Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label প্রধানমন্ত্রী. Show all posts
Showing posts with label প্রধানমন্ত্রী. Show all posts

Friday, November 4, 2011

'খালেদার আশা ছিল সেনাবাহিনী তাদের জেতাবে'

  নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন সেনাবাহিনী যেন ভোট 'চুরি' করে তাদের জিতিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলে বলেন, "নারায়ণগঞ্জে কী এমন ঘটনা ঘটলো যে সেখানে [নির্বাচনে] সেনা মোতায়েন করতে হবে?"

"এমন কোনো পরিস্থিতি হয়নি।" উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সেনা মোতায়েনের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে হঠাৎ করে চিঠি দিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কমিশন যে বৈঠক করেছে সেখানে সেনাবাহিনীকে ডাকেনি।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তিনি [খালেদা জিয়া] আশা করেছিলেন সেনাবাহিনী এসে ভোট চুরি করে তাদের জিতিয়ে দেবে। সেনাবাহিনীর দায়িত্ব কি ভোট চুরি করা?"

নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র সাত ঘণ্টা আগে বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে হাসিনা বলেন, "সেনাবাহিনী মোতায়েন না করায় মাঝরাতে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। সেনাবাহিনীকে কেন ভোট চুরির কাজে ব্যবহার করতে চান তিনি?"

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সহযোগিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের নির্বাহী সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী দেওয়া হয়েছে।

সেনা মোতায়েন না হওয়ায় সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে বলে যারা সমালোচনা করছে তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটেনি।"

সেনা মোতায়েন না হওয়াকে 'সংবিধান লঙ্ঘন' হিসেবে অভিহিত করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন 'অকার্যকর' সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে সেনাবাহিনী সরকার-প্রধানের [প্রধানমন্ত্রী] অধীন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "সরকার-প্রধানই সিদ্ধান্ত নেবেন সেনাবাহিনী ব্যারাকের বাইরে যেতে পারে কি পারে না।"

সেনা মোতায়েন না করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, "নির্বাচন কমিশন এমন একটা সময় সেনাবাহিনী চেয়ে চিঠি পাঠালো, যখন দেশের বাইরে আমরাও ব্যস্ত ছিলাম।"

নির্বাচন কমিশন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দিলেও শেষ পর্যন্ত সেনা মোতায়েন হয়নি। এক নির্বাচন কমিশনার বলেছেন এ বিষয়ে জানতে চেয়ে তারা সরকারকে চিঠি দেবেন।

গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী দল সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানকে এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
ওই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র সাত ঘণ্টা আগে নির্বাচন বর্জন এবং দল সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার ঘোষণা দেয় বিএনপি।

যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রসঙ্গ

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত-বিএনপি নেতাদের মুক্তি দাবি করে খালেদা জিয়ার স¤প্রতি দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজকে উনি(খালেদা জিয়া) মাঠে নেমেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে।"

শেখ হাসিনা বলেন, "এই ঘৃণ্য অপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হতে হবে। জনগণ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।"

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা জনগণের জবাব পেয়ে গেছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "উনি যে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন- জাতি তা পছন্দ করেনি।"

"একজন [সেলিনা হায়াৎ আইভী] নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আর আরেকজন [শামীম ওসমান] জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। [নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র নির্বাচনে] একজন এক লাখের ওপর ভোট পেয়েছেন। আরেকজন, এক লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন।" যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

টক শো

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী দেওয়া হয়নি বলে 'সংবিধান লঙ্ঘন' হয়েছে বলে বিভিন্ন টেলিভিশন টক শো'তে যারা সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের পাল্টা সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, "২০০৩ ও ২০০৪ সালে নির্বাচনে সেনাবাহিনী চেয়ে তখনকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার [এম এ] সাঈদ সাহেব নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। তখন সেনাবাহিনী দেওয়া হয়নি। সে চিঠি আমাদের কাছে আছে।"

ওই দুই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করায় সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছিলো কি হয়নি- তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।


'এখনো রক্তের পিপাসা মেটেনি'

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে বিনাবিচারে 'অগণিত' সেনা সদস্য হত্যা করা হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, "৭৫-এর পর সেনাবাহিনীতে ১৮টি ক্যু হয়েছিলো। শেষ ক্যু'তে জিয়াউর রহমান মারা যান। প্রতিটি ক্যুর পর সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে ছুটিতে ছিলো। তাদের ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, "জিয়াউর রহমান দেশকে খুনীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলেন। তার স্ত্রী বাংলাদেশকে জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের দেশে পরিণত করেছে।"

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভনেত্রী বলেন, "প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি মদদ ছাড়া কী এই গ্রেনেড হামলা হতে পারে ?"

কারো নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এখনো রক্তের পিপাসা মেটেনি।"

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভনেত্রী বলেন, "জাতির পিতা এবং জাতীয় চার নেতার খুনীরা যেন বিদেশে আশ্রয় পায়- সে ব্যবস্থাও করেছিলো জিয়াউর রহমান।"

"পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে কর্মকর্তা এই ব্যবস্থা করেছিলেন, তিনি এখন খালেদা জিয়ার পাশে রয়েছেন। তিনি এখন বিএনপি'র নেতা," যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলেও জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে সবাইকে মুক্ত করে দেন এবং যারা দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলো তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।

আরেক সেনা শাসক এইচএম এরশাদের আমলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় বঙ্গবন্ধুর খুনীরা দেশে রাজনীতি শুরু করে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন- দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Monday, September 5, 2011

'প্রশ্নবিদ্ধ মন্ত্রীর কাঁধে আ. লীগের ভবিষ্যৎ'


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের দায়িত্ব এমন এক মন্ত্রীর কাঁধে, যার সততা প্রশ্নবিদ্ধ- যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সম্পর্কে এমন মূল্যায়নই ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি, যা প্রকাশ করেছে উইকিলিকস।

গতবছর ১০ ফেব্র"য়ারি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে পাঠানো এক গোপন তারবার্তায় মরিয়ার্টি লিখেছেন, "দুর্নীতির অভিযোগ এখনো যোগাযোগমন্ত্রীকে ঘিরে আছে। তিনি যে পদ্ধতিতে কাজ করেন, তার বেশ কিছু সমস্যার কথা বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন। তাছাড়া চীনের সঙ্গে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টিও সবার জানা।"

প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবলের সঙ্গে মরিয়ার্টির এ বার্তাটিও গত ৩০ অগাস্ট প্রকাশ করেছে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হৈ চৈ ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস। এর আগে গত বছর বিভিন্ন দেশে দূতাবাসের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিনিময় করা আড়াই লাখেরও বেশি গোপন বার্তা প্রকাশ করে এই ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিপাকে ফেলে দেয়।

মরিয়ার্টির পাঠানো এই বার্তার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ এর ৩ ফেব্র"য়ারি যোগাযোগমন্ত্রীর দেওয়া এক ভোজসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই আবুল হোসেনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তার কথা হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সহযোগিতার প্রশংসা করলেও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) শর্ত নিয়ে আপত্তি তুলে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে তদবির করতে অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন যে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের নিশ্চয়তার জন্য খুবই জরুরি- সে বিষয়টিও মরিয়ার্টিকে বুঝিয়ে বলেন আবুল হোসেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য কাজের অনেক সুযোগ আছে- এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে তিনি ঢাকায় উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণেও আমেরিকার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বড় বড় প্রকল্প নিয়ে তদবির চালিয়ে গেলেও সময়মতো মহাসড়ক মেরামত না করায় আবুল হোসেন স¤প্রতি সরকারের ভেতরে-বাইরে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন।

সড়কের নাজুক দশার কারণে গত রোজায় রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে গাজীপুর হয়ে ১৩টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিকরা। এছাড়া দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা বাড়তে থাকায় সড়কগুলোর অবস্থা নতুন করে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন মহল থেকে যোগাযোগমন্ত্রীকে অপসারণেরও দাবি ওঠে।

সময়মতো সড়ক মেরামত না করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এক বৈঠকে যোগাযোগমন্ত্রীকে তিরস্কার করেন। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঈদের ছুটি বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক মেরামত শুরু হয়।

পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে আবুল হোসেন সেই ভোজসভায় রাষ্ট্রদূতকে বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এই প্রকল্পের জন্য ঋণ দিতে রাজি হলেও জাইকা চুক্তিটি দুটি ভাগে ভাগ করে দুই প্রতিষ্ঠানকে সেতুর সাব ও সুপার স্ট্রাকচার নির্মাণের দায়িত্ব দিতে বলছে। সেক্ষেত্রে জাইকা সাব স্ট্রাকচারের জন্য অর্থায়ন করবে।

কিন্তু এ প্রকল্পের অন্য উন্নয়নসহযোগীরা জাইকার এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে জানিয়ে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে বলেন, দুই কোম্পানিকে কাজ দিলে ভবিষ্যতে যে কোনো সমস্যার জন্য ঠিকাদাররা পরস্পরের ওপর দোষ চাপানোর সুযোগ পাবে। এতে জটিলতাও বাড়বে।

"জাইকা যাতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে- সেজন্য জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও আমেরিকা সরকারের সহযোগিতা চান মন্ত্রী", বলা হয় মরিআর্টির তারবার্তায়।

২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জন্য গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৬ জুনের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলার, এডিবির সঙ্গে সাড়ে ৬১ কোটি ডলার, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার এবং জাইকার সঙ্গে ৪১ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের বাকি অর্থের যোগান সরকারই দেবে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, নদীর ওপর সেতুর মূল দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। আর দুই পাশে সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার।

সেতুর নির্মাণকাজ তদারকির জন্য ইতোমধ্যে একটি বিদেশি সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এ সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই দেশের দীর্ঘতম সেতু নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তায় বলা হয়েছে, "আবুল হোসেন ও রাষ্ট্রদূত আলোচনায় একমত হয়েছেন যে, অনেক কেম্পানিই পদ্মা সেতুর কাজ পেতে আগ্রহী হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এরইমধ্যে ১৩টি প্রতিষ্ঠান তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রদূত তাকে একটি মার্কিন কোম্পানির কথা বলেছেন যেটি সেতু প্রকল্পের জন্য নদী খননের কাজ পেতে আগ্রহী। এছাড়া দরপত্র ডাকা হলে যুক্তরাষ্ট্রের আরো কোম্পানি নিশ্চিতভাবেই এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাবে।"

'চাক্ষুস প্রমাণ'

মরিয়ার্টি তার সরকারকে পাঠানো ওই বার্তায় বলেন, "নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে যোগাযোগমন্ত্রীর অন্য দুটি পরিকল্পনা হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক স¤প্রসারণ। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক স¤প্রসারণের ২০ কোটি ডলারের কাজের জন্য ১০টি দরপত্রে সাতটি বিদেশি ও তিনটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।"

এছাড়া একটি উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও মন্ত্রী মরিয়ার্টিকে জানান, যেটি বাস্তবায়ন করা হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে।

এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়ে আবুল হোসেন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, "মহানগরীতে যুক্তারাষ্ট্রের অর্থায়নে আমরা এমন একটি প্রকল্প চাই, যা হবে দুই দেশের সম্পর্কের 'চাক্ষুস' প্রমাণ।"

রেলের বেসরকারিকরণ

বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে আবুল হোসেন মরিয়ার্টিকে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন স¤প্রসারণের পাশাপাশি এই রেলপথকে 'ডাবল লাইন' করার কাজও শিগগির শুরু হবে।

এছাড়া ঢাকার যনজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলিভেডেট রেল ব্যবস্থা চালুর দায়িত্ব দিয়েছেন জানিয়ে আবুল হোসেন বলেন, জাইকা ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।

রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রী জানান, তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি স্বাধীন 'কর্পোরেট' প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চান, যার পরবর্তী ধাপ হবে বেসরকারিকরণ। এতে প্রতিষ্ঠানটির দক্ষতা ও কাজের মান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মরিয়ার্টি তার বার্তা শেষ করেছেন এভাবে- "যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোট নিশ্চিত করার মিশন সফল করতে মন্ত্রী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি যেসব বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কথা বলেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ব্যবসার বিপুল সুযোগ রয়েছে। ঢাকা দূতাবাস এই সুযোগের বিষয়টি প্রচার করার পাশাপাশি আগ্রহী মার্কিন কোম্পানিগুলো যাতে বৈধ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব কাজ পেতে পারে, সেই চেষ্টা করবে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Thursday, August 11, 2011

শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধান


শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা
যুক্তরাষ্ট্রের টাইম সাময়িকী প্রকাশিত ২০১১ সালে বিশ্বের ১২ প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এই তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছেন। সবার ওপরে আছেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়া থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা।
গত ৫ আগস্ট টাইম সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণে ২০১১ সালের বিশ্বের ১২ প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের একটি তালিকা দেওয়া হয়। তালিকায় স্থান পাওয়া প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের কর্মজীবনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণও তুলে ধরে টাইম সাময়িকী।
প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকায় ইংলাক সিনাওয়াত্রার পরে রয়েছেন—জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল (দ্বিতীয়), আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ দে ক্রিশনার (তৃতীয়), ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রোসেফ (চতুর্থ), অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড (পঞ্চম), লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যালেন জনসন স্যারলিফ (ষষ্ঠ), বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (সপ্তম), আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জোহানা সিগার্ডারডট্টির (অষ্টম), কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট লুরা সিনচিলা (নবম), ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট তারজা হ্যালোনেন (দশম), লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্ট দালিয়া গ্রেইবুস্কাইতে (১১তম) এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কামলা পার্সাড-বিসেসার (১২তম)।
টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যক্তিগত জীবনীর বিবরণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, হামলা থেকে বেঁচে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে তাঁর। সেখানে বলা হয়, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁর পরিবারের ১৭ জন সদস্য নিহত হন। কিন্তু বিদেশে অবস্থান করায় তখন তিনি বেঁচে যান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তাঁর একটি জনসভায় গ্রেনেড হামলায় ২০ জনের বেশি নিহত হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
টাইমের বিবরণে আরও বলা হয়, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। কিন্তু এখানেই তাঁর পথ চলা শেষ নয়। ২০০৯ সালে নির্বাচনে তাঁর দল আওয়ামী লীগ
প্রথম আলো

Tuesday, July 26, 2011

ইন্দিরা গান্ধীকে স্বাধীনতা সম্মাননা

একাত্তরে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্মাননা অর্পণ করা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্র্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে এক অনাড়ম্বর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ ও ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। সোনিয়া গান্ধী গত রোববার ঢাকায় আসেন অটিজম-বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে। বাংলাদেশ সরকার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী প্রায় পাঁচ শ বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা দেওয়া হবে। ইন্দিরা গান্ধীকে সম্মাননা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সর্বতোভাবে সহায়তা করেছেন, প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছেন, স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে সারা বিশ্বে কূটনৈতিক তৎ পরতা চালিয়েছেন, তাঁকে সম্মানিত করতে পেরে দেশবাসীও গৌরববোধ করছে। এমন একটি সময়ে এই সম্মাননা দেওয়া হলো, যখন সব সংশয় ও সন্দেহ পেছনে ফেলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নবযুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই হওয়ার কথা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে দুই দেশের মধ্যে স্থল ও রেলওয়ে ট্রানজিটসুবিধা বিনিময়েরও প্রস্তুতি চলছে। এই দুটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমনভাবে বিন্যস্ত যে পারস্পরিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে আন্তযোগাযোগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।
বিলম্বে হলেও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশের এই রাষ্ট্রনেতাকে স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জানানো হলো। উত্তম হতো, যদি স্বাধীনতার সম্মাননা জানানোর বিষয়টিও আমরা জাতীয় মতৈক্যের ভিত্তিতে করতে পারতাম, এ নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হতো। আরও আনন্দের হতো, যদি এ রকম একটি বিরল ও ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যেত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে আমাদের বৈরী রাজনীতির কারণে সেটা সম্ভব হলো না। তবে প্রধান বিরোধী দল সোনিয়া গান্ধীর বাংলাদেশ সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের সহায়ক হবে বলে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, তা ইতিবাচক। রাজনৈতিক পথ ও মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও পররাষ্ট্রনীতি তথা নিকট প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আমাদের জাতীয় নেতৃত্ব একযোগে কাজ করবে—এটাই প্রত্যাশিত।
বিদেশি নাগরিকদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি যে লক্ষ্য ও আদর্শ সামনে রেখে একাত্তরে এ দেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে জাতীয় মুক্তির মহাসমরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই লক্ষ্য ও আদর্শ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই আত্মজিজ্ঞাসাও জরুরি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা কেবল মুখে উচ্চারণই যথেষ্ট নয়, আমাদের চিন্তা ও কর্মে এর যথাযথ প্রতিফলন থাকতে হবে। স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে এটাই দেশবাসীর ঐকান্তিক প্রার্থনা।

Sunday, July 24, 2011

প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষমা বৈধ নয়

‘তিনি একজন আইনজীবী হয়ে কীভাবে একজন আইনজীবীর খুনিকে ক্ষমা করতে পারলেন?’
—বেগম নুরুল ইসলাম

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হাটে হাঁড়ি ভেঙেছেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় দণ্ডিত আসামি বিপ্লবের দণ্ড মওকুফের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি। আইনমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সরকার পরিচালনার রুলস অব বিজনেসে লেখা আছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৯ অনুচ্ছেদ-সংক্রান্ত বিষয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবে। তবে এ ধরনের নথি শুরুতেই ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যায়। প্রথমেই বলে নিই, এটা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নয়। মন্ত্রিসভার ক্ষমা নয়। ক্ষমাহীন এই ক্ষমার দায় প্রধানমন্ত্রীর। পত্রিকাগুলো যদি বড় বড় শিরোনাম করত কার্যত প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা, সেটা বেশ হতো। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম কনস্টিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ বইয়ের ৩২২ পৃষ্ঠায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বরাতে লিখেছেন, ‘অন্যান্য ক্ষমতার মতো এই ক্ষমতাও রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রয়োগ করতে হয়।’ সুতরাং এই ক্ষমা রাষ্ট্রপতির নয়।
একটি মিল আছে। ২০০৫ সালে সুইডেনপ্রবাসী জিন্টুর মৃত্যুদণ্ড মওকুফের ঘটনায় সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দোহাই দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের আইনমন্ত্রীও তা-ই দিলেন। কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রে এভাবে দায় এড়ানো সম্ভব নয়। বিপ্লব ও জিন্টুদের ক্ষমার আসল দায় প্রধানমন্ত্রীর, সংসদের কাছে যৌথভাবে মন্ত্রিসভার।
সুরঞ্জিতের সুরে মওদুদও বলেছেন, রাষ্ট্রপতিকে দায়ী করা যাবে না। এ দাবি সঠিক, কিন্তু নিরঙ্কুশ অর্থে নয়। কারণ, সংবিধান এ-সংক্রান্ত নথিতে ‘মেকানিক্যালি’ সই দিতে তাঁকে বলেনি। যদি জানতাম, তিনি পুনর্বিবেচনার জন্য নথিটি অন্তত একবার ফেরত পাঠিয়েছিলেন কিংবা দ্য স্মিথ বর্ণিত সতর্ক ও পরামর্শ দেওয়ার ঐতিহ্যগত দায়িত্ব পালনে ব্রতী ছিলেন, তাহলে কথা ছিল। অবশ্য এই রাষ্ট্রপতি রাবারস্ট্যাম্প হিসেবে নিজেকে ঘোষণা দিয়েছিলেন। শপথ নেওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, তাঁর নেত্রী কোনো ভুল করতে পারেন না। তাঁর সামনে বিকল্প ছিল। মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন বা আরও লঘু দণ্ড দিতে পরামর্শ দিতে পারতেন। দোষীসাব্যস্তকরণ ও দণ্ড দুটো আলাদা বিষয়। তাই ক্ষমা শর্ত ও নিঃশর্ত হতে পারে। শুধু দণ্ড ক্ষমা করলে আইনের চোখে দণ্ডিতের ‘কনভিকশন’ থেকে যাবে। এ ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, তা জানি না।
এটি মূলত ব্রিটেনের অনুসৃত ‘রয়্যাল প্রিরোগেটিভ’ থেকে এসেছে। ৪৯ অনুচ্ছেদে বাংলায় ‘অধিকার’ লেখা হলেও ইংরেজিতে কথাটি প্রিরোগেটিভ বা বিশেষাধিকার। ব্রিটেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বহু দেশের সংবিধানে এটা আছে এবং মূলত একই অর্থে ও ব্যাপ্তিতে। আমাদের জানামতে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের কোনো রায় নেই।
ভারতে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট বিপুলসংখ্যক মামলার বৈধতা পরীক্ষা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে তা ঘটেনি। আমাদের আদালত সম্ভবত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রথম আলোতে প্রকাশিত বক্তব্যের সূত্র ধরেই সুয়োমোটো রুল জারি করতে পারেন। কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রিট করতে পারেন। নুরুল ইসলামের স্ত্রীর সেই অধিকার তো অবশ্যই রয়েছে। সেনগুপ্তের ধন্যবাদ প্রাপ্য। কারণ, এই সিদ্ধান্ত যে চ্যালেঞ্জযোগ্য, সেই সত্য তিনি অকপটে উচ্চারণ করেছেন।
স্মরণাতীত কাল থেকে ব্রিটেনে এই রয়্যাল প্রিরোগেটিভের প্রয়োগ ঘটে আসছে। এর মূল ভিত্তি হচ্ছে নৈতিকতা ও জনকল্যাণ। বিপ্লবকে দেওয়া ফাঁসির রায় যে ভুল ছিল, সে দাবি কিন্তু সরকার এখনো করেনি। প্রাচীন ব্রিটেনের এক রাজা ক্ষমার আবেদন পেয়ে ভুলক্রমে তা আদালতে পাঠান। প্রধান বিচারপতি পুনঃ শুনানি করেন। এতে দণ্ডিত ব্যক্তি নির্দোষ প্রমাণিত হন। আদালতের মারাত্মক কোনো বিচ্যুতি বা ভুল শোধরাতেই এই বিধান রাখা। কোনো প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির খেয়ালখুশির প্রতিফলন ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই। ভারত বহুকাল এই ঘোরের মধ্যে থেকেছে যে রাষ্ট্রপতির এই বিশেষাধিকার সংসদের আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা চলে কি না। আদালত এর বৈধতা পরীক্ষা করতে পারেন কি না। এরপর ১৯৬১ সালে নানাভাতি মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে স্বীকার করেন যে রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতা বেড়ি পরানোর ঊর্ধ্বে নয়। ব্রিটিশ আইনবিদ ব্লাকস্টোন ও তাঁদের আদালত মেনেছেন যে সংসদ ‘রয়্যাল প্রিরোগেটিভ’ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আমেরিকান জুরুসপ্রুডেন্স বইয়ে লেখা আছে, ‘প্রত্যেক সভ্য দেশ স্বীকৃতি দেয় যে ক্ষমার ক্ষমতা উপযুক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনুগ্রহ ও মানবতার নিরিখে প্রয়োগ করা হবে। এ ধরনের ক্ষমতার বিধান ছাড়া একটি দেশ তার রাজনৈতিক নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে অযথার্থ ও ঘাটতিপূর্ণ থেকে যাবে।’ বাংলাদেশের নৃপতিরা যখন ৪৯ অনুচ্ছেদের দিকে চোখ তুলে তাকান, তখন তাঁদের বিবেক কী বলে? ‘রাজনৈতিক নৈতিকতা’ বলে কিছু কি অবশিষ্ট আছে?
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ১৯২৭ সালে বিডল বনাম পেরোহিচ মামলায় বিচারপতি হোমস এই ক্ষমতার অন্তর্নিহিত দর্শন সম্পর্কে বলেন, ‘ক্ষমা প্রদর্শন ঘটনাচক্রে ক্ষমতায় থাকা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত করুণা প্রদর্শনের বিষয় নয়। এটা সাংবিধানিক স্কিমের অংশ। যে ক্ষেত্রে এটা মঞ্জুর করা হয়, সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষের এই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটতে হবে যে একটি রায়ে, যা নির্ধারিত হয়েছে, তার চেয়ে ক্ষমা করার মধ্য দিয়ে জনকল্যাণ অধিকতর উত্তম রূপে নিশ্চিত হবে।’ বিপ্লব-জিন্টুরা যেভাবে ক্ষমা পাচ্ছেন, তার নৈতিকতা ও বৈধতা বিচারপতি হোমসের ওই উক্তির আলোকে যাচাইযোগ্য। এবং আমাদের এটা বিশ্বাস করার সংগত কারণ আছে যে লক্ষ্মীপুর আওয়ামী লীগের সভাপতির আবেদনে বিপ্লবকে ক্ষমা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ‘ব্যক্তিগত করুণা’। এর সঙ্গে জনকল্যাণের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এই ক্ষমা দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তথাকথিত ‘প্রয়োজনীয় অশুভ প্রক্রিয়া’কে আরও ভয়ংকর দিকে ধাবিত করবে। খুনিরা নৃত্য করবে।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী যাঁর মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করেছেন, সেটা দৃশ্যত আদালতের ভুল রায়ে একজন নিরীহ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তি নয়। বিপ্লব আরও দুটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। আইনের প্রতি তাঁর কখনো শ্রদ্ধা ছিল, এর কোনো প্রমাণ আমরা পাই না। একটানা ১০ বছরের বেশি সময় বিপ্লব আইনের চোখে পলাতক ছিলেন। আদালতে তাঁর তথাকথিত আত্মসমর্পণের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমার সইয়ের তারিখের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্পষ্ট।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, বিএনপি বা পরবর্তী সরকার এই সিদ্ধান্ত উল্টাতে পারবে কি না। নাগরিকের মনে এমন জিজ্ঞাসা খুবই স্বাভাবিক। অন্য ক্ষেত্রে তাঁরা তো এটাই দেখেন। গতকাল কথা হয় বিএনপির নিহত নেতা ও আইনজীবী নুরুল ইসলামের স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আইনগত সুযোগ থাকলে তিনি এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত। তবে তিনি গতকালই টক শোতে শুনেছেন, রাষ্ট্রপতি আইনজীবী ছিলেন। তাই তাঁর আকুল প্রশ্ন, ‘তিনি একজন আইনজীবী হয়ে কীভাবে একজন আইনজীবীর খুনিকে ক্ষমা করতে পারলেন?’
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের প্রতীয়মান হয়, এই ক্ষমা অবৈধ ও গুরুতররূপে সংবিধানের চেতনানাশক। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও ড. আনিসুজ্জামান আইনকোষ-এ লিখেছেন, ‘একবার ক্ষমা মঞ্জুর করা হইলে আসামিকে বিচারের সম্মুখীন করা যায় না এবং দোষী সাব্যস্ত করা হইয়া থাকিলে শাস্তি প্রদান করা যায় না। অভিযুক্ত অথবা শাস্তি প্রদান করিবার বিরুদ্ধে ক্ষমাপ্রদর্শনের অজুহাত খাড়া করিবার দায়িত্ব ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তির। যদি তিনি যতশীঘ্রসম্ভব তাহা না করেন, তবে তিনি তাহা পরিত্যাগ করিয়াছেন বলিয়া সাব্যস্ত হইবে।’ আমরা মনে করি, বিপ্লবের বাবার আবেদনটি ছিল তামাদি এবং সে কারণেই তা পরিত্যক্ত। কারণ, রায়ের পরে ‘যতশীঘ্রসম্ভব’ বলতে অর্ধযুগ পেরোনো কোনো সময়কে কল্পনাতে আনাও এক কষ্টকল্পনা।
বিপ্লবের দণ্ডের তারিখ ৯ ডিসেম্বর, ২০০৩। গত ৬ এপ্রিল বিপ্লব আত্মসমর্পণ করেন। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে আড়াই বছর হয়ে গেছে। কিন্তু বোঝাই যায়, ম্যানেজ করতে সময় লেগেছে। অনুমান করতে পারি, আবেদনটি ৬ এপ্রিলের পর করা হয়েছে। পলাতক অবস্থায় তাঁর আবেদন করার কথা নয়। অবশ্য সেটাও যদি ঘটে, অবাক হব না। জিন্টুর দণ্ড মওকুফের ঘটনায় আমরা ধারণা পেয়েছিলাম যে সুপরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন করা হয়েছিল। বিপ্লবের ক্ষেত্রে সে রকম কিছু শুনতে আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু বাংলাভিশনের এক আলোচনায় মাহমুদুর রহমান মান্না আমাকে প্রশ্ন করেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে উল্লেখ করেন যে এই দণ্ড মওকুফে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একমত হননি। বরং তা ৎ ক্ষণিক তিনি নাকি সিদ্ধান্তের যথার্থতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, দণ্ড মওকুফের এই সিদ্ধান্ত বাতিল বা প্রত্যাহার করা সম্ভব কি না। দৃষ্টান্ত বিরল। তবু খুঁজে দু-একটি পেয়েছি এবং আমাদের বিবেচনায় তা অকাট্য। ১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারি। শাহবাজ নামের এক ব্যক্তির খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড হলো। লাহোর হাইকোর্টে আপিল হলো। দণ্ড হ্রাস পেয়ে তিনি যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত হন। ১৯৫৩ সালের শেষ দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাই পাঞ্জাব সরকারের কাছে দণ্ড মওকুফের আবেদন জানান। ১৯৫৪ সালের আগস্টে প্রাদেশিক সরকারের আদেশে ১৪ আগস্ট থেকে দণ্ড মওকুফ কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ১৩ আগস্ট অর্থা ৎ ওই আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই পাল্টা আদেশ দিয়ে পূর্ববর্তী দণ্ড মওকুফের আদেশ বাতিল করা হয়। ফেডারেল কোর্টের কাছে আবেদনকারী এই নালিশ নিয়ে যান যে প্রাদেশিক সরকার একবার দণ্ড মওকুফ করে তা আর বাতিল করতে পারে না। এই যুক্তির পক্ষে ভেংকট যশোবন্ত দেশপান্ডে বনাম সম্রাট (দ্বিতীয়) মামলার দৃষ্টান্ত হাজির করা হয়। এতে অপরাধীদের দণ্ড মওকুফের ঘোষণা একইভাবে একটি নির্দিষ্ট তারিখ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এ সময়ে নাগপুর সরকারের আইন বিভাগের একজন কর্মকর্তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এক চিঠি দিয়ে জানান, ওই দণ্ডিতদের মুক্তি দেওয়া যাবে না। পরে নাগপুরের ফুল বেঞ্চ এ মর্মে একমত হন যে ‘কাউকে ক্ষমা প্রদর্শনের পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া যায় কি না, তা সংশয়পূর্ণ। তবে তেমন সুযোগ যদি থাকেও, তাহলে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর সে ক্ষমতা সরকারের থাকে না।’ এ রায়ে দণ্ডিতরা মুক্তি পেয়েছিলেন।
বিপ্লবের ক্ষেত্রে নিশ্চয় ‘সেই নির্দিষ্ট সময়’ পার হয়ে যায়নি। নাগপুরের দণ্ডিতরা বিপ্লবের মতো দুর্ধর্ষও ছিলেন না। তাঁরা জোড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন না। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের ফেডারেল কোর্ট শাহবাজ মামলায় কী বলেছিলেন, সেটা প্রাসঙ্গিক। পাকিস্তানের ফেডারেল কোর্ট দেখেন, পাঞ্জাব সরকার দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশও দেয়নি। এমনকি নির্দিষ্ট তারিখের আগেই তারা পুনর্বিবেচনা করেছে। দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত বাতিল তাই আইনের চোখে বৈধ।
এই যুক্তির সপক্ষে আমাদের বরেণ্য বিচারকদের রায়ও আছে। বিচারপতি মোর্শেদ, বিচারপতি সাত্তার ও বিচারপতি সায়েমের সমন্বয়ে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের ফুল বেঞ্চ ১৯৬৩ সালে বহুল আলোচিত কর্নেল ভট্টাচার্যের মামলার রায় দিতে গিয়ে ওই শাহবাজ ও দেশপান্ডে মামলার রায় বিবেচনায় নেন। এবং তাঁরা এ সম্পর্কে একটি অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছান। আর তা হলো, সরকার কারও দণ্ড মওকুফ করে তা বাতিল করতে পারে। তবে অসময়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। সুতরাং আমরা দেখি রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতার প্রয়োগ প্রত্যাহারযোগ্য। আইনজীবী রাষ্ট্রপতি সেটা অন্তত বুঝবেন।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং না থাকা, রায়ের অর্ধযুগ পরে ক্ষমার আবেদন এবং সর্বোপরি রায় প্রদানে কোনো গলদ না থাকা ইত্যাদি কারণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা ঘোষণার সিদ্ধান্ত বৈধ বলে প্রতীয়মান হয় না। আর সে কারণেই আমরা তা প্রত্যাহারযোগ্য মনে করি। যদি সেটা না করা হয়, তাহলে বাকি রইল আদালতের শরণাপন্ন হওয়া। টিভির টক শোতে অনেককে দেখি এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে। মাহমুদুল ইসলামের মতে, ‘মেরিটে সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রয়োগ বিচারিক তদন্তের বাইরে। কিন্তু আইনের শাসন যখন সাংবিধানিক ম্যান্ডেট, তখন ক্ষমতার কোনো প্রয়োগই একনায়কসুলভ বা বৈষম্যমূলক হতে পারে না। একনায়কসুলভ বা খেয়ালখুশিমতো সিদ্ধান্ত বাতিল।’ এই ক্ষমা সন্দেহাতীতভাবে বৈষম্যমূলক। এবং সে কারণে তা আদালতের তদন্তযোগ্য।
ভারতের খ্যাতিমান বিচারপতি কৃষ্ণা আয়ারের একটি উক্তি দিয়ে শেষ করি। ১৯৯৮ সালে শরণ সিং বনাম উত্তর প্রদেশ মামলায় তিনি বলেন, ‘কোনো মুখ্যমন্ত্রীর খেয়াল চাপল তিনি তাঁর জন্মদিনে ক্ষমা করে জেলখানা খালি করবেন, সেই পাগলামি মেনে নেওয়া সংবিধানের প্রতি চরম সন্ত্রাস।’
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com
মিজানুর রহমান খান  প্রথম আলো

Sunday, July 10, 2011

বাংলাদেশে কেউ না খেয়ে থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দরিদ্র মানুষের সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে কেউ না খেয়ে থাকবে না।
আজ শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) যুগপূর্তি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবন যাতে ভালোভাবে চলে, সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার বেতন-ভাতা বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার সামাজিক বেষ্টনীর আওতায় গত বছর ২০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮২টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। চলতি বছর ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৪টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এগুলোর মাধ্যমে বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন দরিদ্র ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মিসহায়ক ফাউন্ডেশনের অধীনে প্রায় ৮১ লাখ দরিদ্র মানুষের মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচনে আমাদের আরেকটি সফল উদ্যোগ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, আর্থিক ও সম্পদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ৪৮২টি উপজেলার ৬৪০টি গ্রামে এ প্রকল্পের কাজ চলছে। আমরা শিগগিরই দেশের সকল গ্রামে এ প্রকল্প সম্প্রসারণ করব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ন্যাশনাল সার্ভিস চালু করেছি। প্রবাসে শ্রমিক প্রেরণের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানকারী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২০০৫ সালে ছিল ৪০ শতাংশ। আর বর্তমানে তা ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ৮১৮ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য দূর করতে কেবল সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে না থেকে নিজেদের উদ্যোগী হতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের সুফল ভোগীদের পুরস্কার প্রদান করেন।

Monday, July 4, 2011

‘ক্ষমতা ছেড়ে দিলে দেশে থাকতে পারবেন গাদ্দাফি’


লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অন্তর্বর্তী জাতীয়পরিষদের (টিএনসি) প্রধান বলেছেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি যদি ক্ষমতা ছেড়ে দেন, তাহলে তিনি দেশে থাকতে পারবেন। এদিকে তুরস্ক টিএনসিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তবে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সব ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে চলেছেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি। তিনি বলেছেন, তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। গাদ্দাফির ঘনিষ্ঠজনেরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, লিবিয়ার নেতার ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।
টিএনসিপ্রধান মুস্তাফা আবদুল জলিল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাধান হিসেবে আমরা তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছি, তিনি যেন পদত্যাগ করে তাঁর অনুগত সৈন্যদের সেনাঘাঁটি ও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, তিনি দেশে থাকবেন, নাকি বিদেশে চলে যাবেন।’
মুস্তাফা আবদুল জলিল বলেন, ‘তিনি যদি লিবিয়ায় থাকতে চান, তাহলে আমরা তাঁর থাকার জায়গা নির্ধারণ করে দেব। এটা করা হবে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে। তাঁকে আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে চলাফেরা করতে হবে।’
গাদ্দাফির সাবেক বিচারমন্ত্রী টিএনসিপ্রধান আবদুল জলিল বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি বেনগাজিতে এই সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে প্রায় এক মাস আগে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ত্রিপোলি থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে লিবিয়ার জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধি হিসেবে টিএনসিকে স্বীকৃতি দিয়েছে তুরস্ক।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু বলেছেন, গাদ্দাফির চলে যাওয়ার সময় হয়েছে।
তুরস্ক লিবিয়ার বিদ্রোহীদের জন্য আরও ২০ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত মাসেও ১০ কোটি ডলার সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল দেশটি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাভুতোগলু বেনগাজিতে টিএনসিপ্রধান আবদুল জলিলের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বলেন, ‘লিবিয়ার জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে এসেছি। জনগণের ন্যায়সংগত দাবির বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে হবে। লিবিয়ার জনগণের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই কেবল তা অর্জন করা সম্ভব।’
আফ্রিকান ইউনিয়ন বিদ্রোহী ও ত্রিপোলির সরকারের মধ্যে আলোচনার যে উদ্যোগ নিয়েছে, বিদ্রোহীরা তা নাকচ করে দিয়েছে। বিদ্রোহীদের মুখপাত্র আবদেল হাফিজ ঘোগা বলেন, ‘আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। ওই উদ্যোগে গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে ও ঘনিষ্ঠজনদের প্রস্থানের কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’
এরই মধ্যে তুরস্কের ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার আরব টার্কিশ ব্যাংকের (এ অ্যান্ড টি) নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি।

ইংলাক সিনাওয়াত্রার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ


থাইল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। গত রোববার দেশটির ২৬তম সাধারণ নির্বাচনে তাঁর পুয়ে থাই পার্টি বিশাল ব্যবধানে জিতেছে।
২০০৬ সালে বড় ভাই সাবেক প্রধামনন্ত্রীথাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাই এখন ইংলাক সিনাওয়াত্রার সামনেও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি বড় ভাইয়ের পথে চলবেন, নাকি নিজের মতো স্বাধীনভাবে চলবেন—তা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইংলাকের জন্ম ১৯৬৭ সালের ২১ জুন থাইল্যান্ডের সান কামপায়েং গরপায়। তিনি বর্তমানে ব্যাংককভিত্তিক প্রপার্টি ডেভেলপার এসসি অ্যাসেট লিমিটেডের সভাপতি।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া ভোটারদের সতর্ক করে বলেছিলেন, ইংলাককে ভোট দেওয়া মানে থাকসিনকে ভোট দেওয়া। এর মানে, নির্বাসিত ওই নেতাকে ক্ষমা করা এবং তাঁর দেশে ফিরে আসার পথ সুগম হওয়া।
ইংলাকের এখন প্রমাণ করার সময় যে যারা তাঁর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, তাদের যথার্থ উত্তর দেওয়া এবং তিনি যে থাকসিনের প্রতিনিধির চেয়েও বেশি কিছু, তার প্রমাণ রাখা। যদিও তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর পারিবারিক পরিচিতি ব্যবহার এবং থাকসিনের জনপ্রিয় নীতি আবার চালুর অঙ্গীকার করেছিলেন।
সমালোচকেরা বলছেন, এর ফলে তাঁর ভাই থাকসিনই যেন আবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
ইংলাক ও থাকসিন দুজনেই বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে থাকসিন থাইল্যান্ডে ফিরবেন—এটা এখন আর কোনো গোপনীয় ব্যাপার নয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত থাকসিন সিনাওয়াত্রা বলেছেন, ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা তাঁর নেই।
তিনি গতকাল দুবাইয়ে বলেন, ‘আমি অনেক দিন দলের সঙ্গে ছিলাম। এখন সত্যিই অবসর চাই। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে ৬০ বছর বয়সে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিতাম। এখন আমার বয়স ৬২ বছর। সে সময় পেরিয়ে গেছে। থাইল্যান্ডে ফিরে রাজনীতিতে যোগ না দিয়ে বরং পেশাদার গলফার হয়ে যাব।’
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া দলের পরাজয়ের দায় নিয়ে গতকাল দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী পুয়ে থাই পার্টির জয়লাভ স্বীকার করে নিয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধান প্রায়ুথ চ্যান-ওকা বলেন, থাইল্যান্ডে আর কোনো সামরিক অভ্যুত্থান হবে না। সেনাবাহিনী জনগণকে সম্মান করে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাঁরা হস্তক্ষেপ করবেন না। সমস্যা হচ্ছে, সেনাবাহিনী এ ধরনের কথা আগেও বলেছে; কিন্তু কথা রাখেনি।
নির্বাচনে বিজয়ী পুয়ে থাই পার্টি পাঁচদলীয় জোট সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। ইংলাক সিনাওয়াত্রা গতকাল বলেন, ‘জনগণের সমস্যা সমাধানে আমরা পাঁচ দল একসঙ্গে কাজ করতে একমত হয়েছি। এখন জরুরি বিষয় হলো, আলোচনার মাধ্যমে মতৈক্যে পৌঁছানো।’
নির্বাচনে এই পাঁচ দল মোট ২৯৯টি আসন পেয়েছে। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী আপিসিতের দল ডেমোক্র্যাট পার্টি পেয়েছে ১৬৩ আসন। পুয়ে থাই পার্টির সঙ্গে যে চারটি দল যোগ দিতে সম্মত হয়েছে সেগুলো হলো: থাই পাট্টানা, চার্ট পাট্টানা, ফিউপানডিন ও মাহাচন। এই পাঁচদলীয় জোট সরকার থাইল্যান্ডের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্স।

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করছে থাইল্যান্ড

ব্যাংকক, জুলাই ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- ছয় বছরের মধ্যে ছয় প্রধানমন্ত্রী আর কখনো কখনো রাজনৈতিক সহিংসতা, রক্তপাতে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশটির ভাবমূর্তি ক্রমশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছিল।

এমন পরিস্থিতিতে সপ্তম জাতীয় নির্বাচন নিয়ে থাইল্যান্ডবাসীরা তেমন আগ্রহ না দেখালে দোষ দেওয়ার কিছু ছিল না।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে ভিন্ন একটি বিষয় ছিল। আর তাতেই হয়তো পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর থাইল্যান্ডবাসীর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে দেখা যায় তুমুল আগ্রহ। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিল জনগণ।

সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে সেই ভিন্নতা হচ্ছেন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। ৪৪ বছর বয়সী একজন নারী। দুই মাস আগেও যার রাজনীতিতে কোন বিচরণ ছিল না। তিনিই থাইল্যান্ডের পুয়ে থাই পার্টির বিস্ময়কর বিজয়ের আইকন। এর মধ্য দিয়ে ইংলাক অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে। আর তার পেছনে ছায়া হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারই ভাই নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা।

ইংলাক, বাবা-মায়ের দেয়া ডাক নাম পোও কখনো কোন সরকারি পদে আসীন হন নি। তাই তাকে প্রমাণ করতে হবে তিনিও পারেন দেশ চালাতে।

কিন্তু থাইল্যান্ডবাসীদের একটি অংশ বিশেষ করে নারীরা এ চ্যালেঞ্জের সুফল তার হাতে তুলে দিতে চায় এবং সেদেশের রাজনীতিতে নারীদের সম-অধিকারের জন্য আন্দোলনরত নারীরা বিষয়টিকে একটি বড় অর্জন, একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

ব্যাংকক মার্কেটে একটি সানগ্লাসের দোকানের মালিক ৪২ বছর বয়স্ক আরিরাক সায়েলিম বলেছেন, "আমি সবসময় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চাইতাম।"

তিনি আরো বলেন, "আমি অনেক পুরুষকে দেখেছি দেশ চালাতে গিয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। সম্ভবত এবার ভিন্ন ব্যাপার ঘটতে যাচ্ছে। নারী কী আর পুরুষ কী নয় এগুলো খুঁতখুঁতে ব্যাপার। তার বয়স এবং সাফল্যম-িত কর্মজীবনের ভিত্তিতে আমি বেশ নিশ্চিত, সে কাজটা ভালই পারবে।"

থাইল্যান্ডের ক্রাং ব্যাংকের প্রথম মহিলা নির্বাহী সহকারী-প্রধান যাওয়ালাক পুলথং বলেছেন, "অনেক নারীই যোগ্য, বিজ্ঞ এবং সত্যিই আজকের দিনে এ দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্যতা তাদের রয়েছে।"

তিনি আরো বলেন, "আমি মনে করি না কে কাজটি করতে পারবে আর করতে পারবে না। এক্ষেত্রে জেন্ডার একটি ইস্যু হতে পারে।"

ইংলাক তার ভাইয়ের জনপ্রিয় নীতিগুলো ফিরিয়ে আনতে এবং দরিদ্রদের জীবনমানের উন্নয়নের ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া ২০০৬ সালে সামরিক বাহিনী কর্তৃক তার ভাইকে অপসারনের প্রতিশোধ না নিয়ে, এই ছয় বছরের রাজনৈতিক সংকট দূর করে জাতীয় পুনর্গঠনের ব্যাপারেই তিনি বদ্ধপরিকর।


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/বিসিএস/সিআর/১১৪৮ ঘ.

Saturday, July 2, 2011

শেখ হাসিনার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক একটি লোকও নেই: আইন প্রতিমন্ত্রী

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক বাংলাদেশে একটি লোকও নেই। কারণ তিনি স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা।
গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত পপসম্রাট আজম খানের স্মরণসভায় আইন প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কামরুল ইসলাম বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো শ্রমিক ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিরোধী দলের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আন্দোলনের নামে বিরোধী দল প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায়।
আইন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে আজম খানের মতো হাজার হাজার যোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন, সে দেশে মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ষড়যন্ত্রকেই সফল হতে দেবেন না।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি চিত্রনায়ক ফারুক। সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম। বিজ্ঞপ্তি।

প্রথম আলো

Thursday, June 30, 2011

অযথা গণ্ডগোলের চেষ্টা করবেন না: প্রধানমন্ত্রী


undefined
শেখ হাসিনা
প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নতুন কোনো ফর্মুলা থাকলে এখনো নিয়ে আসতে পারেন। আমরা নিশ্চয়ই আলোচনা করব। কিন্তু সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে অযথা গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করবেন না। দেশের মানুষকে অহেতুক কষ্ট দেবেন না।’
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন বিল পাসের পর প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চ আদালতের রায় অনুসারেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সংবিধানের এই সংশোধনী পাসের ফলে জনগণের ক্ষমতায়ন ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। ইসলামী দলগুলো ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সংবিধানে এখন রাষ্ট্রধর্ম ইসলামও রাখা হয়েছে, অন্যান্য ধর্মের প্রতিও সম্মান রক্ষা করা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনী আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহার: খালেদা


undefined
খালেদা জিয়া
বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়া এ কথা বলেছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ও সরকার গঠন করেছিলেন, সাংবিধানিক শাসন পুনর্বহাল করেছিলেন। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকে এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী তিনি সংবিধানকে পুনর্বিন্যস্ত করেছিলেন। তিনি এ কাজগুলো করেছিলেন গণভোটের মাধ্যমে, জনগণের কাজ থেকে প্রাক-অনুমোদন গ্রহণের মাধ্যমে। পরে জনগণের নির্বাচিত সংসদও এসব কার্যব্যবস্থার অনুমোদন দেয়।
প্রথম আলো

Monday, June 27, 2011

ভালোর পসরা


ভালো চাই, ভালো 
ভালো নেবেন গো ভালো?
আরও ভালো...
আরও ভালোর পসরা নিয়ে কলম ধরেছেন অনেকে। যতই কাজ করেন। তাঁদের কিছুই ভালো লাগে না। তাঁদের বক্তব্য হলো, ‘এই সরকার (আওয়ামী লীগ) কিছুই করছে না, মানুষের অনেক আশা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হচ্ছে না। মানুষ হতাশ হয়ে যাচ্ছে, দেশ একদম ভালো চলছে না। দেশের অবস্থা খুবই খারাপ।’
লেখালেখি, মধ্যরাতের টেলিভিশনে টক শো, গোল টেবিল, লম্বা টেবিল, চৌকো টেবিল, সেমিনার—কোথায় নেই তাঁরা? তাঁদের এসব কথায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা প্রভাবও পড়ছে। বিভ্রান্ত হচ্ছে, অনেক সময় নিজের অজান্তে এই ডায়ালগ বলে দিচ্ছে। যাঁরা এটা করছেন, তাঁদের এই ‘বলার’ কথার ফুলঝুরি কি সব সময় অব্যাহত থাকে?
সব সরকারের আমলে? না না, তা শোনা যায় না। যেমন ধরুন, সামরিক সরকারের সময় তাঁদের কলমের কালি বা রিফিল থাকে না। কলম চলে না। মুখে কথা থাকে না। তখন বাঘের গর্জন বিড়ালের মিউ মিউয়ে পরিণত হয়। এখন যাঁদের কথায় টেলিভিশনের পর্দা ফেটে মনে হচ্ছে বেরিয়ে পড়বেন লাফ দিয়ে এক্কেবারে সরকারের ঘাড়ের ওপর। ‘সর্বনাশ’! পারলে এই মুহূর্তে সরকারের ঘাড়টাই ভেঙে দেবেন আরও ভালো কিছুর আশায়। এঁরাই আবার কখনো কখনো চুপ থাকেন।
তাঁদের ডায়ালগ বা বাক্যবিন্যাস অথবা উপদেশ শোনা যায়নি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর বা ৩ নভেম্বর জেলহত্যা, একের পর এক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, সিপাই-জনতার বিপ্লবের নামে একটার পর একটা ক্যু, তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডে। অন্যায়ভাবে ফাঁসি বা ফায়ারিং স্কোয়াডে সামরিক অফিসার ও সেনাদের হত্যা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্যাতন, রিমান্ড ও হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সময় তাঁরা চুপ থেকেছেন। তাঁদের বিবেক জাগ্রত হয়নি ভালো না মন্দ, তা দেখার জন্য। বরং ঘাপটি মেরে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন বাতাস কোন দিকে যায়, সেটা বুঝে নিয়ে সময়ের সুযোগে উদয় হওয়ার জন্য।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে তাদের সোচ্চার হওয়ার একটা নির্দিষ্ট ক্ষণ ছিল, সেটা হলো মিলিটারি ডিক্টেটরদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতা কেনাবেচার সময়। যাঁরা নিজেদের উচ্চ দরে বিক্রি করতে পারলেন তাঁদের একধরনের সুর। আর যাঁরা কপালে কিছু জোটাতে পারলেন না তাঁদের সুর হলো দৃষ্টি আকর্ষণীয়-অর্থাৎ ‘আমরাও আছি, ক্রয় করুন, সেল-এ পাবেন।’ অর্থাৎ (‘use me’.)|
এরপর যাঁরা অবশিষ্ট থেকে গেলেন, তাঁরা তখন বাতাস ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে সুর পাল্টিয়ে বিপ্লবী হয়ে গেলেন। এটা আমি ১৯৫৮ সালের জেনারেল আইয়ুব খানের মার্শাল ল জারির পর দেখেছি, আমাদের কত রাজনৈতিক ‘চাচার’ দল। যাঁরা আব্বা মন্ত্রী থাকা অবস্থায় নিজের বাড়িঘর সংসার ভুলে রাতদিন আমাদের বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়েছেন আর প্রশংসার ফুলঝুরি উড়িয়েছেন, তাঁরাই কেমন ডিগবাজি খেয়েছেন। সুর পাল্টিয়েছেন তাও দেখেছি। ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭৫, ১৯৮২, ১৯৯১ সালসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ দেখার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য আমাদের হয়েছে।
১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর যারা ভালো থেকে আরও ভালো, আরও ভালোও হয় না কেন বলে লেখালেখি করেছেন, মুখের বুলি আর কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছেন, সমালোচনায় জর্জরিত করেছেন, তাঁরাই সুর পাল্টিয়ে ফেলেছেন। যেমন একটা উদাহরণ দিচ্ছি: 
১৯৯৬ সালে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। খাদ্য উৎপাদন এক কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন ছিল। ২০০০ সালের মধ্যে ঘাটতি মিটিয়ে চাল উৎপাদন দুই কোটি ৬৯ লাখ মেট্রিক টনে বৃদ্ধি করলাম। কী শুনেছি? ‘না, আরও একটু ভালো হতে পারত।’
পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার ৭৯ লাখ মেট্রিক টনের বেশি অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন বাড়াল, তার পরও শুনে যেতে হলো, আরও একটু ভালো হতে পারত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চালের উৎপাদন কতটুকু বেড়েছিল? বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরের মধ্যে চার বছর কোনো উৎপাদন বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছিল। অর্থাৎ উৎপাদন ছিল নেতিবাচক।
আর একটি উদাহরণ বিদ্যুতের ব্যাপারে। ১৯৯৬ সালে বিদ্যুৎ কম বেশি ১৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হতো। চরম বিদ্যুৎ ঘাটতি। সঞ্চালন লাইনগুলো জরাজীর্ণ ছিল। দ্রুত সরকারি ও প্রথমবারের মতো করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন বৃদ্ধি করলাম। সঞ্চালন লাইন উন্নত করার কাজ শুরু করলাম। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য নীতিমালা গ্রহণ ও প্রকল্প প্রণয়ন করে গেলাম। ২০০১ সালের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন বৃদ্ধি করলাম, তখন শুনেছি না ‘আরও ভালো করা যেত।’ 
কোনো তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়া ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে গঙ্গা পানি চুক্তি করলাম। দীর্ঘদিনের একটা সমস্যার সমাধান হলো। দুই দশক ধরে চলা অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধান করে শান্তি চুক্তি করলাম। অথচ একশ্রেণীর কাছ থেকে কখনো এ বিষয়ে ভালো কথা শুনিনি। 
২০০১ সালের পয়লা অক্টোবর নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এল। কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছিল পাঁচ বছরে? যেসব প্রকল্পের কাজ শুরু করে গিয়েছিলাম, তার কয়েকটা শেষ হয়েছিল তাতে উৎপাদন যা বেড়েছিল তাও ধরে রাখতে পারেনি।
২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল, তারাও উৎপাদন বাড়াতে পারেনি। আমরা এসে পেলাম কত? তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট, যা রেখে গিয়েছিলাম তার থেকেও ১২০০ মেগাওয়াট কম। পাঁচ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা যে কিছু করতে পারেনি, সে সম্পর্কে এই ‘ভালোর আশাবাদীরা’ কী ভূমিকা পালন করেছিলেন? আরও ভালো করার জন্য ১/১১-এর পর যারা উচ্চ দরের ডিগ্রিসম্পন্ন ও ওজনদার ব্যক্তিবর্গ— তারাই বা কি উন্নতি করতে পেরেছিলেন?
সে কথায় পরে আসব, কারণ তারা তখন এ কথা বলেনি যে, আওয়ামী লীগ সরকার ভালো করেছিল, কাজেই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক। তারা তখন আরও ভালো মানুষের সন্ধানে ব্যস্ত ছিল, সৎ মানুষের সন্ধানে সার্চ লাইট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রের সৎকার, অর্থাৎ কবর দেওয়া।
এই ধরনের আরও অনেক দৃষ্টান্ত আমরা দিতে পারব। সব থেকে মজার কথা হলো, এই আরও ভালোর সন্ধানকারীদের নিশ্চুপ থাকতে দেখেছি ২০০১ সালের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই। প্রশাসনের ১৩ জন সচিবের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া নিয়ে যে শুরু, তা সামরিক-বেসামরিক প্রতিষ্ঠানকেও কীভাবে প্রভাবিত করেছে ও ভীতসন্ত্রস্ত করেছিল, তা তখনকার অবস্থা স্মরণ করলেই জানা যাবে। শপথ অনুষ্ঠান হলো বঙ্গভবনে, সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন। ফিরে এসে আর নিজের অফিসে ঢুকতে পারলেন না, কারণ চাকরি নেই। রেডিও-টেলিভিশনের মাধ্যমেই ১৩ সচিবসহ অনেক অফিসারের চাকরি খেয়ে ফেলেছেন। শপথ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তাঁর পরিষদ গঠন করেননি। ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ হয়নি তখনো, অফিসেও বসেননি, কারণ শপথ অনুষ্ঠান অফিস সময়সূচির পরে হয়েছিল। তখনই কীভাবে চাকরি থেকে অফিসারদের বরখাস্ত করে? এমনকি নিজের জিনিসপত্রগুলো গুছিয়েও আনার জন্য যে অফিসে যাবেন, তারও সুযোগ দেওয়া হয়নি।
গণভবনের টেলিফোন লাইনও কেটে দেওয়া হয়। আরও ভালোর ভক্তরা তখন এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ না করে বরং বাহবা দিয়েছিল।
প্রথম দিনের এই আচরণের মধ্য দিয়েই কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে ততবারই রক্তপাত ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে কখনো হয়নি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ও প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান যে পক্ষপাতদুষ্ট ও অসহিষ্ণু আচরণ দেখিয়েছিলেন, তাতে জাতি বিভ্রান্ত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের যে গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা ও বিশ্বাস, সে কারণেই গণতন্ত্রের স্বার্থে তখন আমরা নির্বাচন বয়কট করিনি। নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। এত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও ভোট পেয়েছিলাম সংখ্যার দিক থেকে বেশি কিন্তু সিট সংখ্যা ছিল কম।
আরও একটি কথা, সাহাবুদ্দীন ও লতিফুর রহমান দুজনই প্রধান বিচারপতি ছিলেন। আইনের ব্যবসাও করেছেন জীবিকার জন্য, আবার জাস্টিস হয়ে আইনের রক্ষাও করেছিলেন। কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর এখনো পেলাম না, সেটা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের অর্থাৎ জীবিত দুই কন্যার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য একটা আইন পার্লামেন্টে পাস করেছিল, সেই আইন বলবৎ থাকা অবস্থায় এবং সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ফোনের লাইন ও বিদ্যুতের লাইন কীভাবে কেটে দেয়? পানির লাইন কেটেছিল কি না বুঝতে পারিনি, কারণ পানির ট্যাংক তো ভরা থাকত, শেষ হতে সময় লাগে। একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীও সরকারি বাড়ি ছাড়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় পায়, কিন্তু আমাকে সে সময়টুকুও দেওয়া হয়নি কেন? বিবেকবান বা আরও ভালোর দল কে কে তখন এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন? 
আমার নামে ছড়ানো হলো, আমি গণভবন এক টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি, কিন্তু কেউ কি কোনো প্রমাণ দেখাতে পেরেছিল? পারেনি। কিন্তু মিথ্যা অপপ্রচারে ঠিকই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। সত্যটা কিন্তু কেউ বলেনি বা কোনো ডকুমেন্টও দেখাতে পারেনি। আমি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি, এ পর্যন্ত কোনো সরকারি প্লট নিইনি। 
২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপির ক্ষমতার আমল—১৫ জুলাই ২০০১ সালে যেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করল সেদিন থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর নেমে এল অমানবিক অত্যাচার। নির্বাচনের দিনে একদিকে বিএনপি ও জামায়াতের ক্যাডার দল, অপরদিকে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের নির্যাতনে নেতা-কর্মীরা ঘরে ঘুমাতে পারেননি। রেহানার বাড়ি দখল করে যখন পুলিশ স্টেশন করা হলো, তখনো কারও কাছ থেকে এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ শোনা যায়নি। অপারেশন ক্লিন হার্ট নামে যে তাণ্ডব সেনাবাহিনী নামিয়ে করা হয়েছিল এবং মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, তা নিশ্চয়ই মনে আছে। আওয়ামী লীগের রিসার্চ সেন্টার থেকে ১৫টা কম্পিউটার, ১০ হাজার বই, ৩০০ ফাইল, এক লাখ ফরম, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেন্টারটা তালাবদ্ধ করে রাখা হয় পাঁচটা বছর। এটা কি গণতন্ত্রচর্চা? তাদের কাছ থেকে একটা প্রতিবাদও শুনিনি এর পরই শুরু হলো র‌্যাব গঠন ও ক্রসফায়ার। তখন তো সবাই র‌্যাবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেবল আমিই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম ও প্রতিবাদ করেছিলাম, তখন এই বিবেকবানেরা আমার সমালোচনা করেছিল। কাজগুলো নাকি খুবই ভালো হচ্ছিল বলে মন্তব্য করেছিল। এখন অবশ্য উল্টোটা শুনি।
সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকেই চায়, কিন্তু তাদের ভোট দেওয়ার উপায় নেই। ভোটকেন্দ্রের ধারেকাছেও যেতে পারেনি। বিশেষ করে, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ যারা আওয়ামী লীগ বা নৌকায় ভোট দেয়, তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল ২০০১ সালের নির্বাচন চলাকালীন। তার পরও জনগণের ভোট আমরাই পাই কিন্তু সিট ঠিক গুনেই দেওয়া হয়। সরকার গঠন করার আগে থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের তাণ্ডব শুরু হলো। গ্যাং রেপ করেছে, ঠিক হানাদার পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালে যেভাবে নির্যাতন করেছিল, ঠিক সেভাবেই নির্যাতন চলছিল। একটা সুখবর হলো পূর্ণিমা ধর্ষণ কেসের আসামিরা সাজা পেয়েছে। সাধারণত, সামাজিক লজ্জার ভয়ে কোনো পরিবার মামলা করতে চায় না। পূর্ণিমা সাহস করেছে বলেই বিচার পেয়েছে। আমার মনে হয়, এই একটা দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। হাঁড়ি ভরা ভাত একটা টিপলেই তো বোঝা যায় সব ভাত সিদ্ধ হয়েছে কি না। ঠিক তেমনি একটা মামলার রায়ই প্রমাণ করে, কী ধরনের নির্যাতন বিএনপি ও জামায়াত দেশের মানুষের ওপর করেছিল। আমি এর বিস্তারিত বিবরণ দিতে চাই না, কারণ এত বেশি ঘটনা যে এখানে সব উল্লেখও করা যাবে না, শুধু এটুকুই বলতে চাই, তখন দেখেছিলাম অনেক বিবেকবান চুপ করে আছেন। মুখে কথাও নেই। কলমের জোরও নেই। তাদের জোর বাড়ে শুধু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে।
ঠিক স্বাধীনতার পর যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়তে সবাই ব্যস্ত। তখনো বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য ঘাটতি, দেশে দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে। আর বাংলাদেশে তো ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়া। দিনরাত পরিশ্রম করে শূন্যের ওপর যাত্রা শুরু করে দেশকে গড়ে তুলতে ব্যস্ত, তখন ‘আরও ভালোর’ দলের সমালোচনা শুনেছি। কিছু নাকি হচ্ছে না। তখনো দেখেছিলাম তাদের কলম ও মুখের জোর। আর পরিণতি মার্শাল ল জারি এবং স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন। স্বাধীনতার মূল চেতনা থেকে দেশকে পিছিয়ে নেওয়া। ক্ষমতা দখলের ও ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করার লক্ষ্যে মানুষ হত্যা। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সামরিক বাহিনীতে ১৯ ক্যু ও পাল্টা ক্যু হয়েছিল। দেশবাসীর অকল্যাণ হয়েছে, দেশ পিছিয়েছে। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও সেই ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মারা থেমে নেই। যতবার জনগণ তাদের পরাজিত করে, ততবার আবার তারা পরগাছার মতো বেড়ে ওঠে। এবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠেপড়ে লেগেছে। 
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন, ১৯-২০ মে সামরিক ক্যুর অপচেষ্টা হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংঘটিত সামরিক ক্যু গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতেও টালবাহানা করে আবদুর রহমান বিশ্বাস। এসব কারা এবং কেন করেছিল এসব কথা আমরা কেন বিস্মৃত হই?
দেশের অবস্থা কী? খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত আছে? ২০০১ সালে যে মোটা চাল মাত্র ১০ টাকা ছিল (আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে), সেই চাল ২০০৮ সালে ৪০-৪৫ টাকা দাম হয়েছিল, তা কমিয়ে ১৮ টাকায় আনা হয়। কৃষকের খরচ পোষানো হয়। প্রতি কেজি চাল ৩২-৩৪ টাকায় ঢাকার বাজারে এবং ঢাকার বাইরে ২৬-২৭ টাকায়ও পাওয়া যায়। সরকার ৪০-৫২ টাকায় বিদেশ থেকে চাল কিনে এনে মাত্র ২৪ টাকায় খোলাবাজারে বিক্রি করছে। ফেয়ার প্রাইস কার্ড, রেশন কার্ড, ভিজিএফ, ভিজিডিসহ বিভিন্ন উপায়ে খাদ্যনিরাপত্তা দিচ্ছে। না খেয়ে কেউ কষ্ট পাচ্ছে না। ৩৬ টাকায় বিক্রি হওয়া আটা ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাজেই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত আছে। আওয়ামী লীগ আমলে দেশে মঙ্গা হয় না। 
সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত, মানুষ নানাভাবে সাহায্য পাচ্ছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, স্তন্যদানকারী মা, সন্তানসম্ভবা গরিব মা, স্কুলে গমনকারী গরিব শিশুর মাসহ এ ধরনের নানাভাবে সামাজিক নিরাপত্তা সৃষ্টিকারী আর্থিক অনুদান সরকার দিয়ে যাচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখছে। গরিব মানুষের কষ্ট লাঘব হচ্ছে। ১৯৯৮ সালের বন্যার পর আওয়ামী লীগ সরকার নয় মাস দুই কোটি লোককে বিনা পয়সায় খাইয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে এসবই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা। ইতিপূর্বে আর কোনো সরকার এদিকে দৃষ্টি দেয়নি।
শিক্ষার হার, ভর্তির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, পাসের হার বাড়ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২৩ কোটি ২২ লাখ বই বিনা পয়সায় বিতরণ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সরকার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রায় ৭১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুই বছরেই ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অতিরিক্ত উৎপাদন করা হয়েছে।
গ্যাস উৎপাদন বেড়েছে, আরও বৃদ্ধির কাজ চলছে।
আইনশৃঙ্খলা অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তার প্রমাণ আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ, হজ, ঈদ, পূজা, বড়দিন, পয়লা বৈশাখ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, মাতৃভাষা দিবস শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে একদিকে, আর অপরদিকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। মূল্যস্ফীতি ১১ ভাগ থেকে কমিয়ে ছয় ভাগে আনা হয়েছিল, এখন কিছুটা বেড়ে আট ভাগ হয়েছে। শ্রমিক ও দিনমজুরদের আয় বেড়েছে। সরকার সদা সচেষ্ট আছে এসব বিষয়ে। ১৫০০ টাকা যারা শ্রমের মূল্য পেত, তারা ৩০০০ টাকা পায়। ধান কাটার সময় ৩০০-৪০০ টাকা দিনে মজুরি পেয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। 
অনেক কাজ, যা এই সরকার আসার আগে সাত বছরে হয়নি, তার থেকেও বেশি কাজ সরকার দুই বছরে করেছে এবং করে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজও সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৪,৫০১টি ইউনিয়নে তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, টেন্ডার সর্বক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। কোনো ঘটনা ঘটলে অপরাধী যে-ই হোক, সরকার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বিডিআর (বিজিবি) হত্যা ও বিদ্রোহের বিচার চলছে। জঙ্গিবাদ দমনে সরকার তৎপর ও সফল। যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার চলছে। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এ পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। বরং সরকার দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। এবার বোরো ফসল বাম্পার হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা সরাসরি পাচ্ছে। ডিজেলে ২০ শতাংশ সাবসিডি পাচ্ছে। হাওর এলাকায় ও এলাকাবিশেষে বিনা মূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক রিজার্ভ সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্স বেড়েছে। দুই বছরে নয় লাখ মানুষ বিদেশে গেছে। ফিরে এসেছে এক লাখ, যা স্বাভাবিক। 
সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ছয় ভাগে ধরে রাখা হয়েছে, এবার বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৭ ভাগে উন্নীত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে। 
চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট মনে চাকরি করে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা এত শান্তিতে কোনো দিন ব্যবসা করতে পারেননি। একটু অতীতের দিকে তাকালে স্মরণ করতে পারবেন। একদিকে ছিল হাওয়া ভবনের কমিশন ও ভাগ দেওয়া, অপরদিকে তত্ত্বাবধায়কের সময় ছিল আতঙ্ক, মামলা, দেশছাড়া। অন্তত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সে আতঙ্কের পরিবেশ নেই। মুক্ত পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন। রপ্তানি-বাণিজ্যে যা টার্গেট ছিল তার থেকে বেশি রপ্তানি হচ্ছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে বরং, জমির অভাবে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। কাজেই সার্বিক দিক থেকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মনে স্বস্তি আছে। 
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।
এসব প্রশ্নের উত্তরের পরও আরও ভালোর দল বলবে, তার পরও দেশের অবস্থা ভালো নেই। এর কারণ কী? কারণ একটাই, অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকার থাকলে তাদের দাম থাকে। এই শ্রেণীটা জীবনে জনগণের মুখোমুখি হতে পারে না। ভোটে জিততে পারে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ ছাড়তে পারে না। তাই মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকারের যে খোশামোদি, তোষামোদি ও চাটুকারের দলও প্রয়োজন হয়—এরা সেই দল। বিশেষ করে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী ও চেতনায় বিশ্বাসীরা ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের উপকার হয়। আর দেশে মানুষ যদি দরিদ্র না থাকে, তাহলে এই শ্রেণীর বাণিজ্য শেষ হয়ে যাবে, কারণ দরিদ্র্য মানুষগুলোই তো তাদের বড় পণ্য। যাদের নিয়ে তারা বাণিজ্য করে নিজেদের ভাগ্য গড়ে।
আমি বেঁচে থাকতে আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর খেলতে দেব না।
২২.৫.২০১১
টরন্টো, কানাডা
শেখ হাসিনা: প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

Friday, June 24, 2011

আ.লীগ এলে জনগণ কিছু পায় অন্যরা এসে লুটে খায়


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা

জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সৌজন্যে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই জনগণ কিছু পায়, আর অন্যরা এসে লুটে খায়। তাঁর দাবি, জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই আওয়ামী লীগ প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়। 
গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। 
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের পকেট থেকে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল কখনো জনগণকে কিছু দিতে পারে না। তাদের রাজনীতি ত্যাগের নয়, ভোগের।’ তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে যারা দেশের অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে, সে অর্থ ফেরত এনে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
গতকাল বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সেন্টার চত্বরে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন যথাক্রমে শেখ হাসিনা ও দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ সময় শান্তির প্রতীক ৬২টি পায়রা ও নানা রঙের বেলুন ওড়ানো হয়। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপমহাদেশের প্রাচীন ও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ একটি। নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে এ দল সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের হূদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছে। শুরু থেকে আওয়ামী লীগ জনগণের ভাগ্য বদলে কাজ করে যাচ্ছে। মাতৃভাষা, স্বাধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রসহ দেশের মানুষ যা পেয়েছে, তা আওয়ামী লীগের কাছ থেকেই পেয়েছে। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের পাঁচ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছিল জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে। বর্তমান সরকারের মাত্র দুই বছরে সেই দুর্নাম ঘুচিয়েছে। বাংলাদেশ এখন সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য উৎপাদনের মডেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। দুই বছরে এ সরকার জাতীয় গ্রিডে ১৯২২ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ যোগ করেছে।
আলোচনা সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মহাজোটের ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, মৌলবাদী অপশক্তি ও তাদের দোসরদের পরাজিত করতে না পারলে দেশ আবারও গভীর খাদে পড়ে যাবে। দেশ যখন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই অপশক্তি নতুন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। 
জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি হচ্ছে নব্য মুসলিম লীগ আর জামায়াত হচ্ছে ঘোমটা পরা উগ্র জঙ্গিবাদী দল। বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনের পরাজয় এখনো মেনে নিতে পারেনি। 
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের মানুষ যতটুকু গণতন্ত্র ভোগ করছে, তার একমাত্র অবদান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার। 
আবদুর রাজ্জাক বলেন, একাত্তরের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আবারও ঐক্যবদ্ধ হলে ষড়যন্ত্রকারীরা কিছুই করতে পারবে না। 
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিঃশর্তভাবে সংসদে এসে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গত ১৮ বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনও দিতে পারেনি। 
নূহ-উল আলম লেনিন ও অসীম কুমার উকিলের উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, এম এ আজিজ ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। 
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সফল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। 
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন: গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশেই নানা আয়োজনে আওয়ামী লীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ভোরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে উত্তোলন করা হয় জাতীয় ও দলীয় পতাকা। সকাল সাড়ে সাতটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে সরকার এবং পরে দলের সভানেত্রী হিসেবে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 
এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাংসদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 
প্রধানমন্ত্রীর পর আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়

প্রথম আলো

Monday, June 20, 2011

তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের সুপারিশ অনুমোদন



তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান বিলুপ্ত করার সুপারিশ-সংবলিত প্রতিবেদনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি এই প্রতিবেদন তৈরি করেছিল।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, বিশেষ কমিটির সুপারিশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।
বৈঠকে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ এবং সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ রাখা নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার আপত্তি করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখা না-রাখার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বিশেষ কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির যে সুপারিশ করেছে, মন্ত্রিসভা তা বিনা বাক্যে অনুমোদন দেয়।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকেই বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছে। সেই সুপারিশ মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিষয়ক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে সম্প্রতি রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সংবিধান সংশোধনবিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বাতিলের সুপারিশ করেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ ৫১টি সুপারিশ-সংবলিত প্রতিবেদন ৮ জুন সংসদে উপস্থাপন করে বিশেষ কমিটি। বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি রাখার বিষয়ে আপত্তি জানান কমিটির দুই সদস্য রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু। স্পিকার প্রতিবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। আইন মন্ত্রণালয় গতকাল তা মন্ত্রিসভায় পেশ করে।
বৈঠক সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিবেদনের প্রতিটি সুপারিশ আইনমন্ত্রী পড়ে শোনান। অন্য কোনো সুপারিশ নিয়ে আপত্তি না উঠলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম রাখা নিয়ে আপত্তি তোলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আপত্তি গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই এ সুপারিশ করা হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এ বিষয়ে জোরালো আপত্তি করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এইচ এম এরশাদের আমলে। তখন তো আপনি মন্ত্রী ছিলেন। আপত্তি করেননি কেন?’
বিশেষ কমিটি ২৭টি বৈঠক করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। এর আগে পাঁচজন সাবেক প্রধান বিচারপতি, মূল সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণপরিষদ সদস্যসহ আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও সেক্টর কমান্ডারদের মতামত নেয় বিশেষ কমিটি। তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কমিটিতে যায়নি, মতামতও দেয়নি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিশেষ কমিটির সদস্য রাশেদ খান মেনন প্রথম আলোকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটা রাখার কোনো সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় আগামী দুই মেয়াদ এটা রাখার প্রয়োজন আছে। সে ক্ষেত্রে সবাইকে সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা বের করতে হবে। এ জন্য বিএনপিকে আলোচনায় আসতে হবে।
কমিটির আরেক সদস্য জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুমোদনের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও অন্তর্বর্তী সময়ে কী পন্থায় নির্বাচন হবে, সে ব্যাপারে সমঝোতার সুযোগ আছে। আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যায়নি।
মন্ত্রিসভায় অন্য বিষয়: মন্ত্রিসভার গতকালের বৈঠকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১১-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন এবং ইউএন কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট ট্রান্সন্যাশনাল অরগানাইজড ক্রাইম (পালের্মো কনভেনশন) অ্যাক্সেশন-এর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মানি লন্ডারিং আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, অর্থপাচার রোধে ২০০২ সালে প্রথম একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। এটি ২০০৯ সালে সংশোধন করা হয়। কিন্তু এ সংশোধনী বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে আরও সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ জন্য আইনটি নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আইনটি অনুমোদন ও পাস হলে অর্থপাচার রোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রথম আলো

Sunday, June 19, 2011

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, তাঁর চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক?



undefined
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেছেন, দেশের কল্যাণের কথা তাঁর চেয়ে বেশি কে ভাবে এবং কে তাঁর চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক?
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ বোর্ডের (বিওআই) প্রধান কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, কে বেশি দেশপ্রেমিক এবং দেশের স্বার্থের বিষয়টি আমার চেয়ে কে বেশি ভাবে?’ খবর ইউএনবি ও বাসসের।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ও বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বার্থের কথা বলে তারা প্রায়ই উচ্চবাচ্য করে। দেশে যখন কোনো নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাস অনুসন্ধান করা হচ্ছিল না, তখন তারা কোথায় ছিল? গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন শুরুর জন্য বিনিয়োগকারীদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য আগের সরকার কিছুই করেনি। অথচ এরা তখন চুপ ছিল। আর আমরা যখন কিছু করতে যাচ্ছি, তখনই তারা বিরোধিতা শুরু করেছে।’ দেশের স্বার্থ ও দেশের মানুষের কল্যাণের বিপক্ষে বর্তমান সরকার কোনো কিছুই করবে না বলে জানান শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দল কিছু বিদেশি কোম্পানির কাছে গ্যাস বিক্রি করতে চায়নি বলে ২০০১ সালের নির্বাচনে বেশি ভোট পেয়েও ক্ষমতায় যেতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে যাওয়ার আগে আমরা জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি।’
বঙ্গোপসাগরের দুটি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গত বৃহস্পতিবার মার্কিন কোম্পানি কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এই চুক্তির সমালোচনা করে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বলেছে, এতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষিত হয়নি। এর প্রতিবাদে আগামী ৩ জুলাই আধা বেলা হরতাল ডেকেছে কমিটি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই তাঁর সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্যস্থানে পরিণত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ক্রমেই বাড়ছে।
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ-প্রবাহ কমে গেছে। এর পরও ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ৭০ কোটি ডলারেরও বেশি এফডিআই পেয়েছে এবং ২০১০ সালে ৯১ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান, সাশ্রয়ী ও সহজে প্রশিক্ষণযোগ্য শ্রমশক্তি, সহজ আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ প্রণোদনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। তাঁর সরকার এবার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে বিনিয়োগ খাতে কর অবকাশ-সুবিধা ঘোষণা করেছে সরকার।
দেশে বিদ্যমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে দায়ী করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সাল-পরবর্তী জোট সরকার পাঁচ বছরে জাতীয় গ্রিডে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও যোগ করতে পারেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ইতিমধ্যে এক হাজার ৯২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে। আরও ২৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে শিগগিরই আরও প্রায় তিন হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More