Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label ছাত্রনেতা. Show all posts
Showing posts with label ছাত্রনেতা. Show all posts

Monday, August 8, 2011

ছাত্রলীগের রোষানলে শিক্ষকেরা


ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গতকাল ছাত্রবিষয়ক কার্যালয় ভাঙচুর করেনগতকাল ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকএর আগে শিক্ষক সমিতির মিছিল চলার সময় কটূক্তি করার অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে আটক করেন শিক্ষকএরপর শুরু হয় ছাত্রলীগের তাণ্ডব। তাদের দেওয়া আগুনে পুড়ছে মোটরসাইকেল
ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ধাওয়া ও হামলায় পাঁচজন শিক্ষকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাঙচুর ও দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ছিনতাইয়ে জড়িত অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে পুলিশে সোপর্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কর্মীরা শিক্ষকদের ধাওয়া ও হামলা করেন। এদিকে রোববার রাতে প্রক্টরকে গালিগালাজ ও তাঁর বাসভবনের সামনে ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি গতকাল দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের পাঁচ নেতা-কর্মী আরিফুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, সাজ্জাদ হোসেন, সুমন চন্দ্র রায় ও শাকিল গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে যান। তাঁরা সেখানে আপত্তিকর অবস্থায় তিন জুটিকে দেখে জুটিগুলোর কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁরা তিনটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই পাঁচজন সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদীচীর ধারে নদীর পাড়ে যান। সেখানে তাঁদের তিনজন থেকে যান এবং আরিফুল ও নূর মোহাম্মদ নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে বৈশাখী চত্বরের দিকে যান। ওই দুজনকে নিরাপত্তাকর্মীরা আটক করেন। খবর পেয়ে প্রক্টর আবু হাদী নুর আলী খান সেখানে গিয়ে ওই দুজনকে মারধর করেন এবং তাঁদের নিজ গাড়িতে করে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করেন।
প্রশাসন সূত্র জানায়, নূর মোহাম্মদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল ও আরিফুল ফজুলল হক হলের আবাসিক ছাত্র। প্রক্টর আবু হাদী অভিযোগ করেন, এ দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করার জের ধরে রোববার রাত ১০টার দিকে ছাত্রলীগের একাংশ তাঁর ক্যাম্পাসের ডি/৩ বাসার সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ফুলের টব ভাঙচুর করে ও গেটে লাথি মারে।
শিক্ষকদের সূত্র জানায়, রাতের ওই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের গ্যালারিতে জরুরি সভা হয়। সভা শেষে বেলা একটার দিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে এবং এর সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মৌন মিছিল বের হয়। ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড়ে ছাত্রলীগের একাংশের কর্মী-সমর্থকেরা মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের লক্ষ্য করে কটূক্তি করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক ধাওয়া করে চার শিক্ষার্থী নূরে আলম, আহসান হাবিব, রাসেল আহমেদ ও ওয়ালীউল্লাহকে ধরে ফেলেন। শিক্ষকেরা ওই চারজনকে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেন।
সূত্র জানায়, ওই চারজনকে আটক করা নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ইমন ও জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মীদের বাগিবতণ্ডা হয়। তাঁরা ওই চারজনকে পুলিশে সোপর্দ না করার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতাহাতি শুরু হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে মারধর করা হয়। এ সময় প্রক্টর কার্যালয়, ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টার কার্যালয়, টিএসসি, প্রশাসন ভবন, কৃষি অনুষদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া একটি ছাত্রাবাস ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ব্যবহূত কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগও করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। শিক্ষকেরা সেখান থেকে সরে গিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আশ্রয় নেন। ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা রামদা, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষকদের ধাওয়া করেন এবং ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। ইটের আঘাতে পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুবাস চন্দ্র দাস গুরুতর আহত হন। তিনি রাত নয়টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে অচেতন অবস্থায় ছিলেন।
ছাত্রলীগের ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক, প্রক্টরসহ চার শিক্ষক ও কর্মকর্তা এবং ছাত্র মিলিয়ে আরও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। হামলার ছবি তুলতে গেলে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন ছাত্রলীগ কর্মীরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমিতি জরুরি বৈঠক করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা না নেওয়ার তা ৎ ক্ষণিক ঘোষণা দেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শিক্ষকেরা বিকেল চারটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে যান।
বিকেল চারটার দিকে উপাচার্য প্রক্টরিয়াল বডি, ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। তবে শিক্ষক সমিতির সঙ্গে উপাচার্য বৈঠক করেননি।
এ সময় ছাত্রলীগ আটক চারজনের মুক্তির দাবিতে সহস্রাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। বিকেল পাঁচটার দিকে উপাচার্য ছাত্রলীগের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছাত্রলীগের নেতা ও শিক্ষকদের সূত্র জানায়, বৈঠকে ছাত্রলীগ গতকাল আটক হওয়া চার কর্মীর মুক্তি এবং ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রক্টরের পদত্যাগ, ছাত্রলীগের কর্মীদের আটকের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দাবি অনুযায়ী সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপাচার্যের নির্দেশে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তাফিজুর রহমান কোতোয়ালি থানা থেকে ওই চারজনকে ছাড়িয়ে আনেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামছুদ্দিন আল আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ইমন এ বিষয়ে বলেন, ‘ছাত্রলীগ এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। কোনো প্রকার তদন্ত কমিটি ছাড়া শিক্ষকদের ছাত্র প্রহার ও ধরপাকড়ের ঘটনা পুরোপুরি অন্যায়। কাজেই সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আমরা ওই ছাত্রদের মুক্তি দাবি করেছি। এ ঘটনায় আমরা প্রক্টরসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবার ও জড়িত শিক্ষকদের পদত্যাগ দাবি করেছি।’
প্রক্টর আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। তাঁর পদত্যাগ দাবির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘দুঃখের কথা আর কী বলব! ছাত্রদের হাতে আজকের আমার এই গণপিটুনির কথা কোনো দিন ভুলব না।’ তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. সামছুল আলম জানান, প্রক্টরের বাসায় হামলার প্রতিবাদে ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে দুপুর থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আবার বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে উপাচার্য এম এ সাত্তার মণ্ডলের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘রোববার ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল চার ছাত্রকে শিক্ষকেরা দুপুরে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, ইফতারের সময় শিক্ষকেরাই আবার তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন।’ তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত চার প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রথম আলো

Wednesday, July 13, 2011

ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাসহ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ছিনতাই হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। 
গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকা থেকে ৯০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাবুল আহমেদ ও তাঁর সহযোগী আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১২টি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র‌্যাব-১-এর মেজর মোসতাক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাবুল অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের হোতা। নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা বাবুল তাঁর কাছে রেখে বিক্রি করে আসছিলেন। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাবুল ও রহমানকে শ্যামপুর থানায় সোপর্দ করেছে র‌্যাব। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
র‌্যাব সূত্র জানায়, র‌্যাব-১-এর একটি দল পোস্তগোলার ডায়না সিনেমা হলের সামনে থেকে ছিনতাই হওয়া দুটি অটোরিকশাসহ আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। রহমান ওই অটোরিকশা দুটি ছিনতাই করে তা অন্যজনের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে রহমান র‌্যাবকে জানান, ছিনতাই হওয়া আরও ১০টি অটোরিকশা বাবুলের কাছে আছে। এরপর র‌্যাব রহমানকে সঙ্গে নিয়ে পোস্তগোলা কটন মিলের ভেতর থেকে আরও ১০টি অটোরিকশা উদ্ধার করে এবং বাবুলকে গ্রেপ্তার করে।
র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, কিছুদিন ধরে র‌্যাব-১-এর কাছে বেশ কিছু অটোরিকশা ছিনতাইয়ের লিখিত অভিযোগ আসে। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অভিযান চালানো হয়। 
শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ৯০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা বাবুল দীর্ঘদিন ধরে পোস্তগোলা অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় পোস্তগোলা এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাই হচ্ছে।

Tuesday, June 28, 2011

সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নয়, এটি মসজিদ


মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বাহারপুর জামে মসজিদ। একে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দেখিয়ে জাপান থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা অনুদান এনে আত্মসাত্ করেছেন দারাদ আহমেদ
ছবি: আনিস মাহমুদ
দারাদ আহমেদ। বিশ্বভারতী থেকে স্নাতকোত্তর। সেখানকার ছাত্র-সংসদের নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক। জাপান বিএনপির সভাপতি। এসব তাঁরই দাবি।
তবে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দারাদ আহমেদের গ্রামের লোকজন জানান, দারাদ সপ্তম শ্রেণী পাস। আসল নাম বদরুল ইসলাম।
এই দারাদই জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির জন্য জাপানের কাযুও আজুমা দম্পতির কাছ থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। আর এ জন্য তিনি তাঁর বাড়ির সামনের মসজিদটির ছবি তুলে তা জাপানে পাঠান। তিনি জানান, এটিই হচ্ছে তাঁর স্বপ্নের জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় অনুসন্ধান করে এ ঘটনা জানা গেছে। জাপানি অধ্যাপক আজুমা দম্পতি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ২০টি ছবি পাঠিয়েছেন দারাদ। জানিয়েছিলেন, বড়লেখায় এই কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। 
তবে বড়লেখার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ দারাদের সন্ধান জানালেও এলাকায় জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কোনো সন্ধান দিতে পারেননি। এমনকি ছবি দেখানোর পরও তাঁরা বলতে পারেননি, এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি কোথায়?
এলাকাবাসী জানালেন, দারাদ আহমেদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের বাহারপুর গ্রামে। ওই বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে ছবিগুলো দেখালে গ্রামের কিশোর তাজউদ্দিন বলল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নয়, এগুলো বাহারপুর জামে মসজিদের ছবি।
মসজিদের সামনে গিয়ে ছবিগুলো মিলিয়ে দেখা যায়, মসজিদের বিভিন্ন পাশ থেকে ছবিগুলো তোলা। কেন্দ্রের নামে এই ছবিগুলো পাঠিয়ে আজুমা দম্পতির কাছ থেকে তিনি সাড়ে ছয় কোটি টাকা এনেছেন। 
মসজিদটির বিষয়ে জানতে চাইলে তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনামউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মসজিদটি পাকা করা হয়েছে বছর দুয়েক আগে। এলাকার সব মানুষ মিলে চাঁদা তুলে টাকা দিয়ে এই মসজিদ বানাইছে।’ এখানে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় এমন কোনো কেন্দ্র নেই। এটা দারাদের প্রতারণা।’
বাহারপুর জামে মসজিদের ইমাম আবদুস শহীদও জানান, ‘কোনো কেন্দ্র নয়, এটি মসজিদ।’
মসজিদের ছবি তোলার সময় হাজির হলেন মধ্যবয়সী এক লোক। নিজের নাম জানালেন মুরাদ আহমেদ। তিনি দারাদ আহমেদের ভাই। মসজিদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকার সবাই মিলে টাকা দিয়ে এই মসজিদ করেছে। কিন্তু বেশির ভাগ টাকাই দিছে আমাদের গোষ্ঠীর লোকজন।’ এই মসজিদকে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
এলাকার সাংস্কৃতিককর্মী হিসেবে পরিচিত তপন চৌধুরীর নামও জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে তপন চৌধুরী বলেন, ‘এলাকায় জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বলে কিছু আছে, তা আমার জানা নেই। আর আমাকে না জানিয়েই আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।’
একজন প্রতারক: ২০০৮ সালের নির্বাচনে দারাদ আহমেদ বিএনপির হয়ে এই আসন থেকে মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা করেন। নির্বাচনের আগে তিনি নিজেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি এলাকায় যে প্রচারপত্র (লিফলেট) বিলি করেন, তাতে বলেন, শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী ছাত্র-সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। এই সুবাদে ভারতের অনেক প্রধানমন্ত্রী এবং গান্ধী পরিবারসহ অনেকের সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠতা আছে। নিজেকে বিএনপির জাপান শাখার সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন তিনি।
দারাদ বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক।
দারাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই এলাকার সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দারাদকে আমি প্রথম দেখি ২০০২ সালের দিকে। তখন আমি ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। তিনি একদিন সচিবালয়ে এসে আমার সঙ্গে দেখা করেন এবং নিজেকে রবীন্দ্রনাথ বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দেন। জাপানি অধ্যাপক আজুমা ও তাঁর স্ত্রীকেও তিনি নিয়ে এসেছিলেন।’
এবাদুর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন পর দারাদ এসে আমাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি একটি বিশাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। অনুষ্ঠানে জর্জ হ্যারিসন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। এতে ভারতের রবিশঙ্কর থাকবেন। আমাকে প্রধান অতিথি হতে হবে। কিন্তু আমি গিয়ে দেখলাম, একটি ছোট্ট কলেজের অনুষ্ঠান। তাতে রবিশঙ্কর ছিলেন না। আর পদকের বিষয়টিও ছিল ভুয়া। তখনই আমার মনে হয়, এটি প্রতারণা। এ ঘটনার পর ২০০৪ বা ২০০৫ সালের দিকে আমি জাপানের একজন মেয়রের আমন্ত্রণে দেশটিতে যাই। তখন টোকিওতে আমার সঙ্গে দেখা করেন দারাদ। সে সময় আজুমা পরিবারের সঙ্গে আমি তাঁর হূদ্যতা দেখেছি।’
এলাকায় দারাদের রাজনীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এবাদুর রহমান বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, তিনি নাইন বা টেন পর্যন্ত পড়েছেন। স্কুলে তাঁর নাম ছিল বদরুল ইসলাম। কিন্তু কীভাবে দারাদ হলো জানি না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি নিজেকে বিএনপির আন্তর্জাতিক ও কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন। কিন্তু তিনি এই পদে ছিলেন না।’ এলাকায় জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় এমন কোনো কেন্দ্র থাকলে আমিই আগে জানতাম।’ 
বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাফিজও বলেন, বড়লেখায় এমন কোনো সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই।
দারাদ নিজেকে সাইফুর রহমানের আত্মীয় বলেও প্রচার চালান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম নাসের রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দারাদ আমার দলের কর্মী এবং বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু কোনোভাবেই আমাদের আত্মীয়স্বজন নন।’ দারাদের প্রতারণার বিষয়ে নাসের রহমান বলেন, ‘আমি তাঁকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি, জাপানে কী করেন, কিন্তু তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। বলতেন কম্পিউটার বিক্রি করি।’ 
দারাদকে বিশ্বভারতীতে দেখেছেন এমন একজন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী প্রথম আলোকে বলেন, দারাদ অভিনয় শিখতে কিছুদিনের জন্য এসেছিলেন। তবে পড়ালেখা করেননি। ছাত্র-সংসদেরও কিছু ছিলেন না। ওখানে গন্ডগোল করে পালিয়ে যান।
মাকে নিয়েও প্রতারণা: জাপানি অধ্যাপক আজুমার কাছে দারাদ নিজের মাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সার্জন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে। কিন্তু এলাকার লোকজন জানান, দারাদের মা লেখাপড়াই জানেন না।
তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনামউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি এলাকার চেয়ারম্যান। ৪০ বছর ধরে এলাকায় আছি। সবার খোঁজখবর জানি। দারাদের বাড়িতে অনেকবার গেছি। তাঁর মা সার্জন তো দূরের কথা, লেখাপড়াই জানেন না। তিনি পুরোপুরি গৃহিণী। বয়স ৮০-৮৫ হবে।’
দারাদ যা বলেন: রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে কেন এত আগ্রহ জানার জন্য দারাদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি একজন রবীন্দ্রপ্রেমী। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রসংগীতে অনার্স ও মাস্টার্স করেছি। এর পর থেকে রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে আমার অনেক আগ্রহ।’ রাজনীতিতে কীভাবে এলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শান্তিনিকেতন ছাত্র-সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম আমি। এই সূত্রেই রাজনীতিতে আসা। ২০০৬ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু পাইনি। সামনে পেলে এলাকার মানুষের সেবা করব।’ জাপানি অধ্যাপক আজুমাকে চেনেন কি না, জানতে চাইলে দারাদ বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে তো আমার বাবা-ছেলের সম্পর্ক।’
আজুমাকে জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা এনেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি খেপে যান। বলেন, ‘অধ্যাপক আজুমা আমার বাড়িতে ছয়-সাতবার এসেছেন। তিনিই বড়লেখায় একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করতে চেয়েছিলেন। তাঁকে জমি দেখিয়েছিলাম। কোনো টাকা নিইনি।’ এ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে দারাদ বলেন, ‘এটি তো আমার আর আজুমার বিষয়। এখানে আপনি আসছেন কেন? উনি তো আর আপনার কাছে অভিযোগ করেননি।’
এসএসসি পাস না করে শান্তিনিকেতনে পড়লেন কীভাবে, জানতে চাইলে দারাদ বলেন, ‘এসএসসি পাস করেছি।’ কত সালে? ক্ষুব্ধ দারাদের উত্তর, ‘কাগজপত্র দেখে বলতে হবে। সব তো মুখস্থ থাকে না।’
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন মৌলভীবাজারের জুড়ী প্রতিনিধি কল্যাণ প্রসূন)

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More