Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label বিচিত্র. Show all posts
Showing posts with label বিচিত্র. Show all posts

Tuesday, March 20, 2012

দয়া করে অপ্রাপ্তবয়স্করা এই লেখা পড়বেন না

রোববার আমি গিয়েছিলাম টাঙ্গাইলে। ফেরার পথে গাড়িতে খেলার ধারাবিবরণী শোনার জন্য রেডিও অন করলাম। বাংলাদেশ বেতার কিছুক্ষণ ভারত-পাকিস্তানের খেলা প্রচার করে চলে গেল মহান জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সরাসরি প্রচারে। হাইওয়েতে গাড়ি চলছে। ড্রাইভারকে বলব, রেডিও কেন্দ্র বদলে খেলারটা দিতে, সাহস পাই না। হঠাৎ যদি অ্যাকসিডেন্ট হয়ে যায়।
এর চেয়ে অ্যাকসিডেন্ট হওয়াই বোধ হয় ভালো ছিল। যা শুনলাম, তাতে শরীরের ওপর দিয়ে যায়নি বটে, কানের ওপর দিয়ে, সেই সুবাদে রুচির ওপর দিয়ে যেন স্টিমরোলার চলে গেল।
বিএনপিদলীয় একজন সদস্যা যা বলেছেন, তার সবই আমি শুনেছি। ভালো যে টেলিভিশনের সামনে ছিলাম না, তা হলে তাকে দেখতেও হতো। তিনি কী কী বলেছেন, তা আমি আরেকবার বলতে পারব না। আমার পক্ষে সম্ভব না। এসব কথা প্রথম আলোর মতো পত্রিকায় ছাপা উচিতও না। আমার ধারণা, প্রথম আলো কাগজটা ভদ্রলোকেরাই পড়েন। আমার লেখা আবার শিশু-কিশোরেরাও পড়ে বলে জানি।
কিন্তু প্রিয় পাঠক, আপনারা যারা এ বক্তব্য সরাসরি শোনেননি, তাঁদের আমি বোঝাব কেমন করে যে তিনি কী বলে থাকতে পারেন।
আচ্ছা, আকারে-ইঙ্গিতে বলি।
ধরা যাক, ক হলেন একজন পুরুষ। তিনি এখন অবসরপ্রাপ্ত। আগে খুবই ক্ষমতাধর ছিলেন।
খ হলেন একজন নারী। তিনি এখন খুবই ক্ষমতাশালী।
তিনি বলছেন, খ ক-এর কেবল কোলে নয়, আর কোথায় কোথায় বসেছিলেন...
নাহ্, আমার পক্ষে এসব কথা লেখা সম্ভব নয়। এতটুকুন লিখেই খুবই মর্মপীড়া হচ্ছে।
কাগজে পড়লাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, এ ভাষা তো নিষিদ্ধ পল্লিতেও বেমানান।
মাননীয় সংসদ সদস্যদের করজোড়ে কি একটা নিবেদন করতে পারি, নিষিদ্ধ পল্লি তো নিষিদ্ধই। সেখানে কী বলা হয়, না বলা হয়, তা রেডিও-টেলিভিশনে সরাসরি প্রচার করা হয় না। অসম্পাদিত অবস্থায় সরাসরি তা দেশের আপামর মানুষের কাছে কখনোই পৌঁছায় না। কিন্তু মহান জাতীয় সংসদে কোনো সদস্য যা বলেন, তা সরাসরি প্রচার করা হয়। রেডিওতে শোনা যায়, টেলিভিশনে শোনা ও দেখা যায়। আপনাদের বাসায় কি শিশু-কিশোর নেই? আপনাদের বাসায় কি ময়-মুরব্বি নেই?
বিএনপির ওই নারী সংসদ সদস্য যা বলেছেন, তা যদি তাঁর সন্তান-ভাগনে-ভাগনিরা শুনে ফেলে? যদি তাঁর মা-খালারা শোনেন? যদি তাঁর বাবা-চাচারা শোনেন?


বিএনপির একজন সংসদ সদস্য, যার নাম আমি মনে রাখারও প্রয়োজন বোধ করি না, তার মুখে এসব কথা শুনে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমার কাছে অরুচিকর, অরাজনৈতিক, অনভিপ্রেত বলে মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, এটা সভ্যতার সঙ্গে যায় না, ভদ্রতা-শিষ্টতা-শালীনতার সঙ্গে তো নয়ই। সভ্যতার সঙ্গে কিন্তু রেখে-ঢেকে চলার একটা সম্পর্ক আছে। মানুষ বনে ছিল। কোনো পোশাক পরতে জানত না। প্রথম দিকে সে গাছের ছালবাকল, লতাপাতা দিয়ে অঙ্গ ঢেকে রাখতে শুরু করে, পশুর চামড়া দিয়ে লজ্জা নিবারণ করতে শেখে, তারপর কাপড় আবিষ্কার করে। আপনি কোথায় কী বলবেন, কোথায় কী করবেন, এসব মেনে চলাও সভ্যতারই অংশ। যে কথা ইয়ার-দোস্তরা বলাবলি করে, তা কেউ প্রার্থনাসভায় বলবে না, জনসভায়ও বলবে না। সব প্রাণীকেই কতগুলো প্রাকৃতিক জৈবিক কাজ প্রতিদিন করতে হয়, সেসব বিষয়ে আমরা গোপনীয়তা বজায় রেখেই চলি। এটাই সভ্যতা।


বিএনপির একজন সংসদ সদস্য, যার নাম আমি গতকালই প্রথম জানলাম এবং আগামীকাল মনে রাখব বলে মনে করি না, তার মুখে এসব শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে, আমার লজ্জাবোধ হয়েছে। আমি আসলে এসব নিয়ে কথা বলতেও লজ্জা পাচ্ছি।
কিন্তু তার চেয়ে অনেক বড় পদে আছেন, অনেক বড় যাঁর মর্যাদা, আর স্থান, যিনি আমাদের সবাইকে প্রতিনিধিত্ব করেন, তিনি যখন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অকারণ, অপ্রয়োজনীয় কথা বলতে থাকেন, তখন অধিক শোকে পাথর হয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কীই বা বলার থাকে।
বিরোধী দলের তৃতীয় সারির নেতার মুখে যা মানায় না, সরকারি দলের প্রথম সারির নেতার মুখে তার এক শতাংশ কথাও কি কেউ আশা করে?


এসব বলে কি জনপ্রিয়তা বাড়ে?
নীরবতা হীরন্ময়। কথা কম বলুন, বিষোদ্গার কম করুন, কথা বলতে হলে মিষ্টি করে হেসে বলুন।
কাকের কর্কশ স্বর বিষ লাগে কানে,
কোকিল অখিল প্রিয় সুমধুর গানে।


২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত একজন নেত্রী কী অসাধারণ পরিমিতিবোধই না প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি কথা কম বলেছিলেন এবং তাঁর ভোট অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
এখন তিনি কথা বলতে শুরু করেছেন।
জরিপ বলছে, তার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে।
আশা করি, নিজের ভালোটা অন্তত এঁরা বুঝবেন। জনগণের ভালো পরে করুন, আগে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য সচেষ্ট হোন। দয়া করে, কুৎসা, ব্যক্তিগত কাদা-ছোড়াছুড়ি, মন্ত্রীর ভাষায় ‘নিষিদ্ধ পল্লিতেও বেমানান’ কথাবার্তা বলা বন্ধ করুন।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

Wednesday, September 7, 2011

‘বিমান পাঠাও, তোমার জন্য জুতা নিয়ে আসব’

ঢিল মারলে যে পাটকেলটি খেতে হয়, ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর বোধ হয় জানা ছিল না। তাই তো তিনি উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তথ্যে ক্ষুব্ধ হয়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে আগ্রার পাগলা গারদে পাঠানোর কথা বলেছেন। খেপা মানুষ অ্যাসাঞ্জও কম যান না। মায়াবতীকে যুক্তরাজ্যে বিমান পাঠাতে বলেছেন। ভারতে আসার সময় মায়াবতীর জন্য ভালো জুতাও আনবেন বলে জানিয়েছেন অ্যাসাঞ্জ।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। মার্কিন গোপন তারবার্তা ফাঁস করে মায়াবতীর ব্যাপারে উইকিলিকস একটা বোমাই ফাটিয়েছিল। অভিযোগ গুরুতর। ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবরের এক তারবার্তায় বলা হয়, যখন মায়াবতীর নতুন স্যান্ডেলের দরকার হয়, তখন তাঁর পছন্দের ব্র্যান্ডের স্যান্ডেল আনতে মায়াবতীর ব্যক্তিগত বিমান মুম্বাইয়ে উড়ে যায়।
শুধু তা-ই নয়; ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান মায়াবতীকে (৫৫) প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ভাবনায় আচ্ছন্ন ‘প্রথম শ্রেণীর অহং-সর্বস্ব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
উইকিলিকসে প্রকাশিত তারবার্তায় বলা হয়, দলের সদস্য, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার উপহার নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিবছর জন্মদিন পালন করেন দলিত সম্প্রদায়ের মায়াবতী। জন্মদিন পালনের সময় তাঁকে কেক খাওয়ানোর জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয় কর্মকর্তাদের মধ্যে। তারবার্তায় বলা হয়, মায়াবতী নিজের বাড়ি থেকে অফিস পর্যন্ত একটি ব্যক্তিগত সড়ক নির্মাণ করেছেন।
উইকিলিকসে প্রকাশিত ওই তারবার্তার তথ্যের প্রতিক্রিয়ায় মায়াবতী ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্র পাঠানো উচিত বলে মন্তব্য করেন। মায়াবতী উইকিলিকসের এ অভিযোগকে নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন। মায়াবতী বলেন, ‘উইকিলিকসপ্রধান হয় পাগল হয়ে গেছেন, অথবা আমাদের বিরোধীদের সমর্থন করছেন।’ তিনি অ্যাসাঞ্জকে আগ্রার মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তিরও প্রস্তাব দেন।
মায়াবতীর এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠান। অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, ‘মায়াবতী যুক্তিসংগত বিচারবুদ্ধির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রশ্ন হলো, তিনি কি দলিতদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন? কোনো সন্দেহ নেই যে এই দলিলগুলো মার্কিন দূতাবাসের। এই দলিল বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত। এমনকি ওয়াশিংটন কর্তৃকও।’
মায়াবতী উদ্দেশে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘হিলারির সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের যোগাযোগে এ অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর যদি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকে, তা নিয়ে হিলারির সঙ্গে কথা বলা উচিত। আমি তাঁকে তাঁর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাই।’
অ্যাসাঞ্জ আরও বলেন, ‘তিনি যদি তা করতে ব্যর্থ হন, তবে আমাকে যুক্তরাজ্য থেকে নিয়ে যেতে তাঁর ব্যক্তিগত বিমান পাঠানোকে স্বাগত জানাই, আমি যেখানে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গত ২৭২ দিন ধরে গৃহবন্দী আছি। ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে আমি আনন্দিত হব, দেশটিকে আমি ভালোবাসি। ভারতে যাওয়ার সময় আমি মায়াবতীর জন্য যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ভালো জুতা নিয়ে যাব।

Monday, September 5, 2011

'প্রশ্নবিদ্ধ মন্ত্রীর কাঁধে আ. লীগের ভবিষ্যৎ'


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের দায়িত্ব এমন এক মন্ত্রীর কাঁধে, যার সততা প্রশ্নবিদ্ধ- যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সম্পর্কে এমন মূল্যায়নই ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি, যা প্রকাশ করেছে উইকিলিকস।

গতবছর ১০ ফেব্র"য়ারি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে পাঠানো এক গোপন তারবার্তায় মরিয়ার্টি লিখেছেন, "দুর্নীতির অভিযোগ এখনো যোগাযোগমন্ত্রীকে ঘিরে আছে। তিনি যে পদ্ধতিতে কাজ করেন, তার বেশ কিছু সমস্যার কথা বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন। তাছাড়া চীনের সঙ্গে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টিও সবার জানা।"

প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবলের সঙ্গে মরিয়ার্টির এ বার্তাটিও গত ৩০ অগাস্ট প্রকাশ করেছে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হৈ চৈ ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস। এর আগে গত বছর বিভিন্ন দেশে দূতাবাসের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিনিময় করা আড়াই লাখেরও বেশি গোপন বার্তা প্রকাশ করে এই ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিপাকে ফেলে দেয়।

মরিয়ার্টির পাঠানো এই বার্তার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ এর ৩ ফেব্র"য়ারি যোগাযোগমন্ত্রীর দেওয়া এক ভোজসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই আবুল হোসেনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তার কথা হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সহযোগিতার প্রশংসা করলেও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) শর্ত নিয়ে আপত্তি তুলে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে তদবির করতে অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন যে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের নিশ্চয়তার জন্য খুবই জরুরি- সে বিষয়টিও মরিয়ার্টিকে বুঝিয়ে বলেন আবুল হোসেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য কাজের অনেক সুযোগ আছে- এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে তিনি ঢাকায় উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণেও আমেরিকার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বড় বড় প্রকল্প নিয়ে তদবির চালিয়ে গেলেও সময়মতো মহাসড়ক মেরামত না করায় আবুল হোসেন স¤প্রতি সরকারের ভেতরে-বাইরে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন।

সড়কের নাজুক দশার কারণে গত রোজায় রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে গাজীপুর হয়ে ১৩টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিকরা। এছাড়া দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা বাড়তে থাকায় সড়কগুলোর অবস্থা নতুন করে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন মহল থেকে যোগাযোগমন্ত্রীকে অপসারণেরও দাবি ওঠে।

সময়মতো সড়ক মেরামত না করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এক বৈঠকে যোগাযোগমন্ত্রীকে তিরস্কার করেন। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঈদের ছুটি বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক মেরামত শুরু হয়।

পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে আবুল হোসেন সেই ভোজসভায় রাষ্ট্রদূতকে বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এই প্রকল্পের জন্য ঋণ দিতে রাজি হলেও জাইকা চুক্তিটি দুটি ভাগে ভাগ করে দুই প্রতিষ্ঠানকে সেতুর সাব ও সুপার স্ট্রাকচার নির্মাণের দায়িত্ব দিতে বলছে। সেক্ষেত্রে জাইকা সাব স্ট্রাকচারের জন্য অর্থায়ন করবে।

কিন্তু এ প্রকল্পের অন্য উন্নয়নসহযোগীরা জাইকার এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে জানিয়ে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে বলেন, দুই কোম্পানিকে কাজ দিলে ভবিষ্যতে যে কোনো সমস্যার জন্য ঠিকাদাররা পরস্পরের ওপর দোষ চাপানোর সুযোগ পাবে। এতে জটিলতাও বাড়বে।

"জাইকা যাতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে- সেজন্য জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও আমেরিকা সরকারের সহযোগিতা চান মন্ত্রী", বলা হয় মরিআর্টির তারবার্তায়।

২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জন্য গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৬ জুনের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলার, এডিবির সঙ্গে সাড়ে ৬১ কোটি ডলার, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার এবং জাইকার সঙ্গে ৪১ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের বাকি অর্থের যোগান সরকারই দেবে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, নদীর ওপর সেতুর মূল দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। আর দুই পাশে সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার।

সেতুর নির্মাণকাজ তদারকির জন্য ইতোমধ্যে একটি বিদেশি সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এ সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই দেশের দীর্ঘতম সেতু নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তায় বলা হয়েছে, "আবুল হোসেন ও রাষ্ট্রদূত আলোচনায় একমত হয়েছেন যে, অনেক কেম্পানিই পদ্মা সেতুর কাজ পেতে আগ্রহী হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এরইমধ্যে ১৩টি প্রতিষ্ঠান তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রদূত তাকে একটি মার্কিন কোম্পানির কথা বলেছেন যেটি সেতু প্রকল্পের জন্য নদী খননের কাজ পেতে আগ্রহী। এছাড়া দরপত্র ডাকা হলে যুক্তরাষ্ট্রের আরো কোম্পানি নিশ্চিতভাবেই এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাবে।"

'চাক্ষুস প্রমাণ'

মরিয়ার্টি তার সরকারকে পাঠানো ওই বার্তায় বলেন, "নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে যোগাযোগমন্ত্রীর অন্য দুটি পরিকল্পনা হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক স¤প্রসারণ। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক স¤প্রসারণের ২০ কোটি ডলারের কাজের জন্য ১০টি দরপত্রে সাতটি বিদেশি ও তিনটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।"

এছাড়া একটি উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও মন্ত্রী মরিয়ার্টিকে জানান, যেটি বাস্তবায়ন করা হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে।

এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়ে আবুল হোসেন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, "মহানগরীতে যুক্তারাষ্ট্রের অর্থায়নে আমরা এমন একটি প্রকল্প চাই, যা হবে দুই দেশের সম্পর্কের 'চাক্ষুস' প্রমাণ।"

রেলের বেসরকারিকরণ

বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে আবুল হোসেন মরিয়ার্টিকে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন স¤প্রসারণের পাশাপাশি এই রেলপথকে 'ডাবল লাইন' করার কাজও শিগগির শুরু হবে।

এছাড়া ঢাকার যনজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলিভেডেট রেল ব্যবস্থা চালুর দায়িত্ব দিয়েছেন জানিয়ে আবুল হোসেন বলেন, জাইকা ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।

রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রী জানান, তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি স্বাধীন 'কর্পোরেট' প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চান, যার পরবর্তী ধাপ হবে বেসরকারিকরণ। এতে প্রতিষ্ঠানটির দক্ষতা ও কাজের মান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মরিয়ার্টি তার বার্তা শেষ করেছেন এভাবে- "যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোট নিশ্চিত করার মিশন সফল করতে মন্ত্রী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি যেসব বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কথা বলেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ব্যবসার বিপুল সুযোগ রয়েছে। ঢাকা দূতাবাস এই সুযোগের বিষয়টি প্রচার করার পাশাপাশি আগ্রহী মার্কিন কোম্পানিগুলো যাতে বৈধ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব কাজ পেতে পারে, সেই চেষ্টা করবে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Thursday, July 28, 2011

কারাগারে ‘বড় মিয়া’র বিলাসী জীবন

কারাগারে বসেই বাড়ির রান্না করা খাবার খাচ্ছেন। প্রতিদিন আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করছেন। দরকার হলে মোবাইল ফোনে কথাও বলছেন। তাঁর ইচ্ছাই যেন সেখানকার নিয়ম। লক্ষ্মীপুর কারাগারে এমনই জীবন যাপন করছেন একাধিক খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ‘বড় মিয়া’।
এই বড় মিয়া হলেন এ এইচ এম বিপ্লব। লক্ষ্মীপুরের পৌর মেয়র আবু তাহেরের বড় ছেলে। শুধু তাহেরের বড় ছেলে বলেই নয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লক্ষ্মীপুরের অপরাধ জগতের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ হিসেবে বিপ্লবকে সমীহ করে বড় মিয়া ডাকেন সাঙ্গপাঙ্গরা। কারাগারে বড় মিয়ার সঙ্গে আছেন তাঁর আরেক ‘গুণধর’ ভাই আবদুল জব্বার ওরফে লাবু (তাহেরের পালিতপুত্র)। লাবু পাঁচটি খুনের মামলার আসামি, দুটিতে যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে।
বহুল আলোচিত নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ড সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মওকুফ করেছেন। এ খবর প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হওয়ার পর আবার আলোচনায় আসেন লক্ষ্মীপুরের একসময় ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত তাহের ও তাঁর ছেলে বিপ্লব। এ অবস্থায় বড় মিয়ার কারাগারের বিলাসী জীবনযাপন যাতে সাংবাদিকদের নজরে না পড়ে, সে জন্য লক্ষ্মীপুর কারাগারের সামনে তাহেরের লোকজন দিনের বেলায় পাহারা বসিয়েছেন বলে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়। অচেনা কেউ কারাগারের সামনে গেলে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক বলেছেন, এই পাহারা পেরিয়ে সংবাদ সংগ্রহে কারাগারের দিকে যেতে সাহস করছেন না তাঁরা।
অবশ্য গত সোমবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে এই প্রতিবেদক কারাগারে গেলে পাহারায় থাকা তাহেরের লোকজন বাধা দেননি।
জেলারসহ কারাগারের সব কর্মকর্তাকে বলে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন তাহেরপুত্র বিপ্লব নিয়ে কোনো তথ্য না দেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিপ্লবের কারাজীবন, মামলার সাজা ইত্যাদি বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো তথ্য না দিতে বিপ্লবের পক্ষ থেকে লক্ষ্মীপুর কারাগারের কর্মকর্তাদের বলে দেওয়া হয়েছে। ফলে কয়েক দিন ধরে কারা কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না।
এই প্রতিনিধি বিপ্লবের কারাগারের জীবন ও সাজা সম্পর্কে জানতে লক্ষ্মীপুর কারাগারে গিয়ে অনেক চেষ্টা-তদবির করেও কারও কাছ থেকে কোনো তথ্য পাননি। সরাসরি গিয়ে ব্যর্থ হয়ে টেলিফোনেও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কিছুতেই কথা বলতে রাজি হননি জেলার আখতার হোসেন। তাঁর মোবাইলে ফোনে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলে, তাঁরও কোনো জবাব দেননি তিনি।
তবে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্র থেকে জানা যায়, একটি মামলার ফাঁসির দণ্ড মওকুফ পাওয়ার পর বিপ্লব বাকি দুটি হত্যা মামলার দণ্ড মওকুফের জন্য চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজা মওকুফের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন তাঁর বাবা তাহের। এটার ফয়সালা হলে অপরটির জন্য আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।
তাহের নিজেও প্রথম আলোকে বলেন, ‘দরখাস্ত একটা করছি, অ-ন কী অবস্থায় আছে জানি না, খোঁজও নেই না।’
বিপ্লবের নাম শুনলে মানুষ আঁতকে ওঠে, এর কারণ জানতে চাইলে আবু তাহের বলেন, ‘এগুলো সব মিডিয়ার সৃষ্টি। আপনারা সাংবাদিকেরা বানাইছেন। আমার কোনো ছেলে সন্ত্রাসী না। তারা কারোরে খুন করেনি।’ তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘সাংবাদিকেরা মাইনষের জাত না। কয় একটা আর লেয় আরেকটা।’
বিপ্লব ভালো ছেলে হলে এতগুলো খুনের মামলার আসামি হলো কেন—এই প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, সব মিথ্যা মামলা। দলের কিছু লোক ও বিএনপির লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে ধ্বংস করার জন্য এ ষড়যন্ত্র করেছে। তাঁর দাবি, ‘আমার হুতেরা (ছেলেরা) খুন করতেই পারে না।’
তাহলে পুলিশের তদন্ত, অভিযোগপত্র, আদালতের রায়, সবই কি মিথ্যা? জবাবে তাহের বলেন, ‘কে বড়, সিআইডি নাকি থানার পুলিশ? নাসিমের (সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) আমলে সিআইডি নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দিল। আর এখন নাইস্যা (মোহাম্মদ নাসিম) কয়, এডা নাকি নিয়মমতো অয় ন।’
তাহেরের দাবি, ‘আমি মক্কা শরিফ ছুঁইয়ে বলেছি, আমি নুরুল ইসলামের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। যারা জড়িত আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন। পাপ হুতেরেও (ছেলেরে) ছাড়ে না।’
লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাহের ও তাঁর ছেলেরা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে নানা অপরাধ করে। আর ক্ষমতা থেকে চলে গেলে তারা আত্মগোপন করে। কিন্তু ভোগান্তি পোহাতে হয় দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের।
নিহতদের পরিবারের শঙ্কা: লক্ষ্মীপুরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাহেরপুত্র ও তাঁর লোকজনের হাতে খুন হওয়া কয়েকজনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুনের মামলায় বিপ্লবের ক্ষমা লাভের ঘটনায় তাঁরা শঙ্কিত।
‘মরইন্যারে তো হিরি হামু না। বিপ্লইবা বাইর অইলে তো আর যে দুগা হুত আছে এগুনরেও মারি হালাইব। আঁই কিয়া করুম, চোকেও কিচু দেহি না’ (যে মরে গেছে, তারে তো ফিরে পাব না। বিপ্লব বের হলে তো যে দুই ছেলে জীবিত আছে, তাদেরও মেরে ফেলবে। তখন আমি কী করব, চোখেও কিছু দেখি না)। দক্ষিণ মজুপুরের বাড়িতে গেলে এভাবেই প্রথম আলোর কাছে উদ্বেগের কথা বলছিলেন নিহত কামালের বৃদ্ধ মা আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, দুই ছেলেকে তিনি বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
বিএনপির কর্মী কামালকে ১৯৯৯ সালের আগস্টে হত্যা করা হয়। তাঁর ভাই আবদুর রহিম বলেন, কামাল হত্যার ঘটনায় তিনি আবু তাহের ও তাঁর তিন ছেলে বিপ্লব, টিপু ও লাবুসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। এই মামলায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল টিপু ও লাবুকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। আর তাহের ও বিপ্লবের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। বিপ্লব ও আরেক আসামি খালেদ ছাড়া বাকি চারজন পরে হাইকোর্ট থেকে খালাস পান।
কামালদের পাশেই ফিরোজ আলমের বাড়ি। ফিরোজ খুন হন ১৯৯৮ সালের ১ অক্টোবর। নিহত ফিরোজের ভাই রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, তাহের বাহিনী ও তাঁর ছেলেদের অত্যাচারে তিনি তখন বিদেশে পালিয়েছিলেন। বিপ্লব গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশে ফিরে আসেন।
রেজাউল বলেন, বিপ্লব ও লাবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ফিরোজকে ধরে নিয়ে খুন করে। ফিরোজ তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত। এ মামলাটি এখন বিচারাধীন। তিনি বলেন, তাঁরা এখন আতঙ্কে আছেন, বিপ্লব কখন যে বেরিয়ে আসে। তাই রেজাউল তাঁর আরেক ভাইকে বিদেশ পাঠিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
একই আতঙ্কের কথা বলেছেন সদর থানার বনগাঁও শিবপুরের আমান উল্লাহ। তিনি নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে মহসিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। মহসিনকে ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর শহরের বিপ্লব, বাবু, রিংকু, লাবুসহ কয়েকজন মিলে প্রকাশ্যে খুন করে।
আমান উল্লাহ বলেন, মহসিন খুনের ঘটনায় তাহেরপুত্র লাবুসহ পাঁচজনের ফাঁসি ও বিপ্লবসহ সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।
এই মামলায় বিপ্লবের দণ্ড মওকুফ চেয়ে তাহের রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন বলে শুনেছেন আমান উল্লাহ। ক্ষুব্ধ এই পিতা বলেন, ‘এত বড় খুনিদের যদি মাফ করে দেওয়া হয়, তাহলে চোর-ডাকাতদের আটকে রাখার দরকার কি, তাদেরও ছেড়ে দেওয়া হোক।’

Tuesday, July 26, 2011

 তাহেরের হেরফের নেই!

ইঞ্জিন, আসন, চাকা—কোনো কিছুই আগের মতো নেই। কাঠামোটা এখনো টিকে আছে। তবে রং চটে গেছে, ধরেছে মরিচা। লক্ষ্মীপুর মডেল থানা চত্বরে ১০ বছর ধরে পড়ে আছে মাইক্রোবাসটি। এটি বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার আলামত।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাইক্রোবাসটি নতুন করে আবার থানায় আগত মানুষের নজর কাড়ছে। তাহেরপুত্র বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ড মওকুফের পর মামলার এই আলামতের মধ্যে এখন নতুন সন্ত্রাসের আলামত দেখছে এলাকার মানুষ। দিন কয়েক আগে নুরুল ইসলামের স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলা এলাকার মানুষের এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, এই মাইক্রোবাসে চড়েই দাপিয়ে বেড়াতেন লক্ষ্মীপুরের বিতর্কিত আওয়ামী লীগের নেতা আবু তাহেরের বড় ছেলে ফাঁসির আসামি এ এইচ এম বিপ্লব, পালিত ছেলে আবদুল জব্বার লাবু ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে ১০টি খুন ও এক ডজনের বেশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এই মাইক্রোবাস ব্যবহূত হয়েছিল। এই মাইক্রোবাস নিয়েই লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রদলের নেতা মুনছুর আহমেদ ও আনোয়ার হোসেন জুলফুর দুই হাতের সব আঙুল কেটে ফেলেন তাহেরের বড় ছেলে বিপ্লব। সেই মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছিল।
কিন্তু এত দিন পরও এলাকাবাসী গণমাধ্যমের সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। লক্ষ্মীপুরে এসে কয়েক দফা চেষ্টার পর দুই তরুণের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা কথা বলতে রাজি হন, কিন্তু ভয়ে ছবি তুলতে সম্মত হননি। এমন আতঙ্ক এখন লক্ষ্মীপুরজুড়ে।
আঙুল হারানো মুনছর প্রথম আলোকে শুধু বললেন, ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহল থেকে যখন অবিচার হয়, তখন আত্মহত্যা করা ছাড়া আর উপায় থাকে না।’
বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় তাহেরের ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। কিন্তু তাহেরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ মওকুফ করেন। নুরুল ইসলাম হত্যা মামলা ছাড়াও বিপ্লব আরও চারটি হত্যা মামলার আসামি। এর মধ্যে দুটিতে তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর কারাগারে আছেন। বিপ্লবের এই সাজা মওকুফ নিয়ে লক্ষ্মীপুরবাসীর মনে আবার আতঙ্ক ভর করেছে। সবার একই আশঙ্কা, বিপ্লব মুক্ত হলেই আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হবে।
নিজের ছেলে বিপ্লবের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সাজা মওকুফ হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাহের বলেন, ‘বিপ্লবের নাম কে জানত, এখন সবাই তাকে চেনে। সে জেলা কমিটির (আ.লীগ) সদস্যও না। অথচ আজ প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিরোধী নেতা, ড. কামাল, সুরঞ্জিত সেন, মোহাম্মদ নাসিম—সবার মুখে মুখে তার নাম। টেলিভিশনে তাকে নিয়ে টক শো হচ্ছে। সে এখন জাতীয় নেতা। এক কোটি টাকা খরচ করেও এমন নাম পাওয়া যাবে না। ছেলেকে বলেছি, তুই এখন মরলেও আমি খুশি।’
তবে তাহেরকে নিয়ে জনমনে আতঙ্ক থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ কমই হয়েছে। কেবল মেয়র নির্বাচনের সময় তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রতিপক্ষের লোকজনকে বের করে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাহের অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ—কেউ আমাকে ভোট দেয়নি। তারা আমার বিরোধিতা করেছে। পৌর নির্বাচনে আমি কারও কাছে ভোট চাইতেও যাইনি, লোকজন ভালোবেসে আমাকে ভোট দিয়েছে।’
লক্ষ্মীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, এই সরকারের আমলে তাহের ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি, যা আছে সব বিগত সময়ের অভিযোগ।
উন্নয়নকাজের নিয়ন্ত্রণ: স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর লক্ষ্মীপুর পৌরসভাসহ জেলায় যত সরকারি উন্নয়নকাজ হয়েছে, এর প্রায় সবই নিয়ন্ত্রণ করেছেন তাহের। এ ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষে সব দেখাশোনা করেছেন মেজো ছেলে এ কে এম সালাউদ্দিন টিপু। জেলা পরিষদ, শিক্ষা প্রকৌশল, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের যাবতীয় ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ তাঁরই হাতে। তাঁর কথামতোই সব কাজ ভাগ হয়েছে, সেভাবেই দরপত্রে ঠিকাদারেরা অংশ নিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পৌর কাউন্সিলর অভিযোগ করেন, দরপত্র চাওয়ার আগেই বাস টার্মিনালের সীমানাদেয়াল নির্মাণের কাজ মেয়র তাঁর পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে দেন।
তবে মেয়র তাহের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কে আমার নাম কইছে, কন।’ লোকজন বলেছে, আপনার নামেই তো এসব হয়ে থাকে—এ কথার জবাবে তাহের বলেন, ‘ওই আমলে (বিগত আওয়ামী লীগ আমল) হয়ে থাকতে পারে। এবার আমি কোনো এক্সইএনকে (নির্বাহী প্রকৌশলী) একটি ফোনও করিনি।’
পরবর্তী লক্ষ্য সাংসদ হওয়া: এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাহের এখন স্বপ্ন দেখছেন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার। এর আগে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে চান। এরপর আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। এভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাহের। দল চার ভাগে বিভক্ত হলেও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তিনি নিজের পছন্দের লোকদের জিতিয়ে এনেছেন। তাঁদের মধ্যে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত দুই ইউপি চেয়ারম্যানও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে।
নিজের ‘ভাবমূর্তি’ উজ্জ্বল করতে পৌরসভার বাজেট ঘোষণার সময় ৬৫টি খাসি কেটে ভোজ দিয়েছেন তাহের। বিএনপি-জামায়াতের নেতারা সেই ভোজে অংশ নিয়েছেন, বক্তৃতাও করেছেন। তাহের এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি পৌর মেয়র হিসেবে আমন্ত্রণ করেছি, এমপি হলেও আমন্ত্রণ করব।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র সাহাবুদ্দিন সাবু প্রথম আলোকে বলেন, তাহেরের লক্ষ্য আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া। তাই নিজের ভাবমূর্তি উদ্ধারে তিনি এটা করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, দলের কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত নেবেন, কে সভাপতি হবেন। কেউ চাইলেই তিনি সভাপতি হবেন, তা তো নয়।
সংসদ নির্বাচনের ইচ্ছা আছে কি না, জানতে চাইলে তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিলাম, আমি আর নির্বাচন করব না। কথা তো রাখতে হবে। তবে নেত্রী (শেখ হাসিনা) যদি চায়, তাহলে তো আমি আর না করতে পারব না।’

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More