Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label তত্বাবদায়ক-সরকার. Show all posts
Showing posts with label তত্বাবদায়ক-সরকার. Show all posts

Monday, July 4, 2011

ছয় দিনের হরতাল ও ছুটির ফাঁদে দেশ

 তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে সারা দেশে ৬ ও ৭ জুলাই (বুধ ও বৃহস্পতিবার) ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। দল দুটির ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত এই হরতাল কর্মসূচি চলবে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের অন্যান্য শরিক বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং খেলাফত মজলিসও একই কর্মসূচি দিয়েছে। এ কারণে বুধবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত টানা ছয় দিন হরতাল আর ছুটির ফাঁদে পড়ছে দেশ। কারণ ৪৮ ঘণ্টার হরতালের পর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। আগামী রবি ও সোমবার টানা ৩০ ঘণ্টা দেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি এর আগেই ঘোষণা করেছে ধর্মভিত্তিক ও সমমনা ১২টি সংগঠন।
চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী গতকাল রোববার দুপুর সোয়া ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে এই হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর এক ঘণ্টা পর বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে একই কর্মসূচি দেয়।
হরতাল ডাকার কারণ হিসেবে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্তি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সংকটের কথা উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে জামায়াত বলেছে, সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল; দলের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে তারা হরতাল ডেকেছে।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলন: নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এই সরকারকে অশনিসংকেত পর্যন্ত দিচ্ছেন তাদের বিদেশি বন্ধুরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার দিবাস্বপ্ন দেখছে। তিনি অবিলম্বে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবি জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ক্ষমতার মজা পেয়ে গেছে। তাই তারা জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার ভুলে গেছে। ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার ক্ষেত্রে তারা বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে শত্রু হিসেবে দেখছে। বিরোধী দলগুলোর প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, এককভাবে সংবিধান সংশোধনের কারণে দেশে সংঘাত ও অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তিনি রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সর্বশক্তি দিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার ও নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন: বড় মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি সরকার পতনের আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে দেশবাসীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এ টি এম আজহার বলেন, ‘সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস উঠে যাবে, আর রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে নাস্তিক্যবাদী মতবাদ “সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা” চালু হবে—বাংলাদেশের জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, আড়াই বছরের শাসনামলে জাতীয় নারীনীতি, শিক্ষানীতি, মাদ্রাসাশিক্ষা-ব্যবস্থা ও পর্দার বিষয়ে সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর আমির রফিকুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
একই কর্মসূচি বিজেপি ও খেলাফত মজলিসেরও: বিজেপির চেয়ারম্যান সাংসদ আন্দালিব রহমান বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের দলও ৬ ও ৭ জুলাই একই দাবিতে হরতাল ডেকেছে। যুগপৎভাবে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করবেন। আজ সোমবার দলীয় ফোরামে আলোচনা করে কর্মসূচি কীভাবে পালন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের দুপুরে বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। খেলাফত মজলিস হরতালে মাঠে থাকবে কি না, জানতে চাইলে দলের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘হরতালে আমাদের মাঠে দেখবেন। আর মাঠে না দেখলে জেলখানায় হলেও দেখবেন, ইনশাল্লাহ।’
এদিকে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রচার সম্পাদক আহলুল্লাহ ওয়াছেল বিকেলে টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরাও বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল ডেকেছেন।

Thursday, June 30, 2011

সংবিধান সংশোধনী আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহার: খালেদা


undefined
খালেদা জিয়া
বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়া এ কথা বলেছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ও সরকার গঠন করেছিলেন, সাংবিধানিক শাসন পুনর্বহাল করেছিলেন। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকে এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী তিনি সংবিধানকে পুনর্বিন্যস্ত করেছিলেন। তিনি এ কাজগুলো করেছিলেন গণভোটের মাধ্যমে, জনগণের কাজ থেকে প্রাক-অনুমোদন গ্রহণের মাধ্যমে। পরে জনগণের নির্বাচিত সংসদও এসব কার্যব্যবস্থার অনুমোদন দেয়।
প্রথম আলো

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল


সংবিধান
জাতীয় সংসদে সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিল ২০১১ পাস হয়েছে। এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২৯১টি আর ‘না’ ভোট পড়েছে একটি। এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হলো। এখন সংসদ নির্বাচন হবে দলীয় সরকারের অধীনে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে বিলটি পাসের জন্য আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ উত্থাপন করেন। এরপর সংশোধন বিলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার বিষয়ে আপত্তিসহ নয় সাংসদের আনা সংশোধনী প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হয়। পরে প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর দুই দফায় বিভক্তি ভোটে বিলটি পাস হয়।
মহাজোটের সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নির্ধারিত চারটি লবিতে ভোট দেন। একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিম ‘না’ ভোট দেন।
স্পিকার আবদুল হামিদ বিভক্তি ভোট দেওয়ার আগে দুই মিনিট ঘণ্টা বাজিয়ে সংসদের লবিগুলো বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন।
সংসদ সচিবালয়ের চার কর্মকর্তা এ ভোটের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরে স্পিকার ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন।
প্রথম আলো

Monday, June 27, 2011

শেষ ৯০ দিন অন্তর্বর্তী সরকার

সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। ওই সময় সংসদ থাকলেও কার্যকর থাকবে না। এই তিন মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলবে। মন্ত্রিসভা শুধু রুটিন (নিয়মিত) কাজ করবে। তবে নির্বাচন পরিচালনার মূল কাজটি করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এভাবে সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিল-২০১১-তে সংশোধনী আনা হচ্ছে। এতে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় সংসদের শেষ তিন মাসে কার্যক্ষমতা সীমিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ এই সময়ে জাতীয় সংসদের কোনো অধিবেশন বসবে না। সংসদের শেষ তিন মাসে ৬০ দিন পর পর অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রহিত করা হবে। তবে নির্বাচন হলেও সংসদের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী সংসদ কাজ শুরু করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের তিন মাসে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা জাতীয় পতাকাসহ সব ধরনের প্রটোকল পাবেন। এ সরকারই পরবর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। বর্তমান সংবিধান অনুসারে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রয়েছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার কমিটি সংবিধান সংশোধনী বিল সম্পর্কে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করবে। এ সপ্তাহেই বিলটি সম্পর্কে সংসদে প্রতিবেদন দেবে কমিটি। জানা গেছে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই সংবিধান সংশোধনের বিলটি সংসদে পাস হয়ে যাবে।
কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে গতকালের সভায় সংবিধান সংশোধন বিল সম্পর্কে দফাওয়ারি আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ফজলে রাব্বী মিয়া, রহমত আলী, আবদুল মতিন খসরু, খান টিপু সুলতান, জিয়াউল হক মৃধা, নুরুল ইসলাম ও শেখ ফজলে নূর তাপস সভায় অংশ নেন।
সভায় অনির্বাচিত কাউকে মন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) করা হলে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ ব্যাপারে আজকের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে। সভায় বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারেও কথা হয়। বিএনপি চাইলে যেকোনো সময় কমিটির সভাপতির কাছে তাদের প্রস্তাব দিতে পারে।
জানতে চাইলে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আর ওই সময় কার্যত সংসদ থাকলেও তা কার্যকর থাকবে না। সংবিধানের বিধান অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর এ সমস্যা এড়াতে নতুন একটি সংশোধনী আনছে কমিটি। এতে সংসদের মেয়াদের শেষ ৯০ দিনকে ওই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে সংসদের মেয়াদ চার বছর নয় মাসের পর আর কোনো অধিবেশন হবে না। তিনি বলেন, সংসদের মেয়াদের শেষ তিন মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলবে। এ সরকার রুটিন কাজ করবে।
সুরঞ্জিত বলেন, এখন এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কীভাবে কাজ করবে, সেটি নিয়ে বিএনপি আলোচনা করতে পারে, প্রস্তাব দিতে পারে। এখন না এলেও বর্তমান সরকারের আরও আড়াই বছর সময় আছে। তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মহাজোট সরকার বসে আছে। প্রয়োজনে বিএনপির যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় আবার সংবিধান সংশোধন করা হবে।
নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পর্কিত ১২৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব করে প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, ‘মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে।’ তবে মেয়াদ অবসান ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।
১৯৭২ সালের সংবিধানে এ বিধান থাকলেও ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কোনো সরকারই তার পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ করতে না পারায় পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার কোনো অভিজ্ঞতা কারও নেই। এই সংশোধিত আকারে সংবিধান সংশোধন হলে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনই হবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে। 
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। কমিটির সংশোধনী অনুসারে, সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিন ‘৬০ দিনে সংসদের বৈঠকের বিষয়টি প্রযোজ্য হবে না’।
বৈঠক শেষে সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু প্রথম আলোকে বলেন, সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিনে সংসদ বহাল থাকায় করণীয় কী হবে, তা পর্যালোচনা করে কমিটি নতুন সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই ৯০ দিন সংসদ, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদ বহাল থাকলেও তাঁরা রুটিন কাজের বাইরে কিছু করবেন না। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এককভাবে নির্বাচন কমিশনই সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সবকিছুই নির্বাচনী আইন অনুযায়ী চলবে।
মতিন খসরু বলেন, ‘বিতর্কিত নির্বাচন আমরা কেউই চাই না। এ জন্য ভালো কোনো বিকল্প থাকলে বিরোধী দলের মত দেওয়া উচিত।’

Monday, June 20, 2011

তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের সুপারিশ অনুমোদন



তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান বিলুপ্ত করার সুপারিশ-সংবলিত প্রতিবেদনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি এই প্রতিবেদন তৈরি করেছিল।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, বিশেষ কমিটির সুপারিশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।
বৈঠকে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ এবং সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ রাখা নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার আপত্তি করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখা না-রাখার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বিশেষ কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির যে সুপারিশ করেছে, মন্ত্রিসভা তা বিনা বাক্যে অনুমোদন দেয়।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকেই বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছে। সেই সুপারিশ মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিষয়ক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে সম্প্রতি রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সংবিধান সংশোধনবিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বাতিলের সুপারিশ করেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ ৫১টি সুপারিশ-সংবলিত প্রতিবেদন ৮ জুন সংসদে উপস্থাপন করে বিশেষ কমিটি। বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি রাখার বিষয়ে আপত্তি জানান কমিটির দুই সদস্য রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু। স্পিকার প্রতিবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। আইন মন্ত্রণালয় গতকাল তা মন্ত্রিসভায় পেশ করে।
বৈঠক সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিবেদনের প্রতিটি সুপারিশ আইনমন্ত্রী পড়ে শোনান। অন্য কোনো সুপারিশ নিয়ে আপত্তি না উঠলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম রাখা নিয়ে আপত্তি তোলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আপত্তি গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই এ সুপারিশ করা হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এ বিষয়ে জোরালো আপত্তি করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এইচ এম এরশাদের আমলে। তখন তো আপনি মন্ত্রী ছিলেন। আপত্তি করেননি কেন?’
বিশেষ কমিটি ২৭টি বৈঠক করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। এর আগে পাঁচজন সাবেক প্রধান বিচারপতি, মূল সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণপরিষদ সদস্যসহ আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও সেক্টর কমান্ডারদের মতামত নেয় বিশেষ কমিটি। তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কমিটিতে যায়নি, মতামতও দেয়নি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিশেষ কমিটির সদস্য রাশেদ খান মেনন প্রথম আলোকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটা রাখার কোনো সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় আগামী দুই মেয়াদ এটা রাখার প্রয়োজন আছে। সে ক্ষেত্রে সবাইকে সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা বের করতে হবে। এ জন্য বিএনপিকে আলোচনায় আসতে হবে।
কমিটির আরেক সদস্য জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুমোদনের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও অন্তর্বর্তী সময়ে কী পন্থায় নির্বাচন হবে, সে ব্যাপারে সমঝোতার সুযোগ আছে। আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যায়নি।
মন্ত্রিসভায় অন্য বিষয়: মন্ত্রিসভার গতকালের বৈঠকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১১-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন এবং ইউএন কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট ট্রান্সন্যাশনাল অরগানাইজড ক্রাইম (পালের্মো কনভেনশন) অ্যাক্সেশন-এর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মানি লন্ডারিং আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, অর্থপাচার রোধে ২০০২ সালে প্রথম একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। এটি ২০০৯ সালে সংশোধন করা হয়। কিন্তু এ সংশোধনী বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে আরও সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ জন্য আইনটি নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আইনটি অনুমোদন ও পাস হলে অর্থপাচার রোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More