Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label মানবতাবিরোধী. Show all posts
Showing posts with label মানবতাবিরোধী. Show all posts

Wednesday, December 14, 2011

 গোলাম আযমের নির্দেশে ৩৮ জনকে হত্যা

একাত্তরের ২১ নভেম্বর গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের ৩৮ জনকে শহরের পৈরতলা রেলব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। এই গণহত্যা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের নির্দেশে।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫২টির একটি হলো এই গণহত্যা। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) ধারায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং এ ধরনের অপরাধে নেতৃত্ব, সহায়তা, প্ররোচনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত সোমবার এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটকের জন্য পরোয়ানা জারিরও আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল ২৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নিলে রাষ্ট্রপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
জানতে চাইলে জামায়াতের আটক নেতাদের আইনজীবী দলের প্রধান আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়াধীন থাকায় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে এটা বলা যায়, গোলাম আযম পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন এটা যেমন এক শ ভাগ সত্য, তেমনি এটাও এক শ ভাগ সত্য যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তাঁর দূরতম কোনো সম্পর্ক ছিল না।’
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযমের চেষ্টায় শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, পাইওনিয়ার ফোর্স প্রভৃতি সহযোগী বাহিনী গঠিত হয়। তাঁর নেতৃত্বে ও নির্দেশে এসব বাহিনী সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে এবং এসব অপরাধ করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে।
অভিযোগ অনুসারে, কুমিল্লার হোমনা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সিরু মিয়া একাত্তরে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় দারোগা (উপপরিদর্শক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৮ মার্চ তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও ১৪ বছরের ছেলে আনোয়ার কামালকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যান। সেখানে তিনি শরণার্থীদের ভারতে যাতায়াতে সাহায্য করতেন। ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার তন্তর চেকপোস্টের কাছে তিনি, তাঁর ছেলেসহ ছয়জন ভারতে যাওয়ার পথে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন। তাঁদের বিভিন্ন রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে কয়েক দিন নির্যাতনের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে পাঠানো হয়। আনোয়ারা বেগমের ভগ্নিপতি খিলগাঁও সরকারি স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ মুহসিন আলী খান সিরু ও আনোয়ারকে ছাড়াতে গোলাম আযমের সঙ্গে দেখা করেন। পরে আরেক দিন তিনি গোলাম আযমের কাছে গিয়ে ওই অনুরোধ জানান। গোলাম আযম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শান্তি কমিটির নেতা পেয়ারা মিয়ার কাছে এ বিষয়ে তাঁদের মারফত একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠি পড়ার পর পেয়ারা মিয়া পত্রবাহককে গোলাম আযমের দেওয়া আরেকটি চিঠি দেখান, যাতে সিরু মিয়া ও তাঁর ছেলেকে হত্যার নির্দেশ ছিল। পেয়ারা মিয়া পত্রবাহককে জানান, তাঁর আনা চিঠিতে নতুন কিছু নেই। পরে ২১ নভেম্বর (পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন) রাতে সিরু মিয়া, আনোয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নজরুল ইসলামসহ ৩৯ জনকে পাকিস্তানি সেনারা রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতায় কারাগার থেকে পৈরতলায় নিয়ে গুলি করে। এতে একজন ছাড়া বাকি ৩৮ জন মারা যান।
এ ঘটনায় গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা ও এতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাকি ৫১ অভিযোগ অনুসারে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, রাজাকার ও সহযোগী বাহিনীগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সারা দেশে যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে, নেতা হিসেবে গোলাম আযম এসব অপরাধ করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তানের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা করতে উৎসাহ, প্ররোচনা ও উসকানি দিয়েছেন।
গণহত্যায় প্ররোচনা: আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ২ মে জামায়াতের ঢাকার কার্যালয়ে কর্মিসভায় গোলাম আযম মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটনে দলের নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। ১৭ মে ঢাকায় সাবেক এমএনএ আবুল কাসেমের বাসভবনে এক সভায় গোলাম আযম ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর সামরিক অভিযানকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ উল্লেখ করেন। ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা কেন্দ্রে এক সভায় তিনি গণহত্যাকে সমর্থন করেন। ১৪ আগস্ট কার্জন হলে এক সভায় তিনি ‘ঘরে ঘরে দুশমন খুঁজে বের করে তাঁদের উৎখাতের মাধ্যমে’ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য প্ররোচিত করেন।
শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন: অভিযোগ অনুসারে, ৪ এপ্রিল গোলাম আযমসহ ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক টিক্কা খানকে নাগরিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। দুই দিন পর গোলাম আযম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পূর্ব পাকিস্তানের সভাপতি পীর মোহসীনউদ্দিন আহমদ ও এ টি সাদী আবার টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। ৯ এপ্রিল খাজা খয়েরউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও গোলাম আযমকে সদস্য করে ১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত হয়। ১৫ এপ্রিল নাগরিক শান্তি কমিটির নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি এবং ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়, যার সদস্য ছিলেন গোলাম আযম। ২১ এপ্রিল একে আরও গতিশীল করতে ছয় সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হয়, যার দুই নম্বর সদস্য ছিলেন গোলাম আযম।
অভিযোগ অনুসারে, ১৮ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিপাবলিক স্কয়ারে এক সভায় গোলাম আযম শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে রাজাকার শিবির পরিদর্শনকালে আলেম ও ইসলামি কর্মীদের প্রতি রাজাকার ও মুজাহিদ বাহিনীতে ভর্তি হয়ে সশস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ১ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, তথাকথিত মুক্তিবাহিনীকে মোকাবিলা করতে রাজাকাররাই যথেষ্ট। এ জন্য রাজাকারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
রাজাকারদের অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান: অভিযোগ অনুসারে, ১৯ জুন গোলাম আযম রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দেখা করে মুক্তিযোদ্ধাদের মোকাবিলার জন্য রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। পরদিন লাহোরে জামায়াতের পশ্চিম পাকিস্তানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে দুষ্কৃতকারীরা সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের প্রতিরোধের জন্য অস্ত্রসজ্জিত হওয়া উচিত। এমন কথা তিনি আরও একাধিক স্থানে বলেছেন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে দালিলিক সাক্ষ্য হিসেবে যেসব নথি সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: একাত্তরে স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদন (জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র সংঘ ও শান্তি কমিটির কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত), গোয়েন্দা প্রতিবেদন, শান্তি কমিটির সঙ্গে রাজাকার, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের যোগাযোগের নথি ও ছবি, ভিডিওচিত্র এবং একাত্তরের বিভিন্ন পত্রিকা ও বিদেশি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদন। এসব বিষয়ে প্রকাশ ও প্রচারের তারিখ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 প্রথম আলো পাঠক প্রতিক্রিয়া

 
Tayyip Rahman
Tayyip Rahman
২০১১.১২.১৪ ০৪:০০
Why Government is bothering a peace loving person? After all he was associated with peace committee in 1971. He wasn't pissing peace into pieces, was he?

Ismail Khan Chy(Titu)
Ismail Khan Chy(Titu)
২০১১.১২.১৪ ০৪:৫৪
He should be arrested soon.

Ismail Khan Chy(Titu)
Ismail Khan Chy(Titu)
২০১১.১২.১৪ ০৪:৫৭
He has been trying prove himself innocent on tv channels. be aware of him.

সুনন্দন বড়ুয়া (প্যারিস থেকে)
সুনন্দন বড়ুয়া (প্যারিস থেকে)
২০১১.১২.১৪ ০৬:৫৭
১৬ ডিসেম্বর ১ নম্বার রাজাকার গোলাম আযম কে গ্রেপ্তার করা হোক ।

Md.Monirul Islam Khan
Md.Monirul Islam Khan
২০১১.১২.১৪ ০৮:৩৫
গতকাল রাতে এ টি এন বাংলাই "৭১ এর গোলাম আযম" শীর্ষক একটি প্রতিবেদন দেখলাম, সাংবাদিকের প্রায় প্রশ্নের উত্তর তিনি সুন্দর ভাবে এড়িয়ে গেলেন। সবচেয়ে যে জিনিসটা আমার খারাপ লেগেছে একজন সাংবাদিক তাকে SIR বলে সম্বোধন করতে শুনে। একটা জিনিস আমি কিছুতেই বুঝলাম না তাকে এতটা সমীহ করে কথা বলার কি আছে। সে শুধু একজনের শত্রু নই পুরো জাতির শত্রু, কথাটা কি আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা ভুলে গিয়েছলেন?

Nazmul Rubaiyat
Nazmul Rubaiyat
২০১১.১২.১৪ ০৯:২৬
পাকিস্তানি গোলাম মীরজাফার গোলাম আজমের ফাসির আগে জুতা পেটা করতে চাই।

Monika
Monika
২০১১.১২.১৪ ০৯:২৮
এসব কেচ্ছা কাহিনী আমরা ছোটবেলা থেকে শুনছি। সময় এসেছে এগুলো প্রমান করার।

Debu Sarkar
Debu Sarkar
২০১১.১২.১৪ ০৯:৩৩
বেশ কয়েকদিন ধরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ক খবর সম্পর্কে লেখা পাঠকের মন্তব্যগুলো মন দিয়ে পড়ছি; সত্যি বলতে কি মূল খবরের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ছি। তাতে দেখতে পাচ্ছি, অনেকেই এই বিচারের বিরোধিতা করছেন। আমার ধারণা আজও এমন অনেকগুলো মন্তব্য প্রকাশিত হবে, যেখানে গোলাম আজমের জন্য হাহাকার করা হবে। সেসব পড়তে পড়তে ভাবতে থাকবো, আজ ১৪ই ডিসেম্বর!!

২০১১.১২.১৪ ০৯:৪৮
I am a student of B.Pharm and also a Teacher.In my life i saw him,he is not bad at all.If you have prove, you will proved him as a Rajaker.After prove it, then our government can catch him.If there is no Prove about him,there is no Causes about him to arrest.I Honor our People Republic Bangladesh.

Apu kowsar
Apu kowsar
২০১১.১২.১৪ ০৯:৫৮
আর কত !!! এখন এদের ফাসি দেয়া হোক।

Md. Mohabbot Hossain
Md. Mohabbot Hossain
২০১১.১২.১৪ ১০:১৫
Md.Monirul Islam Khan, "৭১ এর গোলাম আযম" শীর্ষক প্রতিবেদনটটি প্রচার করার জন্য এ টি এন বাংলা ধন্যবাদ, আর আপনাকেও ধন্যবাদ কষ্ট করে অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য। আর গোলাম আযম কে স্যার বলার কারন সে একজন শিক্ষিত অধ্যাপক।

Evan Hussain
Evan Hussain
২০১১.১২.১৪ ১০:২৭
...জামায়াতের অনেক নেতার বিরুদ্ধেই অকাট্য প্রমান নেই, কিন্তু গোলাম আযম.. এই লোকের বিরুদ্ধে এত প্রমাণ আছে যে একে ফাসিতে ঝোলাতে ৩দিনের বেশি কোর্টের কার্যদিবস লাগার কথা না। এখন দেখা যাক সরকার এই বিষয় নিয়ে কতটুকু রাজনীতি করে।

Sultana
Sultana
২০১১.১২.১৪ ১০:২৮
TV তে দেখলাম, উনি বলছেন, উনার বিরুদধে আনা একটা অভিযোগও কেউ পমান করতে পারবেনা। উনি তো এটা বললেননা যে উনি অভিযোগ আনা অপরাধগুলো করেননি। অপরাধ করে ইসলামকে বরম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আপনাদের বিচার তো দুই জায়গায় হবে। একটা এই পথিবীতে, আর একটা পরকালে। একটু ভয়ও নেই বুকে। নিজেদের উপর কি জুলুমটাই না করছেন শয়তানের পরোচনায়।

Sk. Arman Jahan
Sk. Arman Jahan
২০১১.১২.১৪ ১০:৩০
কালকে ATN News তার প্রতিবেদন দেখলাম ভাল লাগল ... তবে এই মানবতা বিরোধী যে আদালত এটি একটি বির্তকিত হয়ে গেছে তাই এইটা পরিবর্তন দরকার।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
২০১১.১২.১৪ ১০:৩৭
গতকাল একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার চিহ্নিত অপরাধী গোলাম আযমের সাক্ষাত্‍কার দেখে বিস্মিত হলাম । তিনি নাকি মৃত্যুকে ভয় পাননা । যে ব্যাক্তি অসংখ্য মানুষকে হত্যা করতে পারে সেতো জল্লাদ । জল্লাদরা মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার কথা ।
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে ।

imtiaz ahmed chowdhury
imtiaz ahmed chowdhury
২০১১.১২.১৪ ১০:৫০
Md. Mohabbot Hossain কে বলতে চাই গোলাম আযম একজন শিক্ষিত ঘাতোক । সবাইকে আমি Sir বলতে পারি , তা সে চোর হউক ডাকাত হউক কিন্তু একজন ঘাতোক কে Sir বলতে পারবোনা , বলতে দিবোনা ।

Abdul Salam
Abdul Salam
২০১১.১২.১৪ ১০:৫১
গোলাম আযমের মুখে জনগন শুনতে চায়, তার কাহিনী, তাকে সরাসরি প্রশ্ন করুন এবং তাকে তার উত্তর দিতে বলুন।

২০১১.১২.১৪ ১১:০৫
গোলাম আজম (বাংলাদেশীদের জন্য গোলাম আজব) আপনি সময় থাকতে প্রকাশ্যে তওবা করেণ। কারণ আল্লাহ পাক প্রকাশ্য অপরাধের জন্য প্রকাশ্যে তওবা করার কথা বলেছেন।

T Alahee
T Alahee
২০১১.১২.১৪ ১১:১৬
ঘাতকদের বিচার ও দৃসটান্তমুলক শাসতি চাই। তবে তারা যেন আত্মপক্ক সমর্থনের সু্যোগ পায়। তারা বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে সু্যোগ দেয়া উচিত। এতে করে বিচারটি বিতর্কমুক্ত থাকবে। আর বিচারটি টেলিভিশনে লাইভ দেখানোর ব্যবসথা থাকা উচিত। এতে করে এই বিচার রাজনইতিক বলয় থেকে বেরিয়ে পুরো দেশবাসীর সত:সফুর্ত সমর্থন পাবে।

শুভ্র
শুভ্র
২০১১.১২.১৪ ১১:১৭
তাকে মিডিয়ার সামনে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত।

nurul absar hussain
nurul absar hussain
২০১১.১২.১৪ ১১:২২
গত কালও বাংলাভিশনে গোলাম কে দেখিলাম উনার কথা শুনিয়া মনে হইতেছে উনি যুদ্ধকালীন দেশের রক্ষা কবচ ছিল . উনি আমাদের দেশবাসীকে যাহারা ভারতে যাইতে পারেনাই তাহাদের রক্ষা করিয়াছে. উনি গ্রেফতার হইবেন আর আমাদেরই দেশপ্রেমী দল উনার মুক্তিদাবি করিবে আর এক ধরনের সুধী জনেরা বিচারের স্বচ্ছতা চাহিয়া বিচার প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাই নিউজিত থাকিবে. .

nur alam
nur alam
২০১১.১২.১৪ ১১:৩০
আবদুল সালাম ভাই চুর কি বলে আমি ..........................?

২০১১.১২.১৪ ১১:৫৯
The war criminals get the opportunity to become ministers in Bangladesh which is humiliating for our freedom fighters. Shame on those who patronize them. I hate them like Gen. Zia, Somsher Mobin Chow etc ....

২০১১.১২.১৪ ১২:০০
১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তিকমিটি, ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি, ছয় সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হয় ! সব কমিটিতেই গোলাম আজমের নাম আছে ! কমিটির বাকী সদস্যের নাম কি ভাবে জানতে পারবো, কেউ বলতে পারেন কি ? বড় ইচ্ছা হয় আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকারদের পরিচয় জানার ! তা ছাড়া এতো এতো সদস্য রেখে কেবল গোলাম আজমের বিচারই কেন হবে সেটাও বুঝতে চাই !

hafez sharif
hafez sharif
২০১১.১২.১৪ ১২:০৯
@ Mr Md. Mohabbot Hossainকে বলছি, দেখুন একজন মানুষকে সম্মন অসম্মন দেখানো হয় তার কৃত কর্মের দ্ধারা, তিনি শিক্ষিত অধ্যাপক বেশ ভাল কথা, অধ্যাপক হয়ে তিনি দেশের জন্য কি করেছেন ? কোরআনের অপব্যখ্যা দিয়েছেন যা বাংলাদেশের হক্কানি আলেমদের লিখায় ও বক্তব্যে অগনীত প্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের সময় নয় মাস তিনি দেশের জন্য কি করিয়াছেন ? এবং ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন ? ঐ সময় তিনি কি কি করেছেন ? তার জীবনের বেশী ভাগ সময় তিনি দেশকে ধংসের পথে নিতে চেয়েছেন, তার নেতৃত্বে দেশের অগনীত মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইত্যাদী ..... এই ধরনের লোককে সম্মনীত শিক্ষিত অধ্যাপক বলাটা শোভা পায়না।

Hasan
Hasan
২০১১.১২.১৪ ১২:১২
আর কোনো specific প্রমান পাওয়া গেল না? পাকিস্তানের আর্মিরা কি গোলাম আযমের নিরদেশে মেনে চলতো যে তার কথামতো ৩৮ জনকে হত্যা করলো? যারা নিজ হাতে হত্যা করলো তাদের কি কোন বিচার হবে না?

monir
monir
২০১১.১২.১৪ ১২:১৮
গো আযম ও অন্যান্য জামাত নেতারা ১৯৭১ সালে যে অপরাধ গুলো করেছিলো এবং তারা যে অপরাধী এটা দিবা লোকের মত সত্য কিন্তু এত দিন পর এ গুলো প্রমান করা অত্যন্ত কঠিন। বস্তুত ১৯৭৫ এর পর হতে এ রাজাকারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা পেয়ে পেয়ে এখন সব বেমালুম অস্বীকার করছে। এ রাজাকারা পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন এটা যেমন এক শ ভাগ সত্য এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় যা যা করা প্রয়োজন তারা তাই সে সময় করেছিলো।

foyez ahmad
foyez ahmad
২০১১.১২.১৪ ১২:৩১
He should be arrested with appropriate proof.

lean
lean
২০১১.১২.১৪ ১২:৪৩
বুশের মত লোকে জুতা মারতে পারে আর গোলাম আযম এত এত মিথ্যা কথা বলল সব সাংবাদিক কিভাবে বসে থাকে বুঝলাম না ???? সাংবাদিকরা প্রচার করে আমরা সাহসী জাতি ...........................................

২০১১.১২.১৪ ১২:৪৬
গোলাম আযমের মতো একটা চিন্হিত যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার মতো দেখি কিছু কিছু লোক আছে ! থাকতেই পারে, নিশ্চয় তারা বা তাদের আগের প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দালালি করেছিল। বাংলাভিশনে তার যে সাক্ষাতকার দেখলাম তাতে তো মনে হলো অনুষ্ঠানটা একদম প্রিপ্ল্যান করা, যে কারনে সে যেসব প্রশ্ন এড়িয়ে গেছে তা বারবার তুলে ধরে তাকে চেপে ধরা যেতো। কি করে বাংলাভিশন এটা করলো?

nurul absar hussain
nurul absar hussain
২০১১.১২.১৪ ১৩:০৭
দেশের অনেক টেলিভিশন চানেল আছে যেইগুলি দেখিয়া মনে হই ওই গুলি শুধু কোনো উদ্দেশ্য নিয়া করা হইয়াছে. তাহাদের প্রচার দেখিলে মনে হই তাহারা কোনো দলেদ প্রতিনিদিত্ত করিতেছে. যেমন বিটিভি সরকারের করে. গতকালের বাংলাভিশনে গোলাম আজোমের সাক্কাত্কার দেখিয়া মনে হয়তেছে ঐটা উনার পাপ হালকা করিবার জন্যই করা হইয়াছে. দিগন্ত আর ইসলামী টেলিভিশনের কথা নাইই বলিলাম. আরো অনেক হয়ত আছে বিদেশে অপারেটর গণ খুব বেশি চানেল আমাদের দিতে পারেনা.

Swapan Baidya
Swapan Baidya
২০১১.১২.১৪ ১৩:০৯
All of Bangladeshi Hate Gu. Azam. So immediate ..............

মো‌: হাফিজুর রহমান
মো‌: হাফিজুর রহমান
২০১১.১২.১৪ ১৩:১১
কাল রাতে বাংলাভিশনে গো আযম এর সাক্ষাতকার দেখলাম! তার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার ছিল, অখন্ড পাকিস্তানের জন্য সে তখন সবকিছুই করেছে। মানবতাবিরোধী কোন অপরাধ সে করে নাই!! রাজাকার রা পুলিশ আনসারের মতই পাকিস্তানি আর্মির সহযোগী বাহিনী ছিল! তার কাছে কেউ কমপ্লেইন নিয়ে আসলে তিনি পাকিস্তান আর্মিকে বলে যথাসম্ভব সাহায্যই না-কি করেছে!!! তার গর্বভরে বলেছে যে সে বাংলাদেশ নয় অখন্ড পাকিস্তানই চেয়েছিল!!! মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্রোহী বলে আখ্যাতিয় করেছে!!!! তাকে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসম্মুখে পিটিয়ে মারা হোক.....।

a.m.yousuf
a.m.yousuf
২০১১.১২.১৪ ১৩:২৭
লগি দিয়ে মানুষ হত্যা কারিদের ও বিছার হওয়া উছিত '

শিপন মোল্লা
শিপন মোল্লা
২০১১.১২.১৪ ১৪:১১
গোলাম আজম কাল বাংলাভিসন টেলিভিশনে বলেছেন যৌদ্ধ অপরাধী অভিযোগ তার বিরুদে অপবাদ। সে আরো বলেছে তার বিরুদে এই অভিযোগ একটাও প্রমান করতে পারবেনা।

অর্ক
অর্ক
২০১১.১২.১৪ ১৪:৩৫
গোলাম আযম কে প্রকাশ্যে ফাসি দেয়া হোক!

২০১১.১২.১৪ ১৪:৫৯
তাকে সবার সামনে গুলি কর মার


Sunday, August 21, 2011

 ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাত বছর :তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠায় ডিজিএফআই, জানতেন খালেদা

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও গ্রেনেড সরবরাহকারী মাওলানা তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জঙ্গি দমন-সংক্রান্ত ব্যুরো। আর এটা জানতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হরকাতুল জিহাদের (হুজি) জঙ্গিদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু জড়িত ছিলেন—এমন তথ্য ২০০৬ সালের আগস্টেই (বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে) বেরিয়ে আসে। তখন এই তথ্য এবং তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ সম্পর্কে ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জানিয়েছিলেন। সাদিক হাসান রুমী গত বছরের ২০ জুন আদালতে সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে এই ব্যাপারে বিস্তারিত বলেছেন।
২১ আগস্ট মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র, ডিজিএফআইয়ের সাবেক চার কর্মকর্তা ও হুজির শীর্ষনেতাদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দেখা যায়, ডিজিএফআইয়ের জঙ্গিবাদ দমন-সংক্রান্ত গোয়েন্দা শাখা (কাউন্টার টেররিজম ইন্টিলিজেন্ট ব্যুরো—সিটিআইবি) চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত। ডিজিএফআই থেকে নিয়মিত টাকাও পেতেন হুজির শীর্ষনেতারা।
অবশ্য ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন তিন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজাল নাছের ভূঁইয়া (পরে বহিষ্কৃত), মেজর সৈয়দ মনিরুল ইসলাম (পরে বহিষ্কৃত) ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মিজানুর রহমান আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, হুজির নেতা মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা রাজ্জাক, মাওলানা সাব্বির ও মাওলানা মনির সিটিআইবিতে তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে (সোর্স) কাজ করতেন। এ জন্য তাঁদের নিয়মিত টাকা দেওয়া হতো। এ ছাড়া হুজির সাবেক আমির মুফতি শফিকুর রহমান, হাফেজ ইয়াহিয়া, আবু বকর ও কাশ্মীরের জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীনের নেতা আবু ইউসুফ ওরফে মাজেদ বাটও বিভিন্ন সময় ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে তাঁরা স্বীকার করেছেন। এসব জঙ্গিও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযুক্ত আসামি।
হুজির সাবেক আমির মাওলানা আবদুস সালামও আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একযোগে বোমা হামলার পর থেকে তাঁর সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। সালাম দাবি করেন, তাঁরাই ডিজিএফআইকে তথ্য দিয়ে মুফতি হান্নান ও সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলায় জড়িত হুজির জঙ্গি শরিফ শাহেদুল ওরফে বিপুলকে ধরিয়ে দিয়েছেন।
লে. কর্নেল আফজাল, মেজর মনিরুল ও লে. কমান্ডার মিজানের জবানবন্দিতেও একই তথ্য রয়েছে।
লে. কমান্ডার মিজান আদালতকে বলেন, সিলেটের বিপুলকে ধরিয়ে দিতে মাওলানা সালাম পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। এ কাজে পরে সালামকে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে মাওলানা রাজ্জাক পেয়েছেন এক লাখ টাকা। মিজানের দায়িত্ব ছিল লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারের নির্দেশে হুজির নেতাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া।
অধিকতর তদন্ত: বর্তমান সরকারের আমলে অধিকতর তদন্ত শেষে সিআইডি গত ৩ জুলাই ২১ আগস্টের দুই মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। এতে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির সাংসদ শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম, খালেদা জিয়ার ভাগনে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউকসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করা হয়েছে।
যেভাবে তাজউদ্দিনের নাম আসে: অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, তাজউদ্দিন পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার সময় কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা, তেহরিক-ই জিহাদ আল ইসলাম ও হিজবুল মুজাহিদীনের সঙ্গে জড়িত হন।
মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমী, লে. কর্নেল আফজাল, মেজর মনির ও লে. কমান্ডার মিজানের জবানবন্দিতে তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠানোর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এই চারজন এখন ২১ আগস্ট মামলার অন্যতম সাক্ষী। তাঁদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিলেটে বাংলাদেশে তখনকার ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে চাপে পড়ে বিএনপি সরকার। ২০০৬ সালের আগস্টে গ্রেনেড নিক্ষেপকারী বিপুল ও তাঁর সহযোগী মিজানকে সিলেট থেকে আটক করে গোয়েন্দারা। যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশনে (টিএফআই) হাইকমিশনারসহ সিলেটে বিভিন্ন গ্রেনেড হামলার কথা স্বীকার করেন বিপুল। তিনি জানান, মুফতি হান্নান তাঁদের আর্জেস গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাও মুফতি হান্নান পরিচালনা করেছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে তখন রিমান্ডে থাকা মুফতি হান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ২১ আগস্ট হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং বিস্তারিত বিবরণ দেন। মুফতি হান্নান তখন আরও জানান, তাঁকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছেন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন।
এভাবে মাওলানা তাজউদ্দিনের নাম বেরিয়ে আসে। ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তারা জবানবন্দিতে বলেছেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাজউদ্দিনের ব্যাপারে তথ্য পান। তা ছিল: তাজউদ্দিন লস্কর-ই-তাইয়েবার জন্য বাংলাদেশ হয়ে ভারতের কাশ্মীরে অস্ত্র-গোলাবারুদ পাঠানোর কাজে যুক্ত।
ডেকে এনে পাকিস্তানে পাঠানো: মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির পর হুজির মাওলানা সালামের সহায়তায় ২০০৬ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের কোনো একদিন তাজউদ্দিনকে ডেকে আনা হয় গুলশানে ডিজিএফআইয়ের একটি ‘সেফ হাউসে’। পরে লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, লে. কর্নেল আফজাল ও মেজর মনির সেখানে আসেন। তাঁরা একসঙ্গে রাতের খাবার খান। সাইফুল ও আফজাল এরপর তাজউদ্দিন ও সালামের সঙ্গে একান্ত আলোচনা করেন। একপর্যায়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (পরে মেজর জেনারেল) এ টি এম আমিন যোগ দেন তাঁদের সঙ্গে। সালাম ও মিজানদের অন্য কক্ষে পাঠিয়ে আমিন, সাইফুল ও আফজাল দীর্ঘ সময় তাজউদ্দিনের সঙ্গে আলাপ করেন।
ওই দিন থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাজউদ্দিন ডিজিএফআইয়ের গুলশানের ওই ‘অতিথিশালা’তেই ছিলেন।
পরদিন বেলা ১২টায় আবার আমিন, সাইফুল ও আফজাল কয়েক ঘণ্টা তাজউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। তখন তাজউদ্দিন গ্রেনেড সরবরাহ করা থেকে শুরু করে তাঁর ভাই উপমন্ত্রী পিন্টুর বাসায় বৈঠক, হামলাকারীদের নিরাপত্তার জন্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সর্বাত্মক সহায়তাসহ ২১ আগস্ট হামলার সার্বিক বিবরণ দেন।
ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা আফজাল, মনির ও মিজান জবানবন্দিতে বলেছেন, তাজউদ্দিনের এসব তথ্য তখন আমিন ও সাইফুল মুঠোফোনে ঊর্ধ্বতন কাউকে জানান। তারপর তাঁদের বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর এই বিষয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করে তাজউদ্দিনকে দ্রুত পাকিস্তান পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাজউদ্দিনের পাসপোর্ট, টিকিট ও ভিসা জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর মনির ও লে. কমান্ডার মিজানকে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে লে. কর্নেল সাইফুল পাসপোর্ট, পাকিস্তান যাওয়ার ভিসা ও বিমানের টিকিট এনে দেন। তাঁর নির্দেশে মিজান ও মনির মাওলানা তাজউদ্দিনকে করাচিগামী বিমানে তুলে দেন ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর। পাকিস্তানে যাওয়ার পরও তাজউদ্দিন টেলিফোনে কর্নেল সাইফুল ও মেজর মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁকে বলা হয়েছে, ডিজিএফআইকে না জানিয়ে তিনি যেন বাংলাদেশে না আসেন।
তাজউদ্দিনকে গ্রেপ্তার না করে পাকিস্তান পাঠানোর এ তথ্য ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকও জানতেন।
খালেদা কতটা জানতেন: সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়, বাবরের নির্দেশে ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞাতসারে মাওলানা তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, তাঁর (ডিউক) ভায়রা ডিজিএফআইয়ের লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার ও সিটিআইবির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আমিন পরস্পর যোগসাজশে বাদল ছদ্মনামে তাজউদ্দিনের জন্য পাসপোর্ট করান। ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেন তাঁরা।
ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমী আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তৎকালীন সরকারের দুই মন্ত্রীর জড়িত থাকার কথা উল্লেখ থাকায়, আমি তা “টকিং পয়েন্ট” হিসেবে লিখিতভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দিই। এবং আমি নিজেও ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি বলি। তিনি কিছু না বলে টকিং পয়েন্টটি তাঁর কাছেই রেখে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে আমাকে কোনো নির্দেশ দেন নাই।’
সাদিক হাসান রুমী বলেন, পরে তাঁকে এ টি এম আমিন ও সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার এসে বলেন, বাবর ও ডিউক তাঁদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে বলেছেন। তাই তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠানোর সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অধীনস্থ কর্মকর্তাদের এই তথ্য যাচাই করতে জেনারেল রুমী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুরো বিষয় তুলে ধরেন। রুমী বলেন, ‘আমার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী অনেকটা ক্ষুব্ধ ও বিরক্তির সুরে বলেন, “সিআইডি এই মামলার রহস্য ইতিমধ্যে উদ্ঘাটন করে ফেলেছে (জজ মিয়া কাহিনি), আপনি কোথা থেকে এই সব আজগুবি তথ্য নিয়ে এসেছেন? মাওলানা তাজউদ্দিন পাকিস্তান যাবে না কোথায় যাবে, তাতে আপনার মাথাব্যথা কেন?” এই বলে তিনি আমার সাথে আর কোনো কথা বলেন নাই।’
বিএনপির বক্তব্য: ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্রে এভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম আসার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়ানোর পাঁয়তারা এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুরু করেছিল। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত—অনেককে চাপ দিয়ে এ কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলাকালে বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করে এবং একাধিক সমাবেশে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আসামি করার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে রাজসাক্ষী করার প্রলোভন দেখানো হচ্ছিল বলেও তখন আমরা বলেছিলাম।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অধিকতর তদন্তের নামে মূলত খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির নেতাদের ফাঁসানোই ছিল সরকারের লক্ষ্য। যখন কোনো তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারী পেল না, তখন সরকারের চাপে তারেককে আসামি করা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপিকে ধ্বংসের এ ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চালানো হবে।

Friday, July 29, 2011

 হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন, বেলুচিস্তানে অপহরণ নির্যাতন গুম করছে নিরাপত্তা বাহিনী

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই শত শত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মীকে অপহরণ করে আটকে রাখছে। নির্যাতন চালাচ্ছে তাদের ওপর।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অপহূত অনেককে মেরে ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু লোকের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের লাশ গুম করে ফেলা হচ্ছে।
‘উই ক্যান টর্চার, কিল অ্যান্ড কিপ ইউ ফর ইয়ার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কমপক্ষে ১০০ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই আছে, যারা বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া অপহূত ও নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনদেরও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ বছরের শিশুরা পর্যন্ত অপহরণের শিকার হয়েছে, যাঁদের কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না।
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান দেশটির ৪৪ শতাংশ ভূভাগ দখল করে আছে। তেল, গ্যাস, তামা, সোনাসহ বিভিন্ন ধরনের খনিজ সম্পদে প্রদেশটি সমৃদ্ধ। ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এই প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত। আফগানিস্তানের তালেবান নেতারা বেলুচিস্তান ঘাঁটি গেড়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে থেকে অভিযোগ করে আসছে। সরকার বলেছে, আফগান তালেবানের পাশাপাশি স্থানীয় উগ্রপন্থী জাতীয়তাবাদী আদিবাসীরাও বেলুচিস্তানে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে।
বেলুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী আদিবাসী নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এসব সম্পদের খুব কম অংশই এ প্রদেশের মানুষকে ভোগ করার সুযোগ দেয়। বালুচ রিপাবলিকান পার্টির মতো কয়েকটি জাতীয়তাবাদী দল অধিকতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তাদের দমিয়ে রাখতেই নিরাপত্তা বাহিনী এসব অপহরণ ও খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের উদ্ধৃতি দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারবিরোধী কর্মীদের প্রায়ই সাদা পোশাকে নিরাপত্তাকর্মীরা তুলে নিয়ে যান।
বালুচ রিপাবলিকান পার্টির কর্মী বশির আজিম বলেছেন, ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৯ সালে তিন দফায় তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তাঁর ভাষ্য, ‘তাঁরা আমার নোখের ভেতর সুচ ঢুকিয়ে দিত, পিঠের ওপর চেয়ার পেতে বসে পড়ত। একবার আমাকে এমন একটা কক্ষে ২৪ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া নড়াচড়া করার কোনো সুযোগ ছিল না। যখন তাঁরা আমাকে বাইরে নিয়ে এল, তখন আমার পা দুটো ফুলে গেছে। আমি বাইরে আসার সময় পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লাম।’
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাউকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া ধরে আনে না। যাদের ধরে আনে তাদের সময়মতো আদালতে সোপর্দ করা হয়। ডন ও বিবিসি অনলাইন।

Thursday, July 28, 2011

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হতে পারে

অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক
নরওয়েতে গত শুক্রবার জোড়া হামলা চালিয়ে ৭৬ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করা অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে সে দেশের পুলিশ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনার কথা চিন্তাভাবনা করছে। সরকারি কৌঁসুলি ক্রিশ্চিয়ান হ্যাটলো গতকাল মঙ্গলবার আফেনপোস্টেন পত্রিকাকে এ কথা জানিয়েছেন।
ক্রিশ্চিয়ান হ্যাটলো বলেন, বর্তমানে ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২১ বছরের করাদণ্ডাদেশ হতে পারে। তবে ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর ৩০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ হতে পারে।
নরওয়ের বিচারমন্ত্রী নুট স্টরবার্জেট জোড়া হামলার ঘটনায় পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অসলো পুলিশ ও তাদের সহযোগীদের চমৎকার কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ এর আগে হামলার ঘটনায় কর্মকর্তাদের কাজের ধীরগতির জন্য গণমাধ্যমে পুলিশের সমালোচনা করা হয়েছে।
নুট স্টরবার্জেট বলেন, ‘এই লোকেরা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি কঠোর পরিশ্রম করেছে। তারা তাদের ছুটির দিনও বিসর্জন দিয়েছে এবং দেশের সব প্রান্ত থেকেই তারা স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেছে।’
পুলিশের মুখপাত্র স্টার্লা হেনরেইকসবো বলেন, ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অন্য অভিযোগগুলোর সম্ভাবনা এখনো বাদ দেওয়া হয়নি। পুলিশের গতকাল রাতেই হামলার শিকার ব্যক্তিদের নামের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা।
নরওয়ের পুলিশ ধারণা করছে, শুক্রবার অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক সম্ভবত একাই জোড়া হামলা চালিয়ে ৭৬ জনকে হত্যা করেছিলেন। ঘটনা তদন্তের সঙ্গে জড়িত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ব্রেইভিক যখন নিজেই একা ওই হামলা চালানোর দাবি করেছেন, তখন তাঁর দাবি তেমন বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তবে আমরা কেউই তাঁর দাবির বিষয়টি একবারেই উড়িয়ে দিইনি। বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও দ্য হিন্দু। প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More