Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label বাংলাদেশ সংবিধান. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ সংবিধান. Show all posts

Monday, August 8, 2011

বাড়ির অধিকার ছাড়লেন শেখ রেহানা


ঢাকা, অগাস্ট ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা ১০ বছর আগে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাড়ির অধিকার ফিরে পাওয়ার আইনী লড়াইয়ে ইতি টেনেছেন।

সোমবার বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমের বেঞ্চে আবেদন করে এ বিষয়ক রিট প্রত্যাহার করেছেন শেখ রেহানা।

মামলার বিষয়বস্তুর কারণে নয়, বরং উৎসর্গ করার মানসিকতা থেকে রেহানা এ রিট আর চালাতে চান না বলে প্রত্যাহার আবেদনে বলা হয়েছে।

আদালত শেখ রেহানার এই মানসিকতাকে উৎসাহিত করে।

সোমবার আদালতে শেখ রেহানার আইনজীবী হিসাবে ছিলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এবং সরকার পক্ষে ছিলেন ওই আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা আশেক মোমেন।

২০০১ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ধানমণ্ডির ৬ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাড়িটি শেখ রেহানার নামে বরাদ্দ করে। রেহানা তা নগদ মূল্যে কিনে নেন। ২০০৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার বাড়িটি সরকারি মালিকানায় নিয়ে সেখানে ধানমণ্ডি থানা স্থাপন করে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শেখ রেহানা ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন করলে আদালত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চায়।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর খালেদাকে তৎকালীন সরকার এরকম সুবিধা দিয়েছিলো।

গুলশানে একশ এক টাকায় দেড় একর আয়তনের একটি বাড়ি 'কেনেন' তিনি।

সেনানিবাসে শহীদ মঈনুল সড়বে এক টাকায় ১৯৮১ সালের ৮ জুলাই আট বিঘা আয়তনের একটি বাড়িও ইজারা দেওয়া হয় খালেদাকে।

গত বছরের ১৩ জুলাই খালেদাকে ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

'জনগণের কল্যাণে অধিকার ত্যাগ'

রিট প্রত্যাহার আবেদনে বলা হয়, শেখ রেহানা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগ ও অবদানের কারণে মেয়ে হিসাবে তিনি গর্বিত।

'বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িসহ পিতার রেখে যাওয়া সব সম্পত্তি দেশের জনগণের সেবায় দান করেছেন। টুঙ্গিপাড়ার বাড়িটিও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।'

শেখ রেহানার ঢাকায় কোনো বাড়ি নেই- এ কথা উল্লেখ করে রিট আবেদনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে সরকার আইন অনুযায়ী তাকে একটি বাড়ি দিতে বাধ্য এবং ইতিপূর্বে তার বাড়ি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটিও ছিলো অবৈধ।"

'কিন্তু বাড়িটি বর্তমানে থানা হিসাবে জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে তিনি তার অধিকার ত্যাগ করতে চান।'

শেখ রেহানাকে বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয় জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইনের আওতায়। চারদলীয় জোট সরকার আইন ও বরাদ্দ বাতিল করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন-২০০৯ পাশ করা হয়। ওই আইনে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাদের সন্তানদের আজীবন এসএসএফ অর্ডিন্যান্স-১৯৮৬ অনুযায়ী ভিআইপি হিসাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া ওই আইন অনুযায়ী সরকার পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত আবাসন ব্যবস্থা করবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটক

Sunday, July 24, 2011

আমিনীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

ফজলুল হক আমিনী ফজলুল হক আমিনী
ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর বিরুদ্ধে আজ রোববার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। সংবিধান ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলার কথা বলায় তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলাটি করেন আইনজীবী নজরুল ইসলাম সর্দার।
মামলায় আমিনীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়। মহানগর হাকিম মোসাম্মত রোকসানা বেগম হ্যাপীর আদালতে শুনানি হয়। তবে আদালত কোনো আদেশ দেননি।
শুনানিতে বাদীর আইনজীবীরা বলেন, ১৪ জুলাই লালবাগ থানাধীন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় মুফতি আমিনী সংবিধান নিয়ে কটূক্তি করে বলেন, ‘শুধু ছুড়ে নয়, এই সংবিধান ডাস্টবিনে ফেলা হবে।’ পরের দিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হয়। এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। তাই মামলাটি করা হয়েছে।
শুনানিতে বাদী নজরুল ইসলাম সর্দারের পক্ষে অংশ নেন কাজী নজিব উল্লাহ, শেখ হেমায়েত হোসেন, জায়েদ হোসেন সর্দার প্রমুখ।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে আদেশ দেওয়ার কথা বলেন।প্রথম আলো

Wednesday, July 13, 2011

এ সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে: খালেদা

  • গণ-অনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারা
    গণ-অনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারা
    ছবি: প্রথম আলো
1 2
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ভবিষ্যতে জনগণের সরকার ক্ষমতায় এলে এ সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে। কেননা, এটা কোনো সংবিধান নয়, এটা আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহার।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত বিএনপির দিনব্যাপী গণ-অনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। পুলিশ, প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের বাড়াবাড়ি করলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
খালেদা জিয়া বিকেল সোয়া পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত বক্তব্য দেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বহাল রেখে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। খালেদা জিয়া বক্তব্য শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাসমেরি এস ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন তাঁকে পানি খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলন চলছে, চলবে। ঈদের পর সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে যত আন্দোলনের প্রয়োজন, তত আন্দোলন করা হবে। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও বিজয় অর্জন করতে হবে। এ জন্য আরেকটা সংগ্রাম করব। আরেকবার গর্জে উঠব।’
ঈদের পরের কর্মসূচি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আর জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর-ধ্বংসের রাজনীতি নয়, হরতাল নয়, মানুষকে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মতো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটানো হবে।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর পুলিশের বর্বর হামলা, হরতালের দিন বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাদ দিয়ে পাস করা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে বিএনপি এই গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মঞ্চ ছিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রাঙ্গণে। তবে নেতা-কর্মীরা সামনের মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগমুখী সড়কের এক পাশে অবস্থান নিলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পুরো শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিএনপির এই কর্মসূচিতে চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস ছাড়াও বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গঠিত বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামিক পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ভাসানী ন্যাপ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ও জাতীয় পার্টির (মতিন) নেতারা গণ-অনশনে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া বিএনপি সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ এতে সংহতি প্রকাশ করে। তবে দলটির কেউ অনশনস্থলে সরাসরি উপস্থিত হননি।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, এমন ব্যক্তিদের মধ্যে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ এবং এস এম এ ফায়েজ, সাবেক সহ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ প্রমুখ। কর্মসূচিতে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
গণ-অনশন কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল থেকে বিএনপির ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এসে হাজির হন। সকাল ১০টা থেকে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নয়টার মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল, সামনের সড়ক ও আশপাশের এলাকা নেতা-কর্মীদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। তাঁরা সরকারবিরোধী ব্যানার, প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল, কিন্তু খালেদা জিয়া দুপুর ১২টায় কর্মসূচিস্থলে হাজির হন। এরপর দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনশন শুরু হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা ছাড়াও সংহতি প্রকাশ করতে আসা বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
কর্মসূচিতে চারদলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলগুলো ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে বিএনপির সঙ্গে থেকে আন্দোলন করার ঘোষণা দেয়। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আগ্রহ ছিল অলি আহমদ ও বি. চৌধুরীকে নিয়ে। অলি আহমদ না এলেও তাঁর দলের পক্ষ থেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী বর্তমানে এলডিপির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তাঁদের দল বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করবে।
গণ-অনশনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনশন উপলক্ষে কর্মসূচিস্থলের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান নেন। কর্মসূচি চলাকালে সেখানে প্রিজন ভ্যান, পিকআপ ভ্যান ও জলকামানবাহী গাড়ি এবং দাঙ্গা দমনকারী পুলিশের গাড়ি অবস্থান করতে দেখা গেছে।
খালেদা জিয়ার বক্তব্য: গণ-অনশনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘চোরের দল ও চাটার দল দেশ পরিচালনা করছে। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এদের কারণে দেশের মানুষকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। এরা দেশের সমস্যা সমাধান না করে কেবল ভারতকে খুশি করার কাজে ব্যস্ত।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে সমমর্যাদার সম্পর্কে বিশ্বাসী। আমরা দুটো জিনিস দিলে তাদেরও দুটো জিনিস দিতে হবে। কিন্তু ভারত কেবল নিচ্ছে, বিনিময়ে কিছুই দিচ্ছে না।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে; এ জন্য আলোচনা চায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রেখে সরকারকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। আর নির্বাচন হলেও বিএনপি তাতে অংশ নেবে না। বিএনপি ছাড়া কোনো নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আপনারা এখন অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির মামলার বিচার করছেন, অথচ জয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। ভবিষ্যতে তাই নিজেদের দুর্নীতির বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তৈরি হোন।’ তবে জয় কী দুর্নীতি করেছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া পুলিশ, প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘অন্য সরকারের সময় চাকরি না করলেও পার পাবেন না। বিচারের সম্মুখীন করা হবে।’
খালেদা জিয়া বলেন, দেশ এখন একটি জেলার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে আছে, সেটা হলো গোপালগঞ্জ। তিনি ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সেই শিক্ষক ও অধ্যক্ষের বিচার দাবি করেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের এই সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের পাশে আছি।’ তিনি বলেন, জয়নুল আবদিনকে মেরে পুলিশ গণতন্ত্রকে মেরেছে, বুটের নিচে পিষ্ট করেছে।
খালেদা জিয়া গণ-অনশনে সংহতি প্রকাশ করতে আসা বিভিন্ন দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে সব কর্মসূচিতে তাঁদের অংশগ্রহণ করারও আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আগে মিরসরাইয়ে দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

Tuesday, July 5, 2011

হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলো, হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলো



বাহাত্তরের মূল সংবিধানের সঙ্গে চতুর্থ সংশোধনী-পরবর্তী সংবিধানের দূরত্ব দাঁড়ায় প্রায় ৪০ মাইল। পঞ্চম সংশোধনীর পর সেই দূরত্ব আরও বাড়ে, হয় ১৪০ মাইল। অষ্টম সংশোধনীর পর দূরত্ব গিয়ে দাঁড়ায় ২৮০ মাইল। পঞ্চদশ সংশোধনীর পর এখন যে সংবিধান, তার সঙ্গে বাহাত্তরের সংবিধানের দূরত্ব এগার শ মাইল: ঢাকা থেকে ডেরা ইসমাইল খাঁর (পাকিস্তানে) দূরত্ব যতটা। ৩০ জুন অপরাহ্নে যে সংবিধান গৃহীত হয়েছে, তা পৃথিবীর সংবিধানের ইতিহাসে এক অদ্বিতীয় দলিল।
এই সংবিধানে সবই আছে। ধর্ম আছে, ধর্মহীনতাও আছে। সৃষ্টিকর্তা আছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আছে, পাকিস্তানি আদর্শও আছে। সমাজতন্ত্র আছে সংবিধানের শুরুতে, ধর্মতন্ত্র আছে গোটা সংবিধানজুড়ে। জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক বাঙালিত্ব আছে, বিমূর্ত জাতীয়তাবাদও আছে। সে এমনই এক জাতীয়তাবাদী মূলনীতি, যা ঘরে ঘরে ডিশ অ্যান্টেনা দিয়ে বিজাতীয় সংস্কৃতি চব্বিশ ঘণ্টা উপভোগের গ্যারান্টি করে দেয়। সংবিধানে সবই আছে, তবু মহাজোটের নেতাসহ সব দল ও সম্প্রদায় বলছে, কিছু কিছু কী যেন নেই। সে কারণে সবারই মন খারাপ।
তবে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট ও বিভিন্ন চর এলাকার ধর্মনেতাদের মন কেন খারাপ, তা বোঝা যাচ্ছে না। ধারণা করেছিলাম, পঞ্চদশ সংশোধনীর পর মগবাজারে জুসনে জুলুসের আয়োজন হবে। সেখানে সারা রাত কাওয়ালির মজলিস বসবে। পাকিস্তান থেকে আসবেন নামজাদা কাওয়াল। তাঁরা গাইবেন খুশির কাওয়ালি। কারণ, তাঁরা যা চান, তার সবই এই সংশোধিত সংবিধানে আছে: বিসমিল্লাহ থেকে রাষ্ট্রধর্ম—সবই অটুট। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তারাও হরতালের ডাক দিয়েছেন। ঘণ্টা ছয়েকের হরতাল নয়—৪৮ ঘণ্টার হরতাল।
এই সংশোধনী পাস হওয়ার পর চরমোনাইতে যখন খুশিতে ওরস হওয়ার কথা, সেখানে ইসলামী আন্দোলন পালন করল সারা দেশে আধা বেলা হরতাল। সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম থাকার পর তাঁরা আর কী চান? রাষ্ট্রধর্মের চেয়ে বেশি আর যা হতে পারত তা হলো ‘বিশ্বরাষ্ট্রধর্ম’। আর সংখ্যালঘুদের জন্য ‘উপরাষ্ট্রধর্ম’। যা হোক, সম্ভবত তাঁরা আরও হরতাল ইত্যাদিতে যাবেন। কারণ তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ তাঁদের ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ নড়িয়ে দিয়েছে। চরমোনাইয়ের নেতারা চান, বিশ্বাস ও আস্থাটা সর্বশক্তিমানের ওপরই থাকুক, আওয়ামী লীগের নেতাদের অবিচল আস্থা বিদেশি বন্ধুদের ওপর।
ওদিকে হরতালে না গিয়ে নয় ঘণ্টা অনশন কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের কোনো প্রত্যাশাই পূরণ হয়নি। পরিষদ ও ফোরামের নেতারা পঞ্চদশ সংশোধনীকে সংগত কারণেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, ধর্মাশ্রয়ী এবং ধর্মীয় বিভাজনমূলক বলে তার প্রতিবাদ করেছেন। এই বঙ্গভূমিতে ‘ধর্মাশ্রয়ী’ হতে চায় না কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়? নিশ্চয়ই ধর্মীয় বিভাজনমূলক বিধি জঘন্য অপরাধ। তার কিছু উপাদান এই সংবিধানে আছে।
দুই বাম দল ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন ও জাসদের নেতা হাসানুল হক ইনু সংশোধনীর পক্ষে উচ্চ স্বরে ‘হ্যাঁ’ শুধু বলেননি, সম্মতিসূচক সইস্বাক্ষর দিয়ে ২৪ ঘণ্টা পরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই সংশোধনীতে তাঁরা শতভাগ সন্তুষ্ট নন। কমরেড মেনন বলেছেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় সরকারের আগ্রহ ছিল, কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। বিএনপির উচিত ছিল আলোচনায় এসে তাদের প্রস্তাব দেওয়া।’
এককালে আমাদের নেতা ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ কমরেড মেনন যা বলেছেন, নীতিগতভাবে তা আমরা সমর্থন করি। অবশ্যই বিএনপির আলোচনায় যাওয়া এবং প্রস্তাব দেওয়া উচিত ছিল। সেই সঙ্গে সবিশেষ বিষয়ের সঙ্গে একটি প্রশ্নও তাঁকে করতে পারি: আপনারা সরকারের সঙ্গী ও সহযোদ্ধা, আপনারা যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেগুলো কি গ্রহণ করা হয়েছে? আপনারা সরকারের লোক হওয়া সত্ত্বেও আপনাদের প্রস্তাব অগ্রাহ্য হয়েছে, সরকারের পরম শত্রুর অতি উত্তম প্রস্তাবগুলো যে অতি খুশিতে সরকার মেনে নিত, তার নিশ্চয়তা আওয়ামী লীগের কোনো সহসম্পাদকের কাছ থেকেও পেয়েছিলেন কি?
জাসদের সভাপতি ‘মহাজোটের ঐক্য অটুট রাখার ঘোষণা দিয়ে’ বলেছেন, ‘দেশের সংবিধান, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে রক্ষায় এ ঐক্য হয়েছে। জামায়াত ও তাদের দোসরদের প্রতিহত করতে এ ঝান্ডা তুলে ধরে ঐক্য চালিয়ে নেওয়া হবে।’ খালেদা জিয়ার সংঘাতের আশঙ্কার প্রত্যুত্তরে সাবলীলভাবে তিনি বলেছেন, ‘আসুন, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’ এখন এই সংবিধান নিয়ে যুদ্ধ বা মারামারিতে জাসদ চুয়াত্তরের মতো প্রস্তুত থাকলেও জনগণ প্রস্তুত নয়। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং সে ভোট পৌরসভা নির্বাচনে এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তারা দিয়েছে। মহাজোটের ঝান্ডা বহন করার সঙ্গে সঙ্গে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করা আবশ্যক। গত ৭৫ বছরে এবারই প্রথম ক্ষমতাসীন দল স্থানীয় নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছে। সুতরাং কার সঙ্গে যুদ্ধ করবেন?
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হওয়ার এক দিন পর বলেছেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীতে আওয়ামী লীগ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া। পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে সংবিধান সংশোধনে কিছুটা আপস করা হলেও ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে হুবহু বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাব।’ আওয়ামী লীগের নেতারা বলতে চান, আড়াই বছরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। তখন হুবহু বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাবেন। বিসমিল্লাহ থাকবে না; রাষ্ট্রধর্ম থাকবে না; ইসলাম, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান প্রভৃতি শব্দযুক্ত কোনো সংগঠন থাকবে না, সব শিল্প-কারখানা রাষ্ট্রায়ত্ত করা হবে ইত্যাদি।
বর্তমান সংবিধান যদি আমেরিকার সংবিধানের মতো টিকে যায় এবং যাবে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মর্যাদা হবে ভারতের ইতিহাসে বাবা সাহেব আম্বেদকরের যে মর্যাদা, তা-ই। তাঁর ওপরই এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল এবং তিনি বছর খানেক তাঁর দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করেছেন। সংশোধনীর এক দিন পর তিনি বলেছেন, ‘এমন একটা সংশোধনী আমরা পাস করলাম, যা দিয়ে কাউকেই খুশি করতে পারলাম না। না ডান, না বাম, আর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে তো নয়ই। কারণ আওয়ামী লীগ ডানও নয়, বামও নয়। এই দুইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে আওয়ামী লীগ।’ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডান ও বাম খুশি না হওয়ায় প্রতীয়মান হয়, আওয়ামী লীগ ঠিক কাজটিই করেছে।
সব দলের নেতাদের কথাই বলা হলো, বিএনপি বাদ থাকবে কেন? সংবিধান সংশোধনীতে বিএনপির নেতাদের নাখোশ হওয়ার কারণ বোঝা যায় না। ধারণা করেছিলাম, সংশোধনী পাস হওয়ার পর নয়াপল্টন, গুলশান ও লন্ডনে বিজয় মিছিল বের হবে। তাদের নেতার উপহার দেওয়া উপাদানগুলোর প্রায় সবই এই সংবিধানে অটুট রয়ে গেছে। এ তো তাদের বিরাট বিজয়।
তবে সংবিধান-অসংবিধান, সংশোধন-অসংশোধন কোনো ব্যাপার নয়। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়। সে জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ধারাটি নিয়েই তাদের দুশ্চিন্তা। ওই ধারাটি ছাড়া সংবিধানের আর কী যোগ-বিয়োগ হলো, তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। এমনও যদি হয় যে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে, কিন্তু তারপর বেগম জিয়ার, মির্জা আলমগীরের বেডরুমে বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকবে—তাতেও তাদের আপত্তি নেই। এই সংশোধনীর ফলে জনগণের মৌলিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেনি তারা। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নে হরতাল ডেকেছে। সেই হরতাল আধা বেলা নয়—দুই দিন দুই রাত।
এই সংশোধনীতে জাতীয় পার্টি এতটাই পরিতৃপ্ত যে জেনারেল এরশাদ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে তাঁর দল এককভাবে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। এ জন্য ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরিও শুরু করা হবে।
এবারের সংশোধনীর ফলে যে সংবিধান রচিত হয়েছে, তাতে এরশাদ সাহেবের সাফল্য আকাশচুম্বী। তিনি যা যা করে গেছেন, তার সবই আছে এবং তিনি যেসব বদ জিনিস পছন্দ করেন না, তা বাদ গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কথাটি তাঁর কানে যাওয়া মাত্র তিনি ঘুমের মধ্যেও তড়াক করে লাফিয়ে ওঠেন। তাঁর কপালে পেরেক ঠুকেছিল যে জিনিস, তা যে উঠে গেছে, তাতেই তাঁর পরম শান্তি। হয়তো এই একটি কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি শেখ হাসিনাকে আর একটি নির্বাচনে সমর্থন দিতেও পারেন। কিন্তু যদি জনমত তাঁর ভাবির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে প্রথমে ‘একাই নির্বাচন করব’ বলে মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাবেন; তারপর দুই-তিন দিন এ-কথা সে-কথা বলে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করে বলবেন, ‘নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। সুতরাং চললাম পাঁচদলীয় জোট গঠনে।’
এই সংবিধান পেয়ে শুধু যে ধর্মওয়ালা রাজনীতিকদের সুবিধা, তা-ই নয়, ধর্মের বিরুদ্ধে যাঁরা জিহাদ ঘোষণা করতে চান, তাঁদেরও পোয়া বারো। নিজামী-আমিনীসহ বিভিন্ন চর এলাকার পীর সাহেবরা তাঁদের বিরুদ্ধে আট ঘণ্টা নয়, আমরণ অনশন করলেও কাজ হবে না।
ছত্রিশ বছর পর সমাজতন্ত্র ফিরে আসায় বামরা খুশি। তাঁদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, বিষ্যুদবার বিকেল থেকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। যেকোনো সময় সরকার কোনো ডায়িং কারখানা অথবা ঢাকা-বরিশালগামী দোতলা স্টিমার লঞ্চ রাষ্ট্রায়ত্ত করতে পারবে। বাম নেতাদের ভয় নেই, কারণ তাঁদের কোনো নেতা অ্যাঙ্গেলসের মতো কারখানার মালিক নন।
বিষ্যুদবার দুপুর দুইটা ৫০ মিনিটে সংসদে বিভক্তি ভোটে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। পক্ষে ২৯১ ভোট, বিপক্ষে মাত্র একটি। বাংলার ঘরে ঘরে টেলিভিশনে মানুষ দেখল, ধ্বনিত হচ্ছে: হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলো, হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলো, হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলো। কে জয়ী হলো, কে পরাজিত হলো, তা বাংলার মানুষ বুঝে ওঠার আগেই যা হওয়ার, তা-ই হয়ে গেল। তবে মাননীয় স্পিকার থেকে জানা গেল, ‘বরাবর রাতের বেলা সংবিধান সংশোধন পাস হয়েছে। এবারই হলো দিনের বেলায়।’ চতুর্থ সংশোধনী পাসের সময় আমি সংসদ গ্যালারিতে ছিলাম। ওটা দিনেই হয়েছিল। অবশ্য যা কিছু রাতে ঘটে, তার সবই খারাপ, তা বলা যাবে না। জীবনের বহু অপরিহার্য ও মধুর কাজ রাতেই হয়।
জীব, উদ্ভিদ, জড়জগৎসহ প্রত্যেক দেশের একটি ভূগোল আছে। খুব বড় বিপর্যয় ছাড়া তা অপরিবর্তনীয়। কিন্তু একটি রাষ্ট্র তার সংবিধান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানি এখন যেমন আছে, তা থাকবে না যদি আগামীকাল তাদের সংবিধান সংশোধন করে সৌদি আরবের মতো রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক দেশের সংবিধান একটি চটি বই বটে, কিন্তু তার ওজন এক মণের ওপর। সংবিধান কড়ি দিয়ে কিনলাম-এর মতো কোনো উপন্যাস নয়, শাহনামার মতো মহাকাব্য নয়, রবীন্দ্র-নজরুল রচনাবলিও নয়। এর প্রতিটি বাক্য অতি অর্থবহ। রাষ্ট্রীয় জীবনে তার সুষ্ঠু প্রয়োগ না করা সর্বোচ্চ মাত্রার রাষ্ট্রবিরোধিতা।
বিষ্যুদবার বিকেল থেকে বাংলাদেশ যে সংবিধান দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, তার চরিত্র অনেকটা সৌদি রাজতন্ত্রের, খানিকটা গাদ্দাফির লিবীয় সোশ্যালিস্ট জমহুরিয়ার, খানিকটা ফিদেল কাস্ত্রোর কিউবার, খানিকটা প্রয়াত কিম ইল সুঙ ও তাঁর ছেলের উত্তর কোরিয়ার, আর খানিকটা নরোদম সিহানুকের কাম্পুচিয়ার। কিন্তু যে তিন রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যাবে, তা হলো কারজাইয়ের আফগানিস্তান, মালিকির ইরাক ও জারদারির পাকিস্তান। অন্যদিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মিল নেই ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে।
বর্তমান সংবিধানটি আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে—একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটি ছাড়া।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।                             

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More