Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Wednesday, October 5, 2011

 শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে রাজি করাতে ইয়াজউদ্দিনের ‘প্রস্তাব’

আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর

শেখ হাসিনা নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে সম্মত হলে ২০০১ সালের ভোটার তালিকা এবং ২০০৬ সালের সম্পূরক তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিল ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমান চৌধুরী মার্কিন দূতাবাসকে এ কথা বলেছিলেন। তবে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন তারবার্তায় এ কথা বলা হয়েছে।
২০০৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তা গীতা পাসি উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমান তাঁদের বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয় সংগঠনের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণে শেখ হাসিনার লিখিত অঙ্গীকার চাওয়া হয়। তাতে রাজি হলে এবং আর কোনো দাবি না তোলা হলে বিনিময়ে ২০০১ সালের ভোটার তালিকা এবং ২০০৬ সালের সম্পূরক ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের কথা বলা হয়। এতে ওই ভোটার তালিকা নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত হালনাগাদের সুবিধা রাখার কথা বলা হয়। কথিত প্রস্তাবে আরও বলা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় তিন দিন পেছানো হবে। বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার স ম জাকারিয়াকে ছুটিতে পাঠানো হবে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই ধরনের কোনো সমঝোতা-প্রস্তাব পাওয়ার কথা দূতাবাসের কাছে অস্বীকার করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরী। তাঁরা বলেন, এ ধরনের গুঞ্জন তাঁরাও শুনেছেন। জাফরুল্লাহ বলেন, নির্বাচনের তফসিল বাতিল করা হলেই কেবল শেখ হাসিনা কোনো ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি আছেন।
এর কয়েক দিন আগে ১৩ ডিসেম্বর পাঠানো মার্কিন দূতাবাসের আরেকটি তারবার্তায় বলা হয়, রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস সেদিনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে ২৫ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজকে ছুটিতে পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে অন্য আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছেন। তবে নির্বাচন কমিশনার স ম জাকারিয়ার ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার সম্মতি ছাড়া তাঁর ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপে তিনি রাজি নন। তিনি রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করে বলেন, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘বেসামরিক কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে’ তখন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

 উইকির ফাঁস করা মার্কিন নথি: সত্যতা নিয়ে বিভ্রান্ত রাজনীতিকেরা

উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন নথিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এর বেশির ভাগই এ দেশের রাজনৈতিক জগতের। আছে ক্ষমতার অন্দরমহলেরও গোপন খবর। তবে এসব খবরের সত্যতা নিয়ে রাজনীতিকেরা নিজেরাই বিভ্রান্ত। তাঁরা কিছুটা মানতে চান। আবার পছন্দ না হলে এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করেন।
দেশের দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এসব তথ্য বিশ্বাস করতে চান না। অন্য দলের রাজনীতিকেরা অবশ্য বলছেন, উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোপন নথির অনেক তথ্যই সঠিক এবং এর মাধ্যমে এ দেশের বড় দুই দলের রাজনৈতিক দলের দেউলিয়াত্ব প্রমাণিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উইকিলিকস যেসব গোপন বার্তা ফাঁস করছে, তা কতটা সত্য সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। যে ব্যক্তিটি বার্তা পাঠিয়েছেন, তিনিও কতটা সত্য বলেছেন, সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট নেতারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘তবে এর মধ্যে কিছুটা সত্য যে আছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, এসব তথ্য এখনই কেন ফাঁস হচ্ছে। ভারত এত বড় দেশ, তাদের কোনো তথ্যই আসছে না। সবই বাংলাদেশকেন্দ্রিক এবং মূলত দুটি দলকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’
প্রকাশিত তথ্য সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক নেতা ভালো ইংরেজি জানেন না। তাঁরা যখন বিদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশিদের কাছে তাঁদের বক্তব্যের অর্থ ভিন্ন রকম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্য জাতীয় নেতাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ফাঁস হওয়া তথ্য আমাদের জাতীয় রাজনীতির মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। আশা করা যায়, এখন থেকে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমাদের নেতারা আরও সতর্ক হবেন।’ জাতি ও রাজনীতিকদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্য নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান মনে করেন, ‘উইকিলিকসের তথ্য রাজনীতিতে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কারণ তাদের তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বাসযোগ্য বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না।’ দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, উইকিলিকসে ফাঁস করা তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব নিয়ে হইচই করে দেশ মাতানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
জাসদের সভাপতি ও সাংসদ হাসানুল হক ইনুর মতে, উইকিলিকস নতুন কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বড় দলের বড় নেতারা যে বিদেশের কাছে আত্মসমর্পণমুখী এবং ক্ষমতালিপ্সু, তা আমরা আগে থেকেই জানি। আমাদের নেতা এবং তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করেন, সেটাও আমাদের অজানা নয়। রাষ্ট্রের জনগণও তা জানে। উইকিলিকসের সাফল্য হলো, তারা নতুন করে বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করেছে। সুতরাং বিষয়গুলো দেশের জাতীয় রাজনীতিতে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। সংসদে আলোচনা করেও কোনো লাভ হবে না।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘ফাঁস হওয়া মার্কিন গোপন তথ্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির দেওলিয়াত্ব বেরিয়ে এসেছে। দল দুটি আমাদের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এটা প্রমাণিত যে তারা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অশুভ।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই-একজন নেতা ছাড়া আর কেউই এখন পর্যন্ত উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্য সম্পর্কে আপত্তি জানাননি। এতে প্রমাণিত হয়, ফাঁস হওয়া তথ্য সত্য। তবে আশপাশের দেশ থাকা সত্ত্বেও উইকিলিকস কেন শুধু বাংলাদেশের তথ্য ফাঁস করে যাচ্ছে, এর পেছনে তাদের কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা বিচার-বিশ্লেষণের জন্য এ নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।

Friday, September 23, 2011

 উগ্র ইহুদিবাদী ওবামা!

পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাক ওবামা। কিন্তু গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি যে ভাষণ দিয়েছেন, তা অনেককেই অবাক করেছে। ওই ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিপক্ষে তাঁর অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। ইসরায়েলের জন্য ওবামার এই ‘দরদ’কে অনেকেই উগ্র ইহুদিবাদের সঙ্গে তুলনা করছেন।
বিখ্যাত মার্কিন ম্যাগাজিন ‘নিউইয়র্ক’ তাদের চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে ওবামাকে আমেরিকার ‘প্রথম ইহুদি প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ওবামাকে সবচেয়ে কট্টর ইসরায়েল সমর্থক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ওবামা প্রকাশ্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে তিনি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের প্রস্তাবে অবশ্যই ভেটো দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওবামার উগ্র ইহুদিবাদী মনোভাবেরই প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র এমনকি ইসরায়েলের ইহুদিরাও এতটা উগ্র মনোভাব পোষণ করেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এদিক দিয়ে ওবামা তাঁর পূর্বসূরিদেরও অবাক করে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে জর্জ বুশ ছিলেন ইসরায়েলের গোড়া সমর্থক। কিন্তু এবার ওবামা তাঁকেও ছাড়িয়ে গেলেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে প্রকারান্তরে ওবামা সেখানকার জনগণের ওপর ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনকেই সমর্থন দিলেন। তাই প্রশ্ন ওঠে, যে ওবামা পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেন, শান্তিতে নোবেল পেলেন, তিনি কেন ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর অবিচার চাপিয়ে দিচ্ছেন!
বিশ্লেষকদের জুতসই উত্তর—সামনে নির্বাচন, তাই ওবামা কোনোভাবেই ইসরায়েলকে ক্ষুব্ধ করতে চান না। তা ছাড়া শিকাগোতে ওবামার কর্মজীবন কেটেছে ইহুদিদেরই সংস্পর্শে। তাঁর দলের তহবিলের অধিকাংশ অর্থই জোগান দেয় ইহুদি লবিস্ট ও শিকাগোর বর্তমান মেয়র রাহেম ইমেনুয়েল। তিনি হোয়াইট হাউসে ওবামার চিফ অব স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, ওবামার ফিলিস্তিন বিরোধিতা কেবল অর্থের বিষয় নয়। এখানে মার্কিন রাজনীতিও জড়িত। অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়ে কংগ্রেসে ওবামার সমর্থন দরকার। সেসব ক্ষেত্রে ওবামা ব্যর্থ হলে, তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাসের ঘরের মতো ভেঙে যেতে পারে। এমনকি মার্কিন রাজনীতিতে সক্রিয় ইসরায়েলি লবি তাঁর জীবনকে দুর্বিষহও করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তনের কথা বলে ক্ষমতায় এসে ওবামা এখন যেটা করছেন, তা প্রতারণা। তিনি ন্যায়বিচারের কথা বলেন, কিন্তু অন্যায় নীতির জন্য ফিলিস্তিনকে চাপ দিচ্ছেন। কথা বলছেন নিপীড়ক ইসরায়েলের পক্ষে। তিনি স্বাধীনতার কথা বলেন, কিন্তু এখন ইসরায়েলের আগ্রাসনকে সমর্থন করছেন। এর সবকিছুই তিনি করছেন নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে।
ইসরায়েলপন্থী ইহুদি লবিস্ট জে স্ট্রিটের মতে, ‘আমেরিকান রাজনীতিবিদেরা তাঁদের রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলের জন্য সীমাহীন কাজ করতে পারেন।’
ইসরায়েলের জন্য নিজের স্বার্থে ওবামা না হয় একটু বেশিই করছেন! আল-জাজিরা টেলিভিশনের অনলাইন অবলম্বনে

Tuesday, September 20, 2011

পুলিশের হিসাবে ক্ষতি একশ কোটি টাকা


ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সঙ্গে সোমবারের সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় প্রায় একশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

ওই ঘটনায় পল্টন থানায় পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় ক্ষতির এই পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী পুলিশের উপপরিদর্শক আহসান হাবিব খান দুটি এজাহারেই বলেছেন, জামায়ত-শিবির কর্মীরা সোমবার ধারালো অস্ত্র এবং বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আহত করে এবং পুলিশের ও একটি পত্রিকার গাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাহনে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করে।

"এছাড়া তারা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন করে যাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় একশ কোটি টাকা।"

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগান থেকে ৩২৬টি গুলি এবং ২৬২টি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বলেও বাদী উল্লেখ করেছেন।

সোমবার ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় জামায়াত ও শিবির কর্মীরা। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলমসহ তিন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রাতভর অভিযান চালায় র‌্যাব ও পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ঢাকাতেই ২৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই ঘটনায় জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ গ্রেপ্তারকৃতদের আসামি করে ঢাকা ও চট্টগ্রমে মোট ৯টি মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ঢাকার রমনা থানায় ছয়টি এবং পল্টন থানায় দুটি মামলা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় হয়েছে একটি মামলা।

পল্টন থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় বলা হয়, জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতা-কর্মী নেপথ্যে থেকে ঘটনাস্থলে সংঘর্ষে লিপ্ত কর্মীদের প্ররোচণা ও সহায়তা দিয়েছে বলে 'নির্ভরযোগ্য' সূত্রে জানতে পেরেছে পুলিশ।

পল্টন ও রমনা থানা পুলিশের আবেদনে আদালত মঙ্গলবার এ টি এম আজহারুল ইসলামসহ ১৮৩ জামায়াত নেতা-কর্মীকে চারটি মামলায় মোট ১৯ দিন করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর রডটকম/

 তিস্তা চুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা পানিপ্রবাহের ১৫ বছরের উপাত্ত চায় ভারত

তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই করতে বাংলাদেশের কাছে ১৯৯৫-৯৬ সাল থেকে পরবর্তী ১০-১৫ বছরের পানিপ্রবাহের উপাত্ত চেয়েছে ভারত।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের অনুরোধে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ শিগগিরই পানিপ্রবাহের উপাত্ত পাঠাবে।
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের ডালিয়ায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টের ’৯৫-৯৬ সাল থেকে পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ বছরের ১০ দিন অন্তর পানিপ্রবাহের উপাত্ত চেয়েছে ভারত। ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম কমিশনার-১ (গঙ্গা) টি এস মেহরা যৌথ নদী কমিশনের সদস্য (জেআরসি) মীর সাজ্জাদ হোসেনকে এ ব্যাপারে চিঠি লেখেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে নদীর পানিপ্রবাহ বিনিময় হলে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসায় মনমোহনের সফরে বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তিটি সই হয়নি। মমতার ভাষ্য অনুযায়ী, খসড়া চুক্তি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে জানায়নি। খসড়ায় বাংলাদেশকে যে পরিমাণ পানি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, তাতে বঞ্চিত হবে পশ্চিমবঙ্গ। তাই তিনি এ চুক্তির পক্ষে নন।
চিঠিতে টি এস মেহরা লিখেছেন, ‘৬-৭ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে তিস্তা ও ফেনীর অন্তর্বর্তীকালীন পানিচুক্তি সই হয়নি। যত শিগগির সম্ভব চুক্তি দুটি সইয়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে যৌথ বিবৃতিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
বাংলাদেশের জেআরসির সদস্যকে লেখা চিঠিতে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি জানেন যে, চুক্তিটি বাস্তবায়ন করবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার। তাই এ প্রক্রিয়ায় তাদের আস্থায় নেওয়াটা জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে যত শিগগির সম্ভব ডালিয়া পয়েন্টে ’৯৫-৯৬ সাল থেকে পরবর্তী ১০-১৫ বছরের পানিপ্রবাহের উপাত্ত জানাটা জরুরি। তাই ওই সময়ে প্রতি ১০ দিন পরপর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি কতটা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জানালে খুশি হব।’
টি এস মেহরার চিঠির অনুলিপি ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে পাঠানো হয়েছে।
ভারতের এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জেআরসির সদস্য মীর সাজ্জাদ হোসেন ১৯ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি লেখেন। ভারতের চিঠির সাড়া দেওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি ওই চিঠি লেখেন।
গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে জানতে চাইলে ভারতের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান মীর সাজ্জাদ হোসেন। তবে তিনি বলেন, ‘ভারত যেহেতু অনুরোধ জানিয়েছে, আমরা ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহের উপাত্ত তাদের পাঠাব।’
তিস্তার অন্তর্বর্তী চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে—দুই সরকারের পক্ষ থেকেই এমন দাবি করা হয়েছে সব সময়। তবে কি পানিপ্রবাহের উপাত্ত নিয়ে কথা হয়নি? এ প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, পানিপ্রবাহের উপাত্তের ওপর আগে খুব একটা জোর দেওয়া হয়নি। কারণ চুক্তি হবে এটা ভারত বেশ জোর দিয়েই বলছিল। তাই ভারতের কথায় ভরসা করা ছাড়া তো উপায় ছিল না।
যোগাযোগ করা হলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির আলোচনায় দুটি অংশ রয়েছে। একটি হচ্ছে কারিগরি, অন্যটি রাজনৈতিক। কারিগরি বিষয়টি হচ্ছে কীভাবে, কোথায় ও কখন মানে কোন সময় ধরে পানির ভাগ হবে। দুই পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি ছিল পানির হিস্যা, যা রাজনৈতিক পর্যায়ে চূড়ান্ত হওয়ার কথা। এ পর্যায়ে পানিপ্রবাহের উপাত্ত বিনিময়ের অর্থ হচ্ছে, আবার প্রথম থেকেই আলোচনা শুরু করা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে।
তিস্তা চুক্তি চূড়ান্ত করতে মনমোহনের সফরের মাত্র দুই দিন আগে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত সফরে আসেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেনন। তিনি ওই দিন পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও গওহর রিজভীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত একজন এ প্রতিবেদককে ৩ সেপ্টেম্বর জানান, খসড়া অনুযায়ী ভারত গজালডোবা বাঁধের সামনে থেকে ৫০ ভাগ পানি তুলে নিয়ে বাকি পানি বাংলাদেশের জন্য ছেড়ে দেবে। প্রথমে ১৫ বছর মেয়াদি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হবে। পরে পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই হবে।

 সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল নিয়ে গুঞ্জন

আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি ঘাটতি এবং বন্যাদুর্গতদের সাহায্যার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘ব্যর্থতার’ পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের প্রথম থেকেই গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের রাজনৈতিক ও সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণের কথা তখন বলা হচ্ছিল। কারাবন্দী দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা-ও পরিষ্কার নয়। এ অবস্থায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে, রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে সেনানিবাসে।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের তৎকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গীতা পাসি ওই সময় ওয়াশিংটনকে এসব কথা জানান। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভুল পদক্ষেপের কারণে আরেকটি রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তবে ওই অবস্থায় সেনাবাহিনী কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তাঁর মনে হয়নি। ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট গীতা পাসির পাঠানো ওই তারবার্তা গত ৩০ আগস্ট উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তাগুলোর একটি।
তারবার্তায় বলা হয়, ওই গুঞ্জন নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক সোবহানের সঙ্গে কথা বলেন দূতাবাসের কর্মকর্তা। তাঁদের মত ছিল, সেনাবাহিনীর সক্রিয় হওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দেওয়া। এ প্রসঙ্গে ফারুক সোবহান বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেক মামলা বিচারাধীন।
তারবার্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফারুক সোবহান বলেন, সেনাপ্রধানের চারপাশে ঘিরে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আতাউর রহমানের মতো স্বনিয়োজিত কিছু উপদেষ্টা। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার জন্য সেনাপ্রধানকে উৎসাহিত করছেন। সব মিলিয়ে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছেন, যেখানে মনে হবে কেবল সেনাপ্রধানই দেশকে ‘রক্ষা’ করতে পারেন।
তবে ফারুক সোবহান স্বীকার করেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি ঘাটতি, বন্যাসহ অনেক সমস্যাই মোকাবিলা করতে হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে। প্রধান উপদেষ্টার চেয়ে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের অধিকতর সক্রিয়তা নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছিল, সে সম্পর্কে তিনি বলেন, সেনাপ্রধানই সরকারের মূল দায়িত্বে—এ ধারণা যে সত্যি নয়, তা বোঝানোর জন্য গণমাধ্যমে আরও বেশি কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তারবার্তায় বলা হয়, এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম মো. আমিনের সঙ্গেও কথা বললে তাঁর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, ‘দেশের সব সমস্যার বোঝা কেন আমাদের ঘাড়ে নিতে যাব?’ তাঁর মতে, সেনাবাহিনী এখন যে কাজ করছে তার জন্য তারা একদিন বীর হিসেবে বিবেচিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো সেনাবাহিনীও ২০০৮ সালের শেষ নাগাদ নির্বাচন দেখতে চায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক সোবহান প্রথম আলোর কাছে তারবার্তার বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, ‘তাদের সঙ্গে অবশ্যই কথা হয়েছে। কিন্তু এখানে আমাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।’

মার্কিন দূতাবাসকে কারা মহাপরিদর্শক: ভিআইপি বন্দীদের নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়া ভিআইপি বন্দীদের নিয়ে ‘কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি’ হয়েছিলেন তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসান। বিশেষ করে, সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে। কারা মহাপরিদর্শক মার্কিন দূতাবাসকে এ কথা জানিয়েছিলেন।
২০০৭ সালের শেষ দিকে ঢাকায় নিযুক্ত একজন মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে জাকির হাসান এ কথা বলেন। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন তারবার্তায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
তারবার্তায় বলা হয়, কারা মহাপরিদর্শক জাকির হাসান বলেন, দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়, যা তাঁকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। তিনি জানান, দুই নেত্রীকে দেখতে তিনি সাব-জেলে গিয়েছিলেন। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয় যে, দুই নেত্রী কারাগারে থাকতে কখনোই ভালো বোধ করবেন না। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করে।
তারবার্তায় বলা হয়, শেখ হাসিনার একজন আইনজীবী দাবি করেন, জেল কোড অনুযায়ী তিনি (শেখ হাসিনা) মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কারা মহাপরিদর্শক জানান, তিনি আইনজীবীর এমন দাবি নাকচ করে দেন। হাসিনার ওই আইনজীবীর যুক্তি, জেল কোড অনুযায়ী বন্দীরা ‘মৌখিকভাবে যোগাযোগ’ করতে পারে। এ যুক্তিতে শেখ হাসিনা মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারেন। জাকির হাসান ওই যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, ‘মৌখিক যোগাযোগ’ বলতে সামনাসামনি কথা বলাকে বোঝানো হয়েছে, ফোনের মাধ্যমে নয়। কোনো বন্দীরই ফোন ব্যবহারের নিয়ম নেই।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, মানবাধিকারকর্মী সিগমা হুদা কারারক্ষীদের ঘুষ দিয়ে ফোন ব্যবহার করেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিলেন। পরে তাঁর নির্দেশে ওই ফোন এবং সংশ্লিষ্ট কারারক্ষীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। কারাগারে সিগমা হুদার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ না দেওয়ার কথা অস্বীকার করে জাকির হাসান বলেন, তাঁর (সিগমা) প্রতি কারা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজর ছিল। সিগমা হুদা তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথা বলেছেন, চিকিৎসার জন্য সুযোগ-সুবিধাও পেয়েছেন।
তারবার্তায় বলা হয়, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কাজ করতে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন কারা মহাপরিদর্শক জাকির হাসান। তিনি জানান, বিগত জোট সরকারের আমলে তিনি কোনো কাজের জন্য সরাসরি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন, কিন্তু এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের অধীনে। কারা মহাপরিদর্শক হলেও খুব সহজে তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। এর ফলে আগে কোনো কাজ কয়েক দিনে করতে পারলেও এখন একই কাজের জন্য কয়েক সপ্তাহের প্রয়োজন হয়।
তারবার্তায় বলা হয়, ব্রিগেডিয়ার জাকির হাসান জানান, ওই সময়ে সারা দেশের কারাগারের ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। তিনি আরও জানান, ২০০৫ সালে কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন সংস্কার করেন তিনি। কারাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিষয়টি জানতে পেরে কারাগারের মধ্যে তিনি গোয়েন্দা সার্ভিস গঠন করেন। এ সার্ভিসের মাধ্যমে কারাগারের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হতো।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, কারাগারে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের জন্য একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। কয়েকজন সাংসদ ওই সিন্ডিকেটে জড়িত ছিলেন। জানা গেছে, সিন্ডিকেট ভাঙায় ক্ষুব্ধ সাংসদেরা কারা মহাপরিদর্শক পদ থেকে জাকির হাসানকে সরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন। কারাগারে ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হওয়ায় কারারক্ষী ও কর্মকর্তাদের অনেকে ক্ষুব্ধ ছিলেন। কারা মহাপরিদর্শককে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁরাও তৎপর ছিলেন।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More