Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Monday, June 20, 2011

তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের সুপারিশ অনুমোদন



তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান বিলুপ্ত করার সুপারিশ-সংবলিত প্রতিবেদনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি এই প্রতিবেদন তৈরি করেছিল।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, বিশেষ কমিটির সুপারিশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।
বৈঠকে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ এবং সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ রাখা নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার আপত্তি করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখা না-রাখার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বিশেষ কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির যে সুপারিশ করেছে, মন্ত্রিসভা তা বিনা বাক্যে অনুমোদন দেয়।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকেই বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছে। সেই সুপারিশ মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিষয়ক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে সম্প্রতি রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সংবিধান সংশোধনবিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বাতিলের সুপারিশ করেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ ৫১টি সুপারিশ-সংবলিত প্রতিবেদন ৮ জুন সংসদে উপস্থাপন করে বিশেষ কমিটি। বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি রাখার বিষয়ে আপত্তি জানান কমিটির দুই সদস্য রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু। স্পিকার প্রতিবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। আইন মন্ত্রণালয় গতকাল তা মন্ত্রিসভায় পেশ করে।
বৈঠক সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিবেদনের প্রতিটি সুপারিশ আইনমন্ত্রী পড়ে শোনান। অন্য কোনো সুপারিশ নিয়ে আপত্তি না উঠলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম রাখা নিয়ে আপত্তি তোলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আপত্তি গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই এ সুপারিশ করা হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এ বিষয়ে জোরালো আপত্তি করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এইচ এম এরশাদের আমলে। তখন তো আপনি মন্ত্রী ছিলেন। আপত্তি করেননি কেন?’
বিশেষ কমিটি ২৭টি বৈঠক করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। এর আগে পাঁচজন সাবেক প্রধান বিচারপতি, মূল সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণপরিষদ সদস্যসহ আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও সেক্টর কমান্ডারদের মতামত নেয় বিশেষ কমিটি। তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কমিটিতে যায়নি, মতামতও দেয়নি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিশেষ কমিটির সদস্য রাশেদ খান মেনন প্রথম আলোকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটা রাখার কোনো সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় আগামী দুই মেয়াদ এটা রাখার প্রয়োজন আছে। সে ক্ষেত্রে সবাইকে সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা বের করতে হবে। এ জন্য বিএনপিকে আলোচনায় আসতে হবে।
কমিটির আরেক সদস্য জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুমোদনের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও অন্তর্বর্তী সময়ে কী পন্থায় নির্বাচন হবে, সে ব্যাপারে সমঝোতার সুযোগ আছে। আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যায়নি।
মন্ত্রিসভায় অন্য বিষয়: মন্ত্রিসভার গতকালের বৈঠকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১১-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন এবং ইউএন কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট ট্রান্সন্যাশনাল অরগানাইজড ক্রাইম (পালের্মো কনভেনশন) অ্যাক্সেশন-এর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মানি লন্ডারিং আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, অর্থপাচার রোধে ২০০২ সালে প্রথম একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। এটি ২০০৯ সালে সংশোধন করা হয়। কিন্তু এ সংশোধনী বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে আরও সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ জন্য আইনটি নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আইনটি অনুমোদন ও পাস হলে অর্থপাচার রোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রথম আলো

সাঈদীকে দিয়ে বিচার শুরু

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আগামী মাসে (জুলাই) এ বিচার শুরু হওয়ার কথা।
গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারবিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেছেন, আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে দুজনের বিচার শুরু হবে। অন্য যাঁরা আটক আছেন, তাঁদের বিচার আগস্টে শুরু করা যাবে।
এদিকে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ১ আগস্টের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. কামারুজ্জামান এবং আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ১২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার সূত্রগুলো জানায়, এই চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আগস্ট মাসে এঁদের বিচার শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে স্টিয়ারিং কমিটির সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সভায় প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থার সঙ্গে কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে দুজনের বিচার শুরু হবে। এ ছাড়া অন্য যাঁরা আটক আছেন, তাঁদের বিচার শুরু হবে আগস্টে। তাঁদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। আনুষঙ্গিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি আছে কি না, এ বিষয়ে কথা হয়েছে। সাক্ষী সুরক্ষার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে কোন দুজনের বিচার আগামী মাসে শুরু হচ্ছে, এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী কিছু বলেননি।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বৈঠকের বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন যা চায়, তা দ্রুত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় উপস্থিত অপর এক মন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি তদন্ত সংস্থার বাজেট নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তদন্ত সংস্থাকে যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তা ফিরিয়ে না দিয়ে সংস্থার কাজে লাগানোর বিষয়ে তিনি মতামত দেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু প্রমুখ।
যথাযথ প্রক্রিয়া মানা হবে: সন্ধ্যায় বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাঁদের সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের সামনে সব সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে যে সাক্ষ্য আসবে, তাঁদের জেরা করার সুযোগ থাকবে। চাইলে সাফাই সাক্ষী দিতে পারেন। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই বিচার সম্পন্ন হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই বিচারে কোনো ঘাটতি থাকবে না।’
সেফ হোমে (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্ধারিত বাড়ি) চাপ প্রয়োগের অভিযোগ নাকচ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারটিকে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য করার স্বচ্ছতা নিয়েই এগোনো হচ্ছে। কোনো মহল থেকে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সেই ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশ থেকে পর্যবেক্ষক আসতে চাইলে তাঁদেরও বসার ব্যবস্থা করা হবে ট্রাইব্যুনাল কক্ষে। তিনি বলেন, সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁদের আইনজীবী ও চিকিৎসকের সামনেই। কোনো চাপ দেওয়া হয় না।
বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের কাজে অর্থের ব্যাপারে কোনোরকম সমস্যা নেই। ট্রাইব্যুনালের কাজ এখন এমন পর্যায়ে আছে যে আগামী মাস থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের কাজে সমন্বয়ের অভাব নেই।
প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক সাতজনের মধ্যে ছয়জনকেই সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা নিজামীকে ৫ মে, মুজাহিদকে ৮ মে, সাকা চৌধুরীকে ১০ মে, সাঈদীকে ১২ মে, কামারুজ্জামানকে ১৪ জুন ও কাদের মোল্লাকে ১৫ জুন সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সাঈদীর পর সাকা: তদন্ত সংস্থার একটি সূত্র জানায়, সাঈদীর পর সাকা চৌধুরীর বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১১ জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে। এর পরপরই আসবে সাকা চৌধুরীর বিষয়টি।
সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনার বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের নিবন্ধক মো. শাহিনুর ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১ আগস্টের মধ্যে সাকা চৌধুরীর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তদন্ত শেষ না হলে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়া যাবে।
গত ৩১ মে তদন্ত সংস্থা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান প্রসিকিউটরের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) কাছে জমা দিলে ট্রাইব্যুনাল ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন।

দুই নেত্রীর ‘তত্ত্বাবধায়ক বাতিল’ ভাবনা


undefined
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান কতটা কাছাকাছি বা দূরে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ আপাতত অগ্রাধিকার পাওয়ার নয়। কারণ, এক অর্থে এখানে রাজনীতিই মুখ্য নয়। আইনগত ও সাংবিধানিক বিষয় জড়িত। দেশের রাজনৈতিক সংকটে এটা এক অভিনব অবস্থা। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষ এমন একটি বিষয়ে পরস্পরের কাছে অবস্থান ‘স্পষ্ট’ করতে বলছে, যা দারুণভাবে অস্পষ্ট।
আর এ জন্য পার্লামেন্ট নয়, আপিল বিভাগ দায়ী। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় না পাওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করা চলে না। উপরন্তু আদালতের সংক্ষিপ্ত আদেশে যে ‘অসামঞ্জস্য’ রয়েছে, সে দিকেও তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তাই আপিল বিভাগকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রায় দিতে হবে। আর রাজনীতিকদের হোমওয়ার্ক করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে যা করার করতে হবে। কিন্তু শুধু এটুকু বক্তব্য যথেষ্ট নয়। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অন্যতম স্পর্শকাতর প্রশ্ন হলো, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কী করবেন। প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন। সুতরাং পদ্ধতি নয়, তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থায়ও কিন্তু ব্যক্তির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত ব্যক্তির সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গড়তে কি সত্যিই চান? তাহলে তাঁকে বাহাত্তরের সংবিধান মানতেই হবে। কিন্তু তিনি তা মানছেন না। বর্তমানে এক-দশমাংশ অনির্বাচিত ব্যক্তির মন্ত্রিসভায় থাকার বিধানটি মূলত সামরিক শাসনের ফসল। অনির্বাচিত ব্যক্তিরা (শফিক আহমেদ, দিলীপ বড়ুয়া প্রমুখ) এখন মন্ত্রিত্ব করছেন। এটা যদি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে আঘাত না করে তাহলে ৯০ দিনের জন্য অনির্বাচিত ব্যক্তির মন্ত্রিত্ব মানা যাবে না কেন?
বাহাত্তরের সংবিধানের ৫৫(৪) অনুচ্ছেদটি জ্যান্ত করা হোক। চতুর্থ সংশোধনীতেই কিন্তু এ বিধান লোপ পায়। কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, তাঁরা আজও মনে করেন বাকশাল ঠিক ছিল। চতুর্থ সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রিসভাই অনির্বাচিতদের দিয়ে গঠন করার বিধান প্রথম যুক্ত করা হয়। ত্রয়োদশ সংশোধনীই অনির্বাচিত ব্যক্তিদের অন্দরমহলে প্রথম ঢুকিয়েছে, তা নয়। পঞ্চম সংশোধনীতে বাহাত্তরের বিধানমতে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী করার নিয়ম পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। তবে শর্ত ছিল, অনির্বাচিতরা মন্ত্রিসভার এক-পঞ্চমাংশের বেশি হবেন না। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ‘অনধিক এক-দশমাংস’ অনির্বাচিত থাকতে পারেন। সেদিক থেকে বর্তমান টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা জেনারেল জিয়ার পঞ্চম সংশোধনীর ডিজাইনের বেনিফিশিয়ারি।
সুতরাং নির্বাচিত ও অনির্বাচিত প্রসঙ্গ বাংলাদেশে নতুন নয়। আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী রাজনীতিতে এর চমক আগেও দেখেছি। সুপ্রিম কোর্টের অন্তত দুটি মাইলফলক মামলা আছে, যেখানে নির্বাচিত-অনির্বাচিত তর্ক পাত্তা পায়নি। আবদুর রহমান বিশ্বাস পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। আবদুস সামাদ আজাদ রিটে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি জয় পাননি। কুদরত-ই-ইলাহি পনির মামলায় উপজেলাব্যবস্থা বিলোপের বৈধতা পরীক্ষিত হয়। আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে যে রায় দেন, তা কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন করে না। সেই একই অনির্বাচিত তর্ক তুলে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। হাইকোর্ট তা নাকচ করেছিলেন।
বাহাত্তরের মূল সংবিধানের ৫৫(৪) অনুচ্ছেদটি ফিরে এলে যেকোনো সময় যেকোনো সংখ্যক অনির্বাচিত ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া যাবে। তার মানে, এটা কিন্তু অগণতান্ত্রিক নয়। অবশ্যই এই অনির্বাচিত আর আমাদের উদ্ভট তত্ত্বাবধায়ক-ব্যবস্থায় ঠাঁই পাওয়া অনির্বাচিতরা এক নন। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ভাবনাকে বাহাত্তরের কাঠামোতে খাপ খাওয়াতে হবে। ওই অনুচ্ছেদের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের ছয় মাসের মধ্যে কোনো আসন থেকে নির্বাচিত হতে হবে। এই বিধান সংসদীয় গণতন্ত্রে সর্বজনীন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখুন। তিনি বিধানসভার সদস্য নন। অনির্বাচিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। শপথের দিন থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে এমএলএ নির্বাচিত হতে হবে। অন্যথায় তিনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারাবেন। আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানের ৫৫(৪) অনুচ্ছেদটি ভারতীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থায় আছে বলেই অনির্বাচিত মমতার মুখ্যমন্ত্রী হতে বাধা হয়নি।
এখন নির্বাচিত ব্যক্তিতে যদি আমাদের নতুন করে ভক্তি আসে, ক্ষতি নেই। তবে ক্ষমতাসীন দলকে সর্বাগ্রে তার নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। অনির্বাচিত ব্যক্তিদের আমরা পাঁচ বছর মন্ত্রী মানব। আর নির্বাচিত ধুয়া তুলে অনির্বাচিতদের ৯০ দিন বা একটা নির্বাচন করার সুযোগও দেব না। এই দুই অবস্থান দ্বন্দ্বপূর্ণ। ত্রয়োদশ সংশোধনীতে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লিখিত দুটি মামলায় দেওয়া আপিল বিভাগের আগের দুটি রায় এবং সংবিধানে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বহাল থাকার অনুচ্ছেদটি কীভাবে কতটা আলোচনায় আসে বা আদৌ আসে কি না, সেটা দেখতে আমরা অপেক্ষায় রইলাম।
নির্বাচিতদের জন্য হঠাৎ দরদ উথলে ওঠা সরকার দয়া করে একটি লিটমাস টেস্ট সেরে নিন। ঘোষণা দিতে হবে যে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী যদি থাকতে চান, তাহলে তিনি নির্বাচন করবেন না। যদি তিনি নির্বাচন করতেই চান, তাহলে তাঁর দলের অন্য কোনো সাংসদকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। ওই সাংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না। এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাল্টাতে সুফল দিতে পারে।
আসলে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও দলের প্রধান—এই তিনজন কোনো অবস্থাতেই এক ব্যক্তি হতে পারবেন না। তিন আলাদা মানুষ হতে হবে। আওয়ামী লীগকে তার ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও মন্ত্রিত্ব একসঙ্গে আগলানোর রেওয়াজ আগে ছিল না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম যখন মন্ত্রী হলেন, তখন তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে অপশন দেওয়া হলো। দলের পদ, না হয় মন্ত্রিত্ব—একটি রাখতে হবে। তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হলেন। একই সঙ্গে তিনি কিন্তু আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ আঁকড়ে ছিলেন না। স্পষ্টতই, কোনো চাপ ছাড়াই তিনি গণতান্ত্রিক রেওয়াজ মেনে চলছিলেন। এখন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন রূপায়ণে ঝাঁপিয়ে পড়লে ক্ষতি কী।
দুই.
সুখের বিষয়, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া আদালতের রায় প্রশ্নে লক্ষণীয়ভাবে অবস্থান বদল করেছেন। ৪ জুন ও ১৬ জুন সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তাঁর দুটি লিখিত বিবৃতির গুণগত পার্থক্য অনেক। তবে ‘এই রায় সংসদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়’ কথাটি যে অর্থে তিনি বলেছেন, তা ঠিক নয়। সংসদ চাইলে নতুন করে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তেমন দরকার হলে আদালতের রায়কে অসারও করতে পারে। যাক, খামোখা দুটি হরতাল পালনের পর তাঁকে এখন কিছুটা নমনীয় মনে হচ্ছে। তাঁর কথায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বর্তমান আঙ্গিক ঠিক রাখতে হবে। এরপর তাঁরা আলোচনায় বসবেন।
এটা সন্দেহাতীত যে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া। নাগরিক সমাজ থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে চাপ দিতে কিংবা তাদের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতেও আদালতের রায় দরকার। এমনকি রায়ের বিষয়ে রিভিউ করারও দরকার পড়তে পারে। আমরা শুনেছি, ত্রয়োদশ সংশোধনীর শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরিরা আইনগত ও সাংবিধানিক দিকগুলোর বিষয়ে যথেষ্ট যুক্তিতর্ক তুলে ধরেননি বলে বিচারকদের কারও কারও কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
আমাদের চোখ এখন দুই নেত্রীর দিকে নয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের দিকে। কারণ তিনিই আলোচ্য পূর্ণাঙ্গ রায়ের অথর জাজ হবেন বলে ধারণা। আর তিনিই বলেছেন, ছয় মাস লাগবে।
রায়ের অপব্যাখ্যা করার জন্য এই কলামে দুই সপ্তাহ আগে সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতাকে দায়ী করা হয়েছিল। বিরোধী দলের নেতা এখন দৃশ্যত আপিল বিভাগের রায়মুখী হয়েছেন। ডেইলি স্টার পত্রিকায় ১৭ জুন প্রথম পাতায় বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছাপা হয়। যার শিরোনাম ছিল ‘প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন’। তার নিচেই পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় আইনজ্ঞের মতামত ছাপা হয়। যার শিরোনাম ‘রায়ের মুহূর্ত থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ’। নিচে উপশিরোনামে শীর্ষ আইনবিদেরা প্রসপেকটিভলি বা ভবিষ্যৎসাপেক্ষ কথাটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শীর্ষ আইনবিদদের বরাতে ডেইলি স্টার-এর শিরোনাম থেকে অনেকের মনে ধারণা হতে পারে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে গেছে মর্মে যে অভিমত দিয়েছেন, সেটিই সঠিক।
ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনটি শুধু প্রসপেকটিভ কথাটির সংজ্ঞানির্ভর। তারা ঠিকই ধরেছে এবং বেগম খালেদা জিয়াও ওই শব্দের ওপর দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘রায়ে ঘোষিত অবৈধতা এখন থেকে নয়, বরং আরও দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক বহাল থাকার পর তা কার্যকর হবে।’ অবৈধতা ও তা কার্যকর অবৈধতার মধ্যে পার্থক্য আছে। অবৈধ ওই তারিখ থেকেই, তবে তা কবে থেকে ও কীভাবে কার্যকারিতা পাবে, তা রায়ে স্পষ্ট নয়। তবে এটা খুবই স্পষ্ট, ত্রয়োদশ সংশোধনী তিন তালাক পায়নি। তিন শর্তে টিকে আছে। সংসদ নেতা ও বিরোধী দলের নেতার রায় ব্যাখ্যার মধ্যে কোনটি আপাতত অধিকতর গ্রহণযোগ্য? উত্তর হবে, বিরোধী দলের নেতার। যদিও তা নিরঙ্কুশ অর্থে নয়। সংসদ নেতা বলেন, বাতিল হয়ে গেছে আর কোনো সুযোগ নেই। এর প্রথম অংশ ঠিক, দ্বিতীয় অংশ ঠিক নয়।
ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বিচারপতি মোস্তাফা কামাল, মাহমুদুল ইসলাম, এম জহির, শাহ্দীন মালিক ও মাহবুবে আলম মতামত দিয়েছেন। তাঁদের মতগুলো সন্দেহাতীত কোনো ধারণা দেয়নি। বিচারপতি মোস্তাফা কামালের মতে, ভবিষ্যৎসাপেক্ষ কথাটির অর্থ রায় ঘোষণার দিন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে গেছে। তবে আগামী দুটি নির্বাচন বিদ্যমান ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনেই করা যাবে। সংবিধান সংশোধনের কোনো দরকার নেই। তাঁর বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতার অবস্থানই সমর্থিত হয়েছে।
অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় দুই মেয়াদে বৈধ নির্বাচন কি করে হবে? এটা কি স্ববিরোধী? জবাবে সাবেক প্রধান বিচারপতি আমাকে বলেন, না, এটা হলো পার্মিসেবল জুরিসডিকশন (অনুমতিযোগ্য এখতিয়ার)।
বিচারপতি মোস্তাফা কামাল, মাহমুদুল ইসলাম, এম জহির, শাহ্দীন মালিক ও মাহবুবে আলম আমাদের একটি বিষয় নিশ্চিত করেছেন যে ‘রায় ঘোষণার দিন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে গেছে।’ কিন্তু শুধু এটুকু বলে থামলে বা বুঝলে চলবে না। বাতিল কথাটি ওই তারিখেই প্রকৃতঅর্থে কার্যকর হয়ে গেছে বলে যাঁরাই প্রবল যুক্তি দিচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে আমরা বিনয়ের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করি।
বিশেষজ্ঞ মতের ফারাক দেখুন। শাহ্দীন মালিক মনে করেন, সুপ্রিম কোর্ট কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে তাঁর রায়ে ভবিষ্যৎসাপেক্ষ কথাটি ব্যবহার করেছেন। যেহেতু বাতিল হয়ে গেছে, তাই আগামী দুটি নির্বাচন করতে হলে সংবিধান সংশোধন লাগবে। আমরা এ যুক্তি মানতে অপারগ। মাহমুদুল ইসলামের ‘রায় ঘোষণার দিনই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে গেছে’ কথাকেও বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাবে না। অ্যাটর্নি জেনারেলও কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায়। তিনি বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় না পাওয়া পর্যন্ত এটা বলা যায় না যে আগামী দুটি নির্বাচন কীভাবে হবে।
আমরা আদালতের কাছে অনতিবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ রায় এবং সরকার ও বিরোধী দলের কাছে সহি পূর্ণাঙ্গ তত্ত্বাবধায়ক বিলের খসড়া আশা করি। তবে আমরা নিশ্চয় মনে রাখব সংসদের সার্বভৌমত্ব। জাতীয় প্রয়োজনে আজই সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচন দিতে হলে আদালতের অনুমতি নিশ্চয় লাগবে না। আর তখন কিন্তু বিদ্যমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। এ ভাবনা স্বাভাবিক নয় যে সংসদ তখন পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষায় থাকবে।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক। প্রথম আলো
mrkhanbd@gmail.com

Sunday, June 19, 2011

কবরীর দিকে তেড়ে গেলেন মারমুখী শামীম ওসমান



undefined
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে গতকাল বাসভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে বাগ্যুদ্ধ
ছবি: প্রথম আলো
সরকারি দলের সাংসদ সারাহ্ বেগম কবরীর দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে তেড়ে গেলেন একই দলের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সামনেই ঘটল ঘটনাটি। জেলা প্রশাসক (ডিসি) বসে বসে শুধু দেখলেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে একটি সভা চলাকালে প্রথমে বাগিবতণ্ডা, তারপর তুমুল হট্টগোল বেধে যায়। সাংসদ কবরী সাংবাদিকদের বলেন, ডিসি-এসপিসহ সভায় উপস্থিত সবার সামনেই শামীম ওসমান তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন। একপর্যায়ে আসন ছেড়ে ছুটে এসে তাঁকে ধাক্কা দেন। এর আগে গত বছর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শামীম ওসমানের বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ নাসিম ওসমান বর্তমান ডিসির সামনেই কবরীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে শামীম ওসমান কবরীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে সভায় উপস্থিত অনেকেই এই সভায় শামীম ওসমানের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কী কারণে, কিসের ভিত্তিতে, কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা কেউ স্পষ্ট করে বলছেন না। সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রশ্ন করেন, শামীম ওসমান সাংসদ নন, আইনশৃঙ্খলা কমিটিতেও নেই, আওয়ামী লীগের বড় কোনো পদেও নেই, তাহলে তাঁকে কেন সভায় ডাকা হলো? তবে জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শামীম ওসমানকে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য করা হচ্ছে।
কেন এই সভা: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ যাত্রাপথে বর্ধিত বাসভাড়া কমানোর দাবিতে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম আগামীকাল ২০ জুন নারায়ণগঞ্জে আধা বেলা হরতাল ডেকেছে। সিপিবি, জাসদ (ইনু), ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, বাসদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনসহ এখানকার ৬০টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও ক্রীড়া সংগঠন এই হরতালের প্রতি সমর্থন জানায়। হরতালের সমর্থনে এক সপ্তাহ ধরে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ-মিছিল হচ্ছে। দেয়ালে হরতালের পক্ষে পোস্টারও লাগানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টায় আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির এক সভা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শুরু হয়। সভায় ডিসি সামছুর রহমান, পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ নাজমুল আলম, সাংসদ কবরী, সাংসদ নজরুল ইসলাম, মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, সদস্য-সচিব জহিরুল ইসলাম ছাড়া আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে ২৪ টাকা ভাড়া নির্ধারণের দাবি করে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাসভাড়া কমানোর পক্ষে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। এ সময় শামীম ওসমান তাঁর বক্তব্যের মাঝখানে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এর প্রতিবাদ জানান। এ পর্যায়ে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যকে সমর্থন জানান কবরী। এ সময় শামীম ওসমান কবরীকে অশ্লীল গালি দিয়ে বলেন, ‘...তুই চুপ কর।’ কবরী উত্তরে বলেন, ‘তুই চুপ কর।’
বিতণ্ডার একপর্যায়ে শামীম ওসমান আসন ছেড়ে উঠে সাংসদ কবরীর দিকে তেড়ে যান এবং কবরী ও আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তুমুল বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। কয়েকজন পরিবহনমালিক নেতা এ সময় শামীম ওসমানের পক্ষে এগিয়ে এসে বাগিবতণ্ডায় লিপ্ত হন। শামীম ওসমান ও দুজন পরিবহনমালিক নেতা তখন আনোয়ার হোসেনের গায়ে ধাক্কা দেন।
সাংসদ নজরুল ইসলাম ও এসপি শেখ নাজমুল আলম দুই পক্ষকে শান্ত করার পর বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে বিপুল পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়।
সভায় শামীম ওসমান বলেন, কবরী ও আনোয়ার হোসেন সরকারি দলের লোক হয়েও বাসভাড়া কমানোর দাবিতে আহূত হরতালে প্ররোচনা দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। কবরীও শামীম ওসমানকে পরিবহন সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, ডিসি-এসপির সামনে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা দুঃখজনক।
শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘আমরা হরতালের পক্ষে নই। তবে জনগণের স্বার্থের জন্য রাজনীতি করি। তাই বর্ধিত বাসভাড়া কমানোর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছি।’
এসপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই পক্ষই উত্তেজিত হয়ে উঠলে তাদের শান্ত করি। সভার বাইরে দুই পক্ষের সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।’
পরে আবার সভা শুরু হয়। কিন্তু পরিবহন নেতারা বাসভাড়া না কমানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। বন্ধন পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইব্রাহিম চেঙ্গীস বলেন, পরিবহন মালিকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই টাকা কম আদায় করছেন। বাসভাড়া নিয়ে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ অযৌক্তিক হরতাল কর্মসূচি দিলে পরদিন থেকে পরিবহন মালিকেরা লাগাতার ধর্মঘট পালন করতে বাধ্য হবেন। হট্টগোলের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়।
এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলার সম্প্রচার বন্ধ: সাংসদ সারাহ্ বেগম কবরীর দিকে শামীম ওসমানের মারমুখী ভঙ্গিতে তেড়ে যাওয়ার বিস্তারিত দৃশ্য গতকাল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজে সম্প্রচার করা হয়। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কিন্তু রাত ১০টার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ শহর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলে এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলার সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় কেব্ল অপারেটররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কেব্ল অপারেটর বলেন, নারায়ণগঞ্জে কেব্ল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শহরের নিতাইগঞ্জের আবদুল করিম বাবু ওরফে ডিশ বাবু। তাঁর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকেই নারায়ণগঞ্জে দেশি-বিদেশি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি আবদুস সালাম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলা দেখতে না পাওয়ায় গ্রাহকেরা বারবার ফোন করে চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইছে। এখন কেব্ল অপারেটররা যদি চ্যানেল দুটি চালু না করে, আমাদের কিছু করার নেই।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, তাঁর চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক?



undefined
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেছেন, দেশের কল্যাণের কথা তাঁর চেয়ে বেশি কে ভাবে এবং কে তাঁর চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক?
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ বোর্ডের (বিওআই) প্রধান কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, কে বেশি দেশপ্রেমিক এবং দেশের স্বার্থের বিষয়টি আমার চেয়ে কে বেশি ভাবে?’ খবর ইউএনবি ও বাসসের।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ও বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বার্থের কথা বলে তারা প্রায়ই উচ্চবাচ্য করে। দেশে যখন কোনো নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাস অনুসন্ধান করা হচ্ছিল না, তখন তারা কোথায় ছিল? গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন শুরুর জন্য বিনিয়োগকারীদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য আগের সরকার কিছুই করেনি। অথচ এরা তখন চুপ ছিল। আর আমরা যখন কিছু করতে যাচ্ছি, তখনই তারা বিরোধিতা শুরু করেছে।’ দেশের স্বার্থ ও দেশের মানুষের কল্যাণের বিপক্ষে বর্তমান সরকার কোনো কিছুই করবে না বলে জানান শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দল কিছু বিদেশি কোম্পানির কাছে গ্যাস বিক্রি করতে চায়নি বলে ২০০১ সালের নির্বাচনে বেশি ভোট পেয়েও ক্ষমতায় যেতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে যাওয়ার আগে আমরা জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি।’
বঙ্গোপসাগরের দুটি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গত বৃহস্পতিবার মার্কিন কোম্পানি কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এই চুক্তির সমালোচনা করে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বলেছে, এতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষিত হয়নি। এর প্রতিবাদে আগামী ৩ জুলাই আধা বেলা হরতাল ডেকেছে কমিটি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই তাঁর সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্যস্থানে পরিণত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ক্রমেই বাড়ছে।
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ-প্রবাহ কমে গেছে। এর পরও ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ৭০ কোটি ডলারেরও বেশি এফডিআই পেয়েছে এবং ২০১০ সালে ৯১ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান, সাশ্রয়ী ও সহজে প্রশিক্ষণযোগ্য শ্রমশক্তি, সহজ আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ প্রণোদনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। তাঁর সরকার এবার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে বিনিয়োগ খাতে কর অবকাশ-সুবিধা ঘোষণা করেছে সরকার।
দেশে বিদ্যমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে দায়ী করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সাল-পরবর্তী জোট সরকার পাঁচ বছরে জাতীয় গ্রিডে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও যোগ করতে পারেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ইতিমধ্যে এক হাজার ৯২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে। আরও ২৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে শিগগিরই আরও প্রায় তিন হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More