Total Pageviews

Feedjit Live

This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Tuesday, March 20, 2012

অশালীন বক্তব্যে সংসদ আবারও উত্তপ্ত

বিরোধীদলীয় সাংসদেরা আবারও অশালীন বক্তব্য দিয়ে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়েছেন। গতকাল সোমবার তাঁদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে স্পিকার আবদুল হামিদ হাতুড়ি পিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবসম্পর্কিত আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিরোধীদলীয় সাংসদ সৈয়দা আসিফা আশরাফি রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে নিয়ে অসংসদীয় বক্তব্য দেন।
গতকাল সংসদে প্রায় পুরোটা সময়ই সংসদ ছিল উত্তপ্ত। সরকারি ও বিরোধী দলের সাংসদেরা এ উত্তাপ ছড়ান। এক পক্ষের বক্তব্যের সময় অন্য পক্ষ হইচই করতে থাকে। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার দুবার হাতুড়ি পেটান, যা সচরাচর সংসদে দেখা যায় না। তিনি গঠনমূলক ও সুন্দর ভাষায় সমালোচনা করতে সাংসদদের প্রতি আহ্বান জানান।
সংসদে এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া গতকাল সংসদে আসেননি।
গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও বিরোধী দলের নেতারা উত্তেজনার সৃষ্টি করেন। বিরোধী দলের সাংসদদের হইচইয়ের মধ্যে ফারুক খান বক্তব্য শেষ করেন।
সংসদে গতকাল বিরোধীদলীয় সাংসদেরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, এই ব্যবস্থা ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় আসিফা আশরাফি রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে ‘মেরুদণ্ডহীন রাষ্ট্রপতি’ বলে মন্তব্য করেন। স্পিকার সঙ্গে সঙ্গে আশরাফির এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংসদেরা চিৎকার করে ‘অসত্য বক্তব্য, অসত্য বক্তব্য’, ‘চুপ কর, চুপ কর’ বলতে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আসিফা আশরাফি বলেন, ‘১৯৮৬ সালে এরশাদের কোলে বসেছিলেন, লং ড্রাইভে গিয়েছেন। গোলাম আযমের কোলে বসে ছিয়ানব্বইয়ে ক্ষমতায় গিয়েছেন। সর্বশেষ মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনের কোলে বসে ক্ষমতা দখল করেছেন। যৌবনে আর কার কার কোলে বসেছেন? মতিউর রহমান রিন্টুর বইয়ে পড়েছি, কোন বেয়াইয়ের কোলে আপনার বসার দৃশ্য দেখে চাকর আত্মহত্যা করেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় মাতাল হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র রাখার জন্য আমেরিকায় পুলিশের হেফাজতে ছিলেন বলেও দাবি করেন আসিফা আশরাফি। এ সময় সরকারি দলের সাংসদ ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী ও ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা হইচই করেন। তাঁরা বলেন, ‘অসত্য বক্তব্য। চুপ কর।’ কয়েকজন সাংসদ মাইক বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান। সরকারি দলের হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন উঠে গিয়ে তাঁদের নিবৃত্ত করেন। এ সময় স্পিকার আসিফা আশরাফির মাইক বন্ধ করে দিয়ে টেবিলে হাতুড়ি ঠুকে সবাইকে শান্ত হতে বলেন। তিনি বলেন, ‘কোনো অশ্লীল বক্তব্য দেবেন না।’
এরপর মাইক চালু হলে আসিফা আশরাফি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির আগের দিনে দেওয়া বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘যারা নিষিদ্ধ পল্লির সদস্য, তাঁরাই নিষিদ্ধ পল্লির ভাষা বলতে পারে।’
খালেদ মোশাররফের মরণোত্তর বিচার দাবি করে আসিফা আশরাফি বলেন, ‘মোশতাক আহমেদকে ক্ষমতাচ্যুত করে আওয়ামী লীগ নেতা খালেদা মোশাররফ ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করার জন্য তিনি জিয়াউর রহমানকে বন্দী করেন এবং মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করেন। সে জন্য তাঁর বিচার দাবি করছি।’
যাঁরা তারেক রহমানকে টাকা পাচার এবং মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন, তাঁদের উদ্দেশে আসিফা আশরাফি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ মদ্যপ অবস্থায় দুবার গুলশান ও ধানমন্ডি থানায় আটক হয়েছিলেন। ২০০০ সালে আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি ড্রাইভ করার জন্য তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। এ রকম চরিত্রের ছেলেকে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে না।’
আসিফা আশরাফির বক্তব্য শেষে আবদুল হামিদ বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া ঠিক নয়।’
আসিফা আশরাফির আগে আওয়ামী লীগের সাংসদ নাজমা আক্তার বলেন, সংসদে যে ভাষায় কথা বলা হচ্ছে, কোনো ভদ্রঘরের সন্তান এ ভাষায় কথা বলতে পারে না।
বিরোধী দলের সাংসদ রাশেদা বেগম বলেন, প্রশাসনে কিছু হিন্দু কর্মকর্তা বসিয়ে দলীয়করণ করে আর এরশাদকে গৃহপালিত বিরোধীদলীয় নেতা করে সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে। তিনি ভারতের টাইমস অব আসাম-এর সংবাদ পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর ছেলে ও উপদেষ্টাদের দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে।
জমির উদ্দিন সরকার বলেন, দেশের অবস্থা নাজুক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষিত হচ্ছে না। খুন, গুম অহরহ হচ্ছে। থানায় গেলে অনেক ক্ষেত্রে ডায়েরি করা যায় না। দারোগা বলেন, কোর্টে যান। এভাবে চললে দেশে খুনখারাবি বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।
ফারুক খান বলেন, বিরোধী দল সংসদে কথা বলবে জেনে আজ দেশের অনেকেই তাঁদের রেডিও বন্ধ রেখেছেন। কারণ, যে ভাষায় বিরোধী দলের সদস্যরা কথা বলেন, তা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শোনা যায় না। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে এই সরকারের সময় উন্নতি হয়েছে, বিগত সরকারের মতো লুটপাট হয়নি। এ সময় বিরোধী দলের সাংসদেরা বলেন, ‘সামিট গ্রুপের কথা বলেন।’ কয়েকজন ফারুক খানকে ‘সামিট গ্রুপের চোর’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।
বিজেপির সাংসদ আন্দালিব রহমান বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। এ জন্য দোষ বিরোধী দলের নয়, সরকারি দলেরও নয়। দোষ জনগণের। কেননা তাঁরা বারবার আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন।’ তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে ডিজিটাল দুর্নীতি হয়েছে। দরবেশখ্যাত এক ব্যক্তি তাঁর মুরিদদের নিয়ে লুটপাট করেছেন। অথচ তাঁর কোনো শাস্তি হয়নি। তিনি অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও যোগ্য লোকদের দিয়ে পরিচালনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে শেয়ারবাজার ধ্বংসের জন্য পুরস্কার দেওয়া উচিত ছিল।
আন্দালিব রহমান বলেন, বিদ্যুৎ খাতে দুই খেলোয়াড় রয়েছেন। এঁদের মধ্যে সামিট গ্রুপ হলো ম্যারাডোনা আর ওরিয়ন গ্রুপ হলো মেসি। এই দুই পরিবারের হাতে বিদ্যুৎ খাত এবং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য জিম্মি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ব্যাংকারদের দল। যাঁরা ব্যাংকের অনুমতি পাচ্ছেন, তাঁদের কেউ কেউ নির্বাচনের সময় আয় দেখিয়েছেন ৩৯ লাখ থেকে এক কোটি টাকা। অথচ, এখন তাঁরা ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে ব্যাংক দিচ্ছেন।
বিএনপির সাংসদ এম কে আনোয়ার বলেন, এ সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। কুইক রেন্টালের মাধ্যমে দেশকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে দলীয় লোকদের লুটপাট, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি বন্ধ হওয়া সম্ভব।
সরকারি দলের জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, সংসদে যে ভাষায় কথা হয়, তাতে সাংসদ হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা হয়। পরিবারের সদস্যরা বলে, ‘এই তোমাদের সংসদ’!
সরকারি দলের শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘গত রোববার বিরোধী দলের একজন নারী সাংসদ সরকারি দলের একজন সাংসদের কাপড় খুলতে চেয়েছেন। একজন নারী কখন একজন সক্ষম পুরুষের কাপড় খুলতে চান, তা সবাই জানে।’
এ ছাড়া গতকাল এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ বক্তব্য দেন।
সামিটের বক্তব্য: সংসদে সামিট গ্রুপ নিয়ে বক্তব্য প্রসঙ্গে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, ‘আমরা ১৯৯৮ সালে দেশে সর্বপ্রথম বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছি। বর্তমানে মোট ৫৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন করছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের কোম্পানি দেশের একটি সম্পদ। কোম্পানিটি দেশের উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে ও রাখবে।’ prothom-alo

ডার্টি পিকচার ও আমাদের গণতন্ত্র

বলিউডের আলোড়ন সৃষ্টিকারী হিন্দি ছবি ডার্টি পিকচার। দুই প্রজন্মের দুই তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী নাসিরুদ্দিন শাহ ও বিদ্যা বালান ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটি আমার দেখা হয়নি। আকাশ টিভির সৌজন্যে ছবিটির কিছু দৃশ্য এবং দুটো গানের ভিডিওচিত্র দেখেছি। তাতেই বোঝা হয়ে গেছে, কেন ছবিটির নাম ডার্টি পিকচার। নানা কারণে ছবিটি আলোচিত-সমালোচিত। ডার্টি পিকচার-এর একটি গান ‘ও লা লা, ও লা লা’ এখন বেশ হিট।
মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে ক্লাসে আলোচনার সময় আমি ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞাসা করি, ডার্টি পিকচার নিয়ে আলোচনায় তোমরা যে সময় ব্যয় করো, ততটুকু সময় কি বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে ব্যয় করো? উত্তর আসে, না। আমার প্রশ্ন, কেন? ছাত্রছাত্রীরা সমস্বরে জবার দেয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ডার্টি পিকচার-এর চেয়েও ডার্টিয়ার। উত্তর শুনে নড়েচড়ে উঠি। উৎসাহ বোধ করি ব্যাখ্যা শোনার জন্য। তাদের জবাব, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ক্ষমতার পালাবদলের (জ্বলন্ত উনুন থেকে ফুটন্ত কড়াইয়ে) অর্থাৎ যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার ফাঁদে আটকা পড়েছে। এখানে দলীয় আদর্শ, নীতিনৈতিকতা, জনগণের চাওয়া মুখ্য বিষয় নয়। আর তাই ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হলেও সেই থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনকে সূক্ষ্ম, স্থূল কিংবা ডিজিটাল কারচুপি আখ্যা দিয়ে বিরোধী দল বছরের পর বছর সংসদে অনুপস্থিত থেকেছে। জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণ না করলেও জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় সব ভাতা গ্রহণ করেছে। বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি করেছে। বিদেশ ভ্রমণ করেছে। এটি কি শ্লীল গণতন্ত্রচর্চা হতে পারে? আর বিরোধী দল যখন উপস্থিত হয়েছে তখন সরকারি ও বিরোধী দলের অনেক সংসদ সদস্যের মধ্যে যে অশ্রাব্য বাক্যবিনিময় হয়েছে, তাকে কি ডার্টিয়ার ডেমোক্রেসি বলা অন্যায় হবে? দীর্ঘদিন পর রোববার বিরোধী দল সংসদে ফিরে এসেছে। বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব দিতে গিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা শুনে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। সম্মানিত(!) সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘তিনি মইন উ আহমেদের কোল ছাড়া আর কোথায় কোথায় বসেছেন, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পর্কে বলেছেন, ‘টেলিভিশনে তাঁর বিশ্রী হাসি দেখে ভয়ে মানুষ টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়।’ আইন প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে বলতে গিয়ে সাংসদ বলেছেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাঁর কাপড়চোপড় খুলে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশিদের নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুইজন মন্ত্রীর লুঙ্গি তুলে ভারতের মহিলা পুলিশ দিয়ে পেটানো হবে।’
বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ যখন সুন্দর কাপড় পরা পরিপাটি গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখে, তখন সাংসদ রেহেনা আক্তার রানু মন্ত্রীদের কাপড় খোলার হুমকি দিয়ে কি আমাদের গণতন্ত্রের কাপড় খুলে ফেলেননি? ডার্টি পিকচার-এর ‘ও লা লা, ও লা লা’ গানটি যেমন পরিবারের সব সদস্য নিয়ে দেখার মতো নয়, একজন মহিলা সাংসদের গণতন্ত্রের কাপড় খোলা বক্তব্যও কি পরিবারের সব সদস্য নিয়ে শোনার মতো! গণতন্ত্র বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন তৈরির কারখানা হলো পার্লামেন্ট। অক্সিজেন তৈরির কারখানাকে অকার্যকর রেখে কি গণতন্ত্রচর্চা সম্ভব?
ছাত্রছাত্রীদের কথা শুনে আমার একটা গল্প মনে পড়ে যায়। এক আমেরিকানের চায়নিজ বন্ধু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। আমেরিকান বন্ধু চায়নিজ বন্ধুকে হাসপাতালে দেখতে যায়। হাসপাতালে শয্যার পাশে আমেরিকান বন্ধু দাঁড়ানোর পর চায়নিজ বন্ধু ‘নি চাদোয়ান লা উয়াদা ইয়াংজি গুয়ান’ বলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আমেরিকান বন্ধু চায়নিজ ভাষা জানত না। মৃত্যুর আগে বন্ধু তাকে কী বলেছে, তা জানার জন্য আমেরিকান বন্ধু আরেকজন চায়নিজের শরণাপন্ন হলে চায়নিজ ব্যক্তিটি তাকে জানান, এর অর্থ হলো, ‘যে অক্সিজেন পাইপ দিয়ে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা হয়েছে, তুমি তার ওপর দাঁড়িয়ে আছ, আমি মরে যাচ্ছি। গণতন্ত্রের পরম বন্ধু আমাদের রাজনীতিবিদেরাও কি জনগণের ভাষা বুঝতে অক্ষম হয়ে গণতন্ত্রের অক্সিজেন পাইপের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন?
ছাত্রছাত্রীদের নির্মোহ বিশ্লেষণ আমাকে আরও আগ্রহী করে তোলে। আমি আরও শুনতে চাই। তারা বলে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির সমার্থক হয়ে উঠেছে। ব্যক্তি যখন গণতন্ত্রের সমান হয়ে ওঠে, তখন আর তা গণতন্ত্র থাকে না। শাসনব্যবস্থা তখন শ্লীলতার সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং তার কাছে আইনের শাসন পরাজিত হয়। মানবাধিকার অপসৃত হয়। জনগণের স্বপ্নের পশ্চাদপসরণ ঘটে। ন্যায়বিচার নিজেই অবিচারের শিকার হয়ে পড়ে।
ডার্টিয়ার ডেমোক্রেসি সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের বিশ্লেষণ শেষ হয় না। তাদের ক্ষোভমিশ্রিত বিশ্লেষণ চলতে থাকে। এক ছাত্র দাঁড়িয়ে বলে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ পলিসির মাধ্যমে আমাদের যেভাবে বিভক্ত করেছিল, আমাদের ডেমোক্রেসি তার চেয়ে বহুগুণে এবং বহুমাত্রিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। পিয়ন থেকে শুরু করে অফিসের বড় কর্তা আজ ভয়াবহ রাজনৈতিক বিভক্তির শিকার। সরকারি চাকরিজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, আমলা, শিক্ষকের নামের আগে আজকাল আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, জামায়াতপন্থী কিংবা বামপন্থী যোগ করে পরিচিত করা হয়। নেতা-নেত্রীদের লাগামহীন অশোভন ও আক্রমণাত্মক বক্তৃতা-বিবৃতি নাগরিকদের ক্রমাগতভাবে হিংসা, বিদ্বেষ ও সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরূপ হিংসা-বিদ্বেষ আর প্রতিশোধের গণতন্ত্র ডার্টিয়ার নয় কি?
নাগরিকদের বিভক্তির কথা মনে পড়লেই একটি ঘটনা আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি যে ভবনে থাকি, সেই ভবনের নিচতলায় একদিন অত্যন্ত অল্প বয়সের দুটো শিশু, যাদের বয়স বড়জোর পাঁচ বছর হবে, তাদের কথোপকথন শুনে থমকে দাঁড়াই। এদের একজন আরেকজনকে বলছিল, আমি তোমার সঙ্গে খেলব না। কারণ, তোমরা অমুক দল করো। শিশুটি আমাদের দুটো বড় দলের একটির নাম উচ্চারণ করে তার সমবয়সীর সঙ্গে খেলতে অস্বীকার করে।
ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে আমার কেবলই মনে হতে থাকে, তরুণ প্রজন্মের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আমাদের ডার্টিয়ার ডেমোক্রেসি কি তাহলে ডার্টিয়েস্ট কিছু নিয়ে অপেক্ষা করছে?
আইন অনুষদের ডিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
zhossain@justice.com prothom alo

দয়া করে অপ্রাপ্তবয়স্করা এই লেখা পড়বেন না

রোববার আমি গিয়েছিলাম টাঙ্গাইলে। ফেরার পথে গাড়িতে খেলার ধারাবিবরণী শোনার জন্য রেডিও অন করলাম। বাংলাদেশ বেতার কিছুক্ষণ ভারত-পাকিস্তানের খেলা প্রচার করে চলে গেল মহান জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সরাসরি প্রচারে। হাইওয়েতে গাড়ি চলছে। ড্রাইভারকে বলব, রেডিও কেন্দ্র বদলে খেলারটা দিতে, সাহস পাই না। হঠাৎ যদি অ্যাকসিডেন্ট হয়ে যায়।
এর চেয়ে অ্যাকসিডেন্ট হওয়াই বোধ হয় ভালো ছিল। যা শুনলাম, তাতে শরীরের ওপর দিয়ে যায়নি বটে, কানের ওপর দিয়ে, সেই সুবাদে রুচির ওপর দিয়ে যেন স্টিমরোলার চলে গেল।
বিএনপিদলীয় একজন সদস্যা যা বলেছেন, তার সবই আমি শুনেছি। ভালো যে টেলিভিশনের সামনে ছিলাম না, তা হলে তাকে দেখতেও হতো। তিনি কী কী বলেছেন, তা আমি আরেকবার বলতে পারব না। আমার পক্ষে সম্ভব না। এসব কথা প্রথম আলোর মতো পত্রিকায় ছাপা উচিতও না। আমার ধারণা, প্রথম আলো কাগজটা ভদ্রলোকেরাই পড়েন। আমার লেখা আবার শিশু-কিশোরেরাও পড়ে বলে জানি।
কিন্তু প্রিয় পাঠক, আপনারা যারা এ বক্তব্য সরাসরি শোনেননি, তাঁদের আমি বোঝাব কেমন করে যে তিনি কী বলে থাকতে পারেন।
আচ্ছা, আকারে-ইঙ্গিতে বলি।
ধরা যাক, ক হলেন একজন পুরুষ। তিনি এখন অবসরপ্রাপ্ত। আগে খুবই ক্ষমতাধর ছিলেন।
খ হলেন একজন নারী। তিনি এখন খুবই ক্ষমতাশালী।
তিনি বলছেন, খ ক-এর কেবল কোলে নয়, আর কোথায় কোথায় বসেছিলেন...
নাহ্, আমার পক্ষে এসব কথা লেখা সম্ভব নয়। এতটুকুন লিখেই খুবই মর্মপীড়া হচ্ছে।
কাগজে পড়লাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, এ ভাষা তো নিষিদ্ধ পল্লিতেও বেমানান।
মাননীয় সংসদ সদস্যদের করজোড়ে কি একটা নিবেদন করতে পারি, নিষিদ্ধ পল্লি তো নিষিদ্ধই। সেখানে কী বলা হয়, না বলা হয়, তা রেডিও-টেলিভিশনে সরাসরি প্রচার করা হয় না। অসম্পাদিত অবস্থায় সরাসরি তা দেশের আপামর মানুষের কাছে কখনোই পৌঁছায় না। কিন্তু মহান জাতীয় সংসদে কোনো সদস্য যা বলেন, তা সরাসরি প্রচার করা হয়। রেডিওতে শোনা যায়, টেলিভিশনে শোনা ও দেখা যায়। আপনাদের বাসায় কি শিশু-কিশোর নেই? আপনাদের বাসায় কি ময়-মুরব্বি নেই?
বিএনপির ওই নারী সংসদ সদস্য যা বলেছেন, তা যদি তাঁর সন্তান-ভাগনে-ভাগনিরা শুনে ফেলে? যদি তাঁর মা-খালারা শোনেন? যদি তাঁর বাবা-চাচারা শোনেন?


বিএনপির একজন সংসদ সদস্য, যার নাম আমি মনে রাখারও প্রয়োজন বোধ করি না, তার মুখে এসব কথা শুনে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমার কাছে অরুচিকর, অরাজনৈতিক, অনভিপ্রেত বলে মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, এটা সভ্যতার সঙ্গে যায় না, ভদ্রতা-শিষ্টতা-শালীনতার সঙ্গে তো নয়ই। সভ্যতার সঙ্গে কিন্তু রেখে-ঢেকে চলার একটা সম্পর্ক আছে। মানুষ বনে ছিল। কোনো পোশাক পরতে জানত না। প্রথম দিকে সে গাছের ছালবাকল, লতাপাতা দিয়ে অঙ্গ ঢেকে রাখতে শুরু করে, পশুর চামড়া দিয়ে লজ্জা নিবারণ করতে শেখে, তারপর কাপড় আবিষ্কার করে। আপনি কোথায় কী বলবেন, কোথায় কী করবেন, এসব মেনে চলাও সভ্যতারই অংশ। যে কথা ইয়ার-দোস্তরা বলাবলি করে, তা কেউ প্রার্থনাসভায় বলবে না, জনসভায়ও বলবে না। সব প্রাণীকেই কতগুলো প্রাকৃতিক জৈবিক কাজ প্রতিদিন করতে হয়, সেসব বিষয়ে আমরা গোপনীয়তা বজায় রেখেই চলি। এটাই সভ্যতা।


বিএনপির একজন সংসদ সদস্য, যার নাম আমি গতকালই প্রথম জানলাম এবং আগামীকাল মনে রাখব বলে মনে করি না, তার মুখে এসব শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে, আমার লজ্জাবোধ হয়েছে। আমি আসলে এসব নিয়ে কথা বলতেও লজ্জা পাচ্ছি।
কিন্তু তার চেয়ে অনেক বড় পদে আছেন, অনেক বড় যাঁর মর্যাদা, আর স্থান, যিনি আমাদের সবাইকে প্রতিনিধিত্ব করেন, তিনি যখন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অকারণ, অপ্রয়োজনীয় কথা বলতে থাকেন, তখন অধিক শোকে পাথর হয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কীই বা বলার থাকে।
বিরোধী দলের তৃতীয় সারির নেতার মুখে যা মানায় না, সরকারি দলের প্রথম সারির নেতার মুখে তার এক শতাংশ কথাও কি কেউ আশা করে?


এসব বলে কি জনপ্রিয়তা বাড়ে?
নীরবতা হীরন্ময়। কথা কম বলুন, বিষোদ্গার কম করুন, কথা বলতে হলে মিষ্টি করে হেসে বলুন।
কাকের কর্কশ স্বর বিষ লাগে কানে,
কোকিল অখিল প্রিয় সুমধুর গানে।


২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত একজন নেত্রী কী অসাধারণ পরিমিতিবোধই না প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি কথা কম বলেছিলেন এবং তাঁর ভোট অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
এখন তিনি কথা বলতে শুরু করেছেন।
জরিপ বলছে, তার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে।
আশা করি, নিজের ভালোটা অন্তত এঁরা বুঝবেন। জনগণের ভালো পরে করুন, আগে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য সচেষ্ট হোন। দয়া করে, কুৎসা, ব্যক্তিগত কাদা-ছোড়াছুড়ি, মন্ত্রীর ভাষায় ‘নিষিদ্ধ পল্লিতেও বেমানান’ কথাবার্তা বলা বন্ধ করুন।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

Wednesday, March 7, 2012

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো মানুষের সামনে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর ঐতিহাসিক সেই ভাষণ এ দেশের জনগণকে দারুণভাবে আন্দোলিত করে। ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’—স্লোগানে স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ জাতি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল।
সেদিন বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন। ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে...।’
রাষ্ট্রীয়ভাবে আজকের এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে।
বাণী: দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ঘোষিত ‘ভিশন-২০২১’ বাস্তবায়নে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শোষণ, বঞ্চনা ও সন্ত্রাস চিরতরে দূর করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ঐকান্তিক সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাতই মার্চের সব কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সব শাখা, সহযোগী সংগঠন, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী, সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Monday, January 16, 2012

১০ দিন আগেই ভারতে হামলার ইঙ্গিত ‘মদ্যপ’ ইয়াহিয়ার !

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০ দিন আগেই ভারতে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। মদ্যপ অবস্থায় এক মার্কিন সাংবাদিকে তিনি এ কথা বলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে বলে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে।
ওই খবরে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০ দিন আগে মার্কিন সাংবাদিক বব শাপলিকে মদ্যপ অবস্থায় পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ভারতে হামলা চালানোর বিষয়ে তাঁর মনোভাবের কথা জানিয়ে একটি ইঙ্গিত দেন।
বৈঠকের সময় ইয়াহিয়া খান ওই মার্কিন সাংবাদিককে বলেছিলেন, তিনি ১০ দিনের মধ্যে ভারতে হামলা চালাবেন।
ইয়াহিয়া খানের এ ইঙ্গিত ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর সত্যে পরিণত হয়। ওই দিন বিকেলে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেনা লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।
এ ঘটনার পরপরই ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধী পাকিস্তানের এই বিমান হামলাকে যুদ্ধের ঘোষণা বলে উল্লেখ করেন। একই দিন মধ্যরাতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল, নৌ ও বিমানপথে যুদ্ধ ঘোষণা করে ভারত।
পরের দিন দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন দূত কেনেথ বার্নাড কেটিং ভারতের পররাষ্ট্রসচিব টি এন কাউলকে ইয়াহিয়ার ওই মন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, মদ্যপ অবস্থায় ইয়াহিয়া খান মার্কিন সাংবাদিক বব শাপলিকে বলেছিলেন, পাকিস্তান ১০ দিনের মধ্যে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে যাবে। প্রথম আলো

তিন বোনকে সেনাক্যাম্পে দেন সাঈদী

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সোমবার জবানবন্দি দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ১৩তম সাক্ষী। জবানবন্দিতে সাক্ষী তাঁর তিন বোনকে সাঈদীসহ রাজাকারদের পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে দেওয়ার এবং তাঁদের পুরো পরিবারকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার বর্ণনা দেন।
বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৩তম সাক্ষী এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একদিন সাঈদী কয়েকজন রাজাকারকে নিয়ে পিরোজপুরে তাঁদের (সাক্ষীর) বাড়িতে যান। রাজাকাররা তাঁদের বাড়ি লুট করে এবং তাঁর তিন বোনকে ধরে নিয়ে পিরোজপুরে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে দিয়ে আসে। তিন দিন পর তিন বোনকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। একাত্তরে তাঁর বয়স ছিল ২৭ বছর।
তিন বোনের ওপর পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন। জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার কিছুদিন পর সাঈদী আবার কয়েকজন রাজাকার নিয়ে তাঁদের বাড়িতে যান। রাজাকাররা তাঁর মা-বাবা, ভাইবোনসহ পরিবারের সব সদস্যকে জোর করে ধর্মান্তরিত করে। তাঁর নাম দেওয়া হয় আবদুল গনি। তাঁদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয়। এর কিছুদিন পর তিনি ছাড়া পরিবারের অন্য সবাই ভারতে চলে যান। স্বাধীনতার পর তিনি নিজ (হিন্দু) ধর্মে ফিরে আসেন।
জবানবন্দির এ পর্যায়ে সাক্ষী আবেগে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান এবং কাঁদতে থাকেন। ট্রাইব্যুনাল তাঁকে শান্ত হয়ে বসতে বলেন।
জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, তাঁকে ছাড়া আরও এক-দেড় শ হিন্দুসম্প্রদায়ের লোককে রাজাকাররা ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণ সাহা, নিখিল পাল, গৌরাঙ্গ পাল, সুনীল পাল। তাঁদের অনেকে মারা গেছেন। অনেকে ভারতে চলে গেছেন।
জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। তিনি এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কয়েকজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে সাক্ষীর কাছে জানতে চান, তাঁদের তিনি চেনেন কি না? সাক্ষী তাঁদের চেনেন বলে জানান। মিজানুল জানতে চান, সাক্ষীর তিন বোনকে নির্যাতন ও ধর্মান্তরিত করার ঘটনা ওই সাক্ষীরা জানেন কি না? জবাবে সাক্ষী বলেন, তাঁরা কী জানেন না-জানেন, তা তিনি বলতে পারবেন না।
বেলা একটায় এক ঘণ্টা বিরতির পর আবার জেরা শুরু হলে মিজানুল জানতে চান, সাক্ষী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে লুট হওয়া জিনিসপত্রের কোনো তালিকা দিয়েছেন কি না? জবাবে সাক্ষী বলেন, ‘সবকিছু এমনকি ঘর ঝাড় দেওয়ার পিছা (ঝাড়ু) পর্যন্ত লুট হয়েছে।’ স্বাধীনতার পর নিজ ধর্মে ফিরতে কোনো প্রায়শ্চিত্ত করেছেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জীবনের মায়ায় ধর্মান্তরিত হয়েছি, এর জন্য প্রায়শ্চিত্ত দরকার নেই।’
বিকেল চারটার দিকে জেরা শেষ হলে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম কাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

(প্রথম আলোর নীতি অনুসারে সাক্ষী ও তাঁর বোনদের নাম প্রকাশ করা হলো না।) prothom-alo

Sunday, January 15, 2012

’৭১ থেকে শিক্ষা নেয়নি পাকিস্তান: ইমরান খান

পাকিস্তানের ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান খান বলেছেন, ১৯৭১ সালের ঘটনা থেকে পাকিস্তান কিছুই শিক্ষা নেয়নি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অপরাধ সংঘটনকারীরা শাস্তি পেলে পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি অন্য রকম হতো।
ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য কারাভান’-এ চলতি বছরের জানুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত একটি সাক্ষাত্কারে ইমরান খান এসব কথা বলেন।
ইমরান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘটনায় আইনের শাসনবিষয়ক একটি শিক্ষা রয়েছে। পাকিস্তানের তত্কালীন শাসক ও যুদ্ধাপরাধীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা শাস্তি পেলে আমরা (পাকিস্তান) আবারও একই পথে হাঁটতাম না।’
সাক্ষাত্কারে ইমরান বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি যখন ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে ঢাকায় ছিলেন, বাঙালিদের হত্যার নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনতে পেয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে অভিযান শুরুর আগে তিনি শেষ বিমানে করে ঢাকা ছেড়েছিলেন।
১৯৭১ সালে বাঙালি হত্যায় পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের নির্দেশ প্রদান প্রসঙ্গে ইমরান খান বলেন, ‘আমি নিজ কানে শুনেছি, তারা বলেছে, এই বামন ও কালোদের হত্যা করো। তাদের একটা শিক্ষা দাও।’
তবে কে বা কারা কাকে এই নির্দেশ দিয়েছিল, সে সম্পর্কে ইমরান কিছুই বলেননি।
পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ দলের নেতা ইমরান খান জানান, তিনি এখন পাকিস্তানের ভেতরেও একই ধরনের নির্দেশনা শুনছেন। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক একই ধরনের ভাষা। একাত্তরে যা শুনেছিলাম, তা এবারও শুনছি।’ তিনি আরও বলেন, এখন পশতুনরা এই অবহেলার শিকার।
পাকিস্তানে পশতুনদের ওপর চলমান নির্যাতন সম্পর্কে ইমরান বলেন, ‘পিণ্ডি, লাহোর, করাচিতে তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং জেলে পাঠানো হচ্ছে। কারণ তারা পশতুন। এটা এক দুঃখজনক ধারাবাহিকতা।’
ইমরান জানান, তিনি বিশ্বাস করেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি অপরাধীরা শাস্তি পেলে পশতুনরা আজ হয়রানির শিকার হতো না।
ওই ম্যাগাজিনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে ঢাকা সফরের আগ পর্যন্ত ইমরান খান পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় বিশ্বাস করতেন। ওই প্রচারণায় মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করা হতো।
ইমরান বলেন, ‘ওই সময় প্রথমবার আমি বুঝতে পারি, সেখানে একটা বিচ্ছিন্নতার আন্দোলন চলছে।’ তিনি বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানে কী হচ্ছে, তার কিছুই আমরা জানতাম না।’ prothom-alo

Saturday, January 14, 2012

বিকৃত গণতন্ত্রের বিড়ম্বনা

সহজভাবে বলতে গেলে গণতন্ত্র এমন এক শাসনপদ্ধতি, যার মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই নিজেদের দেশ শাসন করতে পারে। এই শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে সবার অধিকার ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা যায়। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সহজতর হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো একক ব্যক্তির নিজেকে রাজা বা দেশের মালিক ভাবা ও সেই হিসাবে খেয়ালখুশি মোতাবেক দেশ পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। মালিক ও শাসক জনগণ; ফলে এখানে কেউ রাজা ও কেউ প্রজা এ অসমতা গ্রহণযোগ্য নয়। উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো সুযোগও নেই।
‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’—কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ গানে রয়েছে গণতন্ত্রের মূল বিষয়বস্তু। তবে প্রতিটি নাগরিক দেশ শাসন করবে, এটা বাস্তবসম্মত নয়। তাই জনগণের পক্ষে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত এবং নির্বাচিত করার ব্যবস্থা চালু করা হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের প্রতিনিধি ও সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করবে যতদূর সম্ভব নাগরিকের মতামত ও ইচ্ছানুসারে। এক কথায়, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হলো শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
১৯৯০ সালে আন্দোলনরত দেশের সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদের জাতীয় পার্টি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ ছিল এটি অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ সরকার এবং নির্বাচনে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। তাই অপরাপর রাজনৈতিক দল দেশকে স্বৈরাচার, দুর্নীতি এবং নির্বাচন জালিয়াতি থেকে মুক্ত করার জন্য অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে তারা তিনজোটের রূপরেখা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চালু করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। সে সময় সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
১৯৯০-এর পর থেকে অদ্যাবধি দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল কখনো এককভাবে, কখনো অন্য ছোট দলগুলোর মধ্যে জোটবদ্ধভাবে পালাক্রমে একজনের পর আর একজন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে ও পরস্পর স্থান পরিবর্তন করে বিরোধী দল হিসেবে কাজ করে আসছে। দেখা যায়, ওই সময়ের পর থেকে সরকারগুলো তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেয়। যখন যে বিরোধী দলে থাকে তখন এ বিষয়ে তাদের অভিযোগ ক্ষমতাসীন দলগুলোর প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করানোর অভিপ্রায় নিয়েই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়ে থাকে। বিগত ২১ বছরে কোনো সরকারের সময়ই সব প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ সময়কালে কোনো জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নাতীতভাবে সুষ্ঠু বলে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেনি।
অনেকেই বিশ্বাস করেন যে পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য, অত্যধিক অর্থের ব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতির কারণে দেশের নির্বাচনগুলোতে প্রায় সময়ই জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটে না।
অনেকেই বিশ্বাস করেন যে এ অবস্থার কারণে দেশপ্রেমিক এবং যোগ্য ব্যক্তিরা যাঁরা সরকার ও রাজনীতি ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারতেন তাঁরা নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন না। অপরদিকে, যারা ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়ে আসছেন তাঁরা সরকার বা রাজনীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সমর্থ নন। এমনকি তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ দেখা যায়। স্বভাবতই ওই সব রাজনীতিবিদের দেশ পরিচালনার যোগ্যতা ও দেশপ্রেম প্রশ্নবিদ্ধ।
গণতন্ত্র চর্চা করতে হলে সরকারকে জনগণের মতামত নিয়ে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী সরকার পরিচালনা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে জনগণের মতামত জানার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকতে হবে। তা ছাড়া মতামত কার্যকর করার পদ্ধতি এবং সদিচ্ছা আবশ্যক। এগুলো নিশ্চিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা থাকা বাঞ্ছনীয়।
সংসদীয় পদ্ধতির সরকারে ‘সংসদ’ এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। সংসদে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা উপস্থাপিত করা হবে। সরকার বা নির্বাহী বিভাগ সেগুলোকে আমলে নেবে ও বাস্তবায়নে অগ্রসর হবে, এটাই কাম্য। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে সর্বদা বিষয়গুলো দেখাশোনা করবে। এভাবেই ‘সংসদ’-এর দায়িত্ব পালনের কথা।
সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনের পর এ পর্যন্ত সব সরকারের আমলেই বিরোধী দলগুলো অধিকাংশ সময়ই সংসদ বর্জন করে এসেছে। তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ বর্জনের কারণে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বা তাদের কথাগুলো সংসদে আলোচিত হচ্ছে না। কাজেই জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেশের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে না।
সংসদ বর্জনের কারণ হিসেবে বিরোধী দল বলে আসছে যে, দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির স্পিকাররা সংসদে তাদের কথা বলতে দেন না। বিরোধী দলগুলোর আরেকটি অভিযোগ হলো যে অনেক ক্ষেত্রে তাদের কথা বলতে দেওয়া হলেও তাদের মতামতকে কোনো সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ অবস্থায় তাদের সংসদে যোগদান দেশ পরিচালনায় খুব গুরুত্ব বহন করে না। তাঁরা বলে থাকেন সরকার স্বৈরতান্ত্রিকভাবে একাই দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছে। যে দল ক্ষমতায় থেকে সংসদকে কার্যকর করার জন্য বিরোধী দলকে সংসদে যোগদান করার আহ্বান জানিয়েছিল, সে দলই বিরোধী দলে গিয়ে সংসদ বর্জনের পক্ষে সাফাই গেয়ে যায়। যেহেতু দুই প্রতিপক্ষই সংসদ বর্জনের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে, ফলে সে যুক্তি সঠিক ধরে নেওয়া যায়।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এই বিতর্কিত অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা সংসদে তাঁদের দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে কেউ সংসদে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হয়। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান এবং ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় দলের নেতা। তাই সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীরা তাঁদের দলের সব সংসদ সদস্যের ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছেন। তাঁর আদেশ অমান্য করলে সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে বহিষ্কৃত হন। সংসদের সব সিদ্ধান্তই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। যেহেতু ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ সংখ্যক সংসদ সদস্য থাকেন, সেহেতু প্রধানমন্ত্রী বা সংসদীয় দলের নেতা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সেটাই সংখ্যাধিক্যের ভোটে সংসদে অনুমোদিত হয়। আর এ কারণেই উল্লিখিত সংশোধনী পরবর্তী যেকোনো সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোটামুটি তাঁর ইচ্ছা-অনিচ্ছা বাস্তবায়নে সংসদের নিশ্চিত সমর্থন লাভ করেন। ফলে বলা যায়, সংসদ অকার্যকর হওয়ার একমাত্র কারণ বিরোধী দলের সংসদ বর্জন নয়। সংসদ সচল থাকলেও তা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করে নির্বাহী বিভাগ। ‘জনগণ’ বলতে এখানে দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিককে বোঝায়, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বোঝায় না। কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে আজ পর্যন্ত সব সরকারের আমলেই প্রায় সব উন্নয়ন প্রকল্প বা জনস্বার্থবিষয়ক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে দলীয় নেতা-কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য। প্রশাসনে নিয়োগ, পদোন্নতি, ব্যবসা, ভূমি এবং সরকারি সম্পত্তি ইজারা প্রদান, সামাজিক নিরাপত্তামূলক সুযোগ-সুবিধা সবই প্রধানত দলীয় লোকদের দেওয়া হয়। আর এ জন্য টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ইত্যাদি করা হয় বলে অভিযোগ আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিরোধী দল বা কোনো সাধারণ নাগরিক এ ধরনের কোনো রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
১৯৯১ সালের পর থেকে যাঁরা বিরোধী দলে ছিলেন তাঁরা অভিযোগ করে আসছেন সরকার তাঁদের পছন্দের বা দলীয় লোকদের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন। আর এর উদ্দেশ্য হলো বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফল ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে নেওয়া। এভাবেই প্রতিনিয়ত গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত বিচার বিভাগের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং জনগণ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাতে বসেছে।
সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশনসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করা। কিন্তু এ লক্ষ্যে আমাদের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এখন পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো কিছু না। তা ছাড়া, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মুখ্য পদগুলোতে দলীয়করণের মাধ্যমে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় বলে বিরোধী দলের অভিযোগ আছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো কোনোটির কর্মকাণ্ড প্রায়ই গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করার পরিবর্তে তা নষ্ট করে চলছে বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করে আসছে। অন্যতম উদাহরণ সরকারি কর্মকমিশনের কর্মকাণ্ড। অভিযোগ আছে যে ক্ষমতাসীন দল তাদের নিজস্ব ব্যক্তিদের সরকারি কর্মকমিশনে নিয়োগ প্রদান করে। ফলে এই পছন্দের ব্যক্তিরা মেধা বা যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। এভাবেই গণতন্ত্রের অন্যতম লক্ষ্য ‘সবার জন্য সমান সুযোগ’—এই শর্ত লঙ্ঘিত হয়। আর এর অন্যতম ফলাফল হলো সুশাসনের অভাব বা দুঃশাসন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পর পর পাঁচবার (২০০১-০৫) বিশ্বে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ বলে বাংলাদেশকে আখ্যায়িত করে। এখন শীর্ষে না থাকলেও বাংলাদেশ বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর দলে। জনগণ এখন ভাবতে শুরু করেছে যে পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন করে সরকার গঠনের বৈধতা দেওয়া মানে কি ক্ষমতাসীন দলকে জনগণের সম্পদ লুট করতে দেওয়ার ন্যায্য অধিকার দেওয়া এবং জনগণকে প্রজার মতো ব্যবহার করতে দেওয়া?
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, আশির দশকের শেষ দিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের যথার্থতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা কার্যকর সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করবে ও রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতির চর্চা করবে। তাদের সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন গত দুই দশকেও হয়নি। বরং বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) দেশকে জঙ্গবািদী ইসলামিক মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান মহাজোট সরকার দেশকে সেই কলঙ্কের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি ও গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কাঠামো থেকে মুক্ত হতে পারেনি। অনেকেই মনে করেন নব্বই-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা প্রকৃত প্রস্তাবে যেভাবে চর্চা করা হচ্ছে, তাতে গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে। এমনকি সচেতন নাগরিকদের অনেকে গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরতন্ত্র থেকে দেশ রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকে ধাবিত হচ্ছে কি না এটা ভেবে আতঙ্কিত। দুর্নীতির পরিমাপেও অবস্থার তেমন উন্নতি করতে পারেনি।
গণতন্ত্রের নামে চরম দুর্নীতি, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, মানুষের অধিকারের নিরন্তর লঙ্ঘন, ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালনা করছে। আর এ কারণেই দেশে সংঘাতমূলক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা পুরো জাতিকে এক হতাশা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, যত দ্রুত সম্ভব এ অবস্থা থেকে উত্তরণের সমাধান খুঁজে বের করা। অন্যথায় জনগণ গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। ফলে, অনাকাঙ্ক্ষিত অগণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির দিকে জনগণ আকৃষ্ট হতে পারে, যেমনটি অতীতে হয়েছিল।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের: মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য।

Friday, December 30, 2011

উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা উন

undefined
উত্তর কোরিয়ার নতুন নেতা কিম জং-উনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ খবর জানানো হয়েছে।
দেশটির প্রয়াত নেতা কিম জং-ইলের মৃত্যুর পরপরই তাঁর ছোট ছেলে কিম জং-উনকে উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গতকাল শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির এক সভায় নতুন নেতা উনকে দেশটির সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ নিউজ জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার ওয়ার্কার্স পার্টির সভায় কিম জং-উনকে কোরিয়ার পিপলস আর্মির সর্বোচ্চ কমান্ডার পদ দেওয়া হয়। বাবা কিম জং-ইলের লিখিত ইচ্ছা অনুসারে কিম জং-উনকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর প্রয়াত কিম জং-ইল এই দলিল লিখে যান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তরুণ নেতা কিম জং-উন উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় নিজের অবস্থান সুসংহত করলেন।
১৭ ডিসেম্বর কিম জং-ইল হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গত বৃহস্পতিবার তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আলোচনায় গাদ্দাফি-ওসামা-মোবারক

আন্তর্জাতিক নানা ঘটনায় ঘটনাবহুল ছিল ২০১১ সালটি। আরব বসন্ত নামে যে গণজাগরণ শুরু হয় তার ঢেউ লাগে আরববিশ্ব ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয় ওয়াল স্ট্রিটবিরোধী আন্দোলন।
পরবর্তীকালে অন্যান্য দেশেও পুঁজিবাদবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ওসামা বিন লাদেন হত্যা, জাপানের ভূমিকম্প ও সুনামিও ছিল আলোচনায়। এ ছাড়া বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে দক্ষিণ সুদান নামে নতুন একটি রাষ্ট্রের। মানুষের মুখে মুখে থাকা বছরের আলোচিত কিছু ঘটনা নিয়ে সালতামামি।

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্টের পলায়ন
২৩ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এ বছরের ১৪ জানুয়ারি আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেন আলী। আরব বসন্তের প্রথম শিকার তিনি। প্রেসিডেন্ট বেন আলীর অত্যাচারে প্রতিবাদ জানাতে ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে আত্মাহুতি দেন দেশটির সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ বুয়াজিজি। বুয়াজিজির প্রতিবাদ থেকেই ‘আরব বসন্ত’ নামে গণজাগরণের সূচনা। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেন আলী। এরপর এই গণজাগরণের জোয়ার একে একে মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও বাহরাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনের মুখে হোসনি মোবারকের পদত্যাগ
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নেতা মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। এতে অবসান ঘটে দীর্ঘ ৩০ বছরের শাসনের। গণবিক্ষোভ শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় সরকার ভেঙে দিয়ে ২৯ জানুয়ারি তানতাওয়িকে উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন মোবারক। কিন্তু এর পরও আন্দোলন থেমে থাকেনি। ১৮ দিন টানা আন্দোলনে চলতে থাকে। অবশেষে ১১ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী লাখো মানুষের বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন মোবারক। কায়রোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ছেড়ে যান তিনি। কায়রোর তাহেরির স্কয়ারে উল্লাসে ফেটে পড়ে বিক্ষোভকারীরা।
মোবারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি মিসরে স্বৈরশাসন চালিয়েছেন দীর্ঘ ৩০ বছর। এই পুরো সময়ই তিনি জারি করে রাখেন জরুরি অবস্থা, নিষিদ্ধ করেছেন বিরোধী সব রাজনৈতিক দল। গড়ে তোলেনে অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

প্রেসিডেন্ট সালেহর ক্ষমতার অবসান
ইয়েমেনে প্রায় ৩৩ বছর ধরে ক্ষমতাসীন ছিলেন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ। তাঁকে হটানোর দাবিতে গত জানুয়ারিতে আন্দোলন শুরু হয়। দেশটির পার্লামেন্টর বিরোধী জোট দ্য কমন ফোরাম প্রেসিডেন্ট সালেহর নিপীড়ন, জুলুম আর দুর্নীতির অভিযোগ এনে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়।
আন্দোলনের মুখে গত ২৩ নভেম্বর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যস্থতায় শর্তসাপেক্ষে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হন প্রেসিডেন্ট সালেহ। চুক্তি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সালেহ ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ্রবুহ মানসুর হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চতুর্থ শাসক হিসেবে গণদাবির মুখে পদ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা ছাড়েননি। দেশটিতে সম্প্রতি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠিত হয়েছে।
সালেহ-বিরোধী আন্দোলনের সময় সালেহর বাহিনীর দমন পীড়নে অনেক বিক্ষোভকারী নিহত হয়। ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনের জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তাওয়াক্কুল কারমেল। নতুন বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গৃহযুদ্ধের হুমকিতে সিরিয়া
জাতিসংঘের তথ্যমতে, আট মাস ধরে চলা এই আসাদ-বিরোধী আন্দোলনে সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যদিও সিরিয়ার সরকারের দাবি, তাদের এক হাজার ১০০ নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছে।
সিরিয়ায় অধিকার প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলন দেশটিতে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। সিরিয়ায় চলমান দমন-পীড়ন এবং হত্যাযজ্ঞের ফলে দেশটি পূর্ণমাত্রায় গৃহযুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। ক্রমেই সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে ধাবিত হচ্ছে এ আন্দোলন। আন্দোলনকারীরা এখন বিক্ষোভের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নিতে হন্য হয়ে অস্ত্র খুঁজছে। অন্যদিকে সপক্ষ ত্যাগ করা বিদ্রোহী সেনারাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এর মধ্যেই অনেক নিরাপত্তাকর্মী সপক্ষ ত্যাগ করেছেন। আসাদের অনুগত বাহিনী সপক্ষ ত্যাগ করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু
গত ২ মে পাকিস্তানে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল মাত্র ৪০ মিনিটের অভিযানে হত্যা করে ওসামা বিন লাদেনকে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে সন্ত্রাসী হামলায় ধসে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গর্বের প্রতীক নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র। এ ঘটনার পরই ওসামা হয়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এরপর ১০ বছর লাদেনের টিকিটিও ছুঁতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অ্যাবোটাবাদের বিশাল একটি বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি। বাড়িটি থেকে কয়েক গজ দূরে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি। আশপাশের বাড়িগুলোতে থাকেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা। তিনতলা বাড়িটির চারপাশে ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার সীমানা প্রাচীর।
গোপন সূত্রের কাছে খবর পেয়ে লাদেনের অবস্থানের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেন মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী। লাদেনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২ মে পাকিস্তানের স্থানীয় সময় রাত পৌনে দুইটার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় মার্কিন নেভি সিলের ছোট্ট একটি দল। চারটি হেলিকপ্টার নিয়ে সেখানে তারা অবতরণ করে। এরপর মার্কিন বাহিনী ঢুকে পড়ে বাড়িটির নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, লাদেন ও তাঁর সঙ্গীরা গুলি ছোড়ে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে। ৪০ মিনিটের মতো দুই পক্ষে গোলাগুলি চলে। এতেই নিহত হন যুক্তরাষ্ট্রের আতঙ্ক আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
শেষ পর্যন্ত লাদেনকে হত্যার মাধ্যমে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অবসান ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র। লাদেনকে হত্যার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য ছিল—ন্যায়বিচার করেছে তারা। অন্যদিকে লাদেনের মৃত্যু সত্ত্বেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে আল-কায়েদা।

ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত জাপান
১১ মার্চ আঘাত হানা প্রচণ্ড ভূমিকম্পের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল জাপানের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট। ভূমিকম্পের আঘাতে হতবিহ্বল মানুষ দুর্যোগের ব্যাপকতা বুঝে ওঠার আগেই সুনামির ঢেউ, ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাড়িঘর, গাছপালা, যানবাহন, দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা জিনিসপত্রসহ উপকূল এলাকায় বসবাসরত কয়েক হাজার নারী-পুরুষ আর শিশুকে। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সুনামির ব্যাপকতা ছিল ভূমিকম্পের চেয়েও অনেক বেশি।
জাপানে উত্তর-পূর্ব উপকূলে স্মরণকালের শক্তিশালী নয় দশমিক এক মাত্রার ভূমিকম্পের পর আঘাত হানে ভয়াবহ সুনামি। এ সময় প্রায় ৩৩ ফুট উচ্চতার ঢেউয়ে তছনছ হয়ে যায় উপকূলীয় অঞ্চল। ফুকুশিমা-১, ফুকুশিমা-২ পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রে বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি চুল্লিতে আগুন ধরে যায়। এর ফলে তেজস্ক্রিয়াতা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায় । মোট ২০ হাজারের মতো মানুষ মারা যায় এ দুর্যোগে।
জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার হিসাব মতে, ভূমিকম্প ও সুনামিতে আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৩ হাজার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মিয়াগি, ফুকুশিমা, ইওয়াতে অঞ্চলে। বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে ২০ লাখ ঘর-বাড়ি।

লৌহমানব গাদ্দাফির মৃত্যু
৪২ বছর দেশ শাসনের পর ২০ অক্টোবর বিদ্রোহীদের গুলিতে নিহত হন লিবিয়ার লৌহমানব কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি। ক্ষমতা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় এ বছরের ২০ মার্চ গাদ্দাফি-শাসিত লিবিয়ায় হামলা চালায় ন্যাটো বাহিনী। তবে পিছু না হটে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমি যোদ্ধা, লড়তে লড়তে যুদ্ধ ক্ষেত্রেই মরতে চাই।’ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধরত অবস্থায় মারা যান তিনি।
১৯৬৯ সালে রক্তপাতহীন একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা দখল করেন সেনাবাহিনীর তত্কালীন ক্যাপ্টেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। ক্রমে সমাজতন্ত্র ও ইসলামি আদর্শের মিশেলে এক নিজস্ব রাজনৈতিক মতবাদ গড়ে তোলেন তিনি। টানা ৪২ বছর শাসন করেন গাদ্দাফি। এ বছরের প্রথম দিকে আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো লিবিয়ায়ও সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। কয়েক মাসের আন্দোলন ও সশস্ত্র যুদ্ধের পর অবশেষে গত ২৩ আগস্ট ত্রিপোলির পতন ঘটে। এরপর আত্মগোপনে চলে যান ৬৯ বছর বয়সী গাদ্দাফি। এ বছরের ২০ অক্টোবর তাঁর অনুগত বাহিনীসহ গাড়িবহর নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়িবহরে বিমান হামলা চালায় ন্যাটো বাহিনী। এ সময় তিনি মারা যান। কিন্তু কীভাবে কিংবা কার হাতে তিনি মারা যান, সে বিষয় নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। মৃত্যুর পর গোপন স্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা লাভ
গত ৯ জুলাই পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্ম নেয় দক্ষিণ সুদান। ১৯৩তম স্বাধীন দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি লাভ করে দেশটি। দেশটির আয়তন দুই লাখ ৩৯ হাজার ২৮৫ মাইল। রাজধানী জুবা। দেশটির সরকারি ভাষা ইংরেজি। এ ছাড়া জুবার আশপাশে ‘জুবা আরবি’ ভাষা প্রচলিত। দেশটির মুদ্রা সুদানি পাউন্ড। দেশটির ২০০৮ সালের আদমশুমারি তথ্য অনুযায়ী দক্ষিণ সুদানের জনসংখ্যা ৮২ লাখ ৬০ হাজার ৪৯০ জন। জুবা দেশটির সবচেয়ে বড় শহর।
কয়েক দশক ধরে উত্তরের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ চলে দক্ষিণ সুদানের। ২০০৫ সালে শান্তি চুক্তিতে সই করে দক্ষিণ সুদান। এরপর ২০০৫ সালের ৯ জুলাই স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। দেশটির পূর্বে ইথিওপিয়া, দক্ষিণে কেনিয়া, উগান্ডা ও কঙ্গো। পশ্চিমে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকান ও উত্তরে সুদান। দক্ষিণ সুদানের অর্থনীতি বর্তমানে অনেকাংশে তেলের ওপর নির্ভরশীল। অবিভক্ত সুদানের ৭৫ শতাংশ তেলের মজুদই দক্ষিণ সুদানে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশটি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঠ রপ্তানি করে থাকে। prothom-alo

Sunday, December 25, 2011

পরাশক্তির দেশে ক্ষমতা বদলের হাওয়া

বিশ্ব রাজনীতির জন্য ২০১২ সাল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে চারটিতেই ক্ষমতাকেন্দ্রে বদলের হাওয়া বইছে। পরাশক্তির দেশে নেতৃত্বের আসন্ন এই পরিবর্তনে বদলে যেতে পারে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি।
আগামী বছরের ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে, ২২ এপ্রিল ও ৬ মে ফ্রান্সে এবং ৪ মে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া চীনে আগামী বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন দলের পার্টি কংগ্রেস। ওই কংগ্রেসের মাধ্যমে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি বেইজিংয়ের ক্ষমতা কাঠামোতে আসবে এক ঝাঁক নতুন নেতৃত্ব।
পরিবর্তনের এই হাওয়ায় কার ভরাডুবি ঘটবে, কে হবেন নতুন নেতা, নতুনদের নীতি কেমন হবে, বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের প্রভাব কী হবে—এসব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের নেতৃত্ব তাঁদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। ফলে অর্থনৈতিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এই রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা হবে সংকীর্ণ। এতে করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার অগ্রগতিতে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। এ কারণেই বিশ্লেষকেরা একে একটি উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্যস্ত সময় কাটাবেন। ফলে তাঁর পক্ষে বাণিজ্য বা জলবায়ু বিষয়ে কোনো নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অবতীর্ণ হওয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া এসব বিষয় নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের বিরোধিতার মুখেও পড়বেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী মিট রমনে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে এবং চীন তাদের মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন না করলে, বেইজিংয়ের ব্যাপারে তিনি কঠোর হবেন।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও চীনের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর ওবামার কিছুটা হলেও আস্থা আছে। তবে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ২০১২ সালের শেষ নাগাদ নতুনদের কাছে তাঁদের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। শুধু তা-ই নয়, এই সময়ে চীনের প্রায় ৭০ শতাংশ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। চীনের ক্ষমতা কাঠামোতে আসন্ন এই পরিবর্তন পশ্চিমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্ব যেমন পরিচিত নয়, তেমনি তাঁরা অধিক জাতীয়তাবাদী ও রক্ষণশীল বলেই পরিচিত।
রাশিয়ার ক্ষমতায়ও পরিবর্তন আসন্ন। সেখানে আসছে পুতিনবাদ। আগামী মার্চে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন আবারও ক্রেমলিনে ফিরে আসার স্বপ্নে বিভোর। বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ওই নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। ফলে দেশটির ক্ষমতায় পরিবর্তন নিশ্চিত। রাশিয়ার ক্ষমতায় পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মেদভেদেভের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর মনোভাব অপেক্ষাকৃত নমনীয়। ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন লিবিয়া অভিযানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের বিরোধিতা ছিল অপেক্ষাকৃত নরম প্রকৃতির। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুতিন এ অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে মেদভেদেভ এটা পরিষ্কার করেছেন যে তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। তবে স্পষ্টত এ ব্যাপারে পুতিনের অবস্থান পুরোপুরি বিপরীত।
চলমান ইউরো সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আগামী বছরই দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের রাজনীতিতে সারকোজির অবস্থান খুব একটা সুবিধাজনক নয়। নির্বাচনে সারকোজির ভরাডুবি ঘটলে ইউরোপের রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনের এখনো অনেক দেরি। তবে দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের ঐক্য খুব একটা মজবুত নয়। সেখানেও অঘটন ঘটতে পারে যেকোনো সময়। সব মিলিয়ে সামনে বিশ্ব রাজনীতির জন্য অপেক্ষা করছে এক অনিশ্চয়তার বছর।—দ্য ইকনোমিস্ট অবলম্বনে। প্রথম আলো

Wednesday, December 14, 2011

একাত্তরের চিঠিগুলোর কী উত্তর দেব আমরা?

মৃত্যুর আগে কেউই জানে না জীবনের মূল্য ও পরিণতি। কিন্তু শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা জেনেছিলেন। চিঠিটা পড়ুন:

‘‘প্রিয় আব্বাজান! টেকেরঘাট হইতে
তাং-৩০/৭/৭১
আমার সালাম নিবেন। আশা করি খোদার কৃপায় ভালই আছেন। বাড়ির সকলের কাছে আমার শ্রেণীমত সালাম ও স্নেহ রইলো। বর্তমানে যুদ্ধে আছি। আলীরাজা, মাহতাব, রওশন, রুনু, ফুলমিয়া, ইব্রাহিম সকলেই একত্রে আছি। দেশের জন্য আমরা সকলেই জান কোরবান করিয়াছি। আমাদের জন্য ও দেশ স্বাধীন হওয়ার জন্য দোয়া করবেন। আমি জীবনকে তুচ্ছ মনে করি, কারণ দেশ স্বাধীন না হইলে জীবনের কোন মূল্য থাকিবে না। তাই যুদ্ধকে জীবনের পাথেয় হিসাবে নিলাম।
আমার অনুপস্থিতিতে মাকে কষ্ট দিলে আমি আপনাদের ক্ষমা করিব না। পাগলের সব জ্বালা সহ্য করিতে হইবে। চাচা-মামাদের ও বড় ভাইদের নিকট আমার ছালাম। বড় ভাইকে চাকুরীতে যোগ দিতে নিষেধ করিবেন। জীবনের চেয়ে চাকুরী বড় নয়। দাদুকে দোয়া করিতে বলিবেন। মৃত্যুর মুখে আছি। যে কোন সময় মৃত্যু হইতে পারে এবং মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত আছি। দোয়া করিবেন মৃত্যু হইলেও যেন দেশ স্বাধীন হয়। তখন দেখবেন লাখ লাখ ছেলে বাংলার বুকে পুত্র হারাকে বাবা বলে ডাকবে। এই ডাকের অপেক্ষায় থাকুন। আর আমার জন্য চিন্তার কোন কারণ নাই। আপনার দুই মেয়েকে পুরুষের মত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন। তবেই আপনার সকল সাধ মিটে যাবে।
দেশবাসী! স্বাধীন বাংলা কায়েমের জন্য দোয়া কর। মীরজাফরী করিও না, কারণ মুক্তিফৌজ তোমাদেরকে মাফ করিবে না এবং এই বাংলায় তোমাদের জায়গা দেবে না।
সালাম! দেশবাসী সালাম!
ইতি, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ৩০-৭-৭১ ইং’’

এর আট দিন পর কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজের ছাত্র সিরাজ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের যুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে জয়ী হন; কিন্তু সেটাই ছিল তাঁর শেষ যুদ্ধ। জয়ের উচ্ছ্বাসে স্লোগান দিতে গিয়ে অসাবধানে পজিশন ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন, ঠিক তখনই পলায়মান শত্রুর ‘কাভারিং ফায়ারের’ একটি বুলেট এসে লাগল তাঁর চোখে। চিকিৎসার জন্য মিত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারে ভারতে নেওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস নির্গত হয়। সন্ধ্যায় খাসিয়া পাহাড়ের কোলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’-এর কাছাকাছি টেকেরঘাটে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়। পরাধীন দেশের মাটি তিনি পাননি, কিন্তু স্বাধীনতার পরও কেন এক শহীদ বীরপ্রতীককে পড়ে থাকতে হবে সীমান্তের ওপারের নো ম্যান্স ল্যান্ডে?
প্রাণের চেয়ে বড় দান আর হয় না। তবে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মনে করতেন, প্রাণের চেয়ে বড় দান আছে, তা হলো দেশভক্তি। সিরাজ দেশের জন্য প্রাণ ও ভক্তি দুটোই দিয়েছিলেন। তাই তো বলতে পারেন, ‘আমি জীবনকে তুচ্ছ মনে করি, কারণ দেশ স্বাধীন না হইলে জীবনের কোন মূল্য থাকিবে না। তাই যুদ্ধকে জীবনের পাথেয় হিসাবে নিলাম।’ সে সময় তাঁরা আত্মদানের মতো বিমূর্ত ভাষা বলতেন না, বলতেন ‘জান কোরবান’ করার কথা।
ছোট্ট একটি চিঠি, কিন্তু কেবল নিষ্ঠার শুদ্ধতাতেই নয়, নীতির শক্তিতেও অসামান্য। একাত্তরের চিঠির বেশির ভাগ চিঠিই মাকে সম্বোধন করা (প্রথমা প্রকাশন, ২০০৯)। সেই মা কেবল ব্যক্তিগত মা নন, যোদ্ধা ছেলে নিজে যেমন দেশের সন্তান হয়ে ওঠে, তেমনি জননীকেও ভাবে দেশমাতৃকার আদলে। ১৯ নভেম্বর, ১৯৭১ ‘যুদ্ধখানা হইতে তোমার পোলা’ নুরুল হক মাকে লেখেন, ‘আমার মা, আশা করি ভালোই আছ। কিন্তু আমি ভালো নাই। তোমায় ছাড়া কীভাবে ভালো থাকি! তোমার কথা শুধু মনে হয়। আমরা ১৭ জন। তার মধ্যে ছয়জন মারা গেছে, তবু যুদ্ধ চালাচ্ছি। শুধু তোমার কথা মনে হয়, তুমি বলেছিলে, “খোকা মোরে দেশটা স্বাধীন আইনা দে,’’ তাই আমি পিছুপা হই নাই, হবো না, দেশটাকে স্বাধীন করবই। রাত শেষে সকাল হইব, নতুন সূর্য উঠব, নতুন একটা বাংলাদেশ হইব...।’ জাতীয়তাবাদী সংগ্রামে দেশমাতা আর জন্মদায়িনী যখন একাকার, তখন মায়ের ছেলেরাও অনায়াসে দেশের ছেলে হয়ে যায়।
কিন্তু সিরাজ মাকে সম্বোধন করে লিখতে পারেননি, কারণ মা ‘পাগল’। যোদ্ধা পুত্র তাই বাবাকে সম্বোধন করে লেখেন। তাতেও তাঁর উদ্বেল হূদয় তৃপ্ত হয় না; চিঠিটার শেষে তিনি দেশবাসীকেই ডাকেন:
‘দেশবাসী! স্বাধীন বাংলা কায়েমের জন্য দোয়া কর। মীরজাফরী করিও না, কারণ মুক্তিফৌজ তোমাদেরকে মাফ করিবে না এবং এই বাংলায় তোমাদের জায়গা দেবে না।’
পরিবারের দায়িত্ব হিসেবে বাবাকে যা বলেন, তা অসাধারণ।
‘আমার অনুপস্থিতিতে মাকে কষ্ট দিলে আমি আপনাদের ক্ষমা করিব না। পাগলের সব জ্বালা সহ্য করিতে হইবে।’
ভাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে এক বাক্যের উদ্বেগের পরই বোনদের বিষয়ে বলেন, ‘আপনার দুই মেয়েকে পুরুষের মত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন। তবেই আপনার সকল সাধ মিটে যাবে।’
একাত্তরের চেতনার দলিল ইতিহাসে যত না, তার থেকে বেশি মিলবে মুক্তিযোদ্ধাদের এসব চিঠিতে। চিঠিটা তিনি শেষ করেন জাতির প্রতি ডাক দিয়ে:
‘দেশবাসী! স্বাধীন বাংলা কায়েমের জন্য দোয়া কর। মীরজাফরী করিও না, কারণ মুক্তিফৌজ তোমাদেরকে মাফ করিবে না এবং এই বাংলায় তোমাদের জায়গা দেবে না।’
পরিবার ও দেশের জন্য তাঁর এই নির্দেশনার মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের সত্যিকার মুক্তির শর্ত নিহিত ছিল। কিন্তু একাত্তরের পরের ইতিহাস সেই সব নির্দেশনা অমান্য করারই ইতিহাস।
যে ‘যুদ্ধকে জীবনের পাথেয় করে’ নিয়েছিলেন সিরাজরা, সেই যুদ্ধ পেরিয়ে তাঁরা আসতে পারেননি বর্তমানে। কিন্তু তাঁদের কৃতকর্ম, তাঁদের স্মৃতি ও চিঠির অস্তিত্ব এক নিত্য বর্তমানে। যখনই পড়ি এই চিঠিগুলো, মনে ভাসে বাংকারে শায়িত, অথবা অন্ধকারে নদী পেরোনো অথবা প্রশিক্ষণ শিবিরের তাঁবুতে রাত জাগা কোনো যুবকের ছবি। জীবিতের ক্ষয় আছে, শহীদেরা অক্ষয়, তাঁদের বয়স কখনো বাড়ে না। একাত্তরের চল্লিশ বছর পরও তাঁরা যুবকই রয়ে যান আমাদের মনে।
দেশটা বধ্যভূমিময়। আজকের তরুণ, যে মাটিতেই পা রাখো, জানবে আশপাশে কোথাও নিশ্চয়ই আছে কোনো না কোনো শহীদের গায়েবি কবর। তাই মাটির দিকে তাকিয়ো, জানিয়ো তোমার বা তোমার চেয়ে কম বয়সী কারও রক্ত-অস্থি-মাংস-চক্ষু সেই মাটিতে মিশে আছে। এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে এই ভাবনা আমাকে থরথর করে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। মনে হলো, ওখানে যে শুয়ে আছে, সে তো আমার চেয়েও কম বয়সী! একাত্তরের জাতকেরা এখন স্বাধীনতার সমান কিংবা কিছু বেশি বয়সী। তাদের মনেও নিশ্চয়ই এই অনুভূতি জাগে, কবরে শায়িত তাদের বাবা তাদের চেয়ে কত ছোট! কেবল বয়স পেরোনোর যোগ্যতাতেই আমরা এগিয়ে, কিন্তু তাদের সমান অবদান রাখার সুযোগ আমাদের কি হবে! আমাদের সময়ের তরুণেরা কি পারবে মুক্তিযুদ্ধের ফেলে আসা রণাঙ্গনে, মাটিচাপা বধ্যভূমিগুলোতে, লাখ লাখ ধর্ষিতার পিঠের নিচের অন্ধকার বাংলাদেশে, গোপন বন্দিশালায়, এক কোটি শরণার্থীর দেশত্যাগের মর্মান্তিক যাত্রাপথে, আহত-পর্যুদস্ত মুক্তিযোদ্ধা আর ভুক্তভোগীদের স্মৃতির মণিকোঠায় কোনো দিন পৌঁছাতে? যেখানে যন্ত্রণার শিখা অনির্বাণ জ্বলে। যে জীবন একাত্তরের, তার সঙ্গে কি আমাদের হবে দেখা?
যদি দেখা হয়, যদি জানা হয়, তাহলে তারা প্রশ্ন করবে, মেহনতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের ‘রাত শেষে সকাল হইব, নতুন সূর্য উঠব, নতুন একটা বাংলাদেশ হইব...’ এই বিশ্বাস কেন ব্যর্থ হয়েছে? শহীদ সিরাজের আকাঙ্ক্ষা মতো কেন বাংলাদেশের মেয়েরা পুরুষের সমান শিক্ষা ও অধিকার পায়নি? হত্যা, ধর্ষণ, শোষণ-লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতেও কেন হত্যা-ধর্ষণ, শোষণ-লুণ্ঠন কমিয়ে আনা যায়নি? কেন মীরজাফররা এখনো বাংলার মাটিতে প্রতাপের সঙ্গে বিরাজ করছে? কেন শিশুরাষ্ট্র বাংলাদেশ রূপকথার পিটারপ্যানের মতো শিশুই রয়ে গেল; আর পরিণত হলো না। হিসাব মেলে না। একাত্তরের অসম্পূর্ণ হিসাব মেলানোর দায় আজকের তরুণদের সামনে।
প্রয়াত সেক্টর কমান্ডার বীরোত্তম কর্নেল (অব.) নুরুজ্জামানকে একদিন টিভিতে দেখি। দেশের ভেতরে যুদ্ধ থেকে ফিরে শরণার্থী-শিবিরে এক অন্ধ বৃদ্ধকে পেয়েছিলেন। বৃদ্ধটির সন্তান যুদ্ধে গেছে। অনেক দিন নিখবর। কমান্ডারকে কাছে পেয়ে তাঁর সে কী উচ্ছ্বাস। তিনি কর্নেলের হাত ছুঁলেন, চোখ ছুঁলেন। তারপর সেই স্পর্শ নিজের দৃষ্টিহীন চোখে মাখিয়ে নিয়ে বললেন, ‘বাবা, তোমার এই হাত যুদ্ধ করেছে, তোমার চোখ দেশের মাটি-গাছ-পাখি দেখেছে। বাবা, আমি চোখে দেখি না। তুমি তো দেশ থেকে এসেছ, তুমি বলো আমার দেশ কি এখনো তেমন সবুজ, আমার মাটি কি এখনো তেমন সজল? এখনো কি সেখানে পাখিরা ডাকে?’ অন্ধ বৃদ্ধ সন্তানের জন্য কাঁদেননি, কেঁদেছিলেন বিধ্বস্ত দেশের শোকে? ঘটনার ৩৬ বছর পর সেই কথা বলতে বলতে বৃদ্ধ কর্নেলের গাল ভেসে যাচ্ছিল অশ্রুতে। তিনি ফোঁপাচ্ছিলেন। একাত্তরের চিঠিগুলো পড়ে তেমন দমকানো কান্না আসে। অশ্রুও কখনো কখনো ক্ষারের মতো কাজ করে। আমাদের জাতীয় আত্মার ময়লা ধুতে এমন ক্ষার এখন অনেক প্রয়োজন।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক। প্রথম আলো
farukwasif@yahoo.com

 গোলাম আযমের নির্দেশে ৩৮ জনকে হত্যা

একাত্তরের ২১ নভেম্বর গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের ৩৮ জনকে শহরের পৈরতলা রেলব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। এই গণহত্যা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের নির্দেশে।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫২টির একটি হলো এই গণহত্যা। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) ধারায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং এ ধরনের অপরাধে নেতৃত্ব, সহায়তা, প্ররোচনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত সোমবার এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটকের জন্য পরোয়ানা জারিরও আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল ২৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নিলে রাষ্ট্রপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
জানতে চাইলে জামায়াতের আটক নেতাদের আইনজীবী দলের প্রধান আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়াধীন থাকায় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে এটা বলা যায়, গোলাম আযম পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন এটা যেমন এক শ ভাগ সত্য, তেমনি এটাও এক শ ভাগ সত্য যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তাঁর দূরতম কোনো সম্পর্ক ছিল না।’
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযমের চেষ্টায় শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, পাইওনিয়ার ফোর্স প্রভৃতি সহযোগী বাহিনী গঠিত হয়। তাঁর নেতৃত্বে ও নির্দেশে এসব বাহিনী সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে এবং এসব অপরাধ করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে।
অভিযোগ অনুসারে, কুমিল্লার হোমনা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সিরু মিয়া একাত্তরে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় দারোগা (উপপরিদর্শক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৮ মার্চ তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও ১৪ বছরের ছেলে আনোয়ার কামালকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যান। সেখানে তিনি শরণার্থীদের ভারতে যাতায়াতে সাহায্য করতেন। ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার তন্তর চেকপোস্টের কাছে তিনি, তাঁর ছেলেসহ ছয়জন ভারতে যাওয়ার পথে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন। তাঁদের বিভিন্ন রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে কয়েক দিন নির্যাতনের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে পাঠানো হয়। আনোয়ারা বেগমের ভগ্নিপতি খিলগাঁও সরকারি স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ মুহসিন আলী খান সিরু ও আনোয়ারকে ছাড়াতে গোলাম আযমের সঙ্গে দেখা করেন। পরে আরেক দিন তিনি গোলাম আযমের কাছে গিয়ে ওই অনুরোধ জানান। গোলাম আযম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শান্তি কমিটির নেতা পেয়ারা মিয়ার কাছে এ বিষয়ে তাঁদের মারফত একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠি পড়ার পর পেয়ারা মিয়া পত্রবাহককে গোলাম আযমের দেওয়া আরেকটি চিঠি দেখান, যাতে সিরু মিয়া ও তাঁর ছেলেকে হত্যার নির্দেশ ছিল। পেয়ারা মিয়া পত্রবাহককে জানান, তাঁর আনা চিঠিতে নতুন কিছু নেই। পরে ২১ নভেম্বর (পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন) রাতে সিরু মিয়া, আনোয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নজরুল ইসলামসহ ৩৯ জনকে পাকিস্তানি সেনারা রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতায় কারাগার থেকে পৈরতলায় নিয়ে গুলি করে। এতে একজন ছাড়া বাকি ৩৮ জন মারা যান।
এ ঘটনায় গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা ও এতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাকি ৫১ অভিযোগ অনুসারে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, রাজাকার ও সহযোগী বাহিনীগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সারা দেশে যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে, নেতা হিসেবে গোলাম আযম এসব অপরাধ করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তানের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা করতে উৎসাহ, প্ররোচনা ও উসকানি দিয়েছেন।
গণহত্যায় প্ররোচনা: আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ২ মে জামায়াতের ঢাকার কার্যালয়ে কর্মিসভায় গোলাম আযম মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটনে দলের নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। ১৭ মে ঢাকায় সাবেক এমএনএ আবুল কাসেমের বাসভবনে এক সভায় গোলাম আযম ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর সামরিক অভিযানকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ উল্লেখ করেন। ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা কেন্দ্রে এক সভায় তিনি গণহত্যাকে সমর্থন করেন। ১৪ আগস্ট কার্জন হলে এক সভায় তিনি ‘ঘরে ঘরে দুশমন খুঁজে বের করে তাঁদের উৎখাতের মাধ্যমে’ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য প্ররোচিত করেন।
শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন: অভিযোগ অনুসারে, ৪ এপ্রিল গোলাম আযমসহ ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক টিক্কা খানকে নাগরিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। দুই দিন পর গোলাম আযম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পূর্ব পাকিস্তানের সভাপতি পীর মোহসীনউদ্দিন আহমদ ও এ টি সাদী আবার টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। ৯ এপ্রিল খাজা খয়েরউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও গোলাম আযমকে সদস্য করে ১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত হয়। ১৫ এপ্রিল নাগরিক শান্তি কমিটির নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি এবং ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়, যার সদস্য ছিলেন গোলাম আযম। ২১ এপ্রিল একে আরও গতিশীল করতে ছয় সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হয়, যার দুই নম্বর সদস্য ছিলেন গোলাম আযম।
অভিযোগ অনুসারে, ১৮ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিপাবলিক স্কয়ারে এক সভায় গোলাম আযম শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে রাজাকার শিবির পরিদর্শনকালে আলেম ও ইসলামি কর্মীদের প্রতি রাজাকার ও মুজাহিদ বাহিনীতে ভর্তি হয়ে সশস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ১ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, তথাকথিত মুক্তিবাহিনীকে মোকাবিলা করতে রাজাকাররাই যথেষ্ট। এ জন্য রাজাকারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
রাজাকারদের অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান: অভিযোগ অনুসারে, ১৯ জুন গোলাম আযম রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দেখা করে মুক্তিযোদ্ধাদের মোকাবিলার জন্য রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। পরদিন লাহোরে জামায়াতের পশ্চিম পাকিস্তানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে দুষ্কৃতকারীরা সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের প্রতিরোধের জন্য অস্ত্রসজ্জিত হওয়া উচিত। এমন কথা তিনি আরও একাধিক স্থানে বলেছেন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে দালিলিক সাক্ষ্য হিসেবে যেসব নথি সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: একাত্তরে স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদন (জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র সংঘ ও শান্তি কমিটির কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত), গোয়েন্দা প্রতিবেদন, শান্তি কমিটির সঙ্গে রাজাকার, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের যোগাযোগের নথি ও ছবি, ভিডিওচিত্র এবং একাত্তরের বিভিন্ন পত্রিকা ও বিদেশি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদন। এসব বিষয়ে প্রকাশ ও প্রচারের তারিখ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 প্রথম আলো পাঠক প্রতিক্রিয়া

 
Tayyip Rahman
Tayyip Rahman
২০১১.১২.১৪ ০৪:০০
Why Government is bothering a peace loving person? After all he was associated with peace committee in 1971. He wasn't pissing peace into pieces, was he?

Ismail Khan Chy(Titu)
Ismail Khan Chy(Titu)
২০১১.১২.১৪ ০৪:৫৪
He should be arrested soon.

Ismail Khan Chy(Titu)
Ismail Khan Chy(Titu)
২০১১.১২.১৪ ০৪:৫৭
He has been trying prove himself innocent on tv channels. be aware of him.

সুনন্দন বড়ুয়া (প্যারিস থেকে)
সুনন্দন বড়ুয়া (প্যারিস থেকে)
২০১১.১২.১৪ ০৬:৫৭
১৬ ডিসেম্বর ১ নম্বার রাজাকার গোলাম আযম কে গ্রেপ্তার করা হোক ।

Md.Monirul Islam Khan
Md.Monirul Islam Khan
২০১১.১২.১৪ ০৮:৩৫
গতকাল রাতে এ টি এন বাংলাই "৭১ এর গোলাম আযম" শীর্ষক একটি প্রতিবেদন দেখলাম, সাংবাদিকের প্রায় প্রশ্নের উত্তর তিনি সুন্দর ভাবে এড়িয়ে গেলেন। সবচেয়ে যে জিনিসটা আমার খারাপ লেগেছে একজন সাংবাদিক তাকে SIR বলে সম্বোধন করতে শুনে। একটা জিনিস আমি কিছুতেই বুঝলাম না তাকে এতটা সমীহ করে কথা বলার কি আছে। সে শুধু একজনের শত্রু নই পুরো জাতির শত্রু, কথাটা কি আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা ভুলে গিয়েছলেন?

Nazmul Rubaiyat
Nazmul Rubaiyat
২০১১.১২.১৪ ০৯:২৬
পাকিস্তানি গোলাম মীরজাফার গোলাম আজমের ফাসির আগে জুতা পেটা করতে চাই।

Monika
Monika
২০১১.১২.১৪ ০৯:২৮
এসব কেচ্ছা কাহিনী আমরা ছোটবেলা থেকে শুনছি। সময় এসেছে এগুলো প্রমান করার।

Debu Sarkar
Debu Sarkar
২০১১.১২.১৪ ০৯:৩৩
বেশ কয়েকদিন ধরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ক খবর সম্পর্কে লেখা পাঠকের মন্তব্যগুলো মন দিয়ে পড়ছি; সত্যি বলতে কি মূল খবরের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ছি। তাতে দেখতে পাচ্ছি, অনেকেই এই বিচারের বিরোধিতা করছেন। আমার ধারণা আজও এমন অনেকগুলো মন্তব্য প্রকাশিত হবে, যেখানে গোলাম আজমের জন্য হাহাকার করা হবে। সেসব পড়তে পড়তে ভাবতে থাকবো, আজ ১৪ই ডিসেম্বর!!

২০১১.১২.১৪ ০৯:৪৮
I am a student of B.Pharm and also a Teacher.In my life i saw him,he is not bad at all.If you have prove, you will proved him as a Rajaker.After prove it, then our government can catch him.If there is no Prove about him,there is no Causes about him to arrest.I Honor our People Republic Bangladesh.

Apu kowsar
Apu kowsar
২০১১.১২.১৪ ০৯:৫৮
আর কত !!! এখন এদের ফাসি দেয়া হোক।

Md. Mohabbot Hossain
Md. Mohabbot Hossain
২০১১.১২.১৪ ১০:১৫
Md.Monirul Islam Khan, "৭১ এর গোলাম আযম" শীর্ষক প্রতিবেদনটটি প্রচার করার জন্য এ টি এন বাংলা ধন্যবাদ, আর আপনাকেও ধন্যবাদ কষ্ট করে অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য। আর গোলাম আযম কে স্যার বলার কারন সে একজন শিক্ষিত অধ্যাপক।

Evan Hussain
Evan Hussain
২০১১.১২.১৪ ১০:২৭
...জামায়াতের অনেক নেতার বিরুদ্ধেই অকাট্য প্রমান নেই, কিন্তু গোলাম আযম.. এই লোকের বিরুদ্ধে এত প্রমাণ আছে যে একে ফাসিতে ঝোলাতে ৩দিনের বেশি কোর্টের কার্যদিবস লাগার কথা না। এখন দেখা যাক সরকার এই বিষয় নিয়ে কতটুকু রাজনীতি করে।

Sultana
Sultana
২০১১.১২.১৪ ১০:২৮
TV তে দেখলাম, উনি বলছেন, উনার বিরুদধে আনা একটা অভিযোগও কেউ পমান করতে পারবেনা। উনি তো এটা বললেননা যে উনি অভিযোগ আনা অপরাধগুলো করেননি। অপরাধ করে ইসলামকে বরম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আপনাদের বিচার তো দুই জায়গায় হবে। একটা এই পথিবীতে, আর একটা পরকালে। একটু ভয়ও নেই বুকে। নিজেদের উপর কি জুলুমটাই না করছেন শয়তানের পরোচনায়।

Sk. Arman Jahan
Sk. Arman Jahan
২০১১.১২.১৪ ১০:৩০
কালকে ATN News তার প্রতিবেদন দেখলাম ভাল লাগল ... তবে এই মানবতা বিরোধী যে আদালত এটি একটি বির্তকিত হয়ে গেছে তাই এইটা পরিবর্তন দরকার।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
২০১১.১২.১৪ ১০:৩৭
গতকাল একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার চিহ্নিত অপরাধী গোলাম আযমের সাক্ষাত্‍কার দেখে বিস্মিত হলাম । তিনি নাকি মৃত্যুকে ভয় পাননা । যে ব্যাক্তি অসংখ্য মানুষকে হত্যা করতে পারে সেতো জল্লাদ । জল্লাদরা মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার কথা ।
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে ।

imtiaz ahmed chowdhury
imtiaz ahmed chowdhury
২০১১.১২.১৪ ১০:৫০
Md. Mohabbot Hossain কে বলতে চাই গোলাম আযম একজন শিক্ষিত ঘাতোক । সবাইকে আমি Sir বলতে পারি , তা সে চোর হউক ডাকাত হউক কিন্তু একজন ঘাতোক কে Sir বলতে পারবোনা , বলতে দিবোনা ।

Abdul Salam
Abdul Salam
২০১১.১২.১৪ ১০:৫১
গোলাম আযমের মুখে জনগন শুনতে চায়, তার কাহিনী, তাকে সরাসরি প্রশ্ন করুন এবং তাকে তার উত্তর দিতে বলুন।

২০১১.১২.১৪ ১১:০৫
গোলাম আজম (বাংলাদেশীদের জন্য গোলাম আজব) আপনি সময় থাকতে প্রকাশ্যে তওবা করেণ। কারণ আল্লাহ পাক প্রকাশ্য অপরাধের জন্য প্রকাশ্যে তওবা করার কথা বলেছেন।

T Alahee
T Alahee
২০১১.১২.১৪ ১১:১৬
ঘাতকদের বিচার ও দৃসটান্তমুলক শাসতি চাই। তবে তারা যেন আত্মপক্ক সমর্থনের সু্যোগ পায়। তারা বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে সু্যোগ দেয়া উচিত। এতে করে বিচারটি বিতর্কমুক্ত থাকবে। আর বিচারটি টেলিভিশনে লাইভ দেখানোর ব্যবসথা থাকা উচিত। এতে করে এই বিচার রাজনইতিক বলয় থেকে বেরিয়ে পুরো দেশবাসীর সত:সফুর্ত সমর্থন পাবে।

শুভ্র
শুভ্র
২০১১.১২.১৪ ১১:১৭
তাকে মিডিয়ার সামনে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত।

nurul absar hussain
nurul absar hussain
২০১১.১২.১৪ ১১:২২
গত কালও বাংলাভিশনে গোলাম কে দেখিলাম উনার কথা শুনিয়া মনে হইতেছে উনি যুদ্ধকালীন দেশের রক্ষা কবচ ছিল . উনি আমাদের দেশবাসীকে যাহারা ভারতে যাইতে পারেনাই তাহাদের রক্ষা করিয়াছে. উনি গ্রেফতার হইবেন আর আমাদেরই দেশপ্রেমী দল উনার মুক্তিদাবি করিবে আর এক ধরনের সুধী জনেরা বিচারের স্বচ্ছতা চাহিয়া বিচার প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাই নিউজিত থাকিবে. .

nur alam
nur alam
২০১১.১২.১৪ ১১:৩০
আবদুল সালাম ভাই চুর কি বলে আমি ..........................?

২০১১.১২.১৪ ১১:৫৯
The war criminals get the opportunity to become ministers in Bangladesh which is humiliating for our freedom fighters. Shame on those who patronize them. I hate them like Gen. Zia, Somsher Mobin Chow etc ....

২০১১.১২.১৪ ১২:০০
১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তিকমিটি, ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি, ছয় সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হয় ! সব কমিটিতেই গোলাম আজমের নাম আছে ! কমিটির বাকী সদস্যের নাম কি ভাবে জানতে পারবো, কেউ বলতে পারেন কি ? বড় ইচ্ছা হয় আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকারদের পরিচয় জানার ! তা ছাড়া এতো এতো সদস্য রেখে কেবল গোলাম আজমের বিচারই কেন হবে সেটাও বুঝতে চাই !

hafez sharif
hafez sharif
২০১১.১২.১৪ ১২:০৯
@ Mr Md. Mohabbot Hossainকে বলছি, দেখুন একজন মানুষকে সম্মন অসম্মন দেখানো হয় তার কৃত কর্মের দ্ধারা, তিনি শিক্ষিত অধ্যাপক বেশ ভাল কথা, অধ্যাপক হয়ে তিনি দেশের জন্য কি করেছেন ? কোরআনের অপব্যখ্যা দিয়েছেন যা বাংলাদেশের হক্কানি আলেমদের লিখায় ও বক্তব্যে অগনীত প্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের সময় নয় মাস তিনি দেশের জন্য কি করিয়াছেন ? এবং ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন ? ঐ সময় তিনি কি কি করেছেন ? তার জীবনের বেশী ভাগ সময় তিনি দেশকে ধংসের পথে নিতে চেয়েছেন, তার নেতৃত্বে দেশের অগনীত মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইত্যাদী ..... এই ধরনের লোককে সম্মনীত শিক্ষিত অধ্যাপক বলাটা শোভা পায়না।

Hasan
Hasan
২০১১.১২.১৪ ১২:১২
আর কোনো specific প্রমান পাওয়া গেল না? পাকিস্তানের আর্মিরা কি গোলাম আযমের নিরদেশে মেনে চলতো যে তার কথামতো ৩৮ জনকে হত্যা করলো? যারা নিজ হাতে হত্যা করলো তাদের কি কোন বিচার হবে না?

monir
monir
২০১১.১২.১৪ ১২:১৮
গো আযম ও অন্যান্য জামাত নেতারা ১৯৭১ সালে যে অপরাধ গুলো করেছিলো এবং তারা যে অপরাধী এটা দিবা লোকের মত সত্য কিন্তু এত দিন পর এ গুলো প্রমান করা অত্যন্ত কঠিন। বস্তুত ১৯৭৫ এর পর হতে এ রাজাকারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা পেয়ে পেয়ে এখন সব বেমালুম অস্বীকার করছে। এ রাজাকারা পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন এটা যেমন এক শ ভাগ সত্য এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় যা যা করা প্রয়োজন তারা তাই সে সময় করেছিলো।

foyez ahmad
foyez ahmad
২০১১.১২.১৪ ১২:৩১
He should be arrested with appropriate proof.

lean
lean
২০১১.১২.১৪ ১২:৪৩
বুশের মত লোকে জুতা মারতে পারে আর গোলাম আযম এত এত মিথ্যা কথা বলল সব সাংবাদিক কিভাবে বসে থাকে বুঝলাম না ???? সাংবাদিকরা প্রচার করে আমরা সাহসী জাতি ...........................................

২০১১.১২.১৪ ১২:৪৬
গোলাম আযমের মতো একটা চিন্হিত যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার মতো দেখি কিছু কিছু লোক আছে ! থাকতেই পারে, নিশ্চয় তারা বা তাদের আগের প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দালালি করেছিল। বাংলাভিশনে তার যে সাক্ষাতকার দেখলাম তাতে তো মনে হলো অনুষ্ঠানটা একদম প্রিপ্ল্যান করা, যে কারনে সে যেসব প্রশ্ন এড়িয়ে গেছে তা বারবার তুলে ধরে তাকে চেপে ধরা যেতো। কি করে বাংলাভিশন এটা করলো?

nurul absar hussain
nurul absar hussain
২০১১.১২.১৪ ১৩:০৭
দেশের অনেক টেলিভিশন চানেল আছে যেইগুলি দেখিয়া মনে হই ওই গুলি শুধু কোনো উদ্দেশ্য নিয়া করা হইয়াছে. তাহাদের প্রচার দেখিলে মনে হই তাহারা কোনো দলেদ প্রতিনিদিত্ত করিতেছে. যেমন বিটিভি সরকারের করে. গতকালের বাংলাভিশনে গোলাম আজোমের সাক্কাত্কার দেখিয়া মনে হয়তেছে ঐটা উনার পাপ হালকা করিবার জন্যই করা হইয়াছে. দিগন্ত আর ইসলামী টেলিভিশনের কথা নাইই বলিলাম. আরো অনেক হয়ত আছে বিদেশে অপারেটর গণ খুব বেশি চানেল আমাদের দিতে পারেনা.

Swapan Baidya
Swapan Baidya
২০১১.১২.১৪ ১৩:০৯
All of Bangladeshi Hate Gu. Azam. So immediate ..............

মো‌: হাফিজুর রহমান
মো‌: হাফিজুর রহমান
২০১১.১২.১৪ ১৩:১১
কাল রাতে বাংলাভিশনে গো আযম এর সাক্ষাতকার দেখলাম! তার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার ছিল, অখন্ড পাকিস্তানের জন্য সে তখন সবকিছুই করেছে। মানবতাবিরোধী কোন অপরাধ সে করে নাই!! রাজাকার রা পুলিশ আনসারের মতই পাকিস্তানি আর্মির সহযোগী বাহিনী ছিল! তার কাছে কেউ কমপ্লেইন নিয়ে আসলে তিনি পাকিস্তান আর্মিকে বলে যথাসম্ভব সাহায্যই না-কি করেছে!!! তার গর্বভরে বলেছে যে সে বাংলাদেশ নয় অখন্ড পাকিস্তানই চেয়েছিল!!! মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্রোহী বলে আখ্যাতিয় করেছে!!!! তাকে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসম্মুখে পিটিয়ে মারা হোক.....।

a.m.yousuf
a.m.yousuf
২০১১.১২.১৪ ১৩:২৭
লগি দিয়ে মানুষ হত্যা কারিদের ও বিছার হওয়া উছিত '

শিপন মোল্লা
শিপন মোল্লা
২০১১.১২.১৪ ১৪:১১
গোলাম আজম কাল বাংলাভিসন টেলিভিশনে বলেছেন যৌদ্ধ অপরাধী অভিযোগ তার বিরুদে অপবাদ। সে আরো বলেছে তার বিরুদে এই অভিযোগ একটাও প্রমান করতে পারবেনা।

অর্ক
অর্ক
২০১১.১২.১৪ ১৪:৩৫
গোলাম আযম কে প্রকাশ্যে ফাসি দেয়া হোক!

২০১১.১২.১৪ ১৪:৫৯
তাকে সবার সামনে গুলি কর মার


Sunday, November 27, 2011

সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে: খালেদা


  বিরোধী দলের রোড মার্চে জনগণের সাড়ায় সরকার দিশেহারা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

রোববার বিকালে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জনসভায় খালেদা বলেন, “রোড মার্চের গণজাগরণে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজের কাজ-কর্ম বাদ দিয়ে গাড়ির হিসাব কষতে কাগজ-কলম নিয়ে বসেছেন।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল ও সরকারের পদত্যাগ দাবিতে এ জনসভার মধ্য দিয়ে খুলনা অভিমুখে রোডমার্চের সমাপ্তি টানেন বিরোধী দলের নেতা।

এর আগে সাড়ে চার ঘণ্টা রোড মার্চ শেষে বিকাল ৪টার দিকে গাড়িবহর নিয়ে খুলনা সার্কিট হাউজের জনসভাস্থলে পৌঁছেন খালেদা জিয়া। বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন।

এখানে পৌনে এক ঘণ্টার বক্তব্যে তিনি সরকারের ব্যর্থতা, অপশাসন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প, খুলনার রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, “ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য তারা সংবিধান সংশোধন করেছেন। মিলন হত্যাকারী খুনি এরশাদকে পাশে নিয়ে বিরোধী দল বানাবেন, তা হতে দেওয়া হবে না।”

দল ক্ষমতায় গেলে ডা. মিলনসহ অন্যান্য হত্যার বিচার করার প্রতিশ্র“তি দেন তিনি।

মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এই জনসভা হয়।

সরকারের সমালোচনা এবং শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা বলেন, “এই সরকার লুটপাট ছাড়া কোনো উন্নয়ন করেনি। আওয়ামী লীগ চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। এজন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। ক্ষমতায় থাকতে না পারলে তারা দেশ থেকে চলে যাবে। কারণ সহায়-সম্পত্তি, ছেলে-মেয়ে সব কিছু তাদের বিদেশে।’’

বক্তৃতায় বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় নেতা।

গত ৩০ জুন পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিষয়ক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালত।

বিএনপি শুরু থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিরোধিতা করে আসছিল।

রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়

খুলনার রামপালে ভারত থেকে কয়লা এনে বিদ্যুৎ প্রকল্প করার বিরোধিতা করে খালেদা জিয়া বলেন, “এই প্রকল্প হলে আমাদের সুন্দরবন শেষ হয়ে যাবে। সেখানকার জীব-বৈচিত্র, পশু-পাখি সব কিছু মরে যাবে। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প হতে দেওয়া হবে না।”

খুলনার বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলের আইলা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, সাতক্ষীরা ও খুলনার জলাবদ্ধাা দূর করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খুলনা অঞ্চলে অতীতের মতো আরো উন্নয়ন করবো।”

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিএনপিও চায়

স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধীদের বিচার বিএনপি চায়- এ মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “তবে এখন যাদের আটক করে দলীয় লোকজনকে দিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।”

এ সময় তিনি জামায়াত নেতাসহ সব রাজবন্দিদের মুক্তি দাবি করেন।

আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন নয়

বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে তারা সংবিধান সংশোধন করেছে। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও আল্লাহর ওপর আস্থা-বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। আমি বলে দিতে চাই- আওয়ামী লীগের অধীনে এদেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না।”

সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করার দাবিও জানান তিনি।

টিপাইমুখ বাঁধ

খালেদা জিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই বাঁধ হলে দেশের মহাসর্বানাশ হয়ে যাবে। এ বাঁধ নিয়ে সিলেট উত্তাল হয়ে উঠেছে। সরকার কোনো কথা বলছে না। আমরা সরকারকে বলবো, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে শক্ত অবস্থান নিন। নইলে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।”

“ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব আছে, থাকবে। কিন্তু টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ ও ভারতের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে গ্যাস উত্তোলনে কোনো ভারি যন্ত্রাংশ বাংলাদেশ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না”, যোগ করেন তিনি।

মহানগর বিএপির সভাপতি কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ নজরুল ইসলাম মঞ্জু সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এ কে এম নাজির আহমেদ, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম আল মামুন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি প্রমুখ নেতারা বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ নেতা বক্তব্য দেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খালেদা জিয়া ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সাক্ষাত্কারে সাদেক হোসেন খোকা সরকার উল্টাপাল্টা কাজ করে যাচ্ছে, অতীতে বিএনপিও করেছিল


সাক্ষাত্কারে সাদেক হোসেন খোকা

প্রথম আলো: সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (ডিসিসি) দুই ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সাদেক হোসেন খোকা: সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক চতুর্দশ শতকে অযাচিতভাবে দিল্লি থেকে ৭০০ মাইল দক্ষিণের দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর করে সে সময়ে লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছিলেন। বর্তমানে সরকার সেই রকম তুঘলকি সিদ্ধান্তই নিয়েছে। কারও দাবি বা প্রত্যাশা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো মানদণ্ডেই পড়ে না। আসলে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কোনো দলেরই মাথা ঠিক থাকে না। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার কারণেই সরকার উল্টাপাল্টা কাজ করে যাচ্ছে। অতীতে বিএনপিও তা করেছিল।

প্রথম আলো: ডিসিসির কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিষয়টিকে কীভাবে নিয়েছেন?
সাদেক হোসেন: ডিসিসির বোর্ডের সভায় সর্বদলীয় সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদের মাধ্যমে তাঁদের ভাষাও এরই মধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

প্রথম আলো: সরকার কী উদ্দেশ্যে কাজটি করতে যাচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?
সাদেক হোসেন: ভালো কোনো উদ্দেশ্য নেই। ঢাকার ৪০০ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গর্বকে দুই টুকরো করার নকশামাত্র। আসলে ক্ষমতাসীন দল মনে করে, মেয়র হিসেবে আমি সরকারবিরোধী বলয়ে বড় ভূমিকা রাখছি। মূলত আমাকে কাবু করার জন্যই সরকার ঢাকাকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই ভাগ করা হলে আমার জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ করা সম্ভব হবে। এর একটাই অর্থ হতে পারে—সরকার নির্বাচনের আগেই আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। ভেবে ভালো লাগছে যে আমি সরকারের কাছে ফ্যাক্টর। বিষয়টি আমার জন্য একদিকে যেমন বিজয়ের, অন্যদিকে হতাশার। কারণ আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে। আমার চোখের সামনেই একসময়ের ছোট শহর ঢাকা এখন বিশাল মহানগরী। ৪০০ বছরের পুরোনো এই শহর কেবল বাংলাদেশের রাজধানীই নয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের লীলাভূমিও বটে। অথচ এখন আমার কারণেই সেই শহরকে ভেঙে দুই ভাগ করা হচ্ছে। সে জন্যই আমি এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছি, প্রয়োজনে আমি নির্বাচন করব না। তবুও সরকার যেন এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকে।

প্রথম আলো: আপনি কি মনে করেন, অখণ্ড ঢাকাতে নির্বাচন হলে আপনিই জিতবেন?
সাদেক হোসেন: এটা সত্য, ডিসিসি নির্বাচনে আমাকে পরাজিত করার মতো কোনো প্রার্থী বা জনমত আওয়ামী লীগের নেই। সে জন্যই তারা রাজধানীবাসী, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের বিরোধিতা সত্ত্বেও রাজধানী শহরকে দ্বিখণ্ডিত করার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরো বিষয়টিই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত।

প্রথম আলো: বিদ্যমান আইনে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ থাকলে সরকার কি রাজধানীকে ভাগ করার চিন্তাভাবনা করত?
সাদেক হোসেন: প্রশ্নই আসে না। প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ থাকলে সময় নষ্ট না করে তারা আমাকে সরিয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসক নিয়োগ করে দিত। মূলত আমাকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করার জন্যই ডিসিসিকে দুই ভাগ করা হচ্ছে। এটা হলো একধরনের স্থূল রাজনৈতিক কৌশল।

প্রথম আলো: ঢাকাকে ভাগ করা হলে কী ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন?
সাদেক হোসেন: দেখুন, ঢাকার কোনো প্রাকৃতিক সীমানা নেই, যা দিয়ে ভাগ করা যায়। কোন মানদণ্ডে ভাগ করা হবে? রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি, গ্যাস, বিদ্যুত্সহ অন্যান্য সেবা খাতের জন্যই কি দুটি করে কর্তৃপক্ষ হবে? রাজধানীতে যেসব যানবাহন আছে, তাদের নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ কে হবে? সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে আছে, বাংলাদেশের রাজধানী হবে ঢাকা। রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে। কিন্তু এখন দুই ভাগ হলে কোন অংশটি রাজধানী হিসেবে চিহ্নিত হবে? সুতরাং এ নিয়ে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে। সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বঙ্গভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনগুলো কোথায় থাকবে? এ নিয়ে যদি রাজধানীর উত্তর এবং দক্ষিণের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আরও যা ঘটতে পারে, ঢাকায় জনসংখ্যার চাপ বাড়বে। কৃষিজমি, জলাশয়, খাল, নদী ভরাট হবে। তারপর একসময় রাজধানী বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে—সবই আশঙ্কা। ভবিষ্যত্ই বলবে, কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে পরিণতি যে ভয়াবহ হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রথম আলো: ঢাকা ভাগ না করে সরকারের কী করা উচিত ছিল বলে আপনি মনে করেন?
সাদেক হোসেন: আওয়ামী লীগের নেতা মেয়র হানিফ সাহেব যা চেয়েছিলেন, আমি তা-ই চেয়েছি। কিন্তু করতে পারিনি। আমরা চেয়েছিলাম ওয়াসা, রাজউক ও ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ডিসিসির অধীনে নিতে। এতে প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে যেত। জনগণের জন্য দেওয়া সেবার মান বাড়ত। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ কাজটি করলে তাতে রাজধানীবাসী উপকৃত হতো। এ সরকার আরও যা করতে পারত, সিটিকে একাধিক অঞ্চলে ভাগ করে একাধিক ডেপুটি মেয়রের পদ তৈরি করতে পারত। তাতে সিটি করপোরেশন অনেক বেশি শক্তিশালী হতো।

প্রথম আলো: সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিএনপি থেকে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন কর্মসূচির করার চিন্তাভাবনা আছে কি?
সাদেক হোসেন: এখনই তো ঢাকাবাসী বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। কাউন্সিলররা মানববন্ধন করছেন। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি নেওয়া যায় কি না, সেটা দলীয় পর্যায়ে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকাবাসীদের নিয়েও আন্দোলন-কর্মসূচি গ্রহণের সম্ভাবনার বিষয়টি আমি এবং আমাদের কাউন্সিলরদের চিন্তাভাবনায় রয়েছে।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More