেয়ে ও চারপেয়ে প্রাণীও আছে, যারা ‘জোটনিরপেক্ষ’। এখন তাদের কী উপায়? আগে গ্রামের মানুষ এজমালিভাবে নিজেদের দরকারের রাস্তাঘাট-সাঁকো বা মসজিদ-বিদ্যালয় বানিয়ে নিতে পারত। দলবাজির চাপে সেসব সামাজিক উদ্যোগের বেলা শেষ। এই অবস্থায় কে বানাবে দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়কি সাঁকো? সাঁতরানোই কি তাঁদের বিকল্প? মুশকিল হলো, কচুরিপানায় ভরা কালীনদীতে সাঁতরানো অসম্ভব। আর সাঁকো ছাড়লেও, দলবাজেরা তো আপনাকে ছাড়বে না। দুই নৌকায় মতো দুই সাঁকোতে পা রাখাও বিপদের। মৃত্তিকাপাড়ায়, না চাইলেও আপনাকে মহাজোট বা ঐক্যজোট করতেই হবে। দলতন্ত্র জিন্দাবাদ!
    অভিনন্দন মৃত্তিকাপাড়ার জোটনেতাদের। নদীটাকে কচুরিমুক্ত করা বা একটা ভালো স্কুল বানানোর প্রতিযোগিতা করতে পারেননি আপনারা। আপনাদের প্রতিযোগিতা কেবল মন্দের। তা-ই যদি, তাহলে গ্রামের নামটিও বদলে ফেলুন। ঝগড়া-সংস্কৃতিকে অক্ষয় করতে নাম রাখুন ঝগড়াপুর। দুঃখিত, মৃত্তিকাপাড়ার সাধারণ মানুষ। ঝগড়া শিখুন, সাঁকোর পর সাঁকো বানান, গ্রামের বাঁশ-কাঠ নিঃশেষ করে চলুন। জার্মান দার্শনিক হেগেল বলেছিলেন, জনগণ যেমন, তেমন নেতাই তারা পায়। তাই আমরা না বদলালে রাজনীতিটা বদলাবে কী করে? একটা মানবিক রাজনৈতিক সাঁকো তাই দরকার।
    ঝগড়াপুরের গণতন্ত্র: মৃত্তিকাপাড়া গ্রামের এ গল্পই এখন জাতীয় গল্প। দেশময় এ রকম দুটি সাঁকোর বাইরে চলাচলের উপায় নেই। একদা বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, শিশু ও পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। জবাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, নিরপেক্ষ কেউ না কেউ আছে নিশ্চয়। কারও কথাই ফেলনা ছিল না। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের আড়াই বছরের মাথায় যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, তখন মনে হচ্ছে, তথাকথিত ‘নিরপেক্ষতার’ দিনও বুঝি শেষ। সত্যিকার নিরপেক্ষতা যেন রাজনৈতিক অপরাধ। ঝগড়াপুরী গণতন্ত্রে দ্বিদলীয় ঝগড়ার কোনো না কোনো পক্ষে আপনাকে যেতেই হবে। আর দেশটাকে, সমাজটাকে, জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে, ব্যবসা-বাণিজ্য-সংস্কৃতিসহ সবকিছুকেই ভাগ করে ফেলতে হবে। বানাতে হবে যার যার নিজস্ব ক্ষমতার সাঁকো। আওয়ামী বা বিএনপির সাঁকোয় দেশ ভরে যাবে, কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার সাঁকো পারাপার হয়ে পড়বে কঠিন।
    মোগল রাজপণ্ডিত আবুল ফজল বাংলা অঞ্চলের নাম দিয়েছিলেন ‘বুলঘাখানা’ বা ‘চির-অশান্তির দেশ’। আমাদের ভাষায়সেটাই ঝগড়াপুর। এই অবস্থায় জাতীয় স্বার্থের খোঁজ থাকে না, রাষ্ট্রের বিকাশ, অর্থনীতির সমৃদ্ধি, নাগরিক অধিকার, জনকল্যাণ—সবকিছুই ক্ষমতা ও দখলকেন্দ্রিক দ্বিদলীয় রাজনীতির দোনলা বন্দুকের সামনে বিপন্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এদের বাইরে দেশের বা মানুষের পক্ষ নিতে চাওয়া বা থাকতে চাওয়া দলীয় সংস্কৃতির বাইরে, অতি কঠিন। জয় ঝগড়াপুরীয় গণতন্ত্র!
    পরের ধনে পোদ্দারি: প্রায় একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়। গত ১৭ এপ্রিলের প্রথম আলোর একটি শিরোনাম ‘মামলায় মামলায় দুজনই ফতুর’। এক খণ্ড জমি নিয়ে ২০ বছর ধরে মামলাযুদ্ধ চালাচ্ছেন সত্তরোর্ধ্ব বয়সের দুই প্রতিবেশী। ২০ বছর আগের তিন হাজার টাকার জমির বিবাদে এ পর্যন্ত তাঁদের খরচ ৪৫ লাখ টাকা। দুজনই প্রায় নিঃস্ব; উভয়েউভয়কে জেলের ভাত খাইয়েছেন, এটাই তাঁদের গর্ব। আমৃত্যু এই ঝগড়া চালিয়ে যাওয়ার কঠিন প্রতিজ্ঞা তাঁদের। পড়শিরা বিমুখ, ছেলেমেয়েরাও চরম নাখোশ। কিন্তু যে সম্পত্তির জন্য জানবাজি তাঁদের, তার আদি মালিক কি তাঁরা? খাগড়াছড়ির ওই প্রত্যন্ত এলাকার সব জমি তো আগে পাহাড়িদেরই ছিল। সুতরাং দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানোই যায়। দুই বৃদ্ধ আমাদের দুই রাজনৈতিক ধারার প্রতীক। ক্ষমতার বিবাদে তাঁরা পরস্পরকে নিঃশেষ করতে চাইবেন, এমনকি নিজের পায়েও কুড়াল মারবেন, তবু কেউ কাউকে স্বীকার করবেন না। এই আত্মঘাতী সংঘাতে জনগণেরও ছাড়ান নাই। ক্ষমতার উৎস নাকি জনগণ, তাদের নামেই করা হয় সবকিছু। কিন্তু জনগণ আসলেই কি কিছু পায়? দিনের শেষে নেতাদের হাতে কিছু থাকে, কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রাত কাটায়। পরের ধনে পোদ্দারি জিন্দাবাদ!
    অন্ধদের স্কুল কখন ছুটি হবে?: সাহিত্যিক সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের একটি গল্প আমাদের সঙ্গে মেলে: শীতের বিকেল। এক বিড়াল পেটপূর্তির পরে ফুটপাতে চোখ বুজে ওম নিচ্ছিল। কোথা থেকে তাড়া খাওয়া এক ইঁদুর এসে তাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জাগাল। তার কথা শুনে বিড়ালের তো আক্কেল গুড়ুম। পুঁচকে ইঁদুর বলে কিনা ‘ও বিড়াল, আমাকে খাও’। বিড়ালের পেটে আর জায়গা নেই, ক্ষুধা লাগতেও দেরি আছে। তা ছাড়া রোদ পোহাতেই তার ভালো লাগছে এখন। কিন্তু ইঁদুরও নাছোড়বান্দা, বিড়ালের পেটে সে যাবেই যাবে। অনেক টানাটানির পর অবশেষে একটা রফা হলো। বিড়ালটা আপাতত ঝিমাবে, তবে মুখটা খোলা থাকবে। আর ইঁদুরটা নিজের মাথা দিয়ে রাখবে তার সেই খোলা মুখে। তারপর, ওই যে অন্ধ শিশুদের স্কুল দেখা যায়, সেখানে ছুটির ঘণ্টা বাজবে। তা শুনে অন্ধ ছেলেমেয়েরা এলোমেলো পায়ে এই পথ দিয়েই তো যাবে। তাদের কেউ না কেউ নিশ্চয়ই ফুটপাতে পেতে রাখা বিড়ালের লেজে পা দেবে। যদি দেয়, তাহলেই কেবল বিড়ালটা ইঁদুরের মাথাটা খপ করে খেয়ে ফেলবে। একটা সমাধান হলো ভেবে ইঁদুর খুশি, বিড়ালও খুশি। তারা অপেক্ষা করতে লাগল, কখন অন্ধদের স্কুল ছুটি হয়? কখন সেখানে পাগলা ঘণ্টা বাজে?
    ইঁদুরদের ভবিষ্যৎ: পাঠক, পুঁচকে ইঁদুর আমরা, রাজনীতির দাপুটে বিড়ালদের গ্রাসের মধ্যে মাথা দিয়ে বসে থাকা আর কত কাল? শুনেছি, ইঁদুরের উপদ্রবে কোনো এক শহর নাকি পরিত্যক্ত হয়েছিল। হয়তো একদিন আমরা ঝগড়াপুরকে বদলে ফেলব। এই নামটাও তখন পরিত্যক্ত হবে। তখন হয়তো মাটির দেশের প্রিয় গ্রামটাকে আবার ডাকতে পারব মৃত্তিকাপুর বলে। কালী নদীতে তখন থাকবে সব মানুষের একটাই মানবিক সাঁকো, নদীতেও তখন আর দুর্নীতির কচুরি জমতে পারবে না। অন্ধদের বিদ্যালয়েহঠাৎ পাগলা ঘণ্টাও তখন আর বাজবে না।
    ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
    farukwasif@yahoo.com

    Tuesday, July 5, 2011

    তারেক ২১ আগস্টের ঘটনার মূল নায়ক


    সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ২১ আগস্টের ঘটনার মূল নায়ক। হাওয়া ভবনে তাঁর সভাপতিত্বেই অন্য আসামিদের বৈঠক হয়। বিএনপি এখন তারেককে রক্ষার জন্য হরতাল ডেকেছে।
    ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ এসব কথা বলেন। তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো গণতান্ত্রিক দল খুনের বিচার বন্ধ করতে হরতাল ডাকতে পারে না। তাই আইনের শাসন চাইলে হরতাল প্রত্যাহার করুন।’
    ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল হাওয়া ভবন, আর এর কর্ণধার ছিলেন তারেক রহমান। সেখানেই শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসান-উল্লাহ মাস্টার হত্যা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের একত্রে হত্যা করা। আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও আইভি রহমানসহ ২৪ জন মারা যান। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যবস্থা তো করেইনি, বরং ফায়ার ব্রিগেড ডেকে এনে আলামত নষ্ট করেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ আক্রান্ত লোকজনের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে ও লাঠিপেটা করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে।
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দীর্ঘদিন তদন্তের পর পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। বিচারের এই প্রক্রিয়াকে বিএনপির স্বাগত জানানো উচিত ছিল। বিচারের পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে তাদের অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল। অথচ তারা বিচার-প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে হরতাল ডেকেছে। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
    সৈয়দ আশরাফ বলেন, অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সব হত্যার বিচার হয়। কেবল ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। এখানে হত্যার বিচার করতে বাধা দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালের আগে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরুই করা যায়নি। এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিচারের রায় কার্যকর হয়। নিহত লোকজনের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কি অস্বীকার করতে পারবে যে তাদের হত্যা করেনি? এ ঘটনা তাদের পরিকল্পনায় ঘটেনি? এমন জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিচার হতে হবে।
    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম হানিফ, নূহ-উল-আলম লেনিন, আহমদ হোসেন প্রমুখ।
    প্রথম আলো্                             

    পাশাপাশি দুটি রাজনৈতিক সাঁকো


    ‘মহাজোটের’ লোক ‘ঐক্যজোটে’ যাবে না। ঐক্যজোটের লোক মহাজোটে যাবে না। কারও পথ কেউ মাড়াবে না। অথচ সবাই একই গ্রামের মানুষ।
    কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের মৃত্তিকাপাড়া গ্রামের মানুষের জন্য এ বিভাজন তৈরি করেছেন দুই জোটের নেতা-কর্মীরা। গ্রামের পাশে যে কালী নদী, তার ওপর একই সঙ্গে পাশাশাশি দুটি সাঁকো তৈরি করেছে দুই পক্ষ। বাঁশের তৈরি সাঁকো দুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঐক্যজোট’ ও ‘মহাজোট’।
    গ্রামবাসী জানান, ক্ষমতাসীন মহাজোট ও বিরোধী চারদলীয় ঐক্যজোটের দুটি শক্ত পক্ষ আছে মৃত্তিকাপাড়া গ্রামে। মহাজোটের নেতৃত্বে আছেন মহাসিন আলী মাস্টার। ঐক্যজোটের নেতৃত্ব দেন গ্রামের নূর মোহাম্মদ। নানা বিষয়ে অনেক দিন ধরে এ দুই পক্ষে বিরোধ চলছে।
    এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ আরও বেড়ে যায়। উজানগ্রাম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যপদে মৃত্তিকাপাড়া গ্রাম থেকে নির্বাচন করেন নূর মোহাম্মদ নিজে এবং মহাসিন আলী পক্ষের লিয়াকত আলী। নির্বাচনে নূর মুহাম্মদ হেরে যান। সদস্য নির্বাচিত হন লিয়কত আলী।
    গ্রামবাসী জানান, গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কালী নদীর এক পাড়ে মৃত্তিকাপাড়া গ্রাম আর অপর পাড়ে কুশলীবাসা গ্রামের বাজার। কিন্তু পারাপারের জন্য নদীতে কোনো সেতু না থাকায় গ্রামবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর নূর মোহাম্মদ নিজের উদ্যোগে নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি শুরু করেন। তাঁরা প্রচার করেন, এই সেতু দিয়ে শুধু ঐক্যজোটের লোকজনই পারাপার হবে। এ কথা শোনার পর লিয়াকত আলীর সমর্থকেরাও পাশে আরেকটি সাঁকো তৈরি করতে শুরু করেন। তাঁরাও জানিয়ে দেন, শুধু মহাজোটের সমর্থকেরাই এই সেতু দিয়ে পারাপার হবে।
    গত রোববার সাঁকো দুটি তৈরি শেষ হয়। নাম দেওয়া হয়, মহাজোট সাঁকো ও ঐক্যজোট সাঁকো। সাঁকো তৈরি শেষে উভয় পক্ষ ওই দিন নদীর পাড়ে ছাগল জবাই করে ভূরিভোজ করে।
    গতকাল সোমবার মৃত্তিকাপাড়া গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর ওপর সাঁকো হওয়ায় তারা খুব খুশি। কিন্তু সঙ্গে একটু উদ্বেগও আছে। সেতু নিয়ে এই দলাদলি কখন না জানি আবার সংঘাতে রূপ নেয়।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নূর মোহাম্মদ আমাদের না বলে লোকজন দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করেছেন। ওই সাঁকো দিয়ে আমাদের লোকজন চলাচল করতে গেলে গন্ডগোল হতে পারে। এ জন্য আমরাও নিজেদের মতো করে আরেকটি সাঁকো তৈরি করেছি।’
    যোগাযোগের চেষ্টা করেও নূর মোহাম্মদকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর সমর্থক শাজাহান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলাকার লোকজনকে নিয়েই আমরা সাঁকোটি তৈরি করা শুরু করেছিলাম। কিন্তু কিছু লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে আরেকটি সাঁকো তৈরি করেছে। তারা নাকি আমাদের সাঁকো দিয়ে পারাপার হবে না।’

    Thursday, June 30, 2011

    সংবিধান সংশোধনী আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহার: খালেদা


    undefined
    খালেদা জিয়া
    বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়া এ কথা বলেছেন।
    খালেদা জিয়া বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ও সরকার গঠন করেছিলেন, সাংবিধানিক শাসন পুনর্বহাল করেছিলেন। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকে এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী তিনি সংবিধানকে পুনর্বিন্যস্ত করেছিলেন। তিনি এ কাজগুলো করেছিলেন গণভোটের মাধ্যমে, জনগণের কাজ থেকে প্রাক-অনুমোদন গ্রহণের মাধ্যমে। পরে জনগণের নির্বাচিত সংসদও এসব কার্যব্যবস্থার অনুমোদন দেয়।
    প্রথম আলো

    Monday, June 27, 2011

    ভালোর পসরা


    ভালো চাই, ভালো 
    ভালো নেবেন গো ভালো?
    আরও ভালো...
    আরও ভালোর পসরা নিয়ে কলম ধরেছেন অনেকে। যতই কাজ করেন। তাঁদের কিছুই ভালো লাগে না। তাঁদের বক্তব্য হলো, ‘এই সরকার (আওয়ামী লীগ) কিছুই করছে না, মানুষের অনেক আশা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হচ্ছে না। মানুষ হতাশ হয়ে যাচ্ছে, দেশ একদম ভালো চলছে না। দেশের অবস্থা খুবই খারাপ।’
    লেখালেখি, মধ্যরাতের টেলিভিশনে টক শো, গোল টেবিল, লম্বা টেবিল, চৌকো টেবিল, সেমিনার—কোথায় নেই তাঁরা? তাঁদের এসব কথায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা প্রভাবও পড়ছে। বিভ্রান্ত হচ্ছে, অনেক সময় নিজের অজান্তে এই ডায়ালগ বলে দিচ্ছে। যাঁরা এটা করছেন, তাঁদের এই ‘বলার’ কথার ফুলঝুরি কি সব সময় অব্যাহত থাকে?
    সব সরকারের আমলে? না না, তা শোনা যায় না। যেমন ধরুন, সামরিক সরকারের সময় তাঁদের কলমের কালি বা রিফিল থাকে না। কলম চলে না। মুখে কথা থাকে না। তখন বাঘের গর্জন বিড়ালের মিউ মিউয়ে পরিণত হয়। এখন যাঁদের কথায় টেলিভিশনের পর্দা ফেটে মনে হচ্ছে বেরিয়ে পড়বেন লাফ দিয়ে এক্কেবারে সরকারের ঘাড়ের ওপর। ‘সর্বনাশ’! পারলে এই মুহূর্তে সরকারের ঘাড়টাই ভেঙে দেবেন আরও ভালো কিছুর আশায়। এঁরাই আবার কখনো কখনো চুপ থাকেন।
    তাঁদের ডায়ালগ বা বাক্যবিন্যাস অথবা উপদেশ শোনা যায়নি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর বা ৩ নভেম্বর জেলহত্যা, একের পর এক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, সিপাই-জনতার বিপ্লবের নামে একটার পর একটা ক্যু, তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডে। অন্যায়ভাবে ফাঁসি বা ফায়ারিং স্কোয়াডে সামরিক অফিসার ও সেনাদের হত্যা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্যাতন, রিমান্ড ও হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সময় তাঁরা চুপ থেকেছেন। তাঁদের বিবেক জাগ্রত হয়নি ভালো না মন্দ, তা দেখার জন্য। বরং ঘাপটি মেরে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন বাতাস কোন দিকে যায়, সেটা বুঝে নিয়ে সময়ের সুযোগে উদয় হওয়ার জন্য।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে তাদের সোচ্চার হওয়ার একটা নির্দিষ্ট ক্ষণ ছিল, সেটা হলো মিলিটারি ডিক্টেটরদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতা কেনাবেচার সময়। যাঁরা নিজেদের উচ্চ দরে বিক্রি করতে পারলেন তাঁদের একধরনের সুর। আর যাঁরা কপালে কিছু জোটাতে পারলেন না তাঁদের সুর হলো দৃষ্টি আকর্ষণীয়-অর্থাৎ ‘আমরাও আছি, ক্রয় করুন, সেল-এ পাবেন।’ অর্থাৎ (‘use me’.)|
    এরপর যাঁরা অবশিষ্ট থেকে গেলেন, তাঁরা তখন বাতাস ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে সুর পাল্টিয়ে বিপ্লবী হয়ে গেলেন। এটা আমি ১৯৫৮ সালের জেনারেল আইয়ুব খানের মার্শাল ল জারির পর দেখেছি, আমাদের কত রাজনৈতিক ‘চাচার’ দল। যাঁরা আব্বা মন্ত্রী থাকা অবস্থায় নিজের বাড়িঘর সংসার ভুলে রাতদিন আমাদের বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়েছেন আর প্রশংসার ফুলঝুরি উড়িয়েছেন, তাঁরাই কেমন ডিগবাজি খেয়েছেন। সুর পাল্টিয়েছেন তাও দেখেছি। ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭৫, ১৯৮২, ১৯৯১ সালসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ দেখার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য আমাদের হয়েছে।
    ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর যারা ভালো থেকে আরও ভালো, আরও ভালোও হয় না কেন বলে লেখালেখি করেছেন, মুখের বুলি আর কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছেন, সমালোচনায় জর্জরিত করেছেন, তাঁরাই সুর পাল্টিয়ে ফেলেছেন। যেমন একটা উদাহরণ দিচ্ছি: 
    ১৯৯৬ সালে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। খাদ্য উৎপাদন এক কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন ছিল। ২০০০ সালের মধ্যে ঘাটতি মিটিয়ে চাল উৎপাদন দুই কোটি ৬৯ লাখ মেট্রিক টনে বৃদ্ধি করলাম। কী শুনেছি? ‘না, আরও একটু ভালো হতে পারত।’
    পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার ৭৯ লাখ মেট্রিক টনের বেশি অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন বাড়াল, তার পরও শুনে যেতে হলো, আরও একটু ভালো হতে পারত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চালের উৎপাদন কতটুকু বেড়েছিল? বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরের মধ্যে চার বছর কোনো উৎপাদন বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছিল। অর্থাৎ উৎপাদন ছিল নেতিবাচক।
    আর একটি উদাহরণ বিদ্যুতের ব্যাপারে। ১৯৯৬ সালে বিদ্যুৎ কম বেশি ১৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হতো। চরম বিদ্যুৎ ঘাটতি। সঞ্চালন লাইনগুলো জরাজীর্ণ ছিল। দ্রুত সরকারি ও প্রথমবারের মতো করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন বৃদ্ধি করলাম। সঞ্চালন লাইন উন্নত করার কাজ শুরু করলাম। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য নীতিমালা গ্রহণ ও প্রকল্প প্রণয়ন করে গেলাম। ২০০১ সালের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন বৃদ্ধি করলাম, তখন শুনেছি না ‘আরও ভালো করা যেত।’ 
    কোনো তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়া ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে গঙ্গা পানি চুক্তি করলাম। দীর্ঘদিনের একটা সমস্যার সমাধান হলো। দুই দশক ধরে চলা অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধান করে শান্তি চুক্তি করলাম। অথচ একশ্রেণীর কাছ থেকে কখনো এ বিষয়ে ভালো কথা শুনিনি। 
    ২০০১ সালের পয়লা অক্টোবর নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এল। কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছিল পাঁচ বছরে? যেসব প্রকল্পের কাজ শুরু করে গিয়েছিলাম, তার কয়েকটা শেষ হয়েছিল তাতে উৎপাদন যা বেড়েছিল তাও ধরে রাখতে পারেনি।
    ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল, তারাও উৎপাদন বাড়াতে পারেনি। আমরা এসে পেলাম কত? তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট, যা রেখে গিয়েছিলাম তার থেকেও ১২০০ মেগাওয়াট কম। পাঁচ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা যে কিছু করতে পারেনি, সে সম্পর্কে এই ‘ভালোর আশাবাদীরা’ কী ভূমিকা পালন করেছিলেন? আরও ভালো করার জন্য ১/১১-এর পর যারা উচ্চ দরের ডিগ্রিসম্পন্ন ও ওজনদার ব্যক্তিবর্গ— তারাই বা কি উন্নতি করতে পেরেছিলেন?
    সে কথায় পরে আসব, কারণ তারা তখন এ কথা বলেনি যে, আওয়ামী লীগ সরকার ভালো করেছিল, কাজেই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক। তারা তখন আরও ভালো মানুষের সন্ধানে ব্যস্ত ছিল, সৎ মানুষের সন্ধানে সার্চ লাইট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রের সৎকার, অর্থাৎ কবর দেওয়া।
    এই ধরনের আরও অনেক দৃষ্টান্ত আমরা দিতে পারব। সব থেকে মজার কথা হলো, এই আরও ভালোর সন্ধানকারীদের নিশ্চুপ থাকতে দেখেছি ২০০১ সালের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই। প্রশাসনের ১৩ জন সচিবের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া নিয়ে যে শুরু, তা সামরিক-বেসামরিক প্রতিষ্ঠানকেও কীভাবে প্রভাবিত করেছে ও ভীতসন্ত্রস্ত করেছিল, তা তখনকার অবস্থা স্মরণ করলেই জানা যাবে। শপথ অনুষ্ঠান হলো বঙ্গভবনে, সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন। ফিরে এসে আর নিজের অফিসে ঢুকতে পারলেন না, কারণ চাকরি নেই। রেডিও-টেলিভিশনের মাধ্যমেই ১৩ সচিবসহ অনেক অফিসারের চাকরি খেয়ে ফেলেছেন। শপথ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তাঁর পরিষদ গঠন করেননি। ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ হয়নি তখনো, অফিসেও বসেননি, কারণ শপথ অনুষ্ঠান অফিস সময়সূচির পরে হয়েছিল। তখনই কীভাবে চাকরি থেকে অফিসারদের বরখাস্ত করে? এমনকি নিজের জিনিসপত্রগুলো গুছিয়েও আনার জন্য যে অফিসে যাবেন, তারও সুযোগ দেওয়া হয়নি।
    গণভবনের টেলিফোন লাইনও কেটে দেওয়া হয়। আরও ভালোর ভক্তরা তখন এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ না করে বরং বাহবা দিয়েছিল।
    প্রথম দিনের এই আচরণের মধ্য দিয়েই কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে ততবারই রক্তপাত ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে কখনো হয়নি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ও প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান যে পক্ষপাতদুষ্ট ও অসহিষ্ণু আচরণ দেখিয়েছিলেন, তাতে জাতি বিভ্রান্ত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের যে গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা ও বিশ্বাস, সে কারণেই গণতন্ত্রের স্বার্থে তখন আমরা নির্বাচন বয়কট করিনি। নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। এত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও ভোট পেয়েছিলাম সংখ্যার দিক থেকে বেশি কিন্তু সিট সংখ্যা ছিল কম।
    আরও একটি কথা, সাহাবুদ্দীন ও লতিফুর রহমান দুজনই প্রধান বিচারপতি ছিলেন। আইনের ব্যবসাও করেছেন জীবিকার জন্য, আবার জাস্টিস হয়ে আইনের রক্ষাও করেছিলেন। কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর এখনো পেলাম না, সেটা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের অর্থাৎ জীবিত দুই কন্যার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য একটা আইন পার্লামেন্টে পাস করেছিল, সেই আইন বলবৎ থাকা অবস্থায় এবং সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ফোনের লাইন ও বিদ্যুতের লাইন কীভাবে কেটে দেয়? পানির লাইন কেটেছিল কি না বুঝতে পারিনি, কারণ পানির ট্যাংক তো ভরা থাকত, শেষ হতে সময় লাগে। একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীও সরকারি বাড়ি ছাড়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় পায়, কিন্তু আমাকে সে সময়টুকুও দেওয়া হয়নি কেন? বিবেকবান বা আরও ভালোর দল কে কে তখন এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন? 
    আমার নামে ছড়ানো হলো, আমি গণভবন এক টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি, কিন্তু কেউ কি কোনো প্রমাণ দেখাতে পেরেছিল? পারেনি। কিন্তু মিথ্যা অপপ্রচারে ঠিকই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। সত্যটা কিন্তু কেউ বলেনি বা কোনো ডকুমেন্টও দেখাতে পারেনি। আমি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি, এ পর্যন্ত কোনো সরকারি প্লট নিইনি। 
    ২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপির ক্ষমতার আমল—১৫ জুলাই ২০০১ সালে যেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করল সেদিন থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর নেমে এল অমানবিক অত্যাচার। নির্বাচনের দিনে একদিকে বিএনপি ও জামায়াতের ক্যাডার দল, অপরদিকে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের নির্যাতনে নেতা-কর্মীরা ঘরে ঘুমাতে পারেননি। রেহানার বাড়ি দখল করে যখন পুলিশ স্টেশন করা হলো, তখনো কারও কাছ থেকে এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ শোনা যায়নি। অপারেশন ক্লিন হার্ট নামে যে তাণ্ডব সেনাবাহিনী নামিয়ে করা হয়েছিল এবং মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, তা নিশ্চয়ই মনে আছে। আওয়ামী লীগের রিসার্চ সেন্টার থেকে ১৫টা কম্পিউটার, ১০ হাজার বই, ৩০০ ফাইল, এক লাখ ফরম, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেন্টারটা তালাবদ্ধ করে রাখা হয় পাঁচটা বছর। এটা কি গণতন্ত্রচর্চা? তাদের কাছ থেকে একটা প্রতিবাদও শুনিনি এর পরই শুরু হলো র‌্যাব গঠন ও ক্রসফায়ার। তখন তো সবাই র‌্যাবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেবল আমিই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম ও প্রতিবাদ করেছিলাম, তখন এই বিবেকবানেরা আমার সমালোচনা করেছিল। কাজগুলো নাকি খুবই ভালো হচ্ছিল বলে মন্তব্য করেছিল। এখন অবশ্য উল্টোটা শুনি।
    সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকেই চায়, কিন্তু তাদের ভোট দেওয়ার উপায় নেই। ভোটকেন্দ্রের ধারেকাছেও যেতে পারেনি। বিশেষ করে, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ যারা আওয়ামী লীগ বা নৌকায় ভোট দেয়, তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল ২০০১ সালের নির্বাচন চলাকালীন। তার পরও জনগণের ভোট আমরাই পাই কিন্তু সিট ঠিক গুনেই দেওয়া হয়। সরকার গঠন করার আগে থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের তাণ্ডব শুরু হলো। গ্যাং রেপ করেছে, ঠিক হানাদার পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালে যেভাবে নির্যাতন করেছিল, ঠিক সেভাবেই নির্যাতন চলছিল। একটা সুখবর হলো পূর্ণিমা ধর্ষণ কেসের আসামিরা সাজা পেয়েছে। সাধারণত, সামাজিক লজ্জার ভয়ে কোনো পরিবার মামলা করতে চায় না। পূর্ণিমা সাহস করেছে বলেই বিচার পেয়েছে। আমার মনে হয়, এই একটা দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। হাঁড়ি ভরা ভাত একটা টিপলেই তো বোঝা যায় সব ভাত সিদ্ধ হয়েছে কি না। ঠিক তেমনি একটা মামলার রায়ই প্রমাণ করে, কী ধরনের নির্যাতন বিএনপি ও জামায়াত দেশের মানুষের ওপর করেছিল। আমি এর বিস্তারিত বিবরণ দিতে চাই না, কারণ এত বেশি ঘটনা যে এখানে সব উল্লেখও করা যাবে না, শুধু এটুকুই বলতে চাই, তখন দেখেছিলাম অনেক বিবেকবান চুপ করে আছেন। মুখে কথাও নেই। কলমের জোরও নেই। তাদের জোর বাড়ে শুধু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে।
    ঠিক স্বাধীনতার পর যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়তে সবাই ব্যস্ত। তখনো বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য ঘাটতি, দেশে দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে। আর বাংলাদেশে তো ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়া। দিনরাত পরিশ্রম করে শূন্যের ওপর যাত্রা শুরু করে দেশকে গড়ে তুলতে ব্যস্ত, তখন ‘আরও ভালোর’ দলের সমালোচনা শুনেছি। কিছু নাকি হচ্ছে না। তখনো দেখেছিলাম তাদের কলম ও মুখের জোর। আর পরিণতি মার্শাল ল জারি এবং স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন। স্বাধীনতার মূল চেতনা থেকে দেশকে পিছিয়ে নেওয়া। ক্ষমতা দখলের ও ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করার লক্ষ্যে মানুষ হত্যা। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সামরিক বাহিনীতে ১৯ ক্যু ও পাল্টা ক্যু হয়েছিল। দেশবাসীর অকল্যাণ হয়েছে, দেশ পিছিয়েছে। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও সেই ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মারা থেমে নেই। যতবার জনগণ তাদের পরাজিত করে, ততবার আবার তারা পরগাছার মতো বেড়ে ওঠে। এবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠেপড়ে লেগেছে। 
    ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন, ১৯-২০ মে সামরিক ক্যুর অপচেষ্টা হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংঘটিত সামরিক ক্যু গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতেও টালবাহানা করে আবদুর রহমান বিশ্বাস। এসব কারা এবং কেন করেছিল এসব কথা আমরা কেন বিস্মৃত হই?
    দেশের অবস্থা কী? খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত আছে? ২০০১ সালে যে মোটা চাল মাত্র ১০ টাকা ছিল (আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে), সেই চাল ২০০৮ সালে ৪০-৪৫ টাকা দাম হয়েছিল, তা কমিয়ে ১৮ টাকায় আনা হয়। কৃষকের খরচ পোষানো হয়। প্রতি কেজি চাল ৩২-৩৪ টাকায় ঢাকার বাজারে এবং ঢাকার বাইরে ২৬-২৭ টাকায়ও পাওয়া যায়। সরকার ৪০-৫২ টাকায় বিদেশ থেকে চাল কিনে এনে মাত্র ২৪ টাকায় খোলাবাজারে বিক্রি করছে। ফেয়ার প্রাইস কার্ড, রেশন কার্ড, ভিজিএফ, ভিজিডিসহ বিভিন্ন উপায়ে খাদ্যনিরাপত্তা দিচ্ছে। না খেয়ে কেউ কষ্ট পাচ্ছে না। ৩৬ টাকায় বিক্রি হওয়া আটা ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
    কাজেই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত আছে। আওয়ামী লীগ আমলে দেশে মঙ্গা হয় না। 
    সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত, মানুষ নানাভাবে সাহায্য পাচ্ছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, স্তন্যদানকারী মা, সন্তানসম্ভবা গরিব মা, স্কুলে গমনকারী গরিব শিশুর মাসহ এ ধরনের নানাভাবে সামাজিক নিরাপত্তা সৃষ্টিকারী আর্থিক অনুদান সরকার দিয়ে যাচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখছে। গরিব মানুষের কষ্ট লাঘব হচ্ছে। ১৯৯৮ সালের বন্যার পর আওয়ামী লীগ সরকার নয় মাস দুই কোটি লোককে বিনা পয়সায় খাইয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে এসবই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা। ইতিপূর্বে আর কোনো সরকার এদিকে দৃষ্টি দেয়নি।
    শিক্ষার হার, ভর্তির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, পাসের হার বাড়ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২৩ কোটি ২২ লাখ বই বিনা পয়সায় বিতরণ করা হচ্ছে।
    বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সরকার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রায় ৭১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুই বছরেই ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অতিরিক্ত উৎপাদন করা হয়েছে।
    গ্যাস উৎপাদন বেড়েছে, আরও বৃদ্ধির কাজ চলছে।
    আইনশৃঙ্খলা অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তার প্রমাণ আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ, হজ, ঈদ, পূজা, বড়দিন, পয়লা বৈশাখ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, মাতৃভাষা দিবস শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে একদিকে, আর অপরদিকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। মূল্যস্ফীতি ১১ ভাগ থেকে কমিয়ে ছয় ভাগে আনা হয়েছিল, এখন কিছুটা বেড়ে আট ভাগ হয়েছে। শ্রমিক ও দিনমজুরদের আয় বেড়েছে। সরকার সদা সচেষ্ট আছে এসব বিষয়ে। ১৫০০ টাকা যারা শ্রমের মূল্য পেত, তারা ৩০০০ টাকা পায়। ধান কাটার সময় ৩০০-৪০০ টাকা দিনে মজুরি পেয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। 
    অনেক কাজ, যা এই সরকার আসার আগে সাত বছরে হয়নি, তার থেকেও বেশি কাজ সরকার দুই বছরে করেছে এবং করে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজও সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৪,৫০১টি ইউনিয়নে তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, টেন্ডার সর্বক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। কোনো ঘটনা ঘটলে অপরাধী যে-ই হোক, সরকার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
    বিডিআর (বিজিবি) হত্যা ও বিদ্রোহের বিচার চলছে। জঙ্গিবাদ দমনে সরকার তৎপর ও সফল। যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার চলছে। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এ পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। বরং সরকার দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। এবার বোরো ফসল বাম্পার হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা সরাসরি পাচ্ছে। ডিজেলে ২০ শতাংশ সাবসিডি পাচ্ছে। হাওর এলাকায় ও এলাকাবিশেষে বিনা মূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক রিজার্ভ সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্স বেড়েছে। দুই বছরে নয় লাখ মানুষ বিদেশে গেছে। ফিরে এসেছে এক লাখ, যা স্বাভাবিক। 
    সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ছয় ভাগে ধরে রাখা হয়েছে, এবার বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৭ ভাগে উন্নীত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে। 
    চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট মনে চাকরি করে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা এত শান্তিতে কোনো দিন ব্যবসা করতে পারেননি। একটু অতীতের দিকে তাকালে স্মরণ করতে পারবেন। একদিকে ছিল হাওয়া ভবনের কমিশন ও ভাগ দেওয়া, অপরদিকে তত্ত্বাবধায়কের সময় ছিল আতঙ্ক, মামলা, দেশছাড়া। অন্তত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সে আতঙ্কের পরিবেশ নেই। মুক্ত পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন। রপ্তানি-বাণিজ্যে যা টার্গেট ছিল তার থেকে বেশি রপ্তানি হচ্ছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে বরং, জমির অভাবে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। কাজেই সার্বিক দিক থেকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মনে স্বস্তি আছে। 
    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।
    এসব প্রশ্নের উত্তরের পরও আরও ভালোর দল বলবে, তার পরও দেশের অবস্থা ভালো নেই। এর কারণ কী? কারণ একটাই, অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকার থাকলে তাদের দাম থাকে। এই শ্রেণীটা জীবনে জনগণের মুখোমুখি হতে পারে না। ভোটে জিততে পারে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ ছাড়তে পারে না। তাই মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকারের যে খোশামোদি, তোষামোদি ও চাটুকারের দলও প্রয়োজন হয়—এরা সেই দল। বিশেষ করে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী ও চেতনায় বিশ্বাসীরা ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের উপকার হয়। আর দেশে মানুষ যদি দরিদ্র না থাকে, তাহলে এই শ্রেণীর বাণিজ্য শেষ হয়ে যাবে, কারণ দরিদ্র্য মানুষগুলোই তো তাদের বড় পণ্য। যাদের নিয়ে তারা বাণিজ্য করে নিজেদের ভাগ্য গড়ে।
    আমি বেঁচে থাকতে আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর খেলতে দেব না।
    ২২.৫.২০১১
    টরন্টো, কানাডা
    শেখ হাসিনা: প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

    Monday, June 20, 2011

    দুই নেত্রীর ‘তত্ত্বাবধায়ক বাতিল’ ভাবনা


    undefined
    তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান কতটা কাছাকাছি বা দূরে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ আপাতত অগ্রাধিকার পাওয়ার নয়। কারণ, এক অর্থে এখানে রাজনীতিই মুখ্য নয়। আইনগত ও সাংবিধানিক বিষয় জড়িত। দেশের রাজনৈতিক সংকটে এটা এক অভিনব অবস্থা। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষ এমন একটি বিষয়ে পরস্পরের কাছে অবস্থান ‘স্পষ্ট’ করতে বলছে, যা দারুণভাবে অস্পষ্ট।
    আর এ জন্য পার্লামেন্ট নয়, আপিল বিভাগ দায়ী। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় না পাওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করা চলে না। উপরন্তু আদালতের সংক্ষিপ্ত আদেশে যে ‘অসামঞ্জস্য’ রয়েছে, সে দিকেও তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
    তাই আপিল বিভাগকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রায় দিতে হবে। আর রাজনীতিকদের হোমওয়ার্ক করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে যা করার করতে হবে। কিন্তু শুধু এটুকু বক্তব্য যথেষ্ট নয়। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অন্যতম স্পর্শকাতর প্রশ্ন হলো, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কী করবেন। প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন। সুতরাং পদ্ধতি নয়, তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থায়ও কিন্তু ব্যক্তির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
    প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত ব্যক্তির সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গড়তে কি সত্যিই চান? তাহলে তাঁকে বাহাত্তরের সংবিধান মানতেই হবে। কিন্তু তিনি তা মানছেন না। বর্তমানে এক-দশমাংশ অনির্বাচিত ব্যক্তির মন্ত্রিসভায় থাকার বিধানটি মূলত সামরিক শাসনের ফসল। অনির্বাচিত ব্যক্তিরা (শফিক আহমেদ, দিলীপ বড়ুয়া প্রমুখ) এখন মন্ত্রিত্ব করছেন। এটা যদি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে আঘাত না করে তাহলে ৯০ দিনের জন্য অনির্বাচিত ব্যক্তির মন্ত্রিত্ব মানা যাবে না কেন?
    বাহাত্তরের সংবিধানের ৫৫(৪) অনুচ্ছেদটি জ্যান্ত করা হোক। চতুর্থ সংশোধনীতেই কিন্তু এ বিধান লোপ পায়। কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, তাঁরা আজও মনে করেন বাকশাল ঠিক ছিল। চতুর্থ সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রিসভাই অনির্বাচিতদের দিয়ে গঠন করার বিধান প্রথম যুক্ত করা হয়। ত্রয়োদশ সংশোধনীই অনির্বাচিত ব্যক্তিদের অন্দরমহলে প্রথম ঢুকিয়েছে, তা নয়। পঞ্চম সংশোধনীতে বাহাত্তরের বিধানমতে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী করার নিয়ম পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। তবে শর্ত ছিল, অনির্বাচিতরা মন্ত্রিসভার এক-পঞ্চমাংশের বেশি হবেন না। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ‘অনধিক এক-দশমাংস’ অনির্বাচিত থাকতে পারেন। সেদিক থেকে বর্তমান টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা জেনারেল জিয়ার পঞ্চম সংশোধনীর ডিজাইনের বেনিফিশিয়ারি।
    সুতরাং নির্বাচিত ও অনির্বাচিত প্রসঙ্গ বাংলাদেশে নতুন নয়। আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী রাজনীতিতে এর চমক আগেও দেখেছি। সুপ্রিম কোর্টের অন্তত দুটি মাইলফলক মামলা আছে, যেখানে নির্বাচিত-অনির্বাচিত তর্ক পাত্তা পায়নি। আবদুর রহমান বিশ্বাস পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। আবদুস সামাদ আজাদ রিটে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি জয় পাননি। কুদরত-ই-ইলাহি পনির মামলায় উপজেলাব্যবস্থা বিলোপের বৈধতা পরীক্ষিত হয়। আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে যে রায় দেন, তা কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন করে না। সেই একই অনির্বাচিত তর্ক তুলে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। হাইকোর্ট তা নাকচ করেছিলেন।
    বাহাত্তরের মূল সংবিধানের ৫৫(৪) অনুচ্ছেদটি ফিরে এলে যেকোনো সময় যেকোনো সংখ্যক অনির্বাচিত ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া যাবে। তার মানে, এটা কিন্তু অগণতান্ত্রিক নয়। অবশ্যই এই অনির্বাচিত আর আমাদের উদ্ভট তত্ত্বাবধায়ক-ব্যবস্থায় ঠাঁই পাওয়া অনির্বাচিতরা এক নন। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ভাবনাকে বাহাত্তরের কাঠামোতে খাপ খাওয়াতে হবে। ওই অনুচ্ছেদের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের ছয় মাসের মধ্যে কোনো আসন থেকে নির্বাচিত হতে হবে। এই বিধান সংসদীয় গণতন্ত্রে সর্বজনীন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখুন। তিনি বিধানসভার সদস্য নন। অনির্বাচিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। শপথের দিন থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে এমএলএ নির্বাচিত হতে হবে। অন্যথায় তিনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারাবেন। আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানের ৫৫(৪) অনুচ্ছেদটি ভারতীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থায় আছে বলেই অনির্বাচিত মমতার মুখ্যমন্ত্রী হতে বাধা হয়নি।
    এখন নির্বাচিত ব্যক্তিতে যদি আমাদের নতুন করে ভক্তি আসে, ক্ষতি নেই। তবে ক্ষমতাসীন দলকে সর্বাগ্রে তার নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। অনির্বাচিত ব্যক্তিদের আমরা পাঁচ বছর মন্ত্রী মানব। আর নির্বাচিত ধুয়া তুলে অনির্বাচিতদের ৯০ দিন বা একটা নির্বাচন করার সুযোগও দেব না। এই দুই অবস্থান দ্বন্দ্বপূর্ণ। ত্রয়োদশ সংশোধনীতে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লিখিত দুটি মামলায় দেওয়া আপিল বিভাগের আগের দুটি রায় এবং সংবিধানে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বহাল থাকার অনুচ্ছেদটি কীভাবে কতটা আলোচনায় আসে বা আদৌ আসে কি না, সেটা দেখতে আমরা অপেক্ষায় রইলাম।
    নির্বাচিতদের জন্য হঠাৎ দরদ উথলে ওঠা সরকার দয়া করে একটি লিটমাস টেস্ট সেরে নিন। ঘোষণা দিতে হবে যে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী যদি থাকতে চান, তাহলে তিনি নির্বাচন করবেন না। যদি তিনি নির্বাচন করতেই চান, তাহলে তাঁর দলের অন্য কোনো সাংসদকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। ওই সাংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না। এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাল্টাতে সুফল দিতে পারে।
    আসলে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও দলের প্রধান—এই তিনজন কোনো অবস্থাতেই এক ব্যক্তি হতে পারবেন না। তিন আলাদা মানুষ হতে হবে। আওয়ামী লীগকে তার ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও মন্ত্রিত্ব একসঙ্গে আগলানোর রেওয়াজ আগে ছিল না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম যখন মন্ত্রী হলেন, তখন তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে অপশন দেওয়া হলো। দলের পদ, না হয় মন্ত্রিত্ব—একটি রাখতে হবে। তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হলেন। একই সঙ্গে তিনি কিন্তু আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ আঁকড়ে ছিলেন না। স্পষ্টতই, কোনো চাপ ছাড়াই তিনি গণতান্ত্রিক রেওয়াজ মেনে চলছিলেন। এখন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন রূপায়ণে ঝাঁপিয়ে পড়লে ক্ষতি কী।
    দুই.
    সুখের বিষয়, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া আদালতের রায় প্রশ্নে লক্ষণীয়ভাবে অবস্থান বদল করেছেন। ৪ জুন ও ১৬ জুন সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তাঁর দুটি লিখিত বিবৃতির গুণগত পার্থক্য অনেক। তবে ‘এই রায় সংসদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়’ কথাটি যে অর্থে তিনি বলেছেন, তা ঠিক নয়। সংসদ চাইলে নতুন করে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তেমন দরকার হলে আদালতের রায়কে অসারও করতে পারে। যাক, খামোখা দুটি হরতাল পালনের পর তাঁকে এখন কিছুটা নমনীয় মনে হচ্ছে। তাঁর কথায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বর্তমান আঙ্গিক ঠিক রাখতে হবে। এরপর তাঁরা আলোচনায় বসবেন।
    এটা সন্দেহাতীত যে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া। নাগরিক সমাজ থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে চাপ দিতে কিংবা তাদের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতেও আদালতের রায় দরকার। এমনকি রায়ের বিষয়ে রিভিউ করারও দরকার পড়তে পারে। আমরা শুনেছি, ত্রয়োদশ সংশোধনীর শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরিরা আইনগত ও সাংবিধানিক দিকগুলোর বিষয়ে যথেষ্ট যুক্তিতর্ক তুলে ধরেননি বলে বিচারকদের কারও কারও কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
    আমাদের চোখ এখন দুই নেত্রীর দিকে নয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের দিকে। কারণ তিনিই আলোচ্য পূর্ণাঙ্গ রায়ের অথর জাজ হবেন বলে ধারণা। আর তিনিই বলেছেন, ছয় মাস লাগবে।
    রায়ের অপব্যাখ্যা করার জন্য এই কলামে দুই সপ্তাহ আগে সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতাকে দায়ী করা হয়েছিল। বিরোধী দলের নেতা এখন দৃশ্যত আপিল বিভাগের রায়মুখী হয়েছেন। ডেইলি স্টার পত্রিকায় ১৭ জুন প্রথম পাতায় বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছাপা হয়। যার শিরোনাম ছিল ‘প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন’। তার নিচেই পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় আইনজ্ঞের মতামত ছাপা হয়। যার শিরোনাম ‘রায়ের মুহূর্ত থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ’। নিচে উপশিরোনামে শীর্ষ আইনবিদেরা প্রসপেকটিভলি বা ভবিষ্যৎসাপেক্ষ কথাটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শীর্ষ আইনবিদদের বরাতে ডেইলি স্টার-এর শিরোনাম থেকে অনেকের মনে ধারণা হতে পারে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে গেছে মর্মে যে অভিমত দিয়েছেন, সেটিই সঠিক।
    ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনটি শুধু প্রসপেকটিভ কথাটির সংজ্ঞানির্ভর। তারা ঠিকই ধরেছে এবং বেগম খালেদা জিয়াও ওই শব্দের ওপর দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘রায়ে ঘোষিত অবৈধতা এখন থেকে নয়, বরং আরও দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক বহাল থাকার পর তা কার্যকর হবে।’ অবৈধতা ও তা কার্যকর অবৈধতার মধ্যে পার্থক্য আছে। অবৈধ ওই তারিখ থেকেই, তবে তা কবে থেকে ও কীভাবে কার্যকারিতা পাবে, তা রায়ে স্পষ্ট নয়। তবে এটা খুবই স্পষ্ট, ত্রয়োদশ সংশোধনী তিন তালাক পায়নি। তিন শর্তে টিকে আছে। সংসদ নেতা ও বিরোধী দলের নেতার রায় ব্যাখ্যার মধ্যে কোনটি আপাতত অধিকতর গ্রহণযোগ্য? উত্তর হবে, বিরোধী দলের নেতার। যদিও তা নিরঙ্কুশ অর্থে নয়। সংসদ নেতা বলেন, বাতিল হয়ে গেছে আর কোনো সুযোগ নেই। এর প্রথম অংশ ঠিক, দ্বিতীয় অংশ ঠিক নয়।
    ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বিচারপতি মোস্তাফা কামাল, মাহমুদুল ইসলাম, এম জহির, শাহ্দীন মালিক ও মাহবুবে আলম মতামত দিয়েছেন। তাঁদের মতগুলো সন্দেহাতীত কোনো ধারণা দেয়নি। বিচারপতি মোস্তাফা কামালের মতে, ভবিষ্যৎসাপেক্ষ কথাটির অর্থ রায় ঘোষণার দিন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে গেছে। তবে আগামী দুটি নির্বাচন বিদ্যমান ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনেই করা যাবে। সংবিধান সংশোধনের কোনো দরকার নেই। তাঁর বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতার অবস্থানই সমর্থিত হয়েছে।
    অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় দুই মেয়াদে বৈধ নির্বাচন কি করে হবে? এটা কি স্ববিরোধী? জবাবে সাবেক প্রধান বিচারপতি আমাকে বলেন, না, এটা হলো পার্মিসেবল জুরিসডিকশন (অনুমতিযোগ্য এখতিয়ার)।
    বিচারপতি মোস্তাফা কামাল, মাহমুদুল ইসলাম, এম জহির, শাহ্দীন মালিক ও মাহবুবে আলম আমাদের একটি বিষয় নিশ্চিত করেছেন যে ‘রায় ঘোষণার দিন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে গেছে।’ কিন্তু শুধু এটুকু বলে থামলে বা বুঝলে চলবে না। বাতিল কথাটি ওই তারিখেই প্রকৃতঅর্থে কার্যকর হয়ে গেছে বলে যাঁরাই প্রবল যুক্তি দিচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে আমরা বিনয়ের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করি।
    বিশেষজ্ঞ মতের ফারাক দেখুন। শাহ্দীন মালিক মনে করেন, সুপ্রিম কোর্ট কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে তাঁর রায়ে ভবিষ্যৎসাপেক্ষ কথাটি ব্যবহার করেছেন। যেহেতু বাতিল হয়ে গেছে, তাই আগামী দুটি নির্বাচন করতে হলে সংবিধান সংশোধন লাগবে। আমরা এ যুক্তি মানতে অপারগ। মাহমুদুল ইসলামের ‘রায় ঘোষণার দিনই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে গেছে’ কথাকেও বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাবে না। অ্যাটর্নি জেনারেলও কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায়। তিনি বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় না পাওয়া পর্যন্ত এটা বলা যায় না যে আগামী দুটি নির্বাচন কীভাবে হবে।
    আমরা আদালতের কাছে অনতিবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ রায় এবং সরকার ও বিরোধী দলের কাছে সহি পূর্ণাঙ্গ তত্ত্বাবধায়ক বিলের খসড়া আশা করি। তবে আমরা নিশ্চয় মনে রাখব সংসদের সার্বভৌমত্ব। জাতীয় প্রয়োজনে আজই সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচন দিতে হলে আদালতের অনুমতি নিশ্চয় লাগবে না। আর তখন কিন্তু বিদ্যমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। এ ভাবনা স্বাভাবিক নয় যে সংসদ তখন পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষায় থাকবে।
    মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক। প্রথম আলো
    mrkhanbd@gmail.com

    Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More