Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label Funny. Show all posts
Showing posts with label Funny. Show all posts

Tuesday, July 26, 2011

সরকারের কাছে আর কিছু চান না এরশাদ

মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি আগামী সংসদ নির্বাচন এককভাবে করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবার জোট-মহাজোটের রাজনীতি চালু থাকলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটেই থাকতে চান দলটির প্রধান সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ। তবে রাজনৈতিক সতর্কতা হিসেবে জাতীয় পার্টি এখন আর সরকারের কাছ থেকে মন্ত্রিত্ব বা অন্য কোনো সুবিধা নিতে চায় না।
জাতীয় পার্টির একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, এক বছর আগেও জাতীয় পার্টি থেকে আরেকজনকে মন্ত্রী করার জন্য অনুরোধ করে এইচ এম এরশাদ চিঠি লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। কিন্তু এখন সরকার থেকে দেওয়া মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন তিনি। এটি জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানের একটি বড় ধরনের পরিবর্তন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে জাতীয় পার্টি তার এ অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলকে। সূত্র জানায়, বৈঠকে এরশাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মহাজোটের অন্যতম শরিক হলেও জাতীয় পার্টিকে তেমন কিছু দেওয়া হয়নি। এতে জাতীয় পার্টির প্রতি ‘সাধারণ মানুষের এ ধরনের সহানুভূতি’ সৃষ্টি হয়েছে। এই সহানুভূতিকে এখন অন্য কিছু পাওয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন এরশাদ।
এইচ এম এরশাদের বারিধারার বাসভবনে গত ২১ জুলাই যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। তাঁরা মহাজোটকে শক্তিশালী করতে সরকারের জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তাঁরা ওই আলোচনা করছেন বলে এরশাদকে জানান।
বৈঠক সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টিকে মহাজোট সরকারে আরও এক থেকে দুটি মন্ত্রীর পদ দেওয়া ছাড়াও এরশাদকে একটি সম্মানজনক অবস্থান দেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমান মহাজোট সরকারে জাতীয় পার্টির মন্ত্রী রয়েছে একজন। এরশাদের অনুজ জি এম কাদের, তিনি বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। সংসদে জাতীয় পার্টির আসন সংখ্যা ২৯।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে জাতীয় পার্টি বর্তমান সরকারে আর কোনো মন্ত্রিত্ব বা অন্য কোনো কিছু নিতে চায় না। কারণ, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিতে চায়। এরশাদ বলেন, ‘দেশের যেখানেই যাই, মানুষ বলে, আগামী নির্বাচন যেন জাতীয় পার্টি এককভাবে করে।’
বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি জোটবদ্ধ রাজনীতি করলে মহাজোটেই থাকবে। বের হলে এককভাবে নির্বাচন করবে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির সামনে বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বিএনপির সঙ্গে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সরকার কিছু ভালো কাজ করলেও তার জনপ্রিয়তা কমছে। তার মানে এই নয় যে, বিএনপির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বিকল্প হিসেবে মানুষ এখন জাতীয় পার্টির কথা ভাবে বলে দাবি করেন এরশাদ।
এরশাদের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহাজোটকে আরও সক্রিয় করতেই ওই বৈঠক হয়েছিল। এরশাদ সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি মহাজোটেই থাকবেন। তবে এর জন্য তিনি তাঁর দল থেকে নতুন করে কোনো মন্ত্রীর পদ বা অন্য কিছু নিতে চান না।’
এরশাদের একক নির্বাচনের পরিকল্পনা সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জোটে থাকলে তিনি মহাজোটেই থাকবেন। নইলে একক নির্বাচন করবেন—এ কথা তিনি আমাদের বলেছেন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ পরবর্তী নির্বাচন নয়, পরবর্তী প্রজন্মের কথা চিন্তা করে কাজ করছে। সে কারণে দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ অভিন্ন কিছু ইস্যু নিয়ে সব দল-মতের মানুষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ৬০টি জেলায় দলের কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। অধিকাংশ উপজেলায়ও কমিটি গঠনের কাজ শেষ করেছে তারা। ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীর তালিকা প্রণয়নের প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান দলের একাধিক নেতা।
জাতীয় পার্টির এই নেতাদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। আর ওই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে অংশ নিয়ে বিরোধী দল হোক, এটা আওয়ামী লীগও চাইবে। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় জাতীয় পার্টি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তাতে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নিজস্ব ভোটের পাশাপাশি অনেক ‘নেগেটিভ ভোট’ও পাবে। আর বিএনপি অংশ না নিলেও জাতীয়তাবাদী ওই অংশের ভোটও জাতীয় পার্টির বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। এসব ঘটলে ভোটের ফলাফল অনেক কিছুই বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টির এ নেতারা।

Friday, July 15, 2011

ভালো মানুষের তালিকায় জামায়াতের নেতারা থাকবেন

জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির এ কে এম নাজির আহমদ বলেছেন, দেশে ১০০ জন ভালো মানুষের তালিকা করা হলে সেখানে অবশ্যই জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নাম থাকবে।
আজ শুক্রবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এসব কথা বলেন। 
বেলা ১১টায় মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে 
শুরার অধিবেশন শুরু হয়। এতে ২২ জন নারী সদস্যসহ ২২২ জন অংশ নিয়েছেন। 
নাজির আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কেউ বিন্দু পরিমাণে জড়িত ছিলেন না। কল্পকাহিনি সাজিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে রাখা হয়েছে। এই নিরপরাধ মানুষগুলোকে মুক্তি দিয়ে কোটি কোটি মানুষকে শান্ত করতে সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবুল কালাম মো. ইউসুফ, মাওলানা আবদুস সোবহান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাক, শফিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Wednesday, July 13, 2011

ভিন্ন ধারার মার্কিন কূটনীতিক ক্রিস্টি কেনি

একজন সেনা প্রশিক্ষকের সহায়তায় থাই সামরিক হেলিকপ্টার থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে নামছেন ক্রিস্টি কেন
একজন সেনা প্রশিক্ষকের সহায়তায় থাই সামরিক হেলিকপ্টার থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে নামছেন ক্রিস্টি কেনি
এএফপি
কখন গলা ব্যথা করছে, কখন খেতে ইচ্ছা করছে লাচ্ছি, কখন ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ে ত্যক্তবিরক্ত—নিজের এসব ব্যক্তিগত খবর ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানছে তাঁর কথা। অথচ একজন কূটনীতিক সাধারণত এভাবে নিজেকে প্রকাশ করেন না। 
তিনি থাইল্যান্ডে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টি কেনি। কূটনীতিকেরা সাধারণত যে কেতাদুরস্ত ভাব নিয়ে রাখঢাকের ভেতর থাকেন, ক্রিস্টি তেমন নন। ৫৬ বছর বয়সী এই নারী কূটনীতিক বলেছেন, ‘কূটনীতি হচ্ছে সম্পর্কের উন্নয়ন। অবশ্য তা দুটি দেশের মধ্যে। এ ছাড়া দুই দেশের মানুষের মধ্যেও হূদ্যতা বাড়াবেন তাঁরা।’
কেনির প্রতিদিনের কাজের ব্যাপারে টুইটারের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার লোক খোঁজখবর রাখে। কেনি বলেন, ‘সাধারণ লোকজনের সঙ্গে এভাবেই আমার চেনাজানা হয়। এর মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে, একজন কূটনীতিককেও কাছে পাওয়া যায়। তারা বুঝতে পারে, একজন কূটনীতিক একটি বড় ভবনের মধ্যে আটকে থাকা কোনো ব্যক্তি নন।’ 
গত বছর আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস প্রকাশিত গোপন তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংককে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক জন এক তারবার্তায় থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। গত জানুয়ারিতে কেনিকে থাই রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্যাংককে পাঠায় ওয়াশিংটন। 
থাইল্যান্ডের মানুষের কাছাকাছি যেতে কেনি সে দেশের ভাষা শিখেছেন। থাই ভাষায় দারুণ পারদর্শিতার জন্য এক মাস আগে তাঁকে পুরস্কার দিয়েছে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, কেনি ইন্টারনেটের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি যেতে সে দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিও রপ্ত করছেন। কূটনীতির ক্ষেত্রে কেনির এই সামাজিক কর্মকাণ্ড ও যোগাযোগ কোনো উপকারে আসবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। এএফপি।

Tuesday, July 12, 2011

তারপর থাকে শুধু অন্ধকার

মহাজোট সরকার তার ক্ষমতারোহণের মাত্র আড়াই বছরের মাথায় উপর্যুপরি হরতাল ডেকে আনল কেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিষয়ক উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি, কাজেই সরকার চাইলেই সময় নিতে পারত, সংবিধানের যে সংশোধনী সরকার এখন করেছে, সেটা তারা আরও দুই বছর পরও করতে পারত। সে ক্ষেত্রে আজকের এই হরতাল-আন্দোলনের মুগুরাঘাত থেকে জনগণ অন্তত দুটো বছরের জন্য মুক্ত থাকত। এখন বিরোধীরা যে আন্দোলন শুরু করেছে, তা আগামী আড়াই বছর ধরেই চলবে বলে ধরে নেওয়া যায়। সরকারের এই তাড়াহুড়োর কারণ কী? বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো রকমের সমঝোতার চেষ্টা না করে, জনগণকেও প্রস্তুত না করে হঠাৎ সংসদের বাজেট অধিবেশনেই কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হলো?
নীতিনির্ধারকদের মুখের কথা আমরা জানি, যেহেতু মহামান্য আদালত বলেই দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ, কাজেই অবৈধ জিনিসকে আর বয়ে বেড়ানো কেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুযোগে সংবিধানবহির্ভূত শক্তি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে, ১১ জানুয়ারির তত্ত্বাবধায়ক সরকার বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনকেই কারাবাসের অভিজ্ঞতা দিয়েছে এবং ব্যবসায়ীরাও ওই আমলে ভুগেছেন সবচেয়ে বেশি, কাজেই ওই ফাঁকটা যত তাড়াতাড়ি পারা যায়, পূরণ করে দেওয়াই মঙ্গলজনক। এসব কথা আমরা এরই মধ্যে শুনে ফেলেছি। কিন্তু এর বাইরে আর কী কারণ থাকতে পারে যে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দিনবদলের সরকার জনগণের দৈনন্দিন সুখ-দুঃখবিষয়ক সমস্যাগুলোর চেয়ে আড়াই বছর পরের বিষয়টাকে এই মুহূর্তের যন্ত্রণা হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিল?
এর কারণ আমরা খুঁজে দেখতে পারি। সে জন্য আমাদের ঘটনাবলির বিশ্লেষণে যেতে হবে। ১. ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ও প্রশাসনের উচ্চমহলের কেউ কেউ জড়িত, সর্বশেষ অভিযোগপত্রে সেটা প্রতিফলিত। ফখরুদ্দীন আহমদ সরকারের আমলে দেওয়া চার্জশিটেও জজ মিয়া নাটককে একেবারেই প্রহসন হিসেবে উন্মোচিত করা হয় এবং বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের কারও কারও যোগাযোগের কথা চলে আসে। এখন শেখ হাসিনা যদি বিশ্বাস করেন, বিএনপি কেবল তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, তারা এমনই শত্রু যে তাঁকে শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার জন্য বোমা হামলা পর্যন্ত করতে পারে, তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে কি সম্ভব বিএনপির সঙ্গে কোনো রকমের সমঝোতার চেষ্টা করা? ২. শেখ হাসিনা এ কথা একাধিকবার বলেছেন যে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন কেবল লুটপাট হয়; আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ কিছু পায়। লক্ষণ দেখে মনে হয়, তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের ভালোর জন্য আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। এবং হয়তো তিনি এই রকমও ভেবে থাকতে পারেন, জনগণ সব সময় আওয়ামী লীগকেই ভোট দেয়, কিন্তু দেশি-বিদেশি চক্রান্তের কারণে সব সময় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে না। কাজেই তিনি সেই চক্রান্ত চিরকালের জন্য নস্যাৎ করতে চান।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের পরবর্তীকালে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করতে নিরীহ মানুষকে স্কেপগোট করার যে কাহিনি এই প্রথম আলোতেই আমরা পড়েছি, তাতে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একই টেবিলে বসার মতো পরিস্থিতি শেখ হাসিনার আছে বলে আর মনে হয় না। এ অবস্থায় বিএনপি নামের প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্বল করা, অকার্যকর করা, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তৃতীয় কোনো শক্তিকে দাঁড় করানোর চিন্তা আওয়ামী লীগ বা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে থাকতে পারে। সেই চিন্তা কার্যকর করার একটা উপায় হলো, বিএনপিকে আগামী সাধারণ নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা। সেই লক্ষ্যেই সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকলে বিএনপি এবং সম্ভবত জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে যাবে না। আওয়ামী লীগ কি তা-ই চায় যে বিএনপি আগামী নির্বাচনের বাইরে থাকুক? প্রশ্ন হলো, তাহলে কি সেই নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পাবে? বিএনপি ও তার মিত্ররা কি রাজপথে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবে না? ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো সেটা একতরফা। সুতরাং অগ্রহণযোগ্য, ভঙ্গুর সরকারের জন্ম দেবে না? এই সওয়ালের মীমাংসার জন্যই সম্ভবত সরকার তাড়াহুড়ো করে এখনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান তুলে দিয়েছে। এখনকার সরকার তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বৈধ সরকার। তার কবজিতে জোর আছে, বুকে হিম্মত আছে। কাজেই এখন বিরোধী দলের আন্দোলনকে সে শক্তিমত্তার সঙ্গে দমন করতে পারবে। আগামী আড়াই বছর ধরে ক্রমাগত আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারবে বিএনপি, এই বিষয়ে নিশ্চয়ই সরকারি নীতিনির্ধারকদের সন্দেহ আছে। আন্দোলন যাতে দানা বাঁধতে না পারে, সে জন্য তারা কঠোর দমননীতির আশ্রয় যে নিয়েছে, টেলিভিশনের পর্দায় হরতালকারীদের ওপর পুলিশের লাঠ্যৌষধি প্রয়োগের নমুনা দেখেই তা প্রতীয়মান। বাংলাদেশে হরতাল করে কোনো বৈধ নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা যায়নি, আওয়ামী লীগ পারেনি বিএনপি সরকারকে উৎখাত করতে, বিএনপিও পারবে না আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে। এই আড়াই বছরে তাদের আন্দোলন যদি ব্যর্থ হয়, পরবর্তীকালে নির্বাচন বর্জন করার পরে যখন সংসদেও তাদের কোনো আসন থাকবে না, তখন তারা আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে পড়বে বলে হয়তো সরকারি নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন। এবং এর মধ্য দিয়ে হয়তো তাঁরা তৃতীয় কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে দেশের দ্বিতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস পাবেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা না থাকায় মহাজোট সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে না। ফলে ইয়াজউদ্দিন সরকারের মতো দুর্বল অন্তর্বর্তী সরকার আসবে না। ২০০৬ সালে লগি-বৈঠা আন্দোলনের সময় বিএনপির সামনে দিন কমে আসছিল, তারা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য দিন গুনছিল, কার হাতে ক্ষমতা দেবে, এটা ছিল তাদের মাথাব্যথা। ২০১৪ সালে মহাজোট সরকারের সামনে সেই দুশ্চিন্তা থাকবে না। তারা কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করে বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন সমাধা করে ফেলবে।
২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে-পরে আন্দোলন সহ্য করার চেয়ে এ মুহূর্তে বৈধ ও শক্তিশালী মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে আপাতত দুর্বল হতশক্তি বিএনপিকে আন্দোলনে নামিয়ে দিয়ে তার শক্তিক্ষয় ও বিনাশই হয়তো আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য।
এর বাইরে আর দুটো কারণ থাকতে পারে। সরকার যখন ভারতের সঙ্গে কোনো লেনদেন বা চুক্তিতে যায়, তখন বিএনপি তথা বিরোধী দলকে অন্য কোনো ইস্যুতে ব্যতিব্যস্ত রাখে। বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ কিংবা ঢাকা বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের পেছনেও উদ্দেশ্য ছিল কুমিরকে বোকা বানানো, কুমির যাতে পা বাদ দিয়ে শেয়ালের লাঠিটাকে কামড়ে ধরে। হয়তো সরকার শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে কোনো সমঝোতায় যাবে, কিন্তু তার আগে তাকে একটু ব্যস্ত রাখল। অন্তত তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান কে হবেন, এ নিয়ে যেন বিরোধীরা কথা বলার সুযোগ না পায়, সেই পরিস্থিতি তৈরি করল।
এতক্ষণ আমরা যা আলোচনা করলাম, তার সবই অনুমান; এ মুহূর্তে আন্দোলন-হরতাল ডেকে আনার সরকারি উদ্যোগের কারণ বিশ্লেষণের চেষ্টা। আমাদের অনুমান সঠিক হতে পারে, নাও হতে পারে। কিন্তু যে বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই, তা হলো, আগামী আড়াইটা বছর আমাদের এই রকম হরতাল-আন্দোলন-বিক্ষোভ দেখে যেতে হবে। রাজপথে পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হবেন বিরোধী দলের প্রধান হুইপ। হরতালের আগের দিন অনেক গাড়ি পোড়ানো হবে। ট্রাকে আগুন দেওয়া হবে মাত্র ১০০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, আর সর্বশরীরে পোড়া ক্ষত নিয়ে বার্ন ইউনিটে কাতরাবেন কোনো নিরীহ শ্রমিক। আম পচবে, তরিতরকারি পচবে ট্রাকে ট্রাকে। দোকানপাট বন্ধ থাকায় অপূরণীয় ক্ষতি হবে দোকানমালিকের, কর্মচারীর, অর্থনীতির। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। গোলযোগের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হবে বাংলাদেশ। আর সত্যি সত্যি যদি সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় না আসে, এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন যদি একপক্ষীয় হয়, তাহলে এক মাঘে শীত যাবে না। আন্দোলন, সংগ্রাম, হরতাল চলবেই। সেই ভবিষ্যৎটা ভাবতেই শরীর শিউরে উঠছে, চোখেমুখে অন্ধকার দেখছি।
অথচ সরকার কিন্তু সুশাসন দিয়ে দেশটাকে উন্নতির দিকে নিয়ে গিয়ে জনগণের মন জয় করেই মানুষের কাছে ভোটপ্রার্থী হতে পারত। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। যানজট সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসক্ষেত্রের ব্যাপারে অন্তত একটা সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে। শুধু দলীয়করণ আর দুর্নীতি, ছাত্রলীগ, যুবলীগের কর্মীদের বাড়াবাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সরকার হতে পারত আমাদের ইতিহাসের সফলতম সরকার। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে রাজপথকে শান্ত রাখা গেলে অর্থনীতির চাকা সামনের দিকে এগোতে বাধ্য। শেয়ার মার্কেটের বিপর্যয় সামলে নিতে পদক্ষেপ জরুরি ছিল। কিন্তু সরকার সুশাসনের দিকে জোর না দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করার পেছনে শক্তি ব্যয় করছে বেশি। এর পরিণতি কী হবে, তা আমরা কেউ জানি না। আমাদের দেশের নিয়ম হলো, রাজপথে প্রথম দিকে লোক থাকে না, আন্দোলন চলতে থাকলে আস্তে আস্তে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। আর আন্দোলন দমানোর জন্য সরকার যত কঠোর হয়, তার জনপ্রিয়তা তত কমতে থাকে এবং সরকারও ক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সরকার একটার পর একটা দমনমূলক পদক্ষেপ নেয়, আর তার জনপ্রিয়তায় একটার পর একটা ধস নামে। তখন কেবল বিরোধী রাজনৈতিক দল নয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পেশাজীবী সমাজের স্বাধীন মত ও সমাবেশের ওপরও সরকার চড়াও হয়। সেটা কেবল রুদ্ধশ্বাস অগণতান্ত্রিক পরিবেশই তৈরি করে। তা থেকে উত্তরণের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তখন আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য হয়।
আমরা ইতিহাসের এই পুনরাবৃত্তি চাই না। দিনবদলের কথা বলে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সত্যিকারের দিনবদল চাই। যেসব কথা রূপকল্প ২০২১-এ লেখা আছে, তার বাস্তবায়ন চাই। দলীয়করণ চাই না। নির্মম পুলিশি রাষ্ট্র চাই না। আমাদের নেতারা দলের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের নেতা হয়ে উঠুন, হয়ে উঠুন রাষ্ট্রনায়ক, আমরা কায়মনোবাক্যে সেই প্রার্থনা করি সর্বদা। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। আমাদের ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠে অন্ধকার, নিকষ কালো নিশ্ছিদ্র অন্ধকার।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
 প্রথম আলো

অবৈধভাবে সরকারি গাছ কাটলেন আ.লীগ নেতা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা সদরের কামারগ্রামে ইজারা নেওয়া অর্পিত সম্পত্তি থেকে গত রোববার অবৈধভাবে ১৫টি সরকারি গাছ কাটা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে গাছগুলো কাটা হয়েছে।
বোয়ালমারী সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বন্দোবস্ত নেওয়া অর্পিত সম্পত্তি থেকে গাছ কাটার কোনো নিয়ম নেই। ওই সম্পত্তি থেকে কীভাবে গাছ কাটা হচ্ছে, তা আমার অজানা।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কামারগ্রাম মৌজার এসএ ৮৮৪, ৪২৪, ৯৬৩ ও ৯৬৮ নম্বর খতিয়ানের এসএ ৮৩৭, ৮৩৮, ৮৩৯, ৮৪০ নম্বর দাগের মোট ৫৭ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ শ্যামল কুমার সাহার নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। আশির দশক থেকে জমিটি উপজেলা কৃষি বিভাগের অধীনে নার্সারি প্রকল্পের আওতায় ব্যবহূত হয়ে আসছিল। তৎকালীন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (বর্তমানে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ) রফিকুল হাসান বলেন, ‘ওই জমিতে কৃষি বিভাগের অবকাঠামো ও নার্সারি প্রকল্পের আওতায় লাগানো বিভিন্ন ফলবান গাছ রয়েছে। গত বছরের গোড়ার দিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় আমার আপত্তি উপেক্ষা করে জমিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’
শ্যামল কুমার সাহা বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেনের প্রতিষ্ঠিত একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের (নিউ মডেল প্রি-ক্যাডেট সুু্কুল) জন্য জমিটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। আমি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি। কাগজ-কলমে জমিটি আমার নামে বন্দোবস্ত দেখানো হয়েছে মাত্র। কিন্তু ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণসহ সবকিছুই তদারকি করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।’ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে জমি থেকে গাছ কাটার কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে অন্ধকারে রেখে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাছগুলো কেটেছেন। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’
নিউ মডেল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, গত রোববার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির নির্দেশে ওই জমি থেকে নয়টি ফলবান নারকেলগাছ ছাড়াও ছোট ছোট কয়েকটি ফলের গাছ কাটা হয়েছে।
উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, গত ৮ মে ওই জমিতে বিদ্যালয়ের জন্য একটি অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ এবং চার-পাঁচটি মরা নারকেলগাছ ও কয়েকটি ফলের গাছ কাটার জন্য ইজারাগ্রহীতা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে সরেজমিনে ওই জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা, ৪০টি ফলবান নারকেলগাছ, ১৩টি আমগাছ, দুটি মেহগনিগাছ, একটি কাঁঠালগাছ ও একটি পোয়াগাছ দেখা গেছে। তবে ওই জমিতে কোনো মরা গাছ নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাব্বির ইকবাল বলেন, ‘ইজারা দেওয়া অর্পিত সম্পত্তি থেকে গাছ কাটা এবং অন্য কোনোভাবে ভূমির কাঠামো পরিবর্তন হলে ইজারা বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে ওই জমি থেকে গাছ কাটা হচ্ছে—এ খবর আমার জানা নেই। আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্কুলের ভবন নির্মাণের সুবিধার্থে আমার নির্দেশে গাছগুলো কাটা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে কোনো অনুমতি না নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হলে আমরা নতুন করে গাছ লাগিয়ে দেব।’

Sunday, July 10, 2011

পাকিস্তানের পতাকা, সরকারবিরোধী প্রচারপত্রসহ আটক ৭

পুরান ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানের পতাকা, সরকারিনীতির বিরুদ্ধে প্রচারপত্র, ধর্মীয় বই, জামায়াতের নেতাদের মুক্তির পোস্টারসহ সাত শিক্ষককে আটক করেছে। আজ শনিবার এ ঘটনা ঘটে।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী, ইসমাইল হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, মো. ওবায়দুল্লাহ ও রুস্তম আলী।
কোতোয়ালি থানা জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ১০টার পর পুলিশ ২৭/১ সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেনের ঢাকা মডেল প্রি ক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুলে অভিযান চালায়। পুলিশ ওই স্কুলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে পাকিস্তানের পতাকা, সরকারিনীতির বিরুদ্ধে প্রচারপত্র, সিডি, ক্যাসেট ও হরতালের সমর্থনে ছাপানো পোস্টারসহ বিভিন্ন সরকার বিরোধী বিপুল লিফলেট জব্দ করে।
কোতোয়ালি থানার ওসি সালাউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল চারটার দিকে পুলিশ অভিযান শেষ করে। তিনি বলেন, আটক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ৭২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। অন্যরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তাঁরা আওলাদ হোসেন লেনে ওই বাড়িটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা স্কুলের জন্য ভাড়া নিয়েছিল। কিন্তু সেখানে তারা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। তারা দেশের পতাকা চেয়ার, বেঞ্চ ও টেবিল মোছার কাজে ব্যবহার করত। পুলিশ এদের বিরুদ্ধে মামলা করবে বলে তিনি জানান।

ঈমান রক্ষার জন্য হরতাল পালন করুন

রবি, ১০ জুলাই ২০১১, ২৬ আষাঢ় ১৪১৮

জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের মুফতিদের বিবৃতি
সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস মুছে ফেলে মুসলমানদের ঈমান বিনষ্ট করে উল্লেখ করে ঈমান রক্ষার তাগিদে সকল তৌহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে হরতাল পালনের মাধ্যমে মুসলমানদের ঈমান ফিরিয়ে আনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের মুফতিগণ।
গতকাল এক বিবৃতিতে মুফতিগণ বলেন, ১০ ও ১১ তারিখের হরতাল নিছক দ্বীন হেফাজতের জন্য। দুনিয়াবী কোন স্বার্থ হাসিলের হরতাল নয়, এটা সকলের ঈমান রক্ষার হরতাল, আর এই হরতাল বাস্তবায়ন করা সকল মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব বাস্তবায়নে অবহেলা করলে ঈমান রক্ষা করা যাবে না। তাই ইসলাম ও সমমনা ১২ দলের আহূত হরতালে সকল শক্তি ব্যয় করে দেশের সংবিধানে পুনরায় আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য আলেম, উলামা, পীর, মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতাসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন: প্রফেসর ড. মুফতি মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানী, ড. ইয়াহইয়ার রহমান, মুফতি মাওলানা নূর হুসাইন আল কাশেমী, মুফতি ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মুফতি মাওলানা আবুল বাশার, মুফতি মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ, অধ্যাপক মুফতি মাওলানা আ.ন.ম. রফীকুর রহমান মাদানী, মুফতি ড. সিকান্দার আলী মাদানী, মুফতি ড. তরিকুল ইসলাম মাদানী, মুফতি মাওলানা লুত্ফর রহমান আল মাদানী, মুফতি মাওলানা নূরুল্লাহ আল মাদানী, মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ আল মাদানী, ড. মুফতি নিজামুদ্দীন, মুফতি আবুল কালাম পাটোয়ারী, ড. মুফতি মাওঃ আবু ইউসুফ খান, মুফতি ড. মানজুর-ই-ইলাহী আল মাদানী, প্রফেসর মুফতি ড. আবুল কালাম আযাদ আল মাদানী (লন্ডন), প্রফেসর মুফতি আবদুর রহমান মাদানী, ড. মুফতি মাওলানা আবদুস সালাম মাদানী, প্রফেসর মুফতি ড. মাওলানা সাইফুল্লাহ মাদানী, প্রফেসর মুফতি মাওলানা জুনায়েদ মাদানী, প্রফেসর মাওলানা মুফতি ইসহাক মাদানী, হাফেজ মুফতি মাওলানা আব্দুর রহমান।

Thursday, July 7, 2011

জয়-জিন্দাবাদ ঝগড়াপুরী রাজনীতি!



    1 2
    ঝগড়াপুরে রাজনৈতিক সাঁকো: রাজধানীতে যখন দুই দলের বিবাদ চরমে ওঠে, তখন কুষ্টিয়ার এক গহিন গ্রামে নদীর ওপর পাশাপাশি নির্মিত হয় দুটো দলীয় সাঁকো। ‘মহাজোটের সাঁকো’ বনাম ‘ঐক্যজোটের সাঁকো’। এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, এমন রাজনৈতিক সাঁকোও দুনিয়ায় আর আছে কি না সন্দেহ। গ্রামবাসীর হয়েছে মহা জ্বালা। বাজারটা নদীর ওপারে, সাঁকো দুটি ছাড়া তাঁদের আর নদী-পারানির উপায় নেই। মৃত্তিকাপাড়া গ্রামের সব মানুষ, এমনকি শিশু, এমনকি বোধবুদ্ধিহীন প্রতিবন্ধী, এমনকি গরু-ছাগল-ভেড়া-কুকুর-হাঁস-মুরগিসহ পায়ে হাঁটা সব প্রাণীকেই সাঁকো দুটির একটিতে উঠতেই হবে। আর ওঠা মানেই গায়ে দলের সিল পড়ে যাওয়া। রাজনৈতিক সাঁকোর কল্যাণে সেই গ্রামের সবকিছুই এখন অতিমাত্রায় ‘রাজনৈতিক’!
    সাঁকো দুটি তৈরির ইতিহাসটাও নির্মল নয়। সদ্য শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী পরাজিত হন। পরাজয়ের শোধ নিতে তিনি লোকজন দিয়ে গ্রামের বাঁশঝাড় উজাড় করে প্রথম সাঁকোটি বানান এবং ঘোষণা দেন, এ দিয়ে কেবল মহাজোটের সমর্থকেরাই পার হবে। অন্যপক্ষই বা কম কিসে। ঝাড়ে আরও কিছু বাঁশ সম্ভবত অবশিষ্ট ছিল। সেগুলো সাবাড় করে মহাজোটের সাঁকোর পাশেই তৈরি হলো ঐক্যজোটের সাঁকো। যথারীতি এই সাঁকোয় মহাজোটের সমর্থকদের ওঠা বারণ। ঝগড়ার সাঁকো এভাবে মানুষে মানুষে সম্পর্কের সাঁকোটা ভেঙে দিল। জয় ঝগড়াতন্ত্র!
    গ্রামটিতে মানুষসহ কিছু দোপেয়ে ও চারপেয়ে প্রাণীও আছে, যারা ‘জোটনিরপেক্ষ’। এখন তাদের কী উপায়? আগে গ্রামের মানুষ এজমালিভাবে নিজেদের দরকারের রাস্তাঘাট-সাঁকো বা মসজিদ-বিদ্যালয় বানিয়ে নিতে পারত। দলবাজির চাপে সেসব সামাজিক উদ্যোগের বেলা শেষ। এই অবস্থায় কে বানাবে দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়কি সাঁকো? সাঁতরানোই কি তাঁদের বিকল্প? মুশকিল হলো, কচুরিপানায় ভরা কালীনদীতে সাঁতরানো অসম্ভব। আর সাঁকো ছাড়লেও, দলবাজেরা তো আপনাকে ছাড়বে না। দুই নৌকায় মতো দুই সাঁকোতে পা রাখাও বিপদের। মৃত্তিকাপাড়ায়, না চাইলেও আপনাকে মহাজোট বা ঐক্যজোট করতেই হবে। দলতন্ত্র জিন্দাবাদ!
    অভিনন্দন মৃত্তিকাপাড়ার জোটনেতাদের। নদীটাকে কচুরিমুক্ত করা বা একটা ভালো স্কুল বানানোর প্রতিযোগিতা করতে পারেননি আপনারা। আপনাদের প্রতিযোগিতা কেবল মন্দের। তা-ই যদি, তাহলে গ্রামের নামটিও বদলে ফেলুন। ঝগড়া-সংস্কৃতিকে অক্ষয় করতে নাম রাখুন ঝগড়াপুর। দুঃখিত, মৃত্তিকাপাড়ার সাধারণ মানুষ। ঝগড়া শিখুন, সাঁকোর পর সাঁকো বানান, গ্রামের বাঁশ-কাঠ নিঃশেষ করে চলুন। জার্মান দার্শনিক হেগেল বলেছিলেন, জনগণ যেমন, তেমন নেতাই তারা পায়। তাই আমরা না বদলালে রাজনীতিটা বদলাবে কী করে? একটা মানবিক রাজনৈতিক সাঁকো তাই দরকার।
    ঝগড়াপুরের গণতন্ত্র: মৃত্তিকাপাড়া গ্রামের এ গল্পই এখন জাতীয় গল্প। দেশময় এ রকম দুটি সাঁকোর বাইরে চলাচলের উপায় নেই। একদা বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, শিশু ও পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। জবাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, নিরপেক্ষ কেউ না কেউ আছে নিশ্চয়। কারও কথাই ফেলনা ছিল না। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের আড়াই বছরের মাথায় যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, তখন মনে হচ্ছে, তথাকথিত ‘নিরপেক্ষতার’ দিনও বুঝি শেষ। সত্যিকার নিরপেক্ষতা যেন রাজনৈতিক অপরাধ। ঝগড়াপুরী গণতন্ত্রে দ্বিদলীয় ঝগড়ার কোনো না কোনো পক্ষে আপনাকে যেতেই হবে। আর দেশটাকে, সমাজটাকে, জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে, ব্যবসা-বাণিজ্য-সংস্কৃতিসহ সবকিছুকেই ভাগ করে ফেলতে হবে। বানাতে হবে যার যার নিজস্ব ক্ষমতার সাঁকো। আওয়ামী বা বিএনপির সাঁকোয় দেশ ভরে যাবে, কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার সাঁকো পারাপার হয়ে পড়বে কঠিন।
    মোগল রাজপণ্ডিত আবুল ফজল বাংলা অঞ্চলের নাম দিয়েছিলেন ‘বুলঘাখানা’ বা ‘চির-অশান্তির দেশ’। আমাদের ভাষায়সেটাই ঝগড়াপুর। এই অবস্থায় জাতীয় স্বার্থের খোঁজ থাকে না, রাষ্ট্রের বিকাশ, অর্থনীতির সমৃদ্ধি, নাগরিক অধিকার, জনকল্যাণ—সবকিছুই ক্ষমতা ও দখলকেন্দ্রিক দ্বিদলীয় রাজনীতির দোনলা বন্দুকের সামনে বিপন্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এদের বাইরে দেশের বা মানুষের পক্ষ নিতে চাওয়া বা থাকতে চাওয়া দলীয় সংস্কৃতির বাইরে, অতি কঠিন। জয় ঝগড়াপুরীয় গণতন্ত্র!
    পরের ধনে পোদ্দারি: প্রায় একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়। গত ১৭ এপ্রিলের প্রথম আলোর একটি শিরোনাম ‘মামলায় মামলায় দুজনই ফতুর’। এক খণ্ড জমি নিয়ে ২০ বছর ধরে মামলাযুদ্ধ চালাচ্ছেন সত্তরোর্ধ্ব বয়সের দুই প্রতিবেশী। ২০ বছর আগের তিন হাজার টাকার জমির বিবাদে এ পর্যন্ত তাঁদের খরচ ৪৫ লাখ টাকা। দুজনই প্রায় নিঃস্ব; উভয়েউভয়কে জেলের ভাত খাইয়েছেন, এটাই তাঁদের গর্ব। আমৃত্যু এই ঝগড়া চালিয়ে যাওয়ার কঠিন প্রতিজ্ঞা তাঁদের। পড়শিরা বিমুখ, ছেলেমেয়েরাও চরম নাখোশ। কিন্তু যে সম্পত্তির জন্য জানবাজি তাঁদের, তার আদি মালিক কি তাঁরা? খাগড়াছড়ির ওই প্রত্যন্ত এলাকার সব জমি তো আগে পাহাড়িদেরই ছিল। সুতরাং দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানোই যায়। দুই বৃদ্ধ আমাদের দুই রাজনৈতিক ধারার প্রতীক। ক্ষমতার বিবাদে তাঁরা পরস্পরকে নিঃশেষ করতে চাইবেন, এমনকি নিজের পায়েও কুড়াল মারবেন, তবু কেউ কাউকে স্বীকার করবেন না। এই আত্মঘাতী সংঘাতে জনগণেরও ছাড়ান নাই। ক্ষমতার উৎস নাকি জনগণ, তাদের নামেই করা হয় সবকিছু। কিন্তু জনগণ আসলেই কি কিছু পায়? দিনের শেষে নেতাদের হাতে কিছু থাকে, কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রাত কাটায়। পরের ধনে পোদ্দারি জিন্দাবাদ!
    অন্ধদের স্কুল কখন ছুটি হবে?: সাহিত্যিক সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের একটি গল্প আমাদের সঙ্গে মেলে: শীতের বিকেল। এক বিড়াল পেটপূর্তির পরে ফুটপাতে চোখ বুজে ওম নিচ্ছিল। কোথা থেকে তাড়া খাওয়া এক ইঁদুর এসে তাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জাগাল। তার কথা শুনে বিড়ালের তো আক্কেল গুড়ুম। পুঁচকে ইঁদুর বলে কিনা ‘ও বিড়াল, আমাকে খাও’। বিড়ালের পেটে আর জায়গা নেই, ক্ষুধা লাগতেও দেরি আছে। তা ছাড়া রোদ পোহাতেই তার ভালো লাগছে এখন। কিন্তু ইঁদুরও নাছোড়বান্দা, বিড়ালের পেটে সে যাবেই যাবে। অনেক টানাটানির পর অবশেষে একটা রফা হলো। বিড়ালটা আপাতত ঝিমাবে, তবে মুখটা খোলা থাকবে। আর ইঁদুরটা নিজের মাথা দিয়ে রাখবে তার সেই খোলা মুখে। তারপর, ওই যে অন্ধ শিশুদের স্কুল দেখা যায়, সেখানে ছুটির ঘণ্টা বাজবে। তা শুনে অন্ধ ছেলেমেয়েরা এলোমেলো পায়ে এই পথ দিয়েই তো যাবে। তাদের কেউ না কেউ নিশ্চয়ই ফুটপাতে পেতে রাখা বিড়ালের লেজে পা দেবে। যদি দেয়, তাহলেই কেবল বিড়ালটা ইঁদুরের মাথাটা খপ করে খেয়ে ফেলবে। একটা সমাধান হলো ভেবে ইঁদুর খুশি, বিড়ালও খুশি। তারা অপেক্ষা করতে লাগল, কখন অন্ধদের স্কুল ছুটি হয়? কখন সেখানে পাগলা ঘণ্টা বাজে?
    ইঁদুরদের ভবিষ্যৎ: পাঠক, পুঁচকে ইঁদুর আমরা, রাজনীতির দাপুটে বিড়ালদের গ্রাসের মধ্যে মাথা দিয়ে বসে থাকা আর কত কাল? শুনেছি, ইঁদুরের উপদ্রবে কোনো এক শহর নাকি পরিত্যক্ত হয়েছিল। হয়তো একদিন আমরা ঝগড়াপুরকে বদলে ফেলব। এই নামটাও তখন পরিত্যক্ত হবে। তখন হয়তো মাটির দেশের প্রিয় গ্রামটাকে আবার ডাকতে পারব মৃত্তিকাপুর বলে। কালী নদীতে তখন থাকবে সব মানুষের একটাই মানবিক সাঁকো, নদীতেও তখন আর দুর্নীতির কচুরি জমতে পারবে না। অন্ধদের বিদ্যালয়েহঠাৎ পাগলা ঘণ্টাও তখন আর বাজবে না।
    ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
    farukwasif@yahoo.com

    Tuesday, July 5, 2011

    তারেক ২১ আগস্টের ঘটনার মূল নায়ক


    সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ২১ আগস্টের ঘটনার মূল নায়ক। হাওয়া ভবনে তাঁর সভাপতিত্বেই অন্য আসামিদের বৈঠক হয়। বিএনপি এখন তারেককে রক্ষার জন্য হরতাল ডেকেছে।
    ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ এসব কথা বলেন। তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো গণতান্ত্রিক দল খুনের বিচার বন্ধ করতে হরতাল ডাকতে পারে না। তাই আইনের শাসন চাইলে হরতাল প্রত্যাহার করুন।’
    ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল হাওয়া ভবন, আর এর কর্ণধার ছিলেন তারেক রহমান। সেখানেই শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসান-উল্লাহ মাস্টার হত্যা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের একত্রে হত্যা করা। আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও আইভি রহমানসহ ২৪ জন মারা যান। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যবস্থা তো করেইনি, বরং ফায়ার ব্রিগেড ডেকে এনে আলামত নষ্ট করেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ আক্রান্ত লোকজনের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে ও লাঠিপেটা করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে।
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দীর্ঘদিন তদন্তের পর পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। বিচারের এই প্রক্রিয়াকে বিএনপির স্বাগত জানানো উচিত ছিল। বিচারের পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে তাদের অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল। অথচ তারা বিচার-প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে হরতাল ডেকেছে। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
    সৈয়দ আশরাফ বলেন, অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সব হত্যার বিচার হয়। কেবল ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। এখানে হত্যার বিচার করতে বাধা দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালের আগে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরুই করা যায়নি। এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিচারের রায় কার্যকর হয়। নিহত লোকজনের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কি অস্বীকার করতে পারবে যে তাদের হত্যা করেনি? এ ঘটনা তাদের পরিকল্পনায় ঘটেনি? এমন জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিচার হতে হবে।
    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম হানিফ, নূহ-উল-আলম লেনিন, আহমদ হোসেন প্রমুখ।
    প্রথম আলো্                             

    পাশাপাশি দুটি রাজনৈতিক সাঁকো


    ‘মহাজোটের’ লোক ‘ঐক্যজোটে’ যাবে না। ঐক্যজোটের লোক মহাজোটে যাবে না। কারও পথ কেউ মাড়াবে না। অথচ সবাই একই গ্রামের মানুষ।
    কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের মৃত্তিকাপাড়া গ্রামের মানুষের জন্য এ বিভাজন তৈরি করেছেন দুই জোটের নেতা-কর্মীরা। গ্রামের পাশে যে কালী নদী, তার ওপর একই সঙ্গে পাশাশাশি দুটি সাঁকো তৈরি করেছে দুই পক্ষ। বাঁশের তৈরি সাঁকো দুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঐক্যজোট’ ও ‘মহাজোট’।
    গ্রামবাসী জানান, ক্ষমতাসীন মহাজোট ও বিরোধী চারদলীয় ঐক্যজোটের দুটি শক্ত পক্ষ আছে মৃত্তিকাপাড়া গ্রামে। মহাজোটের নেতৃত্বে আছেন মহাসিন আলী মাস্টার। ঐক্যজোটের নেতৃত্ব দেন গ্রামের নূর মোহাম্মদ। নানা বিষয়ে অনেক দিন ধরে এ দুই পক্ষে বিরোধ চলছে।
    এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ আরও বেড়ে যায়। উজানগ্রাম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যপদে মৃত্তিকাপাড়া গ্রাম থেকে নির্বাচন করেন নূর মোহাম্মদ নিজে এবং মহাসিন আলী পক্ষের লিয়াকত আলী। নির্বাচনে নূর মুহাম্মদ হেরে যান। সদস্য নির্বাচিত হন লিয়কত আলী।
    গ্রামবাসী জানান, গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কালী নদীর এক পাড়ে মৃত্তিকাপাড়া গ্রাম আর অপর পাড়ে কুশলীবাসা গ্রামের বাজার। কিন্তু পারাপারের জন্য নদীতে কোনো সেতু না থাকায় গ্রামবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর নূর মোহাম্মদ নিজের উদ্যোগে নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি শুরু করেন। তাঁরা প্রচার করেন, এই সেতু দিয়ে শুধু ঐক্যজোটের লোকজনই পারাপার হবে। এ কথা শোনার পর লিয়াকত আলীর সমর্থকেরাও পাশে আরেকটি সাঁকো তৈরি করতে শুরু করেন। তাঁরাও জানিয়ে দেন, শুধু মহাজোটের সমর্থকেরাই এই সেতু দিয়ে পারাপার হবে।
    গত রোববার সাঁকো দুটি তৈরি শেষ হয়। নাম দেওয়া হয়, মহাজোট সাঁকো ও ঐক্যজোট সাঁকো। সাঁকো তৈরি শেষে উভয় পক্ষ ওই দিন নদীর পাড়ে ছাগল জবাই করে ভূরিভোজ করে।
    গতকাল সোমবার মৃত্তিকাপাড়া গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর ওপর সাঁকো হওয়ায় তারা খুব খুশি। কিন্তু সঙ্গে একটু উদ্বেগও আছে। সেতু নিয়ে এই দলাদলি কখন না জানি আবার সংঘাতে রূপ নেয়।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নূর মোহাম্মদ আমাদের না বলে লোকজন দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করেছেন। ওই সাঁকো দিয়ে আমাদের লোকজন চলাচল করতে গেলে গন্ডগোল হতে পারে। এ জন্য আমরাও নিজেদের মতো করে আরেকটি সাঁকো তৈরি করেছি।’
    যোগাযোগের চেষ্টা করেও নূর মোহাম্মদকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর সমর্থক শাজাহান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলাকার লোকজনকে নিয়েই আমরা সাঁকোটি তৈরি করা শুরু করেছিলাম। কিন্তু কিছু লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে আরেকটি সাঁকো তৈরি করেছে। তারা নাকি আমাদের সাঁকো দিয়ে পারাপার হবে না।’

    Monday, July 4, 2011

    ছয় দিনের হরতাল ও ছুটির ফাঁদে দেশ

     তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে সারা দেশে ৬ ও ৭ জুলাই (বুধ ও বৃহস্পতিবার) ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। দল দুটির ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত এই হরতাল কর্মসূচি চলবে।
    বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের অন্যান্য শরিক বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং খেলাফত মজলিসও একই কর্মসূচি দিয়েছে। এ কারণে বুধবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত টানা ছয় দিন হরতাল আর ছুটির ফাঁদে পড়ছে দেশ। কারণ ৪৮ ঘণ্টার হরতালের পর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। আগামী রবি ও সোমবার টানা ৩০ ঘণ্টা দেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি এর আগেই ঘোষণা করেছে ধর্মভিত্তিক ও সমমনা ১২টি সংগঠন।
    চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী গতকাল রোববার দুপুর সোয়া ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে এই হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর এক ঘণ্টা পর বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে একই কর্মসূচি দেয়।
    হরতাল ডাকার কারণ হিসেবে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্তি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সংকটের কথা উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে জামায়াত বলেছে, সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল; দলের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে তারা হরতাল ডেকেছে।
    বিএনপির সংবাদ সম্মেলন: নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এই সরকারকে অশনিসংকেত পর্যন্ত দিচ্ছেন তাদের বিদেশি বন্ধুরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার দিবাস্বপ্ন দেখছে। তিনি অবিলম্বে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবি জানান।
    মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ক্ষমতার মজা পেয়ে গেছে। তাই তারা জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার ভুলে গেছে। ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার ক্ষেত্রে তারা বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে শত্রু হিসেবে দেখছে। বিরোধী দলগুলোর প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, এককভাবে সংবিধান সংশোধনের কারণে দেশে সংঘাত ও অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তিনি রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সর্বশক্তি দিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার ও নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
    জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন: বড় মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি সরকার পতনের আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে দেশবাসীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
    এ টি এম আজহার বলেন, ‘সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস উঠে যাবে, আর রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে নাস্তিক্যবাদী মতবাদ “সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা” চালু হবে—বাংলাদেশের জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, আড়াই বছরের শাসনামলে জাতীয় নারীনীতি, শিক্ষানীতি, মাদ্রাসাশিক্ষা-ব্যবস্থা ও পর্দার বিষয়ে সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করছে।
    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর আমির রফিকুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
    একই কর্মসূচি বিজেপি ও খেলাফত মজলিসেরও: বিজেপির চেয়ারম্যান সাংসদ আন্দালিব রহমান বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের দলও ৬ ও ৭ জুলাই একই দাবিতে হরতাল ডেকেছে। যুগপৎভাবে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করবেন। আজ সোমবার দলীয় ফোরামে আলোচনা করে কর্মসূচি কীভাবে পালন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
    খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের দুপুরে বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। খেলাফত মজলিস হরতালে মাঠে থাকবে কি না, জানতে চাইলে দলের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘হরতালে আমাদের মাঠে দেখবেন। আর মাঠে না দেখলে জেলখানায় হলেও দেখবেন, ইনশাল্লাহ।’
    এদিকে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রচার সম্পাদক আহলুল্লাহ ওয়াছেল বিকেলে টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরাও বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল ডেকেছেন।

    Tuesday, June 28, 2011

    সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নয়, এটি মসজিদ


    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বাহারপুর জামে মসজিদ। একে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দেখিয়ে জাপান থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা অনুদান এনে আত্মসাত্ করেছেন দারাদ আহমেদ
    ছবি: আনিস মাহমুদ
    দারাদ আহমেদ। বিশ্বভারতী থেকে স্নাতকোত্তর। সেখানকার ছাত্র-সংসদের নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক। জাপান বিএনপির সভাপতি। এসব তাঁরই দাবি।
    তবে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দারাদ আহমেদের গ্রামের লোকজন জানান, দারাদ সপ্তম শ্রেণী পাস। আসল নাম বদরুল ইসলাম।
    এই দারাদই জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির জন্য জাপানের কাযুও আজুমা দম্পতির কাছ থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। আর এ জন্য তিনি তাঁর বাড়ির সামনের মসজিদটির ছবি তুলে তা জাপানে পাঠান। তিনি জানান, এটিই হচ্ছে তাঁর স্বপ্নের জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় অনুসন্ধান করে এ ঘটনা জানা গেছে। জাপানি অধ্যাপক আজুমা দম্পতি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ২০টি ছবি পাঠিয়েছেন দারাদ। জানিয়েছিলেন, বড়লেখায় এই কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। 
    তবে বড়লেখার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ দারাদের সন্ধান জানালেও এলাকায় জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কোনো সন্ধান দিতে পারেননি। এমনকি ছবি দেখানোর পরও তাঁরা বলতে পারেননি, এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি কোথায়?
    এলাকাবাসী জানালেন, দারাদ আহমেদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের বাহারপুর গ্রামে। ওই বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে ছবিগুলো দেখালে গ্রামের কিশোর তাজউদ্দিন বলল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নয়, এগুলো বাহারপুর জামে মসজিদের ছবি।
    মসজিদের সামনে গিয়ে ছবিগুলো মিলিয়ে দেখা যায়, মসজিদের বিভিন্ন পাশ থেকে ছবিগুলো তোলা। কেন্দ্রের নামে এই ছবিগুলো পাঠিয়ে আজুমা দম্পতির কাছ থেকে তিনি সাড়ে ছয় কোটি টাকা এনেছেন। 
    মসজিদটির বিষয়ে জানতে চাইলে তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনামউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মসজিদটি পাকা করা হয়েছে বছর দুয়েক আগে। এলাকার সব মানুষ মিলে চাঁদা তুলে টাকা দিয়ে এই মসজিদ বানাইছে।’ এখানে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় এমন কোনো কেন্দ্র নেই। এটা দারাদের প্রতারণা।’
    বাহারপুর জামে মসজিদের ইমাম আবদুস শহীদও জানান, ‘কোনো কেন্দ্র নয়, এটি মসজিদ।’
    মসজিদের ছবি তোলার সময় হাজির হলেন মধ্যবয়সী এক লোক। নিজের নাম জানালেন মুরাদ আহমেদ। তিনি দারাদ আহমেদের ভাই। মসজিদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকার সবাই মিলে টাকা দিয়ে এই মসজিদ করেছে। কিন্তু বেশির ভাগ টাকাই দিছে আমাদের গোষ্ঠীর লোকজন।’ এই মসজিদকে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
    এলাকার সাংস্কৃতিককর্মী হিসেবে পরিচিত তপন চৌধুরীর নামও জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে তপন চৌধুরী বলেন, ‘এলাকায় জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বলে কিছু আছে, তা আমার জানা নেই। আর আমাকে না জানিয়েই আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।’
    একজন প্রতারক: ২০০৮ সালের নির্বাচনে দারাদ আহমেদ বিএনপির হয়ে এই আসন থেকে মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা করেন। নির্বাচনের আগে তিনি নিজেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি এলাকায় যে প্রচারপত্র (লিফলেট) বিলি করেন, তাতে বলেন, শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী ছাত্র-সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। এই সুবাদে ভারতের অনেক প্রধানমন্ত্রী এবং গান্ধী পরিবারসহ অনেকের সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠতা আছে। নিজেকে বিএনপির জাপান শাখার সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন তিনি।
    দারাদ বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক।
    দারাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই এলাকার সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দারাদকে আমি প্রথম দেখি ২০০২ সালের দিকে। তখন আমি ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। তিনি একদিন সচিবালয়ে এসে আমার সঙ্গে দেখা করেন এবং নিজেকে রবীন্দ্রনাথ বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দেন। জাপানি অধ্যাপক আজুমা ও তাঁর স্ত্রীকেও তিনি নিয়ে এসেছিলেন।’
    এবাদুর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন পর দারাদ এসে আমাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি একটি বিশাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। অনুষ্ঠানে জর্জ হ্যারিসন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। এতে ভারতের রবিশঙ্কর থাকবেন। আমাকে প্রধান অতিথি হতে হবে। কিন্তু আমি গিয়ে দেখলাম, একটি ছোট্ট কলেজের অনুষ্ঠান। তাতে রবিশঙ্কর ছিলেন না। আর পদকের বিষয়টিও ছিল ভুয়া। তখনই আমার মনে হয়, এটি প্রতারণা। এ ঘটনার পর ২০০৪ বা ২০০৫ সালের দিকে আমি জাপানের একজন মেয়রের আমন্ত্রণে দেশটিতে যাই। তখন টোকিওতে আমার সঙ্গে দেখা করেন দারাদ। সে সময় আজুমা পরিবারের সঙ্গে আমি তাঁর হূদ্যতা দেখেছি।’
    এলাকায় দারাদের রাজনীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এবাদুর রহমান বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, তিনি নাইন বা টেন পর্যন্ত পড়েছেন। স্কুলে তাঁর নাম ছিল বদরুল ইসলাম। কিন্তু কীভাবে দারাদ হলো জানি না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি নিজেকে বিএনপির আন্তর্জাতিক ও কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন। কিন্তু তিনি এই পদে ছিলেন না।’ এলাকায় জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় এমন কোনো কেন্দ্র থাকলে আমিই আগে জানতাম।’ 
    বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাফিজও বলেন, বড়লেখায় এমন কোনো সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই।
    দারাদ নিজেকে সাইফুর রহমানের আত্মীয় বলেও প্রচার চালান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম নাসের রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দারাদ আমার দলের কর্মী এবং বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু কোনোভাবেই আমাদের আত্মীয়স্বজন নন।’ দারাদের প্রতারণার বিষয়ে নাসের রহমান বলেন, ‘আমি তাঁকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি, জাপানে কী করেন, কিন্তু তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। বলতেন কম্পিউটার বিক্রি করি।’ 
    দারাদকে বিশ্বভারতীতে দেখেছেন এমন একজন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী প্রথম আলোকে বলেন, দারাদ অভিনয় শিখতে কিছুদিনের জন্য এসেছিলেন। তবে পড়ালেখা করেননি। ছাত্র-সংসদেরও কিছু ছিলেন না। ওখানে গন্ডগোল করে পালিয়ে যান।
    মাকে নিয়েও প্রতারণা: জাপানি অধ্যাপক আজুমার কাছে দারাদ নিজের মাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সার্জন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে। কিন্তু এলাকার লোকজন জানান, দারাদের মা লেখাপড়াই জানেন না।
    তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনামউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি এলাকার চেয়ারম্যান। ৪০ বছর ধরে এলাকায় আছি। সবার খোঁজখবর জানি। দারাদের বাড়িতে অনেকবার গেছি। তাঁর মা সার্জন তো দূরের কথা, লেখাপড়াই জানেন না। তিনি পুরোপুরি গৃহিণী। বয়স ৮০-৮৫ হবে।’
    দারাদ যা বলেন: রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে কেন এত আগ্রহ জানার জন্য দারাদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি একজন রবীন্দ্রপ্রেমী। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রসংগীতে অনার্স ও মাস্টার্স করেছি। এর পর থেকে রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে আমার অনেক আগ্রহ।’ রাজনীতিতে কীভাবে এলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শান্তিনিকেতন ছাত্র-সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম আমি। এই সূত্রেই রাজনীতিতে আসা। ২০০৬ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু পাইনি। সামনে পেলে এলাকার মানুষের সেবা করব।’ জাপানি অধ্যাপক আজুমাকে চেনেন কি না, জানতে চাইলে দারাদ বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে তো আমার বাবা-ছেলের সম্পর্ক।’
    আজুমাকে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা এনেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি খেপে যান। বলেন, ‘অধ্যাপক আজুমা আমার বাড়িতে ছয়-সাতবার এসেছেন। তিনিই বড়লেখায় একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করতে চেয়েছিলেন। তাঁকে জমি দেখিয়েছিলাম। কোনো টাকা নিইনি।’ এ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে দারাদ বলেন, ‘এটি তো আমার আর আজুমার বিষয়। এখানে আপনি আসছেন কেন? উনি তো আর আপনার কাছে অভিযোগ করেননি।’
    এসএসসি পাস না করে শান্তিনিকেতনে পড়লেন কীভাবে, জানতে চাইলে দারাদ বলেন, ‘এসএসসি পাস করেছি।’ কত সালে? ক্ষুব্ধ দারাদের উত্তর, ‘কাগজপত্র দেখে বলতে হবে। সব তো মুখস্থ থাকে না।’
    (প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন মৌলভীবাজারের জুড়ী প্রতিনিধি কল্যাণ প্রসূন)

    Monday, June 27, 2011

    ভালোর পসরা


    ভালো চাই, ভালো 
    ভালো নেবেন গো ভালো?
    আরও ভালো...
    আরও ভালোর পসরা নিয়ে কলম ধরেছেন অনেকে। যতই কাজ করেন। তাঁদের কিছুই ভালো লাগে না। তাঁদের বক্তব্য হলো, ‘এই সরকার (আওয়ামী লীগ) কিছুই করছে না, মানুষের অনেক আশা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হচ্ছে না। মানুষ হতাশ হয়ে যাচ্ছে, দেশ একদম ভালো চলছে না। দেশের অবস্থা খুবই খারাপ।’
    লেখালেখি, মধ্যরাতের টেলিভিশনে টক শো, গোল টেবিল, লম্বা টেবিল, চৌকো টেবিল, সেমিনার—কোথায় নেই তাঁরা? তাঁদের এসব কথায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা প্রভাবও পড়ছে। বিভ্রান্ত হচ্ছে, অনেক সময় নিজের অজান্তে এই ডায়ালগ বলে দিচ্ছে। যাঁরা এটা করছেন, তাঁদের এই ‘বলার’ কথার ফুলঝুরি কি সব সময় অব্যাহত থাকে?
    সব সরকারের আমলে? না না, তা শোনা যায় না। যেমন ধরুন, সামরিক সরকারের সময় তাঁদের কলমের কালি বা রিফিল থাকে না। কলম চলে না। মুখে কথা থাকে না। তখন বাঘের গর্জন বিড়ালের মিউ মিউয়ে পরিণত হয়। এখন যাঁদের কথায় টেলিভিশনের পর্দা ফেটে মনে হচ্ছে বেরিয়ে পড়বেন লাফ দিয়ে এক্কেবারে সরকারের ঘাড়ের ওপর। ‘সর্বনাশ’! পারলে এই মুহূর্তে সরকারের ঘাড়টাই ভেঙে দেবেন আরও ভালো কিছুর আশায়। এঁরাই আবার কখনো কখনো চুপ থাকেন।
    তাঁদের ডায়ালগ বা বাক্যবিন্যাস অথবা উপদেশ শোনা যায়নি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর বা ৩ নভেম্বর জেলহত্যা, একের পর এক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, সিপাই-জনতার বিপ্লবের নামে একটার পর একটা ক্যু, তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডে। অন্যায়ভাবে ফাঁসি বা ফায়ারিং স্কোয়াডে সামরিক অফিসার ও সেনাদের হত্যা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্যাতন, রিমান্ড ও হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সময় তাঁরা চুপ থেকেছেন। তাঁদের বিবেক জাগ্রত হয়নি ভালো না মন্দ, তা দেখার জন্য। বরং ঘাপটি মেরে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন বাতাস কোন দিকে যায়, সেটা বুঝে নিয়ে সময়ের সুযোগে উদয় হওয়ার জন্য।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে তাদের সোচ্চার হওয়ার একটা নির্দিষ্ট ক্ষণ ছিল, সেটা হলো মিলিটারি ডিক্টেটরদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতা কেনাবেচার সময়। যাঁরা নিজেদের উচ্চ দরে বিক্রি করতে পারলেন তাঁদের একধরনের সুর। আর যাঁরা কপালে কিছু জোটাতে পারলেন না তাঁদের সুর হলো দৃষ্টি আকর্ষণীয়-অর্থাৎ ‘আমরাও আছি, ক্রয় করুন, সেল-এ পাবেন।’ অর্থাৎ (‘use me’.)|
    এরপর যাঁরা অবশিষ্ট থেকে গেলেন, তাঁরা তখন বাতাস ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে সুর পাল্টিয়ে বিপ্লবী হয়ে গেলেন। এটা আমি ১৯৫৮ সালের জেনারেল আইয়ুব খানের মার্শাল ল জারির পর দেখেছি, আমাদের কত রাজনৈতিক ‘চাচার’ দল। যাঁরা আব্বা মন্ত্রী থাকা অবস্থায় নিজের বাড়িঘর সংসার ভুলে রাতদিন আমাদের বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়েছেন আর প্রশংসার ফুলঝুরি উড়িয়েছেন, তাঁরাই কেমন ডিগবাজি খেয়েছেন। সুর পাল্টিয়েছেন তাও দেখেছি। ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭৫, ১৯৮২, ১৯৯১ সালসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ দেখার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য আমাদের হয়েছে।
    ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর যারা ভালো থেকে আরও ভালো, আরও ভালোও হয় না কেন বলে লেখালেখি করেছেন, মুখের বুলি আর কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছেন, সমালোচনায় জর্জরিত করেছেন, তাঁরাই সুর পাল্টিয়ে ফেলেছেন। যেমন একটা উদাহরণ দিচ্ছি: 
    ১৯৯৬ সালে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। খাদ্য উৎপাদন এক কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন ছিল। ২০০০ সালের মধ্যে ঘাটতি মিটিয়ে চাল উৎপাদন দুই কোটি ৬৯ লাখ মেট্রিক টনে বৃদ্ধি করলাম। কী শুনেছি? ‘না, আরও একটু ভালো হতে পারত।’
    পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার ৭৯ লাখ মেট্রিক টনের বেশি অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন বাড়াল, তার পরও শুনে যেতে হলো, আরও একটু ভালো হতে পারত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চালের উৎপাদন কতটুকু বেড়েছিল? বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরের মধ্যে চার বছর কোনো উৎপাদন বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছিল। অর্থাৎ উৎপাদন ছিল নেতিবাচক।
    আর একটি উদাহরণ বিদ্যুতের ব্যাপারে। ১৯৯৬ সালে বিদ্যুৎ কম বেশি ১৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হতো। চরম বিদ্যুৎ ঘাটতি। সঞ্চালন লাইনগুলো জরাজীর্ণ ছিল। দ্রুত সরকারি ও প্রথমবারের মতো করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন বৃদ্ধি করলাম। সঞ্চালন লাইন উন্নত করার কাজ শুরু করলাম। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য নীতিমালা গ্রহণ ও প্রকল্প প্রণয়ন করে গেলাম। ২০০১ সালের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন বৃদ্ধি করলাম, তখন শুনেছি না ‘আরও ভালো করা যেত।’ 
    কোনো তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়া ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে গঙ্গা পানি চুক্তি করলাম। দীর্ঘদিনের একটা সমস্যার সমাধান হলো। দুই দশক ধরে চলা অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধান করে শান্তি চুক্তি করলাম। অথচ একশ্রেণীর কাছ থেকে কখনো এ বিষয়ে ভালো কথা শুনিনি। 
    ২০০১ সালের পয়লা অক্টোবর নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এল। কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছিল পাঁচ বছরে? যেসব প্রকল্পের কাজ শুরু করে গিয়েছিলাম, তার কয়েকটা শেষ হয়েছিল তাতে উৎপাদন যা বেড়েছিল তাও ধরে রাখতে পারেনি।
    ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল, তারাও উৎপাদন বাড়াতে পারেনি। আমরা এসে পেলাম কত? তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট, যা রেখে গিয়েছিলাম তার থেকেও ১২০০ মেগাওয়াট কম। পাঁচ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা যে কিছু করতে পারেনি, সে সম্পর্কে এই ‘ভালোর আশাবাদীরা’ কী ভূমিকা পালন করেছিলেন? আরও ভালো করার জন্য ১/১১-এর পর যারা উচ্চ দরের ডিগ্রিসম্পন্ন ও ওজনদার ব্যক্তিবর্গ— তারাই বা কি উন্নতি করতে পেরেছিলেন?
    সে কথায় পরে আসব, কারণ তারা তখন এ কথা বলেনি যে, আওয়ামী লীগ সরকার ভালো করেছিল, কাজেই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক। তারা তখন আরও ভালো মানুষের সন্ধানে ব্যস্ত ছিল, সৎ মানুষের সন্ধানে সার্চ লাইট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রের সৎকার, অর্থাৎ কবর দেওয়া।
    এই ধরনের আরও অনেক দৃষ্টান্ত আমরা দিতে পারব। সব থেকে মজার কথা হলো, এই আরও ভালোর সন্ধানকারীদের নিশ্চুপ থাকতে দেখেছি ২০০১ সালের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই। প্রশাসনের ১৩ জন সচিবের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া নিয়ে যে শুরু, তা সামরিক-বেসামরিক প্রতিষ্ঠানকেও কীভাবে প্রভাবিত করেছে ও ভীতসন্ত্রস্ত করেছিল, তা তখনকার অবস্থা স্মরণ করলেই জানা যাবে। শপথ অনুষ্ঠান হলো বঙ্গভবনে, সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন। ফিরে এসে আর নিজের অফিসে ঢুকতে পারলেন না, কারণ চাকরি নেই। রেডিও-টেলিভিশনের মাধ্যমেই ১৩ সচিবসহ অনেক অফিসারের চাকরি খেয়ে ফেলেছেন। শপথ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তাঁর পরিষদ গঠন করেননি। ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ হয়নি তখনো, অফিসেও বসেননি, কারণ শপথ অনুষ্ঠান অফিস সময়সূচির পরে হয়েছিল। তখনই কীভাবে চাকরি থেকে অফিসারদের বরখাস্ত করে? এমনকি নিজের জিনিসপত্রগুলো গুছিয়েও আনার জন্য যে অফিসে যাবেন, তারও সুযোগ দেওয়া হয়নি।
    গণভবনের টেলিফোন লাইনও কেটে দেওয়া হয়। আরও ভালোর ভক্তরা তখন এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ না করে বরং বাহবা দিয়েছিল।
    প্রথম দিনের এই আচরণের মধ্য দিয়েই কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে ততবারই রক্তপাত ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে কখনো হয়নি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ও প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান যে পক্ষপাতদুষ্ট ও অসহিষ্ণু আচরণ দেখিয়েছিলেন, তাতে জাতি বিভ্রান্ত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের যে গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা ও বিশ্বাস, সে কারণেই গণতন্ত্রের স্বার্থে তখন আমরা নির্বাচন বয়কট করিনি। নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। এত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও ভোট পেয়েছিলাম সংখ্যার দিক থেকে বেশি কিন্তু সিট সংখ্যা ছিল কম।
    আরও একটি কথা, সাহাবুদ্দীন ও লতিফুর রহমান দুজনই প্রধান বিচারপতি ছিলেন। আইনের ব্যবসাও করেছেন জীবিকার জন্য, আবার জাস্টিস হয়ে আইনের রক্ষাও করেছিলেন। কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর এখনো পেলাম না, সেটা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের অর্থাৎ জীবিত দুই কন্যার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য একটা আইন পার্লামেন্টে পাস করেছিল, সেই আইন বলবৎ থাকা অবস্থায় এবং সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ফোনের লাইন ও বিদ্যুতের লাইন কীভাবে কেটে দেয়? পানির লাইন কেটেছিল কি না বুঝতে পারিনি, কারণ পানির ট্যাংক তো ভরা থাকত, শেষ হতে সময় লাগে। একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীও সরকারি বাড়ি ছাড়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় পায়, কিন্তু আমাকে সে সময়টুকুও দেওয়া হয়নি কেন? বিবেকবান বা আরও ভালোর দল কে কে তখন এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন? 
    আমার নামে ছড়ানো হলো, আমি গণভবন এক টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি, কিন্তু কেউ কি কোনো প্রমাণ দেখাতে পেরেছিল? পারেনি। কিন্তু মিথ্যা অপপ্রচারে ঠিকই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। সত্যটা কিন্তু কেউ বলেনি বা কোনো ডকুমেন্টও দেখাতে পারেনি। আমি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি, এ পর্যন্ত কোনো সরকারি প্লট নিইনি। 
    ২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপির ক্ষমতার আমল—১৫ জুলাই ২০০১ সালে যেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করল সেদিন থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর নেমে এল অমানবিক অত্যাচার। নির্বাচনের দিনে একদিকে বিএনপি ও জামায়াতের ক্যাডার দল, অপরদিকে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের নির্যাতনে নেতা-কর্মীরা ঘরে ঘুমাতে পারেননি। রেহানার বাড়ি দখল করে যখন পুলিশ স্টেশন করা হলো, তখনো কারও কাছ থেকে এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ শোনা যায়নি। অপারেশন ক্লিন হার্ট নামে যে তাণ্ডব সেনাবাহিনী নামিয়ে করা হয়েছিল এবং মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, তা নিশ্চয়ই মনে আছে। আওয়ামী লীগের রিসার্চ সেন্টার থেকে ১৫টা কম্পিউটার, ১০ হাজার বই, ৩০০ ফাইল, এক লাখ ফরম, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেন্টারটা তালাবদ্ধ করে রাখা হয় পাঁচটা বছর। এটা কি গণতন্ত্রচর্চা? তাদের কাছ থেকে একটা প্রতিবাদও শুনিনি এর পরই শুরু হলো র‌্যাব গঠন ও ক্রসফায়ার। তখন তো সবাই র‌্যাবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেবল আমিই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম ও প্রতিবাদ করেছিলাম, তখন এই বিবেকবানেরা আমার সমালোচনা করেছিল। কাজগুলো নাকি খুবই ভালো হচ্ছিল বলে মন্তব্য করেছিল। এখন অবশ্য উল্টোটা শুনি।
    সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকেই চায়, কিন্তু তাদের ভোট দেওয়ার উপায় নেই। ভোটকেন্দ্রের ধারেকাছেও যেতে পারেনি। বিশেষ করে, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ যারা আওয়ামী লীগ বা নৌকায় ভোট দেয়, তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল ২০০১ সালের নির্বাচন চলাকালীন। তার পরও জনগণের ভোট আমরাই পাই কিন্তু সিট ঠিক গুনেই দেওয়া হয়। সরকার গঠন করার আগে থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের তাণ্ডব শুরু হলো। গ্যাং রেপ করেছে, ঠিক হানাদার পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালে যেভাবে নির্যাতন করেছিল, ঠিক সেভাবেই নির্যাতন চলছিল। একটা সুখবর হলো পূর্ণিমা ধর্ষণ কেসের আসামিরা সাজা পেয়েছে। সাধারণত, সামাজিক লজ্জার ভয়ে কোনো পরিবার মামলা করতে চায় না। পূর্ণিমা সাহস করেছে বলেই বিচার পেয়েছে। আমার মনে হয়, এই একটা দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। হাঁড়ি ভরা ভাত একটা টিপলেই তো বোঝা যায় সব ভাত সিদ্ধ হয়েছে কি না। ঠিক তেমনি একটা মামলার রায়ই প্রমাণ করে, কী ধরনের নির্যাতন বিএনপি ও জামায়াত দেশের মানুষের ওপর করেছিল। আমি এর বিস্তারিত বিবরণ দিতে চাই না, কারণ এত বেশি ঘটনা যে এখানে সব উল্লেখও করা যাবে না, শুধু এটুকুই বলতে চাই, তখন দেখেছিলাম অনেক বিবেকবান চুপ করে আছেন। মুখে কথাও নেই। কলমের জোরও নেই। তাদের জোর বাড়ে শুধু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে।
    ঠিক স্বাধীনতার পর যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়তে সবাই ব্যস্ত। তখনো বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য ঘাটতি, দেশে দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে। আর বাংলাদেশে তো ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়া। দিনরাত পরিশ্রম করে শূন্যের ওপর যাত্রা শুরু করে দেশকে গড়ে তুলতে ব্যস্ত, তখন ‘আরও ভালোর’ দলের সমালোচনা শুনেছি। কিছু নাকি হচ্ছে না। তখনো দেখেছিলাম তাদের কলম ও মুখের জোর। আর পরিণতি মার্শাল ল জারি এবং স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন। স্বাধীনতার মূল চেতনা থেকে দেশকে পিছিয়ে নেওয়া। ক্ষমতা দখলের ও ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করার লক্ষ্যে মানুষ হত্যা। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সামরিক বাহিনীতে ১৯ ক্যু ও পাল্টা ক্যু হয়েছিল। দেশবাসীর অকল্যাণ হয়েছে, দেশ পিছিয়েছে। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও সেই ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মারা থেমে নেই। যতবার জনগণ তাদের পরাজিত করে, ততবার আবার তারা পরগাছার মতো বেড়ে ওঠে। এবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠেপড়ে লেগেছে। 
    ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন, ১৯-২০ মে সামরিক ক্যুর অপচেষ্টা হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংঘটিত সামরিক ক্যু গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতেও টালবাহানা করে আবদুর রহমান বিশ্বাস। এসব কারা এবং কেন করেছিল এসব কথা আমরা কেন বিস্মৃত হই?
    দেশের অবস্থা কী? খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত আছে? ২০০১ সালে যে মোটা চাল মাত্র ১০ টাকা ছিল (আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে), সেই চাল ২০০৮ সালে ৪০-৪৫ টাকা দাম হয়েছিল, তা কমিয়ে ১৮ টাকায় আনা হয়। কৃষকের খরচ পোষানো হয়। প্রতি কেজি চাল ৩২-৩৪ টাকায় ঢাকার বাজারে এবং ঢাকার বাইরে ২৬-২৭ টাকায়ও পাওয়া যায়। সরকার ৪০-৫২ টাকায় বিদেশ থেকে চাল কিনে এনে মাত্র ২৪ টাকায় খোলাবাজারে বিক্রি করছে। ফেয়ার প্রাইস কার্ড, রেশন কার্ড, ভিজিএফ, ভিজিডিসহ বিভিন্ন উপায়ে খাদ্যনিরাপত্তা দিচ্ছে। না খেয়ে কেউ কষ্ট পাচ্ছে না। ৩৬ টাকায় বিক্রি হওয়া আটা ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
    কাজেই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত আছে। আওয়ামী লীগ আমলে দেশে মঙ্গা হয় না। 
    সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত, মানুষ নানাভাবে সাহায্য পাচ্ছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, স্তন্যদানকারী মা, সন্তানসম্ভবা গরিব মা, স্কুলে গমনকারী গরিব শিশুর মাসহ এ ধরনের নানাভাবে সামাজিক নিরাপত্তা সৃষ্টিকারী আর্থিক অনুদান সরকার দিয়ে যাচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখছে। গরিব মানুষের কষ্ট লাঘব হচ্ছে। ১৯৯৮ সালের বন্যার পর আওয়ামী লীগ সরকার নয় মাস দুই কোটি লোককে বিনা পয়সায় খাইয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে এসবই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা। ইতিপূর্বে আর কোনো সরকার এদিকে দৃষ্টি দেয়নি।
    শিক্ষার হার, ভর্তির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, পাসের হার বাড়ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২৩ কোটি ২২ লাখ বই বিনা পয়সায় বিতরণ করা হচ্ছে।
    বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সরকার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রায় ৭১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুই বছরেই ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অতিরিক্ত উৎপাদন করা হয়েছে।
    গ্যাস উৎপাদন বেড়েছে, আরও বৃদ্ধির কাজ চলছে।
    আইনশৃঙ্খলা অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তার প্রমাণ আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ, হজ, ঈদ, পূজা, বড়দিন, পয়লা বৈশাখ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, মাতৃভাষা দিবস শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে একদিকে, আর অপরদিকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। মূল্যস্ফীতি ১১ ভাগ থেকে কমিয়ে ছয় ভাগে আনা হয়েছিল, এখন কিছুটা বেড়ে আট ভাগ হয়েছে। শ্রমিক ও দিনমজুরদের আয় বেড়েছে। সরকার সদা সচেষ্ট আছে এসব বিষয়ে। ১৫০০ টাকা যারা শ্রমের মূল্য পেত, তারা ৩০০০ টাকা পায়। ধান কাটার সময় ৩০০-৪০০ টাকা দিনে মজুরি পেয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। 
    অনেক কাজ, যা এই সরকার আসার আগে সাত বছরে হয়নি, তার থেকেও বেশি কাজ সরকার দুই বছরে করেছে এবং করে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজও সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৪,৫০১টি ইউনিয়নে তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, টেন্ডার সর্বক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। কোনো ঘটনা ঘটলে অপরাধী যে-ই হোক, সরকার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
    বিডিআর (বিজিবি) হত্যা ও বিদ্রোহের বিচার চলছে। জঙ্গিবাদ দমনে সরকার তৎপর ও সফল। যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার চলছে। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এ পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। বরং সরকার দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। এবার বোরো ফসল বাম্পার হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা সরাসরি পাচ্ছে। ডিজেলে ২০ শতাংশ সাবসিডি পাচ্ছে। হাওর এলাকায় ও এলাকাবিশেষে বিনা মূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক রিজার্ভ সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্স বেড়েছে। দুই বছরে নয় লাখ মানুষ বিদেশে গেছে। ফিরে এসেছে এক লাখ, যা স্বাভাবিক। 
    সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ছয় ভাগে ধরে রাখা হয়েছে, এবার বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৭ ভাগে উন্নীত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে। 
    চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট মনে চাকরি করে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা এত শান্তিতে কোনো দিন ব্যবসা করতে পারেননি। একটু অতীতের দিকে তাকালে স্মরণ করতে পারবেন। একদিকে ছিল হাওয়া ভবনের কমিশন ও ভাগ দেওয়া, অপরদিকে তত্ত্বাবধায়কের সময় ছিল আতঙ্ক, মামলা, দেশছাড়া। অন্তত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সে আতঙ্কের পরিবেশ নেই। মুক্ত পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন। রপ্তানি-বাণিজ্যে যা টার্গেট ছিল তার থেকে বেশি রপ্তানি হচ্ছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে বরং, জমির অভাবে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। কাজেই সার্বিক দিক থেকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মনে স্বস্তি আছে। 
    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।
    এসব প্রশ্নের উত্তরের পরও আরও ভালোর দল বলবে, তার পরও দেশের অবস্থা ভালো নেই। এর কারণ কী? কারণ একটাই, অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকার থাকলে তাদের দাম থাকে। এই শ্রেণীটা জীবনে জনগণের মুখোমুখি হতে পারে না। ভোটে জিততে পারে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ ছাড়তে পারে না। তাই মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকারের যে খোশামোদি, তোষামোদি ও চাটুকারের দলও প্রয়োজন হয়—এরা সেই দল। বিশেষ করে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী ও চেতনায় বিশ্বাসীরা ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের উপকার হয়। আর দেশে মানুষ যদি দরিদ্র না থাকে, তাহলে এই শ্রেণীর বাণিজ্য শেষ হয়ে যাবে, কারণ দরিদ্র্য মানুষগুলোই তো তাদের বড় পণ্য। যাদের নিয়ে তারা বাণিজ্য করে নিজেদের ভাগ্য গড়ে।
    আমি বেঁচে থাকতে আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর খেলতে দেব না।
    ২২.৫.২০১১
    টরন্টো, কানাডা
    শেখ হাসিনা: প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

    আ.লীগের পাশে থাকবে জাপা


    আওয়ামী লীগ সরকারের বাকি আড়াই বছরে যেকোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকবে জাতীয় পার্টি। বিএনপি সংসদ থেকে পদত্যাগ করলে বা আগামী নির্বাচন বর্জন করলে জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচন করবে। দুই দলেরই শীর্ষস্থানীয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
    সূত্র জানায়, সপ্তাহ খানেক আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সংসদ ভবনে একান্ত বৈঠক করেছেন। এক ঘণ্টার বৈঠকে আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি, পরবর্তী সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হয়। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল ও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে দুই নেতা নীতিগতভাবে একমত হন।
    সূত্র জানায়, উভয় নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ স্বীকৃত গণতান্ত্রিক পন্থা হিসেবে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পক্ষে মত দেন। সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল এনে দ্রুত পাস করার কথাও হয় তাঁদের মধ্যে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে করণীয় সম্পর্কে তাঁরা কথা বলেন।
    ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে। দলের চেয়ারম্যান এরশাদ এ ব্যাপারে শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন।
    যোগাযোগ করা হলে এইচ এম এরশাদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকারের অধীনেই আমরা নির্বাচন করব। অন্য কেউ নির্বাচনে না এলে আমরা এককভাবেই অংশ নেব। পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নেই। তাহলে আমরা কি চাঁদে বাস করছি?’
    জাতীয় পার্টি ক্ষমতাসীন মহাজোটের অংশীদার হলেও বছর দেড়েক ধরে এইচ এম এরশাদ সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা-পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তিনি ছিলেন সমালোচনামূখর। এমনকি তাঁর ছোট ভাই বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী জি এম কাদেরের মন্ত্রণালয়ে কোনো ক্ষমতা নেই বলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি। 
    এ পরিস্থিতিতে গত এক মাসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এরশাদের দুই দফা বৈঠক হয়। এ বৈঠকের পর থেকে তাঁর মুখ থেকে সরকারের সমালোচনা শোনা যায়নি। 
    শেখ হাসিনা ও এরশাদের মধ্যে বৈঠকের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধান সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংসদে গত শনিবার বাজেট আলোচনায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দল বিএনপি সংসদ থেকে পদত্যাগ করলে উপনির্বাচন দিয়ে এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা করা হবে।
    আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আগামী সপ্তাহেই সংবিধান সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে পাস হতে পারে। তবে সরকার মনে করে, আদালতের রায় অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হলেও আলোচনার দরজা খোলা থাকবে।
    জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হবে। তবে আলোচনার পথ খোলা থাকবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হলেও নানা ফর্মুলায় অন্তর্বর্তী সরকার করা যাবে। বিএনপির সদিচ্ছা থাকলে ফর্মুলা দিতে পারে।
    আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা জানান, আলোচনার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হলেও বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণার কারণে সরকারি দলকে বিকল্প চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে।
    এ ক্ষেত্রে ১৪ দলের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাংসদ রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এখনই বলাটা বেশি আগাম হয়ে যায়। তবে আমরা ১৪ দলে ছিলাম এবং আছি।’
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখনই সব কথা বলছি না। আলোচনা হবেই।’ তা ছাড়া তিনি আলোচনার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিরোধী দলের অপেক্ষায় থাকবেন বলে জানান।
    আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হলেও নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকবে। আর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাইলে বিএনপিকে আলোচনায় আসতেই হবে। কারণ গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র উপায় নির্বাচন। সুতরাং বিএনপি নির্বাচন বর্জন করবে—এটা মনে করার কারণ নেই। তাঁদের মতে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও সে পরিস্থিতি এখন নেই। তখন ছিল সামরিক সরকার। এখন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে আইন ও সংবিধান অনুসরণ করে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। এ জন্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন নিয়োগ এবং একে আর্থিকভাবে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার পক্ষে সরকারদলীয় নেতারা।
    prothom-alo

    Friday, June 24, 2011

    আ.লীগ এলে জনগণ কিছু পায় অন্যরা এসে লুটে খায়


    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা

    জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
    ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সৌজন্যে
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই জনগণ কিছু পায়, আর অন্যরা এসে লুটে খায়। তাঁর দাবি, জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই আওয়ামী লীগ প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়। 
    গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। 
    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের পকেট থেকে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল কখনো জনগণকে কিছু দিতে পারে না। তাদের রাজনীতি ত্যাগের নয়, ভোগের।’ তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে যারা দেশের অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে, সে অর্থ ফেরত এনে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
    গতকাল বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সেন্টার চত্বরে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন যথাক্রমে শেখ হাসিনা ও দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ সময় শান্তির প্রতীক ৬২টি পায়রা ও নানা রঙের বেলুন ওড়ানো হয়। 
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপমহাদেশের প্রাচীন ও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ একটি। নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে এ দল সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের হূদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছে। শুরু থেকে আওয়ামী লীগ জনগণের ভাগ্য বদলে কাজ করে যাচ্ছে। মাতৃভাষা, স্বাধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রসহ দেশের মানুষ যা পেয়েছে, তা আওয়ামী লীগের কাছ থেকেই পেয়েছে। 
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের পাঁচ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছিল জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে। বর্তমান সরকারের মাত্র দুই বছরে সেই দুর্নাম ঘুচিয়েছে। বাংলাদেশ এখন সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য উৎপাদনের মডেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। দুই বছরে এ সরকার জাতীয় গ্রিডে ১৯২২ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ যোগ করেছে।
    আলোচনা সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মহাজোটের ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, মৌলবাদী অপশক্তি ও তাদের দোসরদের পরাজিত করতে না পারলে দেশ আবারও গভীর খাদে পড়ে যাবে। দেশ যখন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই অপশক্তি নতুন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। 
    জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি হচ্ছে নব্য মুসলিম লীগ আর জামায়াত হচ্ছে ঘোমটা পরা উগ্র জঙ্গিবাদী দল। বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনের পরাজয় এখনো মেনে নিতে পারেনি। 
    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের মানুষ যতটুকু গণতন্ত্র ভোগ করছে, তার একমাত্র অবদান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার। 
    আবদুর রাজ্জাক বলেন, একাত্তরের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আবারও ঐক্যবদ্ধ হলে ষড়যন্ত্রকারীরা কিছুই করতে পারবে না। 
    সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিঃশর্তভাবে সংসদে এসে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গত ১৮ বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনও দিতে পারেনি। 
    নূহ-উল আলম লেনিন ও অসীম কুমার উকিলের উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, এম এ আজিজ ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। 
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সফল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। 
    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন: গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশেই নানা আয়োজনে আওয়ামী লীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ভোরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে উত্তোলন করা হয় জাতীয় ও দলীয় পতাকা। সকাল সাড়ে সাতটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে সরকার এবং পরে দলের সভানেত্রী হিসেবে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 
    এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাংসদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 
    প্রধানমন্ত্রীর পর আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়

    প্রথম আলো

    Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More