বিখ্যাত মার্কিন ম্যাগাজিন ‘নিউইয়র্ক’ তাদের চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে ওবামাকে আমেরিকার ‘প্রথম ইহুদি প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ওবামাকে সবচেয়ে কট্টর ইসরায়েল সমর্থক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ওবামা প্রকাশ্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে তিনি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের প্রস্তাবে অবশ্যই ভেটো দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওবামার উগ্র ইহুদিবাদী মনোভাবেরই প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র এমনকি ইসরায়েলের ইহুদিরাও এতটা উগ্র মনোভাব পোষণ করেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এদিক দিয়ে ওবামা তাঁর পূর্বসূরিদেরও অবাক করে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে জর্জ বুশ ছিলেন ইসরায়েলের গোড়া সমর্থক। কিন্তু এবার ওবামা তাঁকেও ছাড়িয়ে গেলেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে প্রকারান্তরে ওবামা সেখানকার জনগণের ওপর ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনকেই সমর্থন দিলেন। তাই প্রশ্ন ওঠে, যে ওবামা পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেন, শান্তিতে নোবেল পেলেন, তিনি কেন ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর অবিচার চাপিয়ে দিচ্ছেন!
বিশ্লেষকদের জুতসই উত্তর—সামনে নির্বাচন, তাই ওবামা কোনোভাবেই ইসরায়েলকে ক্ষুব্ধ করতে চান না। তা ছাড়া শিকাগোতে ওবামার কর্মজীবন কেটেছে ইহুদিদেরই সংস্পর্শে। তাঁর দলের তহবিলের অধিকাংশ অর্থই জোগান দেয় ইহুদি লবিস্ট ও শিকাগোর বর্তমান মেয়র রাহেম ইমেনুয়েল। তিনি হোয়াইট হাউসে ওবামার চিফ অব স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, ওবামার ফিলিস্তিন বিরোধিতা কেবল অর্থের বিষয় নয়। এখানে মার্কিন রাজনীতিও জড়িত। অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়ে কংগ্রেসে ওবামার সমর্থন দরকার। সেসব ক্ষেত্রে ওবামা ব্যর্থ হলে, তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাসের ঘরের মতো ভেঙে যেতে পারে। এমনকি মার্কিন রাজনীতিতে সক্রিয় ইসরায়েলি লবি তাঁর জীবনকে দুর্বিষহও করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তনের কথা বলে ক্ষমতায় এসে ওবামা এখন যেটা করছেন, তা প্রতারণা। তিনি ন্যায়বিচারের কথা বলেন, কিন্তু অন্যায় নীতির জন্য ফিলিস্তিনকে চাপ দিচ্ছেন। কথা বলছেন নিপীড়ক ইসরায়েলের পক্ষে। তিনি স্বাধীনতার কথা বলেন, কিন্তু এখন ইসরায়েলের আগ্রাসনকে সমর্থন করছেন। এর সবকিছুই তিনি করছেন নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে।
ইসরায়েলপন্থী ইহুদি লবিস্ট জে স্ট্রিটের মতে, ‘আমেরিকান রাজনীতিবিদেরা তাঁদের রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলের জন্য সীমাহীন কাজ করতে পারেন।’
ইসরায়েলের জন্য নিজের স্বার্থে ওবামা না হয় একটু বেশিই করছেন! আল-জাজিরা টেলিভিশনের অনলাইন অবলম্বনে
0 comments:
Post a Comment