Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Sunday, September 18, 2011

 ‘বাংলা ভাইয়ের সহযোগীর মুক্তির ব্যবস্থা করেন তারেক রহমান’

তারেক রহমান তারেক রহমান
উগ্রপন্থী দল জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের সহযোগী খামারু আটক হওয়ার পর তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। তাঁর হস্তক্ষেপে খামারুকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎ ফুজ্জামান বাবর। উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তা অনুযায়ী, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তখনকার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জুডিথ চামাসকে একথা জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকী।
দূতাবাসের তারবার্তায় বলা হয়, ২০০৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জুডিথ চামাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকীর। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে গোপন তারবার্তাটি পাঠান চামাস।
তারবার্তার তথ্য অনুযায়ী, কামাল সিদ্দিকী মার্কিন কূটনীতিককে জানান, জেএমবি নেতা খামারুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর। ভূমি প্রতিমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পরামর্শে তারেক রহমান এ কাজ করেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
কামাল সিদ্দিকী মার্কিন দূতাবাসকে বলেন, জেএমবির বিষয়ে সরকার ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার জেএমবির সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে না। বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতা জেএমবির বড় বড় সন্ত্রাসীকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।
কামাল সিদ্দিকী বলেন, জেএমবির পক্ষে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের বেশির ভাগ একসময় জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ছিলেন। জামায়াত বিএনপির সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর তাঁরা দল ছেড়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আরও বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে কিছু বিদেশিও জেএমবিকে সহযোগিতা করছে।’
মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কামাল সিদ্দিকীকে বলেন, জেএমবির সঙ্গে ভারত কিংবা আওয়ামী লীগের যোগসাজশের ঢালাও অভিযোগ তোলায় সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ দিয়েই কেবল সরকারের অবস্থান মূল্যায়ন করা হবে। যেমন জেএমবির বড় নেতাদের গ্রেপ্তারে সরকারের সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধ এবং জেএমবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিবেচনা করা হবে। জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় বলে জানান মার্কিন কূটনীতিক। তবে তিনি বলেন, জেএমবির বিষয়টি তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি সহযোগিতার যে প্রস্তাব দিয়েছে তা গ্রহণে বাংলাদেশ সরকার অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাকে কামাল সিদ্দিকী আরও জানান, জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দলের কমপক্ষে ৫০ জন সাংসদ জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকতে চান না। বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন কামাল সিদ্দিকী।
২১ ডিসেম্বর পাঠানো আরেকটি তারবার্তায় বলা হয়েছে, কামাল সিদ্দিকীর সঙ্গে ওই সাক্ষাতের পাঁচ দিন পর ১৯ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও দূতাবাসের আরেক কর্মকর্তা। এ সময় বাবর দাবি করেন, খামারুর মুক্তির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি তখন সিঙ্গাপুরে ছিলেন। বাবর বলেন, তিনি পরে জানতে পারেন একজন তরুণ কর্মকর্তা জেলার সব থানায় খোঁজ নিয়ে খামারুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেন।
বাবর বলেন, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কুয়েতভিত্তিক এনজিও রিভাইভাল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটির বন্ধ করে দেওয়া ব্যাংক হিসাব চালুর অনুমোদন দেওয়ায় তিনি খুব ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। উগ্রপন্থী আহলে হাদিস মসজিদে সহায়তা দেওয়ার কারণে ২০০৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল হিসাবটি।
তারবার্তার ভাষ্যমতে, বাবর আরও বলেন জেএমবির সঙ্গে কোনো সরকারি কর্মকর্তা জড়িত থাকলে ছাড় পাবেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, রাজশাহী এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাস দমনে কাজ করার সময় বাংলা ভাইকে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী সহযোগিতা করেছিলেন।
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কামাল সিদ্দিকীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

 খালেদার সঙ্গে যোগাযোগ: মওদুদকে দূত করতে চেয়েছিলেন হাসিনা

আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপথ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এ জন্য সম্ভাব্য দূত হিসেবে বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
উইকিলিকস প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় এ কথা বলা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ মে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টির সঙ্গে বৈঠক করেন রিজভী। বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে ২৮ মে ওয়াশিংটনে তারবার্তা পাঠান মরিয়ার্টি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে গওহর রিজভী আরও বলেছিলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে গঠিত মহাজোট সরকারের শুরুতে আমলাদের অদক্ষতা ও সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ গ্রহণে বাধার সৃষ্টি করে।
তারবার্তায় বলা হয়, বৈঠকে আমলাদের অদক্ষতা বিষয়ে একটি উদাহরণ তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, দরিদ্র জনগণের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত হয়েছিলেন। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পরে জানা যায়, সরকারের জড়তার কারণে ওই প্রকল্পের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর আগের আমলের (১৯৯৬-০১) আমলাদের তুলনায় এ দফার আমলাদের দক্ষতার লক্ষণীয় অবনমনের কথা বলেছেন। তবে রিজভীর মন্তব্য, ‘আমলাদের অনিচ্ছা বা সহায়তা না করার মানসিকতা নেই। আসলে তাঁদের কাজ করার সামর্থ্য নেই।’
তারবার্তায় বলা হয়, রিজভী সরকারের একটি ইতিবাচক কার্যক্রম হিসেবে ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে গৃহীত ই-গভর্নেন্সের বিষয়টির উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিদেশে পড়াশোনা করা তরুণ বাংলাদেশিদের একটি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে দপ্তর স্থাপন করেছে। ইউএনডিপির সহায়তায় তাঁরা সরকারের সেবা দেওয়ার পথগুলোর উন্নতি করেছেন।
গওহর রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের বিষয়টিও সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রিজভীর পর্যবেক্ষণে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের সময়টি সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল।
বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অর্থনৈতিক বিষয়ে জাতীয়করণ ধরনের কয়েকটি সরকারি পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রিজভী বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উদ্বেগের বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন।
বৈঠকে মরিয়ার্টি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে তাগিদ দেন। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আস্থা বাড়াতে উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে নয়াদিল্লির কাছে হস্তান্তরের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। ২৮ মে রিজভী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, অনুপ চেটিয়ার প্রসঙ্গ তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী দৃশ্যত আগ্রহী হলেও বলেছেন, অনুপ চেটিয়া কোথায় তা তিনি জানেন না। তবে জানার চেষ্টা করবেন।
তারবার্তায় বন্ধনীর মধ্যে টীকা দিয়ে বলা হয়, অনুপ চেটিয়া ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে আছেন বলে জানা যায়। তারবার্তার মন্তব্য অংশে বলা হয়, রিজভী স্বীকার করেন, সরকারের কিছু বড় ইস্যু ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এর কারণ হিসেবে স্বামীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর মানসিক অবস্থা ও বিডিআর বিদ্রোহ মোকাবিলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে এর পরও রিজভীকে আশাবাদী মনে হয়েছে বলে লিখেছেন রাষ্ট্রদূত।
এ ব্যাপারে মন্তব্য জানার জন্য গওহর রিজভীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি

গাদ্দাফি-ব্লেয়ার গোপন বৈঠক ফাঁস

লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি এবং ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার গোপনে বৈঠক করেছিলেন। ব্লেয়ারকে লিবিয়ায় নিতে ব্রিটেনে উড়ে আসে গাদ্দাফির বিলাসবহুল ব্যক্তিগত বিমান। এর কিছুদিন পরই মুক্তি পান লকারবি বোমা হামলায় সাজাপ্রাপ্ত লিবীয় নাগরিক আবদেলবাসেত আল-মেগরাহি।
ব্লেয়ারের ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়, ত্রিপোলির ব্রিটিশ দূতাবাস এবং লন্ডনে লিবীয় দূতাবাসের মধ্যে চালাচালি হওয়া চিঠি ও ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে ব্লেয়ার ও গাদ্দাফির গোপন বৈঠকের বিষয়টি ফাঁস হয়। এতে গাদ্দাফির সঙ্গে ব্লেয়ারের সম্পর্ক এবং মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্রিটেনের দ্য সানডে টেলিগ্রাফ ওই চিঠি ও ই-মেইল বার্তা হাতে পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়, লিবিয়ায় তাঁদের বৈঠকের আগে ব্লেয়ারের জন্য গাদ্দাফি তাঁর ব্যক্তিগত বিমান পাঠান। গাদ্দাফির খরচেই ব্লেয়ার ২০০৮ সালের জুন এবং ২০০৯ সালের এপ্রিলে লিবিয়া সফর করেন। যদিও ওই সময় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। লিবিয়া তখন হুমকি দিয়ে বলেছিল, মেগরাহিকে মুক্তি না দিলে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তারা সব ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
ব্লেয়ারের ওই বৈঠক সম্পর্কে সরকারি কোনো ওয়েবসাইটে তথ্যপ্রমাণ নেই। তবে লকারবি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একজনের পরিবারের ফোন কলের সূত্র ধরে বিষয়টি ফাঁস হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যক্তি গাদ্দাফির সঙ্গে ব্লেয়ার শাসনামলে করা সব গোপন চুক্তি প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা যায়, ওই বৈঠকে ব্লেয়ারের সঙ্গী হয়েছিলেন একজন মার্কিন ধনকুবের। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের জন্য লিবিয়ার উপকূলে অবকাশযাপনকেন্দ্র নির্মাণ করতে বলেছিলেন গাদ্দাফি।
ওই সফরের ব্যাপারে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে ব্লেয়ারের ব্যক্তিগত কার্যালয়। ব্লেয়ার সরকার লিবিয়া সফরের আলাপ-আলোচনায় গাদ্দাফির নাম উল্লেখ করেননি। গাদ্দাফিকে তারা ‘দ্য লিডার’ বা নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গাদ্দাফির সঙ্গে ব্লেয়ারের গোপন বৈঠকের বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় লকারবি বোমা হামলায় নিহত লোকজনের পরিবারে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ওই হামলায় নিহত হয়েছিলেন প্যান ডিক্সের ভাই। ব্লেয়ারের সফর সম্পর্কে ডিক্স টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘ব্লেয়ারের সফরের খরচ বহন করেছেন গাদ্দাফি। এটা জেনে আমি হতভম্ব হয়েছি। এ সুযোগ গ্রহণ করে ব্লেয়ার অপরাধ করেছেন। আর তাঁরা ওই বৈঠকে যেসব গোপন চুক্তি করেছেন, সেগুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত।’
লিবিয়ায় নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত অলিভার মাইলস এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্লেয়ার তাঁর ডাউনিং স্ট্রিটের যোগাযোগকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন।
মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে ব্লেয়ার তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলেছেন, স্কটল্যান্ডের নির্বাহী কর্মকর্তারাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ব্লেয়ার ও গাদ্দাফির ওই গোপন বৈঠকের সময় মেগরাহির মুক্তি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। মেগরাহি প্যান অ্যাম বিমানের ফ্লাইটে বোমা হামলা চালিয়ে ২৭০ জনকে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনায় মেগরাহি দোষী সাব্যস্ত হন। এরপর মেগরাহি ক্যানসারে আক্রান্ত হলে ২০০৯ সালে তাঁকে যুক্তরাজ্যের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। যদিও মেগরাহি আর তিন মাস বাঁচবেন বলে তখন চিকিত্সকেরা জানিয়েছিলেন।

Wednesday, September 14, 2011

 আলোচনা সভায় নাজমুল হুদা মুজিবকে জাতির পিতা বলতে দ্বিধা বোধ করি না

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য নাজমুল হুদা বলেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। এই ভাষণের মধ্য দিয়েই এ দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাই তাঁকে জাতির পিতা বলতে দ্বিধা বোধ করি না।’
জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী জিয়া ফ্রন্ট আয়োজিত ‘জনতার জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নাজমুল হুদা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমানসহ জাতীয় নেতাদের যাঁর যা অবদান তা স্বীকার করতে হবে।
সদ্য প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটির উদ্যোগে এটাই প্রথম কোনো আলোচনা সভা। সংগঠনের আহ্বায়ক আকবর আমিন সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাই সংগঠনের মূল কাজ।
সংগঠনের সঙ্গে নাজমুল হুদার সম্পর্ক জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সভায় তিনি অতিথি হিসেবে এসেছেন। এই সংগঠনটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হবে কি না, তা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলতে পারবেন।
বিএনপির দপ্তরে কর্মরত এক নেতা বলেন, এ ধরনের সংগঠনের নাম আগে শুনিনি। জিয়াউর রহমানের নামে অনেকেই সংগঠন করেন। তবে এগুলো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিএনপির কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয় না।
সভায় নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি সঠিক ইতিহাস। সরকার বদলের সঙ্গে ইতিহাস পরিবর্তনের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সঠিক ইতিহাস লেখার জন্য দক্ষ ইতিহাসবিদ এবং এ দেশের জনগণকে কাজে লাগাতে হবে।’
জোট সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এ দেশে অনেক সমস্যা। সংসদ অকার্যকর, ছাত্ররাজনীতি বিপথে চলে গেছে, রপ্তানি খাতগুলোতে নানা সমস্যা। অথচ এসব জাতীয় সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে রাজনীতিবিদেরা সর্বক্ষেত্রে বিভেদ সৃষ্টি করে চলেছেন। তাঁরা মুখোমুখি ও সাংঘর্ষিক রাজনীতির পথে চলছেন। এভাবে চলার কারণে দেশের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। দেশ পেছনের দিকে চলছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক আইনজীবী আকবর আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ন্যাশনাল সিকিউরিটি পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

Wednesday, September 7, 2011

 আ.লীগ পাবে ১৮০ আসন, বিএনপি ৮০

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা ছিল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৮০টি ও বিএনপি ৮০টি আসনে জয় পাবে। বাকি ৪০টি আসন পাবে জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির ওয়াশিংটনে পাঠানো একটি তারবার্তায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। গত ৩০ আগস্ট সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস এই তারবার্তাটি ফাঁস করে।
তারবার্তা থেকে জানা যায়, নির্বাচনের এক দিন আগে ২০০৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর মরিয়ার্টি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তত্কালীন যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম কাদেরের সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে মরিয়ার্টির কাছে উপদেষ্টা গোলাম কাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জরিপের পাওয়া নির্বাচনের ফলাফলের এ পূর্বাভাস ব্যক্ত করেন। গোলাম কাদের মরিয়ার্টিকে বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতলে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ২০০৯-এর ১০ জানুয়ারি সরকার গঠিত হবে। (বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হওয়ায় এ তারিখটি আওয়ামী লীগের কাছে অন্য রকম গুরুত্ব বহন করে)। তবে বিএনপি জিতলে যত দ্রুত সম্ভব তাদের সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হবে বলে গোলাম কাদের জানান।
এ প্রসঙ্গে মরিয়ার্টি তাঁর তারবার্তায় লিখেছেন, ‘বিএনপি জিতলে ৩০ ডিসেম্বরের পরপরই সরকার গঠনের ব্যাপারটি আমার কাছে একটু অতিশয়োক্তি মনে হচ্ছে। কারণ, ৩০ ডিসেম্বর তো নির্বাচনের সরকারি ফলই প্রকাশিত হবে না।’
গোলাম কাদের মরিয়ার্টিকে বলেছিলেন, নির্বাচনের পরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। গোলাম কাদের মরিয়ার্টিকে আরও বলেন, আগামীকাল (২৮ ডিসেম্বর) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা শেষ বৈঠকে মিলিত হয়ে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজ-কর্মগুলো পর্যালোচনা করবেন।
মরিয়ার্টি তাঁর সেই তারবার্তায় লিখেছেন, ২৭ ডিসেম্বর তিনি যখন গোলাম কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন, তাঁকে তখন বেশ নির্ভার দেখাচ্ছিল। তিনি সেদিন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি নির্বাচনের দিন মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা হবে কি না, সে ব্যাপারেও মরিয়ার্টির সঙ্গে কথা বলেন। মরিয়ার্টি তারবার্তায় লিখেছেন, গোলাম কাদের ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনের দিন মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন এবং এ ব্যাপারে তিনি নিজের মতামত মরিয়ার্টির কাছে তুলের ধরেন। তবে তিনি স্বীকার করেছিলেন, মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ না করেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আরও বিকল্প রয়েছে।

‘বিমান পাঠাও, তোমার জন্য জুতা নিয়ে আসব’

ঢিল মারলে যে পাটকেলটি খেতে হয়, ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর বোধ হয় জানা ছিল না। তাই তো তিনি উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তথ্যে ক্ষুব্ধ হয়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে আগ্রার পাগলা গারদে পাঠানোর কথা বলেছেন। খেপা মানুষ অ্যাসাঞ্জও কম যান না। মায়াবতীকে যুক্তরাজ্যে বিমান পাঠাতে বলেছেন। ভারতে আসার সময় মায়াবতীর জন্য ভালো জুতাও আনবেন বলে জানিয়েছেন অ্যাসাঞ্জ।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। মার্কিন গোপন তারবার্তা ফাঁস করে মায়াবতীর ব্যাপারে উইকিলিকস একটা বোমাই ফাটিয়েছিল। অভিযোগ গুরুতর। ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবরের এক তারবার্তায় বলা হয়, যখন মায়াবতীর নতুন স্যান্ডেলের দরকার হয়, তখন তাঁর পছন্দের ব্র্যান্ডের স্যান্ডেল আনতে মায়াবতীর ব্যক্তিগত বিমান মুম্বাইয়ে উড়ে যায়।
শুধু তা-ই নয়; ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান মায়াবতীকে (৫৫) প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ভাবনায় আচ্ছন্ন ‘প্রথম শ্রেণীর অহং-সর্বস্ব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
উইকিলিকসে প্রকাশিত তারবার্তায় বলা হয়, দলের সদস্য, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার উপহার নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিবছর জন্মদিন পালন করেন দলিত সম্প্রদায়ের মায়াবতী। জন্মদিন পালনের সময় তাঁকে কেক খাওয়ানোর জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয় কর্মকর্তাদের মধ্যে। তারবার্তায় বলা হয়, মায়াবতী নিজের বাড়ি থেকে অফিস পর্যন্ত একটি ব্যক্তিগত সড়ক নির্মাণ করেছেন।
উইকিলিকসে প্রকাশিত ওই তারবার্তার তথ্যের প্রতিক্রিয়ায় মায়াবতী ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্র পাঠানো উচিত বলে মন্তব্য করেন। মায়াবতী উইকিলিকসের এ অভিযোগকে নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন। মায়াবতী বলেন, ‘উইকিলিকসপ্রধান হয় পাগল হয়ে গেছেন, অথবা আমাদের বিরোধীদের সমর্থন করছেন।’ তিনি অ্যাসাঞ্জকে আগ্রার মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তিরও প্রস্তাব দেন।
মায়াবতীর এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠান। অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, ‘মায়াবতী যুক্তিসংগত বিচারবুদ্ধির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রশ্ন হলো, তিনি কি দলিতদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন? কোনো সন্দেহ নেই যে এই দলিলগুলো মার্কিন দূতাবাসের। এই দলিল বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত। এমনকি ওয়াশিংটন কর্তৃকও।’
মায়াবতী উদ্দেশে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘হিলারির সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের যোগাযোগে এ অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর যদি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকে, তা নিয়ে হিলারির সঙ্গে কথা বলা উচিত। আমি তাঁকে তাঁর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাই।’
অ্যাসাঞ্জ আরও বলেন, ‘তিনি যদি তা করতে ব্যর্থ হন, তবে আমাকে যুক্তরাজ্য থেকে নিয়ে যেতে তাঁর ব্যক্তিগত বিমান পাঠানোকে স্বাগত জানাই, আমি যেখানে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গত ২৭২ দিন ধরে গৃহবন্দী আছি। ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে আমি আনন্দিত হব, দেশটিকে আমি ভালোবাসি। ভারতে যাওয়ার সময় আমি মায়াবতীর জন্য যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ভালো জুতা নিয়ে যাব।

Tuesday, September 6, 2011

 হুজির আইডিপি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে ডিজিএফআই

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) রাজনৈতিক দল ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টি (আইডিপি) সৃষ্টিতে সহায়তা করেছিল বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। আর এ পদক্ষেপের পক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে সাফাই করেছিলেন ডিজিএফআইয়ের তত্কালীন পরিচালক এ টি এম আমিন ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ওয়াশিংটনে পাঠানো গোপন তারবার্তায় এ কথা উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি ভিন্নধারার গণমাধ্যম উইকিলিকস এই তথ্য ফাঁস করে।
২০০৮ সালে ১৬ অক্টোবর ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক তারবার্তায় বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি) রাজনৈতিক স্বীকৃতি চায়। এ লক্ষ্যে তারা ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি (আইডিপি) নামে একটি রাজনৈতিক দলও ঘোষণা করেছে। ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির (আইডিপি) নেতারা দাবি করেছেন, ইসলামি শরিয়া আইনের অধীনে বাংলাদেশে তারা সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
হুজি-বির এ পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বলেছেন, ‘হুজি-বি’কে অবশ্যই মূলধারার রাজনীতিতে আসার অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়।
তারবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইডিপি দেশব্যাপী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে। যদিও দলটির নেতারা দাবি করেছেন, তাঁরা শান্তি ও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করছেন। তবে সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূতদের এ বিষয়ে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, দলটি তাদের মূল সন্ত্রাসী সংগঠন ত্যাগ করেনি।
তারবার্তায় বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি আত্মপ্রকাশ করে। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশ নেয়।
ঢাকার অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তথ্যের বরাত দিয়ে ওই তারবার্তায় বলা হয়, আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদ কমান্ডার আবদুস সালাম আইডিপির আহ্বায়ক। দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম বলেন, দলটি বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে তা সন্ত্রাসী পন্থায় নয়।
১৬ অক্টোবর পাঠানো অপর এক মার্কিন তার বার্তায় বলা হয়েছে, তত্কালীন ডিজিএফআই-এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আমিন ১৫ অক্টোবর ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর, এবং আঞ্চলিক কাউন্সেলরের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। ওই সাক্ষাতে এ টি এম আমিন আইডিপিকে মূলধারার রাজনীতিতে নিয়ে আসার পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই করেন। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। তিনি হুজির কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশেষ করে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মার্কিন সরকারের উদ্বেগের কথা জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ টি এম আমিন জানান, তারা আইডিপিকে গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার।
জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) রাজনৈতিক দল ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টির (আইডিপি) আত্মপ্রকাশ নিয়ে ২০০৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রথম আলোতে ‘আইডিপি নামে এবার প্রকাশ্য রাজনীতিতে হুজি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টি—আইডিপি’ নামে প্রকাশ্য রাজনীতি শুরু করেছে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি)। রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে সাবেক আফগান মুজাহিদদের এ সংগঠন।
সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম তখন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সংগঠন এ দেশে ১৯৯২ সালেই আত্মপ্রকাশ করে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ নামে। এরপর ১৯৯৮ সালে তা বিলুপ্তি ঘোষণার পর তাঁরা ‘ইসলামী গণ-আন্দোলন’ নামে সংগঠন করেন। সেই সংগঠন থেকে এখন তাঁরা আইডিপি নামে কাজ করছেন।
মাওলানা শেখ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আইডিপির ওই ইফতার ও আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতারা ছাড়াও সংগঠনের ভাষায় ‘আন্ত-সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উন্নয়নের স্বার্থে আমন্ত্রিত’ ইংরেজি সাপ্তাহিক ব্লিেজর সম্পাদক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশের সহকারী নির্বাহী সম্পাদক ও হিউম্যান রাইটস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের পি কে বড়ুয়া, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি চিত্ত ফ্রান্সিস রিভেরু বক্তব্য দেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী বলেন, আইডিপির আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনীতির জন্ম হলো। তিনি বলেন, আইডিপির সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের নাম জড়িত। এটা এমন একটি সংগঠন, যার সম্পর্কে নানা আলোচনা রয়েছে। আইডিপিকে যারা সন্ত্রাসী সংগঠন বলে, ওই সব পত্রিকা বিদেশের টাকায় চলে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ এবং বালি বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সত্ত্বেও হিযবুত তাহরীরের মতো সংগঠন যদি এ দেশে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারে, তাহলে আইডিপি কেন পারবে না। যারা বাংলাদেশকে করদ রাজ্য বানাতে চায়, তারা আইডিপিকে হুমকি মনে করে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আইডিপির সদস্যসচিব মাওলানা রুহুল আমিন, তিন যুগ্ম আহ্বায়ক কারি হোসাইন আহমদ, মাওলানা আবুল কাশেম রহমানী ও মাওলানা মাহবুবুর রহমান এবং মাওলানা মুফতি কামাল, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মুফতি ফজলে এলাহি, মাওলানা মুফতি নোমান, খেলাফত মজলিসের (ইসহাক) নায়েবে আমির এমদাদুল হক আড়াইহাজারী, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির ছফর উল্লাহ খান, জৈনপুরী পীর মাওলানা এহছানুল্লাহ আব্বাসী প্রমুখ। এ ছাড়া মরহুম হাফেজ্জী হুজুরের মেজ ছেলে হাফেজ মাওলানা হামিদুল্লাহ ও মাওলানা আতাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তৃতায় মাওলানা আবদুস সালাম নিজেদের আন্তর্জাতিক মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে বলেন, তাঁরা মদিনা সনদের আলোকে একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চান।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপসহ নানা কারণে সংগঠনটি বিভিন্ন সময় নাম পাল্টালেও এর নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো, মজলিশে শুরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় একই ছিল। ২০০৬ সালের আগস্টে প্রথম গোপন এ সংগঠনটি ইসলামি গণ-আন্দোলন নামে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসার চেষ্টা করে। এ লক্ষ্যে ওই বছরের ১৮ আগস্ট জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সচেতন ইসলামী জনতার ব্যানারে বড় একটি সমাবেশ করেছিল। তখন সচেতন ইসলামী জনতার আহ্বায়ক হিসেবে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা আবু তাহের। এই তাহের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। বর্তমানে তিনি কারাগারে। আবু তাহের হুজির ঢাকা মহানগর সভাপতি ও মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন।
বিভিন্ন নাশকতামূলক ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবর হুজিকে নিষিদ্ধঘোষণা করে। ২০০২ সালের ২১ মে বাংলাদেশের হরকাতুল জিহাদকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। গত ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিত্সা রাইস এক নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশের হুজিকে একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং একটি ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা দেন।
হুজির সঙ্গে জড়িত মুফতি হান্নানসহ অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আছে—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালেই মুফতি হান্নানকে আমরা দল থেকে বহিষ্কার করি। বহিষ্কারের পর কেউ যদি ওই নামে নাশকতা করে থাকে, তার দায়-দায়িত্ব তাদেরই। আমাদের ওপর বর্তায় না। তবে সরকারকে ধন্যবাদ, তাদের ধরেছে। এখন তাদের বিচার চলছে।’

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More