Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Monday, September 5, 2011

সাকার আশঙ্কাই সত্যি

উইকিলিকসে প্রকাশ্য

সাধারণ নির্বাচনের আগেই বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা) আশঙ্কা ছিল তার জিতে আসা কঠিনই হবে এবার। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক গোপন বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন, যা প্রকাশ করেছে উইকিলিকস।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের ওয়েবসাইট উইকিলিকস গত ৩০ অগাস্ট প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবল প্রকাশ করে। এর মধ্যে একটি ছিলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদীয় উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর রাঙ্গুনীয় আসনে নির্বাচনকে ঘিরে।

তারবার্তায় মরিয়ার্টি সাকাকে 'চট্টগ্রামের গডফাদার' হিসেবে অভিহিত করে তার পুননির্বাচিত হওয়া অনেক কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি লিখেন, এই আসনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুননির্বাচিত হওয়া কঠিনতর হবে। আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে হাড্ডাহাড্ডি।

২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়জউদ্দিন আহম্মদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। এর প্রায় দুই বছর পর ২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মরিয়ার্টি ওই তারবার্তাটি পাঠান ২৪ ডিসেম্বর।

মরিয়ার্টি লিখেছেন, নির্বাচনের আগে ওই আসনে বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েন করার মাধ্যমে পরাজিত করার নীল নকশা সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাকা চৌধুরী। শুধু তাই নয়, পরাজিত হলে তিনি চুপ করে বসে থাকবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন। পরাজিত করার জন্য সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার উঠেপড়ে লেগেছে এমন অভিযোগ শুধু সাকার নয়, দলটির অন্যান্য প্রার্থীদেরও।

২০০১ এর নির্বাচনে রাঙ্গুনীয়ার এই আসনে সাকা চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রার্থী থেকে প্রায় ১০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন।

তবে ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে সেনা সদস্য মোতায়েন হওয়ায় 'সুষ্ঠু' নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন সাকার মতো বিএনপির অন্যান্য প্রার্থীরাও, যোগ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক।

তিনি লিখেছেন, বিএনপি অভিযোগ করছে- এ নির্বাচনে ভোটে নয়, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পছন্দের জয়ী করা হবে। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাকা চৌধুরীও একই অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মরিয়ার্টি বলেন, তাদের ধারণা এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। যদিও একটি দৈনিকের জরিপে দেখা গেছে- আওয়ামী লীগ দুই অঙ্কের ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হচ্ছে। তবে সাকা এবং তার দলের অন্যান্য প্রার্থীরা ইঙ্গিত করেছেন, তারা পরাজিত হলেই ধরে নেওয়া হবে ভোট চুরির মাধ্যমে তাদের পরাজিত করা হয়েছে। আর সেনা মোতায়েনের বিষয়টি তুলে ধরে সাকা চৌধুরী সেদিকেই ইঙ্গিত করেন। পাশাপাশি তিনি একজন নির্বাচন পর্যবেক্ষককে এও বলেছেন- তিনি পরাজিত হলে চুপচাপ মেনে নেবেন না।

ওই জরিপের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, জরিপের ফলাফল যদি সত্যি হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে দুই বছরের জরুরি অবস্থার পর গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠায় বিএনপির মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

'প্রশ্নবিদ্ধ মন্ত্রীর কাঁধে আ. লীগের ভবিষ্যৎ'


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের দায়িত্ব এমন এক মন্ত্রীর কাঁধে, যার সততা প্রশ্নবিদ্ধ- যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সম্পর্কে এমন মূল্যায়নই ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি, যা প্রকাশ করেছে উইকিলিকস।

গতবছর ১০ ফেব্র"য়ারি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে পাঠানো এক গোপন তারবার্তায় মরিয়ার্টি লিখেছেন, "দুর্নীতির অভিযোগ এখনো যোগাযোগমন্ত্রীকে ঘিরে আছে। তিনি যে পদ্ধতিতে কাজ করেন, তার বেশ কিছু সমস্যার কথা বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন। তাছাড়া চীনের সঙ্গে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টিও সবার জানা।"

প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবলের সঙ্গে মরিয়ার্টির এ বার্তাটিও গত ৩০ অগাস্ট প্রকাশ করেছে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হৈ চৈ ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস। এর আগে গত বছর বিভিন্ন দেশে দূতাবাসের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিনিময় করা আড়াই লাখেরও বেশি গোপন বার্তা প্রকাশ করে এই ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিপাকে ফেলে দেয়।

মরিয়ার্টির পাঠানো এই বার্তার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ এর ৩ ফেব্র"য়ারি যোগাযোগমন্ত্রীর দেওয়া এক ভোজসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই আবুল হোসেনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তার কথা হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সহযোগিতার প্রশংসা করলেও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) শর্ত নিয়ে আপত্তি তুলে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে তদবির করতে অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন যে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের নিশ্চয়তার জন্য খুবই জরুরি- সে বিষয়টিও মরিয়ার্টিকে বুঝিয়ে বলেন আবুল হোসেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য কাজের অনেক সুযোগ আছে- এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে তিনি ঢাকায় উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণেও আমেরিকার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বড় বড় প্রকল্প নিয়ে তদবির চালিয়ে গেলেও সময়মতো মহাসড়ক মেরামত না করায় আবুল হোসেন স¤প্রতি সরকারের ভেতরে-বাইরে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন।

সড়কের নাজুক দশার কারণে গত রোজায় রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে গাজীপুর হয়ে ১৩টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিকরা। এছাড়া দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা বাড়তে থাকায় সড়কগুলোর অবস্থা নতুন করে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন মহল থেকে যোগাযোগমন্ত্রীকে অপসারণেরও দাবি ওঠে।

সময়মতো সড়ক মেরামত না করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এক বৈঠকে যোগাযোগমন্ত্রীকে তিরস্কার করেন। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঈদের ছুটি বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক মেরামত শুরু হয়।

পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে আবুল হোসেন সেই ভোজসভায় রাষ্ট্রদূতকে বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এই প্রকল্পের জন্য ঋণ দিতে রাজি হলেও জাইকা চুক্তিটি দুটি ভাগে ভাগ করে দুই প্রতিষ্ঠানকে সেতুর সাব ও সুপার স্ট্রাকচার নির্মাণের দায়িত্ব দিতে বলছে। সেক্ষেত্রে জাইকা সাব স্ট্রাকচারের জন্য অর্থায়ন করবে।

কিন্তু এ প্রকল্পের অন্য উন্নয়নসহযোগীরা জাইকার এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে জানিয়ে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে বলেন, দুই কোম্পানিকে কাজ দিলে ভবিষ্যতে যে কোনো সমস্যার জন্য ঠিকাদাররা পরস্পরের ওপর দোষ চাপানোর সুযোগ পাবে। এতে জটিলতাও বাড়বে।

"জাইকা যাতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে- সেজন্য জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও আমেরিকা সরকারের সহযোগিতা চান মন্ত্রী", বলা হয় মরিআর্টির তারবার্তায়।

২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জন্য গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৬ জুনের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলার, এডিবির সঙ্গে সাড়ে ৬১ কোটি ডলার, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার এবং জাইকার সঙ্গে ৪১ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের বাকি অর্থের যোগান সরকারই দেবে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, নদীর ওপর সেতুর মূল দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। আর দুই পাশে সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার।

সেতুর নির্মাণকাজ তদারকির জন্য ইতোমধ্যে একটি বিদেশি সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এ সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই দেশের দীর্ঘতম সেতু নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তায় বলা হয়েছে, "আবুল হোসেন ও রাষ্ট্রদূত আলোচনায় একমত হয়েছেন যে, অনেক কেম্পানিই পদ্মা সেতুর কাজ পেতে আগ্রহী হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এরইমধ্যে ১৩টি প্রতিষ্ঠান তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রদূত তাকে একটি মার্কিন কোম্পানির কথা বলেছেন যেটি সেতু প্রকল্পের জন্য নদী খননের কাজ পেতে আগ্রহী। এছাড়া দরপত্র ডাকা হলে যুক্তরাষ্ট্রের আরো কোম্পানি নিশ্চিতভাবেই এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাবে।"

'চাক্ষুস প্রমাণ'

মরিয়ার্টি তার সরকারকে পাঠানো ওই বার্তায় বলেন, "নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে যোগাযোগমন্ত্রীর অন্য দুটি পরিকল্পনা হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক স¤প্রসারণ। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক স¤প্রসারণের ২০ কোটি ডলারের কাজের জন্য ১০টি দরপত্রে সাতটি বিদেশি ও তিনটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।"

এছাড়া একটি উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও মন্ত্রী মরিয়ার্টিকে জানান, যেটি বাস্তবায়ন করা হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে।

এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়ে আবুল হোসেন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, "মহানগরীতে যুক্তারাষ্ট্রের অর্থায়নে আমরা এমন একটি প্রকল্প চাই, যা হবে দুই দেশের সম্পর্কের 'চাক্ষুস' প্রমাণ।"

রেলের বেসরকারিকরণ

বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে আবুল হোসেন মরিয়ার্টিকে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন স¤প্রসারণের পাশাপাশি এই রেলপথকে 'ডাবল লাইন' করার কাজও শিগগির শুরু হবে।

এছাড়া ঢাকার যনজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলিভেডেট রেল ব্যবস্থা চালুর দায়িত্ব দিয়েছেন জানিয়ে আবুল হোসেন বলেন, জাইকা ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।

রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রী জানান, তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি স্বাধীন 'কর্পোরেট' প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চান, যার পরবর্তী ধাপ হবে বেসরকারিকরণ। এতে প্রতিষ্ঠানটির দক্ষতা ও কাজের মান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মরিয়ার্টি তার বার্তা শেষ করেছেন এভাবে- "যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোট নিশ্চিত করার মিশন সফল করতে মন্ত্রী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি যেসব বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কথা বলেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ব্যবসার বিপুল সুযোগ রয়েছে। ঢাকা দূতাবাস এই সুযোগের বিষয়টি প্রচার করার পাশাপাশি আগ্রহী মার্কিন কোম্পানিগুলো যাতে বৈধ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব কাজ পেতে পারে, সেই চেষ্টা করবে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

'হাসিনা-খালেদা চক্র ভাঙার পথ ইউনূস'

উইকিলিকসের তথ্য

- মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনীতিতে প্রবেশকে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার ক্ষমতা বলয় ভাঙার উপায় হিসেবে দেখেছিলো যুক্তরাষ্ট্র। উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি কূটনৈতিক তার বার্তায় বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য।

ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক হিন্দুতে প্রকাশিত ওই বার্তা থেকে জানা গেছে, রাজনীতিতে প্রবেশের সময় ইউনূস ধারণা করেছিলেন যে, তিনি দুই নেত্রীর বাজে প্রতিক্রিয়ার শিকার হতে পারেন।

২০০৭ সালের ১৩ ফেব্র"য়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কলকাতা কনস্যুলেট থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক গোপন বার্তায় এ সব কথা বলেন কনস্যুলার জেনারেল হেনরি জারদাইন।

এর মাত্র দুদিন আগে জরুরি অবস্থার মধ্যে শান্তিতে নোবেল জয়ী ইউনূস রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন।

'নাগরিক শক্তি' নামের রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি কলকাতা সফরে যান। ১১-১২ ফেব্র"য়ারি কলকাতা চেম্বার অব কমার্সের (সিসিসি) ১৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন গ্রামীণ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সফরে কলকাতা চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে জারদাইন ও ইউনূসের মধ্যে আলোচনার খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে এই তার বার্তায়।

এতে বলা হয়, ওই ভোজসভায় ইউনূসের রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান হেনরি জারদাইন। জবাবে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইউনূস ঝুঁকি আঁচ করতে পারছেন বলে জানান।

তিনি স্বীকার করেন, এজন্য দুই নেত্রীসহ ( শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া) প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে 'বাজে প্রতিক্রিয়া' আসতে পারে।

তবে 'দুঃশাসন আর দুর্নীতির' কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সত্যিকারের পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারছেন বলে জানান তিনি।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপক পরিবর্তন ও দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির ঠিক এক মাসের মাথায় ইউনূস রাজনৈতিক দল খোলার ঘোষণা দিলে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়, সামরিক বাহিনীর মদদেই তিনি নাগরিক শক্তি নামের এ দল খোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৩ মে দল গড়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন ইউনূস।

'জারদাইনের কাছে ইউনূস বলেন, দেশের শক্তিশালী দুই দলের নেতা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার কারণে দেশে রাজনীতিতে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে বহু মানুষের অনুরোধের কারণে তিনি রাজনীতিতে নামার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন,' বলা হয় ওই তার বার্তায়।

'ইউনূসের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে কলকাতা চেম্বারের সভাপতি মনোজ মহাঙ্কা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ইউনূসের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কথা তোলেন।

'এর তাৎক্ষণিক জবাবে ইউনূস বলেন, রাজনীতিতে পা রাখার ঝুঁকি তিনি আঁচ করতে পারছেন। তবে দুঃশাসন আর দুর্নীতির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সত্যিকারের পরিবর্তন আনার দায়িত্বশীল কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে।'

গ্রামীণ ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান ইউনূস বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, এর মাধ্যমে দেশে একটি সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ এড়ানো গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিককে ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মীয় মৌলবাদীদের সমর্থন না করলেও প্রভাবশালী দলগুলো রাজনৈতিক স্বার্থেই তাদের সঙ্গে জোট গড়েছে।

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে মৌলবাদী দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) সঙ্গে আওয়ামী লীগের 'চুক্তি' নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

"এই সমঝোতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নৈতিক ক্ষয় প্রতিফলিত হয়েছে, যা ছিলো অতিরিক্ত কিছু ভোট হাতিয়ে নেওয়ার বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সমীকরণ। এবং এটি ছিল তার (ইউনূস) দল গঠনের পরিকল্পনার একটি কারণ কারণ।"

প্রসঙ্গ: বন্দর

ভোজসভার আলোচনায় আঞ্চলিক বাণিজ্যের স্বার্থে ভারত, মিয়ানমার, ভূটান ও চীনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর উন্মুক্ত করে দেওয়ার পক্ষে মত দেন ইউনূস।

আঞ্চলিক প্রয়োজনীয়তা মেটাতে গ্রামীণ ব্যাংক চট্টগ্রামে একটি নতুন 'মেগা পোর্ট' প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা করছে বলেও জানান ইউনূস।

বিভিন্ন বিষয়ে ড. ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরে তার বার্তার উপসংহারে বলা হয়, "তিনি একজন উচ্চ নৈতিকতা সম্পন্ন এবং সাংগঠননিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ" মানুষ। আর ইউনূসের রাজনীতিতে প্রবেশ হতে পারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথ রূদ্ধ করে রাখা 'হাসিনা-খালেদা চক্র' ভাঙার একটি উপায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

আরেকটি ১৫ ফেব্রুয়ারি চেয়েছিলেন খালেদা

উইকিলিকসে প্রকাশ্য

২০০৭ সালের শুরুর দিনগুলোতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র"য়ারির মতো একটি একতরফা নির্বাচন করে বিরোধী দলহীন স্বল্পমেয়াদী একটি সরকার গঠনের কথা ভেবেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু ২২ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের কোনো প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিসের গোপন তারবার্তা থেকে জানা গেছে এ তথ্য; উইকিলিকস যা প্রকাশ করেছে।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হৈ চৈ ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস গত ৩০ অগাস্ট প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবলের সঙ্গে বিউটেনিসের এ সংক্রান্ত দুটি বার্তাও প্রকাশ করেছে।

২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়জউদ্দিন আহম্মদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে 'ওয়ান ইলেভেন' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই তারিখের মাত্র দুই দিন আগে ৮ ও ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে দুটি বার্তা পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

বিউটেনিস লেখেন, সেনাবাহিনী 'বিশ্বাসভঙ্গ' করে অভ্যুত্থান করতে পারে, কিংবা দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠানো হতে পরে- এমন কোনো আশঙ্কা মনে ঠাঁই দিতে প্রস্তুত ছিলেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ দুটি 'গুজব' উড়িয়ে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাও। বরং তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসন দিলে তার জন্য ভালোই হবে, কেননা তাতে তিনি নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

তখনকার নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিএনপির অনমনীয় অবস্থান; আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ব্যর্থতার মধ্যে ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা এবং ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন বাংলাদেশে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।

উইকিলিকসে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা সামরিক আইন জারি এবং দুই নেত্রীকে দেশত্যাগে বাধ্য করার মতো সম্ভবনাগুলো নিয়ে খালেদা ও হাসিনাকে 'সতর্ক' করে 'রাজনৈতিক সমঝোতার' প্রস্তাব দেন এই দুই কূটনীতিক।

দুই নেত্রীকেই তারা বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একটি অংশের অনুরাধে তারা সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন এবং তাদের দেশ সামরিক অভ্যুত্থানের মতো কোনো অসাংবিধানিক ঘটনায় সমর্থন বা উৎসাহ দেবে না।

বিউটেনিস ও আনোয়ার এও বলেন- কেবল দুই নেত্রীর সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমেই এ রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হতে পারে। তাদের রাজনৈতিক সমঝোতা হলেই দেশজুড়ে সহিংসতা এবং সামরিক অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

'খালেদার প্রস্তাব'

৭ জানুয়ারির একান্ত বৈঠকে কোনো ধরনের সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে খালেদা জিয়া পাল্টা অভিযোগ তোলেন- কথিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যই এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। তবে দুই রাষ্ট্রদূতই এ অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিউটেনিসের পাঠানো বার্তায়।

খালেদা দুই কূটনীতিকের কাছে দাবি করেন, তিনি সব সময়ই আওয়ামী লীগের সঙ্গে বসতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা কখনোই সাড়া দেননি।

"এখন অনেক 'দোরি হয়ে গেছে' উল্লেখ করে খালেদা জিয়া সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এর বদলে খালেদা প্রস্তাব দেন, পুনর্র্নিবাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী ভোটার পরিচয়পত্র প্রবর্তনসহ নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করে ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে তিনি আবারো নির্বাচন দিতে পারেন।"

এর আগে ১৯৯৬ সালেও এভাবে একতরফা নির্বাচন করে সংক্ষিপ্ত মেয়াদের জন্য সরকার গঠন করেছিলেন খালেদা জিয়া। সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ওই বছর ১৫ ফেব্র"য়ারির নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপি অবশ্যম্ভাবীভাবে পুনর্র্নিবাচিত হয়। ওই সরকারের সংক্ষিপ্ত মেয়াদে সংবিধান সংশোধন করে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু করে এবং জুনে আবারো নির্বাচন দেয়, যাতে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ।

উইকিলিকসের প্রকাশিত বার্তায় বিউটেনিস লিখেছেন, ২০০৭ এর ২২ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন হলে অনেকেই যে প্রশ্ন তুলবে- সে বিষয়ে সচেতন ছিলেন খালেদা। তবে তার যুক্তি ছিল, প্রশ্ন উঠলেও তার সেই সম্ভাব্য সরকার হবে সাংবিধানিকভাবে বৈধ।

আলোচনার এক পর্যায়ে বিউটেনিস প্রশ্ন রাখেন, দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার যদি ২২ জানুয়ারির নির্বাচন মেনে না নেয়, সেক্ষেত্রে বিএনপি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে কি-না।

"কিন্তু দেশের মোট ভোটারের ৪০ শতাংশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবে- এমন সম্ভবনা হেসেই উড়িয়ে দেন খালেদা জিয়া। বড় ধরনের গণ আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সামর্থ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।"

দুই কূটনীতিক বিএনপি চেয়ারপার্সনকে জানান, সংবিধান পরিপন্থী যে কোনো ঘটনা এড়াতেই তারা রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। এসব বিষয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেছেন তারা।

নিজের সরকারের কাছে পাঠানো বার্তায় মন্তব্যের অংশে বিউটেনিস লিখেছেন, বিএনপির একতরফা নির্বাচন পরিকল্পনার সমালোচনা করায় খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন তারা। খালেদা জিয়ার ধারণা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের পিঠ এবার সত্যি সত্যি দেওয়ালে ঠেকে গেছে এবং এ অবস্থা থেকে তারা আর ফিরে আসতে পারবে না।

'তার চেয়ে সেনা হস্তক্ষেপ শ্রেয়'

খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার আগের দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে বসে তাকে একই বিষয়ে সতর্ক করে সমঝোতার প্রস্তাব দেন বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী। কিন্তু নির্বাসনে পাঠানোর সম্ভবনার বিষয়টি হেসেই উড়িয়ে দেন হাসিনা। সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা নিয়েও দুই কূটনীতিকের সঙ্গে হালকা মেজাজে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

৮ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে পাঠানো বার্তায় বিউটেনিস লেখেন, "হাসিনা পুরো বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি দেশত্যাগে বাধ্য করার গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি রনিসকতা করে বলেছেন, সেরকম কিছু হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিতেও খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। সরাসরি সেনা হস্তক্ষেপ বা জরুরি অবস্থা জারির সম্ভবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী যদি হস্তক্ষেপ করেই এবং তারা যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেই পারে- তাহলে সেটা ভালোই হবে।"
একবার ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী স্বেচ্ছায় আবার রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে- এমনটা কেন ভাবছেন জানতে চাইলে হাসিনা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, তেমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না বলেই তার বিশ্বাস, কেননা অভ্যুত্থান করার মতো বলিষ্ঠ কোনো নেতা সেনাবাহিনীতে নেই বলে মনে করেন তিনি।

তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে যে সময় প্রয়োজন তার বেশি সেনাবাহিনী ক্ষমতায় থাকতে চাইলে জনগণও তা মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

দুই কূটনীতিককে তিনি বলেন, তেমন কিছু ঘটার পর সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছাড়তে রাজি না হলে 'দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে, রক্তপাত হবে, পুরো রাষ্ট্রই ভেঙে পড়বে'।

২০০৬ সালের শেষ দিকে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলে যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়- সে জন্য বিএনপিকেই দায়ী করে শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিএনপি জানতো যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই জিতবে। এ কারণে তারা যাতে নির্বাচনে অংশ না নিতে পারে- সুপরিকল্পিতভাবে তেমনন পরিস্থিতিই সৃষ্টি করেছে বিএনপি।

রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ আবার বিএনপির হাতে ক্ষমতা তুলে দিতেই ২২ জানুয়ারি নির্বাচন আয়োজন করতে চাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন হাসিনা।

আপাতত একতরফা নির্বাচন হলেও বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের দাবি পূরণ করে এক বছরের মধ্যে আবারো নির্বাচন দিতে পারে- এমন সম্ভবনার কথা তুলে ধরে দুই কূটনীতিক শেখ হাসিনার কাছে জানতে চান- খালেদা জিয়া কোনো সমঝোতার প্রস্তাব দিলে আওয়ামী লীগ তা মানবে কি না।

"জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বরং সামরিক হস্তক্ষেপের মতো বিকল্প নিয়ে ভাবতে রাজি, বিএনপিকে আবারো ক্ষমতায় যেতে দিতে নয়," লিখেছেন বিউটেনিস।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

সেনা সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলো 'তারা'

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ২০০৭ সালে সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামরিক সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলো বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির দিন (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনকে এক তারবার্তায় এ কথাই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশে তৎকালীন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস।

ওইসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দেশে সাংবিধানিকভাবে সেনাবাহিনী নিয়োজিত ছিল বলে বার্তায় জানান বিউটেনিস।

বার্তায় তিনি বলেন, 'জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং অসাংবিধানিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।'

২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে 'ওয়ান ইলেভেন' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই তারিখের মাত্র দুই দিন আগে ৮ ও ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে দুটি বার্তা পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

বিউটেনিস লেখেন, সেনাবাহিনী 'বিশ্বাসভঙ্গ' করে অভ্যুত্থান করতে পারে, কিংবা দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠানো হতে পরে- এমন কোনো আশঙ্কা মনে ঠাঁই দিতে প্রস্তুত ছিলেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ দুটি 'গুজব' উড়িয়ে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাও। বরং তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসন দিলে তার জন্য ভালোই হবে, কেননা তাতে তিনি নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

তখনকার নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিএনপির অনমনীয় অবস্থান; আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ব্যর্থতার মধ্যে ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা এবং ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন বাংলাদেশে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।

তিন গোষ্ঠীর প্রস্তাব

বিউটেনিস তার বার্তায় বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা মার্কিন দূতাবাসসহ অন্যান্য দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করেছেন। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক সমাধান চান; সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী স¤প্রদায়েরও এ ক্ষেত্রে একই মত।

'তাদের মত হলো রাষ্ট্রপতি/প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে (ক) ছয় মাস থেকে দুই বছরের জন্য নির্বাচন পেছানোয় বাধ্য করা; (খ) তার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের পদ ছাড়া এবং (গ) [তত্ত্বাবধায়ক সরকারের] নতুন একজন প্রধান ও সরকার এবং/কিংবা একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা।'

এছাড়া একটি পরামর্শ ছিলো বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানো। একইসঙ্গে এরকম পরামর্শও ছিলো যে দেশে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নব নির্বাচিত বিএনপি সরকার জরুরি অবস্থা জারি করুক; যাতে সামরিক বাহিনীর এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা থাকবে। এমনকি সামরিক শাসন কিংবা অভ্যুত্থানের পরামর্শও ছিলো।

বিউটেনিস তার বার্তায় বলেন, 'আমেরিকার সংকেত ছাড়া [এতে] যুক্ত হতে ইতস্তত বোধ করছে সামরিক বাহিনী।'

তবে বিউটেনিস এবং দূতাবাসের অন্য কর্মীরা রাজনীতিক ও সেনা কর্মকর্তাদের বলেন, তারা সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ভূমিকা সমর্থন করেন না। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, সেনাবাহিনীকে সংবিধানের আওতায় বেসামরিক সরকারের সমর্থনে ও অধীনে কাজ করতে হবে।

জরুরি অবস্থা জারির কয়েকদিন আগে (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস।

তারবার্তায় বিউটেনিস জানান, ওই সাক্ষাতে [রাজনৈতিক ওই পরিস্থিতিতে] সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের [যুক্তরাষ্ট্রের] অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সেনাবাহিনীর দুই শীর্ষকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা ৯ জানুয়ারি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন বলে বার্তায় জানান বিউটেনিস।

তিনি বলেন, দুই সেনা কর্মকর্তাই বলেছেন, ক্ষমতা, সামরিক শাসন বা অভ্যুত্থান বা অন্য কোনো ধরনের অসাংবিধানিক পন্থার প্রতি সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে আগ্রহ নেই। তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ সমর্থনও করবেন না।

'ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর সঙ্গে ৮ জানুয়ারি তার এ ধরনের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মইন উ আহমেদ।'

জরুরি অবস্থা জারি না করার অনুরোধ

ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় বিউটেনিস লেখেন, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জাহাঙ্গীর বলেছেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন তিনি যেন জরুরি অবস্থা জারি না করেন। কেননা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক বাহিনীকে সামরিক বাহিনীর সহায়তা এর মাধ্যমে আরো কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।

জরুরি অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো স্পষ্ট পথও নেই বলে মনে করেন জাহাঙ্গীর।

বিউটেনিস তার বার্তায় লেখেন, [এ] রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করলেও সেনাবাহিনী জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার পরিকল্পনা করছে বলে স্বীকার করেন মইন।

'কেবল নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেই জরুরি অবস্থা হতে পারে বলে মনে করেন মইন। তবে ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এমন হতে পারে বলে তার মনে হয় না। তিনি বরং নির্বাচনোত্তর গণ অসন্তোষ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।'

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অনুরোধে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিউটেনিস- এ তথ্য উল্লেখ করে বার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমাধান হিসেবে একটি সেনা সমর্থিত জাতীয় ঐক্যের সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন।

জবাবে বিউটেনিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ভূমিকার তীব্র বিরোধী এবং এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান শুধু রাজনৈতিকভাবেই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

সেনা হস্তক্ষেপের তথ্যে ক্ষুব্ধ হন খালেদা, উড়িয়ে দেন হাসিনা


মার্কিন তারবার্তার তথ্য
রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দুই নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন—এমন তথ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আর শেখ হাসিনা বিষয়টিকে রসিকতা করে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায় আসার চেয়ে সেনাবাহিনী আসাই বরং ভালো।
২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগের দিন তাঁরা বসেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। উইকিলিকসের ফাঁস করা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তারবার্তায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
দুই কূটনীতিক খালেদাকে জানান, রাজনৈতিক দলগুলো থেকেই কিছু নেতা তাঁদের কাছে গিয়ে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দুই নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তারবার্তায় বলা হয়েছে, বিষয়টি শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান খালেদা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুশীল সমাজকে এ ধরনের গুঞ্জনে উৎসাহ দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেন। উভয় কূটনীতিক এই অভিযোগ স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দেন।
তারবার্তার ওই বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিরোধী দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের পরামর্শ সত্ত্বেও ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন করতে অটল ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে তিনি ক্ষমতায় গেলে নির্বাচনী আইন সংস্কার করে ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁদের কাছে।
তারবার্তায় বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া কূটনীতিকদের কাছে স্বীকার করেন, তাঁর দলের অনেক নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি তাঁদের দলের মধ্যকার ‘বাজে উপাদান’ বলে নাকচ করে দেন।
সামরিক অভ্যুত্থান ও সহিংসতা এড়াতে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে খালেদাকে জানানো হয়। বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন খালেদাকে। কিন্তু নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, কিন্তু আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসতে চায় না।’
খালেদা বলেন, তাঁরা সব সময় চেয়েছেন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক, কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ২২ জানুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী আগের দিন ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। অভ্যুত্থান ও নির্বাসনে পাঠানোর আশঙ্কার তথ্য জানালে শেখ হাসিনাও তা নাকচ করে দেন, তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে পাঠানো হতে পারে, এমন কথা শুনে রসিকতা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানে আমি আমার নাতনিকে দেখতে পাব।’
শেখ হাসিনা দুই কূটনীতিককে বলেন, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে যদি ‘বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যায়’ তা-ও ভালো। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, এখন সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ক্ষমতা কোনো সেনা কর্মকর্তার নেই। তা ছাড়া সেনাবাহিনী এলেও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকলে জনগণ তা মেনে নেবে না। সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছাড়তে না চাইলে সহিংসতা ও রক্তপাত হবে, দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
শেখ হাসিনা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে জানান, বিএনপি নির্বাচনে জেতার জন্য সব পরিকল্পনা করেছে। সেই পরিকল্পনামতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটকে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি চায় না আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক। কারণ, তারা জানে, নির্বাচনে আমরাই জয়ী হব।’
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ উপদেষ্টাদের কথা শুনছেন না, তিনি বিএনপির কথামতো চলছেন। রাষ্ট্রপতি শুধু একটি নির্বাচন করে খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চান। এ অবস্থায় নির্বাচন বর্জন করা ছাড়া মহাজোটের বিকল্প কোনো পথ নেই।
বিএনপির প্রস্তাবমতো ২২ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার পর নির্বাচনী সংস্কার শেষে এক বছরের মধ্যে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা জানানো হলে শেখ হাসিনা তা নাকচ করে দেন। শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় ফিরে আসার চেয়ে তিনি সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতায় বর্তমান সমস্যা সমাধানকে সমর্থন করবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য মহাজোট নির্বাচন বর্জন করেছে—এমন কথা নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রথমে মেনে নেওয়ায় দলের সমর্থকেরা তাঁকে দোষারোপ করেছেন।
এর আগে শেখ হাসিনা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছেও চিঠি লিখেছিলেন। prothom-alo.com

 খালেদার বড় ব্যর্থতা ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ছেলেকে প্রশ্রয়

২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাসকে বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ছেলেকে (তারেক রহমান) প্রশ্রয় ও মদদ দেওয়াই প্রধানমন্ত্রীর বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, দেশটির গণতন্ত্রের এ নতুন পথচলায় পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি ভালো নয়। সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসে গত ৩০ আগস্ট ফাঁস হওয়া তথ্যে এ কথা জানা গেছে।
তথ্যে দেখা যায়, ২০০৫ সালের ১৩ মার্চ হ্যারি কে টমাসের সঙ্গে কামাল উদ্দিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ৪০ মিনিট কথা হয়। এ সময় টমাস কামালউদ্দিনকে অবহিত করেন, ‘ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার অনুরোধ করেছিলেন তারেক রহমান। তবে প্রটোকল ও অন্যান্য কারণে এ বৈঠক আয়োজন করা সম্ভব হবে না।’ Prothom-alo

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More