Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label অপরাধী. Show all posts
Showing posts with label অপরাধী. Show all posts

Monday, January 16, 2012

তিন বোনকে সেনাক্যাম্পে দেন সাঈদী

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সোমবার জবানবন্দি দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ১৩তম সাক্ষী। জবানবন্দিতে সাক্ষী তাঁর তিন বোনকে সাঈদীসহ রাজাকারদের পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে দেওয়ার এবং তাঁদের পুরো পরিবারকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার বর্ণনা দেন।
বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৩তম সাক্ষী এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একদিন সাঈদী কয়েকজন রাজাকারকে নিয়ে পিরোজপুরে তাঁদের (সাক্ষীর) বাড়িতে যান। রাজাকাররা তাঁদের বাড়ি লুট করে এবং তাঁর তিন বোনকে ধরে নিয়ে পিরোজপুরে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে দিয়ে আসে। তিন দিন পর তিন বোনকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। একাত্তরে তাঁর বয়স ছিল ২৭ বছর।
তিন বোনের ওপর পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন। জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার কিছুদিন পর সাঈদী আবার কয়েকজন রাজাকার নিয়ে তাঁদের বাড়িতে যান। রাজাকাররা তাঁর মা-বাবা, ভাইবোনসহ পরিবারের সব সদস্যকে জোর করে ধর্মান্তরিত করে। তাঁর নাম দেওয়া হয় আবদুল গনি। তাঁদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয়। এর কিছুদিন পর তিনি ছাড়া পরিবারের অন্য সবাই ভারতে চলে যান। স্বাধীনতার পর তিনি নিজ (হিন্দু) ধর্মে ফিরে আসেন।
জবানবন্দির এ পর্যায়ে সাক্ষী আবেগে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান এবং কাঁদতে থাকেন। ট্রাইব্যুনাল তাঁকে শান্ত হয়ে বসতে বলেন।
জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, তাঁকে ছাড়া আরও এক-দেড় শ হিন্দুসম্প্রদায়ের লোককে রাজাকাররা ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণ সাহা, নিখিল পাল, গৌরাঙ্গ পাল, সুনীল পাল। তাঁদের অনেকে মারা গেছেন। অনেকে ভারতে চলে গেছেন।
জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। তিনি এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কয়েকজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে সাক্ষীর কাছে জানতে চান, তাঁদের তিনি চেনেন কি না? সাক্ষী তাঁদের চেনেন বলে জানান। মিজানুল জানতে চান, সাক্ষীর তিন বোনকে নির্যাতন ও ধর্মান্তরিত করার ঘটনা ওই সাক্ষীরা জানেন কি না? জবাবে সাক্ষী বলেন, তাঁরা কী জানেন না-জানেন, তা তিনি বলতে পারবেন না।
বেলা একটায় এক ঘণ্টা বিরতির পর আবার জেরা শুরু হলে মিজানুল জানতে চান, সাক্ষী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে লুট হওয়া জিনিসপত্রের কোনো তালিকা দিয়েছেন কি না? জবাবে সাক্ষী বলেন, ‘সবকিছু এমনকি ঘর ঝাড় দেওয়ার পিছা (ঝাড়ু) পর্যন্ত লুট হয়েছে।’ স্বাধীনতার পর নিজ ধর্মে ফিরতে কোনো প্রায়শ্চিত্ত করেছেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জীবনের মায়ায় ধর্মান্তরিত হয়েছি, এর জন্য প্রায়শ্চিত্ত দরকার নেই।’
বিকেল চারটার দিকে জেরা শেষ হলে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম কাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

(প্রথম আলোর নীতি অনুসারে সাক্ষী ও তাঁর বোনদের নাম প্রকাশ করা হলো না।) prothom-alo

Wednesday, December 14, 2011

 গোলাম আযমের নির্দেশে ৩৮ জনকে হত্যা

একাত্তরের ২১ নভেম্বর গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের ৩৮ জনকে শহরের পৈরতলা রেলব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। এই গণহত্যা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের নির্দেশে।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫২টির একটি হলো এই গণহত্যা। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) ধারায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং এ ধরনের অপরাধে নেতৃত্ব, সহায়তা, প্ররোচনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত সোমবার এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটকের জন্য পরোয়ানা জারিরও আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল ২৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নিলে রাষ্ট্রপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
জানতে চাইলে জামায়াতের আটক নেতাদের আইনজীবী দলের প্রধান আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়াধীন থাকায় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে এটা বলা যায়, গোলাম আযম পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন এটা যেমন এক শ ভাগ সত্য, তেমনি এটাও এক শ ভাগ সত্য যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তাঁর দূরতম কোনো সম্পর্ক ছিল না।’
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযমের চেষ্টায় শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, পাইওনিয়ার ফোর্স প্রভৃতি সহযোগী বাহিনী গঠিত হয়। তাঁর নেতৃত্বে ও নির্দেশে এসব বাহিনী সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে এবং এসব অপরাধ করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে।
অভিযোগ অনুসারে, কুমিল্লার হোমনা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সিরু মিয়া একাত্তরে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় দারোগা (উপপরিদর্শক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৮ মার্চ তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও ১৪ বছরের ছেলে আনোয়ার কামালকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যান। সেখানে তিনি শরণার্থীদের ভারতে যাতায়াতে সাহায্য করতেন। ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার তন্তর চেকপোস্টের কাছে তিনি, তাঁর ছেলেসহ ছয়জন ভারতে যাওয়ার পথে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন। তাঁদের বিভিন্ন রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে কয়েক দিন নির্যাতনের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে পাঠানো হয়। আনোয়ারা বেগমের ভগ্নিপতি খিলগাঁও সরকারি স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ মুহসিন আলী খান সিরু ও আনোয়ারকে ছাড়াতে গোলাম আযমের সঙ্গে দেখা করেন। পরে আরেক দিন তিনি গোলাম আযমের কাছে গিয়ে ওই অনুরোধ জানান। গোলাম আযম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শান্তি কমিটির নেতা পেয়ারা মিয়ার কাছে এ বিষয়ে তাঁদের মারফত একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠি পড়ার পর পেয়ারা মিয়া পত্রবাহককে গোলাম আযমের দেওয়া আরেকটি চিঠি দেখান, যাতে সিরু মিয়া ও তাঁর ছেলেকে হত্যার নির্দেশ ছিল। পেয়ারা মিয়া পত্রবাহককে জানান, তাঁর আনা চিঠিতে নতুন কিছু নেই। পরে ২১ নভেম্বর (পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন) রাতে সিরু মিয়া, আনোয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নজরুল ইসলামসহ ৩৯ জনকে পাকিস্তানি সেনারা রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতায় কারাগার থেকে পৈরতলায় নিয়ে গুলি করে। এতে একজন ছাড়া বাকি ৩৮ জন মারা যান।
এ ঘটনায় গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা ও এতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাকি ৫১ অভিযোগ অনুসারে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, রাজাকার ও সহযোগী বাহিনীগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সারা দেশে যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে, নেতা হিসেবে গোলাম আযম এসব অপরাধ করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তানের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা করতে উৎসাহ, প্ররোচনা ও উসকানি দিয়েছেন।
গণহত্যায় প্ররোচনা: আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ২ মে জামায়াতের ঢাকার কার্যালয়ে কর্মিসভায় গোলাম আযম মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটনে দলের নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। ১৭ মে ঢাকায় সাবেক এমএনএ আবুল কাসেমের বাসভবনে এক সভায় গোলাম আযম ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর সামরিক অভিযানকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ উল্লেখ করেন। ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা কেন্দ্রে এক সভায় তিনি গণহত্যাকে সমর্থন করেন। ১৪ আগস্ট কার্জন হলে এক সভায় তিনি ‘ঘরে ঘরে দুশমন খুঁজে বের করে তাঁদের উৎখাতের মাধ্যমে’ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য প্ররোচিত করেন।
শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন: অভিযোগ অনুসারে, ৪ এপ্রিল গোলাম আযমসহ ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক টিক্কা খানকে নাগরিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। দুই দিন পর গোলাম আযম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পূর্ব পাকিস্তানের সভাপতি পীর মোহসীনউদ্দিন আহমদ ও এ টি সাদী আবার টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। ৯ এপ্রিল খাজা খয়েরউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও গোলাম আযমকে সদস্য করে ১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত হয়। ১৫ এপ্রিল নাগরিক শান্তি কমিটির নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি এবং ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়, যার সদস্য ছিলেন গোলাম আযম। ২১ এপ্রিল একে আরও গতিশীল করতে ছয় সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হয়, যার দুই নম্বর সদস্য ছিলেন গোলাম আযম।
অভিযোগ অনুসারে, ১৮ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিপাবলিক স্কয়ারে এক সভায় গোলাম আযম শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে রাজাকার শিবির পরিদর্শনকালে আলেম ও ইসলামি কর্মীদের প্রতি রাজাকার ও মুজাহিদ বাহিনীতে ভর্তি হয়ে সশস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ১ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, তথাকথিত মুক্তিবাহিনীকে মোকাবিলা করতে রাজাকাররাই যথেষ্ট। এ জন্য রাজাকারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
রাজাকারদের অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান: অভিযোগ অনুসারে, ১৯ জুন গোলাম আযম রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দেখা করে মুক্তিযোদ্ধাদের মোকাবিলার জন্য রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। পরদিন লাহোরে জামায়াতের পশ্চিম পাকিস্তানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে দুষ্কৃতকারীরা সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের প্রতিরোধের জন্য অস্ত্রসজ্জিত হওয়া উচিত। এমন কথা তিনি আরও একাধিক স্থানে বলেছেন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে দালিলিক সাক্ষ্য হিসেবে যেসব নথি সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: একাত্তরে স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদন (জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র সংঘ ও শান্তি কমিটির কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত), গোয়েন্দা প্রতিবেদন, শান্তি কমিটির সঙ্গে রাজাকার, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের যোগাযোগের নথি ও ছবি, ভিডিওচিত্র এবং একাত্তরের বিভিন্ন পত্রিকা ও বিদেশি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদন। এসব বিষয়ে প্রকাশ ও প্রচারের তারিখ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 প্রথম আলো পাঠক প্রতিক্রিয়া

 
Tayyip Rahman
Tayyip Rahman
২০১১.১২.১৪ ০৪:০০
Why Government is bothering a peace loving person? After all he was associated with peace committee in 1971. He wasn't pissing peace into pieces, was he?

Ismail Khan Chy(Titu)
Ismail Khan Chy(Titu)
২০১১.১২.১৪ ০৪:৫৪
He should be arrested soon.

Ismail Khan Chy(Titu)
Ismail Khan Chy(Titu)
২০১১.১২.১৪ ০৪:৫৭
He has been trying prove himself innocent on tv channels. be aware of him.

সুনন্দন বড়ুয়া (প্যারিস থেকে)
সুনন্দন বড়ুয়া (প্যারিস থেকে)
২০১১.১২.১৪ ০৬:৫৭
১৬ ডিসেম্বর ১ নম্বার রাজাকার গোলাম আযম কে গ্রেপ্তার করা হোক ।

Md.Monirul Islam Khan
Md.Monirul Islam Khan
২০১১.১২.১৪ ০৮:৩৫
গতকাল রাতে এ টি এন বাংলাই "৭১ এর গোলাম আযম" শীর্ষক একটি প্রতিবেদন দেখলাম, সাংবাদিকের প্রায় প্রশ্নের উত্তর তিনি সুন্দর ভাবে এড়িয়ে গেলেন। সবচেয়ে যে জিনিসটা আমার খারাপ লেগেছে একজন সাংবাদিক তাকে SIR বলে সম্বোধন করতে শুনে। একটা জিনিস আমি কিছুতেই বুঝলাম না তাকে এতটা সমীহ করে কথা বলার কি আছে। সে শুধু একজনের শত্রু নই পুরো জাতির শত্রু, কথাটা কি আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা ভুলে গিয়েছলেন?

Nazmul Rubaiyat
Nazmul Rubaiyat
২০১১.১২.১৪ ০৯:২৬
পাকিস্তানি গোলাম মীরজাফার গোলাম আজমের ফাসির আগে জুতা পেটা করতে চাই।

Monika
Monika
২০১১.১২.১৪ ০৯:২৮
এসব কেচ্ছা কাহিনী আমরা ছোটবেলা থেকে শুনছি। সময় এসেছে এগুলো প্রমান করার।

Debu Sarkar
Debu Sarkar
২০১১.১২.১৪ ০৯:৩৩
বেশ কয়েকদিন ধরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ক খবর সম্পর্কে লেখা পাঠকের মন্তব্যগুলো মন দিয়ে পড়ছি; সত্যি বলতে কি মূল খবরের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ছি। তাতে দেখতে পাচ্ছি, অনেকেই এই বিচারের বিরোধিতা করছেন। আমার ধারণা আজও এমন অনেকগুলো মন্তব্য প্রকাশিত হবে, যেখানে গোলাম আজমের জন্য হাহাকার করা হবে। সেসব পড়তে পড়তে ভাবতে থাকবো, আজ ১৪ই ডিসেম্বর!!

২০১১.১২.১৪ ০৯:৪৮
I am a student of B.Pharm and also a Teacher.In my life i saw him,he is not bad at all.If you have prove, you will proved him as a Rajaker.After prove it, then our government can catch him.If there is no Prove about him,there is no Causes about him to arrest.I Honor our People Republic Bangladesh.

Apu kowsar
Apu kowsar
২০১১.১২.১৪ ০৯:৫৮
আর কত !!! এখন এদের ফাসি দেয়া হোক।

Md. Mohabbot Hossain
Md. Mohabbot Hossain
২০১১.১২.১৪ ১০:১৫
Md.Monirul Islam Khan, "৭১ এর গোলাম আযম" শীর্ষক প্রতিবেদনটটি প্রচার করার জন্য এ টি এন বাংলা ধন্যবাদ, আর আপনাকেও ধন্যবাদ কষ্ট করে অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য। আর গোলাম আযম কে স্যার বলার কারন সে একজন শিক্ষিত অধ্যাপক।

Evan Hussain
Evan Hussain
২০১১.১২.১৪ ১০:২৭
...জামায়াতের অনেক নেতার বিরুদ্ধেই অকাট্য প্রমান নেই, কিন্তু গোলাম আযম.. এই লোকের বিরুদ্ধে এত প্রমাণ আছে যে একে ফাসিতে ঝোলাতে ৩দিনের বেশি কোর্টের কার্যদিবস লাগার কথা না। এখন দেখা যাক সরকার এই বিষয় নিয়ে কতটুকু রাজনীতি করে।

Sultana
Sultana
২০১১.১২.১৪ ১০:২৮
TV তে দেখলাম, উনি বলছেন, উনার বিরুদধে আনা একটা অভিযোগও কেউ পমান করতে পারবেনা। উনি তো এটা বললেননা যে উনি অভিযোগ আনা অপরাধগুলো করেননি। অপরাধ করে ইসলামকে বরম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আপনাদের বিচার তো দুই জায়গায় হবে। একটা এই পথিবীতে, আর একটা পরকালে। একটু ভয়ও নেই বুকে। নিজেদের উপর কি জুলুমটাই না করছেন শয়তানের পরোচনায়।

Sk. Arman Jahan
Sk. Arman Jahan
২০১১.১২.১৪ ১০:৩০
কালকে ATN News তার প্রতিবেদন দেখলাম ভাল লাগল ... তবে এই মানবতা বিরোধী যে আদালত এটি একটি বির্তকিত হয়ে গেছে তাই এইটা পরিবর্তন দরকার।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
২০১১.১২.১৪ ১০:৩৭
গতকাল একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার চিহ্নিত অপরাধী গোলাম আযমের সাক্ষাত্‍কার দেখে বিস্মিত হলাম । তিনি নাকি মৃত্যুকে ভয় পাননা । যে ব্যাক্তি অসংখ্য মানুষকে হত্যা করতে পারে সেতো জল্লাদ । জল্লাদরা মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার কথা ।
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে ।

imtiaz ahmed chowdhury
imtiaz ahmed chowdhury
২০১১.১২.১৪ ১০:৫০
Md. Mohabbot Hossain কে বলতে চাই গোলাম আযম একজন শিক্ষিত ঘাতোক । সবাইকে আমি Sir বলতে পারি , তা সে চোর হউক ডাকাত হউক কিন্তু একজন ঘাতোক কে Sir বলতে পারবোনা , বলতে দিবোনা ।

Abdul Salam
Abdul Salam
২০১১.১২.১৪ ১০:৫১
গোলাম আযমের মুখে জনগন শুনতে চায়, তার কাহিনী, তাকে সরাসরি প্রশ্ন করুন এবং তাকে তার উত্তর দিতে বলুন।

২০১১.১২.১৪ ১১:০৫
গোলাম আজম (বাংলাদেশীদের জন্য গোলাম আজব) আপনি সময় থাকতে প্রকাশ্যে তওবা করেণ। কারণ আল্লাহ পাক প্রকাশ্য অপরাধের জন্য প্রকাশ্যে তওবা করার কথা বলেছেন।

T Alahee
T Alahee
২০১১.১২.১৪ ১১:১৬
ঘাতকদের বিচার ও দৃসটান্তমুলক শাসতি চাই। তবে তারা যেন আত্মপক্ক সমর্থনের সু্যোগ পায়। তারা বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে সু্যোগ দেয়া উচিত। এতে করে বিচারটি বিতর্কমুক্ত থাকবে। আর বিচারটি টেলিভিশনে লাইভ দেখানোর ব্যবসথা থাকা উচিত। এতে করে এই বিচার রাজনইতিক বলয় থেকে বেরিয়ে পুরো দেশবাসীর সত:সফুর্ত সমর্থন পাবে।

শুভ্র
শুভ্র
২০১১.১২.১৪ ১১:১৭
তাকে মিডিয়ার সামনে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত।

nurul absar hussain
nurul absar hussain
২০১১.১২.১৪ ১১:২২
গত কালও বাংলাভিশনে গোলাম কে দেখিলাম উনার কথা শুনিয়া মনে হইতেছে উনি যুদ্ধকালীন দেশের রক্ষা কবচ ছিল . উনি আমাদের দেশবাসীকে যাহারা ভারতে যাইতে পারেনাই তাহাদের রক্ষা করিয়াছে. উনি গ্রেফতার হইবেন আর আমাদেরই দেশপ্রেমী দল উনার মুক্তিদাবি করিবে আর এক ধরনের সুধী জনেরা বিচারের স্বচ্ছতা চাহিয়া বিচার প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাই নিউজিত থাকিবে. .

nur alam
nur alam
২০১১.১২.১৪ ১১:৩০
আবদুল সালাম ভাই চুর কি বলে আমি ..........................?

২০১১.১২.১৪ ১১:৫৯
The war criminals get the opportunity to become ministers in Bangladesh which is humiliating for our freedom fighters. Shame on those who patronize them. I hate them like Gen. Zia, Somsher Mobin Chow etc ....

২০১১.১২.১৪ ১২:০০
১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তিকমিটি, ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি, ছয় সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হয় ! সব কমিটিতেই গোলাম আজমের নাম আছে ! কমিটির বাকী সদস্যের নাম কি ভাবে জানতে পারবো, কেউ বলতে পারেন কি ? বড় ইচ্ছা হয় আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকারদের পরিচয় জানার ! তা ছাড়া এতো এতো সদস্য রেখে কেবল গোলাম আজমের বিচারই কেন হবে সেটাও বুঝতে চাই !

hafez sharif
hafez sharif
২০১১.১২.১৪ ১২:০৯
@ Mr Md. Mohabbot Hossainকে বলছি, দেখুন একজন মানুষকে সম্মন অসম্মন দেখানো হয় তার কৃত কর্মের দ্ধারা, তিনি শিক্ষিত অধ্যাপক বেশ ভাল কথা, অধ্যাপক হয়ে তিনি দেশের জন্য কি করেছেন ? কোরআনের অপব্যখ্যা দিয়েছেন যা বাংলাদেশের হক্কানি আলেমদের লিখায় ও বক্তব্যে অগনীত প্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের সময় নয় মাস তিনি দেশের জন্য কি করিয়াছেন ? এবং ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন ? ঐ সময় তিনি কি কি করেছেন ? তার জীবনের বেশী ভাগ সময় তিনি দেশকে ধংসের পথে নিতে চেয়েছেন, তার নেতৃত্বে দেশের অগনীত মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইত্যাদী ..... এই ধরনের লোককে সম্মনীত শিক্ষিত অধ্যাপক বলাটা শোভা পায়না।

Hasan
Hasan
২০১১.১২.১৪ ১২:১২
আর কোনো specific প্রমান পাওয়া গেল না? পাকিস্তানের আর্মিরা কি গোলাম আযমের নিরদেশে মেনে চলতো যে তার কথামতো ৩৮ জনকে হত্যা করলো? যারা নিজ হাতে হত্যা করলো তাদের কি কোন বিচার হবে না?

monir
monir
২০১১.১২.১৪ ১২:১৮
গো আযম ও অন্যান্য জামাত নেতারা ১৯৭১ সালে যে অপরাধ গুলো করেছিলো এবং তারা যে অপরাধী এটা দিবা লোকের মত সত্য কিন্তু এত দিন পর এ গুলো প্রমান করা অত্যন্ত কঠিন। বস্তুত ১৯৭৫ এর পর হতে এ রাজাকারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা পেয়ে পেয়ে এখন সব বেমালুম অস্বীকার করছে। এ রাজাকারা পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন এটা যেমন এক শ ভাগ সত্য এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় যা যা করা প্রয়োজন তারা তাই সে সময় করেছিলো।

foyez ahmad
foyez ahmad
২০১১.১২.১৪ ১২:৩১
He should be arrested with appropriate proof.

lean
lean
২০১১.১২.১৪ ১২:৪৩
বুশের মত লোকে জুতা মারতে পারে আর গোলাম আযম এত এত মিথ্যা কথা বলল সব সাংবাদিক কিভাবে বসে থাকে বুঝলাম না ???? সাংবাদিকরা প্রচার করে আমরা সাহসী জাতি ...........................................

২০১১.১২.১৪ ১২:৪৬
গোলাম আযমের মতো একটা চিন্হিত যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার মতো দেখি কিছু কিছু লোক আছে ! থাকতেই পারে, নিশ্চয় তারা বা তাদের আগের প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দালালি করেছিল। বাংলাভিশনে তার যে সাক্ষাতকার দেখলাম তাতে তো মনে হলো অনুষ্ঠানটা একদম প্রিপ্ল্যান করা, যে কারনে সে যেসব প্রশ্ন এড়িয়ে গেছে তা বারবার তুলে ধরে তাকে চেপে ধরা যেতো। কি করে বাংলাভিশন এটা করলো?

nurul absar hussain
nurul absar hussain
২০১১.১২.১৪ ১৩:০৭
দেশের অনেক টেলিভিশন চানেল আছে যেইগুলি দেখিয়া মনে হই ওই গুলি শুধু কোনো উদ্দেশ্য নিয়া করা হইয়াছে. তাহাদের প্রচার দেখিলে মনে হই তাহারা কোনো দলেদ প্রতিনিদিত্ত করিতেছে. যেমন বিটিভি সরকারের করে. গতকালের বাংলাভিশনে গোলাম আজোমের সাক্কাত্কার দেখিয়া মনে হয়তেছে ঐটা উনার পাপ হালকা করিবার জন্যই করা হইয়াছে. দিগন্ত আর ইসলামী টেলিভিশনের কথা নাইই বলিলাম. আরো অনেক হয়ত আছে বিদেশে অপারেটর গণ খুব বেশি চানেল আমাদের দিতে পারেনা.

Swapan Baidya
Swapan Baidya
২০১১.১২.১৪ ১৩:০৯
All of Bangladeshi Hate Gu. Azam. So immediate ..............

মো‌: হাফিজুর রহমান
মো‌: হাফিজুর রহমান
২০১১.১২.১৪ ১৩:১১
কাল রাতে বাংলাভিশনে গো আযম এর সাক্ষাতকার দেখলাম! তার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার ছিল, অখন্ড পাকিস্তানের জন্য সে তখন সবকিছুই করেছে। মানবতাবিরোধী কোন অপরাধ সে করে নাই!! রাজাকার রা পুলিশ আনসারের মতই পাকিস্তানি আর্মির সহযোগী বাহিনী ছিল! তার কাছে কেউ কমপ্লেইন নিয়ে আসলে তিনি পাকিস্তান আর্মিকে বলে যথাসম্ভব সাহায্যই না-কি করেছে!!! তার গর্বভরে বলেছে যে সে বাংলাদেশ নয় অখন্ড পাকিস্তানই চেয়েছিল!!! মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্রোহী বলে আখ্যাতিয় করেছে!!!! তাকে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসম্মুখে পিটিয়ে মারা হোক.....।

a.m.yousuf
a.m.yousuf
২০১১.১২.১৪ ১৩:২৭
লগি দিয়ে মানুষ হত্যা কারিদের ও বিছার হওয়া উছিত '

শিপন মোল্লা
শিপন মোল্লা
২০১১.১২.১৪ ১৪:১১
গোলাম আজম কাল বাংলাভিসন টেলিভিশনে বলেছেন যৌদ্ধ অপরাধী অভিযোগ তার বিরুদে অপবাদ। সে আরো বলেছে তার বিরুদে এই অভিযোগ একটাও প্রমান করতে পারবেনা।

অর্ক
অর্ক
২০১১.১২.১৪ ১৪:৩৫
গোলাম আযম কে প্রকাশ্যে ফাসি দেয়া হোক!

২০১১.১২.১৪ ১৪:৫৯
তাকে সবার সামনে গুলি কর মার


Wednesday, November 16, 2011

আদালতে এফবিআই কর্মকর্তা ডেবরার সাক্ষ্য সিঙ্গাপুর সিটি ব্যাংকের অর্থ ভিসা কার্ডে খরচ করেন তারেক

  • এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভেট এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভেট
1 2
বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের মামলায় তারেক রহমান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে আজ বুধবার সাক্ষ্য দিয়েছেন মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভেট। আদালতে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি প্রথমেই জানান, তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে নয় বরং স্বেচ্ছায় এ সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
আদালতকে ডেবরা বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশ সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের আগে বিদেশে অর্থপাচার ও অবৈধভাবে লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ২০০৮ সালে অনুরোধ করা হয়। এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এফবিআইকে বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়।
ডেবরা আরও জানান, তদন্তকালে বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যক্তির অবৈধ অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে দেখা যায়, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে নিজের পাসপোর্ট ইস্যু করে একটি হিসাব খোলেন। আর মামুনের ওই হিসাবের লেনদেন বিষয়ে তদন্ত করার সময় তারেক রহমানের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। মামুন তাঁর হিসাব থেকে তারেকের হিসাবে টাকা পাঠান। সেখান থেকে তারেক দুটি ভিসা কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ টাকা তুলে বিভিন্ন দেশ সফর করেন ও কেনাকাটা করেন। এ ছাড়া খাদিজা ইসলাম নামের এক ব্যক্তির হিসাব থেকে সাত লাখ ইউএস ডলার মামুনের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
ঢাকার বিশেষ জজ-৩-এর বিচারক মোজাম্মেল হোসেনের আদালতে আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এ বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। বাদীর পক্ষে মোশাররফ হোসেন, আনিসুল হক আর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মামলা পরিচালনা করেন। আদালত আগামী ৮ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
সাক্ষ্য দেওয়ার একপর্যায়ে ডেবরা জানান, এ বিষয়ে তদন্ত শেষে সাক্ষীর স্বাক্ষর-সংবলিত ২২৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে ৩৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। আর আজ ওই প্রতিবেদনগুলোর স্বাক্ষরিত ফটোকপি আদালতে দাখিল করা হয়।
এর আগে সকালে এজলাস বসার পরপরই মামুনের আইনজীবীরা ডেবরাকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে আনতে দুদকের করা আবেদনের বিরোধিতা করেন এবং ডেবরার সাক্ষ্য দেওয়ার আইনগত বৈধতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালত বিষয়টি শুনানি শেষে নাকচ করে দেন। এ পর্যায়ে তারেক-মামুনের আইনজীবীরা আদালত বর্জন করে আদালত প্রাঙ্গণের মিছিল করেন।
২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে তারেক রহমান ও তাঁর বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত বছরের ২ জুলাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তারেক রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জামিন নিয়ে চিকিত্সার জন্য যুক্তরাজ্য যান। এখনো তিনি ওই দেশে আছেন। মামুন আছেন কারাগারে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর বন্ধু মামুন অবৈধভাবে অর্থ আদায় করেন। তারেক রহমান নিজেকে আড়াল করতে মামুনের মাধ্যমে ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে মোট ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেন। তারেক রহমানের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থই সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে মামুনের হিসাবে রক্ষিত ছিল।

Friday, July 29, 2011

বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র কাদেরকে নির্যাতনতিন পুলিশ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে হাইকোর্ট থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে হাইকোর্ট থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়
ছবি: প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার নিচে নন, এমন ব্যক্তি দিয়ে কমিটি গঠন করে তদন্ত করতে আইনসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকালে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন, উপপরিদর্শক (এসআই) আলম বাদশা ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ নির্দেশ দেন।
এর আগে আদালতের নির্দেশ অনুসারে বিকেল পাঁচটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আবদুল কাদেরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাইকোর্টে আনা হয়। সোয়া পাঁচটা থেকে ছয়টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত আদালত নির্যাতনের শিকার আবদুল কাদের, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন রশীদ চৌধুরী, আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু ও খিলগাঁও থানার ওসি হেলাল উদ্দিনের বক্তব্য শোনেন।
এ সময় হুইলচেয়ারে বসা প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র কাদের তাঁর ওপর নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তখন তিনি দাঁড়াতেও পারছিলেন না। আদালতের নির্দেশে পরনের টি-শার্ট খুললে পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
কাদের আদালতকে বলেন, পুলিশ তাঁকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করেছে। ওসি অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেন।
আদালত তাৎক্ষণিকভাবে আবদুল কাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) পাঠাতে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজিপি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও আইজি প্রিজনকে নির্দেশ দেন। কাদেরের মা-বাবা তাঁকে যেকোনো সময় দেখতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। আইজিপিকে বিভাগীয় তদন্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আট সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। কাদেরের পক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতে ন্যায়বিচার চেয়ে আবেদন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহ: ১৫ জুলাই গভীর রাতে আবদুল কাদেরকে খিলগাঁও থানার পুলিশ আটক করে। পরদিন তাঁকে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডেইলি স্টার-এর এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন নজরে এলে আদালত বেলা সাড়ে তিনটার মধ্যে কাদেরকে হাইকোর্টে হাজির করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। একই সময় খিলগাঁও ও মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে হাজির হতে বলা হয়। এ ছাড়া কাদেরকে নির্যাতন থেকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।
তখন পৌনে তিনটা: আদালতের নির্ধারিত সময়ের আগে পৌনে তিনটায় এজলাসে হাজির হন দুই ওসি। তাঁরা আদালতকে জানান, লিখিত আদেশ না পাওয়ায় কাদেরকে কারাগার থেকে আনা যাচ্ছে না। আদালত বলেন, তাঁকে আজই (বৃহস্পতিবার) আনতে হবে। আদালত লিখিত আদেশের অনুলিপি তাৎক্ষণিক সরবরাহ করতে বলেন। কাদের না আসা পর্যন্ত দুই ওসিকে থাকতে বলেন। তখন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আইজি প্রিজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।
অবশেষে বিকেল পাঁচটার দিকে কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কাদেরকে আনা হয় হাইকোর্টে। হুইলচেয়ারে করে তাঁকে এজলাসকক্ষে নেওয়া হয়। এর আগে সোয়া তিনটার দিকে আদালতে আসেন কাদেরের মা মনোয়ারা বেগম ও বোন জান্নাতুল মাওয়া। এরপর আসেন অধ্যাপক মামুন রশীদ চৌধুরী ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। আদালত তাঁদেরও আসতে অনুরোধ করেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হুইলচেয়ারে করে এজলাসকক্ষে প্রবেশের আগে কাদেরের মা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাদেরও কাঁদছিলেন।
এজলাসকক্ষে: কাদের আদালতকক্ষে ঢোকার পর তাঁর শিক্ষক মামুন রশীদ চৌধুরী বলেন, কাদের মাস্টার্সে পড়ছে। সে নিরীহ ছেলে। সে কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত নয়। সে ক্লাসের সবচেয়ে ভদ্রদের একজন। সে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। কাদেরকে মুক্ত করার আরজি জানিয়ে মামুন রশীদ বলেন, ‘বহু কাদের এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কাদের যেন হারিয়ে না যায়। পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব নেই। তবে প্রশ্ন, নিরীহ ছেলেটাকে নিয়ে গিয়ে কেন এমন করা হলো?’
এরপর আদালত কাদেরের বক্তব্য শুনতে চান। আদালত জানতে চান কোত্থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জবাবে কাদের বলেন, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে সেগুনবাগিচার দুদক কার্যালয়ের সামনে থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
তারা যে পুলিশ কীভাবে বুঝলেন—আদালতের এ প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘যারা আমাকে আঘাত করেছে, তারাই আমাকে থানায় নিয়ে যায়। এতে বুঝতে পারি, তারা পুলিশ। আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেই, তখন তারা বলে, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তারাই বেশি ডাকাতি করে। এ কথা বলে আরও বেশি নির্যাতন করে। আমার পিঠে ও হাতে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে আমি প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’ এ কথা বলার সময় কাদের কান্নায় ভেঙে পড়েন। তখন এজলাসকক্ষে উপস্থিত কাদেরের মা ও বোনও কাঁদছিলেন।
কাদের বলেন, ‘থানায় নিয়ে যাওয়ার পরও আমার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। খিলগাঁও থানার ওসি নিজে নির্যাতন করেছেন।’
সাড়ে পাঁচটার দিকে আদালত তাঁর পরনের জামা খুলে দেখাতে বলেন। জামা খোলার পর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, সারা পিঠে পেটানোর দাগ দেখা যাচ্ছে। এ সময় অধ্যাপক মামুন রশীদ বলেন, ‘আমাদের কাদেরকে ছেড়ে দিন।’
এ পর্যায়ে আদালত ওসি হেলাল উদ্দিনের বক্তব্য শুনতে চাইলে তিনি বলেন, গাড়িতে করে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে কাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাদা পোশাকের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে চাপাতিসহ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আদালত জানতে চান, ওই সময় কারা দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। জবাবে হেলাল উদ্দিন বলেন, এসআই আলম বাদশার নেতৃত্বে একটি দল। কখন ও কোত্থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? জবাবে ওসি বলেন, রাত সাড়ে তিনটার দিকে খিলগাঁও ফাঁড়ির সামনে থেকে। কারা আঘাত করেছে? ওসি হেলালের জবাব, গণপিটুনিতেই কাদের আহত হয়েছেন। জনতাই তাঁর ওপর আঘাত করেছে।
আদালত জানতে চান, তাহলে যারা নির্যাতন করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করলেন না কেন? সে যদি ডাকাত হয়েও থাকে, আপনি তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন না কেন? জবাবে ওসি বলেন, ‘আমরা তাঁকে ফার্স্ব এইড (প্রাথমিক চিকিৎসা) দিয়েছি।’
আদালত বারবার ওসিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আপনি মিথ্যা কথা বলবেন না। মিথ্যা কথা বললে ইউনিফর্ম খুলে আমরা সরাসরি আপনাকে নাজিমউদ্দিন রোডে পাঠিয়ে দেব।’
এ পর্যায়ে আদালত ওসিকে এফআইআর পড়তে বলেন। ওসি এফআইআর পড়ে শোনান। আদালত বলেন, কটা মামলা হয়েছে। ওসির জবাব, দুটি। অন্যটি কী? ওসির জবাব, অস্ত্র মামলা।
আদালত ওসির কাছে জানতে চান, ‘আপনি নাকি চাপাতি দিয়ে মেরেছেন, কাদের বলেছে। ওসি অস্বীকার করে বলেন, এটা ঠিক নয়। এ পর্যায়ে আদালত কাদেরের কাছে জানতে চান, মাথায় আঘাত পেয়েছে কি না। কাদের বলেন, ‘মাথায় মারার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি হাত দিয়ে ঠেকাই।’
এ সময় আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু বলেন, কাদেরের বাবা শিক্ষা কর্মকর্তা। কাদের মেধাবী ছেলে। নির্যাতনে তার হাতের আঙুল ফেটে গেছে। এ অবস্থার সমাপ্তি হওয়া উচিত।
এ পর্যায়ে শুনানিতে অংশ নিয়ে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, কাদেরকে পুলিশ নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা অনেক ঘটছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। ইদানীং পুলিশ কিছু হলেই বলছে, এটা গণপিটুনি। এ ধরনের কথা বলে তারা গণপিটুনিকে বৈধতা দিচ্ছে। এটা খুবই ভয়ংকর। এভাবে গণধোলাইয়ের অধিকার দিলে সাধারণ মানুষের অধিকার কোথায় গিয়ে ঠেকবে! এতে বোঝা যায়, দেশে আইনশৃঙ্খলা কী অবস্থায় রয়েছে। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বড় উদাহরণ।
শুনানিকালে মিজানুর রহমান হেফাজতে নিয়ে পুলিশি নির্যাতনের জন্য রাষ্ট্রকে দায়ী করলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এর প্রতিবাদ জানান। অধ্যাপক মিজান বলেন, পুলিশ সংস্কারের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই কী সংস্কারের নমুনা!
আদালত বলেন, পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সাধারণ নাগরিক অপরাধ করলে যে সাজা পাবে, পুলিশকেও সে সাজা পেতে হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সাংবাদিকেরা অনুসন্ধান করে এ ঘটনাটি জাতির সামনে প্রকাশ করেছেন। এ জন্যই আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। পুলিশ রাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় পুুলিশই রাজারবাগে প্রথম আঘাতের শিকার হয়।’ তিনি বলেন, সব ঘটনা না জেনে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক হবে না। কাউকে শাস্তি দেওয়াও উচিত হবে না।
আদালত বলেন, ‘আমরা এখন কাউকে শাস্তি দিচ্ছি না। তবে তদন্ত চলাকালে তাঁদের সাসপেন্ড করতে হবে। না হলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে।’
হাসপাতালে কাদের: কাদেরের বোন জান্নাতুল মাওয়া প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাদেরকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়। আদালতের নির্দেশনা ছিল বাবা-মা প্রয়োজন মতো ছেলের দেখাশোনা করতে পারবেন। তবে প্রিজন সেল থেকে ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত মাকে এক মিনিটের জন্য ঢুকতে দেওয়া হয়। মা কাদেরকে রাতের খাবার দিয়ে আসেন।

Thursday, July 28, 2011

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হতে পারে

অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক
নরওয়েতে গত শুক্রবার জোড়া হামলা চালিয়ে ৭৬ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করা অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে সে দেশের পুলিশ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনার কথা চিন্তাভাবনা করছে। সরকারি কৌঁসুলি ক্রিশ্চিয়ান হ্যাটলো গতকাল মঙ্গলবার আফেনপোস্টেন পত্রিকাকে এ কথা জানিয়েছেন।
ক্রিশ্চিয়ান হ্যাটলো বলেন, বর্তমানে ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২১ বছরের করাদণ্ডাদেশ হতে পারে। তবে ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর ৩০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ হতে পারে।
নরওয়ের বিচারমন্ত্রী নুট স্টরবার্জেট জোড়া হামলার ঘটনায় পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অসলো পুলিশ ও তাদের সহযোগীদের চমৎকার কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ এর আগে হামলার ঘটনায় কর্মকর্তাদের কাজের ধীরগতির জন্য গণমাধ্যমে পুলিশের সমালোচনা করা হয়েছে।
নুট স্টরবার্জেট বলেন, ‘এই লোকেরা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি কঠোর পরিশ্রম করেছে। তারা তাদের ছুটির দিনও বিসর্জন দিয়েছে এবং দেশের সব প্রান্ত থেকেই তারা স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেছে।’
পুলিশের মুখপাত্র স্টার্লা হেনরেইকসবো বলেন, ব্রেইভিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অন্য অভিযোগগুলোর সম্ভাবনা এখনো বাদ দেওয়া হয়নি। পুলিশের গতকাল রাতেই হামলার শিকার ব্যক্তিদের নামের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা।
নরওয়ের পুলিশ ধারণা করছে, শুক্রবার অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক সম্ভবত একাই জোড়া হামলা চালিয়ে ৭৬ জনকে হত্যা করেছিলেন। ঘটনা তদন্তের সঙ্গে জড়িত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ব্রেইভিক যখন নিজেই একা ওই হামলা চালানোর দাবি করেছেন, তখন তাঁর দাবি তেমন বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তবে আমরা কেউই তাঁর দাবির বিষয়টি একবারেই উড়িয়ে দিইনি। বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও দ্য হিন্দু। প্রথম আলো

Sunday, July 24, 2011

 তাহেরের পক্ষে লক্ষ্মীপুরে মহড়া

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহেরের লোকজন গতকাল লক্ষ্মীপুর শহরে ম লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহেরের লোকজন গতকাল লক্ষ্মীপুর শহরে মিছিল বের করে
ছবি: প্রথম আলো
আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহেরের লোকজন গতকাল রোববার লক্ষ্মীপুর শহরে শক্তির মহড়া দিয়েছে। দুপুরের পর থেকে তারা পুরো শহর দাপিয়ে বেড়ায়।
মহড়া শুরুর আগে আবু তাহের পৌরসভায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে সম্প্রতি তাঁর ছেলের ফাঁসির দণ্ড মওকুফের ব্যাপারে বক্তব্য তুলে ধরেন। তাহের বলেন, হত্যা মামলায় তাঁর ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবকে সাজা দেওয়ার ঘটনা দেশের বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে।
গতকাল দুপুরে হঠা ৎ করেই পাল্টে যায় লক্ষ্মীপুর শহরের চিত্র। বেলা আড়াইটা থেকে দলে দলে যুবকেরা রাস্তায় নেমে আসে। তারা মাইকে করে তাহেরের ছেলে বিপ্লবের গুণগান ও স্লোগান দিতে থাকে। কেউ কেউ গানের সুরে সুরে বিপ্লবের মুক্তির দাবি জানায়। এসব মিছিলে শহরের অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকেও দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত মিছিলের নামে মূলত শক্তির মহড়া দেয় তাহেরের লোকেরা। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শহরের উত্তর তেমুহানী এলাকায় দেখা যায়, বেলা তিনটার দিকে পুলিশের খাতায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী নূর হোসেন শামীমের নেতৃত্বে মিছিল চলছে। শামীম ২০ দিন আগে জামিনে মুক্তি পান। তাঁর নেতৃত্বে লোকজন তাহেরের ছেলে বিপ্লবের নাম করে মিছিল করছে।
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে যুবকেরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিকেল পাঁচটার মধ্যে শহরের পৌর চত্বরে জমায়েত হয়। পরে তারা একটি বড় মিছিল বের করে। এ সময় তাহের পৌর ভবনের ওপরে দাঁড়িয়ে তা প্রত্যক্ষ করেন। পুলিশি পাহারায় বড় মিছিলটি পৌরসভা থেকে বের হয়ে শহর ঘুরে আবার পৌর ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
বড় মিছিলটির নেতৃত্ব দেন তাহেরের আরেক ছেলে এ কে এম সালাউদ্দিন টিপু। টিপুও বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামি। তিনি পরে উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান।
স্থানীয় লোকজন, আওয়ামী লীগের ও তাহেরের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি বিপ্লবের দণ্ড মওকুফ নিয়ে জাতীয় দৈনিকগুলোতে লেখালেখির কারণে তাহের চাপের মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় তিনি পরিস্থিতি অনুকূলে রাখা ও অবস্থান ধরে রাখতে শক্তি প্রদর্শনের এ উদ্যোগ নেন। এ জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের এনে জড়ো করা হয়। এই মহড়া ও মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানায়।
বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের সময় (১৯৯৬-২০০০) তাহেরের পরিবারের সদস্যদের নানা ত ৎ পরতায় লক্ষ্মীপুর সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়। তখন তাহের সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০০ সালে বিএনপির নেতা ও আইনজীবী নুরুল ইসলামকে অপহরণের পর তাঁকে কেটে টুকরো টুকরো করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ মামলায় তাহেরের ছেলে বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। কিন্তু সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি এই মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করেন। নুরুল ইসলাম হত্যা মামলা ছাড়াও বিপ্লব আরও চারটি হত্যা মামলার আসামি। এর মধ্যে দুটিতে তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর কারাগারে আছেন।
তাহেরের সংবাদ সম্মেলন: শক্তির মহড়া শুরুর আগে গতকাল দুপুরে হঠা ৎ নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে পাঠান মেয়র আবু তাহের। তিনি তা ৎ ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করার কথা বলেন। এরপর তিনি একটি লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের হাতে ধরিয়ে দেন। উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান, তাঁরা কেউ কোনো প্রশ্ন করেননি।
লিখিত বক্তব্যে তাহের বলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে বিএনপি সরকারের আমলে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর ব্যারিস্টার মওদুদের প্রহসনমূলক বিচারে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়, যা সার্বিক বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে।
তাহের দাবি করেন, ‘আমার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে আমার দলের কিছু লোক ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। ফলে অনেকটা হঠা ৎ করেই নুরুল ইসলাম অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে আমি ও আমার বড় ছেলে বিপ্লব, মেজো ছেলে টিপু এবং আমার স্ত্রীকে জড়িত করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়। লক্ষ্মীপুরের আরও কয়েকটি হত্যাসহ সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে আমার পরিবারের সবাইকে জড়িত করা হয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, একটি চক্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় উন্মাদ হয়ে দেশের পত্রপত্রিকাকে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। তারা অনেক অর্থ খরচ করে এসব করাচ্ছে। প্রতিনিয়ত সাংবাদিকেরা কাল্পনিক কাহিনি প্রচার করছেন। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের মানুষ তা গ্রহণ করেনি।প্রথম আলো

Friday, July 15, 2011

নোয়াখালীতে শিক্ষানবিশ ২৩ কনস্টেবল গ্রেপ্তার

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ভুয়া পরিচয়ে নিয়োগ পেয়ে নোয়াখালীতে শিক্ষানবিশ ২৩ জন কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নোয়াখালী থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া কনস্টেবলদের গতকালই ঢাকার গেন্ডারিয়া থানার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের বাড়ি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়।
নোয়াখালী পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ওই ২৩ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়ে ভুয়া সনদ দাখিল করে গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ঢাকার গেন্ডারিয়ার মিলব্যারাকে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ লাভ করেন। নোয়াখালী পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তাঁদের ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শুরু হয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ওই সব কনস্টেবলের স্থায়ী ঠিকানা ও সনদ যাচাই-বাছাই করে। এতে তাঁদের অভিভাবকদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ভুয়া প্রমাণিত হয়।
এরপর ৭ জুলাই গেন্ডারিয়া থানায় ওই ২৩ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা করেন মিলব্যারাকের এক পুলিশ কর্মকর্তা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গেন্ডারিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ছরোয়ার জাহান একদল পুলিশ নিয়ে গতকাল বিকেলে নোয়াখালী পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এসে ওই ২৩ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেন। 
প্রশিক্ষণকেন্দ্রে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার হওয়া কনস্টেবলদের নাম-পরিচয় জানাতে চাননি। 
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গতকাল রাতে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট শৈবাল কান্তি চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের তদন্তে ওই ২৩ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের অনুরোধে তাঁদের ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই ২৩ ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের ভুয়া পরিচয় দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পরে তদন্তে প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়টি বেরিয়ে এলে তাঁদের প্রশিক্ষণ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
গেন্ডারিয়া থানার এসআই মো. ছরোয়ার জাহান গতকাল রাত নয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া ২৩ কনস্টেবল নিয়ে নোয়াখালী থেকে ঢাকায় আসছি।’
প্রথম আলো

Tuesday, July 12, 2011

তারপর থাকে শুধু অন্ধকার

মহাজোট সরকার তার ক্ষমতারোহণের মাত্র আড়াই বছরের মাথায় উপর্যুপরি হরতাল ডেকে আনল কেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিষয়ক উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি, কাজেই সরকার চাইলেই সময় নিতে পারত, সংবিধানের যে সংশোধনী সরকার এখন করেছে, সেটা তারা আরও দুই বছর পরও করতে পারত। সে ক্ষেত্রে আজকের এই হরতাল-আন্দোলনের মুগুরাঘাত থেকে জনগণ অন্তত দুটো বছরের জন্য মুক্ত থাকত। এখন বিরোধীরা যে আন্দোলন শুরু করেছে, তা আগামী আড়াই বছর ধরেই চলবে বলে ধরে নেওয়া যায়। সরকারের এই তাড়াহুড়োর কারণ কী? বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো রকমের সমঝোতার চেষ্টা না করে, জনগণকেও প্রস্তুত না করে হঠাৎ সংসদের বাজেট অধিবেশনেই কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হলো?
নীতিনির্ধারকদের মুখের কথা আমরা জানি, যেহেতু মহামান্য আদালত বলেই দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ, কাজেই অবৈধ জিনিসকে আর বয়ে বেড়ানো কেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুযোগে সংবিধানবহির্ভূত শক্তি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে, ১১ জানুয়ারির তত্ত্বাবধায়ক সরকার বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনকেই কারাবাসের অভিজ্ঞতা দিয়েছে এবং ব্যবসায়ীরাও ওই আমলে ভুগেছেন সবচেয়ে বেশি, কাজেই ওই ফাঁকটা যত তাড়াতাড়ি পারা যায়, পূরণ করে দেওয়াই মঙ্গলজনক। এসব কথা আমরা এরই মধ্যে শুনে ফেলেছি। কিন্তু এর বাইরে আর কী কারণ থাকতে পারে যে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দিনবদলের সরকার জনগণের দৈনন্দিন সুখ-দুঃখবিষয়ক সমস্যাগুলোর চেয়ে আড়াই বছর পরের বিষয়টাকে এই মুহূর্তের যন্ত্রণা হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিল?
এর কারণ আমরা খুঁজে দেখতে পারি। সে জন্য আমাদের ঘটনাবলির বিশ্লেষণে যেতে হবে। ১. ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ও প্রশাসনের উচ্চমহলের কেউ কেউ জড়িত, সর্বশেষ অভিযোগপত্রে সেটা প্রতিফলিত। ফখরুদ্দীন আহমদ সরকারের আমলে দেওয়া চার্জশিটেও জজ মিয়া নাটককে একেবারেই প্রহসন হিসেবে উন্মোচিত করা হয় এবং বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের কারও কারও যোগাযোগের কথা চলে আসে। এখন শেখ হাসিনা যদি বিশ্বাস করেন, বিএনপি কেবল তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, তারা এমনই শত্রু যে তাঁকে শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার জন্য বোমা হামলা পর্যন্ত করতে পারে, তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে কি সম্ভব বিএনপির সঙ্গে কোনো রকমের সমঝোতার চেষ্টা করা? ২. শেখ হাসিনা এ কথা একাধিকবার বলেছেন যে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন কেবল লুটপাট হয়; আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ কিছু পায়। লক্ষণ দেখে মনে হয়, তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের ভালোর জন্য আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। এবং হয়তো তিনি এই রকমও ভেবে থাকতে পারেন, জনগণ সব সময় আওয়ামী লীগকেই ভোট দেয়, কিন্তু দেশি-বিদেশি চক্রান্তের কারণে সব সময় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে না। কাজেই তিনি সেই চক্রান্ত চিরকালের জন্য নস্যাৎ করতে চান।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের পরবর্তীকালে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করতে নিরীহ মানুষকে স্কেপগোট করার যে কাহিনি এই প্রথম আলোতেই আমরা পড়েছি, তাতে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একই টেবিলে বসার মতো পরিস্থিতি শেখ হাসিনার আছে বলে আর মনে হয় না। এ অবস্থায় বিএনপি নামের প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্বল করা, অকার্যকর করা, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তৃতীয় কোনো শক্তিকে দাঁড় করানোর চিন্তা আওয়ামী লীগ বা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে থাকতে পারে। সেই চিন্তা কার্যকর করার একটা উপায় হলো, বিএনপিকে আগামী সাধারণ নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা। সেই লক্ষ্যেই সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকলে বিএনপি এবং সম্ভবত জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে যাবে না। আওয়ামী লীগ কি তা-ই চায় যে বিএনপি আগামী নির্বাচনের বাইরে থাকুক? প্রশ্ন হলো, তাহলে কি সেই নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পাবে? বিএনপি ও তার মিত্ররা কি রাজপথে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবে না? ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো সেটা একতরফা। সুতরাং অগ্রহণযোগ্য, ভঙ্গুর সরকারের জন্ম দেবে না? এই সওয়ালের মীমাংসার জন্যই সম্ভবত সরকার তাড়াহুড়ো করে এখনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান তুলে দিয়েছে। এখনকার সরকার তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বৈধ সরকার। তার কবজিতে জোর আছে, বুকে হিম্মত আছে। কাজেই এখন বিরোধী দলের আন্দোলনকে সে শক্তিমত্তার সঙ্গে দমন করতে পারবে। আগামী আড়াই বছর ধরে ক্রমাগত আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারবে বিএনপি, এই বিষয়ে নিশ্চয়ই সরকারি নীতিনির্ধারকদের সন্দেহ আছে। আন্দোলন যাতে দানা বাঁধতে না পারে, সে জন্য তারা কঠোর দমননীতির আশ্রয় যে নিয়েছে, টেলিভিশনের পর্দায় হরতালকারীদের ওপর পুলিশের লাঠ্যৌষধি প্রয়োগের নমুনা দেখেই তা প্রতীয়মান। বাংলাদেশে হরতাল করে কোনো বৈধ নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা যায়নি, আওয়ামী লীগ পারেনি বিএনপি সরকারকে উৎখাত করতে, বিএনপিও পারবে না আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে। এই আড়াই বছরে তাদের আন্দোলন যদি ব্যর্থ হয়, পরবর্তীকালে নির্বাচন বর্জন করার পরে যখন সংসদেও তাদের কোনো আসন থাকবে না, তখন তারা আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে পড়বে বলে হয়তো সরকারি নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন। এবং এর মধ্য দিয়ে হয়তো তাঁরা তৃতীয় কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে দেশের দ্বিতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস পাবেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা না থাকায় মহাজোট সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে না। ফলে ইয়াজউদ্দিন সরকারের মতো দুর্বল অন্তর্বর্তী সরকার আসবে না। ২০০৬ সালে লগি-বৈঠা আন্দোলনের সময় বিএনপির সামনে দিন কমে আসছিল, তারা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য দিন গুনছিল, কার হাতে ক্ষমতা দেবে, এটা ছিল তাদের মাথাব্যথা। ২০১৪ সালে মহাজোট সরকারের সামনে সেই দুশ্চিন্তা থাকবে না। তারা কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করে বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন সমাধা করে ফেলবে।
২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে-পরে আন্দোলন সহ্য করার চেয়ে এ মুহূর্তে বৈধ ও শক্তিশালী মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে আপাতত দুর্বল হতশক্তি বিএনপিকে আন্দোলনে নামিয়ে দিয়ে তার শক্তিক্ষয় ও বিনাশই হয়তো আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য।
এর বাইরে আর দুটো কারণ থাকতে পারে। সরকার যখন ভারতের সঙ্গে কোনো লেনদেন বা চুক্তিতে যায়, তখন বিএনপি তথা বিরোধী দলকে অন্য কোনো ইস্যুতে ব্যতিব্যস্ত রাখে। বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ কিংবা ঢাকা বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের পেছনেও উদ্দেশ্য ছিল কুমিরকে বোকা বানানো, কুমির যাতে পা বাদ দিয়ে শেয়ালের লাঠিটাকে কামড়ে ধরে। হয়তো সরকার শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে কোনো সমঝোতায় যাবে, কিন্তু তার আগে তাকে একটু ব্যস্ত রাখল। অন্তত তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান কে হবেন, এ নিয়ে যেন বিরোধীরা কথা বলার সুযোগ না পায়, সেই পরিস্থিতি তৈরি করল।
এতক্ষণ আমরা যা আলোচনা করলাম, তার সবই অনুমান; এ মুহূর্তে আন্দোলন-হরতাল ডেকে আনার সরকারি উদ্যোগের কারণ বিশ্লেষণের চেষ্টা। আমাদের অনুমান সঠিক হতে পারে, নাও হতে পারে। কিন্তু যে বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই, তা হলো, আগামী আড়াইটা বছর আমাদের এই রকম হরতাল-আন্দোলন-বিক্ষোভ দেখে যেতে হবে। রাজপথে পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হবেন বিরোধী দলের প্রধান হুইপ। হরতালের আগের দিন অনেক গাড়ি পোড়ানো হবে। ট্রাকে আগুন দেওয়া হবে মাত্র ১০০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, আর সর্বশরীরে পোড়া ক্ষত নিয়ে বার্ন ইউনিটে কাতরাবেন কোনো নিরীহ শ্রমিক। আম পচবে, তরিতরকারি পচবে ট্রাকে ট্রাকে। দোকানপাট বন্ধ থাকায় অপূরণীয় ক্ষতি হবে দোকানমালিকের, কর্মচারীর, অর্থনীতির। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। গোলযোগের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হবে বাংলাদেশ। আর সত্যি সত্যি যদি সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় না আসে, এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন যদি একপক্ষীয় হয়, তাহলে এক মাঘে শীত যাবে না। আন্দোলন, সংগ্রাম, হরতাল চলবেই। সেই ভবিষ্যৎটা ভাবতেই শরীর শিউরে উঠছে, চোখেমুখে অন্ধকার দেখছি।
অথচ সরকার কিন্তু সুশাসন দিয়ে দেশটাকে উন্নতির দিকে নিয়ে গিয়ে জনগণের মন জয় করেই মানুষের কাছে ভোটপ্রার্থী হতে পারত। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। যানজট সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসক্ষেত্রের ব্যাপারে অন্তত একটা সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে। শুধু দলীয়করণ আর দুর্নীতি, ছাত্রলীগ, যুবলীগের কর্মীদের বাড়াবাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সরকার হতে পারত আমাদের ইতিহাসের সফলতম সরকার। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে রাজপথকে শান্ত রাখা গেলে অর্থনীতির চাকা সামনের দিকে এগোতে বাধ্য। শেয়ার মার্কেটের বিপর্যয় সামলে নিতে পদক্ষেপ জরুরি ছিল। কিন্তু সরকার সুশাসনের দিকে জোর না দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করার পেছনে শক্তি ব্যয় করছে বেশি। এর পরিণতি কী হবে, তা আমরা কেউ জানি না। আমাদের দেশের নিয়ম হলো, রাজপথে প্রথম দিকে লোক থাকে না, আন্দোলন চলতে থাকলে আস্তে আস্তে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। আর আন্দোলন দমানোর জন্য সরকার যত কঠোর হয়, তার জনপ্রিয়তা তত কমতে থাকে এবং সরকারও ক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সরকার একটার পর একটা দমনমূলক পদক্ষেপ নেয়, আর তার জনপ্রিয়তায় একটার পর একটা ধস নামে। তখন কেবল বিরোধী রাজনৈতিক দল নয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পেশাজীবী সমাজের স্বাধীন মত ও সমাবেশের ওপরও সরকার চড়াও হয়। সেটা কেবল রুদ্ধশ্বাস অগণতান্ত্রিক পরিবেশই তৈরি করে। তা থেকে উত্তরণের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তখন আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য হয়।
আমরা ইতিহাসের এই পুনরাবৃত্তি চাই না। দিনবদলের কথা বলে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সত্যিকারের দিনবদল চাই। যেসব কথা রূপকল্প ২০২১-এ লেখা আছে, তার বাস্তবায়ন চাই। দলীয়করণ চাই না। নির্মম পুলিশি রাষ্ট্র চাই না। আমাদের নেতারা দলের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের নেতা হয়ে উঠুন, হয়ে উঠুন রাষ্ট্রনায়ক, আমরা কায়মনোবাক্যে সেই প্রার্থনা করি সর্বদা। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। আমাদের ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠে অন্ধকার, নিকষ কালো নিশ্ছিদ্র অন্ধকার।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
 প্রথম আলো

অবৈধভাবে সরকারি গাছ কাটলেন আ.লীগ নেতা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা সদরের কামারগ্রামে ইজারা নেওয়া অর্পিত সম্পত্তি থেকে গত রোববার অবৈধভাবে ১৫টি সরকারি গাছ কাটা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে গাছগুলো কাটা হয়েছে।
বোয়ালমারী সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বন্দোবস্ত নেওয়া অর্পিত সম্পত্তি থেকে গাছ কাটার কোনো নিয়ম নেই। ওই সম্পত্তি থেকে কীভাবে গাছ কাটা হচ্ছে, তা আমার অজানা।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কামারগ্রাম মৌজার এসএ ৮৮৪, ৪২৪, ৯৬৩ ও ৯৬৮ নম্বর খতিয়ানের এসএ ৮৩৭, ৮৩৮, ৮৩৯, ৮৪০ নম্বর দাগের মোট ৫৭ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ শ্যামল কুমার সাহার নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। আশির দশক থেকে জমিটি উপজেলা কৃষি বিভাগের অধীনে নার্সারি প্রকল্পের আওতায় ব্যবহূত হয়ে আসছিল। তৎকালীন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (বর্তমানে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ) রফিকুল হাসান বলেন, ‘ওই জমিতে কৃষি বিভাগের অবকাঠামো ও নার্সারি প্রকল্পের আওতায় লাগানো বিভিন্ন ফলবান গাছ রয়েছে। গত বছরের গোড়ার দিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় আমার আপত্তি উপেক্ষা করে জমিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’
শ্যামল কুমার সাহা বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেনের প্রতিষ্ঠিত একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের (নিউ মডেল প্রি-ক্যাডেট সুু্কুল) জন্য জমিটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। আমি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি। কাগজ-কলমে জমিটি আমার নামে বন্দোবস্ত দেখানো হয়েছে মাত্র। কিন্তু ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণসহ সবকিছুই তদারকি করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।’ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে জমি থেকে গাছ কাটার কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে অন্ধকারে রেখে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাছগুলো কেটেছেন। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’
নিউ মডেল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, গত রোববার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির নির্দেশে ওই জমি থেকে নয়টি ফলবান নারকেলগাছ ছাড়াও ছোট ছোট কয়েকটি ফলের গাছ কাটা হয়েছে।
উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, গত ৮ মে ওই জমিতে বিদ্যালয়ের জন্য একটি অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ এবং চার-পাঁচটি মরা নারকেলগাছ ও কয়েকটি ফলের গাছ কাটার জন্য ইজারাগ্রহীতা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে সরেজমিনে ওই জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা, ৪০টি ফলবান নারকেলগাছ, ১৩টি আমগাছ, দুটি মেহগনিগাছ, একটি কাঁঠালগাছ ও একটি পোয়াগাছ দেখা গেছে। তবে ওই জমিতে কোনো মরা গাছ নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাব্বির ইকবাল বলেন, ‘ইজারা দেওয়া অর্পিত সম্পত্তি থেকে গাছ কাটা এবং অন্য কোনোভাবে ভূমির কাঠামো পরিবর্তন হলে ইজারা বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে ওই জমি থেকে গাছ কাটা হচ্ছে—এ খবর আমার জানা নেই। আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্কুলের ভবন নির্মাণের সুবিধার্থে আমার নির্দেশে গাছগুলো কাটা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে কোনো অনুমতি না নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হলে আমরা নতুন করে গাছ লাগিয়ে দেব।’

Sunday, July 10, 2011

পাকিস্তানের পতাকা, সরকারবিরোধী প্রচারপত্রসহ আটক ৭

পুরান ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানের পতাকা, সরকারিনীতির বিরুদ্ধে প্রচারপত্র, ধর্মীয় বই, জামায়াতের নেতাদের মুক্তির পোস্টারসহ সাত শিক্ষককে আটক করেছে। আজ শনিবার এ ঘটনা ঘটে।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী, ইসমাইল হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, মো. ওবায়দুল্লাহ ও রুস্তম আলী।
কোতোয়ালি থানা জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ১০টার পর পুলিশ ২৭/১ সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেনের ঢাকা মডেল প্রি ক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুলে অভিযান চালায়। পুলিশ ওই স্কুলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে পাকিস্তানের পতাকা, সরকারিনীতির বিরুদ্ধে প্রচারপত্র, সিডি, ক্যাসেট ও হরতালের সমর্থনে ছাপানো পোস্টারসহ বিভিন্ন সরকার বিরোধী বিপুল লিফলেট জব্দ করে।
কোতোয়ালি থানার ওসি সালাউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল চারটার দিকে পুলিশ অভিযান শেষ করে। তিনি বলেন, আটক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ৭২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। অন্যরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তাঁরা আওলাদ হোসেন লেনে ওই বাড়িটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা স্কুলের জন্য ভাড়া নিয়েছিল। কিন্তু সেখানে তারা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। তারা দেশের পতাকা চেয়ার, বেঞ্চ ও টেবিল মোছার কাজে ব্যবহার করত। পুলিশ এদের বিরুদ্ধে মামলা করবে বলে তিনি জানান।

Wednesday, July 6, 2011

সিআইডির সাবেক ৩ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রভুক্ত সিআইডির সাবেক তিন কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন—জোট সরকার আমলে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি আবদুর রশিদ, মুন্সি আতিক ও তদন্ত তদারক কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন।
আজ বুধবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এ তিন সাবেক কর্মকর্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। ঢাকার মহানগর হাকিম কেশব রায়চৌধুরী তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন আবদুস সোবহান তরফদার। তিনি আদালতকে বলেন, তিন আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা জামিন যোগ্য। শুধু হয়রানি করার জন্য মামলায় জড়ানো হয়েছে। ২০০৯ সালে এঁদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। তাঁরা ওই মামলায় জামিনে আছেন। তাঁরা জামিনের অপব্যবহার করেননি। তাই জামিন পেতে পারেন।
এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাজী নজিবউল্লাহ আদালতকে বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার চেষ্টা করেন, তবে সে অপরাধে তিনিও দায়ী হয়ে যান। তিন তদন্ত কর্মকর্তা জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করে। যে কারণে আসামিদের জামিন পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে আরও অংশ নেন মহানগর সরকারি কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু, আবদুর রহমান হাওলাদার, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক সিআইডির সাবেক এ তিন কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
৩ জুলাই তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ঘটনায় দুটি মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে নতুন আসামি করা হয় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৩০ ব্যক্তিকে। ওই দিনই আসামিদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরও আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপির সাংসদ শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম ওরফে ডিউক এবং বিএনপির নেতা ও ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনার মো. আরিফুল ইসলাম। এ ছাড়া জোট সরকারের সময়ের শীর্ষ পর্যায়ের চারজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও আট পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিদের মধ্যে ১০ জন জঙ্গি সংগঠনের নেতা-কর্মী ও একজন পরিবহনের মালিক।

হাওয়া ভবনের বৈঠক থেকে জঙ্গিদের সহায়তার আশ্বাস

শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীকে (হুজি)। আর জঙ্গিদের এ ব্যাপারে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয় হাওয়া ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় দুই বছর অধিকতর তদন্ত শেষে গত রোববার আদালতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসংক্রান্ত দুটি মামলার (হত্যা ও বিস্ফোরক) সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি। এতে ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করা হয়েছে।
নতুন আসামিদের মধ্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অভিযুক্ত বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনা হয়েছে।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে এঁদের অপরাধ সম্পর্কে বলা হয়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট হামলার কিছুদিন আগে, অর্থাৎ আগস্ট মাসের মাঝামাঝি একদিন হুজির শীর্ষস্থানীয় নেতা মুফতি হান্নান, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা তাজউদ্দিন আল-মারকাজুল ইসলামীর একটি মাইক্রোবাসযোগে বনানীর হাওয়া ভবনে যান। তাঁদের সঙ্গে আল-মারকাজুলের (এনজিও) কর্মকর্তা মাওলানা আবদুর রশিদও ছিলেন।
অভিযোগপত্রের বয়ান অনুযায়ী, আবদুর রশিদকে নিচতলায় দাঁড় করিয়ে ওই জঙ্গি নেতারা হাওয়া ভবনের দোতলায় যান। তাঁরা সেখানে হাওয়া ভবনের কর্ণধার তারেক জিয়া, লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জঙ্গিরা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর হামলার বিষয়ে সহযোগিতা চান। বৈঠকে মুফতি হান্নান ও তাঁর সহযোগীদের তারেক জিয়া সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়।
এরপর মুফতি হান্নানসহ জঙ্গিরা বাড্ডায় ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠক করে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কর্মপন্থা গ্রহণ করেন।
অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, হাওয়া ভবনে বৈঠকের পর ১৮ আগস্ট (২০০৪) তৎকালীন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডিতে সরকারি বাসায় মাওলানা আবু তাহের, তাজউদ্দিন ও মুফতি হান্নান বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর, পরিবহন-মালিক মো. হানিফ ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। আবদুস সালাম পিন্টু ও বাবর বৈঠকে জঙ্গি নেতাদের বলেন, তাঁদের হানিফ ও আরিফুল ইসলাম সব রকম সহযোগিতা করবেন। এ ছাড়া তাঁরা (পিন্টু ও বাবর) সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। এই বৈঠকের পর ২০ আগস্ট জঙ্গি আহসান উল্লাহ ওরফে কাজল, মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে আবু জান্দাল ধানমন্ডিতে আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায় যান। সেখান থেকে তাজউদ্দিনের দেওয়া ১৫টি আর্জেস গ্রেনেড নিয়ে বাড্ডায় মুফতি হান্নানের কার্যালয়ে যান। ওই দিনই ২১ আগস্ট আক্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য সাবেক উপমন্ত্রী পিন্টুর ভাই তাজউদ্দিনকে অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পিন্টু ও তাজউদ্দিনকে এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে দেওয়া মূল অভিযোগপত্রেই আসামি করা হয়েছে। এবার তাঁদের আরেক ভাই রাতুল বাবুকেও আসামি করা হয়েছে। অবশ্য বাবুর নাম আগেই এসেছিল, তখন তাঁর পূর্ণ পরিচয় না পাওয়াতে আসামি করা হয়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়, মাওলানা তাজউদ্দিন পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পড়াকালে কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা, তেহরিক-ই জিহাদ আল ইসলাম ও হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে জড়িত হন। তাঁর সঙ্গে জোট সরকার আমলে লুৎফুজ্জামান বাবরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। শুধু তা-ই নয়, বাবরের সঙ্গে পলাতক থাকা অবস্থায় মুফতি হান্নান ও আরেক জঙ্গি ফরিদপুরের কামাল উদ্দিন শাকেরেরও যোগাযোগ ছিল। তাঁরা ২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় বোমা পেতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলা এবং ফরিদপুরের বোমা হামলার মামলা থেকে রক্ষা পেতে বাবরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
এই মামলার আসামি হুজির শীর্ষস্থানীয় নেতা মাওলানা সালাম, মুফতি হান্নান, মাওলানা শেখ ফরিদ, মুফতি আবদুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুর রউফসহ অন্যান্য জঙ্গি নেতা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের হত্যার জন্য অনেক আগে থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছিল। সম্পূরক অভিযোগপত্রের বিবরণে বলা হয়, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে এই জঙ্গিগোষ্ঠীকে বিভিন্ন কাজকর্মে বিএনপির সাংসদ শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সহযোগিতা করেছিলেন। ২০০৪ সালের প্রথম দিকে কায়কোবাদের সহযোগিতায় বনানীর হাওয়া ভবনে জঙ্গি নেতারা গিয়ে তারেক জিয়া ও হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে প্রথম দেখা করেন। তখনই জঙ্গিরা শেখ হাসিনাসহ তাঁর দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যা এবং জঙ্গিদের বিভিন্ন কাজকর্ম চালাতে সহযোগিতা চান। এরপর তারেক জিয়া সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়।
নতুন করে ৩০ আসামির মধ্যে কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়। তাঁদের অপরাধ সম্পর্কে সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২১ আগস্ট হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞাতসারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের নির্দেশে গ্রেনেড সরবরাহকারী তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ কাজে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ওরফে ডিউক, তাঁর ভায়রা ভাই ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার ও ডিজিএফআইয়ের তখনকার পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর মাওলানা তাজউদ্দিনকে ভিন্ন নামের পাসপোর্টে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেন। এ ছাড়া তাজউদ্দিনের বড় ভাই সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার পর এসব কর্মকর্তা তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি ফজলুল কবীরকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অপরাধ করেছেন বলে সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে আসে।
এ ছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময়কার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহুদুল হক, তৎকালীন মহানগর পুলিশ কমিশনার (পরবর্তী সময়ে আইজিপি) আশরাফুল হুদা, সিআইডির প্রধান (পরবর্তী সময়ে আইজিপি) খোদা বখ্স চৌধুরী, উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়েদুর রহমান খান ও উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো: তাঁরা আসামিদের আক্রমণ পরিচালনার সুবিধার্থে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের ওই সমাবেশ ও র‌্যালির জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেননি। ঘটনায় ব্যবহূত অবিস্ফোরিত তাজা গ্রেনেড আলামত হিসেবে জব্দ করার পরও, তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেননি। আদালতের অনুমতি ছাড়াই উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেনাবাহিনীকে দিয়ে গ্রেনেড ধ্বংস করে আলামত নষ্ট করেছে।
এঁদের কেউ কেউ ওই হামলার ঘটনা আগে থেকে জানতেন। তাই হামলার পরপর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ফলে আক্রমণকারী জঙ্গিরা সহজে পালাতে সক্ষম হয়।
সাবেক তিন আইজিপি সম্পর্কে বলা হয়, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেননি।
ওই হামলার সময়ে কর্তব্যরত পুলিশের দায়িত্ব পালনের মারাত্মক অবহেলার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা ব্যবস্থা নেননি।
এঁরা আইজি থাকাকালীন মুফতি হান্নান ও তাঁর জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত ছিলেন। কিন্তু তাঁকে এবং ২১ আগস্টের প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কোনো উদ্যোগ নেননি।
এই মামলার জোট সরকার আমলের তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, এ এস পি আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়। তাঁরা জজ মিয়াসহ তিনজনকে দিয়ে মিথ্যা জবানবন্দি আদালতে লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন।

Tuesday, July 5, 2011

তারেক ২১ আগস্টের ঘটনার মূল নায়ক


সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ২১ আগস্টের ঘটনার মূল নায়ক। হাওয়া ভবনে তাঁর সভাপতিত্বেই অন্য আসামিদের বৈঠক হয়। বিএনপি এখন তারেককে রক্ষার জন্য হরতাল ডেকেছে।
ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ এসব কথা বলেন। তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো গণতান্ত্রিক দল খুনের বিচার বন্ধ করতে হরতাল ডাকতে পারে না। তাই আইনের শাসন চাইলে হরতাল প্রত্যাহার করুন।’
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল হাওয়া ভবন, আর এর কর্ণধার ছিলেন তারেক রহমান। সেখানেই শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসান-উল্লাহ মাস্টার হত্যা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের একত্রে হত্যা করা। আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও আইভি রহমানসহ ২৪ জন মারা যান। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যবস্থা তো করেইনি, বরং ফায়ার ব্রিগেড ডেকে এনে আলামত নষ্ট করেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ আক্রান্ত লোকজনের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে ও লাঠিপেটা করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দীর্ঘদিন তদন্তের পর পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। বিচারের এই প্রক্রিয়াকে বিএনপির স্বাগত জানানো উচিত ছিল। বিচারের পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে তাদের অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল। অথচ তারা বিচার-প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে হরতাল ডেকেছে। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সব হত্যার বিচার হয়। কেবল ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। এখানে হত্যার বিচার করতে বাধা দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালের আগে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরুই করা যায়নি। এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিচারের রায় কার্যকর হয়। নিহত লোকজনের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কি অস্বীকার করতে পারবে যে তাদের হত্যা করেনি? এ ঘটনা তাদের পরিকল্পনায় ঘটেনি? এমন জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিচার হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম হানিফ, নূহ-উল-আলম লেনিন, আহমদ হোসেন প্রমুখ।
প্রথম আলো্                             

Monday, July 4, 2011

‘ক্ষমতা ছেড়ে দিলে দেশে থাকতে পারবেন গাদ্দাফি’


লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অন্তর্বর্তী জাতীয়পরিষদের (টিএনসি) প্রধান বলেছেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি যদি ক্ষমতা ছেড়ে দেন, তাহলে তিনি দেশে থাকতে পারবেন। এদিকে তুরস্ক টিএনসিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তবে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সব ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে চলেছেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি। তিনি বলেছেন, তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। গাদ্দাফির ঘনিষ্ঠজনেরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, লিবিয়ার নেতার ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।
টিএনসিপ্রধান মুস্তাফা আবদুল জলিল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাধান হিসেবে আমরা তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছি, তিনি যেন পদত্যাগ করে তাঁর অনুগত সৈন্যদের সেনাঘাঁটি ও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, তিনি দেশে থাকবেন, নাকি বিদেশে চলে যাবেন।’
মুস্তাফা আবদুল জলিল বলেন, ‘তিনি যদি লিবিয়ায় থাকতে চান, তাহলে আমরা তাঁর থাকার জায়গা নির্ধারণ করে দেব। এটা করা হবে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে। তাঁকে আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে চলাফেরা করতে হবে।’
গাদ্দাফির সাবেক বিচারমন্ত্রী টিএনসিপ্রধান আবদুল জলিল বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি বেনগাজিতে এই সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে প্রায় এক মাস আগে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ত্রিপোলি থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে লিবিয়ার জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধি হিসেবে টিএনসিকে স্বীকৃতি দিয়েছে তুরস্ক।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু বলেছেন, গাদ্দাফির চলে যাওয়ার সময় হয়েছে।
তুরস্ক লিবিয়ার বিদ্রোহীদের জন্য আরও ২০ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত মাসেও ১০ কোটি ডলার সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল দেশটি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাভুতোগলু বেনগাজিতে টিএনসিপ্রধান আবদুল জলিলের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বলেন, ‘লিবিয়ার জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে এসেছি। জনগণের ন্যায়সংগত দাবির বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে হবে। লিবিয়ার জনগণের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই কেবল তা অর্জন করা সম্ভব।’
আফ্রিকান ইউনিয়ন বিদ্রোহী ও ত্রিপোলির সরকারের মধ্যে আলোচনার যে উদ্যোগ নিয়েছে, বিদ্রোহীরা তা নাকচ করে দিয়েছে। বিদ্রোহীদের মুখপাত্র আবদেল হাফিজ ঘোগা বলেন, ‘আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। ওই উদ্যোগে গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে ও ঘনিষ্ঠজনদের প্রস্থানের কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’
এরই মধ্যে তুরস্কের ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার আরব টার্কিশ ব্যাংকের (এ অ্যান্ড টি) নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি।

দালালদের দৌরাত্ম্য ও দূতাবাসের ব্যর্থতা!

বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার ইরাকে এখন জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিযোগ, গুটিকয়েক বাংলাদেশি দালালের অপকর্ম আর ইরাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যর্থতায় শ্রমবাজারটি চালু হচ্ছে না।
তবে ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাস ও দেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা আশা করছেন, দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সেখানে বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালু হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের দপ্তরে সম্প্রতি ইরাকপ্রবাসী কয়েকজন লিখিতভাবে অভিযোগ পাঠিয়েছেন। তাতে ইরাকে শ্রমবাজার নষ্ট করার জন্য দালাল ও দূতাবাসের শ্রম শাখার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে কুয়েত যুদ্ধের সময় ইরাকে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণের পর সেখান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে জনশক্তি রপ্তানির ব্যাপক চাহিদার ভিত্তিতে ২০০৯ সালের অক্টোবরে ইরাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও শ্রম কাউন্সিলর নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের শেষ দিকে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকে বাংলাদেশের লোক পাঠানো শুরু হয়। এরপর ২০১০ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত হাজার দুয়েক লোক সেখানে গেলেও এখন দেশটিতে লোক পাঠানো বন্ধ। গত পাঁচ মাসে দেশটিতে গেছেন মাত্র নয়জন লোক।
আবু সাঈদ, সেলিম হাজারী, মিনহাজউদ্দিন, আজাদ রহমান খান, আইয়ুব হোসেন, বাদশা মিয়াসহ আরও কয়েকজন ইরাকপ্রবাসী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দূতাবাস চালু হওয়ার পর থেকেই একশ্রেণীর দালাল ইরাকের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। এই সমস্যা সমাধানে ১১ সদস্যের বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করা হয়। কিন্তু সমিতির বেশির ভাগ সদস্যই পরে দালাল হিসেবে বাংলাদেশ থেকে লোক আনা শুরু করেন। তাঁদের নানা অপকর্ম ইরাকের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এখন বাজার ঠিক করতে হলে ওই দালাল চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কিন্তু তা না করে দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা উল্টো দালালদেরই সহায়তা করছেন।
এদিকে ঢাকায় কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, দালালেরা বাংলাদেশ থেকে লোক নেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগীদের একজন আবদুল বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, ইরাকে ২৫ জন লোক পাঠানোর কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন জনৈক কুদ্দুস। কিন্তু তিনি একজন লোকও পাঠাননি, টাকাও ফেরত দেননি। আরেক বাংলাদেশি ওয়াহিদুজ্জামান খোকন বলেন, তিনিও দালালদের ৩০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র চারজন লোক পাঠিয়ে আর পাঠাচ্ছেন না, টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।
প্রবাসীকল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি, দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে বসবাসরত আবু সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কমিটির কয়েকজন সদস্য নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। তাই শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারের উচিত দায়ী দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু সেটি না করে উল্টো যাঁরা দালাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এসব সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইরাকে বাংলাদেশের শ্রম কাউন্সিলর জিয়াদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইরাকে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ থাকার অন্যতম কারণ, সেখানে কাজের পরিবেশ ঠিক হয়নি। রাজনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পটপরিবর্তন। এসব কারণে বাজারটা গড়ে উঠছে না।’ তিনি বলেন, ‘একশ্রেণীর দালাল অসাধু প্রক্রিয়ায় এখানে লোক আনতে চায়।’
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, সরকার ইরাকে কিছু চাহিদাপত্রে অনুমতি দিলেও শেষ পর্যন্ত এসব লোক পাঠানো যায়নি। সেখানকার পরিবেশ এখনো সুশৃঙ্খল হয়নি।

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে সাবেক তিন আইজিপি


  • শহুদুল হক
  • আশরাফুল হুদা
  • খোদা বখশ চৌধুরী
1 2 3
২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি পুলিশের তিন সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহুদুল হক, আশরাফুল হুদা ও খোদা বখ্স চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আইজিপির দায়িত্ব পালনকারী এই তিন কর্মকর্তা গতকাল সকালে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন নাকচ করেন।
পুলিশের এই সাবেক তিন আইজিসহ ৩০ জনকে নতুন আসামি করে গত রোববার এই মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। অভিযোগপত্র দাখিলের পর এই তিন কর্মকর্তাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে সেই পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার আগেই পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তা আদালতে হাজির হন। বাকি ১৫ আসামির ঠিকানায় গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশের মাধ্যমে পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে নাম আসা পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে বাকি দুজন চাকরিতে থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা জানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
সিআইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের মধ্যে পাঁচজন বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। বাকি আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা এখনো কিছু জানেন না।
কারাগারে তিন সাবেক আইজিপি: পুলিশের তিন সাবেক আইজি শহুদুল হক, আশরাফুল হুদা ও খোদা বখ্স চৌধুরী গতকাল পৃথক গাড়িতে করে আদালতে হাজির হন। তাঁরা ঢাকার মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের পক্ষে আইনজীবী রফিক-উল হক ও আমিনুল গনি আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি ছিলেন সৈয়দ রেজাউর রহমান, আবদুল্লাহ আবু, মোকলেসুর রহমান ও আবদুর রহমান।
শুনানিতে আসামি আশরাফুল হুদার আইনজীবী আমিনুল গনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করার কথা ছিল। সে অনুযায়ী পুলিশ মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে কীভাবে সমাবেশস্থল পরিবর্তন করা হলো, অভিযোগপত্রে তার কিছুই উল্লেখ নেই।
আইনজীবী আমিনুল বলেন, এই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা দেননি। এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হতে পারে, এই মামলা নয়। কারণ, তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিতও ছিলেন না। তাঁদের কেউ গ্রেনেডও ছোড়েননি। কোনো সাক্ষীর জবানবন্দিতে তাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতার কথাও আসেনি। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে আশরাফুল হুদা একটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন।
আশরাফুল হুদা ২০০৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাস দুই দিন পুলিশের মহাপরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন।
রফিক-উল হক বলেন, ‘মামলার এজাহারে শহুদুল হক ও খোদা বখ্স চৌধুরীর নাম নেই। মূল অভিযোগপত্রেও এঁদের নাম ছিল না। কিসের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অভিযোগপত্রে এঁদের নাম এসেছে, তা আমরা জানতে পারিনি। পত্রপত্রিকা পড়ে জেনেছি, নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের জড়ানো হয়েছে।’
রফিক-উল হক বলেন, ২০০৪ সালে এঁরা দুজনেই স্বাভাবিক অবসর নিয়েছেন। দুজনেই এখন অসুস্থ। জামিন না হলেও আদালতের কাছে প্রার্থনা, তাঁদের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক ও বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আসামিরা ঘটনার সময় তাঁদের দায়িত্ব পালন করেননি। ঘটনায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়তা করেছেন। মামলাটি স্পর্শকাতর। কারণ, তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই শেখ হাসিনাসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা করা হয়। আসামিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এই অবস্থায় জামিনের ঘোর বিরোধিতা করছি।’
দুই আসামির চিকিৎসার দাবির বিষয়ে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় কারাগারে চিকিৎসার সুব্যবস্থা আছে। কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে বাইরে চিকিৎসার উদ্যোগ নেবে।
বিচারক আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে কারা বিধি অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য শ্রেণী ও সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে সহায়তা করেন মহানগর পিপি আবদুল্লাহ্ আবু, মোখলেসুর রহমান ও আবদুর রহমান।
পরোয়ানার আসামিরা কে কোথায়: সম্পূরক অভিযোগপত্রের ৩০ আসামির মধ্যে ১২ জন কারাগারে আছেন। বাকি ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বাকি ১৫ আসামির মধ্যে তারেক রহমান ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। এর পর থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে আছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকেই পলাতক আছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দিকে তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জে ছিলেন বলে সিলেটের স্থানীয় পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। আবার তিনি লন্ডনে আছেন বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে কেউ তাঁর সঠিক অবস্থান সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি।
বিএনপির সাংসদ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বর্তমানে সৌদি আরবে আছেন। তাঁর পারিবারিক সূত্র জানায়, বাসার সিঁড়িতে পড়ে কোমর ভেঙে যাওয়ায় তিনি দুই বছর ধরে ব্যাংককে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি ওমরাহ হজ করার জন্য সেখান থেকে সৌদি আরবে গেছেন।
ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার টেররিজম ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিটিআইবি) সাবেক পরিচালক এ টি এম আমিন বর্তমানে দুবাইতে আছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের আলোচিত এই সেনা কর্মকর্তা ২০০৯ সালের ১৭ মে অকালীন অবসরে যান।
গত বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের একই শাখায় কর্মরত সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চাকরিচ্যুতির পরদিন তিনি সপরিবারে দুবাইতে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে নির্মাণব্যবসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব ও ভাগনে সাইফুল ইসলাম ওরফে ডিউক বর্তমানে কারাগারে আছেন।
‘জজ মিয়া’ নাটকের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত সিআইডির তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমান। মুন্সি আতিক ফরিদপুরে ও আবদুর রশিদ বগুড়ায় গ্রামের বাড়িতে আছেন। রুহুল আমিন আছেন ঢাকায়।
মামলার আরেক আসামি রাতুল বাবু বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন। তিনি এ মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আসামি সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই। এঁদের আরেক ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনও এ মামলার আসামি। তিনি বিগত জোট সরকারের শেষ দিকে কতিপয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সহায়তায় বেনামি পাসপোর্টে পাকিস্তানে চলে যান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে।
হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ ঢাকায় আছেন। অভিযোগপত্রে নাম থাকার তথ্য জানার পর তিনি গা ঢাকা দেন।
মুফতি শফিকুর রহমান ও আবদুল হাই দেশেই আছেন। শফিকুর রহমানের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। আবদুল হাইয়ের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিষিদ্ধ হরকাতুল জিহাদের এই সাবেক দুই আমির গা ঢাকা দেন।
দুই পুলিশ কর্মকর্তা: আসামি অতিরিক্ত ডিআইজি খান সাঈদ হাসান বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত (ওএসডি) আছেন। তিনি হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে প্রচার আছে। আরেক আসামি পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমানও ওএসডি আছেন। এ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সে ব্যাপারে পরামর্শ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেড নোটিশ: মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা পাঠানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি। আদালতের পরোয়ানা হাতে আসার পরই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার প্রথম আলোকে বলেছেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে এই গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন কয়েক শ লোক। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এ মামলার তদন্ত বারবার ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন করে এ মামলার তদন্ত শুরু করে। ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডি অভিযোগপত্র দেয়। এতে হরকাতুল জিহাদের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান, বিএনপি সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।
ওই অভিযোগপত্রভুক্ত আট আসামি পলাতক আছেন। এঁদের মধ্যে যমজ ভাই মোত্তাকিন ও মোরসালিন ভারতের কারাগারে আটক আছেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ মামলার অধিকতর তদন্ত হয়। গত রোববার আরও ৩০ জনকে আসামি করে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এ নিয়ে মামলার মোট আসামির সংখ্যা হলো ৫২ জন।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More