Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label ঘৃনীত. Show all posts
Showing posts with label ঘৃনীত. Show all posts

Tuesday, March 20, 2012

অশালীন বক্তব্যে সংসদ আবারও উত্তপ্ত

বিরোধীদলীয় সাংসদেরা আবারও অশালীন বক্তব্য দিয়ে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়েছেন। গতকাল সোমবার তাঁদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে স্পিকার আবদুল হামিদ হাতুড়ি পিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবসম্পর্কিত আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিরোধীদলীয় সাংসদ সৈয়দা আসিফা আশরাফি রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে নিয়ে অসংসদীয় বক্তব্য দেন।
গতকাল সংসদে প্রায় পুরোটা সময়ই সংসদ ছিল উত্তপ্ত। সরকারি ও বিরোধী দলের সাংসদেরা এ উত্তাপ ছড়ান। এক পক্ষের বক্তব্যের সময় অন্য পক্ষ হইচই করতে থাকে। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার দুবার হাতুড়ি পেটান, যা সচরাচর সংসদে দেখা যায় না। তিনি গঠনমূলক ও সুন্দর ভাষায় সমালোচনা করতে সাংসদদের প্রতি আহ্বান জানান।
সংসদে এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া গতকাল সংসদে আসেননি।
গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও বিরোধী দলের নেতারা উত্তেজনার সৃষ্টি করেন। বিরোধী দলের সাংসদদের হইচইয়ের মধ্যে ফারুক খান বক্তব্য শেষ করেন।
সংসদে গতকাল বিরোধীদলীয় সাংসদেরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, এই ব্যবস্থা ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় আসিফা আশরাফি রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে ‘মেরুদণ্ডহীন রাষ্ট্রপতি’ বলে মন্তব্য করেন। স্পিকার সঙ্গে সঙ্গে আশরাফির এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংসদেরা চিৎকার করে ‘অসত্য বক্তব্য, অসত্য বক্তব্য’, ‘চুপ কর, চুপ কর’ বলতে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আসিফা আশরাফি বলেন, ‘১৯৮৬ সালে এরশাদের কোলে বসেছিলেন, লং ড্রাইভে গিয়েছেন। গোলাম আযমের কোলে বসে ছিয়ানব্বইয়ে ক্ষমতায় গিয়েছেন। সর্বশেষ মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনের কোলে বসে ক্ষমতা দখল করেছেন। যৌবনে আর কার কার কোলে বসেছেন? মতিউর রহমান রিন্টুর বইয়ে পড়েছি, কোন বেয়াইয়ের কোলে আপনার বসার দৃশ্য দেখে চাকর আত্মহত্যা করেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় মাতাল হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র রাখার জন্য আমেরিকায় পুলিশের হেফাজতে ছিলেন বলেও দাবি করেন আসিফা আশরাফি। এ সময় সরকারি দলের সাংসদ ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী ও ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা হইচই করেন। তাঁরা বলেন, ‘অসত্য বক্তব্য। চুপ কর।’ কয়েকজন সাংসদ মাইক বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান। সরকারি দলের হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন উঠে গিয়ে তাঁদের নিবৃত্ত করেন। এ সময় স্পিকার আসিফা আশরাফির মাইক বন্ধ করে দিয়ে টেবিলে হাতুড়ি ঠুকে সবাইকে শান্ত হতে বলেন। তিনি বলেন, ‘কোনো অশ্লীল বক্তব্য দেবেন না।’
এরপর মাইক চালু হলে আসিফা আশরাফি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির আগের দিনে দেওয়া বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘যারা নিষিদ্ধ পল্লির সদস্য, তাঁরাই নিষিদ্ধ পল্লির ভাষা বলতে পারে।’
খালেদ মোশাররফের মরণোত্তর বিচার দাবি করে আসিফা আশরাফি বলেন, ‘মোশতাক আহমেদকে ক্ষমতাচ্যুত করে আওয়ামী লীগ নেতা খালেদা মোশাররফ ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করার জন্য তিনি জিয়াউর রহমানকে বন্দী করেন এবং মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করেন। সে জন্য তাঁর বিচার দাবি করছি।’
যাঁরা তারেক রহমানকে টাকা পাচার এবং মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন, তাঁদের উদ্দেশে আসিফা আশরাফি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ মদ্যপ অবস্থায় দুবার গুলশান ও ধানমন্ডি থানায় আটক হয়েছিলেন। ২০০০ সালে আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি ড্রাইভ করার জন্য তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। এ রকম চরিত্রের ছেলেকে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে না।’
আসিফা আশরাফির বক্তব্য শেষে আবদুল হামিদ বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া ঠিক নয়।’
আসিফা আশরাফির আগে আওয়ামী লীগের সাংসদ নাজমা আক্তার বলেন, সংসদে যে ভাষায় কথা বলা হচ্ছে, কোনো ভদ্রঘরের সন্তান এ ভাষায় কথা বলতে পারে না।
বিরোধী দলের সাংসদ রাশেদা বেগম বলেন, প্রশাসনে কিছু হিন্দু কর্মকর্তা বসিয়ে দলীয়করণ করে আর এরশাদকে গৃহপালিত বিরোধীদলীয় নেতা করে সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে। তিনি ভারতের টাইমস অব আসাম-এর সংবাদ পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর ছেলে ও উপদেষ্টাদের দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে।
জমির উদ্দিন সরকার বলেন, দেশের অবস্থা নাজুক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষিত হচ্ছে না। খুন, গুম অহরহ হচ্ছে। থানায় গেলে অনেক ক্ষেত্রে ডায়েরি করা যায় না। দারোগা বলেন, কোর্টে যান। এভাবে চললে দেশে খুনখারাবি বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।
ফারুক খান বলেন, বিরোধী দল সংসদে কথা বলবে জেনে আজ দেশের অনেকেই তাঁদের রেডিও বন্ধ রেখেছেন। কারণ, যে ভাষায় বিরোধী দলের সদস্যরা কথা বলেন, তা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শোনা যায় না। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে এই সরকারের সময় উন্নতি হয়েছে, বিগত সরকারের মতো লুটপাট হয়নি। এ সময় বিরোধী দলের সাংসদেরা বলেন, ‘সামিট গ্রুপের কথা বলেন।’ কয়েকজন ফারুক খানকে ‘সামিট গ্রুপের চোর’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।
বিজেপির সাংসদ আন্দালিব রহমান বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। এ জন্য দোষ বিরোধী দলের নয়, সরকারি দলেরও নয়। দোষ জনগণের। কেননা তাঁরা বারবার আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন।’ তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে ডিজিটাল দুর্নীতি হয়েছে। দরবেশখ্যাত এক ব্যক্তি তাঁর মুরিদদের নিয়ে লুটপাট করেছেন। অথচ তাঁর কোনো শাস্তি হয়নি। তিনি অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও যোগ্য লোকদের দিয়ে পরিচালনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে শেয়ারবাজার ধ্বংসের জন্য পুরস্কার দেওয়া উচিত ছিল।
আন্দালিব রহমান বলেন, বিদ্যুৎ খাতে দুই খেলোয়াড় রয়েছেন। এঁদের মধ্যে সামিট গ্রুপ হলো ম্যারাডোনা আর ওরিয়ন গ্রুপ হলো মেসি। এই দুই পরিবারের হাতে বিদ্যুৎ খাত এবং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য জিম্মি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ব্যাংকারদের দল। যাঁরা ব্যাংকের অনুমতি পাচ্ছেন, তাঁদের কেউ কেউ নির্বাচনের সময় আয় দেখিয়েছেন ৩৯ লাখ থেকে এক কোটি টাকা। অথচ, এখন তাঁরা ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে ব্যাংক দিচ্ছেন।
বিএনপির সাংসদ এম কে আনোয়ার বলেন, এ সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। কুইক রেন্টালের মাধ্যমে দেশকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে দলীয় লোকদের লুটপাট, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি বন্ধ হওয়া সম্ভব।
সরকারি দলের জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, সংসদে যে ভাষায় কথা হয়, তাতে সাংসদ হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা হয়। পরিবারের সদস্যরা বলে, ‘এই তোমাদের সংসদ’!
সরকারি দলের শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘গত রোববার বিরোধী দলের একজন নারী সাংসদ সরকারি দলের একজন সাংসদের কাপড় খুলতে চেয়েছেন। একজন নারী কখন একজন সক্ষম পুরুষের কাপড় খুলতে চান, তা সবাই জানে।’
এ ছাড়া গতকাল এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ বক্তব্য দেন।
সামিটের বক্তব্য: সংসদে সামিট গ্রুপ নিয়ে বক্তব্য প্রসঙ্গে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, ‘আমরা ১৯৯৮ সালে দেশে সর্বপ্রথম বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছি। বর্তমানে মোট ৫৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন করছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের কোম্পানি দেশের একটি সম্পদ। কোম্পানিটি দেশের উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে ও রাখবে।’ prothom-alo

Wednesday, December 14, 2011

 গোলাম আযমের নির্দেশে ৩৮ জনকে হত্যা

একাত্তরের ২১ নভেম্বর গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের ৩৮ জনকে শহরের পৈরতলা রেলব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। এই গণহত্যা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের নির্দেশে।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫২টির একটি হলো এই গণহত্যা। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) ধারায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং এ ধরনের অপরাধে নেতৃত্ব, সহায়তা, প্ররোচনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত সোমবার এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটকের জন্য পরোয়ানা জারিরও আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল ২৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নিলে রাষ্ট্রপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
জানতে চাইলে জামায়াতের আটক নেতাদের আইনজীবী দলের প্রধান আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়াধীন থাকায় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে এটা বলা যায়, গোলাম আযম পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন এটা যেমন এক শ ভাগ সত্য, তেমনি এটাও এক শ ভাগ সত্য যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তাঁর দূরতম কোনো সম্পর্ক ছিল না।’
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযমের চেষ্টায় শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, পাইওনিয়ার ফোর্স প্রভৃতি সহযোগী বাহিনী গঠিত হয়। তাঁর নেতৃত্বে ও নির্দেশে এসব বাহিনী সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে এবং এসব অপরাধ করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে।
অভিযোগ অনুসারে, কুমিল্লার হোমনা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সিরু মিয়া একাত্তরে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় দারোগা (উপপরিদর্শক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৮ মার্চ তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও ১৪ বছরের ছেলে আনোয়ার কামালকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যান। সেখানে তিনি শরণার্থীদের ভারতে যাতায়াতে সাহায্য করতেন। ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার তন্তর চেকপোস্টের কাছে তিনি, তাঁর ছেলেসহ ছয়জন ভারতে যাওয়ার পথে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন। তাঁদের বিভিন্ন রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে কয়েক দিন নির্যাতনের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে পাঠানো হয়। আনোয়ারা বেগমের ভগ্নিপতি খিলগাঁও সরকারি স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ মুহসিন আলী খান সিরু ও আনোয়ারকে ছাড়াতে গোলাম আযমের সঙ্গে দেখা করেন। পরে আরেক দিন তিনি গোলাম আযমের কাছে গিয়ে ওই অনুরোধ জানান। গোলাম আযম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শান্তি কমিটির নেতা পেয়ারা মিয়ার কাছে এ বিষয়ে তাঁদের মারফত একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠি পড়ার পর পেয়ারা মিয়া পত্রবাহককে গোলাম আযমের দেওয়া আরেকটি চিঠি দেখান, যাতে সিরু মিয়া ও তাঁর ছেলেকে হত্যার নির্দেশ ছিল। পেয়ারা মিয়া পত্রবাহককে জানান, তাঁর আনা চিঠিতে নতুন কিছু নেই। পরে ২১ নভেম্বর (পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন) রাতে সিরু মিয়া, আনোয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নজরুল ইসলামসহ ৩৯ জনকে পাকিস্তানি সেনারা রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতায় কারাগার থেকে পৈরতলায় নিয়ে গুলি করে। এতে একজন ছাড়া বাকি ৩৮ জন মারা যান।
এ ঘটনায় গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা ও এতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাকি ৫১ অভিযোগ অনুসারে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, রাজাকার ও সহযোগী বাহিনীগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সারা দেশে যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে, নেতা হিসেবে গোলাম আযম এসব অপরাধ করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তানের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা করতে উৎসাহ, প্ররোচনা ও উসকানি দিয়েছেন।
গণহত্যায় প্ররোচনা: আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ২ মে জামায়াতের ঢাকার কার্যালয়ে কর্মিসভায় গোলাম আযম মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটনে দলের নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। ১৭ মে ঢাকায় সাবেক এমএনএ আবুল কাসেমের বাসভবনে এক সভায় গোলাম আযম ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর সামরিক অভিযানকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ উল্লেখ করেন। ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা কেন্দ্রে এক সভায় তিনি গণহত্যাকে সমর্থন করেন। ১৪ আগস্ট কার্জন হলে এক সভায় তিনি ‘ঘরে ঘরে দুশমন খুঁজে বের করে তাঁদের উৎখাতের মাধ্যমে’ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য প্ররোচিত করেন।
শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন: অভিযোগ অনুসারে, ৪ এপ্রিল গোলাম আযমসহ ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক টিক্কা খানকে নাগরিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। দুই দিন পর গোলাম আযম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পূর্ব পাকিস্তানের সভাপতি পীর মোহসীনউদ্দিন আহমদ ও এ টি সাদী আবার টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। ৯ এপ্রিল খাজা খয়েরউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও গোলাম আযমকে সদস্য করে ১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত হয়। ১৫ এপ্রিল নাগরিক শান্তি কমিটির নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি এবং ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়, যার সদস্য ছিলেন গোলাম আযম। ২১ এপ্রিল একে আরও গতিশীল করতে ছয় সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হয়, যার দুই নম্বর সদস্য ছিলেন গোলাম আযম।
অভিযোগ অনুসারে, ১৮ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিপাবলিক স্কয়ারে এক সভায় গোলাম আযম শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে রাজাকার শিবির পরিদর্শনকালে আলেম ও ইসলামি কর্মীদের প্রতি রাজাকার ও মুজাহিদ বাহিনীতে ভর্তি হয়ে সশস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ১ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, তথাকথিত মুক্তিবাহিনীকে মোকাবিলা করতে রাজাকাররাই যথেষ্ট। এ জন্য রাজাকারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
রাজাকারদের অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান: অভিযোগ অনুসারে, ১৯ জুন গোলাম আযম রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দেখা করে মুক্তিযোদ্ধাদের মোকাবিলার জন্য রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। পরদিন লাহোরে জামায়াতের পশ্চিম পাকিস্তানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে দুষ্কৃতকারীরা সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের প্রতিরোধের জন্য অস্ত্রসজ্জিত হওয়া উচিত। এমন কথা তিনি আরও একাধিক স্থানে বলেছেন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে দালিলিক সাক্ষ্য হিসেবে যেসব নথি সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: একাত্তরে স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদন (জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র সংঘ ও শান্তি কমিটির কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত), গোয়েন্দা প্রতিবেদন, শান্তি কমিটির সঙ্গে রাজাকার, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের যোগাযোগের নথি ও ছবি, ভিডিওচিত্র এবং একাত্তরের বিভিন্ন পত্রিকা ও বিদেশি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদন। এসব বিষয়ে প্রকাশ ও প্রচারের তারিখ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 প্রথম আলো পাঠক প্রতিক্রিয়া

 
Tayyip Rahman
Tayyip Rahman
২০১১.১২.১৪ ০৪:০০
Why Government is bothering a peace loving person? After all he was associated with peace committee in 1971. He wasn't pissing peace into pieces, was he?

Ismail Khan Chy(Titu)
Ismail Khan Chy(Titu)
২০১১.১২.১৪ ০৪:৫৪
He should be arrested soon.

Ismail Khan Chy(Titu)
Ismail Khan Chy(Titu)
২০১১.১২.১৪ ০৪:৫৭
He has been trying prove himself innocent on tv channels. be aware of him.

সুনন্দন বড়ুয়া (প্যারিস থেকে)
সুনন্দন বড়ুয়া (প্যারিস থেকে)
২০১১.১২.১৪ ০৬:৫৭
১৬ ডিসেম্বর ১ নম্বার রাজাকার গোলাম আযম কে গ্রেপ্তার করা হোক ।

Md.Monirul Islam Khan
Md.Monirul Islam Khan
২০১১.১২.১৪ ০৮:৩৫
গতকাল রাতে এ টি এন বাংলাই "৭১ এর গোলাম আযম" শীর্ষক একটি প্রতিবেদন দেখলাম, সাংবাদিকের প্রায় প্রশ্নের উত্তর তিনি সুন্দর ভাবে এড়িয়ে গেলেন। সবচেয়ে যে জিনিসটা আমার খারাপ লেগেছে একজন সাংবাদিক তাকে SIR বলে সম্বোধন করতে শুনে। একটা জিনিস আমি কিছুতেই বুঝলাম না তাকে এতটা সমীহ করে কথা বলার কি আছে। সে শুধু একজনের শত্রু নই পুরো জাতির শত্রু, কথাটা কি আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা ভুলে গিয়েছলেন?

Nazmul Rubaiyat
Nazmul Rubaiyat
২০১১.১২.১৪ ০৯:২৬
পাকিস্তানি গোলাম মীরজাফার গোলাম আজমের ফাসির আগে জুতা পেটা করতে চাই।

Monika
Monika
২০১১.১২.১৪ ০৯:২৮
এসব কেচ্ছা কাহিনী আমরা ছোটবেলা থেকে শুনছি। সময় এসেছে এগুলো প্রমান করার।

Debu Sarkar
Debu Sarkar
২০১১.১২.১৪ ০৯:৩৩
বেশ কয়েকদিন ধরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ক খবর সম্পর্কে লেখা পাঠকের মন্তব্যগুলো মন দিয়ে পড়ছি; সত্যি বলতে কি মূল খবরের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ছি। তাতে দেখতে পাচ্ছি, অনেকেই এই বিচারের বিরোধিতা করছেন। আমার ধারণা আজও এমন অনেকগুলো মন্তব্য প্রকাশিত হবে, যেখানে গোলাম আজমের জন্য হাহাকার করা হবে। সেসব পড়তে পড়তে ভাবতে থাকবো, আজ ১৪ই ডিসেম্বর!!

২০১১.১২.১৪ ০৯:৪৮
I am a student of B.Pharm and also a Teacher.In my life i saw him,he is not bad at all.If you have prove, you will proved him as a Rajaker.After prove it, then our government can catch him.If there is no Prove about him,there is no Causes about him to arrest.I Honor our People Republic Bangladesh.

Apu kowsar
Apu kowsar
২০১১.১২.১৪ ০৯:৫৮
আর কত !!! এখন এদের ফাসি দেয়া হোক।

Md. Mohabbot Hossain
Md. Mohabbot Hossain
২০১১.১২.১৪ ১০:১৫
Md.Monirul Islam Khan, "৭১ এর গোলাম আযম" শীর্ষক প্রতিবেদনটটি প্রচার করার জন্য এ টি এন বাংলা ধন্যবাদ, আর আপনাকেও ধন্যবাদ কষ্ট করে অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য। আর গোলাম আযম কে স্যার বলার কারন সে একজন শিক্ষিত অধ্যাপক।

Evan Hussain
Evan Hussain
২০১১.১২.১৪ ১০:২৭
...জামায়াতের অনেক নেতার বিরুদ্ধেই অকাট্য প্রমান নেই, কিন্তু গোলাম আযম.. এই লোকের বিরুদ্ধে এত প্রমাণ আছে যে একে ফাসিতে ঝোলাতে ৩দিনের বেশি কোর্টের কার্যদিবস লাগার কথা না। এখন দেখা যাক সরকার এই বিষয় নিয়ে কতটুকু রাজনীতি করে।

Sultana
Sultana
২০১১.১২.১৪ ১০:২৮
TV তে দেখলাম, উনি বলছেন, উনার বিরুদধে আনা একটা অভিযোগও কেউ পমান করতে পারবেনা। উনি তো এটা বললেননা যে উনি অভিযোগ আনা অপরাধগুলো করেননি। অপরাধ করে ইসলামকে বরম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আপনাদের বিচার তো দুই জায়গায় হবে। একটা এই পথিবীতে, আর একটা পরকালে। একটু ভয়ও নেই বুকে। নিজেদের উপর কি জুলুমটাই না করছেন শয়তানের পরোচনায়।

Sk. Arman Jahan
Sk. Arman Jahan
২০১১.১২.১৪ ১০:৩০
কালকে ATN News তার প্রতিবেদন দেখলাম ভাল লাগল ... তবে এই মানবতা বিরোধী যে আদালত এটি একটি বির্তকিত হয়ে গেছে তাই এইটা পরিবর্তন দরকার।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
২০১১.১২.১৪ ১০:৩৭
গতকাল একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার চিহ্নিত অপরাধী গোলাম আযমের সাক্ষাত্‍কার দেখে বিস্মিত হলাম । তিনি নাকি মৃত্যুকে ভয় পাননা । যে ব্যাক্তি অসংখ্য মানুষকে হত্যা করতে পারে সেতো জল্লাদ । জল্লাদরা মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার কথা ।
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে ।

imtiaz ahmed chowdhury
imtiaz ahmed chowdhury
২০১১.১২.১৪ ১০:৫০
Md. Mohabbot Hossain কে বলতে চাই গোলাম আযম একজন শিক্ষিত ঘাতোক । সবাইকে আমি Sir বলতে পারি , তা সে চোর হউক ডাকাত হউক কিন্তু একজন ঘাতোক কে Sir বলতে পারবোনা , বলতে দিবোনা ।

Abdul Salam
Abdul Salam
২০১১.১২.১৪ ১০:৫১
গোলাম আযমের মুখে জনগন শুনতে চায়, তার কাহিনী, তাকে সরাসরি প্রশ্ন করুন এবং তাকে তার উত্তর দিতে বলুন।

২০১১.১২.১৪ ১১:০৫
গোলাম আজম (বাংলাদেশীদের জন্য গোলাম আজব) আপনি সময় থাকতে প্রকাশ্যে তওবা করেণ। কারণ আল্লাহ পাক প্রকাশ্য অপরাধের জন্য প্রকাশ্যে তওবা করার কথা বলেছেন।

T Alahee
T Alahee
২০১১.১২.১৪ ১১:১৬
ঘাতকদের বিচার ও দৃসটান্তমুলক শাসতি চাই। তবে তারা যেন আত্মপক্ক সমর্থনের সু্যোগ পায়। তারা বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে সু্যোগ দেয়া উচিত। এতে করে বিচারটি বিতর্কমুক্ত থাকবে। আর বিচারটি টেলিভিশনে লাইভ দেখানোর ব্যবসথা থাকা উচিত। এতে করে এই বিচার রাজনইতিক বলয় থেকে বেরিয়ে পুরো দেশবাসীর সত:সফুর্ত সমর্থন পাবে।

শুভ্র
শুভ্র
২০১১.১২.১৪ ১১:১৭
তাকে মিডিয়ার সামনে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত।

nurul absar hussain
nurul absar hussain
২০১১.১২.১৪ ১১:২২
গত কালও বাংলাভিশনে গোলাম কে দেখিলাম উনার কথা শুনিয়া মনে হইতেছে উনি যুদ্ধকালীন দেশের রক্ষা কবচ ছিল . উনি আমাদের দেশবাসীকে যাহারা ভারতে যাইতে পারেনাই তাহাদের রক্ষা করিয়াছে. উনি গ্রেফতার হইবেন আর আমাদেরই দেশপ্রেমী দল উনার মুক্তিদাবি করিবে আর এক ধরনের সুধী জনেরা বিচারের স্বচ্ছতা চাহিয়া বিচার প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাই নিউজিত থাকিবে. .

nur alam
nur alam
২০১১.১২.১৪ ১১:৩০
আবদুল সালাম ভাই চুর কি বলে আমি ..........................?

২০১১.১২.১৪ ১১:৫৯
The war criminals get the opportunity to become ministers in Bangladesh which is humiliating for our freedom fighters. Shame on those who patronize them. I hate them like Gen. Zia, Somsher Mobin Chow etc ....

২০১১.১২.১৪ ১২:০০
১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তিকমিটি, ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি, ছয় সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হয় ! সব কমিটিতেই গোলাম আজমের নাম আছে ! কমিটির বাকী সদস্যের নাম কি ভাবে জানতে পারবো, কেউ বলতে পারেন কি ? বড় ইচ্ছা হয় আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকারদের পরিচয় জানার ! তা ছাড়া এতো এতো সদস্য রেখে কেবল গোলাম আজমের বিচারই কেন হবে সেটাও বুঝতে চাই !

hafez sharif
hafez sharif
২০১১.১২.১৪ ১২:০৯
@ Mr Md. Mohabbot Hossainকে বলছি, দেখুন একজন মানুষকে সম্মন অসম্মন দেখানো হয় তার কৃত কর্মের দ্ধারা, তিনি শিক্ষিত অধ্যাপক বেশ ভাল কথা, অধ্যাপক হয়ে তিনি দেশের জন্য কি করেছেন ? কোরআনের অপব্যখ্যা দিয়েছেন যা বাংলাদেশের হক্কানি আলেমদের লিখায় ও বক্তব্যে অগনীত প্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের সময় নয় মাস তিনি দেশের জন্য কি করিয়াছেন ? এবং ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন ? ঐ সময় তিনি কি কি করেছেন ? তার জীবনের বেশী ভাগ সময় তিনি দেশকে ধংসের পথে নিতে চেয়েছেন, তার নেতৃত্বে দেশের অগনীত মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইত্যাদী ..... এই ধরনের লোককে সম্মনীত শিক্ষিত অধ্যাপক বলাটা শোভা পায়না।

Hasan
Hasan
২০১১.১২.১৪ ১২:১২
আর কোনো specific প্রমান পাওয়া গেল না? পাকিস্তানের আর্মিরা কি গোলাম আযমের নিরদেশে মেনে চলতো যে তার কথামতো ৩৮ জনকে হত্যা করলো? যারা নিজ হাতে হত্যা করলো তাদের কি কোন বিচার হবে না?

monir
monir
২০১১.১২.১৪ ১২:১৮
গো আযম ও অন্যান্য জামাত নেতারা ১৯৭১ সালে যে অপরাধ গুলো করেছিলো এবং তারা যে অপরাধী এটা দিবা লোকের মত সত্য কিন্তু এত দিন পর এ গুলো প্রমান করা অত্যন্ত কঠিন। বস্তুত ১৯৭৫ এর পর হতে এ রাজাকারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা পেয়ে পেয়ে এখন সব বেমালুম অস্বীকার করছে। এ রাজাকারা পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন এটা যেমন এক শ ভাগ সত্য এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় যা যা করা প্রয়োজন তারা তাই সে সময় করেছিলো।

foyez ahmad
foyez ahmad
২০১১.১২.১৪ ১২:৩১
He should be arrested with appropriate proof.

lean
lean
২০১১.১২.১৪ ১২:৪৩
বুশের মত লোকে জুতা মারতে পারে আর গোলাম আযম এত এত মিথ্যা কথা বলল সব সাংবাদিক কিভাবে বসে থাকে বুঝলাম না ???? সাংবাদিকরা প্রচার করে আমরা সাহসী জাতি ...........................................

২০১১.১২.১৪ ১২:৪৬
গোলাম আযমের মতো একটা চিন্হিত যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার মতো দেখি কিছু কিছু লোক আছে ! থাকতেই পারে, নিশ্চয় তারা বা তাদের আগের প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দালালি করেছিল। বাংলাভিশনে তার যে সাক্ষাতকার দেখলাম তাতে তো মনে হলো অনুষ্ঠানটা একদম প্রিপ্ল্যান করা, যে কারনে সে যেসব প্রশ্ন এড়িয়ে গেছে তা বারবার তুলে ধরে তাকে চেপে ধরা যেতো। কি করে বাংলাভিশন এটা করলো?

nurul absar hussain
nurul absar hussain
২০১১.১২.১৪ ১৩:০৭
দেশের অনেক টেলিভিশন চানেল আছে যেইগুলি দেখিয়া মনে হই ওই গুলি শুধু কোনো উদ্দেশ্য নিয়া করা হইয়াছে. তাহাদের প্রচার দেখিলে মনে হই তাহারা কোনো দলেদ প্রতিনিদিত্ত করিতেছে. যেমন বিটিভি সরকারের করে. গতকালের বাংলাভিশনে গোলাম আজোমের সাক্কাত্কার দেখিয়া মনে হয়তেছে ঐটা উনার পাপ হালকা করিবার জন্যই করা হইয়াছে. দিগন্ত আর ইসলামী টেলিভিশনের কথা নাইই বলিলাম. আরো অনেক হয়ত আছে বিদেশে অপারেটর গণ খুব বেশি চানেল আমাদের দিতে পারেনা.

Swapan Baidya
Swapan Baidya
২০১১.১২.১৪ ১৩:০৯
All of Bangladeshi Hate Gu. Azam. So immediate ..............

মো‌: হাফিজুর রহমান
মো‌: হাফিজুর রহমান
২০১১.১২.১৪ ১৩:১১
কাল রাতে বাংলাভিশনে গো আযম এর সাক্ষাতকার দেখলাম! তার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার ছিল, অখন্ড পাকিস্তানের জন্য সে তখন সবকিছুই করেছে। মানবতাবিরোধী কোন অপরাধ সে করে নাই!! রাজাকার রা পুলিশ আনসারের মতই পাকিস্তানি আর্মির সহযোগী বাহিনী ছিল! তার কাছে কেউ কমপ্লেইন নিয়ে আসলে তিনি পাকিস্তান আর্মিকে বলে যথাসম্ভব সাহায্যই না-কি করেছে!!! তার গর্বভরে বলেছে যে সে বাংলাদেশ নয় অখন্ড পাকিস্তানই চেয়েছিল!!! মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্রোহী বলে আখ্যাতিয় করেছে!!!! তাকে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসম্মুখে পিটিয়ে মারা হোক.....।

a.m.yousuf
a.m.yousuf
২০১১.১২.১৪ ১৩:২৭
লগি দিয়ে মানুষ হত্যা কারিদের ও বিছার হওয়া উছিত '

শিপন মোল্লা
শিপন মোল্লা
২০১১.১২.১৪ ১৪:১১
গোলাম আজম কাল বাংলাভিসন টেলিভিশনে বলেছেন যৌদ্ধ অপরাধী অভিযোগ তার বিরুদে অপবাদ। সে আরো বলেছে তার বিরুদে এই অভিযোগ একটাও প্রমান করতে পারবেনা।

অর্ক
অর্ক
২০১১.১২.১৪ ১৪:৩৫
গোলাম আযম কে প্রকাশ্যে ফাসি দেয়া হোক!

২০১১.১২.১৪ ১৪:৫৯
তাকে সবার সামনে গুলি কর মার


Friday, September 23, 2011

 উগ্র ইহুদিবাদী ওবামা!

পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাক ওবামা। কিন্তু গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি যে ভাষণ দিয়েছেন, তা অনেককেই অবাক করেছে। ওই ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিপক্ষে তাঁর অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। ইসরায়েলের জন্য ওবামার এই ‘দরদ’কে অনেকেই উগ্র ইহুদিবাদের সঙ্গে তুলনা করছেন।
বিখ্যাত মার্কিন ম্যাগাজিন ‘নিউইয়র্ক’ তাদের চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে ওবামাকে আমেরিকার ‘প্রথম ইহুদি প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ওবামাকে সবচেয়ে কট্টর ইসরায়েল সমর্থক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ওবামা প্রকাশ্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে তিনি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের প্রস্তাবে অবশ্যই ভেটো দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওবামার উগ্র ইহুদিবাদী মনোভাবেরই প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র এমনকি ইসরায়েলের ইহুদিরাও এতটা উগ্র মনোভাব পোষণ করেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এদিক দিয়ে ওবামা তাঁর পূর্বসূরিদেরও অবাক করে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে জর্জ বুশ ছিলেন ইসরায়েলের গোড়া সমর্থক। কিন্তু এবার ওবামা তাঁকেও ছাড়িয়ে গেলেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে প্রকারান্তরে ওবামা সেখানকার জনগণের ওপর ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনকেই সমর্থন দিলেন। তাই প্রশ্ন ওঠে, যে ওবামা পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেন, শান্তিতে নোবেল পেলেন, তিনি কেন ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর অবিচার চাপিয়ে দিচ্ছেন!
বিশ্লেষকদের জুতসই উত্তর—সামনে নির্বাচন, তাই ওবামা কোনোভাবেই ইসরায়েলকে ক্ষুব্ধ করতে চান না। তা ছাড়া শিকাগোতে ওবামার কর্মজীবন কেটেছে ইহুদিদেরই সংস্পর্শে। তাঁর দলের তহবিলের অধিকাংশ অর্থই জোগান দেয় ইহুদি লবিস্ট ও শিকাগোর বর্তমান মেয়র রাহেম ইমেনুয়েল। তিনি হোয়াইট হাউসে ওবামার চিফ অব স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, ওবামার ফিলিস্তিন বিরোধিতা কেবল অর্থের বিষয় নয়। এখানে মার্কিন রাজনীতিও জড়িত। অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়ে কংগ্রেসে ওবামার সমর্থন দরকার। সেসব ক্ষেত্রে ওবামা ব্যর্থ হলে, তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাসের ঘরের মতো ভেঙে যেতে পারে। এমনকি মার্কিন রাজনীতিতে সক্রিয় ইসরায়েলি লবি তাঁর জীবনকে দুর্বিষহও করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তনের কথা বলে ক্ষমতায় এসে ওবামা এখন যেটা করছেন, তা প্রতারণা। তিনি ন্যায়বিচারের কথা বলেন, কিন্তু অন্যায় নীতির জন্য ফিলিস্তিনকে চাপ দিচ্ছেন। কথা বলছেন নিপীড়ক ইসরায়েলের পক্ষে। তিনি স্বাধীনতার কথা বলেন, কিন্তু এখন ইসরায়েলের আগ্রাসনকে সমর্থন করছেন। এর সবকিছুই তিনি করছেন নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে।
ইসরায়েলপন্থী ইহুদি লবিস্ট জে স্ট্রিটের মতে, ‘আমেরিকান রাজনীতিবিদেরা তাঁদের রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলের জন্য সীমাহীন কাজ করতে পারেন।’
ইসরায়েলের জন্য নিজের স্বার্থে ওবামা না হয় একটু বেশিই করছেন! আল-জাজিরা টেলিভিশনের অনলাইন অবলম্বনে

Sunday, August 21, 2011

 ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাত বছর :তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠায় ডিজিএফআই, জানতেন খালেদা

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও গ্রেনেড সরবরাহকারী মাওলানা তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জঙ্গি দমন-সংক্রান্ত ব্যুরো। আর এটা জানতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হরকাতুল জিহাদের (হুজি) জঙ্গিদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু জড়িত ছিলেন—এমন তথ্য ২০০৬ সালের আগস্টেই (বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে) বেরিয়ে আসে। তখন এই তথ্য এবং তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ সম্পর্কে ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জানিয়েছিলেন। সাদিক হাসান রুমী গত বছরের ২০ জুন আদালতে সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে এই ব্যাপারে বিস্তারিত বলেছেন।
২১ আগস্ট মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র, ডিজিএফআইয়ের সাবেক চার কর্মকর্তা ও হুজির শীর্ষনেতাদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দেখা যায়, ডিজিএফআইয়ের জঙ্গিবাদ দমন-সংক্রান্ত গোয়েন্দা শাখা (কাউন্টার টেররিজম ইন্টিলিজেন্ট ব্যুরো—সিটিআইবি) চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত। ডিজিএফআই থেকে নিয়মিত টাকাও পেতেন হুজির শীর্ষনেতারা।
অবশ্য ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন তিন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজাল নাছের ভূঁইয়া (পরে বহিষ্কৃত), মেজর সৈয়দ মনিরুল ইসলাম (পরে বহিষ্কৃত) ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মিজানুর রহমান আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, হুজির নেতা মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা রাজ্জাক, মাওলানা সাব্বির ও মাওলানা মনির সিটিআইবিতে তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে (সোর্স) কাজ করতেন। এ জন্য তাঁদের নিয়মিত টাকা দেওয়া হতো। এ ছাড়া হুজির সাবেক আমির মুফতি শফিকুর রহমান, হাফেজ ইয়াহিয়া, আবু বকর ও কাশ্মীরের জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীনের নেতা আবু ইউসুফ ওরফে মাজেদ বাটও বিভিন্ন সময় ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে তাঁরা স্বীকার করেছেন। এসব জঙ্গিও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযুক্ত আসামি।
হুজির সাবেক আমির মাওলানা আবদুস সালামও আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একযোগে বোমা হামলার পর থেকে তাঁর সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। সালাম দাবি করেন, তাঁরাই ডিজিএফআইকে তথ্য দিয়ে মুফতি হান্নান ও সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলায় জড়িত হুজির জঙ্গি শরিফ শাহেদুল ওরফে বিপুলকে ধরিয়ে দিয়েছেন।
লে. কর্নেল আফজাল, মেজর মনিরুল ও লে. কমান্ডার মিজানের জবানবন্দিতেও একই তথ্য রয়েছে।
লে. কমান্ডার মিজান আদালতকে বলেন, সিলেটের বিপুলকে ধরিয়ে দিতে মাওলানা সালাম পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। এ কাজে পরে সালামকে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে মাওলানা রাজ্জাক পেয়েছেন এক লাখ টাকা। মিজানের দায়িত্ব ছিল লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারের নির্দেশে হুজির নেতাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া।
অধিকতর তদন্ত: বর্তমান সরকারের আমলে অধিকতর তদন্ত শেষে সিআইডি গত ৩ জুলাই ২১ আগস্টের দুই মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। এতে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির সাংসদ শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম, খালেদা জিয়ার ভাগনে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউকসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করা হয়েছে।
যেভাবে তাজউদ্দিনের নাম আসে: অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, তাজউদ্দিন পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার সময় কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা, তেহরিক-ই জিহাদ আল ইসলাম ও হিজবুল মুজাহিদীনের সঙ্গে জড়িত হন।
মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমী, লে. কর্নেল আফজাল, মেজর মনির ও লে. কমান্ডার মিজানের জবানবন্দিতে তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠানোর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এই চারজন এখন ২১ আগস্ট মামলার অন্যতম সাক্ষী। তাঁদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিলেটে বাংলাদেশে তখনকার ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে চাপে পড়ে বিএনপি সরকার। ২০০৬ সালের আগস্টে গ্রেনেড নিক্ষেপকারী বিপুল ও তাঁর সহযোগী মিজানকে সিলেট থেকে আটক করে গোয়েন্দারা। যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশনে (টিএফআই) হাইকমিশনারসহ সিলেটে বিভিন্ন গ্রেনেড হামলার কথা স্বীকার করেন বিপুল। তিনি জানান, মুফতি হান্নান তাঁদের আর্জেস গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাও মুফতি হান্নান পরিচালনা করেছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে তখন রিমান্ডে থাকা মুফতি হান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ২১ আগস্ট হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং বিস্তারিত বিবরণ দেন। মুফতি হান্নান তখন আরও জানান, তাঁকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছেন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন।
এভাবে মাওলানা তাজউদ্দিনের নাম বেরিয়ে আসে। ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তারা জবানবন্দিতে বলেছেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাজউদ্দিনের ব্যাপারে তথ্য পান। তা ছিল: তাজউদ্দিন লস্কর-ই-তাইয়েবার জন্য বাংলাদেশ হয়ে ভারতের কাশ্মীরে অস্ত্র-গোলাবারুদ পাঠানোর কাজে যুক্ত।
ডেকে এনে পাকিস্তানে পাঠানো: মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির পর হুজির মাওলানা সালামের সহায়তায় ২০০৬ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের কোনো একদিন তাজউদ্দিনকে ডেকে আনা হয় গুলশানে ডিজিএফআইয়ের একটি ‘সেফ হাউসে’। পরে লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, লে. কর্নেল আফজাল ও মেজর মনির সেখানে আসেন। তাঁরা একসঙ্গে রাতের খাবার খান। সাইফুল ও আফজাল এরপর তাজউদ্দিন ও সালামের সঙ্গে একান্ত আলোচনা করেন। একপর্যায়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (পরে মেজর জেনারেল) এ টি এম আমিন যোগ দেন তাঁদের সঙ্গে। সালাম ও মিজানদের অন্য কক্ষে পাঠিয়ে আমিন, সাইফুল ও আফজাল দীর্ঘ সময় তাজউদ্দিনের সঙ্গে আলাপ করেন।
ওই দিন থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাজউদ্দিন ডিজিএফআইয়ের গুলশানের ওই ‘অতিথিশালা’তেই ছিলেন।
পরদিন বেলা ১২টায় আবার আমিন, সাইফুল ও আফজাল কয়েক ঘণ্টা তাজউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। তখন তাজউদ্দিন গ্রেনেড সরবরাহ করা থেকে শুরু করে তাঁর ভাই উপমন্ত্রী পিন্টুর বাসায় বৈঠক, হামলাকারীদের নিরাপত্তার জন্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সর্বাত্মক সহায়তাসহ ২১ আগস্ট হামলার সার্বিক বিবরণ দেন।
ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা আফজাল, মনির ও মিজান জবানবন্দিতে বলেছেন, তাজউদ্দিনের এসব তথ্য তখন আমিন ও সাইফুল মুঠোফোনে ঊর্ধ্বতন কাউকে জানান। তারপর তাঁদের বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর এই বিষয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করে তাজউদ্দিনকে দ্রুত পাকিস্তান পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাজউদ্দিনের পাসপোর্ট, টিকিট ও ভিসা জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর মনির ও লে. কমান্ডার মিজানকে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে লে. কর্নেল সাইফুল পাসপোর্ট, পাকিস্তান যাওয়ার ভিসা ও বিমানের টিকিট এনে দেন। তাঁর নির্দেশে মিজান ও মনির মাওলানা তাজউদ্দিনকে করাচিগামী বিমানে তুলে দেন ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর। পাকিস্তানে যাওয়ার পরও তাজউদ্দিন টেলিফোনে কর্নেল সাইফুল ও মেজর মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁকে বলা হয়েছে, ডিজিএফআইকে না জানিয়ে তিনি যেন বাংলাদেশে না আসেন।
তাজউদ্দিনকে গ্রেপ্তার না করে পাকিস্তান পাঠানোর এ তথ্য ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকও জানতেন।
খালেদা কতটা জানতেন: সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়, বাবরের নির্দেশে ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞাতসারে মাওলানা তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, তাঁর (ডিউক) ভায়রা ডিজিএফআইয়ের লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার ও সিটিআইবির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আমিন পরস্পর যোগসাজশে বাদল ছদ্মনামে তাজউদ্দিনের জন্য পাসপোর্ট করান। ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেন তাঁরা।
ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমী আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তৎকালীন সরকারের দুই মন্ত্রীর জড়িত থাকার কথা উল্লেখ থাকায়, আমি তা “টকিং পয়েন্ট” হিসেবে লিখিতভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দিই। এবং আমি নিজেও ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি বলি। তিনি কিছু না বলে টকিং পয়েন্টটি তাঁর কাছেই রেখে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে আমাকে কোনো নির্দেশ দেন নাই।’
সাদিক হাসান রুমী বলেন, পরে তাঁকে এ টি এম আমিন ও সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার এসে বলেন, বাবর ও ডিউক তাঁদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে বলেছেন। তাই তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠানোর সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অধীনস্থ কর্মকর্তাদের এই তথ্য যাচাই করতে জেনারেল রুমী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুরো বিষয় তুলে ধরেন। রুমী বলেন, ‘আমার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী অনেকটা ক্ষুব্ধ ও বিরক্তির সুরে বলেন, “সিআইডি এই মামলার রহস্য ইতিমধ্যে উদ্ঘাটন করে ফেলেছে (জজ মিয়া কাহিনি), আপনি কোথা থেকে এই সব আজগুবি তথ্য নিয়ে এসেছেন? মাওলানা তাজউদ্দিন পাকিস্তান যাবে না কোথায় যাবে, তাতে আপনার মাথাব্যথা কেন?” এই বলে তিনি আমার সাথে আর কোনো কথা বলেন নাই।’
বিএনপির বক্তব্য: ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্রে এভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম আসার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়ানোর পাঁয়তারা এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুরু করেছিল। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত—অনেককে চাপ দিয়ে এ কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলাকালে বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করে এবং একাধিক সমাবেশে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আসামি করার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে রাজসাক্ষী করার প্রলোভন দেখানো হচ্ছিল বলেও তখন আমরা বলেছিলাম।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অধিকতর তদন্তের নামে মূলত খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির নেতাদের ফাঁসানোই ছিল সরকারের লক্ষ্য। যখন কোনো তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারী পেল না, তখন সরকারের চাপে তারেককে আসামি করা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপিকে ধ্বংসের এ ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চালানো হবে।

Monday, August 8, 2011

ছাত্রলীগের রোষানলে শিক্ষকেরা


ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গতকাল ছাত্রবিষয়ক কার্যালয় ভাঙচুর করেনগতকাল ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকএর আগে শিক্ষক সমিতির মিছিল চলার সময় কটূক্তি করার অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে আটক করেন শিক্ষকএরপর শুরু হয় ছাত্রলীগের তাণ্ডব। তাদের দেওয়া আগুনে পুড়ছে মোটরসাইকেল
ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ধাওয়া ও হামলায় পাঁচজন শিক্ষকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাঙচুর ও দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ছিনতাইয়ে জড়িত অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে পুলিশে সোপর্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কর্মীরা শিক্ষকদের ধাওয়া ও হামলা করেন। এদিকে রোববার রাতে প্রক্টরকে গালিগালাজ ও তাঁর বাসভবনের সামনে ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি গতকাল দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের পাঁচ নেতা-কর্মী আরিফুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, সাজ্জাদ হোসেন, সুমন চন্দ্র রায় ও শাকিল গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে যান। তাঁরা সেখানে আপত্তিকর অবস্থায় তিন জুটিকে দেখে জুটিগুলোর কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁরা তিনটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই পাঁচজন সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদীচীর ধারে নদীর পাড়ে যান। সেখানে তাঁদের তিনজন থেকে যান এবং আরিফুল ও নূর মোহাম্মদ নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে বৈশাখী চত্বরের দিকে যান। ওই দুজনকে নিরাপত্তাকর্মীরা আটক করেন। খবর পেয়ে প্রক্টর আবু হাদী নুর আলী খান সেখানে গিয়ে ওই দুজনকে মারধর করেন এবং তাঁদের নিজ গাড়িতে করে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করেন।
প্রশাসন সূত্র জানায়, নূর মোহাম্মদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল ও আরিফুল ফজুলল হক হলের আবাসিক ছাত্র। প্রক্টর আবু হাদী অভিযোগ করেন, এ দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করার জের ধরে রোববার রাত ১০টার দিকে ছাত্রলীগের একাংশ তাঁর ক্যাম্পাসের ডি/৩ বাসার সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ফুলের টব ভাঙচুর করে ও গেটে লাথি মারে।
শিক্ষকদের সূত্র জানায়, রাতের ওই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের গ্যালারিতে জরুরি সভা হয়। সভা শেষে বেলা একটার দিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে এবং এর সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মৌন মিছিল বের হয়। ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড়ে ছাত্রলীগের একাংশের কর্মী-সমর্থকেরা মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের লক্ষ্য করে কটূক্তি করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক ধাওয়া করে চার শিক্ষার্থী নূরে আলম, আহসান হাবিব, রাসেল আহমেদ ও ওয়ালীউল্লাহকে ধরে ফেলেন। শিক্ষকেরা ওই চারজনকে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেন।
সূত্র জানায়, ওই চারজনকে আটক করা নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ইমন ও জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মীদের বাগিবতণ্ডা হয়। তাঁরা ওই চারজনকে পুলিশে সোপর্দ না করার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতাহাতি শুরু হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে মারধর করা হয়। এ সময় প্রক্টর কার্যালয়, ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টার কার্যালয়, টিএসসি, প্রশাসন ভবন, কৃষি অনুষদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া একটি ছাত্রাবাস ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ব্যবহূত কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগও করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। শিক্ষকেরা সেখান থেকে সরে গিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আশ্রয় নেন। ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা রামদা, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষকদের ধাওয়া করেন এবং ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। ইটের আঘাতে পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুবাস চন্দ্র দাস গুরুতর আহত হন। তিনি রাত নয়টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে অচেতন অবস্থায় ছিলেন।
ছাত্রলীগের ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক, প্রক্টরসহ চার শিক্ষক ও কর্মকর্তা এবং ছাত্র মিলিয়ে আরও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। হামলার ছবি তুলতে গেলে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন ছাত্রলীগ কর্মীরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমিতি জরুরি বৈঠক করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা না নেওয়ার তা ৎ ক্ষণিক ঘোষণা দেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শিক্ষকেরা বিকেল চারটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে যান।
বিকেল চারটার দিকে উপাচার্য প্রক্টরিয়াল বডি, ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। তবে শিক্ষক সমিতির সঙ্গে উপাচার্য বৈঠক করেননি।
এ সময় ছাত্রলীগ আটক চারজনের মুক্তির দাবিতে সহস্রাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। বিকেল পাঁচটার দিকে উপাচার্য ছাত্রলীগের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছাত্রলীগের নেতা ও শিক্ষকদের সূত্র জানায়, বৈঠকে ছাত্রলীগ গতকাল আটক হওয়া চার কর্মীর মুক্তি এবং ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রক্টরের পদত্যাগ, ছাত্রলীগের কর্মীদের আটকের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দাবি অনুযায়ী সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপাচার্যের নির্দেশে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তাফিজুর রহমান কোতোয়ালি থানা থেকে ওই চারজনকে ছাড়িয়ে আনেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামছুদ্দিন আল আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ইমন এ বিষয়ে বলেন, ‘ছাত্রলীগ এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। কোনো প্রকার তদন্ত কমিটি ছাড়া শিক্ষকদের ছাত্র প্রহার ও ধরপাকড়ের ঘটনা পুরোপুরি অন্যায়। কাজেই সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আমরা ওই ছাত্রদের মুক্তি দাবি করেছি। এ ঘটনায় আমরা প্রক্টরসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবার ও জড়িত শিক্ষকদের পদত্যাগ দাবি করেছি।’
প্রক্টর আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। তাঁর পদত্যাগ দাবির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘দুঃখের কথা আর কী বলব! ছাত্রদের হাতে আজকের আমার এই গণপিটুনির কথা কোনো দিন ভুলব না।’ তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. সামছুল আলম জানান, প্রক্টরের বাসায় হামলার প্রতিবাদে ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে দুপুর থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আবার বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে উপাচার্য এম এ সাত্তার মণ্ডলের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘রোববার ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল চার ছাত্রকে শিক্ষকেরা দুপুরে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, ইফতারের সময় শিক্ষকেরাই আবার তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন।’ তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত চার প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রথম আলো

Sunday, July 24, 2011

 মন্টুর ফাঁসি

হুমায়ূন আহমেদ

আমার জীবনের প্রথম উপন্যাসটির নাম নন্দিত নরকে। সেই উপন্যাসের একটি চরিত্র মন্টু তার বোন রাবেয়ার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে একটি খুন করে। জজ সাহেব তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অসহায় পরিবারটির কিছুই করার থাকে না। তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আশায় বুক বাঁধে। রাষ্ট্রপতি ক্ষমাভিক্ষা দেন না। মন্টুর ফাঁসি হয়ে যায়।
উপন্যাসের রাষ্ট্রপতি নির্মম, কিন্তু বাস্তবের রাষ্ট্রপতিরা মমতা ও করুণায় আর্দ্র। তাঁরা ভয়াবহ খুনিকে ক্ষমা করে দেন। শুধু ফাঁসির হাত থেকে বাঁচা না, মুক্তি। এখন গলায় ফুলের মালা ঝুলিয়ে ট্রাক মিছিল করে বাড়ি ফিরতেও বাধা নেই।
নিহত ব্যক্তির স্ত্রী রাষ্ট্রের কাছে দুটি প্রশ্ন করেছেন:
১. প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁর পিতার হত্যার বিচার চাইতে পারেন, আমার পিতৃহারা সন্তানেরা কেন বিচার চাইতে পারবে না?
২. রাষ্ট্রপতির স্ত্রী আইভি রহমানের হত্যাকারীদের যদি ফাঁসির আদেশ হয়, তিনি কি তাদের ক্ষমা করবেন?
নিহতের বিধবা স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মতোই স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর অবশ্যই রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার অধিকার আছে।
আমিও এই দুই প্রশ্নের উত্তর শোনার জন্য অপেক্ষা করছি। প্রশ্নের উত্তর শোনার পরপরই নন্দিত নরকে উপন্যাসটি নতুন করে লিখব। প্রথম আলো

Wednesday, July 13, 2011

ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাসহ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ছিনতাই হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। 
গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকা থেকে ৯০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাবুল আহমেদ ও তাঁর সহযোগী আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১২টি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র‌্যাব-১-এর মেজর মোসতাক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাবুল অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের হোতা। নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা বাবুল তাঁর কাছে রেখে বিক্রি করে আসছিলেন। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাবুল ও রহমানকে শ্যামপুর থানায় সোপর্দ করেছে র‌্যাব। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
র‌্যাব সূত্র জানায়, র‌্যাব-১-এর একটি দল পোস্তগোলার ডায়না সিনেমা হলের সামনে থেকে ছিনতাই হওয়া দুটি অটোরিকশাসহ আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। রহমান ওই অটোরিকশা দুটি ছিনতাই করে তা অন্যজনের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে রহমান র‌্যাবকে জানান, ছিনতাই হওয়া আরও ১০টি অটোরিকশা বাবুলের কাছে আছে। এরপর র‌্যাব রহমানকে সঙ্গে নিয়ে পোস্তগোলা কটন মিলের ভেতর থেকে আরও ১০টি অটোরিকশা উদ্ধার করে এবং বাবুলকে গ্রেপ্তার করে।
র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, কিছুদিন ধরে র‌্যাব-১-এর কাছে বেশ কিছু অটোরিকশা ছিনতাইয়ের লিখিত অভিযোগ আসে। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অভিযান চালানো হয়। 
শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ৯০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা বাবুল দীর্ঘদিন ধরে পোস্তগোলা অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় পোস্তগোলা এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাই হচ্ছে।

দখল-পুনর্দখলের খেলা

ছিল নদীর তীর, দখলের মাধ্যমে হলো ব্যক্তিগত সম্পত্তি, দখল উচ্ছেদের পর জায়গাটি এখন সরকারের হাতে। রাজধানীর শ্যামপুরের কদমতলী এলাকায় এ রকম উদ্ধার করা সাত একর জমি শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে চলছে টানাটানি। কেউ গুদাম করতে চায়, কেউ চায় ডকইয়ার্ড বানাতে, কারও ইচ্ছা শিল্প স্থাপন; অথচ এঁরা কেউ মালিক নন। নদীর কথা কেউ ভাবছে কি? ঢাকা শহরের অন্যতম ঘিঞ্জি একটি এলাকায় একটু সবুজ উদ্যান ও মাঠের জায়গা দেওয়ার কথা ভাবছে কি কেউ?
জায়গাটি এখন অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এখতিয়ারে। নদীবিষয়ক টাস্কফোর্সের পরামর্শ, সেখানে একটি উদ্যান সৃষ্টি করা হোক। কিন্তু সাবেক ও হবু দখলদারেরা বসে নেই, তারা মন্ত্রী-সাংসদদের মাধ্যমে জায়গাটি হাত করতে ব্যস্ত। সম্প্রতি প্রথম আলোয় এ-বিষয়ক প্রতিবেদনে পার্ক বনাম বাণিজ্যিক দখলের প্রতিযোগিতার খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।
দখল হওয়া জায়গা আবার বেদখলে যাওয়ার অজস্র নজির রয়েছে। বুড়িগঙ্গার তীরের একাধিক স্থানে অবৈধ দখল উচ্ছেদের পরও একাধিকবার দখলের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের মদদ ছাড়া এগুলো যেমন চলতে পারত না, তেমনি বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে যোগসাজশ ছাড়াও লোক দেখানো দখলের পর পুনর্দখলের আয়োজন সম্পন্ন হতে পারত না। নদী বাঁচাতে তাই সরষের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা ভূতগুলো চিহ্নিত করা দরকার। বিআইডব্লিউটিএ যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উদ্ধার করা জমিতে পার্ক করার চিন্তা করছে, সেটি সমর্থনীয়। বাড়ি আর সড়কে ভরা এই শহরে সবুজ চত্বর ও খেলার মাঠ অনেক কম। তা ছাড়া নদীতীরে বেড়ানোর সুযোগও অপ্রতুল। এসব বিষয় বিবেচনা করে ওই সাত একর জমিতে কোনোভাবেই যাতে নতুন দখল বা বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আবার পার্ক নির্মাণ করে তাকে আবার ইজারা দেওয়াও বাঞ্ছিত নয়। 
ঢাকার চারপাশের প্রধান প্রধান চারটি নদীর বেলায়ই এ রকমটা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময় নদীর অপদখলীয় এলাকা উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঢাকার চার নদী রক্ষা এবং দূষণ বন্ধে আছে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা। সে সব আদেশ-নির্দেশ কতটা পালিত হয়েছে, তা-ও খতিয়ে দেখা দরকার। দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা জমি যাতে আবার দখল না হয়, সেই নিশ্চয়তা বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।

বিএনপির শোকসভায় হাতাহাতি মারামারি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩ ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল বুধবার শোকসভার আয়োজন করেছিল উত্তর জেলা বিএনপি। মিরসরাইয়ের ‘প্রফেসর কামাল উদ্দিন’ কলেজে দুপুরে আয়োজিত শোকসভায় ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি হয়েছে।
শোকসভার মাঝপথে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন মাইকে ঘোষণা দেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।’ ঠিক এমন সময় হাতাহাতি, মারামারি শুরু হয়।
শোকসভায় অনুদান নিতে এসেছিলেন নিহত ছাত্রদের বাবা-মা এবং স্বজনেরা। কিন্তু অনুদান নেওয়ার আগে এ অবস্থা দেখে অনেকে ভয়ে মিলনায়তন ছেড়ে চলে যান। অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় অনুষ্ঠান শেষ না করেই অতিথিরা চলে যান। তাঁদের নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। এভাবেই শেষ হয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির শোকসভা।
অনুদান নিতে শোকসভায় গিয়েছিলেন নিহত ছাত্র টিটু দাসের মা অর্চনা জলদাস। তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনুদান দেওয়ার ঘোষণার সময় মারামারি শুরু হয়। এ কারণে জীবন বাঁচাতে দৌড়ে চলে আসি।’ 
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহতদের স্মরণে গতকাল দুপুরে স্থানীয় আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসভার আয়োজন করা হয়। একই সময় কয়েক শ গজ দূরে প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজে শোকসভার আয়োজন করে উত্তর জেলা বিএনপি। 
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে শোকসভায় দলের উত্তর জেলা সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উত্তর জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরওয়ার উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহেদুল আবছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
অনুষ্ঠানের শুরু হওয়ার পরপরই শ্রেণীকক্ষে বসা নিয়ে ছাত্রদলের দুজন কর্মীর মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। এরপর বিষয়টি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের অনুসারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। শোকসভায় উত্তেজনা বাড়তে দেখে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু ছাত্রদলের দুই পক্ষে হাতাহাতির কারণে সভা পণ্ড হয়ে যায়।
জানতে চাইলে কামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আমরা অনুদান দিতে এই সভার আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু ছাত্রদের হইচইয়ের কারণে অনুদান দিতে পারিনি। তবে অনুদান কাল বিতরণ করা হবে।’ তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা এসে এ ঝামেলা করেছে।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহেদুল আবছার প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদলের দুজন কর্মীর মধ্যে ধাক্কাধাক্কির কারণে এ ঘটনা ঘটে। তবে এই ধাক্কাধাক্কির সুযোগ নিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেরা শেষে ঝামেলা করেছিল। হাতাহাতির সময় উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী সানা উল্লাহ, সায়েদুল ইসলাম এবং সরওয়ার হোসেন সামান্য আহত হন। 
যোগাযোগ করা হলে উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরওয়ার বলেন, কক্ষে ঢোকা নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে এ বাগিবতণ্ডা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে ছাত্রলীগের ছেলেরা ঝামেলা করেছে। 
কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আবছার বলেন, ‘এটা বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমস্যা। এটা অরাজনৈতিক কলেজ। তবে এ ঘটনার আগে আমাদের ছেলেরা শোকযাত্রা করেছে।’
মায়ানি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান কবির নিজামী দাবি করেন, ‘আমি এ ব্যাপারে নিজেই খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, বিষয়টি তাদের অন্তর্কোন্দল। তবে বিষয়টি দুঃখজনক।’ 
প্রধানমন্ত্রী কাল, বিরোধীদলীয় নেতা আজ যাচ্ছেন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাল শুক্রবার মিরসরাইয়ে আসছেন। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ বৃহস্পতিবার মিরসরাইয়ে আসছেন। সেখানে তিনি নিহতদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। পরে আহতদের দেখতে যাবেন। এ ছাড়া তিনি আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শোকসভায় অংশ নেবেন। তাঁর সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা থাকবেন। ইতিমধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মিরসরাইয়ে এসেছেন।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More