Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Sunday, July 24, 2011

 তাহেরের পক্ষে লক্ষ্মীপুরে মহড়া

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহেরের লোকজন গতকাল লক্ষ্মীপুর শহরে ম লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহেরের লোকজন গতকাল লক্ষ্মীপুর শহরে মিছিল বের করে
ছবি: প্রথম আলো
আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহেরের লোকজন গতকাল রোববার লক্ষ্মীপুর শহরে শক্তির মহড়া দিয়েছে। দুপুরের পর থেকে তারা পুরো শহর দাপিয়ে বেড়ায়।
মহড়া শুরুর আগে আবু তাহের পৌরসভায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে সম্প্রতি তাঁর ছেলের ফাঁসির দণ্ড মওকুফের ব্যাপারে বক্তব্য তুলে ধরেন। তাহের বলেন, হত্যা মামলায় তাঁর ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবকে সাজা দেওয়ার ঘটনা দেশের বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে।
গতকাল দুপুরে হঠা ৎ করেই পাল্টে যায় লক্ষ্মীপুর শহরের চিত্র। বেলা আড়াইটা থেকে দলে দলে যুবকেরা রাস্তায় নেমে আসে। তারা মাইকে করে তাহেরের ছেলে বিপ্লবের গুণগান ও স্লোগান দিতে থাকে। কেউ কেউ গানের সুরে সুরে বিপ্লবের মুক্তির দাবি জানায়। এসব মিছিলে শহরের অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকেও দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত মিছিলের নামে মূলত শক্তির মহড়া দেয় তাহেরের লোকেরা। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শহরের উত্তর তেমুহানী এলাকায় দেখা যায়, বেলা তিনটার দিকে পুলিশের খাতায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী নূর হোসেন শামীমের নেতৃত্বে মিছিল চলছে। শামীম ২০ দিন আগে জামিনে মুক্তি পান। তাঁর নেতৃত্বে লোকজন তাহেরের ছেলে বিপ্লবের নাম করে মিছিল করছে।
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে যুবকেরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিকেল পাঁচটার মধ্যে শহরের পৌর চত্বরে জমায়েত হয়। পরে তারা একটি বড় মিছিল বের করে। এ সময় তাহের পৌর ভবনের ওপরে দাঁড়িয়ে তা প্রত্যক্ষ করেন। পুলিশি পাহারায় বড় মিছিলটি পৌরসভা থেকে বের হয়ে শহর ঘুরে আবার পৌর ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
বড় মিছিলটির নেতৃত্ব দেন তাহেরের আরেক ছেলে এ কে এম সালাউদ্দিন টিপু। টিপুও বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামি। তিনি পরে উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান।
স্থানীয় লোকজন, আওয়ামী লীগের ও তাহেরের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি বিপ্লবের দণ্ড মওকুফ নিয়ে জাতীয় দৈনিকগুলোতে লেখালেখির কারণে তাহের চাপের মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় তিনি পরিস্থিতি অনুকূলে রাখা ও অবস্থান ধরে রাখতে শক্তি প্রদর্শনের এ উদ্যোগ নেন। এ জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের এনে জড়ো করা হয়। এই মহড়া ও মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানায়।
বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের সময় (১৯৯৬-২০০০) তাহেরের পরিবারের সদস্যদের নানা ত ৎ পরতায় লক্ষ্মীপুর সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়। তখন তাহের সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০০ সালে বিএনপির নেতা ও আইনজীবী নুরুল ইসলামকে অপহরণের পর তাঁকে কেটে টুকরো টুকরো করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ মামলায় তাহেরের ছেলে বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। কিন্তু সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি এই মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করেন। নুরুল ইসলাম হত্যা মামলা ছাড়াও বিপ্লব আরও চারটি হত্যা মামলার আসামি। এর মধ্যে দুটিতে তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর কারাগারে আছেন।
তাহেরের সংবাদ সম্মেলন: শক্তির মহড়া শুরুর আগে গতকাল দুপুরে হঠা ৎ নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে পাঠান মেয়র আবু তাহের। তিনি তা ৎ ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করার কথা বলেন। এরপর তিনি একটি লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের হাতে ধরিয়ে দেন। উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান, তাঁরা কেউ কোনো প্রশ্ন করেননি।
লিখিত বক্তব্যে তাহের বলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে বিএনপি সরকারের আমলে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর ব্যারিস্টার মওদুদের প্রহসনমূলক বিচারে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়, যা সার্বিক বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে।
তাহের দাবি করেন, ‘আমার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে আমার দলের কিছু লোক ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। ফলে অনেকটা হঠা ৎ করেই নুরুল ইসলাম অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে আমি ও আমার বড় ছেলে বিপ্লব, মেজো ছেলে টিপু এবং আমার স্ত্রীকে জড়িত করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়। লক্ষ্মীপুরের আরও কয়েকটি হত্যাসহ সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে আমার পরিবারের সবাইকে জড়িত করা হয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, একটি চক্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় উন্মাদ হয়ে দেশের পত্রপত্রিকাকে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। তারা অনেক অর্থ খরচ করে এসব করাচ্ছে। প্রতিনিয়ত সাংবাদিকেরা কাল্পনিক কাহিনি প্রচার করছেন। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের মানুষ তা গ্রহণ করেনি।প্রথম আলো

 মন্টুর ফাঁসি

হুমায়ূন আহমেদ

আমার জীবনের প্রথম উপন্যাসটির নাম নন্দিত নরকে। সেই উপন্যাসের একটি চরিত্র মন্টু তার বোন রাবেয়ার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে একটি খুন করে। জজ সাহেব তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অসহায় পরিবারটির কিছুই করার থাকে না। তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আশায় বুক বাঁধে। রাষ্ট্রপতি ক্ষমাভিক্ষা দেন না। মন্টুর ফাঁসি হয়ে যায়।
উপন্যাসের রাষ্ট্রপতি নির্মম, কিন্তু বাস্তবের রাষ্ট্রপতিরা মমতা ও করুণায় আর্দ্র। তাঁরা ভয়াবহ খুনিকে ক্ষমা করে দেন। শুধু ফাঁসির হাত থেকে বাঁচা না, মুক্তি। এখন গলায় ফুলের মালা ঝুলিয়ে ট্রাক মিছিল করে বাড়ি ফিরতেও বাধা নেই।
নিহত ব্যক্তির স্ত্রী রাষ্ট্রের কাছে দুটি প্রশ্ন করেছেন:
১. প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁর পিতার হত্যার বিচার চাইতে পারেন, আমার পিতৃহারা সন্তানেরা কেন বিচার চাইতে পারবে না?
২. রাষ্ট্রপতির স্ত্রী আইভি রহমানের হত্যাকারীদের যদি ফাঁসির আদেশ হয়, তিনি কি তাদের ক্ষমা করবেন?
নিহতের বিধবা স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মতোই স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর অবশ্যই রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার অধিকার আছে।
আমিও এই দুই প্রশ্নের উত্তর শোনার জন্য অপেক্ষা করছি। প্রশ্নের উত্তর শোনার পরপরই নন্দিত নরকে উপন্যাসটি নতুন করে লিখব। প্রথম আলো

আমিনীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

ফজলুল হক আমিনী ফজলুল হক আমিনী
ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর বিরুদ্ধে আজ রোববার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। সংবিধান ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলার কথা বলায় তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলাটি করেন আইনজীবী নজরুল ইসলাম সর্দার।
মামলায় আমিনীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়। মহানগর হাকিম মোসাম্মত রোকসানা বেগম হ্যাপীর আদালতে শুনানি হয়। তবে আদালত কোনো আদেশ দেননি।
শুনানিতে বাদীর আইনজীবীরা বলেন, ১৪ জুলাই লালবাগ থানাধীন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় মুফতি আমিনী সংবিধান নিয়ে কটূক্তি করে বলেন, ‘শুধু ছুড়ে নয়, এই সংবিধান ডাস্টবিনে ফেলা হবে।’ পরের দিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হয়। এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। তাই মামলাটি করা হয়েছে।
শুনানিতে বাদী নজরুল ইসলাম সর্দারের পক্ষে অংশ নেন কাজী নজিব উল্লাহ, শেখ হেমায়েত হোসেন, জায়েদ হোসেন সর্দার প্রমুখ।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে আদেশ দেওয়ার কথা বলেন।প্রথম আলো

বাধ্য হয়েই জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য আবেদন করছি

মাহমুদ আব্বাস মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা বাধ্য হয়েই জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে যাচ্ছে। অধিকৃত এলাকায় বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান ইসরায়েল বারবার প্রত্যাখ্যান করায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
গতকাল শনিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে মাহমুদ আব্বাস এ কথা বলেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য সাধারণ পরিষদে আবেদন জানাবে ফিলিস্তিন। বিষয়টির প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে কূটনীতিকদের সঙ্গে এ বৈঠকে বসেন আব্বাস। সেখানে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তাইয়িপ এরদোগানও উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘে যাওয়ার ব্যাপারে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি একতরফা নয়, বরং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিষয়টিই একতরফা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এএফপিকে বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনের প্রস্তুতি আগামী ৪ আগস্ট চূড়ান্ত করা হবে। ওই দিন দোহায় আরব মনিটরিং কমিটির সভা হবে। কাতার, মিসর ও সৌদি আরব ওই সভায় যোগ দেবে। ওই কূটনীতিক আরও বলেন, এরপর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ওয়াশিংটনের উদ্যোগে গত সেপ্টেম্বরে আবার শুরু হয়। কিছুদিন পর তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে মাহমুদ আব্বাস বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অধিকৃত এলাকায় বসতি স্থাপন বন্ধ করতে রাজি হয়নি। ১৯৬৭ সালের সীমানা প্রশ্নে সমঝোতা আলোচনায় বসতেও তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ জন্যই তাঁর সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় বসা সম্ভব হয়নি।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সমঝোতায় পৌঁছানো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের মতো আমরাও সাধারণ পরিষদের, জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি।’
আব্বাস বলেন, ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি দখলদারির শিকার হয়। এখনো তা থেকে মুক্ত হয়নি ফিলিস্তিন।
আব্বাস বলেন, ‘এর মধ্যে ১১৮টি দেশ ১৯৬৭ সালের ওই যুদ্ধের আগের সীমানা অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। আশা করি, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ সংখ্যা ১৩০ হবে।’ এএফপি।

 জোড়া হামলায় রক্তাক্ত নরওয়ে, নিহত ৯২

 প্রতিবছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারটি আসে নরওয়ে থেকে। বিশ্বজুড়ে হানাহানির এই সময়ে শান্তির দেশই ছিল নরডিক এ দেশটি। কিন্তু গত শুক্রবার জোড়া সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত হলো দেশটির মাটি। রাজধানী অসলোতে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে সাতজন। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ কয়েকটি সরকারি ভবন। এর কিছুক্ষণ পর রাজধানীর দক্ষিণে একটি দ্বীপে দেশের ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের সম্মেলনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছে ৮৫ জন। এই বন্দুকধারীই অসলোতে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ। খবর এএফপি, রয়টার্স, বিবিসির।
অসলোতে বোমা: অসলোতে বিস্ফোরণ ঘটে স্থানীয় সময় বেলা তিনটার দিকে। শহরের মধ্যাঞ্চলে প্রচণ্ড শব্দে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়, তেল মন্ত্রণালয় ও দেশের প্রধান ট্যাবলয়েড পত্রিকা ভিজের প্রধান কার্যালয় ওই এলাকায় অবস্থিত। বিস্ফোরণের সময় প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গ নিজের কার্যালয়ে ছিলেন না।
স্টেট সেক্রেটারি ক্রিস্টিন অ্যামুন্ডসেন বলেন, শুক্রবার ছিল সরকারি ছুটির দিন। কাজেই অন্য দিনের মতো ভবনগুলোতে সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন না। তার পরও ওই ভবনগুলোতে প্রতিদিন শত শত মানুষ থাকে।
বিস্ফোরণে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ১৭ তলা ভবনসহ পাশের বহুতল সরকারি ভবনগুলোর জানালার কাচসহ কাঠামো ভেঙেচুরে রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। কোনো কোনো ভবনের নিচের তলাও বিধ্বস্ত হয়। বিস্ফোরণে ভিজের প্রধান কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এটি গাড়িবোমা হামলা ছিল বলে তাদের মনে হয়েছে, তবে তারা নিশ্চিত নয়। গতকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষ ওই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।
ন্যাটোর সদস্য দেশ নরওয়েতে এর আগে কখনো এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে আফগান যুদ্ধে জড়িত হওয়ার পর থেকে কখনো কখনো আল-কায়েদার হুমকির মুখে পড়েছে দেশটি।
বন্দুকধারীর গুলি: রাজধানী থেকে মাত্র ১৭ মাইল দক্ষিণের ছোট্ট দ্বীপ উটোয়া। পাইন বনে ঢাকা দ্বীপটি লম্বায় মাত্র আধা কিলোমিটারের মতো। শুক্রবার দেশের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির যুব সংগঠনের গ্রীষ্মকালীন সম্মেলন হচ্ছিল সেখানে। সারা দেশ থেকে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন সংগঠনের এক হাজারের মতো নেতা-কর্মী ও সমর্থক। তাঁদের বেশির ভাগই তরুণ। প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গের গতকাল শনিবার ওই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
শুক্রবার বিকেলে অসলোতে বিস্ফোরণের ঘণ্টা দুয়েক পর উটোয়ায় হামলা চালায় একজন বন্দুকধারী। পুলিশবেশী ওই হামলাকারী নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীর কাছে একটি হাতবন্দুক, একটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও একটি শটগান ছিল।
এনআরকে টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক বলেন, পুলিশের পোশাক পরা ওই বন্দুকধারী ফেরিতে করে মূল ভূখণ্ড থেকে দ্বীপটিতে পৌঁছায়। সে জানায়, অসলোতে বিস্ফোরণের কারণে সে তল্লাশি করতে সেখানে এসেছে। এরপর সে লোকজনকে এক জায়গায় জড়ো হতে বলে। লোকজন জড়ো হওয়ার পরই সে গুলি চালাতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দুকধারী ওই লোক বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে থাকে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া অনেকে তখন প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
উটোয়া থেকে মাত্র কয়েক শ মিটার দূরে অবস্থিত টেরিফোর্ড এলাকা। সেখানকার বাসিন্দা এনিটা লেইন বলেন, ‘দেখলাম, মানুষ দল বেঁধে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ৫০ জনের মতো সাঁতরে তীরে ওঠে। এরপর সবাই কান্নায় ভেঙে পড়ে। সবার চোখে-মুখে রাজ্যের আতঙ্ক। এদের বেশির ভাগের বয়স ১৪ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।’
বন্দুকধারীর ওই নারকীয় তাণ্ডব থেকে বেঁচে গেছেন জর্গান বেনোনি। তিনি বলেন, ‘দেখলাম, টা...টা...টা...শব্দে একটার পর একটা ঝড়ের মতো গুলি হচ্ছে। পাখির মতো পড়ে যাচ্ছে মানুষ। আমিও সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়লাম। নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করলাম কয়েকটি পাথরের আড়ালে। সেখান থেকেই একনজর দেখলাম হামলাকারীকে, মাত্র ২০-৩০ মিটার দূরে।’
বেনোনি আরও বলেন, ‘একটু দূরে তীরে দেখলাম, কয়েকটি নৌকা ভেড়ানো আছে; কিন্তু আমি সাহস পেলাম না ওই নৌকায় উঠতে। পরে ঝাঁপিয়ে পড়লাম পানিতে।’
হানা নামের ১৬ বছরের এক কিশোর যোগ দিয়েছিল ওই সম্মেলনে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সে বলে, ‘একটু আগে অসলোর বিস্ফোরণের খবরটি আমরা জানতে পারি। এক পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকজন মিলে তা নিয়ে কথা বলছিলাম। দেখলাম, একটু দূরেই দাঁড়িয়ে আছে এক পুলিশ। হঠাৎ করে ওই পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করল। যে যেভাবে পারল দৌড় দিল সৈকতের দিকে। পানিতে পড়ে সাঁতরাতে শুরু করলাম।’
এভাবে চলতে থাকে গুলির বৃষ্টি আর প্রাণভয়ে মানুষের ছোটাছুটি। কেউ ঝাঁপিয়ে পড়ে পানিতে, কেউ নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করে ঝোপ-জঙ্গলের মধ্যে। অবশেষে জীবিত অবস্থায় আটক করা হয় বন্দুকধারীকে।
থেমে যায় তাণ্ডব। ততক্ষণে রক্তে লাল হয়ে গেছে ছোট্ট সুন্দর সবুজ দ্বীপটি। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৮৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করে পুলিশ।
কে এই হামলাকারী: দীর্ঘ হত্যাযজ্ঞের পর ঘটনাস্থল থেকেই বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নাম অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক। বয়স ৩২ বছর। বেশ লম্বা গড়নের এই যুবক নরওয়েরই নাগরিক। ডানপন্থী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তা ছাড়া তিনি ইন্টারনেটেও ডানপন্থী ও মুসলিমবিরোধী মত প্রকাশ করেছিলেন।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বন্দুকধারীকে ঘটনাস্থলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে অসলোতে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা অদ্ভুত ব্যাপার যে বন্দুকধারী আত্মহত্যা করেনি। এ ধরনের ঘটনায় হামলাকারী সাধারণত আত্মহত্যা করে থাকে।’
অপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে বেশি কিছু তথ্য নেই। তাঁর নিজের ওয়েবসাইট ঘেঁটে মনে হচ্ছে, তিনি ডানপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, সেটা সম্ভবত ক্রিশ্চিয়ান চরম পন্থা।’
সে দেশের বার্তা সংস্থা এটিবি জানায়, ব্রেইভিক একটি বৈধ অস্ত্রের মালিক। তাঁর একটি সবজির খামার আছে। এ খামারের জন্য তিনি বিপুল পরিমাণ সার রাখতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, বোমা ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত এবং বোমার উপাদান হিসেবে তিনি সার ব্যবহার করেছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ছোটখাটো কিছু অপরাধ ছাড়া ওই বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের তথ্য নেই।
নরওয়ের গণমাধ্যম জানায়, ব্রেইভিকের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট আছে। তিনি সেখানে একটিমাত্র বার্তা পোস্ট করেছেন, তাও মাত্র কয়েক দিন আগে। ওই টুইটে তিনি লেখেন, ‘কোনো একটি মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষের শক্তি এক লাখ মানুষের সমান।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য: গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘একটি স্বর্গীয় দ্বীপ নরকে পরিণত হয়েছে।’ এ হামলার কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তবে তিনি বলেন, ‘আমি বলব, অন্য দেশের মতো আমাদের দেশে চরম পন্থা কোনো বড় সমস্যা নয়, তবে কিছু সংগঠন আছে। তাদের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে এবং আমাদের পুলিশও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমাদের দেশে এ ধরনের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা কখনো ঘটেনি। এটা আমাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো।’
বিশ্বজুড়ে নিন্দা: অসলোতে বিস্ফোরণ এবং উটোয়া দ্বীপের বন্দুকধারীর গুলির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো এবং রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ।
শেখ হাসিনার নিন্দা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এক বার্তায় বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো সীমান্ত নেই। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।’ নরওয়ের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি নিহত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।প্রথম আলো

Friday, July 15, 2011

বিদ্রোহীরা দখল নিলে ত্রিপোলি উড়িয়ে দেবেন গাদ্দাফি

মুয়াম্মার গাদ্দাফি
মুয়াম্মার গাদ্দাফি
লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ‘আত্মঘাতী পরিকল্পনা’ নিয়েছেন। বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে নিলে তিনি এ শহর উড়িয়ে দেবেন। লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূতের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার একটি সংবাদপত্রে এ খবর প্রকাশিত হয়।
সমঝোতার মাধ্যমে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া ও বিদ্রোহীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আলোচনায় বসছেন।
লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূত মিখাইল মারগেলভ রাশিয়ার ইজভেস্তিয়া পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার ধারণা, গাদ্দাফি সরকারের আত্মঘাতী পরিকল্পনা রয়েছে। এখনো তাদের হাতে প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রয়েছে।’ তিনি বলেন, গাদ্দাফির সেনারা এখনো ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেনি। তাদের ট্যাংকের জন্য রাখা গোলা ও রাইফেলের গুলি ফুরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকের প্রচুর মজুদ রয়েছে।
গত ১৬ জুন ত্রিপোলিতে লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাগদাদি আল মাহমুদির সঙ্গে বৈঠক করেন মারগেলভ। তবে তিনি গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
আজ ইস্তাম্বুলে লিবিয়ার বিষয়ে আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপ্পে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কো ফ্রাত্তিনি অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এতে সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন ও আরব লিগের প্রধান নাবিল আল আরবিরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এই আলোচনায় অংশ নিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাশিয়া ও চীনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
তুরস্কের একজন কূটনীতিক জানান, ইস্তাম্বুলের আলোচনায় লিবিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত আবদুল ইলাহ সম্প্রতি তাঁর ত্রিপোলি ও বেনগাজি সফরের বিষয় তুলে ধরবেন। এ ছাড়া মুসলমানদের জন্য আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে লিবিয়ায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো ও বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের গঠিত অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের (টিএনসি) জ্যেষ্ঠ সদস্য মাহমুদ জিবরিল ইস্তাম্বুলের আলোচনায় যোগ দেবেন। তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেবেন।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাউরিজিও মাসারি বলেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়া পরিস্থিতির রাজনৈতিক সমাধানের পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে।
গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপ্পে বলেন, ‘আমরা লিবিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাঁরা আমাদের বলেছেন, গাদ্দাফি ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হোক।’ এএফপি।

জাতিসংঘের সদস্য পদ পেল দক্ষিণ সুদান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গতকাল বৃহস্পতিবার আফ্রিকার সদ্য স্বাধীন দেশ দক্ষিণ সুদানকে সংস্থাটির ১৯৩তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ কথা জানানো হয়েছে। 
প্রায় দুই দশকের সংঘাতের পর ৯ জুলাই স্বাধীন দেশ হিসেবে দক্ষিণ সুদান পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। 
উত্তর ও দক্ষিণ সুদানের দীর্ঘ সংঘাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার প্রশ্নে গত জানুয়ারিতে দেশটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে দক্ষিণ সুুুদানের জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে মত দেয়।
দক্ষিণ সুদানকে জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে গতকাল সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি হয়। জাতিসংঘের ১৯৩তম সদস্য হিসেবে সর্বসম্মতভাবে দক্ষিণ সুদান স্বীকৃতি পাওয়ার সাধারণ পরিষদে হর্ষধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। 
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘স্বাগত দক্ষিণ সুদান। জাতিসংঘে স্বাগত।’ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জেসেফ দাইস তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটা একটা ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন মুহূর্ত।’
সদস্য পদ প্রাপ্তির পরপর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে দক্ষিণ সুদানের পতাকা ওড়ানো হয়।
এর আগে গত বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে সর্বসম্মতভাবে দক্ষিণ সুদানকে সংস্থাটির সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More